টপিক 19 / ৫৮মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১📖 স্টাডি নোট
টপিক ১৯: মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক ভূমিকা, বুদ্ধিজীবী হত্যা ও চূড়ান্ত বিজয়
অধ্যায় ১৯: মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও পরাশক্তিদের ভূমিকা #
🌍 আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয়ের অজানা তথ্য #
- সোভিয়েতের ভেটো: ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন ৩ বার (৪, ৫ ও ১৩ ডিসেম্বর) ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ নিষ্কণ্টক করে।
- ৭ম নৌবহর ও সোভিয়েত রণতরী: পাকিস্তানকে সাহায্য করতে প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও কিসিঞ্জার টাস্কফোর্স ৭৪ (নিউক্লিয়ার এন্টারপ্রাইজ ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ ৭ম নৌবহর) বঙ্গোপসাগরে পাঠালে সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের পারমাণবিক সাবমেরিন বহর ভারত মহাসাগরে মোতায়েন করে মার্কিনীদের পিছু হটতে বাধ্য করে।
- কনসার্ট ফর বাংলাদেশ: নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১ আগস্ট ১৯৭১ পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহাসিক কনসার্টে বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন অংশ নেন এবং বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তহবিল ও জনমত তৈরি করেন।
- বুদ্ধিজীবী শহীদগণ: অধ্যাপক জি সি দেব, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, ড. আনোয়ার পাশা, শহীদুল্লা কায়সার, সিরাজউদ্দীন হোসেন, ডা. ফজলে রাব্বী, সেলিনা পারভীন প্রমুখকে ১৪ ডিসেম্বর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
১. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র (১৯৭১) #
- প্রথম পর্যায় (২৬–৩০ মার্চ ১৯৭১): চট্টগ্রামের কালুরঘাটে ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র’ নামে যাত্রা শুরু করে (উদ্যোক্তা: বেলাল মোহাম্মদ, আবুল কাসেম সন্দ্বীপ, আব্দুল্লাহ আল ফারুক, সৈয়দ আবদুস শাকের প্রমুখ)। ৩০ মার্চ পাকিস্তানি বিমান হামলায় কালুরঘাট কেন্দ্র ধ্বংস হলে ত্রিপুরার বাগফা ও আগরতলা হয়ে কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায় (২৫ মে ১৯৭১): বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীতে (১১ জ্যৈষ্ঠ) কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের ৫৭/৮ নং বাড়িতে ৫০ কিলোওয়াট মিডিয়াম ওয়েভ ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ সম্প্রচার শুরু করে।
- জনপ্রিয় অনুষ্ঠানসমূহ:
- ‘চরমপত্র’: রম্য ও ব্যঙ্গাত্মক কথিকা। রচয়িতা ও পাঠক: এম. আর. আখতার মুকুল (ঢাকাইয়া আঞ্চলিক ভাষায় পাকিস্তানি সেনাদের ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলতেন)।
- ‘জল্লাদের দরবার’: জীবন্তিকা নাটিকা। জেনারেল ইয়াহিয়া খানের (‘কেল্লা ফতেহ খান’) চরিত্রে কণ্ঠ দিতেন অভিনেতা রাজু আহমেদ এবং রচয়িতা ছিলেন কল্যাণ মিত্র।
- ‘বজ্রকণ্ঠ’: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাণী ও ভাষণের অংশবিশেষ প্রচার।
- ‘অগ্নিশিখা’: মুক্তিবাহিনীর জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান।
- ‘দর্পণ’: কথিকা পাঠ করতেন আশরাফুল আলম।
- ইংরেজি সংবাদ পাঠ: আলী যাকের (ছদ্মনাম: আবু মোহাম্মদ আলী) ও আলমগীর কবির। বাংলা সংবাদ পাঠ: সালেহ আহমদ, কামাল লোহানী, বাবুল আখতার।
- ‘পিন্ডির প্রলাপ’: রচয়িতা ও কথক আবু তোয়াব খান।
২. মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি সাংবাদিক, শিল্পী ও বন্ধুদের অবদান #
- সাইমন ড্রিং (Simon Dring — ব্রিটিশ সাংবাদিক): ২৫ মার্চ কালরাতের গণহত্যার পর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় লুকিয়ে থেকে ৩০ মার্চ ১৯৭১ লন্ডনের The Daily Telegraph পত্রিকায় ‘Tanks Crush Revolt in Pakistan’ শিরোনামে প্রথম বিশ্ববাসীর কাছে পাকিস্তানি গণহত্যার খবর প্রকাশ করেন।
