টপিক 22 / ৫৮সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা📖 স্টাডি নোট

টপিক ২২: সংবিধানের মূলনীতি ও মৌলিক অধিকারসমূহ

অধ্যায় ২২: সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি #

১ম ভাগ: প্রজাতন্ত্র (অনুচ্ছেদ ১ – ৭খ) #

অনুচ্ছেদ শিরোনাম ও মূল বিষয়বস্তু (পরীক্ষায় হুবহু আসে)
অনুচ্ছেদ ১ প্রজাতন্ত্র: বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যা ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত হবে।
অনুচ্ছেদ ২ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পূর্বে যে সকল ভূখণ্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং পরবর্তীকালে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এমন ভূখণ্ড।
অনুচ্ছেদ ২ক রাষ্ট্রধর্ম: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করবে (৮ম সংশোধনী ১৯৮৮ দ্বারা সংযোজিত ও ১৫তম সংশোধনী ২০১১ দ্বারা প্রতিস্থাপিত)।
অনুচ্ছেদ ৩ রাষ্ট্রভাষা: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
অনুচ্ছেদ ৪ জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক:
• ৪(১): প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’র প্রথম ১০ চরণ।
• ৪(২): প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হচ্ছে সবুজ ক্ষেত্রের ওপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত।
• ৪(৩): প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হচ্ছে উভয় পার্শ্বে ধানের শীষবেষ্টিত পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর সংযুক্ত পাতা এবং তার উভয় পার্শ্বে দুটি করে তারকা (মোট ৪টি তারকা)।
অনুচ্ছেদ ৪ক জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন (১৫তম সংশোধনী দ্বারা সংযোজিত)।
অনুচ্ছেদ ৫ রাজধানী: প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা [৫(১)]। রাজধানীর সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে [৫(২)]।
অনুচ্ছেদ ৬ নাগরিকত্ব: বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে [৬(১)]। বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে ‘বাঙালি’ এবং নাগরিকগণ ‘বাংলাদেশি’ বলে পরিচিত হবেন [৬(২)]।
অনুচ্ছেদ ৭ সংবিধানের প্রাধান্য:
• ৭(১): প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীনে ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে।
• ৭(২): জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোনো আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল বলে গণ্য হবে।
অনুচ্ছেদ ৭ক ও ৭খ ৭ক: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ (রাষ্ট্রদ্রোহিতা)। ৭খ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য (প্রস্তাবনা, ১ম, ২য় ও ৩য় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং অনুচ্ছেদ ১৫০-এর বিধানাবলি সংশোধন বা বাতিল করা যাবে না — ১৫তম সংশোধনী ২০১১ দ্বারা সংযোজিত)।

২য় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (অনুচ্ছেদ ৮ – ২৫) #

বিশেষ বৈশিষ্ট্য: এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলসূত্র হলেও এগুলো আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য নয় [অনুচ্ছেদ ৮(২)]।

