টপিক 23 / ৫৮সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা📖 স্টাডি নোট

টপিক ২৩: সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ ও ৭টি তফসিল

অধ্যায় ২৩: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭টি তফসিল #

৪র্থ থেকে ১১শ ভাগের অত্যাবশ্যকীয় অনুচ্ছেদসমূহ (এক নজরে মাস্টার রেফারেন্স) #

ভাগ অনুচ্ছেদ নং মূল বিষয়বস্তু ও পরীক্ষায় আসা তথ্য
৪র্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ (৪৮–৬৪) অনুচ্ছেদ ৪৮ রাষ্ট্রপতি: সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন; রাষ্ট্রপ্রধান রূপে রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন; ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাঁর সকল দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী পালন করবেন [৪৮(৩)]।
অনুচ্ছেদ ৪৯ ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার: যেকোনো আদালত কর্তৃক দণ্ডিত ব্যক্তির দণ্ড মার্জনা, বিলম্বন, বিরাম বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে।
অনুচ্ছেদ ৫০ রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ: কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে ৫ বছর; কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন না [৫০(২)]। স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করতে পারবেন [৫০(৩)]।
অনুচ্ছেদ ৫২ ও ৫৩ ৫২: সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের দায়ে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment) (সংসদের মোট সদস্যের ২/৩ অংশের ভোটে)। ৫৩: শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
অনুচ্ছেদ ৫৪ রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতি বা পদশূন্যতায় স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
অনুচ্ছেদ ৫৫ ও ৫৬ ৫৫: প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন ও প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত। ৫৬: মন্ত্রীদের অন্তত ৯/১০ অংশ (৯০%) সংসদ সদস্যদের মধ্য হতে এবং অনধিক ১/১০ অংশ (১০% — টেকনোক্র্যাট কোটা) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য হতে নিযুক্ত হতে পারবেন।
অনুচ্ছেদ ৫৭ ও ৫৮ প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ (রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ)।
অনুচ্ছেদ ৫৯ ও ৬০ স্থানীয় শাসন (Local Government): আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানের ওপর স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান (৫৯) এবং স্থানীয় কর আরোপের ক্ষমতা (৬০)।
অনুচ্ছেদ ৬১ ও ৬৩ ৬১: সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। ৬৩: সংসদের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না।
অনুচ্ছেদ ৬৪ অ্যাটর্নি জেনারেল (Attorney-General): সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ করবেন (রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা; রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টি অনুযায়ী পদে বহাল থাকবেন)।
৫ম ভাগ: আইনসভা (৬৫–৯৩) অনুচ্ছেদ ৬৫ সংসদ প্রতিষ্ঠা: ‘জাতীয় সংসদ’ (House of the Nation) নামে এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা; প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ৩০০ জন এবং ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন [৬৫(৩)] সহ মোট ৩৫০ জন সদস্য।
অনুচ্ছেদ ৬৬ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা (ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর, বাংলাদেশের নাগরিক) ও অযোগ্যতা (অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া, বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জন, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে অন্যূন ২ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে মুক্তিলাভের পর ৫ বছর অতিবাহিত না হওয়া, প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত)।
অনুচ্ছেদ ৬৭ সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া: সংসদের অনুমতি ব্যতীত একাদিক্রমে ৯০ বৈঠক দিবস অনুপস্থিত থাকলে সদস্যপদ শূন্য হবে [৬৭(১)(খ)]।
অনুচ্ছেদ ৭০ রাজনৈতিক দল হতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া (ফ্লোর ক্রসিং বিরোধী অনুচ্ছেদ): কোনো দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে।
অনুচ্ছেদ ৭২ সংসদের অধিবেশন: এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ৬০ দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকবে না। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম বৈঠক আহ্বান করতে হবে। মেয়াদ: প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে ৫ বছর।
অনুচ্ছেদ ৭৪ ও ৭৫ ৭৪: স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। ৭৫(২): সংসদের কোরাম (Quorum) হয় কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে। সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্রে স্পিকারের নির্ণায়ক ভোটকে বলা হয় ‘কাস্টিং ভোট’ (Casting Vote)।
অনুচ্ছেদ ৭৭ ন্যায়পাল (Ombudsman): সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠার বিধান করতে পারবে (১৯৮০ সালে আইন পাস হলেও আজও কেউ নিয়োগ পাননি; তবে দেশে ‘কর ন্যায়পাল’ চালু হয়েছিল)।
অনুচ্ছেদ ৮১ ও ৮৭ ৮১: অর্থবিল (Money Bill — রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ছাড়া সংসদে উত্থাপন করা যায় না; স্পিকারের সার্টিফিকেট চূড়ান্ত; রাষ্ট্রপতি অর্থবিল ফেরত পাঠাতে পারেন না, ১৪ দিনের মধ্যে সম্মতি দেবেন)। ৮৭: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি (সংবিধানে ‘বাজেট’ শব্দটির পরিবর্তে ‘বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহৃত হয়েছে)।
