টপিক 14 / ৫৮পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০)📖 স্টাডি নোট

টপিক ১৪: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন, অসহযোগ আন্দোলন ও ৭ই মার্চের ভাষণ

অধ্যায় ১৪: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান #

৩. ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণরায় #

  • আইনগত কাঠামো আদেশ (LFO): ৩০ মার্চ ১৯৭০ জেনারেল ইয়াহিয়া খান ‘Legal Framework Order’ (LFO) জারি করেন এবং প্রথমবারের মতো ‘এক ব্যক্তি এক ভোট’ (One Man One Vote) ও জনসংখ্যার অনুপাতে সংসদে আসন বণ্টনের নীতি মেনে নেন।
  • ১২ নভেম্বর ১৯৭০-এর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় (ভোলা সাইক্লোন): নির্বাচনের ঠিক আগে ১২ নভেম্বর ১৯৭০ উপকূলীয় অঞ্চলে শতাব্দীর ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে (‘গোর্কি’) প্রায় ৫–১০ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারায়। কেন্দ্রীয় পাকিস্তানি সরকারের চরম উদাসীনতা বাঙালিদের ক্ষোভকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায়। মওলানা ভাসানীর ন্যাপ নির্বাচন বর্জন করে (“ভোটের বাক্সে লাথি মারো, পূর্ব বাংলা স্বাধীন করো”)।
  • নির্বাচনের তারিখ:
    • পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ (National Assembly) নির্বাচন: ৭ ডিসেম্বর ১৯৭০ (উপকূলীয় দুর্গত ৯টি আসনে ১৭ জানুয়ারি ১৯৭১ অনুষ্ঠিত হয়)।
    • পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ (Provincial Assembly) নির্বাচন: ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭০।

১৯৭০ সালের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল (পরীক্ষার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ছক) #

পরিষদের নাম মোট আসন পূর্ব পাকিস্তানের আসন আওয়ামী লীগের প্রাপ্ত আসন অন্যান্য দলের প্রাপ্ত আসন
১. পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ (National Assembly) ৩১৩টি (সাধারণ ৩০০ + সংরক্ষিত নারী ১৩) ১৬৯টি (সাধারণ ১৬২ + সংরক্ষিত নারী ৭) ১৬৭টি (সাধারণ ১৬০ + সংরক্ষিত নারী ৭)। প্রাপ্ত ভোটের হার: ৭৫.১০% জুলফিকার আলী ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (PPP): ৮৮টি (সবকটি পশ্চিম পাকিস্তানে)। পূর্ব পাকিস্তানে বাকি ২টি আসনে জয়ী হন: নূরুল আমিন (পিডিপি, ময়মনসিংহ-৮) ও চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় (স্বতন্ত্র, পার্বত্য চট্টগ্রাম)।
২. পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ (Provincial Assembly) ৩১০টি (সাধারণ ৩০০ + সংরক্ষিত নারী ১০) ৩১০টি ২৯৮টি (সাধারণ ২৮৮টি + সংরক্ষিত নারী ১০টি)। প্রাপ্ত ভোটের হার: ৭০.৪৮% পিডিপি ২টি, ন্যাপ (ওয়ালী) ১টি, জামায়াতে ইসলামী ১টি, নেজামে ইসলাম ১টি এবং স্বতন্ত্র ৭টি।

ঐতিহাসিক তাৎপর্য: ১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিল মূলত ৬ দফার পক্ষে গণভোট। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় ও প্রাদেশিক উভয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Absolute Majority) অর্জন করে এবং বিশ্ববাসীর কাছে বাঙালি জাতির একক বৈধ মুখপাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।


৩.১ একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন ও ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ (মার্চ ১৯৭১) #

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পাওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে ষড়যন্ত্র শুরু করে।

  • ১ মার্চ ১৯৭১: প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। সাথে সাথে ঢাকা স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলা বন্ধ হয়ে যায় এবং সমগ্র বাংলায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
  • ২ মার্চ ১৯৭১ (জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস): ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে ঐতিহাসিক বটতলায় ছাত্র সমাবেশে ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন (পতাকার মূল নকশাকার ছিলেন ছাত্রনেতা শিবনারায়ণ দাশ; পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান মানচিত্র বাদ দিয়ে বর্তমান পতাকার চূড়ান্ত রূপ দেন)। একই দিন ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস মাখন, নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ ও আ স ম আবদুর রব (যাঁদের একত্রে ‘চার খলিফা’ বলা হতো) ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করেন।
  • ৩ মার্চ ১৯৭১ (স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ): পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের জনসভায় বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার’ পাঠ করেন। এতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আমার সোনার বাংলা”-কে জাতীয় সংগীত এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করা হয়। বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে সর্বাত্মক ‘অসহযোগ আন্দোলন’-এর ডাক দেন।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ (৭ মার্চ, ১৯৭১) #

  • স্থান ও সময়: ঢাকার রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান); বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে।
  • ভাষণের স্থায়িত্ব ও শব্দসংখ্যা: প্রায় ১৮ থেকে ১৯ মিনিট (মূল লিখিত রূপে শব্দসংখ্যা ১,১০৮টি; সংবিধানের পঞ্চম তফসিলভুক্ত অলিখিত স্বতঃস্ফূর্ত ভাষণ)।
  • ভাষণের ৪টি প্রধান শর্ত (অধিবেশনে যোগদানের পূর্বশর্ত):
    1. সামরিক আইন (Martial Law) অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
    2. সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
    3. যেভাবে হত্যাকাণ্ড করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে।
    4. জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
  • ঐতিহাসিক দিকনির্দেশনা ও সমাপ্তি ঘোষণা:

    *“প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে... রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো—এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ্। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।”*

  • আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
    • Newsweek ম্যাগাজিন (৫ এপ্রিল ১৯৭১ সংখ্যায়) বঙ্গবন্ধুকে ‘Poet of Politics’ (রাজনীতির কবি) বলে অভিহিত করে।
    • ৩০ অক্টোবর ২০১৭ জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO) প্যারিসে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’ (Memory of the World International Register / বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
    • ভাষণটি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১ দ্বারা ১৫০(২) অনুচ্ছেদ ও পঞ্চম তফসিলে সংযোজিত হয়েছে এবং জাতিসংঘের ৬টি দাপ্তরিক ভাষাসহ বিশ্বের বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

১৪.২ গণঅভ্যুত্থান ও মামলা প্রত্যাহার — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #

আন্দোলন / ঘটনা / সংগঠন তারিখ ও বছর প্রধান উদ্যোক্তা / ব্যক্তিত্ব ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ও পরীক্ষার মূল তথ্য
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ৭ ডিসেম্বর ১৯৭০ (জাতীয় পরিষদ) ও ১৭ ডিসেম্বর (প্রাদেশিক) প্রধান নির্বাচন কমিশনার: বিচারপতি আবদুস সাত্তার জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন (১৬৯টির মধ্যে) এবং প্রাদেশিক পরিষদে ২৯৮টি আসন লাভ করে