- অ্যান্থনি মাসকারেনহাস (Anthony Mascarenhas — পাকিস্তানি সাংবাদিক): ১৩ জুন ১৯৭১ লন্ডনের The Sunday Times পত্রিকায় ‘Genocide’ (গণহত্যা) শিরোনামে বিশাল অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা বিশ্ব জনমত ঘুরিয়ে দেয়। তাঁর রচিত বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ: The Rape of Bangladesh (১৯৭১) এবং Bangladesh: A Legacy of Blood (১৯৮৬)।
- কনসার্ট ফর বাংলাদেশ (The Concert for Bangladesh — ১ আগস্ট, ১৯৭১):
- স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন (দুটি প্রদর্শনীতে ৪০,০০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন)।
- প্রধান উদ্যোক্তা ও শিল্পী: ব্রিটিশ রক ব্যান্ড ‘দ্য বিটলস’-এর লিড গিটারিস্ট জর্জ হ্যারিসন এবং ভারতীয় সেতার সম্রাট পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- অন্যান্য শিল্পী: মার্কিন লোকসংগীত শিল্পী বব ডিলান (Blowin' in the Wind), রিঙ্গো স্টার, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেস্টন, লিওন রাসেল এবং ওস্তাদ আলী আকবর খান (সরোদ) ও ওস্তাদ আল্লারাখা খান (তবলা)।
- জর্জ হ্যারিসনের গাওয়া কালজয়ী গান: “Bangladesh, Bangladesh”। কনসার্ট থেকে সংগৃহীত ২,৪৩,৪১৮.৫০ মার্কিন ডলার ইউনিসেফের (UNICEF) মাধ্যমে বাংলাদেশি শরণার্থী শিশুদের সাহায্যে ব্যয় করা হয়।
- অ্যালেন গিন্সবার্গ (Allen Ginsberg — মার্কিন কবি): যশোর রোডে শরণার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্দশা দেখে ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে রচনা করেন ১৫২ লাইনের হৃদয়বিদারক কবিতা ‘September on Jessore Road’ (যার বঙ্গানুবাদ করে খান মোহাম্মদ ফারাবী/মৌসুমী ভৌমিক গেয়েছেন ‘যশোর রোড’ গানটি)।
- অঁদ্রে মালরো (André Malraux): ফরাসি দার্শনিক, লেখক ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী; ৭০ বছর বয়সে বাংলাদেশের পক্ষে সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন (১৯৭৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট প্রদান করা হয়)।
- এডওয়ার্ড কেনেডি (টেড কেনেডি): মার্কিন সিনেটর; নিক্সন প্রশাসনের বিরোধিতা করে ভারতের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন (১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন ও বটতলায় বৃক্ষরোপণ করেন)।
- লেয়ার লেভিন (Lear Levin — মার্কিন চলচ্চিত্রকার): ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চল ও ট্রাকে ঘুরে বেড়ানো ‘বাংলাদেশ মুক্তিসংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’র ২০ ঘণ্টার বিরল ফুটেজ ধারণ করেন। এই ফুটেজ নিয়ে পরবর্তীতে তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ ১৯৯৫ সালে নির্মাণ করেন কালজয়ী প্রামাণ্যচিত্র ‘মুক্তির গান’।
- পল কনেট দম্পতি (যুক্তরাষ্ট্র): লন্ডনে ‘অপারেশন ওমেগা’ গঠন করে বাংলাদেশে ত্রাণ নিয়ে প্রবেশ করেন।
- উইলিয়াম মার্ক টালি (BBC সাংবাদিক) ও দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (আকাশবাণী কলকাতা)।
৩. মুক্তিযুদ্ধে পরাশক্তি ও বিশ্বনেতাদের ভূমিকা (১৯৭১) #
| রাষ্ট্র / সংস্থা | তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান / সরকারপ্রধান | ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা |
|---|---|---|
| ১. ভারত | রাষ্ট্রপতি: ভি. ভি. গিরি (বরাহগিরি ভেঙ্কট গিরি) প্রধানমন্ত্রী: শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী |
সর্বাত্মক সহযোগিতাকারী প্রধান মিত্র দেশ। ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দান, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সহায়তা, বিশ্বজনমত গঠন এবং মিত্রবাহিনী হিসেবে যৌথ যুদ্ধে অংশগ্রহণ (প্রায় ৪,০০০ ভারতীয় সৈন্য শহিদ হন)। ইন্দিরা গান্ধীকে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা’ প্রদান করে। |
| ২. সোভিয়েত ইউনিয়ন (USSR) | প্রেসিডেন্ট: নিকোলাই পদগোর্নি প্রধানমন্ত্রী: অ্যালেক্সেই কোসিগিন কমিউনিস্ট পার্টি প্রধান: লিওনিদ ব্রেজনেভ |
বাংলাদেশের পক্ষে দৃঢ় সমর্থনকারী পরাশক্তি। ৯ আগস্ট ১৯৭১ ‘ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি’ স্বাক্ষর করে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ৩ বার ভেটো (Veto) প্রদান করে বাংলাদেশের বিজয় নিশ্চিত করে ও বঙ্গোপসাগরে পাল্টা রণতরী পাঠায়। |
