টপিক 38 / ৫৮অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প📖 স্টাডি নোট

টপিক ৩৮: জাতীয় মেগাপ্রকল্প, বন্দর, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ-পারমাণবিক অবকাঠামো

অধ্যায় ৩৮: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মেগা প্রকল্পসমূহ #

৯.৩ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র #

  • শতভাগ বিদ্যুতায়ন: ২১ মার্চ ২০২২ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে শতভাগ বিদ্যুতায়িত দেশ ঘোষণা করা হয়।
  • প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ:
    1. কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র (রাঙামাটি): দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ১৯৬২ সালে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে নির্মিত হয় (প্রাথমিক ক্ষমতা ছিল ৮০ মেগাওয়াট; বর্তমানে ৫টি ইউনিটে মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট)। (প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প ২০২৬–২০৩৩ থেকে আরও ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে)।
    2. ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া), ঘোড়াশাল (নরসিংদী), আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সিদ্ধিরগঞ্জ ও হরিপুর (নারায়ণগঞ্জ), ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট), বাঘাবাড়ী (সিরাজগঞ্জ): প্রাকৃতিক গ্যাস ও ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক প্রধান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ভেড়ামারা হয়ে ভারত থেকে ১,০০০ মেগাওয়াট ও ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট এবং নেপাল ও আদানি (ঝাড়খণ্ড) থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়।
    3. পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (কলাপাড়া, পটুয়াখালী): বাংলাদেশের ও চীনের (BCPCL) যৌথ উদ্যোগে নির্মিত দেশের প্রথম আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (ক্ষমতা: ১,৩২০ মেগাওয়াট — ৬৬০×২)।
    4. রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (‘মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট’ — বাগেরহাট): বাংলাদেশ ও ভারতের (BIFPCL) যৌথ উদ্যোগে পশুর নদীর তীরে নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (ক্ষমতা: ১,৩২০ মেগাওয়াট)।
    5. মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (মহেশখালী, কক্সবাজার): জাপানের জাইকা (JICA)-র অর্থায়নে নির্মিত (ক্ষমতা: ১,২০০ মেগাওয়াট — ৬০০×২)।
    6. বায়ুবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র: প্রথম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র ফেনীর সোনাগাজীর মুহুরী প্রকল্প এলাকায় (২০০৫) এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও সদর উপজেলায় (খুরুশকুল — ৬০ মেগাওয়াট বৃহত্তম বায়ুবিদ্যুৎ)। বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ (তিস্তা সোলার — ২০০ মেগাওয়াট) এবং ময়মনসিংহের সুতিয়াখালী (৫০ মেগাওয়াট) ও কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

মেগা প্রকল্প: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Rooppur Nuclear Power Plant) #

বাংলাদেশের শীর্ষ জাতীয় মেগা প্রকল্প প্রোফাইল পদ্মা সেতু • রূপপুর পারমাণবিক • মেট্রো রেল • কর্ণফুলী টানেল ১. পদ্মা বহুমুখী সেতু (স্ব-অর্থায়ন) • দৈর্ঘ্য ও স্প্যান: ৬.১৫ কিমি (ভায়াডাক্টসহ ৯.৩ কিমি); ৪১টি স্প্যান • পিলার ও সংযোগ: ৪২টি পিলার; মাওয়া (মুন্সীগঞ্জ) ➔ জাজিরা (শরীয়তপুর) • উদ্বোধন: ২৫ জুন ২০২২; সাধারণের জন্য উন্মুক্ত ২৬ জুন রেল সংযোগ চালু: ১০ অক্টোবর ২০২৩ (ভাঙ্গা–ঢাকা) ২. ঢাকা মেট্রো রেল (MRT Line-6) • রুট ও দৈর্ঘ্য: উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল (কমলাপুর পর্যন্ত ২১.২৬ কিমি) • অর্থায়ন ও নির্মাতা: জাপানের জাইকা (JICA) ও বাংলাদেশ সরকার • ১ম উদ্বোধন: ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ (উত্তরা থেকে আগারগাঁও) মতিঝিল পর্যন্ত উদ্বোধন: ৪ নভেম্বর ২০২৩ ৩. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (RNPP) • অবস্থান: ঈশ্বরদী, পাবনা (পদ্মা নদীর তীরে) • মোট ক্ষমতা: ২,৪০০ মেগাওয়াট (১,২০০ মেগাওয়াট × ২টি ইউনিট) • প্রযুক্তি ও চুল্লি: রাশিয়ার রোসাটম (VVER-1200 চুল্লি) ৫ অক্টোবর ২০২৩ বাংলাদেশ ৩৩তম পারমাণবিক ক্লাবের সদস্য ৪. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কর্ণফুলী টানেল • বৈশিষ্ট্য: দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত টানেল • দৈর্ঘ্য ও টিউব: ৩.৩২ কিমি (৪ লেন বিশিষ্ট ২টি টিউব) • সংযোগ: চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ➔ আনোয়ারার সংযোগ উদ্বোধন: ২৮ অক্টোবর ২০২৩ (‘এক নগর দুই শহর’ রূপকল্প)

