টপিক ৩৯: কৃষি খাত, খাদ্য নিরাপত্তা, ফসলের উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ
অধ্যায় ৩৯: বাংলাদেশের প্রধান ফসল ও কৃষিজ সম্পদ #
৮.১ বাংলাদেশের কৃষি কাঠামো ও কৃষি শুমারি (২০১৯ চূড়ান্ত প্রতিবেদন) #
• ভুট্টার জাত: ‘শুভ্রা ও বর্ণালী মোহর নিয়ে খই ভুট্টা ও উত্তরণে গেল’ (শুভ্রা, বর্ণালী, মোহর, খই ভুট্টা, উত্তরণ)।
• টমেটোর জাত: ‘মানিক ও রতন বাহারি শ্রাবণীকে অপূর্ব ঝুমকা ও সিঁদুর দিল’ (মানিক, রতন, বাহার, শ্রাবণী, অপূর্ব, ঝুমকা, সিঁদুর)।
• বেগুনের জাত: ‘শুকতারা ও নয়নতারা তারাপুরীতে কাজলা ও উত্তরা বেগুন চাষ করে’ (শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, কাজলা, উত্তরা, ইসলামপুরী)।
• তামাকের জাত: ‘সুমাত্রা ও ম্যানিলা ভ্যারিগেশন করে হরিয়ানায় গেল’ (সুমাত্রা, ম্যানিলা, ভ্যারিগেশন, হরিয়ানা)।
• তুলার জাত: ‘রূপালী ডেলফোজ হোয়াইট গোল্ড কিনল’ (রূপালী, ডেলফোজ, হোয়াইট গোল্ড, সিবি-৯)।
• আলুর জাত: ‘ডায়মন্ড ও কার্ডিনাল কুফরি সুন্দরীর গ্রানুলা ও চমক দেখে হীরা ও তৃপ্তি পেল’ (ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, কুফরি সুন্দরী, গ্রানুলা, চমক, হীরা, তৃপ্তি, আইলসা)।* (৩৫তম থেকে ৫০তম বিসিএস এবং ব্যাংক-প্রাইমারি পরীক্ষায় ফসলের জাত থেকে আসা প্রতিটি প্রশ্ন এই ৭টি ছন্দ থেকে হুবহু কমন পড়ে!)
- কৃষিনির্ভর অর্থনীতি: বাংলাদেশের জিডিপিতে (GDP) কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১১%–১২% এবং মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৫% (জনশুমারি ও শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী কৃষি প্রধান কর্মসংস্থান খাতগুলোর অন্যতম) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
- কৃষি শুমারি (Agriculture Census): স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৪টি কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে: ১ম (১৯৭৭), ২য় (১৯৮৩–৮৪), ৩য় (১৯৯৬), ৪র্থ (২০০৮) এবং সর্বশেষ (৫ম/ষষ্ঠ) কৃষি শুমারি ৯–২০ জুন ২০১৯।
- কৃষি শুমারি ২০১৯ অনুযায়ী মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ: ২ কোটি ২৯ লক্ষ ৭৫ হাজার একর (প্রায়) (নিট আবাদি জমি ১ কোটি ৮৬ লক্ষ ৮১ হাজার একর)।
- মোট খানা (Households): ৩ কোটি ৫৫ লক্ষ ৫২ হাজার (এর মধ্যে কৃষি খানা ১ কোটি ৬৮ লক্ষ ৮১ হাজার বা ৪৭.৪৮%)।
- শস্য নিবিড়তা (Cropping Intensity): প্রায় ১৯৮% থেকে ২১৪%।
- কৃষি মৌসুম (৩টি):
- খরিপ-১ (গ্রীষ্মকালীন): মার্চ থেকে জুন (চৈত্র– আষাঢ়) — আউশ ধান, পাট, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি।
- খরিপ-২ (বর্ষাকালীন): জুলাই থেকে অক্টোবর (শ্রাবণ–কার্তিক) — রোপা আমন ধান।
- রবি মৌসুম (শীতকালীন): নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি (অগ্রহায়ণ–ফাল্গুন) — বোরো ধান, গম, আলু, সরিষা, ডাল, শীতকালীন সবজি।
৮.২ প্রধান খাদ্যশস্য ও অর্থকরী ফসল, উন্নত জাত এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান #
১. প্রধান ফসলসমূহের উন্নত ও উচ্চফলনশীল (উফশী) জাত (পরীক্ষায় সর্বাধিক আসে) #
| ফসলের নাম | উদ্ভাবিত উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতসমূহ | মনে রাখার কৌশল ও বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|
| ১. ধান (Rice) | • ব্রি (BRRI) উদ্ভাবিত: চান্দিনা (BR-1), মালা (BR-2), বিপ্লব (BR-3), ব্রিজাল (BR-4), দুলাভোগ (BR-5), আশা, সুফলা, প্রগতি, মুক্তা, মহিনী, গাজী, হাসি, কিরণ, দিশারী, নিয়ামত, শ্রাবণী, হীরা (হাইব্রিড), ময়না, টিয়া। • জিংকসমৃদ্ধ ধান: ব্রি ধান-৬২ (বিশ্বের প্রথম জিংক ধান), ব্রি-৬৪, ৭২, ৭৪, ৮৪, ১০০ (বঙ্গবন্ধু ধান-১০০)। • খরা সহিষ্ণু ধান: নারিকা-১ (NERICA-1 — উগান্ডা থেকে আনা), ব্রি-৫৬, ৫৭, ৭১। • লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধান: ব্রি-৪০, ৪১, ৪৭, ৫৩, ৫৪, ৭৩, ৯৭, ৯৯ এবং বিনা ধান-৮ ও ১০। • বন্যা/জলমগ্নতা সহিষ্ণু ধান: ব্রি-৫১, ৫২, ৭৯ এবং বিনা ধান-১১ ও ১২। • দেশজ উদ্ভাবন: ‘হরিধান’ (উদ্ভাবক: ঝিনাইদহের হরিপদ কাপালী)। ইরাটম-২৪ ও বিনাশাইল (BINA উদ্ভাবিত)। |
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় বোরো ধান (মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৫৫%), ২য় আমন ধান এবং ৩য় আউশ ধান। ধান উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৩য় (১ম চীন, ২য় ভারত)। জেলা হিসেবে সর্বাধিক ধান উৎপন্ন হয় ময়মনসিংহে। |
| ২. গম (Wheat) | সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, আনন্দ, কাঞ্চন, আকবর, বরকত, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব, শতাব্দী, সুফি, বিজয়, প্রদীপ এবং বারি গম-২৫ থেকে ৩৩। | *(শর্টকাট: “সোনালিকা বলাকা ও দোয়েল আনন্দ করে কাঞ্চন আকবর ও বরকতকে নিয়ে প্রতিভা সৌরভ ও গৌরবের শতাব্দী উদযাপন করল”)*। |
| ৩. ভুট্টা (Maize) | বর্ণালী, শুভ্রা, মোহর, খই ভুট্টা, উত্তরণ, বারি ভুট্টা-৫, ৬, ৭। | *(শর্টকাট: “বর্ণালী ও শুভ্রা মোহর দিয়ে খই ভুট্টা কিনল”)*। |
| ৪. পাট (Jute) | তোষা পাট (ও-৪, ও-৯৮৯৭), দেশি পাট (সিভিএল-১ — সবুজ পাট, সিসি-৪৫), মেস্তা, রবি-১। | পাটের জীবনরহস্য (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করেন ড. মাকসুদুল আলম (২০১০ সালে)। |
| ৫. আলু (Potato) | ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, কুফরি সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানুলা, হীরা, আইলসা, প্যাট্রিয়ট, মোনালিসা, লাল পাকড়ি, রূপালী। | ওয়ারেন হেস্টিংসের উদ্যোগে নেদারল্যান্ডস থেকে বাংলায় আলু চাষের বিস্তার ঘটে। |
| ৬. তুলা (Cotton) | রূপালী, ডেলফোজ, সিবি-১ থেকে ১২, হোয়াইট গোল্ড। | তুলা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী জেলা যশোর ও ঝিনাইদহ। |
| ৭. তামাক (Tobacco) | সুমাত্রা, ম্যানিলা, ভার্জিনিয়া, মতিহারি, জৈন্তী। | তামাক সবচেয়ে বেশি জন্মে কুষ্টিয়া, রংপুর ও বান্দরবান জেলায়। |
| ৮. আম (Mango) | মহানন্দা (বারি আম-১), ল্যাংড়া, ফজলি, হিমসাগর/খিরসাপাত, গোপালভোগ, আম্রপালি (বারি আম-৩), হাঁড়িভাঙ্গা (রংপুর), গৌড়মতি, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো। | চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম (৩য় জিআই), ফজলি আম, ল্যাংড়া ও আশ্বিনা আম এবং রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা আম জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। |
| ৯. কলা, পেঁপে ও বেগুন | • কলা: অমৃতসাগর, মেহেরসাগর (বারি কলা-১), সবরি, চম্পা, অগ্নিশ্বর, কানাইবাঁশি, মোহনভোগ। • পেঁপে: শাহী পেঁপে। • বেগুন: তারাাপুরী, শুকতারা, কাজলা, নয়নতারা, ইসালামপুরী ও বিটি বেগুন (জিএমও ফসল)। • টমেটো: মানিক, রতন, বাহার, শ্রাবণী, অপূর্ব, ঝুমকা, সিঁদুর, চৈতী। |
তরমুজের জাত: পদ্মা ও জাপানি ব্ল্যাক বেবি। মরিচের জাত: যমুনা। সরিষার জাত: অগ্রণী, সোনালী (৭৫), কল্যাণীয়া, ধুলি, সম্পদ, বারি সরিষা-১৪। |
২. সোনালি আঁশ ‘পাট’ ও ‘চা’ শিল্প সংক্রান্ত বিশেষ তথ্য #
- পাট (Jute — ‘সোনালি আঁশ’):
- বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (BJRI): ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত; ঢাকার শের-ই-বাংলা নগরের মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অবস্থিত।
- সবচেয়ে বেশি পাট উৎপন্ন হয়: ফরিদপুর জেলায় (‘ফরিদপুরের পাট’ বাংলাদেশের ৬০/৬১তম ভৌগোলিক নির্দেশক বা GI পণ্য)। পাট উৎপাদনে বিশ্বে ১ম ভারত, ২য় বাংলাদেশ; কিন্তু পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে বিশ্বে ১ম বাংলাদেশ।
- পাট সংশ্লিষ্ট ৩ জন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী:
- ড. মাকসুদুল আলম: ২০১০ সালের ১৬ জুন তোষা পাটের এবং ২০১৩ সালে দেশি পাটের ও ছত্রাকের জীবনরহস্য (Genome Sequence) উন্মোচন করেন।
- ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুল্লাহ: ‘জুটন’ (Juton) আবিষ্কার করেন (৭০ ভাগ পাট ও ৩০ ভাগ তুলার সংমিশ্রণে তৈরি বস্ত্র)।
- ড. মোবারক আহমদ খান: পাট থেকে পচনশীল পলিমার ব্যাগ (‘সোনালি ব্যাগ’) এবং ‘জুটিন’ (ঢেউটিন বিকল্প) উদ্ভাবন করেন।
- জাতীয় পাট দিবস: ৬ মার্চ (২০১৭ সালের ৬ মার্চ পাটকে ‘কৃষিপণ্য’ ঘোষণা করা হয়)। পৃথিবীর বৃহত্তম পাটকল ছিল নারায়ণগঞ্জের আদমজী পাটকল (প্রতিষ্ঠা ১৯৫১, বন্ধ হয় ৩০ জুন ২০০২; নারায়ণগঞ্জকে বলা হতো ‘প্রাচ্যের ডান্ডি’ — স্কটল্যান্ডের ডান্ডি শহরের নামানুসারে)।
- চা (Tea):
- বর্তমানে দেশে মোট চা বাগান: ১৭২টি (এর আগে ১৬৮টি ছিল)।
- সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে: মৌলভীবাজার জেলায় (৯১টি); ২য় হবিগঞ্জ (২৫টি), ৩য় সিলেট (১৯টি)।
- প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান: মালনীছড়া চা বাগান, সিলেট (১৮৫৪ সালে লর্ড ডালহৌসি/হার্ডিঞ্জের আমলে প্রতিষ্ঠিত; ১৮৪০ সালে চট্টগ্রাম ক্লাব প্রাঙ্গণে কুন্ডুদের বাগানে প্রথম পরীক্ষামূলক চা চাষ হয়েছিল)।
- সমতল ভূমির প্রথম ও একমাত্র অর্গানিক চা বাগান: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় (কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট — ২০০০ সালে)।
- বাংলাদেশ চা বোর্ড (১৯৫১): সদর দপ্তর নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম (প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান — ১৯৫৭–৫৮ সালে)।
- বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BTRI — ১৯৫৭): শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
৩. কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সদর দপ্তরসমূহ (এক নজরে মাস্টার ছক) #
| প্রতিষ্ঠানের নাম ও সংক্ষিপ্ত রূপ | প্রতিষ্ঠাকাল | সদর দপ্তর / অবস্থান |
|---|---|---|
| বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) | ১৯৭৬ | জয়দেবপুর, গাজীপুর (দেশের বৃহত্তম বহুমুখী ফসল গবেষণা প্রতিষ্ঠান) |
| বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) | ১ অক্টোবর ১৯৭০ | জয়দেবপুর, গাজীপুর |
| বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BINA) | ১৯৭২ (১৯৮৪) | ময়মনসিংহ (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর) |
| বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC) | ১৯৬১ | মতিঝিল (কৃষি ভবন), ঢাকা (প্রধান বীজ উৎপাদনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান) |
| বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (BJRI) | ১৯৫১ | মানিক মিয়া এভিনিউ, ঢাকা |
| বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BTRI) | ১৯৫৭ | শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার |
| বাংলাদেশ ইক্ষু (সুগারক্রপ) গবেষণা ইনস্টিটিউট (BSRI) | ১৯৫১ (১৯৭৩) | ঈশ্বরদী, পাবনা (ডাল গবেষণা কেন্দ্রও ঈশ্বরদীতে) |
| বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) | ২০১৭ | নশিপুর, দিনাজপুর |
| বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (BSRTI) | ১৯৬১ (বোর্ড ১৯৭৭) | রাজশাহী |
| আম গবেষণা কেন্দ্র | ১৯৮৫ | চাঁপাইনবাবগঞ্জ |
| মসলা গবেষণা কেন্দ্র | ১৯৯৫ | শিবগঞ্জ, বগুড়া |
| ফল গবেষণা কেন্দ্র | ১৯৭৬ | বিনোদপুর, রাজশাহী |
| বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) | ১৯৫৫ | ষোলশহর, চট্টগ্রাম |
| বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) | ১৯৮৪ | ময়মনসিংহ (সামুদ্রিক স্টেশন: কক্সবাজার; স্বাদুপানি: ময়মনসিংহ; নদী কেন্দ্র ও ইলিশ গবেষণা: চাঁদপুর; চিংড়ি গবেষণা: বাগেরহাট) |
| বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (BLRI) | ১৯৮৪ | সাভার, ঢাকা |
৩. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ #
- জাতীয় মাছ ‘ইলিশ’ (বৈজ্ঞানিক নাম: Tenualosa ilisha):
- বিশ্বে উৎপাদিত মোট ইলিশের ৮৫% এর বেশি বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় (ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে ১ম বাংলাদেশ)।
- ‘বাংলাদেশ ইলিশ’ দেশের ২য় ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্য (২০১৭ সালে স্বীকৃতি লাভ; ১ম জামদানি শাড়ি)।
- দেশে ইলিশের অভয়াশ্রম: মোট ৬টি (১. চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদী, ২. ভোলা চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত শাহবাজপুর চ্যানেল, ৩. ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদী, ৪. কলাপাড়ার আন্ধারমানিক নদী, ৫. শরীয়তপুরের নড়িয়া-ভেদরগঞ্জ পদ্মা নদী এবং ৬. বরিশালের হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-বরিশাল সদর সংলগ্ন কালাবদর, গজারিয়া ও মেঘনা নদী)।
- অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান: ৩য় (FAO রিপোর্ট; কখনও ২য়) এবং বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছে ৫ম।
- নিষিদ্ধ রাক্ষুসে মাছ: আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা (২০০৮ সাল থেকে উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ)।
৮.৫ ফসলের উন্নত জাত ও কৃষি তথ্য মনে রাখার মাস্টার শর্টকাট ট্রিকস #
- ধানের উন্নত জাত মনে রাখার কৌশল: "চান্দিনা ও মালা বিপ্লব করে আশা ও সুফলার সাথে প্রগতির মুক্তা ও হীরা কুড়াতে হরিধানে গেল" ➔ চান্দিনা, মালা, বিপ্লব, আশা, সুফলা, প্রগতি, মুক্তা, গাজী, কিরণ, দিশারী, শ্রাবণী, হীরা, ময়না, টিয়া, হরিধান, ইরাটম-২৪, নারিকা-১ (খরা সহিষ্ণু), ব্রি ধান-৬২ (প্রথম জিংক ধান)।
- গমের উন্নত জাত মনে রাখার কৌশল: "সোনালিকা, বলাকা ও দোয়েল আনন্দ করে কাঞ্চন, আকবর ও বরকতকে নিয়ে অঘ্রাণী প্রতিভা, সৌরভ ও গৌরবের শতাব্দী উদযাপন করল" ➔ সোনালিকা, বলাকা (৪৩তম বিসিএস প্রশ্ন), দোয়েল, আনন্দ, কাঞ্চন, আকবর, বরকত, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব, শতাব্দী, প্রদীপ, বিজয়।
- ভুট্টার উন্নত জাত: "বর্ণালী ও শুভ্রা মোহর দিয়ে খই ভুট্টা কিনল" ➔ বর্ণালী, শুভ্রা, মোহর, খই ভুট্টা, উত্তরণ।
- আলুর উন্নত জাত: "ডায়মন্ড ও কার্ডিনাল কুফরি সিন্দুরী পরে চমক ও ধীরার সাথে গ্রানুলা ও রূপালী আলু কিনল" ➔ ডায়মন্ড (৩৭তম বিসিএস প্রশ্ন), কার্ডিনাল, কুফরি সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানুলা, হীরা, আইলসা, প্যাট্রিয়ট, মোনালিসা, লাল পাকড়ি, রূপালী।
- তামাকের উন্নত জাত: "সুমাত্রা ও ম্যানিলা ভার্জিনিয়ায় গেল" ➔ সুমাত্রা, ম্যানিলা (৪৩তম বিসিএস প্রশ্ন), ভার্জিনিয়া, মতিহারি।
- তুলার উন্নত জাত: "রূপালী ও ডেলফোজ তুলা" ➔ রূপালী, ডেলফোজ, হোয়াইট গোল্ড।
- বেগুনের উন্নত জাত: "শুকতারা ও নয়নতারা তারাপুরীতে কাজলা বেগুন চাষ করে" ➔ শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, কাজলা, ইসলামপুরী, উত্তরা।
- টমেটোর উন্নত জাত: "মানিক ও রতন বাহারি শ্রাবণীকে অপূর্ব ঝুমকা ও সিঁদুর দিল" ➔ মানিক, রতন, বাহার, শ্রাবণী, অপূর্ব, ঝুমকা, সিঁদুর, চৈতী।
- বাঁধাকপির জাত: ড্রামহেড (Drumhead), কেট ও অগ্রদূত। ফুলকপির জাত: পাটনা, রাক্ষসী, কার্তিকা ও পৌষালী। তরমুজের জাত: পদ্মা। মরিচের জাত: যমুনা।
৩৯.২ কৃষিজ সম্পদ — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #
| ফসল / প্রতিষ্ঠান / বনাঞ্চল | উন্নত জাত / অবস্থান / আবিষ্কারক | প্রধান বৈশিষ্ট্য / উৎপাদন মৌসুম | গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরীক্ষার রেফারেন্স |
|---|---|---|---|
| ধানের উচ্চফলনশীল (উফশী) জাত | বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI, জয়দেবপুর, গাজীপুর—প্রতিষ্ঠা ১ অক্টোবর ১৯৭০) ও বিনা (BINA, ময়মনসিংহ) | ইরি-৮, ইরি-২০ (বিপ্লব), বিআর-১ (চান্দিনা), বিআর-২ (মালা), বিআর-৩ (বিপ্লব), বিআর-১১ (মুক্তা), বিআর-১৬ (শাহী বালাম), বিআর-২৮, বিআর-২৯ | বন্যাসহষ্ণু ধান: ব্রি ধান-৫১ ও বিনা ধান-১১; লবণাক্ততাসহষ্ণু: ব্রি ধান-৪৭; খরাসহষ্ণু: ব্রি ধান-৫৬; জিংক সমৃদ্ধ: ব্রি ধান-৬২ ও ৭২; ডায়াবেটিক ধান: ব্রি ধান-১০৫; ‘হরিধান’ উদ্ভাবক: হরিপদ কাপালী (ঝিনাইদহ) |
| গমের উন্নত জাত | বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI, নশিপুর, দিনাজপুর) | সোনালিকা, বলাকা, কাঞ্চন, আকবর, দোয়েল, আনন্দ, বরকত, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব, শতাব্দী, প্রদীপ ও বিজয় | মনিকোড (Mnemonic): ‘সোনালিকা ও বলাকা আকবরের কাঞ্চন নিয়ে দোয়েলের শতাব্দী প্রতিভা ও সৌরভে গৌরব পেল’ |
| ভুট্টা ও আলুর উন্নত জাত | বারি (BARI, গাজীপুর) ও কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র | ভুট্টার জাত: বর্ণালী, শুভ্রা, মোহর, খই ভুট্টা, উত্তরণ ও বারি হাইব্রিড ভুট্টা; আলুর জাত: ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, কুফরি সুন্দরী, গ্রানুলা, চমক, হীরা, আইলসা ও তৃপ্তি | আমন আলুর স্থানীয় জাত: ললিতা ও শিলবিলাতি; মিষ্টি আলুর জাত: কমলা সুন্দরী, তৃপ্তি ও দৌলতপুরী |
| পাটের উন্নত জাত ও গবেষণা | বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (BJRI, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ঢাকা—১৯৫১) | পাটের জাত: তোষা, দেশি, কেনাফ ও মেস্তা (ও-৯৮৯৭ বা ফাল্গুনী তোষা, ও-৪, সিসি-৪৫, রবি-১) | পাটের জীবনরহস্য (Genome Sequence) উন্মোচন: ড. মাকসুদুল আলম (১৬ জুন ২০১০); ‘জুটন’ (৭০% পাট + ৩০% তুলা) আবিষ্কারক: ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুল্লাহ; ‘সোনালি ব্যাগ’ ও ‘জুটিন’ আবিষ্কারক: ড. মোবারক আহমদ খান |
