টপিক ২৮: স্থানীয় সরকার, সাংবিধানিক সংস্থা ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানসমূহ
অধ্যায় ২৮: বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামো ও বিকেন্দ্রীকরণ #
৬.৪ বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা (৫ স্তরবিশিষ্ট কাঠামো) #
সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশে বর্তমানে মোট ৫ স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো বিদ্যমান (গ্রামাঞ্চলে ৩ স্তর এবং শহরাঞ্চলে ২ স্তর; এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে):
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের বিস্তারিত তথ্য (২০২৬ সর্বশেষ আপডেটসহ) #
ইউনিয়ন পরিষদ (Union Parishad):
- স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে প্রাচীন ও তৃণমূল স্তর (১৮৭০ সালের চৌকিদারি পঞ্চায়েত আইন ও ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন আইন থেকে উদ্ভূত)।
- দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ: ৪,৫৯৯টি (মেয়াদ ৫ বছর)।
- গঠন (মোট ১৩ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি): ১ জন চেয়ারম্যান + ৯ জন সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্য + ৩ জন সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য (প্রতি ৩টি সাধারণ ওয়ার্ডের জন্য ১টি সংরক্ষিত নারী আসন)। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব (বর্তমান পদনাম: ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা) ১ জন সরকারি কর্মচারী।
উপজেলা পরিষদ (Upazila Parishad):
- ১৯৮২ সালের ৭ নভেম্বর প্রথম প্রবর্তিত হয়; ১৯৯১ সালে বিলুপ্ত হওয়ার পর ১৯৯৮ সালে পুনরায় আইন পাস হয় এবং ২০০৯ সালে কার্যকর হয়।
- দেশে বর্তমানে মোট উপজেলা: ৫০৩টি।
- সর্বশেষ ৩টি উপজেলা: (১) ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা (চট্টগ্রাম), (২) বাঙ্গরা উপজেলা (কুমিল্লা) এবং (৩) দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা (ময়মনসিংহ)। (এর পূর্বে ছিল ঈদগাঁও কক্সবাজার, ডাসার মাদারীপুর ও মধ্যনগর সুনামগঞ্জ)।
- উপজেলা সংক্রান্ত রেকর্ড: সবচেয়ে বেশি উপজেলা কুমিল্লা জেলায় (১৮টি); সবচেয়ে কম উপজেলা মেহেরপুর ও নড়াইল জেলায় (৩টি করে)। আয়তনে বৃহত্তম উপজেলা: শ্যামনগর (সাতক্ষীরা); আয়তনে ক্ষুদ্রতম: শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) (মহানগরীসহ কোতোয়ালি/বন্দর)। জনসংখ্যায় বৃহত্তম উপজেলা: সাভার (ঢাকা); জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম: জুরাছড়ি (রাঙামাটি)।
- গঠন: ১ জন চেয়ারম্যান, ২ জন ভাইস চেয়ারম্যান (১ জন নারী), সংশ্লিষ্ট উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র এবং সংরক্ষিত নারী সদস্যগণ।
জেলা পরিষদ (Zila Parishad):
- দেশে মোট জেলা: ৬৪টি (তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি সাধারণ জেলা পরিষদ ও ৩টি পার্বত্য জেলা পরিষদ)।
- গঠন (মোট ২১ জন): ১ জন চেয়ারম্যান + ১৫ জন সাধারণ সদস্য + ৫ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য। জেলা পরিষদের নির্বাচন পরোক্ষ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয় (সংশ্লিষ্ট জেলার অন্তর্গত সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে জেলা পরিষদ নির্বাচিত করেন)।
পৌরসভা (Pourashava / Municipality):
- শুধুমাত্র শহর এলাকায় গঠিত স্থানীয় সরকার। বর্তমানে দেশে মোট পৌরসভা: ৩৩০টি (সর্বশেষ পৌরসভা: শ্যামনগর, সাতক্ষীরা)।
- গঠন: ১ জন মেয়র + ওয়ার্ডভিত্তিক সাধারণ কাউন্সিলর + এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর।
সিটি কর্পোরেশন (City Corporation):
- মহানগর বা বড় শহর এলাকায় গঠিত হয়। মেয়রের পদমর্যাদা প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর সমতুল্য (ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং নারায়ণগঞ্জ/গাজীপুর/চট্টগ্রামে বিশেষ মর্যাদা)।
- বর্তমানে দেশে মোট সিটি কর্পোরেশন: ১৩টি।
- সর্বশেষ (১৩তম) সিটি কর্পোরেশন: বগুড়া সিটি কর্পোরেশন (নিকার অনুমোদন: ১২ এপ্রিল ২০২৬; আনুষ্ঠানিক গেজেট/প্রতিষ্ঠা: ২০ এপ্রিল ২০২৬)।
- ১৩টি সিটি কর্পোরেশনের তালিকা: ১. ঢাকা দক্ষিণ ও ২. ঢাকা উত্তর (২০১১ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত হয়; মূল ঢাকা পৌরসভা ১৮৬৪ সালে গঠিত), ৩. চট্টগ্রাম, ৪. খুলনা, ৫. রাজশাহী, ৬. বরিশাল, ৭. সিলেট, ৮. নারায়ণগঞ্জ (২০১১), ৯. কুমিল্লা (২০১১), ১০. রংপুর (২০১২), ১১. গাজীপুর (২০১৩), ১২. ময়মনসিংহ (২০১৮ — ১২তম) এবং ১৩. বগুড়া (২০২৬ — ১৩তম)।
- সিটি কর্পোরেশন রেকর্ড: আয়তনে বৃহত্তম: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (৩২৯.৫৩ বর্গ কি.মি.); আয়তনে ক্ষুদ্রতম: সিলেট সিটি কর্পোরেশন। জনসংখ্যায় বৃহত্তম: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন; জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম: বরিশাল সিটি কর্পোরেশন।
১. সাংবিধানিক পদ বনাম অ-সাংবিধানিক (সংবিধিবদ্ধ) পদ চেনার শর্টকাট কৌশল (৪৩তম বিসিএস প্রশ্ন) #
সাংবিধানিক পদসমূহ (যে পদগুলোর কথা সরাসরি সংবিধানে উল্লেখ আছে):
১. রাষ্ট্রপতি (অনুচ্ছেদ ৪৮), ২. প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রী (অনুচ্ছেদ ৫৫–৫৬), ৩. স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার (অনুচ্ছেদ ৭৪), ৪. সংসদ সদস্য (অনুচ্ছেদ ৬৫), ৫. প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ (অনুচ্ছেদ ৯৪–৯৫), ৬. প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারগণ (অনুচ্ছেদ ১১৮), ৭. অ্যাটর্নি জেনারেল (অনুচ্ছেদ ৬৪), ৮. মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক — CAG (অনুচ্ছেদ ১২৭), ৯. সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)-এর চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ (অনুচ্ছেদ ১৩৭) এবং ১০. ন্যায়পাল (অনুচ্ছেদ ৭৭)।সতর্কতা (যেগুলো সাংবিধানিক পদ নয়, বরং আইন দ্বারা সৃষ্ট সংবিধিবদ্ধ পদ — পরীক্ষায় কনফিউজ করতে দেয়):
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান (সাংবিধানিক পদ নয় — ৪৩তম বিসিএসে আসা প্রশ্ন!)
- দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান (সাংবিধানিক পদ নয়)
- বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর (সাংবিধানিক পদ নয়)
- প্রধান তথ্য কমিশনার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (UGC) চেয়ারম্যান (সাংবিধানিক পদ নয়)।
২. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী (Pressure Groups) ও সুশীল সমাজ (৩৮তম ও ৪০তম বিসিএস) #
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও পাওয়েল (Almond & Powell) চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে ৪ ভাগে ভাগ করেছেন: (১) প্রাতিষ্ঠানিক গোষ্ঠী (Institutional), (২) সংজ্ঞামূলক গোষ্ঠী (Associational — যেমন বণিক সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন), (৩) অসংজ্ঞামূলক গোষ্ঠী (Non-associational) এবং (৪) নৈরাজ্যিক গোষ্ঠী (Anomic)।
- বিকল্প সরকার (Alternative Government): প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সংসদের প্রধান বিরোধী দলকে (Opposition Party) ‘বিকল্প সরকার’ বা ‘ছায়া সরকার’ (Shadow Government) বলা হয় (৪৩তম বিসিএস প্রশ্ন)।
- স্থানীয় সরকার নয় কোনটি? (৩৮তম বিসিএস প্রশ্ন): ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় সরকার; কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ওয়াসা (WASA) বা রাজউক (RAJUK) স্থানীয় সরকার নয় (এগুলো বিশেষায়িত সেবামূলক সংস্থা)।
২৮.২ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #
| প্রশাসনিক সংস্থা / বিভাগ / আইন | গঠনকাল / অনুচ্ছেদ / সদর দপ্তর | প্রধান কর্মকর্তা / কাঠামো / সংখ্যা | কার্যাবলি ও পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য |
|---|---|---|---|
| প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (NICAR) | মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনস্থ সর্বোচ্চ কমিটি | আহ্বায়ক/সভাপতি: প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা | নতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও থানা গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করে |
| বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (EC) | প্রতিষ্ঠা: ৭ জুলাই ১৯৭২ (সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ) | সদর দপ্তর: নির্বাচন ভবন, আগারগাঁও, ঢাকা; মেয়াদ ৫ বছর | প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC): বিচারপতি এম ইদ্রিস; বর্তমান ইসি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে |
| বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) | প্রতিষ্ঠা: ৮ এপ্রিল ১৯৭২ (সংবিধানের ১৩৭ অনুচ্ছেদ) | সদর দপ্তর: আগারগাঁও, ঢাকা; সদস্য সংখ্যা সভাপতিসহ ৬ থেকে ১৫ জন (মেয়াদ ৫ বছর বা ৬৫ বছর বয়স) | প্রথম চেয়ারম্যান: ড. এ কিউ এম বজলুল করিম; প্রথম নারী চেয়ারম্যান: ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম |
| মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (CAG) | প্রতিষ্ঠা: ১১ মে ১৯৭৩ (সংবিধানের ১২৭ অনুচ্ছেদ) | সদর দপ্তর: অডিট ভবন, কাকরাইল, ঢাকা; মেয়াদ ৫ বছর বা ৬৫ বছর বয়স | প্রথম সিএজি: ফজলে কাদের মুহম্মদ আবদুল বাকী; প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব নিরীক্ষা করে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সংসদে পেশ করেন |
| দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক / ACC) | প্রতিষ্ঠা: ২১ নভেম্বর ২০০৪ (দুদক আইন ২০০৪) | সদর দপ্তর: সেগুনবাগিচা, ঢাকা; ১ জন চেয়ারম্যান ও ২ জন কমিশনার নিয়ে গঠিত (মেয়াদ ৫ বছর) | বিলুপ্ত ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’র স্থলাভিষিক্ত হয়; প্রথম চেয়ারম্যান: বিচারপতি সুলতান হোসেন খান; হটলাইন নম্বর ১০৬ |
| জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) | প্রতিষ্ঠা: ১ ডিসেম্বর ২০০৮ (মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯) | সদর দপ্তর: কারওয়ান বাজার, ঢাকা; মেয়াদ ৩ বছর | প্রথম চেয়ারম্যান: বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরী (পরবর্তীতে ড. মিজানুর রহমান) |