অনুচ্ছেদ ৯৩ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ক্ষমতা (Ordinance Making Power): সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় বা অধিবেশন না থাকাকালে জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন (তবে সংবিধান সংশোধন বা বাজেট পাসের অধ্যাদেশ জারি করা যায় না; সংসদের পরবর্তী প্রথম বৈঠকে উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদিত না হলে তা বাতিল হয়ে যায়)।
৬ষ্ঠ ভাগ: বিচার বিভাগ (৯৪–১১৭) অনুচ্ছেদ ৯৪ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা: আপিল বিভাগ (Appellate Division) ও হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) নিয়ে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট’ গঠিত হবে।
অনুচ্ছেদ ৯৫ ও ৯৬ ৯৫: রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারক নিয়োগ করবেন (অন্যান্য বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করবেন; যোগ্যতা: অন্যূন ১০ বছর সুপ্রিম কোর্টে অ্যাডভোকেট বা বিচার বিভাগীয় পদে দায়িত্ব পালন)। ৯৬: বিচারকদের পদের মেয়াদ (৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত — চতুর্দশ সংশোধনী ২০০৪ দ্বারা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর করা হয়) এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল (প্রধান বিচারপতি ও পরবর্তী ২ জন প্রবীণতম বিচারক নিয়ে গঠিত)।
অনুচ্ছেদ ১০২ হাইকোর্ট বিভাগের রিট (Writ) এখতিয়ার: মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ ও ৫ প্রকার রিট আদেশ (হেবিয়াস কর্পাস, ম্যান্ডামাস, প্রহিবিশন, সার্টিওরারি ও কো-ওয়ারেন্টো) জারির ক্ষমতা।
অনুচ্ছেদ ১০৩–১০৫ আপিল বিভাগের এখতিয়ার (১০৩), পরোয়ানা জারির ক্ষমতা (১০৪) এবং আপিল বিভাগ কর্তৃক রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা (Review) করার ক্ষমতা (১০৫)।
অনুচ্ছেদ ১০৬ সুপ্রিম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার: গুরুতর আইনগত প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের মতামত চাইতে পারেন।
অনুচ্ছেদ ১১৭ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (Administrative Tribunals): প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা।
৭ম ভাগ: নির্বাচন (১১৮–১২৬) অনুচ্ছেদ ১১৮ নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক ৪ জন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে (মোট ৫ জন) নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে; রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন; মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে ৫ বছর। নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন।
অনুচ্ছেদ ১২১ ও ১২২ ১২১: প্রতিটি আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা থাকবে (ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা লিঙ্গভেদে পৃথক ভোটার তালিকা হবে না)। ১২২: ভোটার হওয়ার যোগ্যতা (ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর, বাংলাদেশের নাগরিক, অপ্রকৃতিস্থ নন)।
৮ম ভাগ (১২৭–১৩২) অনুচ্ছেদ ১২৭ ও ১২৮ মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (CAG - Comptroller and Auditor-General): রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত (মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে ৫ বছর বা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত, যা আগে ঘটে — অনুচ্ছেদ ১২৯)। প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব নিরীক্ষা করেন ও রাষ্ট্রপতির কাছে রিপোর্ট পেশ করেন (যা সংসদে উপস্থাপিত হয় — অনুচ্ছেদ ১৩২)।
৯ম ভাগ: কর্মবিভাগ (১৩৩–১৪১) অনুচ্ছেদ ১৩৭ ও ১৩৮ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) প্রতিষ্ঠা: আইনের দ্বারা এক বা একাধিক সরকারি কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান (সভাপতি এবং অন্যূন ৬ জন ও অনধিক ১৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত; রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন; মেয়াদ ৫ বছর বা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত, যা আগে ঘটে — অনুচ্ছেদ ১৩৯)।
৯ক ভাগ (১৪১ক–১৪১গ) অনুচ্ছেদ ১৪১ক জরুরি অবস্থা ঘোষণা (Proclamation of Emergency): যুদ্ধ, বহিরাকক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন (যা ১২০ দিন কার্যকর থাকে, সংসদের অনুমোদনে বাড়ানো যায়; ২য় সংশোধনী ১৯৭৩ দ্বারা সংযোজিত)।
১০ম ভাগ (১৪২) অনুচ্ছেদ ১৪২ সংবিধানের কোনো বিধান সংশোধনের ক্ষমতা: সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) ভোটে সংবিধান সংশোধন বিল পাস করা যায় (রাষ্ট্রপতি ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি দেবেন)।
১১শ ভাগ: বিবিধ (১৪৩–১৫৩) অনুচ্ছেদ ১৪৩–১৫৩ ১৪৩: প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি; ১৪৫ক: আন্তর্জাতিক চুক্তি (রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ ও সংসদে আলোচনা); ১৪৮: শপথ ও ঘোষণা (তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী); ১৫০: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি (চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল); ১৫২: ব্যাখ্যা (‘আইন’ অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল); ১৫৩: প্রবর্তন, উল্লেখ ও নির্ভরযোগ্য পাঠ।

