টপিক 02 / ৫৮প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা📖 স্টাডি নোট
টপিক ০২: মৌর্য, গুপ্ত শাসন, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায়
অধ্যায় ০২: মৌর্য, গুপ্ত শাসন, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় #
২.১ প্রাচীন বাংলার শাসনকাল ও রাজনৈতিক ইতিবৃত্ত #
১. মৌর্য সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ৩২১ – খ্রিস্টপূর্ব ১৮৫ অব্দ) #
- প্রতিষ্ঠাতা: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য (খ্রিস্টপূর্ব ৩২১ অব্দে মগধের নন্দ বংশের শেষ রাজা ধননন্দকে পরাজিত করে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন)। বাংলায় মৌর্য শাসনের প্রতিষ্ঠাতাও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- প্রধানমন্ত্রী ও পরামর্শদাতা: চাণক্য (অপর নাম কৌটিল্য বা বিষ্ণুগুপ্ত)। তাঁর রচিত রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থ ‘অর্থশাস্ত্র’ (Arthashastra)। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে পুণ্ড্রনগরের রেশমি বস্ত্র (‘পৌণ্ড্রক’) ও বঙ্গের সূক্ষ্ম সুতি বস্ত্র (‘বাঙ্গিক’ বা মসলিন)-এর প্রশংসা রয়েছে।
- বিদেশি দূত: গ্রিক সেনাপতি সেলুকাসের দূত মেগাস্থিনিস চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের দরবারে (পাটলিপুত্র) আসেন এবং ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থ রচনা করেন।
- শ্রেষ্ঠ শাসক: সম্রাট অশোক (খ্রিস্টপূর্ব ২৬৯ – ২৩২ অব্দ)। তাঁর পিতা ছিলেন বিন্দুসার।
- কলিঙ্গ যুদ্ধ (খ্রিস্টপূর্ব ২৬১ অব্দ): কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহ রক্তপাত দেখে সম্রাট অশোক চণ্ডাশোক থেকে ‘ধর্মাশোক’-এ পরিণত হন এবং বৌদ্ধ ধর্মপ্রচারক উপগুপ্তের নিকট বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলায় মৌর্য শাসন: সম্রাট অশোকের সময় উত্তর বাংলায় (পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তি) মৌর্য শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রাদেশিক রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর (মহাস্থানগড়)। ১৯৩১ সালে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত ‘মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপি’ (দুর্ভিক্ষের সময় প্রজাদের শস্য ও মুদ্রা ‘গণ্ডক/কাকিণী’ সাহায্যের নির্দেশ) প্রাচীন বাংলার প্রথম ও প্রাচীনতম শিলালিপি।
২. কুষাণ ও গুপ্ত সাম্রাজ্য (খ্রিস্টীয় ৩২০ – ৫৫০ অব্দ) #
- কুষাণ বংশ: শ্রেষ্ঠ রাজা কণিষ্ক (৭৮ খ্রিস্টাব্দে ‘শকাব্দ’ প্রচলন করেন)। তাঁর রাজসভার বিখ্যাত কবি ছিলেন অশ্বঘোষ (বুদ্ধচরিত রচয়িতা) ও চিকিৎসক চরক (চরক সংহিতা)।
- গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা: শ্রীগুপ্ত (২৭৫ খ্রি.)। তবে গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা প্রথম চন্দ্রগুপ্ত (৩২০ খ্রি.; রাজত্বের শুরুতে ‘গুপ্তাব্দ’ প্রবর্তন করেন)।
- সমুদ্রগুপ্ত (৩৩৫–৩৮০ খ্রি.): তাঁকে ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ ‘প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর সভাকবি হরিষেণ রচিত ‘এলাহাবাদ প্রশস্তি’ থেকে জানা যায়, পুণ্ড্রবর্ধন সরাসরি গুপ্ত সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল এবং সমতট, ডবাক ও কামরূপ তাঁর করদ রাজ্য ছিল।
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (৩৮০–৪১৫ খ্রি.): উপাধি ছিল ‘বিক্রমাদিত্য’।
- তাঁর রাজসভায় ‘নবরত্ন’ (৯ জন গুণী পণ্ডিত) ছিলেন: মহাকবি কালিদাস (মেঘদূত, অভিজ্ঞানশকুন্তলম্, রঘুবংশ), জ্যোতির্বিদ বরাহমিহির (বৃহৎসংহিতা), অমরসিংহ (অমরকোষ), ধন্বন্তরি (চিকিৎসক), ক্ষপণক, শঙ্কু, বেতালভট্ট, ঘটকর্পর ও বররুচি।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন (Fa-Hien) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে ভারতবর্ষ ও তাম্রলিপ্তি পরিভ্রমণ করেন (৩৯৯–৪১৪ খ্রি.)।