| তথ্য কমিশন (Information Commission) | প্রতিষ্ঠা: ১ জুলাই ২০০৯ (তথ্য অধিকার আইন ২০০৯) | সদর দপ্তর: আগারগাঁও, ঢাকা; ১ জন প্রধান তথ্য কমিশনার ও ২ জন কমিশনার (অন্তত ১ জন নারী) | প্রথম প্রধান তথ্য কমিশনার: এম আজিজুর রহমান; সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করে |
| বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামো (৫ স্তর) | সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত | গ্রামীণ ৩ স্তর: ইউনিয়ন পরিষদ (৪,৫৭৮টি), উপজেলা পরিষদ (৪৯৫টি) ও জেলা পরিষদ (৬১টি সাধারণ + ৩টি পার্বত্য) | শহরাঞ্চলীয় ২ স্তর: পৌরসভা (৩৩০টি) এবং সিটি কর্পোরেশন (১২টি); সকল স্থানীয় সরকারের মেয়াদ ৫ বছর |
| বাংলাদেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন | প্রথম সিটি কর্পোরেশন: ঢাকা (১৯৭৮ সালে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, ২০১১ সালে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত) | ১২টি সিটি: ঢাকা উত্তর (DNCC), ঢাকা দক্ষিণ (DSCC), চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ | সর্বশেষ (১২তম) সিটি কর্পোরেশন: ময়মনসিংহ (২০১৮); আয়তনে বৃহত্তম: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (৩২৯.৫৩ বর্গ কিমি) |
| পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও ৩ পার্বত্য জেলা পরিষদ | পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি (২ ডিসেম্বর ১৯৯৭) অনুযায়ী ১৯৯৮ সালে গঠিত | আঞ্চলিক পরিষদের সদর দপ্তর রাঙামাটি; চেয়ারম্যান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন (প্রথম চেয়ারম্যান: সন্তু লারমা) | রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব সংরক্ষিত |
📋 ২৮. স্থানীয় সরকার ও কমিশনসমূহ — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #
| বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি | প্রধান তথ্য ও বিবরণ | অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য | সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| গঠন (মোট ১৩ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি) | ১ জন চেয়ারম্যান + ৯ জন সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্য + ৩ জন সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য (প্রতি ৩টি সাধারণ ওয়ার্ডের জন্য ১টি সংরক্ষিত নারী আসন) | ইউনিয়ন পরিষদের সচিব (বর্তমান পদনাম: ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা) ১ জন সরকারি কর্মচারী | ২৮. স্থানীয় সরকার ও কমিশনসমূহ (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা) |
| সর্বশেষ ৩টি উপজেলা | (১) ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা (চট্টগ্রাম), (২) বাঙ্গরা উপজেলা (কুমিল্লা) এবং (৩) দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা (ময়মনসিংহ) | (এর পূর্বে ছিল ঈদগাঁও কক্সবাজার, ডাসার মাদারীপুর ও মধ্যনগর সুনামগঞ্জ) | ২৮. স্থানীয় সরকার ও কমিশনসমূহ (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা) |
| উপজেলা সংক্রান্ত রেকর্ড | সবচেয়ে বেশি উপজেলা কুমিল্লা জেলায় (১৮টি) | সবচেয়ে কম উপজেলা মেহেরপুর ও নড়াইল জেলায় (৩টি করে) | ২৮. স্থানীয় সরকার ও কমিশনসমূহ (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা) |
| গঠন | ১ জন চেয়ারম্যান, ২ জন ভাইস চেয়ারম্যান (১ জন নারী), সংশ্লিষ্ট উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র এবং সংরক্ষিত নারী সদস্যগণ | স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের বিস্তারিত তথ্য (২০২৬ সর্বশেষ আপডেটসহ) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ২৮. স্থানীয় সরকার ও কমিশনসমূহ (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা) |
| গঠন (মোট ২১ জন) | ১ জন চেয়ারম্যান + ১৫ জন সাধারণ সদস্য + ৫ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য | জেলা পরিষদের নির্বাচন পরোক্ষ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয় (সংশ্লিষ্ট জেলার অন্তর্গত সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে জেলা পরিষদ নির্বাচিত করেন) | ২৮. স্থানীয় সরকার ও কমিশনসমূহ (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা) |
| গঠন | ১ জন মেয়র + ওয়ার্ডভিত্তিক সাধারণ কাউন্সিলর + এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর | স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের বিস্তারিত তথ্য (২০২৬ সর্বশেষ আপডেটসহ) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ২৮. স্থানীয় সরকার ও কমিশনসমূহ (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা) |
| সর্বশেষ (১৩তম) সিটি কর্পোরেশন | বগুড়া সিটি কর্পোরেশন (নিকার অনুমোদন: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | আনুষ্ঠানিক গেজেট/প্রতিষ্ঠা: ২০ এপ্রিল ২০২৬) | ২৮. স্থানীয় সরকার ও কমিশনসমূহ (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা) |
| ১৩টি সিটি কর্পোরেশনের তালিকা | ১. ঢাকা দক্ষিণ ও ২. ঢাকা উত্তর (২০১১ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত হয় | মূল ঢাকা পৌরসভা ১৮৬৪ সালে গঠিত), ৩. চট্টগ্রাম, ৪. খুলনা, ৫. রাজশাহী, ৬. বরিশাল, ৭. সিলেট, ৮. নারায়ণগঞ্জ (২০১১), ৯. কুমিল্লা (২০১১), ১০. রংপুর (২০১২), ১১. গাজীপুর (২০১৩), ১২. ময়মনসিংহ (২০১৮ — ১২তম) এবং ১৩. বগুড়া (২০২৬ — ১৩তম) | ২৮. স্থানীয় সরকার ও কমিশনসমূহ (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা) |
| সিটি কর্পোরেশন রেকর্ড | আয়তনে বৃহত্তম: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (৩২৯.৫৩ বর্গ কি.মি.) | আয়তনে ক্ষুদ্রতম: সিলেট সিটি কর্পোরেশন | ২৮. স্থানীয় সরকার ও কমিশনসমূহ (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা) |
| গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও পাওয়েল (Almond & Powell) | চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে ৪ ভাগে ভাগ করেছেন: (১) প্রাতিষ্ঠানিক গোষ্ঠী (Institutional), (২) সংজ্ঞামূলক গোষ্ঠী (Associational — যেমন বণিক সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন), (৩) অসংজ্ঞামূলক গোষ্ঠী (Non-associational) এবং (৪) নৈরাজ্যিক গোষ্ঠী (Anomic) | চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী (Pressure Groups) ও সুশীল সমাজ (৩৮তম ও ৪০তম বিসিএস) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ২৮. স্থানীয় সরকার ও কমিশনসমূহ (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা) |
| বিকল্প সরকার (Alternative Government) | প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সংসদের প্রধান বিরোধী দলকে (Opposition Party) ‘বিকল্প সরকার’ বা ‘ছায়া সরকার’ (Shadow Government) বলা হয় (৪৩তম বিসিএস প্রশ্ন) | চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী (Pressure Groups) ও সুশীল সমাজ (৩৮তম ও ৪০তম বিসিএস) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ২৮. স্থানীয় সরকার ও কমিশনসমূহ (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা) |
| তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা | বাংলাদেশে গ্রামাঞ্চলে ৩ স্তর (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ) এবং শহরাঞ্চলে ২ স্তর (পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন) মিলিয়ে মোট ৫ স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে | প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ৯টি সাধারণ ওয়ার্ড থেকে ৯ জন সদস্য, ৩টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড থেকে ৩ জন নারী সদস্য এবং ১ জন চেয়ারম্যানসহ মোট ১৩ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকেন | ২৮. স্থানীয় সরকার ও কমিশনসমূহ (সংবিধান ও সরকার ব্যবস্থা) |