টপিক 25 / ৫৮সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা📖 স্টাডি নোট

টপিক ২৫: জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া

অধ্যায় ২৫: সরকারের ৩টি মূল অঙ্গ (আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ) #

৬.১ বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি ও ৩টি মূল অঙ্গ #

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা হলো এককেন্দ্রিক সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি (Unitary Parliamentary Democracy) বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা। এখানে রাষ্ট্রপতি হলেন নামমাত্র বা আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান (Titular Head of State) এবং প্রধানমন্ত্রী হলেন প্রকৃত সরকারপ্রধান ও নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী (Real Chief Executive)।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ৩টি মূল অঙ্গ সংবিধান অনুযায়ী সরকারের ক্ষমতা বণ্টন ও ভারসাম্য কাঠামো ১. আইন বিভাগ (Legislature) • সাংবিধানিক ভিত্তি: ৫ম ভাগ অনুচ্ছেদ ৬৫: জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠা • মোট আসন: ৩৫০টি ৩০০ প্রত্যক্ষ + ৫০ সংরক্ষিত নারী আসন • প্রধান কাজ: আইন প্রণয়ন, বাজেট পাস ও জবাবদিহিতা • অধিবেশন আহ্বান ও কোরাম: রাষ্ট্রপতি আহ্বান করেন; কোরাম ৬০ জন • অনুচ্ছেদ ৭০: ফ্লোর ক্রসিং নিষিদ্ধ ২. শাসন বিভাগ (Executive) • সাংবিধানিক ভিত্তি: ৪র্থ ভাগ অনুচ্ছেদ ৪৮–৬৪: রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভা • রাষ্ট্রপ্রধান: রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত (৫ বছর) • সরকার প্রধান: প্রধানমন্ত্রী অনুচ্ছেদ ৫৫: নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে • অ্যাটর্নি জেনারেল (অনুচ্ছেদ ৬৪): রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা • প্রশাসনিক নেতৃত্ব: সচিবালয় ৩. বিচার বিভাগ (Judiciary) • সাংবিধানিক ভিত্তি: ৬ষ্ঠ ভাগ অনুচ্ছেদ ৯৪: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট • দুটি বিভাগ: (১) আপিল বিভাগ ও (২) হাইকোর্ট বিভাগ • প্রধান বিচারপতি (অনুচ্ছেদ ৯৫): রাষ্ট্রপতি একক ক্ষমতায় নিয়োগ দেন • রিট এখতিয়ার (অনুচ্ছেদ ১০২): হাইকোর্ট বিভাগ ৫ প্রকার রিট জারি করতে পারে • বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ: ১ নভে ২০০৭

৬.২ আইন বিভাগ: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) #

  • নাম ও প্রতীক: বাংলায় ‘জাতীয় সংসদ’ এবং ইংরেজিতে ‘House of the Nation’ [অনুচ্ছেদ ৬৫(১)]। জাতীয় সংসদের প্রতীক ‘শাপলা ফুল’।
  • আসন বিন্যাস: মোট আসন ৩৫০টি (৩০০টি সাধারণ নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত + ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন যা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে বণ্টিত)।
    • সর্বাধিক সংসদীয় আসনবিশিষ্ট জেলা: ঢাকা (২০টি আসন); ২য় চট্টগ্রাম (১৬টি), ৩য় ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা (১১টি করে)।
    • সবচেয়ে কম সংসদীয় আসনবিশিষ্ট জেলা (১টি করে আসন): ৩টি পার্বত্য জেলা — রাঙামাটি (২৯৯ নং আসন), খাগড়াছড়ি (২৯৮ নং আসন) ও বান্দরবান (৩০০ নং আসন)। সমতলের জেলাগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন ২টি করে আসন রয়েছে মেহেরপুর, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, মাগুরা, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, জয়পুরহাট, পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটে। (বৃহত্তম নির্বাচনী এলাকা: রাঙামাটি)।
  • জাতীয় সংসদ ভবন (শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা):
    • স্থপতি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কান (Louis I. Kahn) (তাঁর জন্ম এস্তোনিয়ায়; ১৯৭৪ সালে মৃত্যুর পর তাঁর সহযোগী ডেভিড উইজডম নকশা সম্পন্ন করেন)।
    • নির্মাণ সূচনা ও উদ্বোধন: ১৯৬১ সালে (আইয়ুব খানের আমলে) ২১৫ একর জমির ওপর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২৮ জানুয়ারি ১৯৮২ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার ভবনটির উদ্বোধন করেন (১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ দ্বিতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশন প্রথম বসে)।
    • স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য: ভবনটি ৯ তলা বিশিষ্ট (উচ্চতা ১৫৫ ফুট ৮ ইঞ্চি)। মূল ভবনটি কৃত্রিম হ্রদ বা লেক দ্বারা পরিবেষ্টিত (বাংলার নদীমাতৃক ঐতিহ্যের প্রতীক)। ১৯৮৯ সালে স্থাপত্যটির জন্য ‘আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।
  • সংসদীয় কার্যপ্রণালি ও পরিভাষা:
    • কোরাম (Quorum): সংসদের বৈঠক পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন [অনুচ্ছেদ ৭৫(২)]।
    • কাস্টিং ভোট (Casting Vote / নির্ণায়ক ভোট): সংসদে কোনো বিষয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে সমান সংখ্যক ভোট পড়লে স্পিকার যে নির্ণায়ক ভোট প্রদান করেন।
    • ফ্লোর ক্রসিং (Floor Crossing): সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজ দলের বিপক্ষে ভোটদান বা দলত্যাগ করা।
    • হুইপ (Whip): সংসদে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা (১ জন চিফ হুইপ — মন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন এবং ৬ জন হুইপ — প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন)।
    • সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি: সংসদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটির সভাপতি ঐতিহ্যগতভাবে বিরোধীদল বা সিনিয়র সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হন এবং মহা হিসাব-নিরীক্ষকের (CAG) রিপোর্ট পরীক্ষা করেন।

২৫.২ সরকারের ৩টি অঙ্গ — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #

প্রশাসনিক সংস্থা / বিভাগ / আইন গঠনকাল / অনুচ্ছেদ / সদর দপ্তর প্রধান কর্মকর্তা / কাঠামো / সংখ্যা কার্যাবলি ও পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
জাতীয় সংসদ ভবন (শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা) স্থপতি: লুই আই কান (যুক্তরাষ্ট্র); উদ্বোধন: ২৮ জানুয়ারি ১৯৮২ জমির পরিমাণ ২১৫ একর; উচ্চতা ১৫৫ ফুট (৯ তলা বিশিষ্ট, কৃত্রিম হ্রদে ঘেরা) ৮ম অধিবেশনে (১৯৮২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রথম সংসদ অধিবেশন বসে; স্থপতি লুই কান আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার লাভ করেন (১৯৮৯)

