টপিক 10 / ৫৮ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন📖 স্টাডি নোট

টপিক ১০: বঙ্গভঙ্গ, মুসলিম লীগ ও ভারত বিভাগ (১৯৪৭)

অধ্যায় ১০: বঙ্গভঙ্গ, মুসলিম লীগ ও ভারত বিভাগ (১৯৪৭) #

১.৯ দেশভাগ-পূর্ব রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ (১৯০৫ – ১৯৪৭) #

  1. বঙ্গভঙ্গ (১৬ অক্টোবর, ১৯০৫): লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার্থে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভাগ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বিভাগ ও আসাম নিয়ে ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশ গঠন করেন (রাজধানী ঢাকা)। মুসলমানরা একে স্বাগত জানায়, কিন্তু কলকাতাকেন্দ্রিক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও কংগ্রেস এর তীব্র বিরোধিতা করে ‘স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলন’ শুরু করে। এই প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেন “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি” (১৯০৫, বঙ্গদর্শন পত্রিকা; গগন হরকরার ‘আমি কোথায় পাব তারে’ গানের সুরে)।
  2. মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা (৩০ ডিসেম্বর, ১৯০৬): ঢাকার শাহবাগে নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন’-এ ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’ গঠিত হয় (নাম প্রস্তাবক: নবাব সলিমুল্লাহ; সমর্থক: হাকিম আজমল খান; প্রথম সভাপতি: আগা খান)।
  3. বঙ্গভঙ্গ রদ (১২ ডিসেম্বর, ১৯১১): দিল্লির অভিষেক দরবারে ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করেন। ক্ষুব্ধ মুসলমানদের শান্ত করতে ব্রিটিশ সরকার ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয় (যার ফলে ১ জুলাই ১৯২১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে; প্রথম ভিসি: স্যার পি. জে. হার্টগ)।
  4. লক্ষ্ণৌ চুক্তি (১৯১৬): কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সম্পাদিত ঐতিহাসিক ঐক্য চুক্তি (মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে এজন্য সরোজিনী নাইডু ‘হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূত’ বলেন)।
  5. খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন (১৯১৯–১৯২২): প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের খলিফার মর্যাদা রক্ষায় মাওলানা মোহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলীর নেতৃত্বে খিলাফত আন্দোলন এবং মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন যুগপৎ পরিচালিত হয়।
  6. বেঙ্গল প্যাক্ট (১৯২৩): দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ (স্বরাজ পার্টির নেতা) বাংলার হিন্দু-মুসলমানদের রাজনৈতিক ও চাকরিগত অধিকারের সমতা বিধানে ঐতিহাসিক ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ স্বাক্ষর করেন।
  7. ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন ও ফজলুল হকের মন্ত্রিসভা: ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ‘কৃষক প্রজা পার্টি’ (১৯৩৬; পূর্বনাম নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি ১৯২৯) ও মুসলিম লীগ কোয়ালিশন গঠন করে। এ কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী (মুখ্যমন্ত্রী) হন। তিনি কৃষকদের মহাজনী ঋণের হাত থেকে বাঁচাতে ‘ঋণ সালিশি বোর্ড’ ও ১৯৩৮ সালে ‘বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন’ সংশোধন করেন এবং ১৯৪০ সালে ঢাকায় ইডেন মহিলা কলেজ ও চাখার ফজলুল হক কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
  8. ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব (২৩ মার্চ, ১৯৪০):
    • মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে (সভাপতি: মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ) বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
    • মূল বক্তব্য: ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (Independent States) গঠন করতে হবে। এই প্রস্তাবেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল। (১৯৪৬ সালে দিল্লির লেজিসলেটিভ কনভেনশনে জিন্নাহ কৌশলে ‘States’ শব্দের ‘s’ বাদ দিয়ে একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রস্তাব পাস করান)।
  9. অবিভক্ত বাংলার তিনজন মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭–১৯৪৭):
    • ১ম: শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক (১৯৩৭–১৯৪৩)
    • ২য়: খাজা নাজিমউদ্দীন (১৯৪৩–১৯৪৫)
    • ৩য় ও সর্বশেষ: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (১৯৪৬–১৯৪৭; ১৯৪৭ সালে সোহরাওয়ার্দী ও শরৎচন্দ্র বসু মিলে ‘অখণ্ড স্বাধীন বাংলা’ রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন)।
  10. ভারত স্বাধীনতা আইন ও দেশভাগ (১৯৪৭): ১৮ জুলাই ১৯৪৭ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘ভারত স্বাধীনতা আইন’ পাস হয়। স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফের সীমানা কমিশন (র‍্যাডক্লিফ লাইন) অনুযায়ী বাংলা ও পাঞ্জাব বিভক্ত হয় এবং ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ পাকিস্তান (পূর্ব বাংলা নতুন নাম পায় ‘পূর্ব বাংলা’ ও ১৯৫৫ সালে ‘পূর্ব পাকিস্তান’) ও ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ ভারত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

