টপিক 21 / ৫৮সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা📖 স্টাডি নোট

টপিক ২১: সংবিধান প্রণয়ন ও গণপরিষদের ইতিহাস

অধ্যায় ২১: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস #

৫.১ সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস ও দিনপঞ্জি (১৯৭২) #

স্বাধীনতার পর মাত্র ১০ মাসের মধ্যে (বিশ্বের অন্যতম সংক্ষিপ্ত সময়ে) বাংলাদেশ গণপরিষদ একটি পূর্ণাঙ্গ, লিখিত ও গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের মাইলফলক (১৯৭২) অস্থায়ী সংবিধান আদেশ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ প্রথম বিজয় দিবসে কার্যকর ১১ জানু ১৯৭২ অস্থায়ী সংবিধান আদেশ • রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব কর্তৃক অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি • সংসদীয় পদ্ধতি: রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকারে প্রত্যাবর্তন ঘটে ২৩ মার্চ ১৯৭২ গণপরিষদ আদেশ • P.O. No. 22: রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী কর্তৃক গণপরিষদ আদেশ • সদস্য সংখ্যা: ৭০-এর নির্বাচনে জয়ী মোট ৪০৩ জন সদস্য নিয়ে গণপরিষদ গঠিত ১১ এপ্রিল ১৯৭২ খসড়া সংবিধান কমিটি • ৩৪ সদস্যের কমিটি: সভাপতি: ড. কামাল হোসেন (আইনমন্ত্রী) • একমাত্র নারী সদস্য: বেগম রাজিয়া বানু • একমাত্র বিরোধীদলীয়: সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত (ন্যাপ) ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সংবিধান গৃহীত • ঐতিহাসিক ‘সংবিধান দিবস’ গণপরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে সংবিধান গৃহীত হয় • লিপিকার ও অলংকরণ: হস্তলেখক: এ কে এম আবদুর রউফ অলংকরণ: শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৬ ডিসে ১৯৭২ সংবিধান কার্যকর • প্রথম বিজয় দিবস হতে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর • মূল কাঠামো: ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ, ১টি প্রস্তাবনা ও ৭টি তফসিল ৪টি মূলনীতি (৮নং অনুচ্ছেদ)

সংবিধান প্রণয়নের সাথে জড়িত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও তাঁদের ভূমিকা #

ব্যক্তিত্বের নাম সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা ও ঐতিহাসিক পরিচয়
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ ‘অস্থায়ী সংবিধান আদেশ’ জারি করেন এবং ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭২ হস্তলিখিত সংবিধানে সর্বপ্রথম স্বাক্ষর করেন।
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি; ২৩ মার্চ ১৯৭২ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ (Constituent Assembly of Bangladesh Order, 1972 — P.O. No. 22) জারি করেন।
মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ১০ এপ্রিল ১৯৭২ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে প্রথম সভাপতিত্ব করেন।
শাহ আবদুল হামিদ বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম স্পিকার (১ মে ১৯৭২ তাঁর মৃত্যুর পর ডেপুটি স্পিকার মোহাম্মদ উল্লাহ স্পিকার হন)।
মোহাম্মদ উল্লাহ গণপরিষদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্পিকার (সংবিধান গৃহীত হওয়ার দিন ৪ নভেম্বর ১৯৭২ তিনি স্পিকার ছিলেন)।
ড. কামাল হোসেন তৎকালীন আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী; ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট ‘খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি’র সভাপতি। তাঁকে বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান রূপকার বা স্থপতি বলা হয়।
বেগম রাজিয়া বানু ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র নারী সদস্য। (উল্লেখ্য, সমগ্র গণপরিষদে মোট নারী সদস্য ছিলেন ৭ জন)।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গণপরিষদে ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটিতে একমাত্র বিরোধীদলীয় (ন্যাপ-মোজাফফর) সদস্য। তিনি খসড়া সংবিধানে স্বাক্ষর করেননি (৪০৪/৪০৩ জন সদস্যের মধ্যে ৩৯৯ জন স্বাক্ষর করেছিলেন)।
আবদুর রউফ ৯৩ পৃষ্ঠার মূল বাংলা সংবিধানের হস্তলেখক (Calligrapher)।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন হস্তলিখিত মূল সংবিধানের অলংকরণ ও অঙ্গসজ্জার প্রধান তত্ত্বাবধায়ক।
শিল্পী হাশেম খান প্রচ্ছদ ও অঙ্গসজ্জার প্রধান সহযোগী শিল্পী (অন্যান্য শিল্পী: জনাবুল ইসলাম, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, আবুল বারক আলভী; চামড়ায় বাঁধাই করেন সৈয়দ শাহ আবদুল ওয়াহেদ)।
অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান সংবিধানের বাংলা ভাষারীতি পর্যালোচনা ও অনুবাদ কমিটির প্রধান ভাষা বিশেষজ্ঞ (অন্য দুই সদস্য: সৈয়দ আলী আহসান ও মাযহারুল ইসলাম)।
আই গাথরি (I. Guthrie) ব্রিটিশ আইনজীবী ও খসড়া সংবিধান মুদ্রণ/রচনায় বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞ (লন্ডন সফরকালে ড. কামাল হোসেনকে সহায়তা করেন)।