অনুচ্ছেদ শিরোনাম ও মূল বিষয়বস্তু
অনুচ্ছেদ ৮ মূলনীতিসমূহ: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—এই ৪টি নীতি এবং তৎসহ এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
অনুচ্ছেদ ৯ জাতীয়তাবাদ: বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি (ভাষা ও সংস্কৃতি)।
অনুচ্ছেদ ১০ সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি: মানুষের ওপর মানুষের শোষণ হতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
অনুচ্ছেদ ১১ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার: মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ।
অনুচ্ছেদ ১২ ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা: সাম্প্রদায়িকতা, কোনো বিশেষ ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার এবং কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা নিপীড়ন বিলোপ করা হবে।
অনুচ্ছেদ ১৩ মালিকানার নীতি: উৎপাদনের উপকরণ ও বণ্টন ব্যবস্থার মালিকানা ৩ প্রকার— (ক) রাষ্ট্রীয় মালিকানা, (খ) সমবায়ী মালিকানা এবং (গ) ব্যক্তিগত মালিকানা।
অনুচ্ছেদ ১৪ কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি: মেহনতি মানুষ, কৃষক ও শ্রমিককে সকল প্রকার শোষণ হতে মুক্তি দান।
অনুচ্ছেদ ১৫ মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা: নাগরিকদের ৫টি মৌলিক চাহিদা (অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণ), কর্মের অধিকার, যুক্তিসঙ্গত মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার।
অনুচ্ছেদ ১৬ গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব: নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য দূর করা, কৃষি বিপ্লব ও পল্লী বিদ্যুতায়ন।
অনুচ্ছেদ ১৭ অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা: আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণ।
অনুচ্ছেদ ১৮ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা: পুষ্টিস্তর ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য গণ্য করবে; আরোগ্যের প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও মাদক পান এবং জুয়াখেলা ও গণিকাবৃত্তি নিরোধে রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অনুচ্ছেদ ১৮ক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন: রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করবেন (১৫তম সংশোধনী ২০১১ দ্বারা সংযোজিত)।
অনুচ্ছেদ ১৯ সুযোগের সমতা: সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা [১৯(১)], সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ [১৯(২)] এবং জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন [১৯(৩)]।
অনুচ্ছেদ ২০ অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম: কর্ম হচ্ছে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য (“প্রত্যেকের নিকট হতে যোগ্যতা অনুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুসারে”)।
অনুচ্ছেদ ২১ নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য: সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য [২১(১)]। সকল সময়ে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য [২১(২)]।
অনুচ্ছেদ ২২ নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ: রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবেন।
অনুচ্ছেদ ২৩ জাতীয় সংস্কৃতি: জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণ।
অনুচ্ছেদ ২৩ক উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি: রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন (১৫তম সংশোধনী ২০১১ দ্বারা সংযোজিত)।
অনুচ্ছেদ ২৪ জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রভৃতি: বিশেষ শৈল্পিক বা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন সৌধ, বস্তু বা স্থান রক্ষণ।
অনুচ্ছেদ ২৫ আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন (বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি): জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান, সাম্রাজ্যবাদ-উপনিবেশবাদ-বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন।

৩য় ভাগ: মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬ – ৪৭ক) — ১৮টি মৌলিক অধিকার #

বিশেষ বৈশিষ্ট্য: ৩য় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহ আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য। কোনো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে সংবিধানের ৪৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট (Writ) দায়ের করতে পারেন।

মৌলিক অধিকারসমূহের সাংবিধানিক শ্রেণিবিভাগ (অনুচ্ছেদ ২৭ – ৪৪) সংবিধানের ৩য় ভাগ • মোট ১৮টি মৌলিক অধিকারের প্রামাণ্য বিভাজন [ক] কেবল বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য (১২টি অনুচ্ছেদ) • অনুচ্ছেদ ২৭: আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও সমান আশ্রয় • অনুচ্ছেদ ২৮: ধর্ম-জাতি-বর্ণ-লিঙ্গভেদে বৈষম্যহীনতা • অনুচ্ছেদ ২৯: সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা • অনুচ্ছেদ ৩০: বিদেশি খেতাব বা সম্মাননা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা • অনুচ্ছেদ ৩৬: অবাধ চলাফেরার স্বাধীনতা • অনুচ্ছেদ ৩৭: শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা • অনুচ্ছেদ ৩৮: সমিতি বা সংগঠন গঠনের স্বাধীনতা • অনুচ্ছেদ ৩৯: চিন্তা, বিবেক ও বাক্-স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা • অনুচ্ছেদ ৪০: পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা • অনুচ্ছেদ ৪২: সম্পত্তি অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তরের অধিকার • অনুচ্ছেদ ৪৩: গৃহ ও যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার • অনুচ্ছেদ ৪৪: মৌলিক অধিকার বলবৎকরণের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন [খ] নাগরিক ও বিদেশি সকলের জন্য (৬টি অনুচ্ছেদ) • অনুচ্ছেদ ৩১: আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার আইন অনুযায়ী ব্যতীত কারো জীবন ও সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ • অনুচ্ছেদ ৩২: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার আইনসংগত পদ্ধতি ব্যতীত কাউকে জীবন থেকে বঞ্চিত করা যাবে না • অনুচ্ছেদ ৩৩: গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কিত রক্ষাকবচ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিত করার বাধ্যবাধকতা • অনুচ্ছেদ ৩৪: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ সকল প্রকার বেগার বা জবরদস্তিমূলক শ্রম আইনত দণ্ডনীয় • অনুচ্ছেদ ৩৫: বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ এক অপরাধের জন্য দুইবার বিচার নয় (Double Jeopardy নিষিদ্ধ) • অনুচ্ছেদ ৪১: ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিজ ধর্ম পালনের অধিকার

