টপিক 17 / ৫৮মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১📖 স্টাডি নোট

টপিক ১৭: মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর, সাব-সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স

অধ্যায় ১৭: মহান মুক্তিযুদ্ধ: সেক্টর, বীরত্বসূচক খেতাব ও অপারেশনসমূহ #

৩.৪ মুক্তিযুদ্ধের সামরিক সংগঠন, ৩টি ব্রিগেড ফোর্স ও ১১টি সেক্টর #

  • তেলিয়াপাড়া সম্মেলন (৪ এপ্রিল, ১৯৭১): হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় কর্নেল এম এ জি ওসমানীর সভাপতিত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন বাঙালি সেনা কর্মকর্তাদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধকে প্রাথমিকভাবে ৪টি (পরে ৬টি) সামরিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
  • সেক্টর কমান্ডারদের সম্মেলন (১০–১৭ জুলাই, ১৯৭১): কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেক্টর কমান্ডারদের সম্মেলনে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টর ও ৬৪টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
  • মুক্তিবাহিনীর শ্রেণিবিভাগ:
    1. নিয়মিত বাহিনী (Regular Force / ‘মুক্তিফৌজ’ বা MF): ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিয়ে গঠিত।
    2. অনিয়মিত বাহিনী (Irregular Force / ‘গণবাহিনী’ বা FF - Freedom Fighters): ছাত্র, যুবক, কৃষক ও সাধারণ জনগণ নিয়ে গঠিত গেরিলা বাহিনী।
    3. বিএলএফ (BLF - Bangladesh Liberation Force / ‘মুজিব বাহিনী’): শেখ ফজলুল হক মণি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ যুব গেরিলা বাহিনী।

মুক্তিযুদ্ধের ৩টি নিয়মিত ব্রিগেড ফোর্স (Z Force, K Force, S Force) #

ব্রিগেড ফোর্সের নাম নামকরণের উৎস ও অধিনায়ক গঠনের তারিখ ও সদর দপ্তর অন্তর্ভুক্ত ব্যাটালিয়নসমূহ
১. জেড ফোর্স (Z Force) মেজর জিয়াউর রহমান-এর নামের আদ্যক্ষর ‘Z’ দিয়ে (মুক্তিবাহিনীর প্রথম ব্রিগেড ফোর্স) ৭ জুলাই ১৯৭১; তুরার নিকটবর্তী তেলঢালা ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।
২. কে ফোর্স (K Force) মেজর খালেদ মোশাররফ-এর নামের আদ্যক্ষর ‘K’ দিয়ে ১৪ অক্টোবর ১৯৭১; আগরতলা (মেলাঘর) ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।
৩. এস ফোর্স (S Force) মেজর কে. এম. শফিউল্লাহ-এর নামের আদ্যক্ষর ‘S’ দিয়ে অক্টোবর ১৯৭১; আসামের হেজামারা ২য় ও ১১শ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।

মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর, ভৌগোলিক এলাকা ও সেক্টর কমান্ডারদের তালিকা #

মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও বিশেষ অপারেশন মানচিত্র ভৌগোলিক সীমানা, সেক্টর কমান্ডার এবং গেরিলা অপারেশনের মাস্টার ছক ২নং সেক্টর: ঢাকা ও ক্র্যাক প্লাটুন • সীমানা: ঢাকা শহর, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও নোয়াখালী • কমান্ডার: মেজর খালেদ মোশাররফ ও মেজর এ. টি. এম. হায়দার • বিশেষত্ব: বিখ্যাত ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ (রুমি, জুয়েল, বদি, আজাদ) ঢাকায় গেরিলা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শত্রুদের মনোবল ভেঙে দেয় ১০নং সেক্টর: একমাত্র নৌ-কমান্ডো সেক্টর • সীমানা: সমগ্র নৌ-পথ, উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দর • কমান্ডার: কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না • কীর্তি: ঐতিহাসিক ‘অপারেশন জ্যাকপট’ (১৫ আগস্ট ১৯৭১) চট্টগ্রাম, মোংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে পাকিস্তানি জাহাজ ধ্বংস ৮নং সেক্টর: মেহেরপুর ও মুক্তাঞ্চল • সীমানা: কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, মেহেরপুর ও ফরিদপুরের অংশ • কমান্ডার: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী ও মেজর এম. এ. মঞ্জুর • ঐতিহাসিক গুরুত্ব: মুজিবনগর এই ৮নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল যশোর প্রথম পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত জেলা (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১) বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন অমর শহীদ • সেনাবাহিনী (৩ জন): মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, মোস্তফা কামাল, হামিদুর রহমান • ইপিআর / বিজিবি (২ জন): ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ, মুন্সী আব্দুর রউফ • নৌবাহিনী (১ জন): ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মো. রুহুল আমিন • বিমানবাহিনী (১ জন): ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
সেক্টর নং ভৌগোলিক এলাকা (সীমানা) সেক্টর কমান্ডারগণ (সময়কালসহ) সদর দপ্তর (Headquarters)
সেক্টর ১ চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালী জেলার মুহুরী নদীর পূর্ব এলাকা (ফেনী নদী পর্যন্ত)। ১. মেজর জিয়াউর রহমান (১০ এপ্রিল – ১০ জুন)
২. মেজর রফিকুল ইসলাম (১০ জুন – ডিসেম্বর ১৯৭১)
হরিণা (ত্রিপুরার সাব্রুমের বিপরীতে)
সেক্টর ২ ঢাকা জেলা, কুমিল্লা, আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের অংশবিশেষ। ১. মেজর খালেদ মোশাররফ (এপ্রিল – সেপ্টেম্বর)
২. মেজর এ টি এম হায়দার (অক্টোবর – ডিসেম্বর)
মেলাঘর (আগরতলা, ত্রিপুরা)
সেক্টর ৩ হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে উত্তর-পূর্বে কুমিল্লা ও ঢাকার অংশবিশেষ। ১. মেজর কে এম শফিউল্লাহ (এপ্রিল – সেপ্টেম্বর)