| ৩. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) | প্রেসিডেন্ট: রিচার্ড নিক্সন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা: হেনরি কিসিঞ্জার |
মার্কিন সরকার (নিক্সন-কিসিঞ্জার প্রশাসন) পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং ৯ ডিসেম্বর ১৯৭১ বঙ্গোপসাগরে পারমাণবিক বিমানবাহী রণতরী ‘সপ্তম নৌবহর’ (Seventh Fleet — USS Enterprise / টাস্কফোর্স-৭৪) প্রেরণ করে। তবে মার্কিন জনগণ, সংবাদমাধ্যম ও কংগ্রেস/সিনেট বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পাশে দাঁড়ায়। |
| ৪. গণচীন | চেয়ারম্যান: মাও সে তুং প্রধানমন্ত্রী: চৌ এন লাই |
চীন সরকার পাকিস্তানের অখণ্ডতাকে সমর্থন করে (এবং ১৯৭২ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের প্রস্তাবে প্রথমবার ভেটো দেয়; ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়)। |
| ৫. যুক্তরাজ্য (ব্রিটেন) | প্রধানমন্ত্রী: এডওয়ার্ড হিথ বিরোধীদলীয় নেতা: হ্যারল্ড উইলসন |
ব্রিটিশ সরকার ও জনগণ এবং বিবিসি (BBC) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। |
| জাতিসংঘ (UN) | মহাসচিব: উ থান্ট (মিয়ানমার) শরণার্থী হাইকমিশনার: প্রিন্স সদরুদ্দিন আগা খান |
উ থান্ট মানবিক সাহায্য ও শরণার্থী ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। |
৩.৭ যৌথবাহিনী গঠন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, চূড়ান্ত বিজয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি #
- মিত্রবাহিনী ও যৌথ কমান্ড গঠন (২১ নভেম্বর, ১৯৭১): মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে ২১ নভেম্বর ১৯৭১ ‘যৌথবাহিনী’ (Joint Command) গঠিত হয় এবং সশস্ত্র বাহিনী একযোগে আক্রমণ শুরু করে। এজন্য ২১ নভেম্বর বাংলাদেশে ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস’ পালিত হয়।
- সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু (৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১): ৩ ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্তান বিমানবাহিনী ভারতের অমৃতসর, পাঠানকোট, শ্রীনগর, অবন্তীপুর ও আগরতলা বিমানঘাঁটিতে অতর্কিত হামলা চালালে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে যোগ দেয়।
- প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা: যশোর (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সর্বপ্রথম পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত হয়; দ্বিতীয় শত্রুমুক্ত অঞ্চল সুনামগঞ্জ/সিলেট)।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশ (৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১):
- ১ম দেশ: ভুটান (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সকালে তারবার্তার মাধ্যমে প্রথম স্বীকৃতি দেয়)।
- ২য় দেশ: ভারত (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বেলা ১১টায় লোকসভায় ইন্দিরা গান্ধী আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ঘোষণা করেন)। (বি.দ্র.: অপশনে ভুটান ও ভারত উভয়ই থাকলে এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন ২০১৪ অনুযায়ী ভুটান ১ম, ভারত ২য়)।
- শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস (১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১): পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী (বিশেষ করে আলবদর বাহিনী; রাও ফরমান আলীর তালিকায়) মেধাবী বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য লক্ষ্যে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বর দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের—মুনীর চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার, জহির রায়হান (৩০ জানুয়ারি ১৯৭২ মিরপুরে নিখোঁজ), ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, ড. আনোয়ার পাশা, ড. সন্তোষ ভট্টাচার্য, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, সেলিনা পারভীন, নিজামউদ্দিন আহমদ, আলতাফ মাহমুদসহ সহস্রাধিক বুদ্ধিজীবীকে অপহরণ করে রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুরে নির্মমভাবে হত্যা করে।