মৌলিক অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদসমূহ (পরীক্ষায় সর্বাধিক আসে) #

  • অনুচ্ছেদ ২৬: মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিল।
  • অনুচ্ছেদ ২৭ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা): সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী।
  • অনুচ্ছেদ ২৮ (ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য নিষিদ্ধকরণ):
    • ২৮(২): রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন। (বিসিএসে বারবার আসা প্রশ্ন)
    • ২৮(৪): নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন থেকে রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না (কোটা বা ইতিবাচক বৈষম্যের ভিত্তি)।
  • অনুচ্ছেদ ২৯: সরকারি নিয়োগলাভে সুযোগের সমতা।
  • অনুচ্ছেদ ৩০: রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোনো নাগরিক কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করবেন না।
  • অনুচ্ছেদ ৩১: আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার (To be treated in accordance with law is the inalienable right of every citizen)।
  • অনুচ্ছেদ ৩২: আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা হতে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না।
  • অনুচ্ছেদ ৩৩: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ (গ্রেপ্তারের কারণ না জানিয়ে আটক রাখা যাবে না এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে; তবে নিবর্তনমূলক আটক বা শত্রুদেশীয় নাগরিকের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম)।
  • অনুচ্ছেদ ৩৪: সকল প্রকার জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ।
  • অনুচ্ছেদ ৩৫: বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ (অপরাধ সংঘটনকালে বলবৎ আইনের চেয়ে বেশি দণ্ড দেওয়া যাবে না, একই অপরাধের জন্য একাধিকার বিচার ও দণ্ড দেওয়া যাবে না — Double Jeopardy, এবং নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না)।
  • অনুচ্ছেদ ৩৬: চলাফেরার স্বাধীনতা; অনুচ্ছেদ ৩৭: শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্রভাবে সমাবেশের স্বাধীনতা; অনুচ্ছেদ ৩৮: সমিতি বা সংঘ (সংগঠন) গঠনের স্বাধীনতা।
  • অনুচ্ছেদ ৩৯ (চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা):
    • ৩৯(১): চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হলো।
    • ৩৯(২): প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার (Freedom of the Press) নিশ্চয়তা দান করা হলো।
  • অনুচ্ছেদ ৪০: পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা; অনুচ্ছেদ ৪১: ধর্মীয় স্বাধীনতা; অনুচ্ছেদ ৪২: সম্পত্তির অধিকার; অনুচ্ছেদ ৪৩: গৃহ ও চিঠিপত্রের গোপনীয়তা রক্ষণ; অনুচ্ছেদ ৪৪: মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ (হাইকোর্টে রিট করার অধিকার)।

২২.২ মৌলিক অধিকার ও মূলনীতি — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #

অনুচ্ছেদ / সংশোধনী / তফসিল ভাগ ও শিরোনাম / পাসের বছর মূল বিষয়বস্তু ও সাংবিধানিক বিধান গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা ও পরীক্ষার রেফারেন্স
অনুচ্ছেদ ১ ও ২ ১ম ভাগ: প্রজাতন্ত্র প্রজাতন্ত্রের নাম ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ এবং প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা ২ক অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মের সমমর্যাদা
অনুচ্ছেদ ৩, ৪ ও ৪ক ১ম ভাগ: প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্রভাষা বাংলা (৩), জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক (৪) ৪(১) জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’র প্রথম ১০ চরণ; ৪(৩) জাতীয় ফুল শাপলা ও প্রতীক
অনুচ্ছেদ ৫ ও ৬ ১ম ভাগ: প্রজাতন্ত্র প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা (৫) এবং নাগরিকত্ব (৬) ৬(২) অনুচ্ছেদ: বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে ‘বাঙালি’ এবং নাগরিকগণ ‘বাংলাদেশী’ বলে পরিচিত হবেন
অনুচ্ছেদ ৭, ৭ক ও ৭খ ১ম ভাগ: প্রজাতন্ত্র সংবিধানের প্রাধান্য (৭): প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন ৭ক: সংবিধান বাতিল বা স্থগিতকরণ অপরাধ; ৭খ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য
অনুচ্ছেদ ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ ২য় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ৪টি মূলনীতি: জাতীয়তাবাদ (৯), সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি (১০), গণতন্ত্র ও মানবাধিকার (১১), ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা (১২) ৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২য় ভাগের মূলনীতিসমূহ আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য নয়
অনুচ্ছেদ ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ ২য় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি মালিকানার নীতি—রাষ্ট্রীয়, সমবায়ী ও ব্যক্তিগত (১৩), কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি (১৪), মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা (১৫) গ্রামীণ উন্নয়ন (১৬), অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা (১৭), জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা (১৮) এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ (১৮ক)
অনুচ্ছেদ ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৪ ও ২৫ ২য় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সুযোগের সমতা (১৯), অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম (২০), নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য (২১) নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ (২২), জাতীয় সংস্কৃতি ও উপজাতি/ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি (২৩ ও ২৩ক), জাতীয় স্মৃতিসৌধ (২৪) ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও পররাষ্ট্রনীতি (২৫)
অনুচ্ছেদ ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০ ৩য় ভাগ: মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬–৪৭ক) মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিল (২৬), আইনের দৃষ্টিতে সমতা (২৭), ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্যহীনতা (২৮) সরকারি নিয়োগলাভে সুযোগের সমতা (২৯) এবং বিদেশি খেতাব ও সম্মাননা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা (৩০)
অনুচ্ছেদ ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪ ও ৩৫ ৩য় ভাগ: মৌলিক অধিকার আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার (৩১), জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ (৩২), গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ (৩৩) জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধকরণ (৩৪) এবং বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ (৩৫)
অনুচ্ছেদ ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯ ও ৪০ ৩য় ভাগ: মৌলিক অধিকার চলাফেরার স্বাধীনতা (৩৬), সমাবেশের স্বাধীনতা (৩৭), সংগঠনের স্বাধীনতা (৩৮) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা ও সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা (৩৯) এবং পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা (৪০)