১০.২ বঙ্গভঙ্গ ও ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক বিকাশ — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #

ঐতিহাসিক বিষয় / শাসক / ঘটনা সময়কাল / রাজধানী / স্থান প্রধান কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পরীক্ষার তথ্য
লর্ড কার্জন ও বঙ্গভঙ্গ ১৬ অক্টোবর ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ প্রশাসনিক সুবিধার্থে বাংলা প্রদেশ ভেঙে ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশ গঠন (রাজধানী ঢাকা) পূর্ববঙ্গ ও আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার
লর্ড হার্ডিঞ্জ ও বঙ্গভঙ্গ রদ ১২ ডিসেম্বর ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ দিল্লির দরবারে রাজা পঞ্চম জর্জ কর্তৃক বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তর (১৯১২)
মাস্টারদা সূর্যসেন ও প্রীতিলতা ১৮ এপ্রিল ১৯৩০ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন (১৯৩০) ও পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ (১৯৩২) প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বাংলার প্রথম বিপ্লবী নারী শহীদ; সূর্যসেনের ফাঁসি ১২ জানুয়ারি ১৯৩৪

১০.৩ ঐতিহাসিক চুক্তি ও রাজনৈতিক সনদের তুলনামূলক সারণি #

বিষয় / ব্যক্তিত্ব / প্রতিষ্ঠান ও সময়কাল প্রধান পরিচয় / অবস্থান / আইন মূল কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো বিসিএস ও সরকারি চাকরি পরীক্ষার বিশেষ তথ্য
লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা (১৯০৫) ঘোষণা: ১৯ জুলাই ১৯০৫ (কার্যকর: ১৬ অক্টোবর ১৯০৫) প্রশাসনিক সুবিধার্থে বাংলা প্রদেশকে ভেঙে ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ নামে নতুন প্রদেশ গঠন নতুন প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা এবং প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিযুক্ত হন স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার
স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলন (১৯০৫–১৯১১) বঙ্গভঙ্গ বিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (কলকাতাকেন্দ্রিক সূচনা) বিলাতি পণ্য বর্জন, দেশীয় শিল্প ও জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে রচনা করেন ‘আমার সোনার বাংলা’ ও রাখিবন্ধন উৎসব চালু করেন
সিমলা ডেপুটেশন (১ অক্টোবর ১৯০৬) নেতৃত্ব দেন: মহামান্য আগা খান (৩৫ সদস্যের মুসলিম প্রতিনিধিদল) ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর কাছে মুসলমানদের জন্য ‘পৃথক নির্বাচন’ (Separate Electorate) দাবি উত্থাপন ১৯০৯ সালের মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইনে মুসলমানদের পৃথক নির্বাচনের দাবি স্বীকৃত হয়
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা (৩০ ডিসেম্বর ১৯০৬) স্থান: ঢাকার শাহবাগে অনুষ্ঠিত মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স প্রস্তাবক: ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ (সমর্থক: হাকিম আজমল খান ও জাফর আলী) প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি: নবাব ভিকার-উল-মুলক এবং প্রথম স্থায়ী সভাপতি: আগা খান
বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা (১২ ডিসেম্বর ১৯১১) দিল্লির করোনেশন দরবারে ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জ কর্তৃক ঘোষণা ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের আমলে তীব্র স্বদেশী আন্দোলনের মুখে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয় একই সাথে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয় (১৯১২) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়
লখনৌ চুক্তি (১৯১৬ খ্রিস্টাব্দ) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও নিখিল ভারত মুসলিম লীগের ঐতিহাসিক সমঝোতা হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক হিসেবে স্বাক্ষরিত (মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ‘হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূত’ বলা হয়) কংগ্রেস মুসলমানদের পৃথক নির্বাচনের দাবি মেনে নেয়
মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার ও রাওলাট আইন (১৯১৯) ভারত শাসন আইন ১৯১৯ (প্রাদেশিক স্তরে ‘দ্বৈত শাসন’ বা Dyarchy প্রবর্তন) দমনমূলক রাওলাট আইনের প্রতিবাদে ১৩ এপ্রিল ১৯১৯ অমৃতসরের ‘জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড’ সংঘটিত হয় (জেনারেল ডায়ার) জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ প্রদত্ত ‘নাইট’ (Knight) উপাধি বর্জন করেন
খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন (১৯১৯–১৯২২) খিলাফত আন্দোলনের নেতা: মাওলানা মোহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী (আলী ভ্রাতৃদ্বয়) মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯২০ সালে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন যুক্ত হয় ১৯২২ সালে চৌরিচৌরা ঘটনার পর গান্ধীজি আন্দোলন স্থগিত করেন; বাংলায় চিত্তরঞ্জন দাশ ও মাওলানা আকরম খাঁ নেতৃত্ব দেন
বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি (১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ) প্রণেতা: দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ (স্বরাজ পার্টি) বাংলার হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমঝোতা চুক্তি জনসংখ্যার অনুপাতে সরকারি চাকরিতে ৫৫% পদ মুসলমানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়
চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন (১৮ এপ্রিল ১৯৩০) নেতৃত্ব দেন: বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেন (ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি - IRA) চট্টগ্রামের পুলিশ ও অক্সিলিয়ারি ফোর্সের অস্ত্রাগার দখল এবং অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার ঘোষণা ২২ এপ্রিল ১৯৩০ জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধ এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ
ভারত শাসন আইন ১৯৩৫ ও ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গৃহীত সর্ববৃহৎ শাসনতান্ত্রিক আইন (প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন) ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি ও মুসলিম লীগের যৌথ মন্ত্রিসভা গঠন এ কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী (মুখ্যমন্ত্রী) হন
ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব (২৩ মার্চ ১৯৪০) নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশন (সভাপতি: মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ) প্রস্তাব উত্থাপন করেন বাংলার বাঘ শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হক ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহ নিয়ে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (Independent States) গঠনের দাবি
ভারত ছাড় আন্দোলন (১৯৪২) ও তেতাল্লিশের মন্বন্তর (১৯৪৩) ৮ আগস্ট ১৯৪২ মহাত্মা গান্ধীর ‘কুইট ইন্ডিয়া’ (Quit India) বা ভারত ছাড় আন্দোলনের ডাক ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে (১৩৫০ বঙ্গাব্দ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন কৃত্রিম খাদ্যসংকটে বাংলায় ভয়াবহ ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ (প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু) শিল্পী জয়নুল আবেদিন দুর্ভিক্ষের ওপর আঁকেন বিশ্বখ্যাত ‘দুর্ভিক্ষের চিত্রমালা’ (Famine Sketches)
ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস (১৯৪৬) ব্রিটিশ মন্ত্রীত্রয়ী (পেথিক লরেন্স, স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস ও এ ভি আলেকজান্ডার)-এর ভারত আগমন (মার্চ ১৯৪৬) ১৬ আগস্ট ১৯৪৬ মুসলিম লীগ আহূত ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ (Direct Action Day) ও কলকাতার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শরৎচন্দ্র বসু ১৯৪৭ সালে ‘অখণ্ড স্বাধীন বাংলা’ গঠনের প্রস্তাব দেন
মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা, র‍্যাডক্লিফ রোয়েদাদ ও ভারত বিভাগ (১৯৪৭) ৩ জুন ১৯৪৭ লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ভারত বিভাগ পরিকল্পনা এবং ১৮ জুলাই ১৯৪৭ ‘ভারত স্বাধীনতা আইন’ পাস সীমানা নির্ধারণ কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ (র‍্যাডক্লিফ লাইন) ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ পাকিস্তান (পূর্ব বাংলাসহ) এবং ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ ভারত নামে দুটি স্বাধীন ডমিনিয়ন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে

📋 ১০. বঙ্গভঙ্গ ও ভারত বিভাগ — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #

বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি প্রধান তথ্য ও বিবরণ অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব
বঙ্গভঙ্গ (১৬ অক্টোবর, ১৯০৫) লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার্থে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভাগ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বিভাগ ও আসাম নিয়ে ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশ গঠন করেন (রাজধানী ঢাকা) মুসলমানরা একে স্বাগত জানায়, কিন্তু কলকাতাকেন্দ্রিক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও কংগ্রেস এর তীব্র বিরোধিতা করে ‘স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলন’ শুরু করে ১০. বঙ্গভঙ্গ ও ভারত বিভাগ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা (৩০ ডিসেম্বর, ১৯০৬) ঢাকার শাহবাগে নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন’-এ ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’ গঠিত হয় (নাম প্রস্তাবক: নবাব সলিমুল্লাহ সমর্থক: হাকিম আজমল খান ১০. বঙ্গভঙ্গ ও ভারত বিভাগ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
বঙ্গভঙ্গ রদ (১২ ডিসেম্বর, ১৯১১) দিল্লির অভিষেক দরবারে ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করেন ক্ষুব্ধ মুসলমানদের শান্ত করতে ব্রিটিশ সরকার ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয় (যার ফলে ১ জুলাই ১৯২১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে ১০. বঙ্গভঙ্গ ও ভারত বিভাগ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
লক্ষ্ণৌ চুক্তি (১৯১৬) কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সম্পাদিত ঐতিহাসিক ঐক্য চুক্তি (মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে এজন্য সরোজিনী নাইডু ‘হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূত’ বলেন) ৯ দেশভাগ-পূর্ব রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ (১৯০৫ – ১৯৪৭) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১০. বঙ্গভঙ্গ ও ভারত বিভাগ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন (১৯১৯–১৯২২) প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের খলিফার মর্যাদা রক্ষায় মাওলানা মোহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলীর নেতৃত্বে খিলাফত আন্দোলন এবং মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন যুগপৎ পরিচালিত হয় ৯ দেশভাগ-পূর্ব রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ (১৯০৫ – ১৯৪৭) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১০. বঙ্গভঙ্গ ও ভারত বিভাগ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
বেঙ্গল প্যাক্ট (১৯২৩) দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ (স্বরাজ পার্টির নেতা) বাংলার হিন্দু-মুসলমানদের রাজনৈতিক ও চাকরিগত অধিকারের সমতা বিধানে ঐতিহাসিক ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ স্বাক্ষর করেন ৯ দেশভাগ-পূর্ব রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ (১৯০৫ – ১৯৪৭) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১০. বঙ্গভঙ্গ ও ভারত বিভাগ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন ও ফজলুল হকের মন্ত্রিসভা ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ‘কৃষক প্রজা পার্টি’ (১৯৩৬ পূর্বনাম নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি ১৯২৯) ও মুসলিম লীগ কোয়ালিশন গঠন করে ১০. বঙ্গভঙ্গ ও ভারত বিভাগ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
মূল বক্তব্য ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (Independent States) গঠন করতে হবে এই প্রস্তাবেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল ১০. বঙ্গভঙ্গ ও ভারত বিভাগ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
ভারত স্বাধীনতা আইন ও দেশভাগ (১৯৪৭) ১৮ জুলাই ১৯৪৭ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘ভারত স্বাধীনতা আইন’ পাস হয় স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফের সীমানা কমিশন (র‍্যাডক্লিফ লাইন) অনুযায়ী বাংলা ও পাঞ্জাব বিভক্ত হয় এবং ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ পাকিস্তান (পূর্ব বাংলা নতুন নাম পায় ‘পূর্ব বাংলা’ ও ১৯৫৫ সালে ‘পূর্ব পাকিস্তান’) ও ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ ভারত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ১০. বঙ্গভঙ্গ ও ভারত বিভাগ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ১৬ অক্টোবর ১৯০৫ লর্ড কার্জনের সময়ে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হলে ঢাকাকে রাজধানী করে ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ নামে নতুন প্রদেশ গঠিত হয় (প্রথম লে. গভর্নর স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার) পরবর্তীতে লর্ড হার্ডিঞ্জের শাসনামলে ১২ ডিসেম্বর ১৯১১ দিল্লির দরবারে ব্রিটিশ রাজা পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করেন ১০. বঙ্গভঙ্গ ও ভারত বিভাগ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)