- চূড়ান্ত বিজয় ও আত্মসমর্পণ (১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ — বিকেল ৪টা ৩১ মিনিট):
- স্থান: ঢাকার রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান; সেখানে বর্তমানে ‘স্বাধীনতা জাদুঘর’ ও ‘শিখা চিরন্তন’ অবস্থিত)।
- আত্মসমর্পণকারী: পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩,০০০ পাকিস্তানি সৈন্যসহ নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেন (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৃহত্তম সামরিক আত্মসমর্পণ)।
- আত্মসমর্পণ গ্রহণকারী: বাংলাদেশ-ভারত যৌথবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা (ভারতের সেনাপ্রধান ছিলেন ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশ)।
- মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধি: আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার, এস ফোর্সের প্রধান মেজর কে এম শফিউল্লাহ, ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মেজর এ টি এম হায়দার এবং বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন (প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানী সেদিন সিলেটে তাঁর হেলিকপ্টার গুলিবিদ্ধ হওয়ায় ঢাকায় পৌঁছাতে পারেননি)।
স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রথম দেশসমূহ #
| ক্যাটাগরি | প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ | স্বীকৃতির তারিখ |
|---|---|---|
| বিশ্বের প্রথম দেশ | ভুটান (এবং একই দিন দ্বিতীয় দেশ ভারত) | ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ |
| প্রথম সমাজতান্ত্রিক ও ইউরোপীয় দেশ | পূর্ব জার্মানি (৩য় দেশ) ও বুলগেরিয়া (৪র্থ দেশ; পোল্যান্ড ১২ জানুয়ারি ১৯৭২) | ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ |
| প্রথম পরাশক্তি | সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) | ২৪ জানুয়ারি ১৯৭২ |
| প্রথম ব্রিটিশ কমনওয়েলথ / পশ্চিমা দেশ | যুক্তরাজ্য (ব্রিটেন) | ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ |
| প্রথম অনারব মুসলিম দেশ (আফ্রিকা) | সেনেগাল | ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ |
| প্রথম অনারব মুসলিম দেশ (এশিয়া) | মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া | ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ |
| প্রথম আরব দেশ | ইরাক | ৮ জুলাই ১৯৭২ |
| উত্তর আমেরিকার প্রথম দেশ | কানাডা (১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২) এবং যুক্তরাষ্ট্র (৪ এপ্রিল ১৯৭২) | ফেব্রুয়ারি–এপ্রিল ১৯৭২ |
| পাকিস্তানের স্বীকৃতি | পাকিস্তান (লাহোরে ওআইসি সম্মেলনের প্রাক্কালে) | ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ |
| সৌদি আরব ও চীনের স্বীকৃতি | সৌদি আরব (১৬ আগস্ট ১৯৭৫) এবং চীন (৩১ আগস্ট ১৯৭৫) | আগস্ট ১৯৭৫ |
১৯.২ আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও ৭ম নৌবহর — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #
| মুক্তিযুদ্ধের বিষয় / সেক্টর / বীরশ্রেষ্ঠ | দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি / কমান্ডার / অবস্থান | সময়কাল / ভৌগোলিক সীমা / পদবি | বিশেষ অবদান, সমাধিস্থল ও পরীক্ষার মূল তথ্য |
|---|---|---|---|
| কনসার্ট ফর বাংলাদেশ | ১ আগস্ট ১৯৭১ (ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন, নিউইয়র্ক) | প্রধান উদ্যোক্তা: জর্জ হ্যারিসন ও পণ্ডিত রবিশঙ্কর (সহযোগী: বব ডিলান, রিঙ্গো স্টার, এরিক ক্ল্যাপটন) | বাংলাদেশি শরণার্থীদের সহায়তায় প্রায় ২,৪৩,৪১৮.৫০ মার্কিন ডলার সংগৃহীত ও ইউনিসেফে প্রদান |
| মুক্তিযুদ্ধের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও আত্মসমর্পণ | ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ (ভুটান ও ভারত) ও ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ | প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ: ভুটান (২য় ভারত); প্রথম আরব দেশ: ইরাক; প্রথম ইউরোপীয় দেশ: পূর্ব জার্মানি | ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বিকেল ৪:৩১ মিনিটে রেসকোর্স ময়দানে ৯৩ হাজার সৈন্যসহ নিয়াজীর আত্মসমর্পণ (বাংলাদেশের পক্ষে এ কে খন্দকার) |