- জ্যোতির্বিদ ও গণিতবিদ আর্যভট্ট গুপ্ত যুগেই শূন্য (০) ও দশমিক প্রথার ধারণা দেন এবং পৃথিবী যে সূর্যের চারদিকে ঘোরে তা প্রমাণ করেন। তাই গুপ্ত যুগকে ‘প্রাচীন ভারতের স্বর্ণযুগ’ বলা হয়।
৩. গুপ্ত-পরবর্তী স্বাধীন বঙ্গ রাজ্য ও গৌড়রাজ শশাঙ্ক (৫২৫ – ৬৩৭ খ্রি.) #
- স্বাধীন বঙ্গ রাজ্য (৫২৫–৬০০ খ্রি.): গুপ্ত সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়লে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় প্রথম স্বাধীন বঙ্গ রাজ্য গড়ে ওঠে। কোটালীপাড়ায় প্রাপ্ত তাম্রশাসন থেকে এর তিনজন স্বাধীন রাজার নাম পাওয়া যায়: গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব। তাঁরা ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।
- গৌড়রাজ শশাঙ্ক (৬০৬ – ৬৩৭ খ্রি.):
- পরিচয়: প্রাচীন বাংলার প্রথম সার্বভৌম ও স্বাধীন নৃপতি। গুপ্ত রাজাদের অধীনে বড় কোনো সামন্ত শাসককে বলা হতো ‘মহাসামন্ত’; শশাঙ্ক প্রথমে গুপ্ত রাজা মহাসেনগুপ্তের একজন মহাসামন্ত ছিলেন।
- রাজধানী: কর্ণসুবর্ণ (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার কানসোনা)।
- উপাধি: ‘রঙেরশ্বর’ ও ‘গৌড়েশ্বর’।
- ধর্মমত: শশাঙ্ক ছিলেন ঘোর শৈব (শিবের উপাসক)। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং তাঁকে ‘বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রাহক’ বলেছেন (বোধিবৃক্ষ ছেদনের অভিযোগ)।
- পুষ্যভূতি বংশের সাথে সংঘর্ষ: থানেশ্বরের রাজা প্রভাকরবর্ধনের কন্যা রাজ্যশ্রীকে কনৌজের মৌখরী রাজা গ্রহবর্মণের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। শশাঙ্ক মালবরাজ দেবগুপ্তের সাথে মিত্রতা করে গ্রহবর্মণকে পরাজিত ও নিহত করেন এবং পরে থানেশ্বরের রাজা রাজ্যবর্ধনকেও বধ করেন। এরপর রাজ্যবর্ধনের কনিষ্ঠ ভ্রাতা হর্ষবর্ধন (৬০৬–৬৪৭ খ্রি.) ও কামরূপরাজ ভাস্করবর্মণ শশাঙ্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালান, তবে শশাঙ্ক জীবদ্দশায় স্বীয় স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখেন।
- বঙ্গাব্দ প্রবর্তন বিতর্ক: কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দে শশাঙ্ক বঙ্গাব্দের সূচনা করেন (তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতে ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবর ‘তারিখ-ই-ইলাহী’র ভিত্তিতে বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ প্রবর্তন করেন, যা ১৫৫৬ সাল থেকে কার্যকর ধরা হয়; উদ্ভাবক আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজী)।
৪. মাৎস্যন্যায় পর্ব (৬৫০ – ৭৫০ খ্রি.) #
- প্রেক্ষাপট: ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে গৌড়রাজ শশাঙ্কের মৃত্যুর পর থেকে ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে গোপালের সিংহাসন আরোহণ পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর বাংলায় কোনো যোগ্য কেন্দ্রীয় শাসক ছিল না।
- সংজ্ঞা ও উৎস: পুকুরে বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গিলে খায়, তেমনি শক্তিশালী সামন্তরা দুর্বল জনপদ ও প্রজাদের গ্রাস করছিল। সংস্কৃত ভাষায় এই চরম অরাজক পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘মাৎস্যন্যায়’ (Law of the Fish / Anarchy)।
- ঐতিহাসিক প্রমাণ: পাল রাজাদের খালিমপুর তাম্রশাসন এবং তিব্বতীয় ঐতিহাসিক লামা তারানাথের বিবরণীতে মাৎস্যন্যায়ের উল্লেখ রয়েছে।
২.২ মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #
| ঐতিহাসিক বিষয় / শাসক / ঘটনা | সময়কাল / রাজধানী / স্থান | প্রধান কীর্তি / বৈশিষ্ট্য | ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পরীক্ষার তথ্য |
|---|---|---|---|