১২.৩ সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও বিমানবন্দর #

বন্দরের ধরন মোট সংখ্যা প্রধান বন্দরসমূহ ও পরীক্ষায় আসা তথ্য
১. সমুদ্রবন্দর (Seaports) ৩টি (+ ১টি গভীর সমুদ্রবন্দর) ১. চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর: ১৮৮৭ সালে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় প্রতিষ্ঠিত। দেশের প্রধান ও বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর (দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯২% সম্পন্ন হয়)।
২. মোংলা সমুদ্রবন্দর: ১ ডিসেম্বর ১৯৫০ বাগেরহাট জেলার পশুর ও মোংলা নদীর সঙ্গমস্থলে প্রতিষ্ঠিত (প্রথমে চালনা এ্যাংকরেজ নামে)। দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর।
৩. পায়রা সমুদ্রবন্দর: ১৯ নভেম্বর ২০১৩ পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নে রাবনাবাদ চ্যানেলে উদ্বোধন করা হয় (২০১৬ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু)। দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর।
৪. মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর (মহেশখালী, কক্সবাজার): জাপানের জাইকা (JICA)-র সহায়তায় বঙ্গোপসাগরের তীরে নির্মিতব্য দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর (ড্রাফট বা গভীরতা ১৬–১৮.৫ মিটার, যেখানে ৮,০০০–১০,০০০ কন্টেইনারবাহী মাদার ভেসেল ভিড়তে পারে)।
২. স্থলবন্দর (Land Ports) ঘোষিত ২৪টি (চালুকৃত ১৭টি) ২০০১ সালে ‘বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ’ (BLPA) গঠিত হয়।
• দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর: বেনাপোল স্থলবন্দর (শার্শা, যশোর) — বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল।
• একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর (বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান): বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর (তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়) — বিপরীতে ভারতের ফুলবাড়ী।
• মিয়ানমারের সাথে একমাত্র স্থলবন্দর: টেকনাফ স্থলবন্দর (কক্সবাজার) — বিপরীতে মিয়ানমারের মংডু।
• অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর: সোনামসজিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ — বিপরীতে মোহাদিপুর), হিলি (দিনাজপুর), বুড়িমারী (লালমনিরহাট — বিপরীতে চ্যাংড়াবান্ধা), তামাবিল (সিলেট — বিপরীতে ডাউকি), আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া — বিপরীতে আগরতলা), বিবিরবাজার (কুমিল্লা), ভোমরা (সাতক্ষীরা — বিপরীতে ঘোজাডাঙ্গা), নাকুগাঁও (শেরপুর), গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী (ময়মনসিংহ), বাল্লা (হবিগঞ্জ), ধানুয়া কামালপুর (জামালপুর), ভোলাগঞ্জ (সিলেট — ২৪তম স্থলবন্দর) ও মুজিবনগর (মেহেরপুর)।
৩. নদীবন্দর (River Ports) ৫৭টি BIWTA (প্রতিষ্ঠা ১৯৫৮) কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। প্রধান নদীবন্দর: নারায়ণগঞ্জ (এছাড়া সদরঘাট ঢাকা, চাঁদপুর, বরিশাল, খুলনা, বাঘাবাড়ী, আশুগঞ্জ, আরিচা, নগরবাড়ী, পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া)। দেশের সর্বশেষ (৫৭তম) নদীবন্দর: বগুড়া জেলার ধুনট নদীবন্দর।
৪. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৩টি (+ ২টি প্রক্রিয়াধীন) ১. হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কুর্মিটোলা, ঢাকা (১৯৮০ সালে চালু; পূর্বনাম জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর; থার্ড টার্মিনাল স্থপতি রোহানি বাহারিন)।
২. শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।
৩. ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট।
*(এছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দর সমুদ্রের বুকে রানওয়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৪র্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত হয়েছে এবং বাগেরহাটের রামপালে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণাধীন; অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর: সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল)*।

১২.৪ বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পসমূহ (পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল ও রেল সংযোগ) #


১২.৬ শিল্প, বন্দর, ইপিজেড ও মেগা প্রকল্প মনে রাখার মাস্টার শর্টকাট ট্রিকস #

  • দেশের ৮টি সরকারি ইপিজেড (EPZ) মনে রাখার কৌশল:
    "চ-ঢা-মো-ঈ-কু-উ-আ-ক"
    ১. চট্টগ্রাম (১৯৮৩ — ১ম ও বৃহত্তম), ২. ঢাকা (সাভার — ১৯৯৩), ৩. মোংলা (বাগেরহাট), ৪. ঈশ্বরদী (পাবনা), ৫. কুমিল্লা, ৬. উত্তরা (নীলফামারী — কৃষিভিত্তিক), ৭. আদমজী (নারায়ণগঞ্জ) ও ৮. কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)।
  • গার্মেন্টস শিল্পের ২টি ক্রেতা জোট (৪০তম বিসিএস প্রশ্ন):
    ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে বিদেশি ক্রেতারা দুটি জোট গঠন করেছিল:
    ১. অ্যালায়েন্স (Alliance for Bangladesh Worker Safety): যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার (উত্তর আমেরিকার) গার্মেন্টস ব্র্যান্ডগুলোর সংগঠন (৪০তম বিসিএস প্রশ্ন)।
    ২. অ্যাকর্ড (Accord on Fire and Building Safety in Bangladesh): ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) ক্রেতা ব্র্যান্ডগুলোর সংগঠন (পরবর্তীতে তৈরি হয় আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল - RSC)।
  • স্থলবন্দর ও বিপরীতে ভারতীয় স্থলবন্দর মনে রাখার কৌশল:
    • বেনাপোল (যশোর) ⟷ পেট্রাপোল (উত্তর চব্বিশ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ — ৩৭তম বিসিএস)
    • বাংলাবান্ধা (পঞ্চগড়) ⟷ ফুলবাড়ী (জলপাইগুড়ি — চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর)
    • বুড়িমারী (লালমনিরহাট) ⟷ চ্যাংড়াবান্ধা (কোচবিহার)
    • হিলি (দিনাজপুর) ⟷ হিলি (দক্ষিণ দিনাজপুর)
    • সোনামসজিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ⟷ মোহাদিপুর (মালদহ)
    • তামাবিল (সিলেট) ⟷ ডাউকি (মেঘালয়)
    • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ⟷ আগরতলা (ত্রিপুরা)
    • ভোমরা (সাতক্ষীরা) ⟷ ঘোজাডাঙ্গা (পশ্চিমবঙ্গ)
    • টেকনাফ (কক্সবাজার) ⟷ মংডু (মিয়ানমার)।

৩৮.২ মেগা প্রকল্পসমূহ — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #

শিল্প / বন্দর / মেগাপ্রকল্প অবস্থান / জেলা / সীমান্ত প্রতিষ্ঠা বা উদ্বোধনের বছর মূল বৈশিষ্ট্য, দৈর্ঘ্য ও পরীক্ষার বিশেষ তথ্য
কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাই, রাঙামাটি (কর্ণফুলী নদীর ওপর) উৎপাদন শুরু: ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র (বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট—৫টি ইউনিট)
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঈশ্বরদী, পাবনা (পদ্মা নদীর তীরে, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে) চুক্তি: ২০১১ ও ২০১৫; ইউরেনিয়াম হস্তান্তর (গ্র্যাজুয়েশন): ৫ অক্টোবর ২০২৩ (বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক ক্লাবের সদস্য) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা ‘রোসাটম’ (ROSATOM)-এর সহায়তায় নির্মিত দেশের ১ম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র; উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট (১,২০০ মেগাওয়াটের ২টি VVER-1200 ইউনিট)
পায়রা, রামপাল ও মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কলাপাড়া (পটুয়াখালী), রামপাল (বাগেরহাট) ও মহেশখালী (কক্সবাজার) পায়রা (বাংলাদেশ-চীন BCPCL): ১,৩২০ মেগাওয়াট (২০২০); রামপাল (মৈত্রী সুপার থার্মাল, বাংলাদেশ-ভারত BIFPCL): ১,৩২০ মেগাওয়াট; মাতারবাড়ী (জাইকা, জাপান): ১,২০০ মেগাওয়াট ২০২২ সালের মার্চে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে শতভাগ (১০০%) বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়; বাগেরহাটের মোংলা ও ময়মনসিংহের সুতিয়াখালীতে সৌরবিদ্যুৎ এবং কক্সবাজারের খুরুশকুলে দেশের বৃহত্তম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র (৬০ মেগাওয়াট) অবস্থিত
বাংলাদেশের ৩টি সমুদ্রবন্দর ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম, বাগেরহাট (মোংলা), পটুয়াখালী (পায়রা) ও কক্সবাজার (মাতারবাড়ী) ১. চট্টগ্রাম বন্দর (কর্ণফুলী নদীর তীরে, ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত, দেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর—প্রায় ৯২% আমদানি-রপ্তানি সম্পন্ন হয়); ২. মোংলা বন্দর (পশুর নদীর তীরে, বাগেরহাট, ১৯৫০) ৩. পায়রা সমুদ্রবন্দর (রাবনাবাদ চ্যানেল, কলাপাড়া, পটুয়াখালী, উদ্বোধন ২০১৩/২০১৬—৩য় সমুদ্রবন্দর); জাপানের জাইকার (JICA) সহায়তায় কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে দেশের ১ম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে
বাংলাদেশের প্রধান স্থলবন্দরসমূহ (মোট ২৪টি) বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (প্রতিষ্ঠা ২০০১) বৃহত্তম স্থলবন্দর: বেনাপোল (শার্শা, যশোর) ⟷ পেট্রাপোল (পশ্চিমবঙ্গ); বাংলাবান্ধা (পঞ্চগড়, চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর) ⟷ ফুলবাড়ী (ভারত); হিলি (দিনাজপুর); সোনামসজিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ); বুড়িমারী (লালমনিরহাট) ⟷ চ্যাংড়াবান্ধা আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ⟷ আগরতলা (ত্রিপুরা); তামাবিল (সিলেট) ⟷ ডাউকি (মেঘালয়); ভোমরা (সাতক্ষীরা) ⟷ ঘোজাডাঙ্গা; নাকুগাঁও (শেরপুর); বিলোনিয়া (ফেনী); টেকনাফ (কক্সবাজার, মিয়ানমারের সাথে একমাত্র স্থলবন্দর) ⟷ মংডু; সর্বশেষ ২৪তম স্থলবন্দর: ভোলাগঞ্জ (কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট)
যমুনা বহুমুখী সেতু ও যমুনা রেলসেতু ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) থেকে সয়দাবাদ (সিরাজগঞ্জ) যমুনা বহুমুখী সেতু উদ্বোধন: ২৩ জুন ১৯৯৮; দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিমি, স্প্যান ৪৯টি ও পিলার ৫০টি (নির্মাণকারী: হুন্দাই, দক্ষিণ কোরিয়া) যমুনা নদীর ওপর সমান্তরালভাবে জাপানের জাইকার (JICA) অর্থায়নে ৪.৮ কিমি দীর্ঘ দেশের বৃহত্তম একক রেলসেতু ‘যমুনা রেলসেতু’ (ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাক, পিলার ৫০টি) নির্মিত হয়েছে (চালু ২০২৫)
ঢাকা মেট্রোরেল (MRT Line-6) উত্তরা দিয়াবাড়ি থেকে কমলাপুর (মতিঝিল পর্যন্ত চালু) ১ম ধাপ (উত্তরা–আগারগাঁও) উদ্বোধন: ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ এবং ২য় ধাপ (আগারগাঁও–মতিঝিল): ৪ নভেম্বর ২০২৩; পরিচালনাকারী সংস্থা: DMTCL; অর্থায়ন: JICA (জাপান) দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক মেট্রোরেল; মোট দৈর্ঘ্য ২১.২৬ কিমি (উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মোট স্টেশন ১৭টি); মেট্রোরেলের প্রথম নারী চালক: মরিয়ম আফিজা
কর্ণফুলী টানেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চট্টগ্রাম (পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা) এবং ঢাকা (কাওলা থেকে কুতুবখালী) কর্ণফুলী টানেল উদ্বোধন: ২৮ অক্টোবর ২০২৩ (দক্ষিণ এশিয়ার ১ম নদীর তলদেশের সড়ক টানেল; মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৩২ কিমি, চীন সরকারের সহায়তায় নির্মিত) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (১ম পিপিপি মেগাপ্রকল্প): ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ কাওলা থেকে ফার্মগেট/কারওয়ান বাজার অংশ উদ্বোধন (মোট দৈর্ঘ্য ১৯.৭৩ কিমি)

📚 অতিরিক্ত মাস্টার তথ্যভাণ্ডার ও জব ফোকাসড রেফারেন্স সারণি #

বিষয় / ব্যক্তিত্ব / প্রতিষ্ঠান ও সময়কাল প্রধান পরিচয় / অবস্থান / আইন মূল কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো বিসিএস ও সরকারি চাকরি পরীক্ষার বিশেষ তথ্য
পদ্মা বহুমুখী সেতু (Padma Multipurpose Bridge) অবস্থান: মাওয়া (লৌহজং, মুন্সীগঞ্জ) থেকে জাজিরা (শরীয়তপুর) ও শিবচর (মাদারীপুর) উদ্বোধন: ২৫ জুন ২০২২; মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার (দ্বিতল সেতু: উপরে ৪ লেন সড়ক ও নিচে রেলপথ) স্প্যান সংখ্যা ৪১টি (প্রতিটি ১৫০ মিটার) এবং পিলার সংখ্যা ৪২টি; নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত)
ঢাকা মেট্রোরেল বা এমআরটি লাইন-৬ (MRT Line-6) রুট: উত্তরা উত্তর (দিয়াবাড়ি) থেকে মতিঝিল (কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিতকরণ চলমান) উদ্বোধন: ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ (উত্তরা–আগারগাঁও অংশ) এবং ৪ নভেম্বর ২০২৩ (আগারগাঁও–মতিঝিল অংশ); দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক মেট্রোরেল দৈর্ঘ্য ২০.১০ কিলোমিটার (কমলাপুরসহ ২১.২৬ কি.মি.) এবং স্টেশন সংখ্যা ১৭টি; বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (DMTCL) ও জাইকা (JICA)
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল অবস্থান: চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা (কর্ণফুলী নদীর মোহনায়) উদ্বোধন: ২৮ অক্টোবর ২০২৩; দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নদীর তলদেশের সড়ক টানেল (‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ মডেলে নির্মিত) মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৩২ কিলোমিটার (সংযোগ সড়কসহ ৯.৩৯ কি.মি.); দুটি টিউব বিশিষ্ট ৪ লেনের টানেলটি নির্মাণ করে চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (CCCC)
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Rooppur Nuclear Power Plant) অবস্থান: ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর, পাবনা (পদ্মা নদীর তীরে) উৎপাদন ক্ষমতা: ২,৪০০ মেগাওয়াট (১,২০০ মেগাওয়াটের ২টি VVER-1200 থ্রি-প্লাস প্রজন্মের রিয়্যাক্টর ইউনিট) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন ‘রোসাটম’ (ROSATOM)-এর কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত; বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক ক্লাব সদস্য
যমুনা রেলসেতু ( দেশের দীর্ঘতম ডেডিকেটেড রেলসেতু) অবস্থান: সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল (যমুনা নদীর ওপর বিদ্যমান সেতুর ৩০০ মিটার উজানে) দৈর্ঘ্য: ৪.৮০ কিলোমিটার; পিলার সংখ্যা ৫০টি এবং স্প্যান ৪৯টি (ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাক রেলসেতু) জাপানের জাইকা (JICA)-এর অর্থায়নে নির্মিত; ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়
চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর দেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দরসমূহ (নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়) ১. চট্টগ্রাম বন্দর (১৮৮৭; কর্ণফুলী নদী — দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর), ২. মোংলা বন্দর (১৯৫০; পশুর ও মোংলা নদী, বাগেরহাট) এবং ৩. পায়রা বন্দর (২০১৩/২০১৬; রাবনাবাদ চ্যানেল, কলাপাড়া, পটুয়াখালী) ৪. মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর (মহেশখালী, কক্সবাজার — জাইকার সহায়তায় নির্মীয়মাণ দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর; ড্রাফট ১৬–১৮.৫ মিটার)