📋 ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #
| বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি | প্রধান তথ্য ও বিবরণ | অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য | সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| প্রথম পর্যায় (২৬–৩০ মার্চ ১৯৭১) | চট্টগ্রামের কালুরঘাটে ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র’ নামে যাত্রা শুরু করে (উদ্যোক্তা: বেলাল মোহাম্মদ, আবুল কাসেম সন্দ্বীপ, আব্দুল্লাহ আল ফারুক, সৈয়দ আবদুস শাকের প্রমুখ) | ৩০ মার্চ পাকিস্তানি বিমান হামলায় কালুরঘাট কেন্দ্র ধ্বংস হলে ত্রিপুরার বাগফা ও আগরতলা হয়ে কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| দ্বিতীয় পর্যায় (২৫ মে ১৯৭১) | বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীতে (১১ জ্যৈষ্ঠ) কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের ৫৭/৮ নং বাড়িতে ৫০ কিলোওয়াট মিডিয়াম ওয়েভ ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ সম্প্রচার শুরু করে | স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র (১৯৭১) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| ‘চরমপত্র’ | রম্য ও ব্যঙ্গাত্মক কথিকা | রচয়িতা ও পাঠক: এম. আর. আখতার মুকুল (ঢাকাইয়া আঞ্চলিক ভাষায় পাকিস্তানি সেনাদের ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলতেন) | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| ‘জল্লাদের দরবার’ | জীবন্তিকা নাটিকা | জেনারেল ইয়াহিয়া খানের (‘কেল্লা ফতেহ খান’) চরিত্রে কণ্ঠ দিতেন অভিনেতা রাজু আহমেদ এবং রচয়িতা ছিলেন কল্যাণ মিত্র | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| ‘বজ্রকণ্ঠ’ | বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাণী ও ভাষণের অংশবিশেষ প্রচার | স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র (১৯৭১) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| ‘অগ্নিশিখা’ | মুক্তিবাহিনীর জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান | স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র (১৯৭১) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| ‘দর্পণ’ | কথিকা পাঠ করতেন আশরাফুল আলম | স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র (১৯৭১) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| ইংরেজি সংবাদ পাঠ | আলী যাকের (ছদ্মনাম: আবু মোহাম্মদ আলী) ও আলমগীর কবির | বাংলা সংবাদ পাঠ: সালেহ আহমদ, কামাল লোহানী, বাবুল আখতার | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| ‘পিন্ডির প্রলাপ’ | রচয়িতা ও কথক আবু তোয়াব খান | স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র (১৯৭১) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| সাইমন ড্রিং (Simon Dring — ব্রিটিশ সাংবাদিক) | ২৫ মার্চ কালরাতের গণহত্যার পর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় লুকিয়ে থেকে ৩০ মার্চ ১৯৭১ লন্ডনের The Daily Telegraph পত্রিকায় ‘Tanks Crush Revolt in Pakistan’ শিরোনামে প্রথম বিশ্ববাসীর কাছে পাকিস্তানি গণহত্যার খবর প্রকাশ করেন | মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি সাংবাদিক, শিল্পী ও বন্ধুদের অবদান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| অ্যান্থনি মাসকারেনহাস (Anthony Mascarenhas — পাকিস্তানি সাংবাদিক) | ১৩ জুন ১৯৭১ লন্ডনের The Sunday Times পত্রিকায় ‘Genocide’ (গণহত্যা) শিরোনামে বিশাল অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা বিশ্ব জনমত ঘুরিয়ে দেয় | তাঁর রচিত বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ: The Rape of Bangladesh (১৯৭১) এবং Bangladesh: A Legacy of Blood (১৯৮৬) | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| স্থান | যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন (দুটি প্রদর্শনীতে ৪০,০০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন) | মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি সাংবাদিক, শিল্পী ও বন্ধুদের অবদান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| প্রধান উদ্যোক্তা ও শিল্পী | ব্রিটিশ রক ব্যান্ড ‘দ্য বিটলস’-এর লিড গিটারিস্ট জর্জ হ্যারিসন এবং ভারতীয় সেতার সম্রাট পণ্ডিত রবিশঙ্কর | মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি সাংবাদিক, শিল্পী ও বন্ধুদের অবদান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| অন্যান্য শিল্পী | মার্কিন লোকসংগীত শিল্পী বব ডিলান (Blowin' in the Wind), রিঙ্গো স্টার, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেস্টন, লিওন রাসেল এবং ওস্তাদ আলী আকবর খান (সরোদ) ও ওস্তাদ আল্লারাখা খান (তবলা) | মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি সাংবাদিক, শিল্পী ও বন্ধুদের অবদান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| অ্যালেন গিন্সবার্গ (Allen Ginsberg — মার্কিন কবি) | যশোর রোডে শরণার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্দশা দেখে ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে রচনা করেন ১৫২ লাইনের হৃদয়বিদারক কবিতা ‘September on Jessore Road’ (যার বঙ্গানুবাদ করে খান মোহাম্মদ ফারাবী/মৌসুমী ভৌমিক গেয়েছেন ‘যশোর রোড’ গানটি) | মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি সাংবাদিক, শিল্পী ও বন্ধুদের অবদান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| অঁদ্রে মালরো (André Malraux) | ফরাসি দার্শনিক, লেখক ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী | ৭০ বছর বয়সে বাংলাদেশের পক্ষে সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন (১৯৭৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট প্রদান করা হয়) | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| এডওয়ার্ড কেনেডি (টেড কেনেডি) | মার্কিন সিনেটর | নিক্সন প্রশাসনের বিরোধিতা করে ভারতের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন (১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন ও বটতলায় বৃক্ষরোপণ করেন) | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| লেয়ার লেভিন (Lear Levin — মার্কিন চলচ্চিত্রকার) | ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চল ও ট্রাকে ঘুরে বেড়ানো ‘বাংলাদেশ মুক্তিসংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’র ২০ ঘণ্টার বিরল ফুটেজ ধারণ করেন | এই ফুটেজ নিয়ে পরবর্তীতে তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ ১৯৯৫ সালে নির্মাণ করেন কালজয়ী প্রামাণ্যচিত্র ‘মুক্তির গান’ | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| পল কনেট দম্পতি (যুক্তরাষ্ট্র) | লন্ডনে ‘অপারেশন ওমেগা’ গঠন করে বাংলাদেশে ত্রাণ নিয়ে প্রবেশ করেন | মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি সাংবাদিক, শিল্পী ও বন্ধুদের অবদান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| উইলিয়াম মার্ক টালি (BBC সাংবাদিক) | ও দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (আকাশবাণী কলকাতা) | মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি সাংবাদিক, শিল্পী ও বন্ধুদের অবদান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| মিত্রবাহিনী ও যৌথ কমান্ড গঠন (২১ নভেম্বর, ১৯৭১) | মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে ২১ নভেম্বর ১৯৭১ ‘যৌথবাহিনী’ (Joint Command) গঠিত হয় এবং সশস্ত্র বাহিনী একযোগে আক্রমণ শুরু করে | এজন্য ২১ নভেম্বর বাংলাদেশে ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস’ পালিত হয় | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু (৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১) | ৩ ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্তান বিমানবাহিনী ভারতের অমৃতসর, পাঠানকোট, শ্রীনগর, অবন্তীপুর ও আগরতলা