| রাজা শশাঙ্ক | রাজত্বকাল: ৬০৬–৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ (রাজধানী: কর্ণসুবর্ণ) | প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা | উপাধি ছিল ‘মহাসামন্ত’; শৈব ধর্মের উপাসক ছিলেন |
| মাৎস্যন্যায় পর্ব | ৬৫০–৭৫০ খ্রিস্টাব্দ (প্রায় ১০০ বছর) | শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলার চরম অরাজকতাপূর্ণ সময় | বড় মাছ ছোট মাছকে গ্রাস করার মতো বিশৃঙ্খল অবস্থা |
২.৩ প্রাচীন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও সাম্রাজ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ সারণি #
| বিষয় / ব্যক্তিত্ব / প্রতিষ্ঠান ও সময়কাল | প্রধান পরিচয় / অবস্থান / আইন | মূল কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো | বিসিএস ও সরকারি চাকরি পরীক্ষার বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|---|
| চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য (খ্রি.পূ. ৩২১–২৯৭) | মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা (রাজধানী: পাটলিপুত্র) | প্রধানমন্ত্রী চাণক্য/কৌটিল্য (‘অর্থশাস্ত্র’ রচয়িতা) | গ্রিক দূত মেগাস্থিনিস (‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থ) তাঁর দরবারে আসেন |
| সম্রাট অশোক (খ্রি.পূ. ২৬৯–২৩২) | মৌর্য বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট (পিতা: বিন্দুসার) | খ্রি.পূ. ২৬১ অব্দে কলিঙ্গ যুদ্ধের পর বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ | পুণ্ড্রনগর (মহাস্থানগড়) প্রাদেশিক রাজধানী; ব্রাহ্মী লিপি আবিষ্কৃত |
| কুষাণ সম্রাট কণিষ্ক (৭৮ খ্রি.) | পুরুষপুর (পেশোয়ার) রাজধানী; ‘শকাব্দ’ প্রবর্তক | সভাকবি অশ্বঘোষ (‘বুদ্ধচরিত’) ও চিকিৎসক চরক | চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতি কাশ্মীরে আহ্বান করেন |
| শ্রীগুপ্ত ও প্রথম চন্দ্রগুপ্ত (২৭৫ ও ৩২০ খ্রি.) | গুপ্ত বংশের আদি প্রতিষ্ঠাতা শ্রীগুপ্ত; প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ১ম চন্দ্রগুপ্ত | ৩২০ খ্রিস্টাব্দে ‘গুপ্তাব্দ’ প্রচলন করেন | লিচ্ছবি রাজকন্যা কুমারদেবীকে বিবাহ করে রাজ্য বিস্তার করেন |
| সমুদ্রগুপ্ত (৩৩৫–৩৮০ খ্রি.) | ‘প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন’ (ভিনসেন্ট স্মিথ প্রদত্ত উপাধি) | সভাকবি হরিষেণ রচিত ‘এলাহাবাদ প্রশস্তি’ | সমতট, ডবাক ও কামরূপ তাঁর করদ রাজ্য ছিল |
| দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য (৩৮০–৪১৫ খ্রি.) | উপাধি ‘বিক্রমাদিত্য’; রাজসভায় ‘নবরত্ন’ পণ্ডিতমণ্ডলী | মহাকবি কালিদাস, বরাহমিহির, অমরসিংহ ও ধন্বন্তরি | চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন (৩৯৯–৪১৪ খ্রি.) ভারত ও তাম্রলিপ্ত ভ্রমণ করেন |
| আর্যভট্ট ও গুপ্ত স্বর্ণযুগ | প্রাচীন ভারতের শ্রেষ্ঠ গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী | শূন্য (০) ও দশমিক প্রথার উদ্ভাবন এবং সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্ব | গুপ্ত যুগকে ‘প্রাচীন ভারতের স্বর্ণযুগ’ বলা হয় |
| গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব (৫২৫–৬০০ খ্রি.) | গুপ্ত-পরবর্তী দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার স্বাধীন বঙ্গ রাজ্য | উপাধি গ্রহণ করেছিলেন ‘মহারাজাধিরাজ’ | কোটালীপাড়া ও ফরিদপুর তাম্রশাসন থেকে তথ্য পাওয়া যায় |
| গৌড়রাজ শশাঙ্ক (৬০৬–৬৩৭ খ্রি.) | প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা | রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের ‘কর্ণসুবর্ণ’; উপাধি ‘মহাসামন্ত’ ও ‘গৌড়েশ্বর’ | থানেশ্বরের রাজা হর্ষবর্ধন ও কামরূপরাজ ভাস্করবর্মণের সাথে সংঘর্ষ |
| হিউয়েন সাং (৬৩০–৬৪৩ খ্রি.) | বিখ্যাত চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক (হর্ষবর্ধনের আমলে আগমন) | ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে পুণ্ড্রবর্ধন, কর্ণসুবর্ণ, সমতট ও তাম্রলিপ্ত ভ্রমণ করেন | তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত গ্রন্থের নাম ‘সি-ইউ-কি’ (Si-Yu-Ki) |