২. মেজর এ এন এম নূরুজ্জামান (সেপ্টেম্বর – ডিসেম্বর)
হেজামারা / কলাগাছিয়া
সেক্টর ৪ সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল (হবিগঞ্জ বাদে খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন থেকে ডাউকি পর্যন্ত)। মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত) ও ক্যাপ্টেন এ রব করিমগঞ্জ (আসাম)
সেক্টর ৫ সিলেট জেলার পশ্চিমাঞ্চল (দুর্গাপুর থেকে ডাউকি) ও সুনামগঞ্জ-ময়মনসিংহ সীমান্ত। মেজর মীর শওকত আলী বাঁশতলা (ছাতক সংলগ্ন)
সেক্টর ৬ সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা। (একমাত্র সেক্টর যার সদর দপ্তর বাংলাদেশের মাটিতে ছিল) উইং কমান্ডার এম. খাদেমুল বাশার পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) ও বুড়িমারী
সেক্টর ৭ রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল। ১. মেজর নাজমুল হক (এপ্রিল – ২৭ সেপ্টেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় শহীদ হন)
২. মেজর সুবেদার আলী রব (অস্থায়ী)
৩. মেজর কাজী নূরুজ্জামান (অক্টোবর – ডিসেম্বর)
তরঙ্গপুর (পশ্চিমবঙ্গের কালিয়াগঞ্জ সংলগ্ন)
সেক্টর ৮ কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুরের অংশবিশেষ এবং দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা। (মুজিবনগর এই সেক্টরে অবস্থিত) ১. মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল – আগস্ট)
২. মেজর এম. এ. মঞ্জুর (আগস্ট – ডিসেম্বর)
বেনাপোল ও কল্যাণী (নদীয়া)
সেক্টর ৯ বরিশাল, পটুয়াখালী, সুন্দরবনসহ খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চল। ১. মেজর এম. এ. জলিল (এপ্রিল – ডিসেম্বর প্রথমার্ধ)
২. মেজর জয়নুল আবেদীন (যুগ্ম ও পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত)
হাসনাবাদ ও টাকি (বশিরহাট, চব্বিশ পরগনা)
সেক্টর ১০ সমগ্র বাংলাদেশের নৌপথ, উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রবন্দরসমূহ (নৌ-কমান্ডো সেক্টর)। কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না। প্রধান সেনাপতির সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ফরাসি নৌঘাঁটি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৮ জন বাঙালি সাবমেরিনার ও নৌ-কমান্ডোরা যে সেক্টরে অপারেশন চালাতেন, সেই সেক্টরের কমান্ডারের অধীনে থাকতেন। প্রধান সেনাপতির দপ্তর
সেক্টর ১১ কিশোরগঞ্জ বাদে সমগ্র ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা এবং রংপুরের গাইবান্ধা-কুড়িগ্রাম নদী অঞ্চল। ১. মেজর আবু তাহের (আগস্ট – ১৪ নভেম্বর কামালপুর যুদ্ধে পা হারান)
২. ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম. হামিদুল্লাহ খান (নভেম্বর – ডিসেম্বর)
মহেন্দ্রগঞ্জ (মেঘালয়ের তুরা সংলগ্ন)