বিমানঘাঁটিতে অতর্কিত হামলা চালালে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে যোগ দেয় | ৭ যৌথবাহিনী গঠন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, চূড়ান্ত বিজয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা | যশোর (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সর্বপ্রথম পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত হয় | দ্বিতীয় শত্রুমুক্ত অঞ্চল সুনামগঞ্জ/সিলেট) | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| ১ম দেশ | ভুটান (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সকালে তারবার্তার মাধ্যমে প্রথম স্বীকৃতি দেয়) | ৭ যৌথবাহিনী গঠন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, চূড়ান্ত বিজয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| ২য় দেশ | ভারত (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বেলা ১১টায় লোকসভায় ইন্দিরা গান্ধী আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ঘোষণা করেন) | (বি.দ্র.: অপশনে ভুটান ও ভারত উভয়ই থাকলে এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন ২০১৪ অনুযায়ী ভুটান ১ম, ভারত ২য়) | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস (১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১) | পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী (বিশেষ করে আলবদর বাহিনী | রাও ফরমান আলীর তালিকায়) মেধাবী বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য লক্ষ্যে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বর দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের—মুনীর চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার, জহির রায়হান (৩০ জানুয়ারি ১৯৭২ মিরপুরে নিখোঁজ), ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, ড. আনোয়ার পাশা, ড. সন্তোষ ভট্টাচার্য, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, সেলিনা পারভীন, নিজামউদ্দিন আহমদ, আলতাফ মাহমুদসহ সহস্রাধিক বুদ্ধিজীবীকে অপহরণ করে রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুরে নির্মমভাবে হত্যা করে | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| স্থান | ঢাকার রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান | সেখানে বর্তমানে ‘স্বাধীনতা জাদুঘর’ ও ‘শিখা চিরন্তন’ অবস্থিত) | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| আত্মসমর্পণকারী | পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩,০০০ পাকিস্তানি সৈন্যসহ নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেন (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৃহত্তম সামরিক আত্মসমর্পণ) | ৭ যৌথবাহিনী গঠন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, চূড়ান্ত বিজয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| আত্মসমর্পণ গ্রহণকারী | বাংলাদেশ-ভারত যৌথবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা (ভারতের সেনাপ্রধান ছিলেন ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশ) | ৭ যৌথবাহিনী গঠন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, চূড়ান্ত বিজয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |
| মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধি | আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার, এস ফোর্সের প্রধান মেজর কে এম শফিউল্লাহ, ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মেজর এ টি এম হায়দার এবং বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন (প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানী সেদিন সিলেটে তাঁর হেলিকপ্টার গুলিবিদ্ধ হওয়ায় ঢাকায় পৌঁছাতে পারেননি) | ৭ যৌথবাহিনী গঠন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, চূড়ান্ত বিজয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ১৯. আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিজয় (মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১) |