৫.৩ সংবিধানের ৭টি তফসিল ও শপথ গ্রহণ কাঠামো (মূল আইন থেকে যাচাইকৃত) #

কাঠামোগত ডায়াগ্রাম ও সূত্র রূপরেখা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭টি তফসিল সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদ ও ঐতিহাসিক সনদসমূহের সাংবিধানিক অন্তর্ভুক্তি ১ম ও ২য় তফসিল • ১ম তফসিল (অনুচ্ছেদ ৪৭) অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন • ২য় তফসিল (বিলুপ্ত) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (১২তম সংশোধনীতে বিলুপ্ত) ৩য় ও ৪র্থ তফসিল • ৩য় তফসিল (অনুচ্ছেদ ১৪৮) সাংবিধানিক শপথ ও ঘোষণা • ৪র্থ তফসিল (অনুচ্ছেদ ১৫০) ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি ঐতিহাসিক ৩টি তফসিল (১৫তম সংশোধনী ২০১১) • ৫ম তফসিল (অনুচ্ছেদ ১৫০(২)) ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ (বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কো স্বীকৃত) • ৬ষ্ঠ তফসিল (অনুচ্ছেদ ১৫০(২)) ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত শেষে (২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে) বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ঘোষিত ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ • ৭ম তফসিল (অনুচ্ছেদ ১৫০(২)) ১০ এপ্রিল ১৯৭১ মুজিবনগর সরকার কর্তৃক জারিকৃত ঐতিহাসিক ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ (Proclamation of Independence) (বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান) পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মূল ১৯৭২ সালের সংবিধানে মোট তফসিল ছিল ৪টি। ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে সংবিধানে সংযোজন করা হয়।

তৃতীয় তফসিল (অনুচ্ছেদ ১৪৮): কে কার নিকট শপথ গ্রহণ করেন ও পদত্যাগপত্র পেশ করেন? #

সাংবিধানিক পদাধিকারী কে শপথবাক্য পাঠ করান? (তৃতীয় তফসিল) কার নিকট পদত্যাগপত্র পেশ করেন?
১. রাষ্ট্রপতি স্পিকার (পূর্বে প্রধান বিচারপতি ছিলেন; ১৫তম সংশোধনী দ্বারা স্পিকার করা হয়েছে) স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে [অনুচ্ছেদ ৫০(৩)]
২. প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে [অনুচ্ছেদ ৫৭(ক) ও ৫৮(ক)]
৩. স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার রাষ্ট্রপতি স্পিকার রাষ্ট্রপতির নিকট (অথবা ডেপুটি স্পিকারের নিকট) এবং ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের নিকট [অনুচ্ছেদ ৭৪(২)]
৪. সংসদ-সদস্য (MP) স্পিকার স্পিকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে [অনুচ্ছেদ ৬৭(১)(গ)]
৫. প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে [অনুচ্ছেদ ৯৬(৪)]
৬. আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের অন্যান্য বিচারক প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে [অনুচ্ছেদ ৯৬(৪)]
৭. প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে [অনুচ্ছেদ ১১৮(৫)]
৮. মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (CAG) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে [অনুচ্ছেদ ১২৯(৩)]
৯. সরকারি কর্ম কমিশনের (BPSC) সভাপতি ও সদস্যগণ প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে [অনুচ্ছেদ ১৩৯(৩)]

১. সংবিধানে উল্লিখিত ‘জন’, ‘বছর’ ও ‘দিন’-এর পূর্ণাঙ্গ ছক (যেকোনো পরীক্ষার জন্য ১০০% কমন) #