📋 ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #

বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি প্রধান তথ্য ও বিবরণ অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব
শতভাগ বিদ্যুতায়ন ২১ মার্চ ২০২২ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে শতভাগ বিদ্যুতায়িত দেশ ঘোষণা করা হয় ৩ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প)
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র (রাঙামাটি) দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ১৯৬২ সালে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে নির্মিত হয় (প্রাথমিক ক্ষমতা ছিল ৮০ মেগাওয়াট ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প)
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া), ঘোড়াশাল (নরসিংদী), আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সিদ্ধিরগঞ্জ ও হরিপুর (নারায়ণগঞ্জ), ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট), বাঘাবাড়ী (সিরাজগঞ্জ) প্রাকৃতিক গ্যাস ও ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক প্রধান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ভেড়ামারা হয়ে ভারত থেকে ১,০০০ মেগাওয়াট ও ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট এবং নেপাল ও আদানি (ঝাড়খণ্ড) থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয় ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প)
পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (কলাপাড়া, পটুয়াখালী) বাংলাদেশের ও চীনের (BCPCL) যৌথ উদ্যোগে নির্মিত দেশের প্রথম আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (ক্ষমতা: ১,৩২০ মেগাওয়াট — ৬৬০×২) ৩ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প)
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (‘মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট’ — বাগেরহাট) বাংলাদেশ ও ভারতের (BIFPCL) যৌথ উদ্যোগে পশুর নদীর তীরে নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (ক্ষমতা: ১,৩২০ মেগাওয়াট) ৩ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প)
মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (মহেশখালী, কক্সবাজার) জাপানের জাইকা (JICA)-র অর্থায়নে নির্মিত (ক্ষমতা: ১,২০০ মেগাওয়াট — ৬০০×২) ৩ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প)
বায়ুবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রথম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র ফেনীর সোনাগাজীর মুহুরী প্রকল্প এলাকায় (২০০৫) এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও সদর উপজেলায় (খুরুশকুল — ৬০ মেগাওয়াট বৃহত্তম বায়ুবিদ্যুৎ) বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ (তিস্তা সোলার — ২০০ মেগাওয়াট) এবং ময়মনসিংহের সুতিয়াখালী (৫০ মেগাওয়াট) ও কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ৩৮. মেগাপ্রকল্প, বন্দর ও বিদ্যুৎ খাত (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প)