টপিক 20 / ৫৮মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১📖 স্টাডি নোট

টপিক ২০: মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ, চলচ্চিত্র, ভাস্কর্য, স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর

অধ্যায় ২০: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও সংবিধান রচনার পটভূমি #

১. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস ও স্মৃতিকথা #

গ্রন্থের নাম লেখক / রচয়িতা ধরন
রাইফেল রোটি আওরাত আনোয়ার পাশা মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস (১৯৭১ সালের জুন–সেপ্টেম্বরে অবরুদ্ধ ঢাকায় বসে রচিত; লেখক ১৪ ডিসেম্বর শহিদ হন)।
জাহান্নাম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, জলাঙ্গী শওকত ওসমান উপন্যাস
একাত্তরের দিনগুলি জাহানারা ইমাম শহিদ জননী জাহানারা ইমামের ডায়েরি ও স্মৃতিকথা (পুত্র শহিদ রুমীকে কেন্দ্র করে)।
হাঙর নদী গ্রেনেড, যুদ্ধ, নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি সেলিনা হোসেন উপন্যাস
আগুনের পরশমণি, জোছনা ও জননীর গল্প, শ্যামল ছায়া, দেয়াল, অনিল বাগচীর একদিন হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাস
নিষিদ্ধ লোবান, নীল দংশন, বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ সৈয়দ শামসুল হক উপন্যাস (এবং কাব্যনাট্য: ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’)।
চিলেকোঠার সেপাই, খোয়াবনামা (৪৭ পটভূমি) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস উপন্যাস (৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান কেন্দ্রিক)।
কাক ও কারফিউ, ফেরারী সূর্য রাবেয়া খাতুন উপন্যাস
এ গোল্ডেন এজ (A Golden Age) তাহমিমা আনাম ইংরেজি ভাষায় রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
মূলধারা ’৭১ মঈদুল হাসান মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য ইতিহাস।
আমি বিজয় দেখেছি এম. আর. আখতার মুকুল স্মৃতিকথা ও ইতিহাস।
লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে (A Million Dead) মেজর রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।
একাত্তরের ডায়েরী সুফিয়া কামাল ডায়েরি / স্মৃতিকথা।
আমি বীরাঙ্গনা বলছি ড. নীলিমা ইব্রাহিম বীরাঙ্গনাদের করুণ ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল।
১৯৭১: ভেতরে বাইরে এ. কে. খন্দকার স্মৃতিকথা।

২. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র #

চলচ্চিত্রের নাম পরিচালক ধরন ও বিশেষ তথ্য
স্টপ জেনোসাইড (Stop Genocide) জহির রায়হান ১৯৭১ সালে যুদ্ধ চলাকালে নির্মিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র (২০ মিনিট)। জহির রায়হানের আরেকটি প্রামাণ্যচিত্র: A State is Born।
ওরা ১১ জন (১৯৭২) চাষী নজরুল ইসলাম স্বাধীন বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (মুক্তিযোদ্ধা খসরু, মুরাদ প্রমুখ অভিনয় করেন)।
অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (১৯৭২) সুভাষ দত্ত বীরাঙ্গনাদের জীবন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।
রক্তাক্ত বাংলা (১৯৭২) মমতাজ আলী পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
বাঘা বাঙালি (১৯৭২) আনন্দ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩) আলমগীর কবির পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (এবং সীমানা পেরিয়ে, রূপালী সৈকতে)।
আবার তোরা মানুষ হ (১৯৭৩) খান আতাউর রহমান যুদ্ধ-পরবর্তী যুবসমাজ ও মুক্তিযোদ্ধাদের পটভূমি (এবং ১৯৯৭ সালে এখনো অনেক রাত)।
সংগ্রাম (১৯৭৪) চাষী নজরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই চলচ্চিত্রের শেষ দৃশ্যে স্বয়ং উপস্থিত হয়েছিলেন। চাষী নজরুল ইসলামের অন্য ছবি: হাঙর নদী গ্রেনেড ও মেঘের পরে মেঘ।
আলোর মিছিল (১৯৭৪) নারায়ণ ঘোষ মিতা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
আগুনের পরশমণি (১৯৯৪) ও শ্যামল ছায়া (২০০৪) হুমায়ূন আহমেদ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (এবং শ্রাবণ মেঘের দিন)।
মুক্তির গান (১৯৯৫) ও মাটির ময়না (২০০২) তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ মাটির ময়না কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ফিপরেস্কি’ পুরস্কার লাভ করে।
নদীর নাম মধুমতী ও চিত্রা নদীর পারে তানভীর মোকাম্মেল পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (এবং প্রামাণ্যচিত্র: ১৯৭১, স্মৃতি ৭১)।
গেরিলা (২০১১) নাসিরউদ্দীন ইউসুফ সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত।
জয়যাত্রা (২০০৪) তৌকীর আহমেদ আমজাদ হোসেনের কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত।
একাত্তরের যীশু (১৯৯৩) নাসিরউদ্দীন ইউসুফ শাহরিয়ার কবিরের কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত।

৩. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রধান ভাস্কর্য ও স্থপতি #

ভাস্কর্যের নাম অবস্থান ভাস্কর / স্থপতি
জাগ্রত চৌরঙ্গী (১৯৭৩) জয়দেবপুর চৌরাস্তা, গাজীপুর আবদুর রাজ্জাক (মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ভাস্কর্য; ১৯ মার্চ ১৯৭১ গাজীপুরের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের স্মরণে)।
অপরাজেয় বাংলা (১৯৭৯) কলাভবনের সামনে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ (তিনজন নারী-পুরুষ মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি)।
স্বোপার্জিত স্বাধীনতা (১৯৮৮) টিএসসি (TSC) সড়কদ্বীপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শামীম সিকদার।
সাবাশ বাংলাদেশ (১৯৯১) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নিতুন কুণ্ডু।
বিজয় ’৭১ (২০০০) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ শ্যামল চৌধুরী।
সংশপ্তক (১৯৯০) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হামিদুজ্জামান খান (এক হাত ও এক পা হারিয়েও অস্ত্র হাতে লড়াকু যোদ্ধা)।
অদম্য বাংলা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় গোপাল চন্দ্র পাল।
চেতনা ’৭১ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট মোবারক হোসেন নৃপাল।
জয় বাংলা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সৈয়দ মোহাম্মদ সোহরাব জাহান।
দুর্জয় বাংলা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর মৃণাল হক।
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ বৈদ্যনাথতলা, মেহেরপুর তানভীর করিম (২৩টি ত্রিভুজাকৃতি দেয়াল — পাকিস্তানের ২৩ বছরের শোষণের প্রতীক)।
শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ১. মিরপুর (ঢাকা)
২. রায়েরবাজার বধ্যভূমি (ঢাকা)
১. মিরপুর: মোস্তফা হারুন কুদ্দুস হিলি
২. রায়েরবাজার: ফরিদউদ্দিন আহমেদ ও জামী-আল-শাফী।