ক্যাটাগরি সংখ্যা সংবিধানে বর্ণিত বিষয় সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
সংবিধানে ‘জন’ ৩৪ জন খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির মোট সদস্য (একমাত্র নারী বেগম রাজিয়া বানু) গণপরিষদ ১৯৭২
৫০ জন জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা অনুচ্ছেদ ৬৫(৩)
৬০ জন জাতীয় সংসদের বৈঠকে কোরাম (Quorum) পূর্ণ হওয়ার ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা অনুচ্ছেদ ৭৫(২)
৩০০ জন একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকা হতে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অনুচ্ছেদ ৬৫(২)
৩৯৯ জন হস্তলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষরকারী গণপরিষদ সদস্য (মোট সদস্য ছিলেন ৪০৩ জন) ১৪–১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২
সংবিধানে ‘বছর’ ২ বছর সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকের মেয়াদকাল (৯৮) এবং নৈতিক স্খলনে দণ্ডের মেয়াদ (৬৬) অনুচ্ছেদ ৯৮ ও ৬৬
৫ বছর রাষ্ট্রপতি, সংসদ, নির্বাচন কমিশনার, পিএসসি ও মহা হিসাব-নিরীক্ষকের পদের মেয়াদ ৫০, ৭২, ১১৮, ১২৯, ১৩৯
১৮ বছর ভোটার তালিকায় নামভুক্তির (ভোটার হওয়ার) সর্বনিম্ন বয়স অনুচ্ছেদ ১২২(২)(খ)
২৫ বছর সংসদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও মন্ত্রী হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স অনুচ্ছেদ ৬৬(১)
৩৫ বছর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স অনুচ্ছেদ ৪৮(৪)(ক)
৬৫ বছর সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) এবং মহা হিসাব-নিরীক্ষক (CAG)-এর অবসরের বয়সসীমা অনুচ্ছেদ ১৩৯(১) ও ১২৯(১)
৬৭ বছর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারকের অবসরের বয়সসীমা অনুচ্ছেদ ৯৬(১)
সংবিধানে ‘দিন’ ৭ দিন পুনর্বিবেচিত বিলে এবং সংবিধান সংশোধন বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি দানের সময়সীমা অনুচ্ছেদ ৮০(৪) ও ১৪২
১৪ দিন অর্থবিলে (Money Bill) রাষ্ট্রপতির সম্মতি দানের সময়সীমা অনুচ্ছেদ ৮০(৩)
১৫ দিন সাধারণ বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি দানের (বা ফেরত পাঠানোর) সময়সীমা অনুচ্ছেদ ৮০(৩)
৩০ দিন সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সংসদ আহ্বান (৭২) এবং অধ্যাদেশ অনুমোদনের সময় (৯৩) অনুচ্ছেদ ৭২(২) ও ৯৩
৬০ দিন সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের সর্বোচ্চ বিরতি অনুচ্ছেদ ৭২(১)
৯০ দিন অনুমতি ছাড়া একটানা ৯০ বৈঠক দিবস অনুপস্থিত থাকলে বা ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নিলে আসন শূন্য অনুচ্ছেদ ৬৭(১)(ক),(খ)
১২০ দিন জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রাথমিক কার্যকর মেয়াদ অনুচ্ছেদ ১৪১ক(১)