সংখ্যাতত্ত্বে বাংলাদেশের সংবিধান (এক নজরে মাস্টার ছক) #

বিষয় সংখ্যা / পরিমাপ অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
প্রস্তাবনা (Preamble) ১টি সংবিধান শুরু হয়েছে প্রস্তাবনা দিয়ে (“আমরা, বাংলাদেশের জনগণ...”)।
সংবিধানের ভাষা ২টি বাংলা ও ইংরেজি। অর্থগত বিরোধ দেখা দিলে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাবে [অনুচ্ছেদ ১৫৩(৩)]।
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ৪টি ১. জাতীয়তাবাদ, ২. সমাজতন্ত্র, ৩. গণতন্ত্র ও ৪. ধর্মনিরপেক্ষতা [অনুচ্ছেদ ৮(১)]।
তফসিল (Schedules) ৭টি মূল সংবিধানে ৪টি তফসিল ছিল; পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) আরও ৩টি (৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম) যুক্ত হয়ে মোট ৭টি হয়েছে।
ভাগ বা অধ্যায় (Parts) ১১টি ৯ম ভাগে ‘৯ক ভাগ’ (জরুরি বিধানাবলি) যুক্ত থাকলেও মোট মৌলিক ভাগ ১১টি।
পরিচ্ছেদ (Chapters) ১৩টি ৪র্থ ভাগে ৫টি, ৫ম ভাগে ৩টি, ৬ষ্ঠ ভাগে ৩টি ও ৯ম ভাগে ২টি পরিচ্ছেদ।
মোট অনুচ্ছেদ (Articles) ১৫৩টি ৩য় ভাগে ১৮টি মৌলিক অধিকার বিষয়ক অনুচ্ছেদ (২৬–৪৭ক) রয়েছে।
মোট সংশোধনী (Amendments) ১৭টি ১ম সংশোধনী ১৫ জুলাই ১৯৭৩; সর্বশেষ ১৭তম সংশোধনী ৮ জুলাই ২০১৮।
সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ৩৪ জন সভাপতি: ড. কামাল হোসেন; একমাত্র নারী: বেগম রাজিয়া বানু।
গণপরিষদের মোট সদস্য ৪০৩ জন (প্রাথমিক ৪৬৯) ১৯৭০ নির্বাচনে নির্বাচিত ১৬৯ জন MNA ও ৩০০ জন MPA = ৪৬৯ জনের মধ্যে জীবিত ও বৈধ ছিলেন ৪০৩/৪০৪ জন।
হস্তলিখিত সংবিধানের পৃষ্ঠা ৯৩ পৃষ্ঠা স্বাক্ষরসহ মোট পৃষ্ঠা ১০৮টি (বর্তমানে শাহবাগের বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত)।