অভ্যন্তরীণ আঞ্চলিক স্বাধীন বাহিনী, ক্র্যাক প্লাটুন ও বিশেষ অপারেশন #

  • ক্র্যাক প্লাটুন (Crack Platoon): মেজর খালেদ মোশাররফ ও মেজর এ টি এম হায়দারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরে হিট অ্যান্ড রান (Hit and Run) গেরিলা অপারেশন পরিচালনার জন্য গঠিত দুঃসাহসী তরুণদের দল। ৯ জুন ১৯৭১ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিদলের সামনে তাদের প্রথম অভিযান শুরু হয়। ক্র্যাক প্লাটুনের শহিদ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন শহিদ রুমী (জাহানারা ইমামের পুত্র শাফী ইমাম রুমী), শহিদ আজাদ, শহিদ বদি, শহিদ জুয়েল (ক্রিকেটার), শহিদ আলতাফ মাহমুদ এবং জীবিত সদস্যদের মধ্যে ফতেহ আলী চৌধুরী, হাবিবুল আলম বীরপ্রতীক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ।
  • আঞ্চলিক বাহিনীসমূহ:
    • কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল): বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম)-এর নেতৃত্বে ১৭,০০০ মুক্তিযোদ্ধার বিশাল বাহিনী (২৪ অক্টোবর ১৯৭১ নাগরপুর ও মাকড়াই যুদ্ধ, ভূঞাপুরের মাটিকাটায় পাকিস্তানিদের জাহাজ দখল)।
    • হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ-ফরিদপুর): সুবেদার হেমায়েত উদ্দিন (বীরবিক্রম)-এর নেতৃত্বে।
    • আফসার বাহিনী (ময়মনসিংহের ভালুকা): মেজর আফসার উদ্দিনের নেতৃত্বে।
    • আকবর বাহিনী (মাগুরা ঝিনাইদহ): আকবর হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে।
    • হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ): ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরীর নেতৃত্বে।
    • বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল) ও লতিফ মির্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ-পাবনা)।
  • অপারেশন জ্যাকপট (Operation Jackpot — ১৫ আগস্ট, ১৯৭১): ১০নং সেক্টরের নৌ-কমান্ডোরা ১৫ আগস্ট ১৯৭১ মধ্যরাতে একই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরে মাইন লাগিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২৬টি অস্ত্র ও রসদবাহী জাহাজ ডুবিয়ে দেয়। অভিযানের সংকেত হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে পঙ্কজ মল্লিকের “আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলেম গান” এবং সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের “আমার পুতুল আজকে প্রথম যাবে শ্বশুরবাড়ি” গান দুটি প্রচার করা হয়।
  • কিলো ফ্লাইট (Kilo Flight — ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১): ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার ও স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম ইউনিট ‘কিলো ফ্লাইট’ (ভারত প্রদত্ত ১টি ডাকোটা বিমান, ১টি অটার বিমান ও ১টি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার নিয়ে)। ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ মধ্যরাতে ক্যাপ্টেন আকরাম আহমেদ, শামসুল আলম ও সুলতান মাহমুদ চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি ও নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল তেলের ডিপো ধ্বংস করেন।