| তুলা, তামাক ও সরিষার উন্নত জাত | তুলা উন্নয়ন বোর্ড ও বারি (BARI) | তুলার জাত: রূপালী, ডেলফোজ, সিবি-৯ ও হোয়াইট গোল্ড; তামাকের জাত: সুমাত্রা, ম্যানিলা, ভ্যারিগেশন ও হরিয়ানা | সরিষার জাত: অগ্রণী, সোনালী (বিএউ-এম/২৪), সফল, কল্যাণীয়া, দৌলত, সম্পদ ও বারি সরিষা-১৪, ১৭, ১৮ |
| কলা, টমেটো, বেগুন ও মরিচের জাত | বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI, জয়দেবপুর, গাজীপুর—১৯৭৬) | কলার জাত: অমৃতসাগর, সবরি, চিনিচম্পা, মেহেরসাগর, অগ্নিশ্বর, কানাইবাঁশি ও মোহনবাঁশি; টমেটোর জাত: মানিক, রতন, বাহার, শ্রাবণী, অপূর্ব, ঝুমকা, সিঁদুর ও চৈতী | বেগুনের জাত: শুকতারা, তারাপুরী, কাজলা, নয়নতারা, উত্তরা ও ইসলামপুরী (জিআই পণ্য); মরিচের জাত: যমুনা ও বাংলালঙ্কা; তরমুজের জাত: পদ্মা |
| চা গবেষণা ও চা বাগান | বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BTRI, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার—১৯৫৭) ও চা বোর্ড (চট্টগ্রাম—১৯৫১) | চায়ের উন্নত ক্লোন জাত: বিটি-১ (BT-1) থেকে বিটি-২৩; দেশের প্রথম চা বাগান: মালনীছড়া চা বাগান (সিলেট, ১৮৫৪ সালে লর্ড হার্ডসন প্রতিষ্ঠিত) | দেশে মোট চা বাগান ১৬৮টি (সর্বাধিক মৌলভীবাজারে ৯১টি); দেশের প্রথম অর্গানিক চা বাগান: কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট (তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়) |
| ইক্ষু, বন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট | ঈশ্বরদী (পাবনা), চট্টগ্রাম, সাভার (ঢাকা) ও ময়মনসিংহ | ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট (BSRI): ঈশ্বরদী, পাবনা (১৯৭৩, জাত: ঈশ্বরদী-১৬, ২০); বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI): ষোলশহর, চট্টগ্রাম (১৯৫৫) | প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (BLRI): সাভার, ঢাকা (১৯৮৪); মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI): ময়মনসিংহ (১৯৮৪, নদী কেন্দ্র চাঁদপুর ও সামুদ্রিক কেন্দ্র কক্সবাজার) |
| বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাল-মসলা কেন্দ্র | ময়মনসিংহ, ঈশ্বরদী (পাবনা) ও শিবগঞ্জ (বগুড়া) | বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালে ময়মনসিংহে; পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BINA) ময়মনসিংহে (১৯৭৫) | ডাল গবেষণা কেন্দ্র: ঈশ্বরদী, পাবনা; মসলা গবেষণা কেন্দ্র: শিবগঞ্জ, বগুড়া; গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট: নশিপুর, দিনাজপুর |
| মৎস্য সম্পদ, ইলিশ অভয়ারণ্য ও প্রাণিসম্পদ | চাঁদপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও বাগেরহাট | জাতীয় মাছ ইলিশ দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১১-১২% জোগান দেয় (জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান প্রায় ২.৫-৩.৫%); দেশে ইলিশের অভয়ারণ্য ৬টি | মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ২য়/৩য় এবং ইলিশ আহরণে বিশ্বে ১ম; ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল’ মাংস ও উন্নত চামড়ার (‘কুষ্টিয়া গ্রেড’) জন্য বিশ্বখ্যাত (জিআই পণ্য) |
📋 ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #
| বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি | প্রধান তথ্য ও বিবরণ | অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য | সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| কৃষিনির্ভর অর্থনীতি | বাংলাদেশের জিডিপিতে (GDP) কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১১%–১২% এবং মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৫% (জনশুমারি ও শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী কৃষি প্রধান কর্মসংস্থান খাতগুলোর অন্যতম) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল | ১ বাংলাদেশের কৃষি কাঠামো ও কৃষি শুমারি (২০১৯ চূড়ান্ত প্রতিবেদন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| কৃষি শুমারি (Agriculture Census) | স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৪টি কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে: ১ম (১৯৭৭), ২য় (১৯৮৩–৮৪), ৩য় (১৯৯৬), ৪র্থ (২০০৮) এবং সর্বশেষ (৫ম/ষষ্ঠ) কৃষি শুমারি ৯–২০ জুন ২০১৯ | ১ বাংলাদেশের কৃষি কাঠামো ও কৃষি শুমারি (২০১৯ চূড়ান্ত প্রতিবেদন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| কৃষি শুমারি ২০১৯ অনুযায়ী মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ | ২ কোটি ২৯ লক্ষ ৭৫ হাজার একর (প্রায়) (নিট আবাদি জমি ১ কোটি ৮৬ লক্ষ ৮১ হাজার একর) | ১ বাংলাদেশের কৃষি কাঠামো ও কৃষি শুমারি (২০১৯ চূড়ান্ত প্রতিবেদন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| মোট খানা (Households) | ৩ কোটি ৫৫ লক্ষ ৫২ হাজার (এর মধ্যে কৃষি খানা ১ কোটি ৬৮ লক্ষ ৮১ হাজার বা ৪৭.৪৮%) | ১ বাংলাদেশের কৃষি কাঠামো ও কৃষি শুমারি (২০১৯ চূড়ান্ত প্রতিবেদন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| শস্য নিবিড়তা (Cropping Intensity) | প্রায় ১৯৮% থেকে ২১৪% | ১ বাংলাদেশের কৃষি কাঠামো ও কৃষি শুমারি (২০১৯ চূড়ান্ত প্রতিবেদন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| খরিপ-১ (গ্রীষ্মকালীন) | মার্চ থেকে জুন (চৈত্র– আষাঢ়) — আউশ ধান, পাট, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি | ১ বাংলাদেশের কৃষি কাঠামো ও কৃষি শুমারি (২০১৯ চূড়ান্ত প্রতিবেদন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| খরিপ-২ (বর্ষাকালীন) | জুলাই থেকে অক্টোবর (শ্রাবণ–কার্তিক) — রোপা আমন ধান | ১ বাংলাদেশের কৃষি কাঠামো ও কৃষি শুমারি (২০১৯ চূড়ান্ত প্রতিবেদন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| রবি মৌসুম (শীতকালীন) | নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি (অগ্রহায়ণ–ফাল্গুন) — বোরো ধান, গম, আলু, সরিষা, ডাল, শীতকালীন সবজি | ১ বাংলাদেশের কৃষি কাঠামো ও কৃষি শুমারি (২০১৯ চূড়ান্ত প্রতিবেদন) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (BJRI) | ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত | ঢাকার শের-ই-বাংলা নগরের মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অবস্থিত | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| সবচেয়ে বেশি পাট উৎপন্ন হয় | ফরিদপুর জেলায় (‘ফরিদপুরের পাট’ বাংলাদেশের ৬০/৬১তম ভৌগোলিক নির্দেশক বা GI পণ্য) | পাট উৎপাদনে বিশ্বে ১ম ভারত, ২য় বাংলাদেশ | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| ড. মাকসুদুল আলম | ২০১০ সালের ১৬ জুন তোষা পাটের এবং ২০১৩ সালে দেশি পাটের ও ছত্রাকের জীবনরহস্য (Genome Sequence) উন্মোচন করেন | সোনালি আঁশ ‘পাট’ ও ‘চা’ শিল্প সংক্রান্ত বিশেষ তথ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুল্লাহ | ‘জুটন’ (Juton) আবিষ্কার করেন (৭০ ভাগ পাট ও ৩০ ভাগ তুলার সংমিশ্রণে তৈরি বস্ত্র) | সোনালি আঁশ ‘পাট’ ও ‘চা’ শিল্প সংক্রান্ত বিশেষ তথ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| ড. মোবারক আহমদ খান | পাট থেকে পচনশীল পলিমার ব্যাগ (‘সোনালি ব্যাগ’) এবং ‘জুটিন’ (ঢেউটিন বিকল্প) উদ্ভাবন করেন | সোনালি আঁশ ‘পাট’ ও ‘চা’ শিল্প সংক্রান্ত বিশেষ তথ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| জাতীয় পাট দিবস | ৬ মার্চ (২০১৭ সালের ৬ মার্চ পাটকে ‘কৃষিপণ্য’ ঘোষণা করা হয়) | পৃথিবীর বৃহত্তম পাটকল ছিল নারায়ণগঞ্জের আদমজী পাটকল (প্রতিষ্ঠা ১৯৫১, বন্ধ হয় ৩০ জুন ২০০২ | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| বর্তমানে দেশে মোট চা বাগান | ১৭২টি (এর আগে ১৬৮টি ছিল) | সোনালি আঁশ ‘পাট’ ও ‘চা’ শিল্প সংক্রান্ত বিশেষ তথ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে | মৌলভীবাজার জেলায় (৯১টি) | ২য় হবিগঞ্জ (২৫টি), ৩য় সিলেট (১৯টি) | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান | মালনীছড়া চা বাগান, সিলেট (১৮৫৪ সালে লর্ড ডালহৌসি/হার্ডিঞ্জের আমলে প্রতিষ্ঠিত | ১৮৪০ সালে চট্টগ্রাম ক্লাব প্রাঙ্গণে কুন্ডুদের বাগানে প্রথম পরীক্ষামূলক চা চাষ হয়েছিল) | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| সমতল ভূমির প্রথম ও একমাত্র অর্গানিক চা বাগান | পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় (কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট — ২০০০ সালে) | সোনালি আঁশ ‘পাট’ ও ‘চা’ শিল্প সংক্রান্ত বিশেষ তথ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| বাংলাদেশ চা বোর্ড (১৯৫১) | সদর দপ্তর নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম (প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান — ১৯৫৭–৫৮ সালে) | সোনালি আঁশ ‘পাট’ ও ‘চা’ শিল্প সংক্রান্ত বিশেষ তথ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BTRI — ১৯৫৭) | শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার | সোনালি আঁশ ‘পাট’ ও ‘চা’ শিল্প সংক্রান্ত বিশেষ তথ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| ‘বাংলাদেশ ইলিশ’ | দেশের ২য় ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্য (২০১৭ সালে স্বীকৃতি লাভ | ১ম জামদানি শাড়ি) | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান | ৩য় (FAO রিপোর্ট | কখনও ২য়) এবং বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছে ৫ম | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| নিষিদ্ধ রাক্ষুসে মাছ | আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা (২০০৮ সাল থেকে উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ) | মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |
| তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা | বাংলাদেশে মোট ধান উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি আসে বোরো ধান থেকে | দেশের প্রধান বীজ উৎপাদনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান হলো ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত BADC (Bangladesh Agricultural Development Corporation) | ৩৯. কৃষি, উন্নত জাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ (কৃষি, বনজ ও পরিবেশ) |