টপিক 35 / ৫৮কৃষি, বনজ ও পরিবেশ📖 স্টাডি নোট
টপিক ৩৫: বনভূমি, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য
অধ্যায় ৩৫: বাংলাদেশের বনভূমি ও সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র #
১. বাংলাদেশের বনাঞ্চলের শ্রেণিবিভাগ #
সরকারি হিসাবমতে বাংলাদেশের মোট আয়তনের প্রায় ১৫.৫৮% (প্রায় ২২ লক্ষ হেক্টর) বনভূমি রয়েছে (তবে একটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য মোট ভূমির ২৫% বনভূমি থাকা আবশ্যক)। অবস্থান ও বৃক্ষের প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশের বনভূমিকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়:
- ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পতনশীল পত্রযুক্ত পাহাড়ি বনভূমি (চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল): মোট বনভূমির প্রায় ৫১% (সর্ববৃহৎ বন অঞ্চল)। প্রধান বৃক্ষ: সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, জারুল, তেলসুর, কড়ই ও বাঁশ-বেত।
- স্রোতজ বা ম্যানগ্রোভ বনভূমি (সুন্দরবন ও চকরিয়া উপকূলীয় বন): মোট বনভূমির প্রায় ৪১%।
- ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত শালবন বা সমতল ভূমির বন (মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং দিনাজপুর): টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর জেলায় অবস্থিত। প্রধান বৃক্ষ: শাল বা গজারি (৯০% বৃক্ষই শাল/গজারি)।
২. বিশ্ব ঐতিহ্য ‘সুন্দরবন’ (পৃথিবীর বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন) #
- মোট আয়তন: ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে বাংলাদেশে রয়েছে ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার (৬০.১৭% বা প্রায় ৬২%) এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে অবশিষ্ট প্রায় ৩৮%–৪০%।
- অন্তর্ভুক্ত জেলা (৫টি): সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট (মূল ৩টি জেলা) এবং পিরোজপুর ও বরগুনার অংশবিশেষ।
- আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও দিবস:
- রামসার সাইট (Ramsar Site — আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি): ২১ মে, ১৯৯২ (দেশের প্রথম রামসার সাইট)।
- ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য (UNESCO World Heritage Site): ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ (ইউনেস্কোর ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য)।
- সুন্দরবন দিবস: ১৪ ফেব্রুয়ারি।
- প্রধান বৃক্ষ ও প্রাণী: সুন্দরী (সর্বাধিক প্রায় ৬৪%/৭৩%; এই বৃক্ষের নামানুসারে বনের নাম সুন্দরবন), গেওয়া (খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের কাঁচামাল ছিল), গরান, কেওড়া, পশুর, ধুন্দল, বাইন ও গোলপাতা। উদ্ভিদগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শ্বাসমূল (Pneumatophores) ও জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম (Vivipary)। প্রধান প্রাণী: বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার (সর্বশেষ বাঘ শুমারি ২০২৪ অনুযায়ী বাঘের সংখ্যা ১২৫টি; ২০১৮ সালে ছিল ১১৪টি), চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, লোনাপানির কুমির ও ইরাবতী ডলফিন।
- অন্যান্য বিশেষ বন ও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য:
- রাতারগুল জলাবন (Swamp Forest): গোয়াইনঘাট, সিলেট — বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট (‘বাংলার আমাজন’)।
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান: কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার (বিলুপ্তপ্রায় উল্লুক বা গিবনের জন্য বিখ্যাত চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেস্ট)।
- দেশের বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য: বর্তমানে মোট ২৫টি (সর্বশেষ ২৫তম বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য: বাইশারী ব্যাংকডেপা, রামু, কক্সবাজার)।
৩৫.২ বনভূমি ও সুন্দরবন — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #
| ফসল / প্রতিষ্ঠান / বনাঞ্চল | উন্নত জাত / অবস্থান / আবিষ্কারক | প্রধান বৈশিষ্ট্য / উৎপাদন মৌসুম | গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরীক্ষার রেফারেন্স |
|---|---|---|---|
| সুন্দরবন (বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন) | খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনা (৫টি জেলা) | মোট আয়তন ১০,০০০ বর্গ কিমি; বাংলাদেশে ৬,০১৭ বর্গ কিমি (প্রায় ৬২%)। ২১ মে ১৯৯২ দেশের ১ম ‘রামসার সাইট’ এবং ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৭ ইউনেস্কোর ৭৯৮তম ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ ঘোষিত | প্রধান বৃক্ষ: সুন্দরী (প্রায় ৭৩%), গেওয়া, গরান, কেওড়া, পশুর ও গোলপাতা; বাঘ শুমারি ২০২৪ অনুযায়ী রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ১২৫টি; ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘সুন্দরবন দিবস’ |