📚 অতিরিক্ত মাস্টার তথ্যভাণ্ডার ও জব ফোকাসড রেফারেন্স সারণি #

বিষয় / ব্যক্তিত্ব / প্রতিষ্ঠান ও সময়কাল প্রধান পরিচয় / অবস্থান / আইন মূল কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো বিসিএস ও সরকারি চাকরি পরীক্ষার বিশেষ তথ্য
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (আইন বিভাগ) সংবিধানের ৫ম ভাগ (১ম পরিচ্ছেদ: অনুচ্ছেদ ৬৫–৭৯) এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভা (Unicameral Legislature); বাংলা নাম ‘জাতীয় সংসদ’ এবং ইংরেজি নাম ‘House of the Nation’ মোট আসন ৩৫০টি (৩০০টি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সাধারণ আসন + ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন); মেয়াদ ৫ বছর
জাতীয় সংসদ ভবন ও স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য অবস্থান: শেরেবাংলা নগর, ঢাকা (উদ্বোধন: ২৮ জানুয়ারি ১৯৮২, ২য় সংসদের ৮ম অধিবেশনে) স্থপতি: মার্কিন বিখ্যাত স্থপতি লুই আই কান (Louis I. Kahn; সহযোগী স্থপতি মাজহারুল ইসলাম) জমির পরিমাণ ২১৫ একর; মূল ভবনটি ৯ তলা (উচ্চতা ১৫৫ ফুট) এবং কৃত্রিম হ্রদ দ্বারা বেষ্টিত আধুনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন
জাতীয় সংসদের প্রতীক ও অধিবেশনের কোরাম সংসদের প্রতীক হলো ‘শাপলা ফুল’ অধিবেশন পরিচালনার জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সংসদ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন, যাকে ‘কোরাম’ (Quorum) বলা হয় (অনুচ্ছেদ ৭৫(২)) এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে বিরতি ৬০ দিনের বেশি হবে না (অনুচ্ছেদ ৭২)
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার (অনুচ্ছেদ ৭৪) সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্য হতে নির্বাচিত হন স্পিকার সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, শৃঙ্খলা রক্ষা করেন এবং সংসদ সচিবালয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গণপরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন শাহ আবদুল হামিদ; স্বাধীন বাংলাদেশের ১ম সংসদের প্রথম স্পিকার মোহম্মদ উল্লাহ এবং প্রথম নারী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী
কাস্টিং ভোট (Casting Vote) বা নির্ণায়ক ভোট সংবিধানের ৭৫(১)(খ) অনুচ্ছেদ সংসদে কোনো প্রস্তাবে পক্ষে ও বিপক্ষে সমান সংখ্যক ভোট পড়লে সভাপতি (স্পিকার) যে নির্ণায়ক ভোট প্রদান করেন সাধারণ অবস্থায় স্পিকার ভোট দেন না, কেবল ভোট সমান হলে কাস্টিং ভোট প্রয়োগ করেন
সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা (অনুচ্ছেদ ৬৬) বাংলাদেশের নাগরিক এবং ন্যূনতম ২৫ বছর বয়স্ক হতে হবে অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বা নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে ন্যূনতম ২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তি (মুক্তির পর ৫ বছর অতিবাহিত না হলে) অযোগ্য হবেন প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি সংসদ সদস্য হতে পারবেন না
সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়া ও ৭০ অনুচ্ছেদ সংবিধানের ৬৭ ও ৭০ অনুচ্ছেদ স্পিকারের অনুমতি ছাড়া একটানা ৯০টি বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলে বা শপথ গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নিলে আসন শূন্য হয় (অনুচ্ছেদ ৬৭) অনুচ্ছেদ ৭০ অনুযায়ী কোনো সদস্য যে দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, সে দল হতে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে (Floor Crossing) তাঁর আসন শূন্য হবে
অর্থবিল (Money Bill) ও বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া সংবিধানের ৮১, ৮২ ও ৮৭ অনুচ্ছেদ কর আরোপ, বিলোপ, মওকুফ বা সরকারি তহবিল সংক্রান্ত বিলকে ‘অর্থবিল’ বলে; কোনো বিল অর্থবিল কি না সে বিষয়ে স্পিকারের সার্টিফিকেটই চূড়ান্ত রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ব্যতীত কোনো অর্থবিল সংসদে উত্থাপন করা যায় না (অনুচ্ছেদ ৮২) এবং অর্থবইলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে বাধ্য (পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠাতে পারেন না)
আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রপতির সম্মতি (অনুচ্ছেদ ৮০) সংসদে উত্থাপিত আইনের খসড়া প্রস্তাবকে ‘বিল’ (Bill) বলা হয় (সরকারি বিল ও বেসরকারি সদস্যদের বিল) সংসদে গৃহীত হওয়ার পর বিলটি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হলে তিনি ১৫ দিনের মধ্যে সম্মতি দেবেন অথবা অর্থবিল ব্যতীত অন্য বিল পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন সংসদ পুনরায় বিলটি পাস করলে রাষ্ট্রপতি ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি দেবেন, অন্যথায় ৭ দিন পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনে পরিণত হয়
রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ প্রণয়ন ক্ষমতা (অনুচ্ছেদ ৯৩) সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকাকালে জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ (Ordinance) জারি করতে পারেন অধ্যাদেশটি সংসদ আইনের সমতুল্য ক্ষমতাসম্পন্ন, তবে সংবিধানের কোনো বিধান পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে না সংসদের পরবর্তী প্রথম বৈঠকে অধ্যাদেশটি উপস্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদিত না হলে তা বাতিল হয়ে যায়
সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটি সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ মন্ত্রণালয়ের কাজ পরীক্ষা, বিল পর্যালোচনা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের নিয়ে স্থায়ী কমিটি গঠিত হয় সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি (Public Accounts Committee), অনুমান কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কমিটি
ন্যায়পাল (Ombudsman) পদের বিধান সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদ (সুইডিশ শব্দ Ombudsman অর্থ প্রতিনিধি বা মুখপাত্র) মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার যেকোনো কাজ তদন্তের জন্য সংসদ আইনের দ্বারা ‘ন্যায়পাল’ পদের প্রতিষ্ঠা করতে পারে ১৯৮০ সালে ন্যায়পাল আইন পাস হলেও অদ্যাবধি সাধারণ ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হয়নি (তবে ২০০৫ সালে কর ন্যায়পাল নিয়োগ হয়েছিল যা পরে বাতিল হয়)

📋 ২৫. জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #

বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি প্রধান তথ্য ও বিবরণ অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব
নাম ও প্রতীক বাংলায় ‘জাতীয় সংসদ’ এবং ইংরেজিতে ‘House of the Nation’ [অনুচ্ছেদ ৬৫(১)] জাতীয় সংসদের প্রতীক ‘শাপলা ফুল’ ২৫. জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
আসন বিন্যাস মোট আসন ৩৫০টি (৩০০টি সাধারণ নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত + ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন যা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে বণ্টিত) ২ আইন বিভাগ: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২৫. জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
সর্বাধিক সংসদীয় আসনবিশিষ্ট জেলা ঢাকা (২০টি আসন) ২য় চট্টগ্রাম (১৬টি), ৩য় ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা (১১টি করে) ২৫. জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
সবচেয়ে কম সংসদীয় আসনবিশিষ্ট জেলা (১টি করে আসন) ৩টি পার্বত্য জেলা — রাঙামাটি (২৯৯ নং আসন), খাগড়াছড়ি (২৯৮ নং আসন) ও বান্দরবান (৩০০ নং আসন) সমতলের জেলাগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন ২টি করে আসন রয়েছে মেহেরপুর, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, মাগুরা, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, জয়পুরহাট, পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটে ২৫. জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
স্থপতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কান (Louis I. Kahn) (তাঁর জন্ম এস্তোনিয়ায় ১৯৭৪ সালে মৃত্যুর পর তাঁর সহযোগী ডেভিড উইজডম নকশা সম্পন্ন করেন) ২৫. জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
নির্মাণ সূচনা ও উদ্বোধন ১৯৬১ সালে (আইয়ুব খানের আমলে) ২১৫ একর জমির ওপর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২৮ জানুয়ারি ১৯৮২ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার ভবনটির উদ্বোধন করেন (১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ দ্বিতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশন প্রথম বসে) ২ আইন বিভাগ: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২৫. জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য ভবনটি ৯ তলা বিশিষ্ট (উচ্চতা ১৫৫ ফুট ৮ ইঞ্চি) মূল ভবনটি কৃত্রিম হ্রদ বা লেক দ্বারা পরিবেষ্টিত (বাংলার নদীমাতৃক ঐতিহ্যের প্রতীক) ২৫. জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
কোরাম (Quorum) সংসদের বৈঠক পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন [অনুচ্ছেদ ৭৫(২)] ২ আইন বিভাগ: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২৫. জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
কাস্টিং ভোট (Casting Vote / নির্ণায়ক ভোট) সংসদে কোনো বিষয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে সমান সংখ্যক ভোট পড়লে স্পিকার যে নির্ণায়ক ভোট প্রদান করেন ২ আইন বিভাগ: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২৫. জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
ফ্লোর ক্রসিং (Floor Crossing) সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজ দলের বিপক্ষে ভোটদান বা দলত্যাগ করা ২ আইন বিভাগ: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২৫. জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
হুইপ (Whip) সংসদে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা (১ জন চিফ হুইপ — মন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন এবং ৬ জন হুইপ — প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন) ২ আইন বিভাগ: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২৫. জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)
সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সংসদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটির সভাপতি ঐতিহ্যগতভাবে বিরোধীদল বা সিনিয়র সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হন এবং মহা হিসাব-নিরীক্ষকের (CAG) রিপোর্ট পরীক্ষা করেন ২ আইন বিভাগ: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ২৫. জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা)