টপিক 38 / ৫৮অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প📖 স্টাডি নোট
টপিক ৩৮: জাতীয় মেগাপ্রকল্প, বন্দর, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ-পারমাণবিক অবকাঠামো
অধ্যায় ৩৮: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মেগা প্রকল্পসমূহ #
৯.৩ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র #
- শতভাগ বিদ্যুতায়ন: ২১ মার্চ ২০২২ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে শতভাগ বিদ্যুতায়িত দেশ ঘোষণা করা হয়।
- প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ:
- কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র (রাঙামাটি): দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ১৯৬২ সালে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে নির্মিত হয় (প্রাথমিক ক্ষমতা ছিল ৮০ মেগাওয়াট; বর্তমানে ৫টি ইউনিটে মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট)। (প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প ২০২৬–২০৩৩ থেকে আরও ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে)।
- ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া), ঘোড়াশাল (নরসিংদী), আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সিদ্ধিরগঞ্জ ও হরিপুর (নারায়ণগঞ্জ), ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট), বাঘাবাড়ী (সিরাজগঞ্জ): প্রাকৃতিক গ্যাস ও ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক প্রধান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ভেড়ামারা হয়ে ভারত থেকে ১,০০০ মেগাওয়াট ও ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট এবং নেপাল ও আদানি (ঝাড়খণ্ড) থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়।
- পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (কলাপাড়া, পটুয়াখালী): বাংলাদেশের ও চীনের (BCPCL) যৌথ উদ্যোগে নির্মিত দেশের প্রথম আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (ক্ষমতা: ১,৩২০ মেগাওয়াট — ৬৬০×২)।
- রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (‘মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট’ — বাগেরহাট): বাংলাদেশ ও ভারতের (BIFPCL) যৌথ উদ্যোগে পশুর নদীর তীরে নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (ক্ষমতা: ১,৩২০ মেগাওয়াট)।
- মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (মহেশখালী, কক্সবাজার): জাপানের জাইকা (JICA)-র অর্থায়নে নির্মিত (ক্ষমতা: ১,২০০ মেগাওয়াট — ৬০০×২)।
- বায়ুবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র: প্রথম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র ফেনীর সোনাগাজীর মুহুরী প্রকল্প এলাকায় (২০০৫) এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও সদর উপজেলায় (খুরুশকুল — ৬০ মেগাওয়াট বৃহত্তম বায়ুবিদ্যুৎ)। বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ (তিস্তা সোলার — ২০০ মেগাওয়াট) এবং ময়মনসিংহের সুতিয়াখালী (৫০ মেগাওয়াট) ও কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
মেগা প্রকল্প: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Rooppur Nuclear Power Plant) #
১২.৩ সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও বিমানবন্দর #
| বন্দরের ধরন | মোট সংখ্যা | প্রধান বন্দরসমূহ ও পরীক্ষায় আসা তথ্য |
|---|---|---|
| ১. সমুদ্রবন্দর (Seaports) | ৩টি (+ ১টি গভীর সমুদ্রবন্দর) | ১. চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর: ১৮৮৭ সালে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় প্রতিষ্ঠিত। দেশের প্রধান ও বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর (দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯২% সম্পন্ন হয়)। ২. মোংলা সমুদ্রবন্দর: ১ ডিসেম্বর ১৯৫০ বাগেরহাট জেলার পশুর ও মোংলা নদীর সঙ্গমস্থলে প্রতিষ্ঠিত (প্রথমে চালনা এ্যাংকরেজ নামে)। দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর। ৩. পায়রা সমুদ্রবন্দর: ১৯ নভেম্বর ২০১৩ পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নে রাবনাবাদ চ্যানেলে উদ্বোধন করা হয় (২০১৬ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু)। দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর। ৪. মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর (মহেশখালী, কক্সবাজার): জাপানের জাইকা (JICA)-র সহায়তায় বঙ্গোপসাগরের তীরে নির্মিতব্য দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর (ড্রাফট বা গভীরতা ১৬–১৮.৫ মিটার, যেখানে ৮,০০০–১০,০০০ কন্টেইনারবাহী মাদার ভেসেল ভিড়তে পারে)। |
| ২. স্থলবন্দর (Land Ports) | ঘোষিত ২৪টি (চালুকৃত ১৭টি) | ২০০১ সালে ‘বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ’ (BLPA) গঠিত হয়। • দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর: বেনাপোল স্থলবন্দর (শার্শা, যশোর) — বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল। • একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর (বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান): বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর (তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়) — বিপরীতে ভারতের ফুলবাড়ী। • মিয়ানমারের সাথে একমাত্র স্থলবন্দর: টেকনাফ স্থলবন্দর (কক্সবাজার) — বিপরীতে মিয়ানমারের মংডু। • অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর: সোনামসজিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ — বিপরীতে মোহাদিপুর), হিলি (দিনাজপুর), বুড়িমারী (লালমনিরহাট — বিপরীতে চ্যাংড়াবান্ধা), তামাবিল (সিলেট — বিপরীতে ডাউকি), আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া — বিপরীতে আগরতলা), বিবিরবাজার (কুমিল্লা), ভোমরা (সাতক্ষীরা — বিপরীতে ঘোজাডাঙ্গা), নাকুগাঁও (শেরপুর), গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী (ময়মনসিংহ), বাল্লা (হবিগঞ্জ), ধানুয়া কামালপুর (জামালপুর), ভোলাগঞ্জ (সিলেট — ২৪তম স্থলবন্দর) ও মুজিবনগর (মেহেরপুর)। |
| ৩. নদীবন্দর (River Ports) | ৫৭টি | BIWTA (প্রতিষ্ঠা ১৯৫৮) কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। প্রধান নদীবন্দর: নারায়ণগঞ্জ (এছাড়া সদরঘাট ঢাকা, চাঁদপুর, বরিশাল, খুলনা, বাঘাবাড়ী, আশুগঞ্জ, আরিচা, নগরবাড়ী, পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া)। দেশের সর্বশেষ (৫৭তম) নদীবন্দর: বগুড়া জেলার ধুনট নদীবন্দর। |
| ৪. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | ৩টি (+ ২টি প্রক্রিয়াধীন) | ১. হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কুর্মিটোলা, ঢাকা (১৯৮০ সালে চালু; পূর্বনাম জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর; থার্ড টার্মিনাল স্থপতি রোহানি বাহারিন)। ২. শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম। ৩. ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট। *(এছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দর সমুদ্রের বুকে রানওয়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৪র্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত হয়েছে এবং বাগেরহাটের রামপালে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণাধীন; অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর: সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল)*। |
১২.৪ বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পসমূহ (পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল ও রেল সংযোগ) #
১২.৬ শিল্প, বন্দর, ইপিজেড ও মেগা প্রকল্প মনে রাখার মাস্টার শর্টকাট ট্রিকস #
- দেশের ৮টি সরকারি ইপিজেড (EPZ) মনে রাখার কৌশল:
"চ-ঢা-মো-ঈ-কু-উ-আ-ক"
১. চট্টগ্রাম (১৯৮৩ — ১ম ও বৃহত্তম), ২. ঢাকা (সাভার — ১৯৯৩), ৩. মোংলা (বাগেরহাট), ৪. ঈশ্বরদী (পাবনা), ৫. কুমিল্লা, ৬. উত্তরা (নীলফামারী — কৃষিভিত্তিক), ৭. আদমজী (নারায়ণগঞ্জ) ও ৮. কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)।- গার্মেন্টস শিল্পের ২টি ক্রেতা জোট (৪০তম বিসিএস প্রশ্ন):
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে বিদেশি ক্রেতারা দুটি জোট গঠন করেছিল:
১. অ্যালায়েন্স (Alliance for Bangladesh Worker Safety): যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার (উত্তর আমেরিকার) গার্মেন্টস ব্র্যান্ডগুলোর সংগঠন (৪০তম বিসিএস প্রশ্ন)।
২. অ্যাকর্ড (Accord on Fire and Building Safety in Bangladesh): ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) ক্রেতা ব্র্যান্ডগুলোর সংগঠন (পরবর্তীতে তৈরি হয় আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল - RSC)।- স্থলবন্দর ও বিপরীতে ভারতীয় স্থলবন্দর মনে রাখার কৌশল:
- বেনাপোল (যশোর) ⟷ পেট্রাপোল (উত্তর চব্বিশ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ — ৩৭তম বিসিএস)
- বাংলাবান্ধা (পঞ্চগড়) ⟷ ফুলবাড়ী (জলপাইগুড়ি — চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর)
- বুড়িমারী (লালমনিরহাট) ⟷ চ্যাংড়াবান্ধা (কোচবিহার)
- হিলি (দিনাজপুর) ⟷ হিলি (দক্ষিণ দিনাজপুর)
- সোনামসজিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ⟷ মোহাদিপুর (মালদহ)
- তামাবিল (সিলেট) ⟷ ডাউকি (মেঘালয়)
- আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ⟷ আগরতলা (ত্রিপুরা)
- ভোমরা (সাতক্ষীরা) ⟷ ঘোজাডাঙ্গা (পশ্চিমবঙ্গ)
- টেকনাফ (কক্সবাজার) ⟷ মংডু (মিয়ানমার)।
৩৮.২ মেগা প্রকল্পসমূহ — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #
| শিল্প / বন্দর / মেগাপ্রকল্প | অবস্থান / জেলা / সীমান্ত | প্রতিষ্ঠা বা উদ্বোধনের বছর | মূল বৈশিষ্ট্য, দৈর্ঘ্য ও পরীক্ষার বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|---|
| কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র | কাপ্তাই, রাঙামাটি (কর্ণফুলী নদীর ওপর) | উৎপাদন শুরু: ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ | বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র (বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট—৫টি ইউনিট) |
| রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র | ঈশ্বরদী, পাবনা (পদ্মা নদীর তীরে, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে) | চুক্তি: ২০১১ ও ২০১৫; ইউরেনিয়াম হস্তান্তর (গ্র্যাজুয়েশন): ৫ অক্টোবর ২০২৩ (বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক ক্লাবের সদস্য) | রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা ‘রোসাটম’ (ROSATOM)-এর সহায়তায় নির্মিত দেশের ১ম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র; উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট (১,২০০ মেগাওয়াটের ২টি VVER-1200 ইউনিট) |
| পায়রা, রামপাল ও মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র | কলাপাড়া (পটুয়াখালী), রামপাল (বাগেরহাট) ও মহেশখালী (কক্সবাজার) | পায়রা (বাংলাদেশ-চীন BCPCL): ১,৩২০ মেগাওয়াট (২০২০); রামপাল (মৈত্রী সুপার থার্মাল, বাংলাদেশ-ভারত BIFPCL): ১,৩২০ মেগাওয়াট; মাতারবাড়ী (জাইকা, জাপান): ১,২০০ মেগাওয়াট | ২০২২ সালের মার্চে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে শতভাগ (১০০%) বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়; বাগেরহাটের মোংলা ও ময়মনসিংহের সুতিয়াখালীতে সৌরবিদ্যুৎ এবং কক্সবাজারের খুরুশকুলে দেশের বৃহত্তম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র (৬০ মেগাওয়াট) অবস্থিত |
| বাংলাদেশের ৩টি সমুদ্রবন্দর ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর | চট্টগ্রাম, বাগেরহাট (মোংলা), পটুয়াখালী (পায়রা) ও কক্সবাজার (মাতারবাড়ী) | ১. চট্টগ্রাম বন্দর (কর্ণফুলী নদীর তীরে, ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত, দেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর—প্রায় ৯২% আমদানি-রপ্তানি সম্পন্ন হয়); ২. মোংলা বন্দর (পশুর নদীর তীরে, বাগেরহাট, ১৯৫০) | ৩. পায়রা সমুদ্রবন্দর (রাবনাবাদ চ্যানেল, কলাপাড়া, পটুয়াখালী, উদ্বোধন ২০১৩/২০১৬—৩য় সমুদ্রবন্দর); জাপানের জাইকার (JICA) সহায়তায় কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে দেশের ১ম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে |
| বাংলাদেশের প্রধান স্থলবন্দরসমূহ (মোট ২৪টি) | বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (প্রতিষ্ঠা ২০০১) | বৃহত্তম স্থলবন্দর: বেনাপোল (শার্শা, যশোর) ⟷ পেট্রাপোল (পশ্চিমবঙ্গ); বাংলাবান্ধা (পঞ্চগড়, চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর) ⟷ ফুলবাড়ী (ভারত); হিলি (দিনাজপুর); সোনামসজিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ); বুড়িমারী (লালমনিরহাট) ⟷ চ্যাংড়াবান্ধা | আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ⟷ আগরতলা (ত্রিপুরা); তামাবিল (সিলেট) ⟷ ডাউকি (মেঘালয়); ভোমরা (সাতক্ষীরা) ⟷ ঘোজাডাঙ্গা; নাকুগাঁও (শেরপুর); বিলোনিয়া (ফেনী); টেকনাফ (কক্সবাজার, মিয়ানমারের সাথে একমাত্র স্থলবন্দর) ⟷ মংডু; সর্বশেষ ২৪তম স্থলবন্দর: ভোলাগঞ্জ (কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট) |
| যমুনা বহুমুখী সেতু ও যমুনা রেলসেতু | ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) থেকে সয়দাবাদ (সিরাজগঞ্জ) | যমুনা বহুমুখী সেতু উদ্বোধন: ২৩ জুন ১৯৯৮; দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিমি, স্প্যান ৪৯টি ও পিলার ৫০টি (নির্মাণকারী: হুন্দাই, দক্ষিণ কোরিয়া) | যমুনা নদীর ওপর সমান্তরালভাবে জাপানের জাইকার (JICA) অর্থায়নে ৪.৮ কিমি দীর্ঘ দেশের বৃহত্তম একক রেলসেতু ‘যমুনা রেলসেতু’ (ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাক, পিলার ৫০টি) নির্মিত হয়েছে (চালু ২০২৫) |
| ঢাকা মেট্রোরেল (MRT Line-6) | উত্তরা দিয়াবাড়ি থেকে কমলাপুর (মতিঝিল পর্যন্ত চালু) | ১ম ধাপ (উত্তরা–আগারগাঁও) উদ্বোধন: ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ এবং ২য় ধাপ (আগারগাঁও–মতিঝিল): ৪ নভেম্বর ২০২৩; পরিচালনাকারী সংস্থা: DMTCL; অর্থায়ন: JICA (জাপান) | দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক মেট্রোরেল; মোট দৈর্ঘ্য ২১.২৬ কিমি (উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মোট স্টেশন ১৭টি); মেট্রোরেলের প্রথম নারী চালক: মরিয়ম আফিজা |
| কর্ণফুলী টানেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে | চট্টগ্রাম (পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা) এবং ঢাকা (কাওলা থেকে কুতুবখালী) | কর্ণফুলী টানেল উদ্বোধন: ২৮ অক্টোবর ২০২৩ (দক্ষিণ এশিয়ার ১ম নদীর তলদেশের সড়ক টানেল; মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৩২ কিমি, চীন সরকারের সহায়তায় নির্মিত) | ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (১ম পিপিপি মেগাপ্রকল্প): ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ কাওলা থেকে ফার্মগেট/কারওয়ান বাজার অংশ উদ্বোধন (মোট দৈর্ঘ্য ১৯.৭৩ কিমি) |
📚 অতিরিক্ত মাস্টার তথ্যভাণ্ডার ও জব ফোকাসড রেফারেন্স সারণি #
| বিষয় / ব্যক্তিত্ব / প্রতিষ্ঠান ও সময়কাল | প্রধান পরিচয় / অবস্থান / আইন | মূল কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো | বিসিএস ও সরকারি চাকরি পরীক্ষার বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|---|
| পদ্মা বহুমুখী সেতু (Padma Multipurpose Bridge) | অবস্থান: মাওয়া (লৌহজং, মুন্সীগঞ্জ) থেকে জাজিরা (শরীয়তপুর) ও শিবচর (মাদারীপুর) | উদ্বোধন: ২৫ জুন ২০২২; মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার (দ্বিতল সেতু: উপরে ৪ লেন সড়ক ও নিচে রেলপথ) | স্প্যান সংখ্যা ৪১টি (প্রতিটি ১৫০ মিটার) এবং পিলার সংখ্যা ৪২টি; নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত) |
| ঢাকা মেট্রোরেল বা এমআরটি লাইন-৬ (MRT Line-6) | রুট: উত্তরা উত্তর (দিয়াবাড়ি) থেকে মতিঝিল (কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিতকরণ চলমান) | উদ্বোধন: ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ (উত্তরা–আগারগাঁও অংশ) এবং ৪ নভেম্বর ২০২৩ (আগারগাঁও–মতিঝিল অংশ); দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক মেট্রোরেল | দৈর্ঘ্য ২০.১০ কিলোমিটার (কমলাপুরসহ ২১.২৬ কি.মি.) এবং স্টেশন সংখ্যা ১৭টি; বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (DMTCL) ও জাইকা (JICA) |
| কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল | অবস্থান: চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা (কর্ণফুলী নদীর মোহনায়) | উদ্বোধন: ২৮ অক্টোবর ২০২৩; দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নদীর তলদেশের সড়ক টানেল (‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ মডেলে নির্মিত) | মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৩২ কিলোমিটার (সংযোগ সড়কসহ ৯.৩৯ কি.মি.); দুটি টিউব বিশিষ্ট ৪ লেনের টানেলটি নির্মাণ করে চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (CCCC) |
| রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Rooppur Nuclear Power Plant) | অবস্থান: ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর, পাবনা (পদ্মা নদীর তীরে) | উৎপাদন ক্ষমতা: ২,৪০০ মেগাওয়াট (১,২০০ মেগাওয়াটের ২টি VVER-1200 থ্রি-প্লাস প্রজন্মের রিয়্যাক্টর ইউনিট) | রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন ‘রোসাটম’ (ROSATOM)-এর কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত; বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক ক্লাব সদস্য |
| যমুনা রেলসেতু ( দেশের দীর্ঘতম ডেডিকেটেড রেলসেতু) | অবস্থান: সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল (যমুনা নদীর ওপর বিদ্যমান সেতুর ৩০০ মিটার উজানে) | দৈর্ঘ্য: ৪.৮০ কিলোমিটার; পিলার সংখ্যা ৫০টি এবং স্প্যান ৪৯টি (ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাক রেলসেতু) | জাপানের জাইকা (JICA)-এর অর্থায়নে নির্মিত; ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয় |
| চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর | দেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দরসমূহ (নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়) | ১. চট্টগ্রাম বন্দর (১৮৮৭; কর্ণফুলী নদী — দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর), ২. মোংলা বন্দর (১৯৫০; পশুর ও মোংলা নদী, বাগেরহাট) এবং ৩. পায়রা বন্দর (২০১৩/২০১৬; রাবনাবাদ চ্যানেল, কলাপাড়া, পটুয়াখালী) | ৪. মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর (মহেশখালী, কক্সবাজার — জাইকার সহায়তায় নির্মীয়মাণ দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর; ড্রাফট ১৬–১৮.৫ মিটার) |
📋 ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #
| বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি | প্রধান তথ্য ও বিবরণ | অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য | সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| শতভাগ বিদ্যুতায়ন | ২১ মার্চ ২০২২ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে শতভাগ বিদ্যুতায়িত দেশ ঘোষণা করা হয় | ৩ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র (রাঙামাটি) | দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র | ১৯৬২ সালে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে নির্মিত হয় (প্রাথমিক ক্ষমতা ছিল ৮০ মেগাওয়াট | ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া), ঘোড়াশাল (নরসিংদী), আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সিদ্ধিরগঞ্জ ও হরিপুর (নারায়ণগঞ্জ), ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট), বাঘাবাড়ী (সিরাজগঞ্জ) | প্রাকৃতিক গ্যাস ও ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক প্রধান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র | ভেড়ামারা হয়ে ভারত থেকে ১,০০০ মেগাওয়াট ও ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট এবং নেপাল ও আদানি (ঝাড়খণ্ড) থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয় | ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (কলাপাড়া, পটুয়াখালী) | বাংলাদেশের ও চীনের (BCPCL) যৌথ উদ্যোগে নির্মিত দেশের প্রথম আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (ক্ষমতা: ১,৩২০ মেগাওয়াট — ৬৬০×২) | ৩ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (‘মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট’ — বাগেরহাট) | বাংলাদেশ ও ভারতের (BIFPCL) যৌথ উদ্যোগে পশুর নদীর তীরে নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (ক্ষমতা: ১,৩২০ মেগাওয়াট) | ৩ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (মহেশখালী, কক্সবাজার) | জাপানের জাইকা (JICA)-র অর্থায়নে নির্মিত (ক্ষমতা: ১,২০০ মেগাওয়াট — ৬০০×২) | ৩ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| বায়ুবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র | প্রথম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র ফেনীর সোনাগাজীর মুহুরী প্রকল্প এলাকায় (২০০৫) এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও সদর উপজেলায় (খুরুশকুল — ৬০ মেগাওয়াট বৃহত্তম বায়ুবিদ্যুৎ) | বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ (তিস্তা সোলার — ২০০ মেগাওয়াট) এবং ময়মনসিংহের সুতিয়াখালী (৫০ মেগাওয়াট) ও কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র | ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |