টপিক 13 / ৫৮পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০)📖 স্টাডি নোট

টপিক ১৩: যুক্তফ্রন্ট, ঐতিহাসিক ছয় দফা ও ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান

অধ্যায় ১৩: ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন (১৯৬৬) #

১. পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা (২৩ জুন, ১৯৪৯) #

  • স্থান: পুরান ঢাকার টিকাটুলির কে এম দাস লেনের ঐতিহাসিক ‘রোজ গার্ডেন’ (মালিক: কাজী হুমায়ুন রশীদ; ২ দিনব্যাপী সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন আতাউর রহমান খান)।
  • প্রথম কমিটি:
    • সভাপতি: মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
    • সহ-সভাপতি: আতাউর রহমান খান, শাখাওয়াত হোসেন, আলী আহমদ খান, আলী আমজাদ খান ও আবদুস সালাম খান (মোট ৫ জন)
    • সাধারণ সম্পাদক: শামসুল হক (টাঙ্গাইল)
    • যুগ্ম সম্পাদক: শেখ মুজিবুর রহমান (কারাবন্দি অবস্থায় নির্বাচিত) ও খন্দকার মোশতাক আহমদ
    • কোষাধ্যক্ষ: ইয়ার মোহাম্মদ খান।
  • অসাম্প্রদায়িকীকরণ (২১–২৩ অক্টোবর, ১৯৫৫): ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত দলের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের স্বার্থে নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ রাখা হয়।

২. যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন #

  • যুক্তফ্রন্ট গঠন: ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে ৪টি প্রধান দল নিয়ে ‘যুক্তফ্রন্ট’ (United Front) নির্বাচনী জোট গঠিত হয়:
    1. পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা ভাসানী ও শেখ মুজিবুর রহমান)
    2. কৃষক শ্রমিক পার্টি — KSP (শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক)
    3. নেজামে ইসলাম পার্টি (মাওলানা আতাহার আলী)
    4. গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ ও মাহমুদ আলী)।
  • প্রতীক: নৌকা।
  • ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার: যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেন আবুল মনসুর আহমদ।
    • ১ম দফা: বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে।
    • অন্যান্য প্রধান দফা: বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ (২য় দফা), পাট ব্যবসা জাতীয়করণ (৩য় দফা), বর্ধমান হাউসকে (বর্তমান বাংলা একাডেমি) বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণাগার করা (১৬তম দফা), ২১শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ও সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করা (১৭তম দফা), লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব বঙ্গকে পূর্ণ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান (১৯তম দফা)।
  • নির্বাচনের তারিখ ও ফলাফল (৮–১২ মার্চ, ১৯৫৪):
    • পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদের মোট আসন ছিল ৩০৯টি (মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭টি এবং অমুসলিমদের জন্য ৭২টি)।
    • মুসলিম আসনে (২৩৭টির মধ্যে) যুক্তফ্রন্ট পায় ২২৩টি আসন (স্বতন্ত্রসহ মোট ২২৮টি আসন), আর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন (মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন তরুণ ছাত্রনেতা খালেক নেওয়াজ খানের কাছে পরাজিত হন)।
  • যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ও ৯২(ক) ধারা জারি:
    • ৩ এপ্রিল ১৯৫৪ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ১৫ মে ১৯৫৪ সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে (কৃষি, বন, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়) শপথ নেন।
    • কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে আদমজী পাটকলে বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গার অজুহাতে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় ৩০ মে ১৯৫৪ গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৯২(ক) ধারা জারি করে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বরখাস্ত করেন এবং মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জাকে পূর্ব বাংলার গভর্নর নিযুক্ত করে কেন্দ্রের শাসন চালু করেন।
  • বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা (৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫): যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার ১৬তম দফার বাস্তবায়ন হিসেবে পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার ঢাকার বর্ধমান হাউসে ‘বাংলা একাডেমি’ উদ্বোধন করেন (প্রথম পরিচালক: ড. মুহম্মদ এনামুল হক; প্রথম মহাপরিচালক: ড. মাযহারুল ইসলাম)।

৩. ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন ও ন্যাপ গঠন (১৯৫৭) #

  • তারিখ ও স্থান: ৭–৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৭, টাঙ্গাইলের সন্তোষের কাগমারীতে মাওলানা ভাসানীর উদ্যোগে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
  • ঐতিহাসিক তাৎপর্য: প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মার্কিন ঘেঁষা পররাষ্ট্রনীতি (SEATO ও CENTO সামরিক চুক্তি)-এর বিরোধিতা করে এবং পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে মাওলানা ভাসানী পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক “আসসালামু আলাইকুম” (বিচ্ছেদের ইঙ্গিত) উচ্চারণ করেন।
  • ন্যাপ (NAP) গঠন: পরবর্তীতে ২৫–২৬ জুলাই ১৯৫৭ ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে বামপন্থী ও প্রগতিশীল নেতাদের নিয়ে মাওলানা ভাসানী ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি’ (NAP) গঠন করেন।

১. ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন ও মৌলিক গণতন্ত্র #

  • ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৫৮: পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে বিরোধীদলের অনাস্থা প্রস্তাবে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী পাটোয়ারী মারাত্মকভাবে আহত হন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
  • ৭ অক্টোবর ১৯৫৮: পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল করে সারাদেশে প্রথম সামরিক শাসন (Martial Law) জারি করেন এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (CMLA) নিয়োগ করেন।
  • ২৭ অক্টোবর ১৯৫৮: মাত্র ২০ দিনের মাথায় জেনারেল আইয়ুব খান রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে ইস্কান্দার মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত ও দেশত্যাগে বাধ্য করে নিজেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেন এবং রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে EBDO (Elective Bodies Disqualification Order) জারি করেন।
  • মৌলিক গণতন্ত্র (Basic Democracy - ১৯৫৯): আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে ২৭ অক্টোবর ১৯৫৯ ‘মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ’ জারি করেন। এতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ ইউনিয়ন কাউন্সিল মেম্বার (মৌলিক গণতন্ত্রী) নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়, যাদের ভোটে কেবল রাষ্ট্রপতি ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতেন। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।
  • ১৯৬২ সালের সংবিধান ও ১৯৬৫ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১ মার্চ ১৯৬২ আইয়ুব খান রাষ্ট্রপতিশাসিত সংবিধান জারি করেন। ২ জানুয়ারি ১৯৬৫ অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী দলের (COP) প্রার্থী ছিলেন কায়েদে আজমের ভগ্নি ফাতিমা জিন্নাহ (প্রতীক: হারিকেন), আর আইয়ুব খানের প্রতীক ছিল গোলাপ ফুল। মৌলিক গণতন্ত্রীদের কারচুপির ভোটে আইয়ুব খান জয়ী হন।

২. ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন ও বাষট্টির ছাত্র সংগ্রাম #

  • ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর গঠিত শিক্ষা সচিব এস এম শরীফের নেতৃত্বাধীন ‘শরীফ শিক্ষা কমিশন’ ১৯৫৯ সালের আগস্টে যে রিপোর্ট দেয় (১৯৬২ সালে প্রকাশিত), তাতে শিক্ষাকে ব্যয়বহুল পণ্য, অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা বাতিল, ডিগ্রি কোর্স ২ বছরের স্থলে ৩ বছর করা এবং বাংলা বর্ণমালা সংস্কার করে রোমান হরফ চালুর প্রস্তাব করা হয়।
  • এর প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬২ হরতাল চলাকালে ঢাকার আব্দুল গণি রোডে পুলিশের গুলিতে বাবুল, গোলাম মোস্তফা ও ওয়াজিউল্লাহ শহীদ হন। এজন্য প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘মহান শিক্ষা দিবস’ পালিত হয়।

৩. ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন (১৯৬৬) — ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ #

১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১৭ দিনব্যাপী পাক-ভারত যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এই অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ অর্থনৈতিক-প্রশাসনিক বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তিসনদ ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ পেশ করেন:

  • উত্থাপনের তারিখ ও স্থান: ৫–৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনের বিষয় নির্বাচনী কমিটিতে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি’ পেশ করেন এবং ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ ঢাকায় ফিরে সংবাদ সম্মেলনে তা প্রকাশ করেন।
  • আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: ১৮ মার্চ ১৯৬৬ ঢাকার হোটেল ইডেনে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ৬ দফা গৃহীত হয় এবং ২৩ মার্চ ১৯৬৬ লাহোর প্রস্তাব দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
  • ঐতিহাসিক তুলনা: ব্রিটিশ শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে ১২১৫ সালের ‘ম্যাগনাকার্টা’ (Magna Carta)-এর সাথে তুলনা করে ৬ দফাকে বলা হয় ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ (Charter of Freedom of the Bengalis)।
  • ৭ জুন ১৯৬৬ (‘ছয় দফা দিবস’): ৬ দফার দাবিতে এবং শেখ মুজিবসহ বন্দি নেতাদের মুক্তির দাবিতে ৭ জুন ১৯৬৬ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়। সেদিন তেজগাঁও ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে শ্রমিকনেতা মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন শহীদ হন। এজন্য ৭ জুন ‘ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস’ পালিত হয়।
ঐতিহাসিক ৬ দফার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা (১৯৬৬) — এক নজরে বাঙালির বাঁচার দাবি • লাহোর প্রস্তাব ভিত্তিক স্বায়ত্তশাসন ও ম্যাগনা কার্টা ১ম দফা: শাসনতান্ত্রিক কাঠামো • লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সত্যিকারের ফেডারেশন গঠন সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠা ২য় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা • কেন্দ্রে থাকবে কেবল ২টি বিষয়: (১) দেশরক্ষা ও (২) পররাষ্ট্র অবশিষ্ট সকল ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে ন্যস্ত থাকবে ৩য় দফা: মুদ্রা বা অর্থব্যবস্থা • দুই অঞ্চলের জন্য বিকল্প: (ক) পৃথক কিন্তু সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা (খ) একই মুদ্রা থাকলে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে অর্থ পাচার রোধের গ্যারান্টি ৪র্থ দফা: রাজস্ব ও কর আদায় • কর ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা: একমাত্র অঙ্গরাজ্যের হাতে থাকবে ফেডারেল ব্যয় নির্বাহের জন্য অঙ্গরাজ্য রাজস্বের নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রকে প্রদান করবে ৫ম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য ও রিজার্ভ • বৈদেশিক মুদ্রার পৃথক হিসাব: অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে থাকবে বিদেশে বাণিজ্যিক মিশন ও প্রতিনিধি প্রেরণের সার্বভৌম অধিকার থাকবে ৬ষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক বা আধা-সামরিক বাহিনী • আঞ্চলিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা: অঙ্গরাজ্যগুলোকে নিজস্ব আধা-সামরিক (Para-military বা মিলিশিয়া) বাহিনী গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া

১. ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা (১৯৬৮) #

  • মামলার প্রকৃত/সরকারি নাম: ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’ (State vs Sheikh Mujibur Rahman and Others)। আইয়ুব সরকার একে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ নাম দেয়।
  • অভিযোগ: ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় ভারতীয় পক্ষের সাথে বৈঠক করে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার ষড়যন্ত্র।
  • আসামি সংখ্যা: শেখ মুজিবুর রহমানকে ১ নম্বর আসামি করে সামরিক ও বেসামরিক মোট ৩৫ জন বাঙালি কর্মকর্তা ও নেতার বিরুদ্ধে ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে মামলা দায়ের করা হয় (১৮ জানুয়ারি ১৯৬৮ শেখ মুজিবকে জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়)। উল্লেখ্য, ২ নং আসামি ছিলেন লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন, ৩ নং স্টুয়ার্ড মুজিবুর রহমান এবং সার্জেন্ট জহুরুল হক ছিলেন ১৭ নং আসামি।
  • বিচারের স্থান ও ট্রাইব্যুনাল: ১৯ জুন ১৯৬৮ ঢাকা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধান বিচারপতি এস. এ. রহমান (অন্য দুই বাঙালি বিচারপতি ছিলেন এম. আর. খান ও মাকসুদুল হাকিম)। শেখ মুজিবের প্রধান কৌঁসুলি ছিলেন আবদুস সালাম খান এবং ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়ামস।
  • সার্জেন্ট জহুরুল হকের শাহাদাত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় পাকিস্তানি সেনারা মামলার ১৭ নম্বর আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে হত্যা করে (তাঁর স্মৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের নাম রাখা হয় ‘সার্জেন্ট জহুরুল হক হল’)।

২. ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি #

  • ১১ দফা ও সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ (৪ জানুয়ারি, ১৯৬৯): ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু (DUCSU) ভিপি তোফায়েল আহমেদকে আহ্বায়ক করে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ) ও এনএসএফ-এর সমন্বয়ে গঠিত ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ ৬ দফাসহ ঐতিহাসিক ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। পাশাপাশি ৮টি রাজনৈতিক দল মিলে গঠন করে DAC (Democratic Action Committee)।
  • গণঅভ্যুত্থানের ৪ জন প্রধান শহিদ (১৯৬৯):
    1. শহিদ আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (শহিদ আসাদ): ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এম.এ. শেষ বর্ষের ছাত্রনেতা আসাদ শহিদ হন (জন্ম: শিবপুর, নরসিংদী)। তাঁর রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল বের হয়; কবি শামসুর রাহমান রচনা করেন কালজয়ী কবিতা ‘আসাদের শার্ট’ এবং আইয়ুব গেটের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘আসাদ গেট’।
    2. শহিদ মতিউর রহমান মল্লিক: ২৪ জানুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউশনের ৯ম শ্রেণির কিশোর ছাত্র মতিউর রহমান এবং রুস্তম আলী পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। সেদিন ঢাকায় জনতার ঢল নামে; এজন্য ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশে ‘গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। (শহিদ মতিউরের স্মৃতিতে আল মাহমুদ রচনা করেন বিখ্যাত ছড়া ‘ট্রাক! ট্রাক! ট্রাক! শুয়োরমুখো ট্রাক আসবে দুয়োর বেঁধে রাখ’)।
    3. শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক: ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন।
    4. শহিদ ড. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা: ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের রিডার (সহযোগী অধ্যাপক) ও প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা ছাত্রদের জীবন বাঁচাতে পাকিস্তানি সেনাদের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে বলেন— “কোনো ছাত্রের গায়ে গুলি লাগার আগে যেন আমার বুকে গুলি লাগে”। পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে গুলি ও বেয়নেট চার্জ করে নির্মমভাবে হত্যা করে। তিনি হলেন দেশের প্রথম শহিদ বুদ্ধিজীবী।
  • আগরতলা মামলা প্রত্যাহার ও ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি (২২–২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯):
    • প্রচণ্ড গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ আইয়ুব খান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দেন।
    • পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ১০ লক্ষাধিক মানুষের বিশাল গণসংবর্ধনায় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
  • ‘বাংলাদেশ’ নামকরণ (৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯): হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন— “জনগণের পক্ষ হতে আমি ঘোষণা করছি যে, আজ হতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশ’ হবে।”
  • আইয়ুব খানের পতন ও ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা দখল (২৫ মার্চ, ১৯৬৯): গণঅভ্যুত্থানের মুখে রাওয়ালপিন্ডির গোলটেবিল বৈঠক ব্যর্থ হলে ২৫ মার্চ ১৯৬৯ ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান পদত্যাগ করেন এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান দেশে দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

১৩.২ ঐতিহাসিক ৬ দফা — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #

আন্দোলন / ঘটনা / সংগঠন তারিখ ও বছর প্রধান উদ্যোক্তা / ব্যক্তিত্ব ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ও পরীক্ষার মূল তথ্য
আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা ২৩ জুন ১৯৪৯ (রোজ গার্ডেন, টিকাটুলী, ঢাকা) সভাপতি: মাওলানা ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক: শামসুল হক, যুগ্ম সম্পাদক: শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর কাউন্সিলে ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক ‘আওয়ামী লীগ’ নামকরণ
যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ২১ দফা ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ ৪টি দল: আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘নৌকা’; ২১ দফার রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ (১নং দফা: বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা)
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন ৮–১২ মার্চ ১৯৫৪ মুসলিম আসন ২৩৭টির মধ্যে যুক্তফ্রন্ট পায় ২২৩টি আসন (মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি) ৩ এপ্রিল ১৯৫৪ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন; ৩০ মে ৯২(ক) ধারা জারি
সামরিক শাসন ও মৌলিক গণতন্ত্র ৭ ও ২৭ অক্টোবর ১৯৫৮ এবং ১৯৫৯ ইস্কান্দার মির্জা ও জেনারেল আইয়ুব খান ৮০,০০০ মৌলিক গণতন্ত্রী (Basic Democrats) নিয়ে পরোক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রবর্তন
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬২ শরীফ শিক্ষা কমিশনের (১৯৫৯) প্রতিক্রিয়াশীল রিপোর্টের বিরুদ্ধে ছাত্র ধর্মঘট গুলিতে বাবুল, ওয়াজিউল্লাহ ও মোস্তফা শহীদ হন; ১৭ সেপ্টেম্বর ‘মহান শিক্ষা দিবস’
ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি ৫–৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ (লাহোর) ও ২৩ মার্চ ১৯৬৬ (আনুষ্ঠানিক) উত্থাপনকারী: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (‘আমাদের বাঁচার দাবি’) বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ম্যাগনাকার্টা; ৭ জুন ১৯৬৬ ‘৬ দফা দিবস’ (মনু মিয়া শহীদ)
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ৩ জানুয়ারি ১৯৬৮ (প্রত্যাহার ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯) রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য (মোট আসামি ৩৫ জন) ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে হত্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ শহীদ আসাদ (২০ জানুয়ারি), কিশোর মতিউর রহমান (২৪ জানুয়ারি), ড. শামসুজ্জোহা (১৮ ফেব্রুয়ারি) ২৪ জানুয়ারি ‘গণঅভ্যুত্থান দিবস’; ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদান (তোফায়েল আহমেদ)

📋 ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #

বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি প্রধান তথ্য ও বিবরণ অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব
স্থান পুরান ঢাকার টিকাটুলির কে এম দাস লেনের ঐতিহাসিক ‘রোজ গার্ডেন’ (মালিক: কাজী হুমায়ুন রশীদ ২ দিনব্যাপী সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন আতাউর রহমান খান) ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
সভাপতি মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা (২৩ জুন, ১৯৪৯) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
সহ-সভাপতি আতাউর রহমান খান, শাখাওয়াত হোসেন, আলী আহমদ খান, আলী আমজাদ খান ও আবদুস সালাম খান (মোট ৫ জন) পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা (২৩ জুন, ১৯৪৯) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক (টাঙ্গাইল) পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা (২৩ জুন, ১৯৪৯) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
যুগ্ম সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান (কারাবন্দি অবস্থায় নির্বাচিত) ও খন্দকার মোশতাক আহমদ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা (২৩ জুন, ১৯৪৯) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
কোষাধ্যক্ষ ইয়ার মোহাম্মদ খান পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা (২৩ জুন, ১৯৪৯) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
অসাম্প্রদায়িকীকরণ (২১–২৩ অক্টোবর, ১৯৫৫) ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত দলের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের স্বার্থে নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ রাখা হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা (২৩ জুন, ১৯৪৯) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
যুক্তফ্রন্ট গঠন ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে ৪টি প্রধান দল নিয়ে ‘যুক্তফ্রন্ট’ (United Front) নির্বাচনী জোট গঠিত হয়: যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা ভাসানী ও শেখ মুজিবুর রহমান) যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
কৃষক শ্রমিক পার্টি — KSP (শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক) যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
নেজামে ইসলাম পার্টি (মাওলানা আতাহার আলী) যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ ও মাহমুদ আলী) যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
প্রতীক নৌকা যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেন আবুল মনসুর আহমদ যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
১ম দফা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
অন্যান্য প্রধান দফা বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ (২য় দফা), পাট ব্যবসা জাতীয়করণ (৩য় দফা), বর্ধমান হাউসকে (বর্তমান বাংলা একাডেমি) বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণাগার করা (১৬তম দফা), ২১শে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ও সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করা (১৭তম দফা), লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব বঙ্গকে পূর্ণ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান (১৯তম দফা) যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
৩ এপ্রিল ১৯৫৪ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ১৫ মে ১৯৫৪ সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে (কৃষি, বন, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়) শপথ নেন ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা (৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫) যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার ১৬তম দফার বাস্তবায়ন হিসেবে পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার ঢাকার বর্ধমান হাউসে ‘বাংলা একাডেমি’ উদ্বোধন করেন (প্রথম পরিচালক: ড. মুহম্মদ এনামুল হক প্রথম মহাপরিচালক: ড. মাযহারুল ইসলাম) ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
তারিখ ও স্থান ৭–৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৭, টাঙ্গাইলের সন্তোষের কাগমারীতে মাওলানা ভাসানীর উদ্যোগে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন ও ন্যাপ গঠন (১৯৫৭) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
ঐতিহাসিক তাৎপর্য প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মার্কিন ঘেঁষা পররাষ্ট্রনীতি (SEATO ও CENTO সামরিক চুক্তি)-এর বিরোধিতা করে এবং পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে মাওলানা ভাসানী পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক “আসসালামু আলাইকুম” (বিচ্ছেদের ইঙ্গিত) উচ্চারণ করেন ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন ও ন্যাপ গঠন (১৯৫৭) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
ন্যাপ (NAP) গঠন পরবর্তীতে ২৫–২৬ জুলাই ১৯৫৭ ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে বামপন্থী ও প্রগতিশীল নেতাদের নিয়ে মাওলানা ভাসানী ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি’ (NAP) গঠন করেন ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন ও ন্যাপ গঠন (১৯৫৭) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
২০ সেপ্টেম্বর ১৯৫৮ পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে বিরোধীদলের অনাস্থা প্রস্তাবে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী পাটোয়ারী মারাত্মকভাবে আহত হন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন ও মৌলিক গণতন্ত্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
৭ অক্টোবর ১৯৫৮ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল করে সারাদেশে প্রথম সামরিক শাসন (Martial Law) জারি করেন এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (CMLA) নিয়োগ করেন ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন ও মৌলিক গণতন্ত্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
২৭ অক্টোবর ১৯৫৮ মাত্র ২০ দিনের মাথায় জেনারেল আইয়ুব খান রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে ইস্কান্দার মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত ও দেশত্যাগে বাধ্য করে নিজেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেন এবং রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে EBDO (Elective Bodies Disqualification Order) জারি করেন ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন ও মৌলিক গণতন্ত্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
মৌলিক গণতন্ত্র (Basic Democracy - ১৯৫৯) আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে ২৭ অক্টোবর ১৯৫৯ ‘মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ’ জারি করেন এতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ ইউনিয়ন কাউন্সিল মেম্বার (মৌলিক গণতন্ত্রী) নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়, যাদের ভোটে কেবল রাষ্ট্রপতি ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতেন ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