২. সংবিধানের অনুচ্ছেদ মনে রাখার জাদুকরী ছন্দ ও শর্টকাট ট্রিকস #

  • প্রথম ভাগ (অনুচ্ছেদ ১–৭): "পরি-সীমা-ধর্ম-ভাষা, জাতীয়-পিতা-রাজধানীর-নাগরিকই সংবিধানের আশা"
    • ১ = প্রজাতন্ত্রের পরিচয়, ২ = রাষ্ট্রীয় সীমানা, ২ক = রাষ্ট্রধর্ম, ৩ = রাষ্ট্রভাষা, ৪ = জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক, ৪ক = জাতির পিতার প্রতিকৃতি, ৫ = রাজধানী (ঢাকা), ৬ = নাগরিকত্ব, ৭ = সংবিধানের প্রাধান্য ও জনগণের ক্ষমতা।
  • দ্বিতীয় ভাগ (অনুচ্ছেদ ৮–২৫ — রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি):
    • ৮–১২: মূলনীতি (৮), জাতীয়তাবাদ (৯), সমাজতন্ত্র (১০), গণতন্ত্র ও মানবাধিকার (১১), ধর্মনিরপেক্ষতা (১২)।
    • ১৩–২৫ কৌশল: "মালিক(১৩) কৃষককে(১৪) মৌলিক(১৫) গ্রামে(১৬) শিক্ষার(১৭) স্বাস্থ্যের(১৮) পরিবেশে(১৮ক) সমান(১৯) কর্মের(২০) কর্তব্যে(২১) বিচার(২২) সংস্কৃতি(২৩) উপজাতি(২৩ক) স্মৃতিসৌধ(২৪) ও পররাষ্ট্রনীতি(২৫) শেখালেন।"
  • তৃতীয় ভাগ (অনুচ্ছেদ ২৭–৪৪ — ১৮টি মৌলিক অধিকার):
    • ২৭–৩০ (সমতা ও খেতাব): ২৭ = আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ২৮ = ধর্ম-লিঙ্গভেদে বৈষম্যহীনতা [২৮(২) নারী-পুরুষের সমতা], ২৯ = সরকারি চাকরিতে সমতা, ৩০ = বিদেশি খেতাব গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা।
    • ৩১–৩৫ (আইন ও বিচারিক সুরক্ষা): ৩১ = আইনের আশ্রয়লাভ, ৩২ = জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা, ৩৩ = গ্রেপ্তার ও আটক রক্ষাকবচ, ৩৪ = জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ, ৩৫ = বিচার ও দণ্ড রক্ষণ।
    • ৩৬–৪১ (৬টি স্বাধীনতা — কৌশল: "চ-স-সং-চি-পে-ধ"): ৩৬ = চলাফেরার স্বাধীনতা, ৩৭ = সমাবেশের স্বাধীনতা, ৩৮ = সংগঠনের স্বাধীনতা, ৩৯ = চিন্তা, বিবেক ও বাক্/সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ৪০ = পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা, ৪১ = ধর্মীয় স্বাধীনতা।
    • ৪২–৪৪: ৪২ = সম্পত্তির অধিকার, ৪৩ = গৃহ ও যোগাযোগের গোপনীয়তা, ৪৪ = মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ (১০২ অনুচ্ছেদে হাইকোর্টে রিট)।

২৩.২ সংবিধানের তফসিলসমূহ — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #

অনুচ্ছেদ / সংশোধনী / তফসিল ভাগ ও শিরোনাম / পাসের বছর মূল বিষয়বস্তু ও সাংবিধানিক বিধান গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা ও পরীক্ষার রেফারেন্স
অনুচ্ছেদ ৫৫, ৫৬, ৫৭, ৫৮ ও ৫৯ ৪র্থ ভাগ: মন্ত্রিসভা ও স্থানীয় শাসন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা ও যৌথ দায়বদ্ধতা (৫৫), টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী অনধিক এক-দশমাংশ বা ১/১০ অংশ (৫৬) প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ (৫৭), অন্যান্য মন্ত্রীর মেয়াদ (৫৮) এবং স্থানীয় শাসন (৫৯ ও ৬০)
অনুচ্ছেদ ৭৫, ৭৭, ৮০, ৮১, ৮৭ ও ৯৩ ৫ম ভাগ: আইন প্রণয়ন ও অর্থ পদ্ধতি সংসদের কোরাম ৬০ জন সদস্য (৭৫), ন্যায়পাল বা Ombudsman পদের বিধান (৭৭), অর্থবিল (৮১) ও বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি বা বাজেট (৮৭) অনুচ্ছেদ ৯৩: সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতির ‘অধ্যাদেশ’ (Ordinance) প্রণয়ন ক্ষমতা
অনুচ্ছেদ ৯৪, ৯৫, ৯৬, ১০১, ১০২, ১০৩ ও ১১১ ৬ষ্ঠ ভাগ: বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা—আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ (৯৪), প্রধান বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগ (৯৫), বিচারকদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর (৯৬) হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ার (১০২), আপিল বিভাগের এখতিয়ার (১০৩), সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বাধ্যতামূলক কার্যকরতা (১১১) ও অধস্তন আদালত (১১৪–১১৬ক)
সংবিধানের ৭টি তফসিল (Schedules) ১ম থেকে ৭ম তফসিল (অনুচ্ছেদ ৪৭, ১৪৮, ১৫০) ১ম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন; ২য় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বিলুপ্ত); ৩য় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা; ৪র্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি ৫ম তফসিল: বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ; ৬ষ্ঠ তফসিল: ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর স্বাধীনতার ঘোষণা; ৭ম তফসিল: ১০ এপ্রিল ১৯৭১-এর মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র