| ৪র্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ (৪৮–৬৪) |
অনুচ্ছেদ ৪৮ |
রাষ্ট্রপতি: সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন; রাষ্ট্রপ্রধান রূপে রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন; ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাঁর সকল দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী পালন করবেন [৪৮(৩)]। |
|
অনুচ্ছেদ ৪৯ |
ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার: যেকোনো আদালত কর্তৃক দণ্ডিত ব্যক্তির দণ্ড মার্জনা, বিলম্বন, বিরাম বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে। |
|
অনুচ্ছেদ ৫০ |
রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ: কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে ৫ বছর; কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন না [৫০(২)]। স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করতে পারবেন [৫০(৩)]। |
|
অনুচ্ছেদ ৫২ ও ৫৩ |
৫২: সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের দায়ে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment) (সংসদের মোট সদস্যের ২/৩ অংশের ভোটে)। ৫৩: শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ। |
|
অনুচ্ছেদ ৫৪ |
রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতি বা পদশূন্যতায় স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। |
|
অনুচ্ছেদ ৫৫ ও ৫৬ |
৫৫: প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন ও প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত। ৫৬: মন্ত্রীদের অন্তত ৯/১০ অংশ (৯০%) সংসদ সদস্যদের মধ্য হতে এবং অনধিক ১/১০ অংশ (১০% — টেকনোক্র্যাট কোটা) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য হতে নিযুক্ত হতে পারবেন। |
|
অনুচ্ছেদ ৫৭ ও ৫৮ |
প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ (রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ)। |
|
অনুচ্ছেদ ৫৯ ও ৬০ |
স্থানীয় শাসন (Local Government): আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানের ওপর স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান (৫৯) এবং স্থানীয় কর আরোপের ক্ষমতা (৬০)। |
|
অনুচ্ছেদ ৬১ ও ৬৩ |
৬১: সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। ৬৩: সংসদের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না। |
|
অনুচ্ছেদ ৬৪ |
অ্যাটর্নি জেনারেল (Attorney-General): সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ করবেন (রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা; রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টি অনুযায়ী পদে বহাল থাকবেন)। |
| ৫ম ভাগ: আইনসভা (৬৫–৯৩) |
অনুচ্ছেদ ৬৫ |
সংসদ প্রতিষ্ঠা: ‘জাতীয় সংসদ’ (House of the Nation) নামে এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা; প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ৩০০ জন এবং ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন [৬৫(৩)] সহ মোট ৩৫০ জন সদস্য। |
|
অনুচ্ছেদ ৬৬ |
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা (ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর, বাংলাদেশের নাগরিক) ও অযোগ্যতা (অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া, বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জন, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে অন্যূন ২ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে মুক্তিলাভের পর ৫ বছর অতিবাহিত না হওয়া, প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত)। |
|
অনুচ্ছেদ ৬৭ |
সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া: সংসদের অনুমতি ব্যতীত একাদিক্রমে ৯০ বৈঠক দিবস অনুপস্থিত থাকলে সদস্যপদ শূন্য হবে [৬৭(১)(খ)]। |
|
অনুচ্ছেদ ৭০ |
রাজনৈতিক দল হতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া (ফ্লোর ক্রসিং বিরোধী অনুচ্ছেদ): কোনো দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হবে। |
|
অনুচ্ছেদ ৭২ |
সংসদের অধিবেশন: এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ৬০ দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকবে না। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম বৈঠক আহ্বান করতে হবে। মেয়াদ: প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে ৫ বছর। |
|
অনুচ্ছেদ ৭৪ ও ৭৫ |
৭৪: স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। ৭৫(২): সংসদের কোরাম (Quorum) হয় কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে। সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্রে স্পিকারের নির্ণায়ক ভোটকে বলা হয় ‘কাস্টিং ভোট’ (Casting Vote)। |
|
অনুচ্ছেদ ৭৭ |
ন্যায়পাল (Ombudsman): সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠার বিধান করতে পারবে (১৯৮০ সালে আইন পাস হলেও আজও কেউ নিয়োগ পাননি; তবে দেশে ‘কর ন্যায়পাল’ চালু হয়েছিল)। |
|
অনুচ্ছেদ ৮১ ও ৮৭ |
৮১: অর্থবিল (Money Bill — রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ছাড়া সংসদে উত্থাপন করা যায় না; স্পিকারের সার্টিফিকেট চূড়ান্ত; রাষ্ট্রপতি অর্থবিল ফেরত পাঠাতে পারেন না, ১৪ দিনের মধ্যে সম্মতি দেবেন)। ৮৭: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি (সংবিধানে ‘বাজেট’ শব্দটির পরিবর্তে ‘বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহৃত হয়েছে)। |
|
অনুচ্ছেদ ৯৩ |
অধ্যাদেশ প্রণয়ন ক্ষমতা (Ordinance Making Power): সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় বা অধিবেশন না থাকাকালে জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন (তবে সংবিধান সংশোধন বা বাজেট পাসের অধ্যাদেশ জারি করা যায় না; সংসদের পরবর্তী প্রথম বৈঠকে উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদিত না হলে তা বাতিল হয়ে যায়)। |
| ৬ষ্ঠ ভাগ: বিচার বিভাগ (৯৪–১১৭) |
অনুচ্ছেদ ৯৪ |
সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা: আপিল বিভাগ (Appellate Division) ও হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) নিয়ে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট’ গঠিত হবে। |
|
অনুচ্ছেদ ৯৫ ও ৯৬ |
৯৫: রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারক নিয়োগ করবেন (অন্যান্য বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করবেন; যোগ্যতা: অন্যূন ১০ বছর সুপ্রিম কোর্টে অ্যাডভোকেট বা বিচার বিভাগীয় পদে দায়িত্ব পালন)। ৯৬: বিচারকদের পদের মেয়াদ (৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত — চতুর্দশ সংশোধনী ২০০৪ দ্বারা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর করা হয়) এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল (প্রধান বিচারপতি ও পরবর্তী ২ জন প্রবীণতম বিচারক নিয়ে গঠিত)। |
|
অনুচ্ছেদ ১০২ |
হাইকোর্ট বিভাগের রিট (Writ) এখতিয়ার: মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ ও ৫ প্রকার রিট আদেশ (হেবিয়াস কর্পাস, ম্যান্ডামাস, প্রহিবিশন, সার্টিওরারি ও কো-ওয়ারেন্টো) জারির ক্ষমতা। |
|
অনুচ্ছেদ ১০৩–১০৫ |
আপিল বিভাগের এখতিয়ার (১০৩), পরোয়ানা জারির ক্ষমতা (১০৪) এবং আপিল বিভাগ কর্তৃক রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা (Review) করার ক্ষমতা (১০৫)। |
|
অনুচ্ছেদ ১০৬ |
সুপ্রিম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার: গুরুতর আইনগত প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের মতামত চাইতে পারেন। |
|
অনুচ্ছেদ ১১৭ |
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (Administrative Tribunals): প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা। |
| ৭ম ভাগ: নির্বাচন (১১৮–১২৬) |
অনুচ্ছেদ ১১৮ |
নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক ৪ জন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে (মোট ৫ জন) নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে; রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন; মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে ৫ বছর। নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন। |
|
অনুচ্ছেদ ১২১ ও ১২২ |
১২১: প্রতিটি আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা থাকবে (ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা লিঙ্গভেদে পৃথক ভোটার তালিকা হবে না)। ১২২: ভোটার হওয়ার যোগ্যতা (ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর, বাংলাদেশের নাগরিক, অপ্রকৃতিস্থ নন)। |
| ৮ম ভাগ (১২৭–১৩২) |
অনুচ্ছেদ ১২৭ ও ১২৮ |
মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (CAG - Comptroller and Auditor-General): রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত (মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে ৫ বছর বা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত, যা আগে ঘটে — অনুচ্ছেদ ১২৯)। প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব নিরীক্ষা করেন ও রাষ্ট্রপতির কাছে রিপোর্ট পেশ করেন (যা সংসদে উপস্থাপিত হয় — অনুচ্ছেদ ১৩২)। |
| ৯ম ভাগ: কর্মবিভাগ (১৩৩–১৪১) |
অনুচ্ছেদ ১৩৭ ও ১৩৮ |
সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) প্রতিষ্ঠা: আইনের দ্বারা এক বা একাধিক সরকারি কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান (সভাপতি এবং অন্যূন ৬ জন ও অনধিক ১৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত; রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন; মেয়াদ ৫ বছর বা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত, যা আগে ঘটে — অনুচ্ছেদ ১৩৯)। |
| ৯ক ভাগ (১৪১ক–১৪১গ) |
অনুচ্ছেদ ১৪১ক |
জরুরি অবস্থা ঘোষণা (Proclamation of Emergency): যুদ্ধ, বহিরাকক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন (যা ১২০ দিন কার্যকর থাকে, সংসদের অনুমোদনে বাড়ানো যায়; ২য় সংশোধনী ১৯৭৩ দ্বারা সংযোজিত)। |
| ১০ম ভাগ (১৪২) |
অনুচ্ছেদ ১৪২ |
সংবিধানের কোনো বিধান সংশোধনের ক্ষমতা: সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) ভোটে সংবিধান সংশোধন বিল পাস করা যায় (রাষ্ট্রপতি ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি দেবেন)। |
| ১১শ ভাগ: বিবিধ (১৪৩–১৫৩) |
অনুচ্ছেদ ১৪৩–১৫৩ |
১৪৩: প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি; ১৪৫ক: আন্তর্জাতিক চুক্তি (রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ ও সংসদে আলোচনা); ১৪৮: শপথ ও ঘোষণা (তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী); ১৫০: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি (চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল); ১৫২: ব্যাখ্যা (‘আইন’ অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল); ১৫৩: প্রবর্তন, উল্লেখ ও নির্ভরযোগ্য পাঠ। |