১৪.৩ শহীদ আসাদ, সার্জেন্ট জহুরুল হক ও ড. শামসুজ্জোহার আত্মদান সারণি #

বিষয় / ব্যক্তিত্ব / প্রতিষ্ঠান ও সময়কাল প্রধান পরিচয় / অবস্থান / আইন মূল কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো বিসিএস ও সরকারি চাকরি পরীক্ষার বিশেষ তথ্য
আইনগত কাঠামো আদেশ বা LFO (৩০ মার্চ ১৯৭০) জারি করেন: পাকিস্তানের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতি জেনারেল ইয়াহিয়া খান LFO-এর পূর্ণরূপ: Legal Framework Order 1970 (এক ইউনিট প্রথা বাতিল ও ‘এক ব্যক্তি এক ভোট’ নীতি প্রবর্তন) জাতীয় পরিষদের মোট আসন ৩১৩টি (সাধারণ ৩০০ + সংরক্ষিত নারী ১৩) এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ১৬৯টি আসন (১৬২ সাধারণ + ৭ নারী)
১২ নভেম্বর ১৯৭০-এর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় (ভোলা সাইক্লোন) উপকূলীয় পূর্ব পাকিস্তানে আঘাত হানা শতাব্দীর ভয়াবহ সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি; কেন্দ্রীয় পাকিস্তান সরকারের চরম উদাসীনতা ও অবহেলা মাওলানা ভাসানী পল্টন জনসভায় স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের দাবি তোলেন এবং বঙ্গবন্ধু দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালান
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচন (৭ ডিসেম্বর ১৯৭০) পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম প্রত্যক্ষ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন (উপকূলীয় ৯টি আসনে ১৭ জানুয়ারি ১৯৭১) পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসনে (১৬০ সাধারণ + ৭ নারী) নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে বাকি ২টি আসনে জয়ী হন নূরুল আমিন (পিডিপি, ময়মনসিংহ-৮) এবং চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় (স্বতন্ত্র, পার্বত্য চট্টগ্রাম)
১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন (১৭ ডিসেম্বর ১৯৭০) পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের মোট আসন ছিল ৩১০টি (সাধারণ ৩০০ + সংরক্ষিত নারী ১০) আওয়ামী লীগ ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে ২৮৮টি এবং ১০টি সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট ২৯৮টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় ও প্রাদেশিক উভয় পরিষদেই আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা (১ মার্চ ১৯৭১) ৩ মার্চ ১৯৭১ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসার কথা ছিল জুলফিকার আলী ভুট্টোর ষড়যন্ত্রে জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১ মার্চ দুপুরে বেতার ভাষণে অনির্দিষ্টকালের জন্য অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন প্রতিবাদে সমগ্র পূর্ব বাংলা ফুঁসে ওঠে এবং বঙ্গবন্ধু হোটেল পূর্বাণীতে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন
স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন (১ মার্চ ১৯৭১) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে গঠিত মুক্তিযুদ্ধের অগ্রণী ছাত্র সংগঠন চার খলিফা নামে পরিচিত ৪ ছাত্রনেতা: নূরে আলম সিদ্দিকী (সভাপতি, ছাত্রলীগ), শাজাহান সিরাজ (সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ), আ স ম আবদুর রব (ভিপি, ডাকসু) ও আবদুল কুদ্দুস মাখন (জিএস, ডাকসু) ২ ও ৩ মার্চের ঐতিহাসিক ছাত্র সমাবেশ ও স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ পরিচালনা করে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম মানচিত্রখচিত পতাকা উত্তোলন (২ মার্চ ১৯৭১) স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের বটতলায় ঐতিহাসিক ছাত্র সমাবেশ উত্তোলন করেন ডাকসুর তৎকালীন সহ-সভাপতি (ভিপি) আ স ম আবদুর রব সবুজ জমিনের মাঝে লাল বৃত্তের ভেতর সোনালি রঙের বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত পতাকার নকশাকার ছিলেন শিবনারায়ণ দাস
স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ ও ‘জাতির পিতা’ ঘোষণা (৩ মার্চ ১৯৭১) স্থান: ঢাকার পল্টন ময়দান (ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের বিশাল জনসভা) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে ‘স্বাধীনতার ইশতেহার’ পাঠ করেন ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের ‘জাতির পিতা’ ঘোষণা করা হয় এবং ‘আমার সোনার বাংলা’কে জাতীয় সংগীত নির্ধারণ করা হয়
ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলন (২–২৫ মার্চ ১৯৭১) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসন পরিচালিত হয় সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত (প্রধান বিচারপতি বি এ সিদ্দিকী টিক্কা খানকে শপথ পড়াতে অস্বীকৃতি জানান), ব্যাংক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধুর ৩৫টি নির্দেশনায় চলে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবন কার্যত পূর্ব বাংলার শাসনকেন্দ্রে পরিণত হয়
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ (৭ মার্চ ১৯৭১) স্থান: ঢাকার রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান); সময়: বিকেল ৩টা ২০ মিনিট প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের সামনে ১৮ মিনিটব্যাপী (১,১০৮ শব্দের) অলিখিত কালজয়ী ভাষণ অমর ঘোষণা: ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এবং ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো’
৭ই মার্চের ভাষণের ৪টি প্রধান শর্ত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের পূর্বশর্ত হিসেবে বঙ্গবন্ধু ৪টি দাবি পেশ করেন ১. সামরিক আইন (Martial Law) প্রত্যাহার করা, ২. সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, ৩. গণহত্যার তদন্ত করা এবং ৪. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা মার্কিন সাময়িকী ‘নিউজউইক’ (৫ এপ্রিল ১৯৭১ সংখ্যায় সাংবাদিক লোরেন জেনকিন্স) বঙ্গবন্ধুকে ‘Poet of Politics’ (রাজনীতির কবি) উপাধিতে ভূষিত করে
ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ স্বীকৃতি (৩০ অক্টোবর ২০১৭) স্বীকৃতি প্রদানকারী: ইউনেস্কো (UNESCO) — সদর দপ্তর প্যারিস, ফ্রান্স (মহা পরিচালক ইরিনা বোকোভা) ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য বা ‘Memory of the World International Register’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয় বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র দলিল হিসেবে এটি ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড তালিকায় স্থান পেয়েছে; ভাষণটি সংবিধানের ৫ম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত

📋 ১৪. ১৯৭০ নির্বাচন ও ৭ই মার্চ — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #

বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি প্রধান তথ্য ও বিবরণ অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব
আইনগত কাঠামো আদেশ (LFO) ৩০ মার্চ ১৯৭০ জেনারেল ইয়াহিয়া খান ‘Legal Framework Order’ (LFO) জারি করেন এবং প্রথমবারের মতো ‘এক ব্যক্তি এক ভোট’ (One Man One Vote) ও জনসংখ্যার অনুপাতে সংসদে আসন বণ্টনের নীতি মেনে নেন ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণরায় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৪. ১৯৭০ নির্বাচন ও ৭ই মার্চ (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
১২ নভেম্বর ১৯৭০-এর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় (ভোলা সাইক্লোন) নির্বাচনের ঠিক আগে ১২ নভেম্বর ১৯৭০ উপকূলীয় অঞ্চলে শতাব্দীর ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে (‘গোর্কি’) প্রায় ৫–১০ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারায় কেন্দ্রীয় পাকিস্তানি সরকারের চরম উদাসীনতা বাঙালিদের ক্ষোভকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায় ১৪. ১৯৭০ নির্বাচন ও ৭ই মার্চ (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ (National Assembly) নির্বাচন ৭ ডিসেম্বর ১৯৭০ (উপকূলীয় দুর্গত ৯টি আসনে ১৭ জানুয়ারি ১৯৭১ অনুষ্ঠিত হয়) ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণরায় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৪. ১৯৭০ নির্বাচন ও ৭ই মার্চ (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ (Provincial Assembly) নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭০ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণরায় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৪. ১৯৭০ নির্বাচন ও ৭ই মার্চ (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
১ মার্চ ১৯৭১ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন সাথে সাথে ঢাকা স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলা বন্ধ হয়ে যায় এবং সমগ্র বাংলায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ১৪. ১৯৭০ নির্বাচন ও ৭ই মার্চ (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
২ মার্চ ১৯৭১ (জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে ঐতিহাসিক বটতলায় ছাত্র সমাবেশে ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন (পতাকার মূল নকশাকার ছিলেন ছাত্রনেতা শিবনারায়ণ দাশ পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান মানচিত্র বাদ দিয়ে বর্তমান পতাকার চূড়ান্ত রূপ দেন) ১৪. ১৯৭০ নির্বাচন ও ৭ই মার্চ (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
৩ মার্চ ১৯৭১ (স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ) পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের জনসভায় বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার’ পাঠ করেন এতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আমার সোনার বাংলা”-কে জাতীয় সংগীত এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করা হয় ১৪. ১৯৭০ নির্বাচন ও ৭ই মার্চ (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
স্থান ও সময় ঢাকার রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে ১৪. ১৯৭০ নির্বাচন ও ৭ই মার্চ (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
ভাষণের স্থায়িত্ব ও শব্দসংখ্যা প্রায় ১৮ থেকে ১৯ মিনিট (মূল লিখিত রূপে শব্দসংখ্যা ১,১০৮টি সংবিধানের পঞ্চম তফসিলভুক্ত অলিখিত স্বতঃস্ফূর্ত ভাষণ) ১৪. ১৯৭০ নির্বাচন ও ৭ই মার্চ (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))
৩০ অক্টোবর ২০১৭ জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO) প্যারিসে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’ (Memory of the World International Register / বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ (৭ মার্চ, ১৯৭১) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৪. ১৯৭০ নির্বাচন ও ৭ই মার্চ (পাকিস্তান আমল (১৯৪৭–১৯৭০))