| মাৎস্যন্যায় পর্ব (৬৫০–৭৫০ খ্রি.) | শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলার ১০০ বছরের চরম অরাজকতা | বড় মাছ কর্তৃক ছোট মাছকে গিলে খাওয়ার ন্যায় বিশৃঙ্খল অবস্থা | ধর্মপালের খালিমপুর তাম্রশাসন ও লামা তারানাথের বিবরণীতে উল্লিখিত |
| রক্তমৃত্তিকা মহাবিহার | কর্ণসুবর্ণের নিকটে অবস্থিত প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার | বর্তমান মুর্শিদাবাদের রাঙামাটি/কানসোনা অঞ্চল | হিউয়েন সাং এ বিহারের উচ্চ প্রশংসা করেছেন |
২.৪ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য ও পরীক্ষার রিভিশন ছক #
| বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি | প্রধান তথ্য ও বিবরণ | অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য | সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| প্রতিষ্ঠাতা | চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য (খ্রিস্টপূর্ব ৩২১ অব্দে মগধের নন্দ বংশের শেষ রাজা ধননন্দকে পরাজিত করে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন) | বাংলায় মৌর্য শাসনের প্রতিষ্ঠাতাও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| প্রধানমন্ত্রী ও পরামর্শদাতা | চাণক্য (অপর নাম কৌটিল্য বা বিষ্ণুগুপ্ত) | তাঁর রচিত রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থ ‘অর্থশাস্ত্র’ (Arthashastra) | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| বিদেশি দূত | গ্রিক সেনাপতি সেলুকাসের দূত মেগাস্থিনিস চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের দরবারে (পাটলিপুত্র) আসেন এবং ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থ রচনা করেন | মৌর্য সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ৩২১ – খ্রিস্টপূর্ব ১৮৫ অব্দ) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| শ্রেষ্ঠ শাসক | সম্রাট অশোক (খ্রিস্টপূর্ব ২৬৯ – ২৩২ অব্দ) | তাঁর পিতা ছিলেন বিন্দুসার | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| কলিঙ্গ যুদ্ধ (খ্রিস্টপূর্ব ২৬১ অব্দ) | কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহ রক্তপাত দেখে সম্রাট অশোক চণ্ডাশোক থেকে ‘ধর্মাশোক’-এ পরিণত হন এবং বৌদ্ধ ধর্মপ্রচারক উপগুপ্তের নিকট বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন | মৌর্য সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ৩২১ – খ্রিস্টপূর্ব ১৮৫ অব্দ) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| বাংলায় মৌর্য শাসন | সম্রাট অশোকের সময় উত্তর বাংলায় (পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তি) মৌর্য শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয় | এর প্রাদেশিক রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর (মহাস্থানগড়) | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| কুষাণ বংশ | শ্রেষ্ঠ রাজা কণিষ্ক (৭৮ খ্রিস্টাব্দে ‘শকাব্দ’ প্রচলন করেন) | তাঁর রাজসভার বিখ্যাত কবি ছিলেন অশ্বঘোষ (বুদ্ধচরিত রচয়িতা) ও চিকিৎসক চরক (চরক সংহিতা) | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা | শ্রীগুপ্ত (২৭৫ খ্রি.) | তবে গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা প্রথম চন্দ্রগুপ্ত (৩২০ খ্রি. | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| সমুদ্রগুপ্ত (৩৩৫–৩৮০ খ্রি.) | তাঁকে ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ ‘প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন’ বলে অভিহিত করেছেন | তাঁর সভাকবি হরিষেণ রচিত ‘এলাহাবাদ প্রশস্তি’ থেকে জানা যায়, পুণ্ড্রবর্ধন সরাসরি গুপ্ত সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল এবং সমতট, ডবাক ও কামরূপ তাঁর করদ রাজ্য ছিল | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (৩৮০–৪১৫ খ্রি.) | উপাধি ছিল ‘বিক্রমাদিত্য’ | কুষাণ ও গুপ্ত সাম্রাজ্য (খ্রিস্টীয় ৩২০ – ৫৫০ অব্দ) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| স্বাধীন বঙ্গ রাজ্য (৫২৫–৬০০ খ্রি.) | গুপ্ত সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়লে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় প্রথম স্বাধীন বঙ্গ রাজ্য গড়ে ওঠে | কোটালীপাড়ায় প্রাপ্ত তাম্রশাসন থেকে এর তিনজন স্বাধীন রাজার নাম পাওয়া যায়: গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| পরিচয় | প্রাচীন বাংলার প্রথম সার্বভৌম ও স্বাধীন নৃপতি | গুপ্ত রাজাদের অধীনে বড় কোনো সামন্ত শাসককে বলা হতো ‘মহাসামন্ত’ | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| রাজধানী | কর্ণসুবর্ণ (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার কানসোনা) | গুপ্ত-পরবর্তী স্বাধীন বঙ্গ রাজ্য ও গৌড়রাজ শশাঙ্ক (৫২৫ – ৬৩৭ খ্রি.) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| উপাধি | ‘রঙেরশ্বর’ ও ‘গৌড়েশ্বর’ | গুপ্ত-পরবর্তী স্বাধীন বঙ্গ রাজ্য ও গৌড়রাজ শশাঙ্ক (৫২৫ – ৬৩৭ খ্রি.) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| ধর্মমত | শশাঙ্ক ছিলেন ঘোর শৈব (শিবের উপাসক) | চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং তাঁকে ‘বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রাহক’ বলেছেন (বোধিবৃক্ষ ছেদনের অভিযোগ) | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| পুষ্যভূতি বংশের সাথে সংঘর্ষ | থানেশ্বরের রাজা প্রভাকরবর্ধনের কন্যা রাজ্যশ্রীকে কনৌজের মৌখরী রাজা গ্রহবর্মণের সাথে বিয়ে দেওয়া হয় | শশাঙ্ক মালবরাজ দেবগুপ্তের সাথে মিত্রতা করে গ্রহবর্মণকে পরাজিত ও নিহত করেন এবং পরে থানেশ্বরের রাজা রাজ্যবর্ধনকেও বধ করেন | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| বঙ্গাব্দ প্রবর্তন বিতর্ক | কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দে শশাঙ্ক বঙ্গাব্দের সূচনা করেন (তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতে ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবর ‘তারিখ-ই-ইলাহী’র ভিত্তিতে বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ প্রবর্তন করেন, যা ১৫৫৬ সাল থেকে কার্যকর ধরা হয় | উদ্ভাবক আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজী) | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| প্রেক্ষাপট | ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে গৌড়রাজ শশাঙ্কের মৃত্যুর পর থেকে ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে গোপালের সিংহাসন আরোহণ পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর বাংলায় কোনো যোগ্য কেন্দ্রীয় শাসক ছিল না | মাৎস্যন্যায় পর্ব (৬৫০ – ৭৫০ খ্রি.) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| সংজ্ঞা ও উৎস | পুকুরে বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গিলে খায়, তেমনি শক্তিশালী সামন্তরা দুর্বল জনপদ ও প্রজাদের গ্রাস করছিল | সংস্কৃত ভাষায় এই চরম অরাজক পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘মাৎস্যন্যায়’ (Law of the Fish / Anarchy) | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |
| ঐতিহাসিক প্রমাণ | পাল রাজাদের খালিমপুর তাম্রশাসন এবং তিব্বতীয় ঐতিহাসিক লামা তারানাথের বিবরণীতে মাৎস্যন্যায়ের উল্লেখ রয়েছে | মাৎস্যন্যায় পর্ব (৬৫০ – ৭৫০ খ্রি.) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ০২. মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক ও মাৎস্যন্যায় (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা) |