টপিক 24 / ৫৮সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা📖 স্টাডি নোট
টপিক ২৪: সংবিধানের সংশোধনীসমূহ (১ম–১৭তম) ও সাংবিধানিক সংস্কার
অধ্যায় ২৪: সংবিধানের সংশোধনীসমূহ (১ম থেকে ১৭তম সংশোধনী) #
৫.৪ সংবিধানের ১ম থেকে ১৭তম সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ ছক (১৯৭৩ – ২০১৮) #
| সংশোধনী | পাসের তারিখ ও সাল | মূল বিষয়বস্তু ও ঐতিহাসিক প্রভাব |
|---|---|---|
| ১ম সংশোধনী | ১৫ জুলাই, ১৯৭৩ | ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য ৪৭ অনুচ্ছেদে নতুন দফা এবং ৪৭ক অনুচ্ছেদ সংযোজন। |
| ২য় সংশোধনী | ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩ | জরুরি অবস্থা ঘোষণা (৯ক ভাগ: অনুচ্ছেদ ১৪১ক–১৪১গ), নিবর্তনমূলক আটক আইন (অনুচ্ছেদ ৩৩ সংশোধন) এবং সংবিধান সংশোধনের ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধন। |
| ৩য় সংশোধনী | ২৩ নভেম্বর, ১৯৭৪ | মুজিব-ইন্দিরা সীমান্ত চুক্তি (১৬ মে ১৯৭৪) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভারতের সাথে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল ও দক্ষিণ বেরুবাড়ী হস্তান্তর সংক্রান্ত সীমানা পরিবর্তন। |
| ৪র্থ সংশোধনী | ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫ | সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন, উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় ‘বাকশাল’ (BAKSAL) ব্যবস্থা প্রবর্তন। |
| ৫ম সংশোধনী | ৬ এপ্রিল, ১৯৭৯ | ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক ফরমান দ্বারা কৃত সকল কাজ ও সংশোধনী বৈধকরণ (বিসমিল্লাহ সংযোজন, বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল)। (পরবর্তীতে ২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্ট ৫ম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে)। |
| ৬ষ্ঠ সংশোধনী | ৮ জুলাই, ১৯৮১ | উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের পথ সুগম করার জন্য উপ-রাষ্ট্রপতির পদকে লাভজনক পদ নয় মর্মে ঘোষণা। |
| ৭ম সংশোধনী | ১০ নভেম্বর, ১৯৮৬ | ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত জেনারেল এইচ. এম. এরশাদের সামরিক শাসনামলের সকল আদেশ ও কার্যাবলি বৈধকরণ এবং বিচারকদের অবসর বয়স ৬২ থেকে ৬৫ বছর করণ। (২০১০ সালে হাইকোর্ট ৭ম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে)। |
| ৮ম সংশোধনী | ৭ জুন, ১৯৮৮ | ১. ইসলামকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা (অনুচ্ছেদ ২ক সংযোজন); ২. ‘Dacca’ বানান পরিবর্তন করে ‘Dhaka’ এবং ‘Bengali’ পরিবর্তন করে ‘Bangla’ করণ; ৩. ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন। (২ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ আপিল বিভাগ বিখ্যাত ‘আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ’ বা ৮ম সংশোধনী মামলায় সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বা Basic Structure মতবাদ প্রতিষ্ঠা করে ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের অংশটুকু অবৈধ ঘোষণা করে)। |
| ৯ম সংশোধনী | ১০ জুলাই, ১৯৮৯ | রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদে প্রত্যক্ষ নির্বাচন এবং কোনো ব্যক্তি একাদিক্রমে দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি থাকতে পারবেন না মর্মে বিধান। |
| ১০ম সংশোধনী | ১২ জুন, ১৯৯০ | জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৩০টি আসনের মেয়াদ আরও ১০ বছরের জন্য বৃদ্ধি। |
| ১১শ সংশোধনী | ৬ আগস্ট, ১৯৯১ | অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের সকল কার্যক্রমের বৈধতা দান এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর পুনরায় প্রধান বিচারপতির পদে ফিরে যাওয়ার বিধান। |
| ১২শ সংশোধনী | ৬ আগস্ট, ১৯৯১ (গণভোট: ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯১) | সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী: দীর্ঘ ১৬ বছর পর রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থার পরিবর্তে পুনরায় সংসদীয় সরকার পদ্ধতি (মন্ত্রিপরিষদ শাসিত ব্যবস্থা) পুনঃপ্রবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর হাতে নির্বাহী ক্ষমতা অর্পণ এবং উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্তকরণ। |