১৭.২ মুক্তিযুদ্ধ ও সেক্টর কমান্ডারগণ — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #

মুক্তিযুদ্ধের বিষয় / সেক্টর / বীরশ্রেষ্ঠ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি / কমান্ডার / অবস্থান সময়কাল / ভৌগোলিক সীমা / পদবি বিশেষ অবদান, সমাধিস্থল ও পরীক্ষার মূল তথ্য
তেলিয়াপাড়া সম্মেলন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগান ৪ এপ্রিল ১৯৭১ কর্নেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক রণকৌশল ও ৪টি সামরিক অঞ্চল নির্ধারণ
মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কর্নেল (পরবর্তীতে জেনারেল) এম এ জি ওসমানী চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল আবদুর রব; ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টর ও ৬৪টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়
সেক্টর নং ১ চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ফেনীর মুহুরী নদী পর্যন্ত কমান্ডার: মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল-জুন) ও মেজর রফিকুল ইসলাম (জুন-ডিসেম্বর) সদর দপ্তর ছিল হরিণা (ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত সংলগ্ন); ৫টি সাব-সেক্টর
সেক্টর নং ২ নোয়াখালী, কুমিল্লা (আখাউড়া-ভৈরব পর্যন্ত), ঢাকা ও ফরিদপুরের অংশ কমান্ডার: মেজর খালেদ মোশাররফ (এপ্রিল-অক্টোবর) ও মেজর এ টি এম হায়দার সদর দপ্তর ছিল মেলাঘর (ত্রিপুরা); ঢাকা শহরের গেরিলা বাহিনী ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ এ সেক্টরের অধীনে ছিল
সেক্টর নং ৩ আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্বদিকে হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুরের অংশ কমান্ডার: মেজর কে এম সফিউল্লাহ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) ও মেজর এ এন এম নূরুজ্জামান সদর দপ্তর ছিল হেজামারা / কলাগাছিয়া; ১০টি সাব-সেক্টর
সেক্টর নং ৪ সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল ও খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন পর্যন্ত কমান্ডার: মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত) ও ক্যাপ্টেন এ রব সদর দপ্তর ছিল করিমগঞ্জ (পরে মাসিমপুর); ৬টি সাব-সেক্টর
সেক্টর নং ৫ সিলেট জেলার পশ্চিমাঞ্চল, সুনামগঞ্জ ও ময়মনসিংহ সীমান্ত কমান্ডার: মেজর মীর শওকত আলী সদর দপ্তর ছিল বাঁশতলা; ৬টি সাব-সেক্টর (কাকন বিবি এ সেক্টরে যুদ্ধ করেন)
সেক্টর নং ৬ রংপুর ও দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহকুমা কমান্ডার: উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার সদর দপ্তর ছিল পাটগ্রামের বুড়িমারী (দেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত একমাত্র সেক্টর সদর দপ্তর)
সেক্টর নং ৭ রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া ও দিনাজপুরের দক্ষিণাঞ্চল কমান্ডার: মেজর নাজমুল হক (সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত), মেজর কাজী নূরুজ্জামান সদর দপ্তর ছিল তরঙ্গপুর (পশ্চিমবঙ্গ); ৮টি সাব-সেক্টর (বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এ সেক্টরে যুদ্ধ করেন)
সেক্টর নং ৮ কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর, খুলনা ও সাতক্ষীরা সীমান্ত কমান্ডার: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল-আগস্ট) ও মেজর এম এ মঞ্জুর সদর দপ্তর ছিল কল্যাণী (বেনাপোল সংলগ্ন); ৭টি সাব-সেক্টর
সেক্টর নং ৯ বরিশাল, পটুয়াখালী, সুন্দরবন অঞ্চল ও খুলনা-সাতক্ষীরার দক্ষিণাংশ কমান্ডার: মেজর এম এ জলিল ও মেজর জয়নুল আবেদীন সদর দপ্তর ছিল টাকি (হাসানাবাদ, চব্বিশ পরগনা); ৩টি সাব-সেক্টর
সেক্টর নং ১০ (নৌ-সেক্টর) সমগ্র বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল ও অভ্যন্তরীণ নৌপথ কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না (নৌ-কমান্ডোদের দ্বারা পরিচালিত) ১৫ আগস্ট ১৯৭১ ‘অপারেশন জ্যাকপট’ পরিচালনা করে চট্টগ্রাম, মোংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে ২৬টি জাহাজ ধ্বংস
সেক্টর নং ১১ ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রংপুরের গাইবান্ধা-কুড়িগ্রাম অঞ্চল কমান্ডার: মেজর আবু তাহের ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম হামিদুল্লাহ খান সদর দপ্তর ছিল মহেন্দ্রগঞ্জ (পরে কামালপুর); তারামন বিবি এ সেক্টরে যুদ্ধ করেন
ব্রিগেড ফোর্স: জেড ফোর্স, কে ফোর্স ও এস ফোর্স গঠনকাল: জুলাই, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ১৯৭১ জেড ফোর্স: মেজর জিয়াউর রহমান; কে ফোর্স: মেজর খালেদ মোশাররফ; এস ফোর্স: মেজর কে এম সফিউল্লাহ নিয়মিত পদাতিক ব্রিগেড হিসেবে সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব প্রদান করে