১৯৬২ সালের সংবিধান ও ১৯৬৫ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১ মার্চ ১৯৬২ আইয়ুব খান রাষ্ট্রপতিশাসিত সংবিধান জারি করেন ২ জানুয়ারি ১৯৬৫ অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী দলের (COP) প্রার্থী ছিলেন কায়েদে আজমের ভগ্নি ফাতিমা জিন্নাহ (প্রতীক: হারিকেন), আর আইয়ুব খানের প্রতীক ছিল গোলাপ ফুল ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
উত্থাপনের তারিখ ও স্থান ৫–৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনের বিষয় নির্বাচনী কমিটিতে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি’ পেশ করেন এবং ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ ঢাকায় ফিরে সংবাদ সম্মেলনে তা প্রকাশ করেন ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন (১৯৬৬) — ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ১৮ মার্চ ১৯৬৬ ঢাকার হোটেল ইডেনে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ৬ দফা গৃহীত হয় এবং ২৩ মার্চ ১৯৬৬ লাহোর প্রস্তাব দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন (১৯৬৬) — ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
ঐতিহাসিক তুলনা ব্রিটিশ শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে ১২১৫ সালের ‘ম্যাগনাকার্টা’ (Magna Carta)-এর সাথে তুলনা করে ৬ দফাকে বলা হয় ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ (Charter of Freedom of the Bengalis) ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন (১৯৬৬) — ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
৭ জুন ১৯৬৬ (‘ছয় দফা দিবস’) ৬ দফার দাবিতে এবং শেখ মুজিবসহ বন্দি নেতাদের মুক্তির দাবিতে ৭ জুন ১৯৬৬ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয় সেদিন তেজগাঁও ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে শ্রমিকনেতা মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন শহীদ হন ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
মামলার প্রকৃত/সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’ (State vs Sheikh Mujibur Rahman and Others) আইয়ুব সরকার একে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ নাম দেয় ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
অভিযোগ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় ভারতীয় পক্ষের সাথে বৈঠক করে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার ষড়যন্ত্র ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা (১৯৬৮) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
আসামি সংখ্যা শেখ মুজিবুর রহমানকে ১ নম্বর আসামি করে সামরিক ও বেসামরিক মোট ৩৫ জন বাঙালি কর্মকর্তা ও নেতার বিরুদ্ধে ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে মামলা দায়ের করা হয় (১৮ জানুয়ারি ১৯৬৮ শেখ মুজিবকে জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়) উল্লেখ্য, ২ নং আসামি ছিলেন লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন, ৩ নং স্টুয়ার্ড মুজিবুর রহমান এবং সার্জেন্ট জহুরুল হক ছিলেন ১৭ নং আসামি ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
বিচারের স্থান ও ট্রাইব্যুনাল ১৯ জুন ১৯৬৮ ঢাকা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধান বিচারপতি এস. এ. রহমান (অন্য দুই বাঙালি বিচারপতি ছিলেন এম. আর. খান ও মাকসুদুল হাকিম) ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
সার্জেন্ট জহুরুল হকের শাহাদাত ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় পাকিস্তানি সেনারা মামলার ১৭ নম্বর আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে হত্যা করে (তাঁর স্মৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের নাম রাখা হয় ‘সার্জেন্ট জহুরুল হক হল’) ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা (১৯৬৮) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
১১ দফা ও সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ (৪ জানুয়ারি, ১৯৬৯) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু (DUCSU) ভিপি তোফায়েল আহমেদকে আহ্বায়ক করে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ) ও এনএসএফ-এর সমন্বয়ে গঠিত ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ ৬ দফাসহ ঐতিহাসিক ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে পাশাপাশি ৮টি রাজনৈতিক দল মিলে গঠন করে DAC (Democratic Action Committee) ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
শহিদ আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (শহিদ আসাদ) ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এম.এ. শেষ বর্ষের ছাত্রনেতা আসাদ শহিদ হন (জন্ম: শিবপুর, নরসিংদী) তাঁর রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল বের হয় ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
শহিদ মতিউর রহমান মল্লিক ২৪ জানুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউশনের ৯ম শ্রেণির কিশোর ছাত্র মতিউর রহমান এবং রুস্তম আলী পুলিশের গুলিতে শহিদ হন সেদিন ঢাকায় জনতার ঢল নামে ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
শহিদ ড. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের রিডার (সহযোগী অধ্যাপক) ও প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা ছাত্রদের জীবন বাঁচাতে পাকিস্তানি সেনাদের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে বলেন— “কোনো ছাত্রের গায়ে গুলি লাগার আগে যেন আমার বুকে গুলি লাগে” পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে গুলি ও বেয়নেট চার্জ করে নির্মমভাবে হত্যা করে ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
‘বাংলাদেশ’ নামকরণ (৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন— “জনগণের পক্ষ হতে আমি ঘোষণা করছি যে, আজ হতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশ’ হবে ” ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
আইয়ুব খানের পতন ও ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা দখল (২৫ মার্চ, ১৯৬৯) গণঅভ্যুত্থানের মুখে রাওয়ালপিন্ডির গোলটেবিল বৈঠক ব্যর্থ হলে ২৫ মার্চ ১৯৬৯ ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান পদত্যাগ করেন এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান দেশে দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ৪টি দল নিয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘নৌকা’ এবং আবুল মনসুর আহমদ প্রণীত ২১ দফা ইশতেহারের প্রথম দফাটিই ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা নির্বাচনে মুসলিম ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি (স্বতন্ত্রসহ ২২৮টি) আসন লাভ করে ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন যেমন ‘ম্যাগনাকার্টা’ সনদে স্বাক্ষর করে জনগণের অধিকার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন, তেমনি ১৯৬৬ সালের ৫–৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে উত্থাপিত এবং ২৩ মার্চ ১৯৬৬ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ছিল বাঙালির স্বাধিকার ও মুক্তির সনদ 📝 টপিকভিত্তিক বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর অনুশীলন (টপিক ১৩) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৩. যুক্তফ্রন্ট, ৬ দফা ও গণঅভ্যুত্থান (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))