| ১৩শ সংশোধনী | ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ | অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ১১ সদস্যের নির্দলীয় ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ (Non-Party Caretaker Government) ব্যবস্থা প্রবর্তন (অনুচ্ছেদ ৫৮ক–৫৮ঙ)। (১০ মে ২০১১ আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে এটি অসাংবিধানিক ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের অংশটি অবৈধ ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করে)। |
| ১৪শ সংশোধনী | ১৬ মে, ২০০৪ | ১. জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫টিতে উন্নীতকরণ; ২. সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অবসর বয়স ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর এবং পিএসসি/সিএজি-র অবসর বয়স ৬২ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করণ; ৩. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁদের প্রতিকৃতি প্রদর্শন এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের স্পিকার কর্তৃক শপথ পাঠের বিধান। |
| ১৫শ সংশোধনী | ৩০ জুন, ২০১১ | ১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তকরণ; ২. ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ৪টি মূলনীতি (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা) পুনর্বহাল; ৩. সংবিধানে ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তফসিল সংযোজন; ৪. জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০টিতে উন্নীতকরণ; ৫. ৭ক, ৭খ, ১৮ক (পরিবেশ) ও ২৩ক (ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) অনুচ্ছেদ সংযোজন। |
| ১৬শ সংশোধনী | ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ | সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পরিবর্তে জাতীয় সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। (৩ জুলাই ২০১৭ আপিল বিভাগ ১৬শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে এবং ২০ অক্টোবর ২০২৪ রিভিউ রায়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল চূড়ান্তভাবে পুনর্বহাল হয়)। |
| ১৭শ সংশোধনী | ৮ জুলাই, ২০১৮ | জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছরের জন্য (একাদশ সংসদের প্রথম বৈঠক থেকে গণনা করে) বৃদ্ধি করা হয়। |
২৪.২ সংবিধান সংশোধনীসমূহ — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #
| অনুচ্ছেদ / সংশোধনী / তফসিল | ভাগ ও শিরোনাম / পাসের বছর | মূল বিষয়বস্তু ও সাংবিধানিক বিধান | গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা ও পরীক্ষার রেফারেন্স |
|---|---|---|---|
| ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ সংশোধনী | ১৯৭৩, ১৯৭৩, ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ | ১ম: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার (১৫ জুলাই ১৯৭৩); ২য়: জরুরি অবস্থা ও নিবারক আটক (২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩) | ৩য়: বেরুবাড়ী ও ছিটমহল চুক্তি (২৩ নভেম্বর ১৯৭৪); ৪র্থ: রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ও বাকশাল প্রবর্তন (২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫) |
| ৯ম, ১০ম, ১১শ ও ১২শ সংশোধনী | ১৯৮৯, ১৯৯০, ১৯৯১ ও ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ম: রাষ্ট্রপতির মেয়াদ সর্বোচ্চ ২ বার নির্ধারণ (১৯৮৯); ১০ম: নারীদের ৩০টি সংরক্ষিত আসন ১০ বছর বৃদ্ধি (১৯৯০) | ১১শ: অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের স্বপদে ফিরে যাওয়ার বিধান (১৯৯১); ১২শ: সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন (১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯১) |