📋 ১৭. মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ফোর্স — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #

বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি প্রধান তথ্য ও বিবরণ অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব
তেলিয়াপাড়া সম্মেলন (৪ এপ্রিল, ১৯৭১) হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় কর্নেল এম এ জি ওসমানীর সভাপতিত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন বাঙালি সেনা কর্মকর্তাদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধকে প্রাথমিকভাবে ৪টি (পরে ৬টি) সামরিক অঞ্চলে ভাগ করা হয় ৪ মুক্তিযুদ্ধের সামরিক সংগঠন, ৩টি ব্রিগেড ফোর্স ও ১১টি সেক্টর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৭. মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ফোর্স (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)
সেক্টর কমান্ডারদের সম্মেলন (১০–১৭ জুলাই, ১৯৭১) কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেক্টর কমান্ডারদের সম্মেলনে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টর ও ৬৪টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় ৪ মুক্তিযুদ্ধের সামরিক সংগঠন, ৩টি ব্রিগেড ফোর্স ও ১১টি সেক্টর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৭. মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ফোর্স (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)
নিয়মিত বাহিনী (Regular Force / ‘মুক্তিফৌজ’ বা MF) ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিয়ে গঠিত ৪ মুক্তিযুদ্ধের সামরিক সংগঠন, ৩টি ব্রিগেড ফোর্স ও ১১টি সেক্টর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৭. মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ফোর্স (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)
অনিয়মিত বাহিনী (Irregular Force / ‘গণবাহিনী’ বা FF - Freedom Fighters) ছাত্র, যুবক, কৃষক ও সাধারণ জনগণ নিয়ে গঠিত গেরিলা বাহিনী ৪ মুক্তিযুদ্ধের সামরিক সংগঠন, ৩টি ব্রিগেড ফোর্স ও ১১টি সেক্টর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৭. মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ফোর্স (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)
বিএলএফ (BLF - Bangladesh Liberation Force / ‘মুজিব বাহিনী’) শেখ ফজলুল হক মণি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ যুব গেরিলা বাহিনী ৪ মুক্তিযুদ্ধের সামরিক সংগঠন, ৩টি ব্রিগেড ফোর্স ও ১১টি সেক্টর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৭. মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ফোর্স (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)
ক্র্যাক প্লাটুন (Crack Platoon) মেজর খালেদ মোশাররফ ও মেজর এ টি এম হায়দারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরে হিট অ্যান্ড রান (Hit and Run) গেরিলা অপারেশন পরিচালনার জন্য গঠিত দুঃসাহসী তরুণদের দল ৯ জুন ১৯৭১ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিদলের সামনে তাদের প্রথম অভিযান শুরু হয় ১৭. মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ফোর্স (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)
কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল) বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম)-এর নেতৃত্বে ১৭,০০০ মুক্তিযোদ্ধার বিশাল বাহিনী (২৪ অক্টোবর ১৯৭১ নাগরপুর ও মাকড়াই যুদ্ধ, ভূঞাপুরের মাটিকাটায় পাকিস্তানিদের জাহাজ দখল) অভ্যন্তরীণ আঞ্চলিক স্বাধীন বাহিনী, ক্র্যাক প্লাটুন ও বিশেষ অপারেশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৭. মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ফোর্স (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)
হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ-ফরিদপুর) সুবেদার হেমায়েত উদ্দিন (বীরবিক্রম)-এর নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ আঞ্চলিক স্বাধীন বাহিনী, ক্র্যাক প্লাটুন ও বিশেষ অপারেশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৭. মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ফোর্স (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)
আফসার বাহিনী (ময়মনসিংহের ভালুকা) মেজর আফসার উদ্দিনের নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ আঞ্চলিক স্বাধীন বাহিনী, ক্র্যাক প্লাটুন ও বিশেষ অপারেশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৭. মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ফোর্স (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)
আকবর বাহিনী (মাগুরা ঝিনাইদহ) আকবর হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ আঞ্চলিক স্বাধীন বাহিনী, ক্র্যাক প্লাটুন ও বিশেষ অপারেশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৭. মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ফোর্স (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)
হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ) ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরীর নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ আঞ্চলিক স্বাধীন বাহিনী, ক্র্যাক প্লাটুন ও বিশেষ অপারেশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৭. মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ফোর্স (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)
বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল) ও লতিফ মির্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ-পাবনা) অভ্যন্তরীণ আঞ্চলিক স্বাধীন বাহিনী, ক্র্যাক প্লাটুন ও বিশেষ অপারেশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১৭. মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ফোর্স (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)
অপারেশন জ্যাকপট (Operation Jackpot — ১৫ আগস্ট, ১৯৭১) ১০নং সেক্টরের নৌ-কমান্ডোরা ১৫ আগস্ট ১৯৭১ মধ্যরাতে একই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরে মাইন লাগিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২৬টি অস্ত্র ও রসদবাহী জাহাজ ডুবিয়ে দেয় অভিযানের সংকেত হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে পঙ্কজ মল্লিকের “আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলেম গান” এবং সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের “আমার পুতুল আজকে প্রথম যাবে শ্বশুরবাড়ি” গান দুটি প্রচার করা হয় ১৭. মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ফোর্স (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)
কিলো ফ্লাইট (Kilo Flight — ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১) ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার ও স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম ইউনিট ‘কিলো ফ্লাইট’ (ভারত প্রদত্ত ১টি ডাকোটা বিমান, ১টি অটার বিমান ও ১টি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার নিয়ে) ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ মধ্যরাতে ক্যাপ্টেন আকরাম আহমেদ, শামসুল আলম ও সুলতান মাহমুদ চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি ও নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল তেলের ডিপো ধ্বংস করেন ১৭. মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর ও ফোর্স (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)