| বাংলাদেশের প্রধান বনাঞ্চল (৩ প্রকার) | ১. পাহাড়ি বন (চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট—সর্বাধিক আয়তন), ২. সমতল ভূমির শালবন (ঢাকা-টাঙ্গাইল-গাজীপুর-ময়মনসিংহ-দিনাজপুর), ৩. ম্যানগ্রোভ বা উপকূলীয় বন (সুন্দরবন ও চকরিয়া) | জাতীয় বননীতি অনুযায়ী দেশের মোট আয়তনের ২৫% বনভূমি থাকা প্রয়োজন (বর্তমানে সরকারি হিসেবে প্রায় ১৫.৫৮%) | পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছ রোপণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে; সামাজিক বনায়নের প্রধান বৃক্ষ মেহগনি ও রেইনট্রি |
| বাংলাদেশের জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্ক | গাজীপুর, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ ও হবিগঞ্জ | ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান (গাজীপুর), মধুপুর জাতীয় উদ্যান (টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ), লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান (কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার—উল্লুকের জন্য বিখ্যাত), হিমছড়ি ও মেধাকচ্ছপিয়া (কক্সবাজার), সাতছড়ি (হবিগঞ্জ), নিঝুম দ্বীপ (নোয়াখালী) | দেশে সাফারি পার্ক ২টি: ১. ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক (চকরিয়া, কক্সবাজার—দেশের ১ম সাফারি পার্ক, ১৯৯৯) ও ২. গাজীপুর সাফারি পার্ক (শ্রীপুর, গাজীপুর); দেশের ১ম ইকোপার্ক: সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ পাহাড় ইকোপার্ক (চট্টগ্রাম, ২০০০) |
📚 অতিরিক্ত মাস্টার তথ্যভাণ্ডার ও জব ফোকাসড রেফারেন্স সারণি #
| বিষয় / ব্যক্তিত্ব / প্রতিষ্ঠান ও সময়কাল | প্রধান পরিচয় / অবস্থান / আইন | মূল কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো | বিসিএস ও সরকারি চাকরি পরীক্ষার বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশের বনভূমির সামগ্রিক পরিসংখ্যান ও শ্রেণিবিভাগ | পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদপ্তর (BFD) | সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১৫.৫৮% (প্রায় ২২ লক্ষ হেক্টর) বনভূমি (পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য প্রয়োজন ২৫% বনভূমি) | ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী দেশের বনাঞ্চল ৩ প্রকার: ১. পাহাড়ি বন (সর্বাধিক — প্রায় ১৩ লক্ষ হেক্টর), ২. ম্যানগ্রোভ বা স্রোতজ বন (সুন্দরবন) এবং ৩. সমতল ভূমির শালবন |
| বিশ্ব ঐতিহ্য ‘সুন্দরবন’ (পৃথিবীর বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন) | অবস্থান: খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা | মোট আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গ কি.মি.; যার মধ্যে বাংলাদেশে রয়েছে ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার (প্রায় ৬০.১৭% বা ৬২%) এবং ভারতে প্রায় ৪০% | ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৭ ইউনেস্কো সুন্দরবনকে ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য (World Heritage Site) এবং ২১ মে ১৯৯২ দেশের প্রথম ‘রামসার সাইট’ ঘোষণা করে |
| সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ, প্রাণী ও বাঘ শুমারি ২০২৪ | প্রধান বৃক্ষ: সুন্দরী (প্রায় ৭৩%; এ বৃক্ষের নামানুসারে বনের নাম ‘সুন্দরবন’), গেওয়া (দিয়াশলাই কারখানার কাঁচামাল), গরান, পশুর, কেওড়া ও গোলপাতা | শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর (Pneumatophore) ও জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম (Viviparous germination) ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের অনন্য বৈশিষ্ট্য | বাঘ শুমারি ২০২৪ (প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৪) অনুযায়ী সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ১২৫টি (২০১৮ সালে ছিল ১১৪টি); প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘সুন্দরবন দিবস’ পালিত হয় |
| পাহাড়ি অর্ধ-চিরহরিৎ বন ও সমতল ভূমির শালবন | পাহাড়ি বন: রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল (প্রধান বৃক্ষ: গর্জন, সেগুন, চাপালিশ, কড়ই, জারুল ও বাঁশ-বেত) | সমতল ভূমির শালবন (পত্রঝরা বন বা Deciduous Forest): টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহের মধুপুর গড়, গাজীপুরের ভাওয়ালের গড় এবং দিনাজপুর-রংপুরের বরেন্দ্র অঞ্চল | শালবনের প্রধান বৃক্ষ হলো শাল বা গজারী; দিনাজপুরের বিরলে অবস্থিত দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক শালবন জাতীয় উদ্যান ‘রামসাগর ও সিংড়া জাতীয় উদ্যান’ |
| উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী ও চকরিয়া সুন্দরবন | উপকূলীয় বনায়ন: নোয়াখালী, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা ও কক্সবাজার উপকূল (ঝাউ, কেওড়া ও বাইন বৃক্ষ) | কক্সবাজারের মাতামুহুরী নদীর মোহনায় অবস্থিত প্রাচীন ম্যানগ্রোভ বন ‘চকরিয়া সুন্দরবন’ (চিংড়ি ঘের ও লবণ চাষের কারণে বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়) | পটুয়াখালী ও বরগুনা অঞ্চলে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বন ‘টেংরাগিরি (ফাতরার বন)’ |
| ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও মধুপুর জাতীয় উদ্যান | ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান (গাজীপুর; প্রতিষ্ঠা ১৯৮২, আয়তন ৫,০২২ হেক্টর) এবং মধুপুর জাতীয় উদ্যান (টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ; প্রতিষ্ঠা ১৯৮২, আয়তন ৮,৪৩৬ হেক্টর) | শাল বা গজারী বৃক্ষসমৃদ্ধ পত্রঝরা বনের সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান (National Parks) | মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের বিনোদন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের অন্যতম কেন্দ্র |
| লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান | লাউয়াছড়া: কমলগঞ্জ উপজেলা, মৌলভীবাজার (প্রতিষ্ঠা ১৯৯৬, আয়তন ১,২৫০ হেক্টর) এবং সাতছড়ি: চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ (প্রতিষ্ঠা ২০০৫) | লাউয়াছড়া একটি চিরহরিৎ রেইনফরেস্ট, যা বিপন্নপ্রায় ‘উল্লুক’ (Hoolock Gibbon) সংরক্ষণের জন্য বিশ্বখ্যাত | হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক রেইনফরেস্ট ‘রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য’ |
| ডুলাহাজারা ও গাজীপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক | দেশে মোট সাফারি পার্ক ২টি: ১. কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক (১৯৯৯ — দেশের প্রথম সাফারি পার্ক) এবং ২. গাজীপুরের শ্রীপুরে সাফারি পার্ক (২০১৩) | উন্মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্যপ্রাণী বিচরণ করে এবং দর্শনার্থীরা সুরক্ষিত গাড়িতে চড়ে তা পরিদর্শন করেন | চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ২০০০ সালে স্থাপিত হয় দেশের প্রথম ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন |
| বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) ও ন্যাশনাল হারবেরিয়াম | বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI — প্রতিষ্ঠা ১৯৫৫) অবস্থিত চট্টগ্রামের ষোলশহরে | বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম (উদ্ভিদ নমুনা সংরক্ষণাগার) অবস্থিত মিরপুর-১, ঢাকায় (জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান বা বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন) | দেশের একমাত্র ‘জাতীয় বৃক্ষমেলা’ প্রতি বছর জুন মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়; পরিবেশ আদালত আইন পাস হয় ২০০০ সালে (সংশোধিত ২০১০) |
| পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও পলিথিন নিষিদ্ধকরণ | বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন পাস হয় ১৯৯৫ সালে এবং পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE) গঠিত হয় ১৯৮৯ সালে | বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১ মার্চ ২০০২ সালে আইন করে পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে | জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (BCCTF) গঠিত হয় ২০০৯ সালে (নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্বের প্রথম জলবায়ু তহবিল) এবং প্রতি বছর ৫ জুন ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ পালিত হয় |
📋 ৩৫. বনভূমি, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #
| বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি | প্রধান তথ্য ও বিবরণ | অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য | সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পতনশীল পত্রযুক্ত পাহাড়ি বনভূমি (চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল) | মোট বনভূমির প্রায় ৫১% (সর্ববৃহৎ বন অঞ্চল) | প্রধান বৃক্ষ: সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, জারুল, তেলসুর, কড়ই ও বাঁশ-বেত | ৩৫. বনভূমি, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| স্রোতজ বা ম্যানগ্রোভ বনভূমি (সুন্দরবন ও চকরিয়া উপকূলীয় বন) | মোট বনভূমির প্রায় ৪১% | বাংলাদেশের বনাঞ্চলের শ্রেণিবিভাগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৫. বনভূমি, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত শালবন বা সমতল ভূমির বন (মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং দিনাজপুর) | টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর জেলায় অবস্থিত | প্রধান বৃক্ষ: শাল বা গজারি (৯০% বৃক্ষই শাল/গজারি) | ৩৫. বনভূমি, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| মোট আয়তন | ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার | এর মধ্যে বাংলাদেশে রয়েছে ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার (৬০.১৭% বা প্রায় ৬২%) এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে অবশিষ্ট প্রায় ৩৮%–৪০% | ৩৫. বনভূমি, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| অন্তর্ভুক্ত জেলা (৫টি) | সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট (মূল ৩টি জেলা) এবং পিরোজপুর ও বরগুনার অংশবিশেষ | বিশ্ব ঐতিহ্য ‘সুন্দরবন’ (পৃথিবীর বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৫. বনভূমি, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| রামসার সাইট (Ramsar Site — আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি) | ২১ মে, ১৯৯২ (দেশের প্রথম রামসার সাইট) | বিশ্ব ঐতিহ্য ‘সুন্দরবন’ (পৃথিবীর বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৫. বনভূমি, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য (UNESCO World Heritage Site) | ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ (ইউনেস্কোর ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য) | বিশ্ব ঐতিহ্য ‘সুন্দরবন’ (পৃথিবীর বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৫. বনভূমি, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| সুন্দরবন দিবস | ১৪ ফেব্রুয়ারি | বিশ্ব ঐতিহ্য ‘সুন্দরবন’ (পৃথিবীর বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৫. বনভূমি, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| প্রধান বৃক্ষ ও প্রাণী | সুন্দরী (সর্বাধিক প্রায় ৬৪%/৭৩% | এই বৃক্ষের নামানুসারে বনের নাম সুন্দরবন), গেওয়া (খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের কাঁচামাল ছিল), গরান, কেওড়া, পশুর, ধুন্দল, বাইন ও গোলপাতা | ৩৫. বনভূমি, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| রাতারগুল জলাবন (Swamp Forest) | গোয়াইনঘাট, সিলেট — বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট (‘বাংলার আমাজন’) | বিশ্ব ঐতিহ্য ‘সুন্দরবন’ (পৃথিবীর বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৫. বনভূমি, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান | কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার (বিলুপ্তপ্রায় উল্লুক বা গিবনের জন্য বিখ্যাত চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেস্ট) | বিশ্ব ঐতিহ্য ‘সুন্দরবন’ (পৃথিবীর বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৫. বনভূমি, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| দেশের বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য | বর্তমানে মোট ২৫টি (সর্বশেষ ২৫তম বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য: বাইশারী ব্যাংকডেপা, রামু, কক্সবাজার) | বিশ্ব ঐতিহ্য ‘সুন্দরবন’ (পৃথিবীর বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৫. বনভূমি, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা | গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ভাওয়াল ও মধুপুরের গড় শাল বা গজারি বৃক্ষের জন্য বিখ্যাত | দেশে বর্তমান ১৭২টি চা বাগানের মধ্যে সর্বাধিক ৯১টি চা বাগান মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত | ৩৫. বনভূমি, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
📊 টপিক চিত্র ও কাঠামো বিন্যাস (Visual Graph & Architecture Diagram) #
🌳 সুন্দরবন ও বনায়ন সংক্রান্ত জরুরি তথ্য #
- সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য: ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১২০ প্রজাতির মাছ, ২৭০ প্রজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী। প্রধান প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং চিত্রা হরিণ। সুন্দরী বৃক্ষের আধিক্য থেকেই এর নাম সুন্দরবন।
- সামাজিক বনায়ন: ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।