অনুচ্ছেদ ৪১, ৪২, ৪৩ ও ৪৪ ৩য় ভাগ: মৌলিক অধিকার ধর্মীয় স্বাধীনতা (৪১), সম্পত্তির অধিকার (৪২), গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ (৪৩) মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য অনুচ্ছেদ ১০২(১) অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে মামলা দায়েরের অধিকার (৪৪)
অনুচ্ছেদ ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ ৪র্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ (রাষ্ট্রপতি) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর (৪৮), রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের বিশেষ অধিকার (৪৯), মেয়াদ ৫ বছর ও সর্বোচ্চ ২ মেয়াদ (৫০) রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি (৫১), অভিশংসন (৫২), অসামর্থ্যর কারণে অপসারণ (৫৩) এবং অনুপস্থিতিতে স্পিকারের দায়িত্ব পালন (৫৪)
অনুচ্ছেদ ৬১, ৬২, ৬৩ ও ৬৪ ৪র্থ ভাগ: প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ ও অ্যাটর্নি জেনারেল সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত (৬১) এবং সংসদের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না (৬৩) অনুচ্ছেদ ৬৪: রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা ‘অ্যাটর্নি জেনারেল’ নিয়োগ (সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন)
অনুচ্ছেদ ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৭০, ৭৩ক ও ৭৪ ৫ম ভাগ: আইনসভা (জাতীয় সংসদ) এককক্ষবিশিষ্ট ৩৫০ আসনের জাতীয় সংসদ: ৩০০ সাধারণ + ৫০ সংরক্ষিত নারী আসন (৬৫), সদস্য হওয়ার ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর (৬৬) একাধারে ৯০ বৈঠক দিবস অনুপস্থিত থাকলে আসন শূন্য (৬৭), ফ্লোর ক্রসিং বা দলের বিপক্ষে ভোট দিলে আসন শূন্য (৭০), স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার (৭৪)
অনুচ্ছেদ ১১৭, ১১৮, ১১৯, ১২২ ও ১২৭ ৭ম ও ৮ম ভাগ: প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, নির্বাচন ও মহা হিসাব-নিরীক্ষক প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (১১৭), প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক ৪ জন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন ও মেয়াদ ৫ বছর (১১৮) প্রাপ্তবয়স্কের (১৮ বছর) ভোটাধিকার (১২২) এবং মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বা CAG পদের মেয়াদ ৫ বছর বা ৬৫ বছর বয়স (১২৭–১৩০)
অনুচ্ছেদ ১৩৭, ১৩৮, ১৪১ক, ১৪২, ১৪৩, ১৪৫ক ও ১৪৮ ৯ম, ৯ক ও ১০ম ভাগ: কর্ম কমিশন, জরুরি অবস্থা ও সংবিধান সংশোধন সরকারি কর্ম কমিশন বা PSC প্রতিষ্ঠা (১৩৭), রাষ্ট্রপতির জরুরি অবস্থা ঘোষণা—সর্বোচ্চ ১২০ দিন (১৪১ক), দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংবিধান সংশোধন (১৪২) প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি (১৪৩), বৈদেশিক চুক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ (১৪৫ক), শপথ গ্রহণ (১৪৮) এবং সংবিধানের ব্যাখ্যা (১৫২) ও প্রবর্তন (১৫৩)
৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম সংশোধনী ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ ৫ম: ১৯৭৫-১৯৭৯ সালের সামরিক ফরমান বৈধকরণ (৬ এপ্রিল ১৯৭৯); ৬ষ্ঠ: উপরাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ (১৯৮১) ৭ম: ১৯৮২-১৯৮৬ সালের সামরিক শাসন বৈধকরণ (১৯৮৬); ৮ম: ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা ও ‘Dacca’ বানান ‘Dhaka’ এবং ‘Bengali’ বানান ‘Bangla’ করা (৭ জুন ১৯৮৮)
১৩শ, ১৪শ, ১৫শ, ১৬শ ও ১৭শ সংশোধনী ১৯৯৬, ২০০৪, ২০১১, ২০১৪ ও ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ ১৩শ: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন (১৯৯৬); ১৪শ: নারী আসন ৪৫টি ও বিচারকদের বয়স ৬৭ বছর (২০০৪); ১৫শ: তত্ত্বাবধায়ক বাতিল, নারী আসন ৫০টি ও ৪ মূলনীতি পুনঃস্থাপন (৩০ জুন ২০১১) ১৬শ: বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত (২০১৪, পরে সুপ্রিম কোর্টে বাতিল); ১৭শ: সংসদে নারীদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মেয়াদ ২৫ বছর বৃদ্ধি (৮ জুলাই ২০১৮)

📋 ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #

বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি প্রধান তথ্য ও বিবরণ অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব
অনুচ্ছেদ ২৬ মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিল ৩য় ভাগ: মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬ – ৪৭ক) — ১৮টি মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
অনুচ্ছেদ ২৭ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা) সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী ৩য় ভাগ: মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬ – ৪৭ক) — ১৮টি মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
২৮(৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন থেকে রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না (কোটা বা ইতিবাচক বৈষম্যের ভিত্তি) ৩য় ভাগ: মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬ – ৪৭ক) — ১৮টি মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
অনুচ্ছেদ ২৯ সরকারি নিয়োগলাভে সুযোগের সমতা ৩য় ভাগ: মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬ – ৪৭ক) — ১৮টি মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
অনুচ্ছেদ ৩০ রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোনো নাগরিক কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করবেন না ৩য় ভাগ: মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬ – ৪৭ক) — ১৮টি মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
অনুচ্ছেদ ৩১ আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার (To be treated in accordance with law is the inalienable right of every citizen) ৩য় ভাগ: মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬ – ৪৭ক) — ১৮টি মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
অনুচ্ছেদ ৩২ আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা হতে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না ৩য় ভাগ: মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬ – ৪৭ক) — ১৮টি মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
অনুচ্ছেদ ৩৩ গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ (গ্রেপ্তারের কারণ না জানিয়ে আটক রাখা যাবে না এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে তবে নিবর্তনমূলক আটক বা শত্রুদেশীয় নাগরিকের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম) ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
অনুচ্ছেদ ৩৪ সকল প্রকার জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ ৩য় ভাগ: মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬ – ৪৭ক) — ১৮টি মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
অনুচ্ছেদ ৩৫ বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ (অপরাধ সংঘটনকালে বলবৎ আইনের চেয়ে বেশি দণ্ড দেওয়া যাবে না, একই অপরাধের জন্য একাধিকার বিচার ও দণ্ড দেওয়া যাবে না — Double Jeopardy, এবং নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না) ৩য় ভাগ: মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬ – ৪৭ক) — ১৮টি মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
অনুচ্ছেদ ৩৬ চলাফেরার স্বাধীনতা অনুচ্ছেদ ৩৭: শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্রভাবে সমাবেশের স্বাধীনতা ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
অনুচ্ছেদ ৪০ পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা অনুচ্ছেদ ৪১: ধর্মীয় স্বাধীনতা ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বাংলাদেশের সংবিধানের অভিভাবক, রক্ষক ও ব্যাখ্যাকারক হলো বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আর পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত ৭খ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে সংবিধানের প্রস্তাবনা, ১ম, ২য় ও ৩য় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং ১৫০ অনুচ্ছেদের মৌলিক বিধানাবলি কোনোভাবেই সংশোধন, পরিবর্তন বা বাতিলযোগ্য নয় ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা সংবিধানের ৩য় ভাগের (মৌলিক অধিকার) ২৮(২) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: “রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন ” উল্লেখ্য, ২য় ভাগের (মূলনীতি) ১৯(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন’ এবং ৬৫(৩) অনুচ্ছেদে সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের বিধান রয়েছে ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা সংবিধানের ২য় ভাগের ২৫ নং অনুচ্ছেদে (আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বা বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি বর্ণিত হয়েছে আর ৯ম ভাগের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) প্রতিষ্ঠার বিধান রয়েছে (১১৮ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন এবং ১২৭ অনুচ্ছেদে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক) ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ গৃহীত ত্রয়োদশ সংশোধনীর মূল বিষয় ছিল নির্দলীয় ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন আর সংবিধানের ৪র্থ তফসিল (ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি, অনুচ্ছেদ ১৫০)-এর অধীনে ৫ম ও ৭ম সংশোধনীর মাধ্যমে সামরিক শাসনামলের কার্যক্রমকে বৈধতা দেওয়ার জন্য অপব্যবহার করা হয়েছিল ২২. মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)