টপিক 04 / ৫৮প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা📖 স্টাডি নোট

টপিক ০৪: মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা ও সুলতানি আমল

অধ্যায় ০৪: মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা ও সুলতানি আমল #

উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের পটভূমি #

  1. আরবদের সিন্ধু বিজয় (৭১২ খ্রি.): ইরাকের শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নির্দেশে ১৭ বছর বয়সী সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুর রাজা দাহিরকে পরাজিত করে উপমহাদেশে প্রথম মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
  2. সুলতান মাহমুদ (গজনী): ১০০০ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন (১০২৬ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের বিখ্যাত সোমনাথ মন্দির আক্রমণ)। তাঁর সভাকবি ছিলেন মহাকবি ফেরদৌসী (শাহনামা রচয়িতা — ৬০,০০০ শ্লোক) এবং সাথে ভারতে আসেন বিশ্বখ্যাত পণ্ডিত আল-বেরুনী (কিতাবুল হিন্দ রচয়িতা)।
  3. মুহাম্মদ ঘুরী ও তরাইনের যুদ্ধ:
    • তরাইনের প্রথম যুদ্ধ (১১৯১ খ্রি.): চৌহান রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহানের কাছে মুহাম্মদ ঘুরী পরাজিত হন।
    • তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ (১১৯২ খ্রি.): মুহাম্মদ ঘুরী পৃথ্বীরাজ চৌহানকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে ভারতে স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন।
  4. দিল্লি সালতানাত (১২০৬ – ১৫২৬ খ্রি.):
    • দাস বংশ (১২০৬–১২৯০): প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবেক (কুতুব মিনার নির্মাতা; দানশীলতার জন্য উপাধি ‘লাখবখশ’; পোলো খেলতে গিয়ে ঘোড়া থেকে পড়ে মৃত্যু)। প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ (বাগদাদের খলিফা থেকে ‘সুলতান-ই-আজম’ উপাধি লাভ)। তাঁর কন্যা সুলতানা রাজিয়া ছিলেন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণকারী প্রথম ও একমাত্র মুসলিম নারী শাসক (১২৩৬–১২৪০)। গিয়াসউদ্দিন বলবন (‘রক্ত ও লৌহ নীতি’ প্রবর্তক)।
    • খলজি বংশ (১২৯০–১৩২০): প্রতিষ্ঠাতা জালালউদ্দিন খলজি; শ্রেষ্ঠ শাসক আলাউদ্দিন খলজি (দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রেশনিং প্রথা প্রবর্তক; সভাকবি আমির খসরু — ‘ভারতের তোতাপাখি’)।
    • তুঘলক বংশ (১৩২০–১৪১৪): প্রতিষ্ঠাতা গিয়াসউদ্দিন তুঘলক। মুহাম্মদ বিন তুঘলক (দিল্লি থেকে দেবগিরি/দৌলতাবাদে রাজধানী স্থানান্তর ও তামার মুদ্রা প্রচলন; ইতিহাসে ‘পাগলা রাজা’ বা ‘বিপরীত গুণের সংমিশ্রণ’)। ফিরোজ শাহ তুঘলক (সেচ খাল ও জৌনপুর শহর নির্মাতা)। ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে তৈমুর লং দিল্লি আক্রমণ করেন।
    • সৈয়দ বংশ (১৪১৪–১৪৫১) ও লোদী বংশ (১৪৫১–১৫২৬): লোদী বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদীকে ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবর পরাজিত করেন।

বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা: বখতিয়ার খলজি (১২০৪ খ্রি.) #

  • পূর্ণ নাম: ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি (জন্ম: আফগানিস্তানের গরমশির বা দশত-ই-মার্গ; জাতিতে তুর্কি এবং বংশে খলজি)।
  • নদীয়া বিজয় (১২০৪ খ্রি.): ঝাড়খণ্ডের দুর্গম জঙ্গল পথ অতিক্রম করে অশ্ববিক্রেতার ছদ্মবেশে মাত্র ১৭/১৮ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী নদীয়া জয় করেন।
  • রাজধানী: নদীয়া ত্যাগ করে গৌড় বা লখনৌতিতে (লক্ষ্মণাবতী) রাজধানী স্থাপন করেন, পরে দেবকোটে স্থানান্তর করেন।
  • তিব্বত অভিযান ও মৃত্যু: ১২০৫ খ্রিস্টাব্দে তিব্বত অভিযান ব্যর্থ হয় এবং ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে দেবকোটে শয্যাশায়ী অবস্থায় তাঁর আমির আলী মর্দান খলজির হাতে নিহত হন। ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ তাঁর ‘তবকাত-ই-নাসিরী’ গ্রন্থে বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।

বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮ – ১৫৩৮ খ্রি. : ২০০ বছর) #

কাঠামোগত ডায়াগ্রাম ও সূত্র রূপরেখা বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮ – ১৫৩৮ খ্রি.) সোনারগাঁওয়ে স্বাধীনতার সূচনা থেকে হোসেন শাহী স্বর্ণযুগ পর্যন্ত ২০০ বছরের ইতিহাস ১. স্বাধীনতার সূচনা (১৩৩৮–১৩৫২) • ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ সোনারগাঁওয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা চট্টগ্রাম জয় ও রাজপথ নির্মাণ ইবনে বতুতার আগমন (১৩৪৬ খ্রি.) হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর সাক্ষাৎ ২. ১ম ইলিয়াস শাহী (১৩৪২–১৪১৫) • শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রি. সমগ্র বাংলা একত্রীকরণ ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’ উপাধি গ্রহণ সিকান্দার শাহ আদিনা মসজিদ গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ ও হাফিজ ৩. রাজা গণেশ বংশ (১৪১৫–১৪৩৬) • রাজা গণেশ ও যদু ভাটুরিয়া-দিনাজপুরের হিন্দু শাসক যদুর ইসলাম গ্রহণ ➔ জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ নামে সুশাসন প্রতিষ্ঠা চীনা পরিব্রাজক মা-হুয়ানের আগমন ৪. পুনর্প্রতিষ্ঠিত ইলিয়াস (১৪৩৭–৮৭) • নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ গৌড়ে পুনরায় রাজধানী প্রত্যাবর্তন রুকনউদ্দিন বারবক শাহ মালাধর বসুকে ‘গুণরাজ খাঁ’ উপাধি আবিসিনীয় ক্রীতদাস/হাবশী নিয়োগ ৫. হাবশী শাসন (১৪৮৭–১৪৯৩) • মাত্র ৬ বছরের বিশৃঙ্খলা সুলতানি দরবারে চরম অরাজকতা ৪ জন হাবশী শাসক নিহত হন উজির সৈয়দ হোসেন কর্তৃক হাবশী শাসনের অবসান ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ৬. হোসেন শাহী যুগ (১৪৯৩–১৫৩৮) • বাংলার মধ্যযুগের স্বর্ণযুগ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ (নৃপতি তিলক) নুসরত শাহ ছোট সোনা মসজিদ শ্রীচৈতন্যের বৈষ্ণব আন্দোলন বিস্তার ১৫৩৮ শেরশাহের বিজয়ে সমাপ্তি

৪.২ স্বাধীন সুলতানদের বিস্তারিত কীর্তি ও শাসন ইতিবৃত্ত #

  1. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ (১৩৩৮–১৩৪৯ খ্রি.):

    • বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা। দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে সোনারগাঁওয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
    • প্রথম মুসলিম শাসক হিসেবে চট্টগ্রাম জয় করেন এবং চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রাজপথ ও মসজিদ নির্মাণ করেন।
    • তাঁর আমলে ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় আসেন এবং সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
  2. শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ (১৩৪২–১৩৫৮ খ্রি.):

    • ইলিয়াস শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা। ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে লখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁও একত্রিত করে সমগ্র বাংলাকে একক শাসনাধীনে আনেন।
    • এজন্য তিনি ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’, ‘শাহ-ই-বাঙালিয়ান’ ও ‘সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ’ উপাধি ধারণ করেন। তাঁর আমল থেকেই এই ভূখণ্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাঙ্গালাহ’ (বাংলা) নামে পরিচিত হয়।
    • রাজধানী স্থাপন করেন হযরত পাণ্ডুয়ায় (ফিরোজাবাদ)। দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক একডালা দুর্গ অবরোধ করেও তাঁকে পরাজিত করতে পারেননি।
  3. সিকান্দার শাহ (১৩৫৮–১৩৯৩ খ্রি.): ইলিয়াস শাহের পুত্র। পাণ্ডুয়ায় ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ‘আদিনা মসজিদ’ (১৩৬৯ খ্রি.) নির্মাণ করেন।

  4. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ (১৩৯৩–১৪১০ খ্রি.):

    • ইলিয়াস শাহী বংশের শ্রেষ্ঠ সুলতান। ন্যায়বিচারের জন্য প্রসিদ্ধ (কাজী সিরাজউদ্দিনের আদালতে সুলতানের বিচারের কাহিনী)।
    • ইরানের মহাকবি হাফিজের সাথে তাঁর পত্রালাপ ছিল (তাকে বাংলায় আসার আমন্ত্রণ জানান, উত্তরে হাফিজ গজল পাঠান)।
    • তাঁর রাজত্বকালে কৃত্তিবাস ওঝা বাংলায় ‘শ্রীরাম পাঁচালী’ (রামায়ণ) অনুবাদ করেন এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম প্রণয়োপাখ্যান ‘ইউসুফ-জুলেখা’ রচনা করেন।
    • তাঁর সমাধি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মোগড়াপাড়ায় অবস্থিত।
  5. রাজা গণেশ ও জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ (১৪১৫–১৪৩৩ খ্রি.):

    • ভাতুরিয়ার জমিদার রাজা গণেশের পুত্র যদু ইসলাম গ্রহণ করে জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ নাম নিয়ে সিংহাসনে বসেন। তিনি রাজধানী পাণ্ডুয়া থেকে পুনরায় গৌড়ে স্থানান্তর করেন।
  6. রুকনউদ্দিন বারবক শাহ (১৪৫৯–১৪৭৪ খ্রি.):

    • মালাধর বসু তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় ভাগবতের বাংলা অনুবাদ ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ রচনা করেন এবং সুলতানের কাছ থেকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেন।
    • বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.) ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ (গম্বুজ ৮১টি, স্তম্ভ ৬০টি; ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য ১৯৮৫) নির্মাণ করেন।
  7. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ (১৪৯৩–১৫১৯ খ্রি.) — মধ্যযুগের স্বর্ণযুগ:

    • হাবশী শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল সৈয়দ হোসেন।
    • অসাম্প্রদায়িক নীতি, শিল্প-সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা ও শান্তির জন্য তাঁকে ‘বাংলার আকবর’, ‘নৃপতি তিলক’, ‘জগৎভূষণ’ ও ‘কৃষ্ণ অবতার’ বলা হতো। তাঁর শাসনকালকে বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলের স্বর্ণযুগ বলা হয়।
    • রাজধানী ছিল একডালা। গৌড়ের ‘ছোট সোনা মসজিদ’ (ওয়ালী মুহাম্মদ নির্মিত) তাঁর আমলে নির্মিত হয়।
    • তাঁর সমসাময়িক ছিলেন বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রীচৈতন্যদেব। তাঁর সেনাপতি পরাগল খান ও পুত্র ছুটি খানের পৃষ্ঠপোষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর ও শ্রীকর নন্দী মহাভারতের বাংলা অনুবাদ করেন এবং বিজয় গুপ্ত ‘মনসামঙ্গল’ রচনা করেন।
  8. নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহ (১৫১৯–১৫৩২ খ্রি.): গৌড়ের ‘বড় সোনা মসজিদ’ ও ‘কদম রসুল’ ভবন নির্মাণ করেন। বাবরের সাথে সন্ধি করে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করেন।

  9. গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৫৩৩–১৫৩৮ খ্রি.): বাংলার সর্বশেষ স্বাধীন সুলতান। ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে আফগান শাসক শেরশাহ শূর গৌড় দখল করলে বাংলায় ২০০ বছরের স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান ঘটে।


৪.৩ মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #

ঐতিহাসিক বিষয় / শাসক / ঘটনা সময়কাল / রাজধানী / স্থান প্রধান কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পরীক্ষার তথ্য
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি ১২০৪ খ্রিস্টাব্দ (নদীয়া বিজয়) বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা (লক্ষণাবতী রাজধানী) মাত্র ১৭-১৮ জন অশ্বারোহী নিয়ে লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করেন
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ রাজত্বকাল: ১৩৩৮–১৩৪৯ খ্রিস্টাব্দ (রাজধানী: সোনারগাঁও) বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমলের সূচনাকারী চট্টগ্রাম জয় করেন এবং চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রাজপথ নির্মাণ করেন
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ রাজত্বকাল: ১৩৪২–১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দ (রাজধানী: পান্ডুয়া) সমগ্র বাংলা একত্রিত করে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’ ও ‘শাহ-ই-বাঙালিয়ান’ উপাধি গ্রহণ বাঙালি জাতীয়তাবাদের আদি পৃষ্ঠপোষক; হাজী ইলিয়াস নামে পরিচিত
সিকান্দার শাহ রাজত্বকাল: ১৩৫৮–১৩৯৩ খ্রিস্টাব্দ পান্ডুয়ায় বিখ্যাত ‘আদিনা মসজিদ’ নির্মাণ করেন দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের আক্রমণ প্রতিহত করেন
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ রাজত্বকাল: ১৩৯৩–১৪১০ খ্রিস্টাব্দ পারস্যের কবি হাফিজের সাথে পত্রালাপ করেছিলেন তাঁর আমলে শাহ মুহম্মদ সগীর ‘ইউসুফ-জুলেখা’ কাব্য রচনা করেন
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ রাজত্বকাল: ১৪৯৩–১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ সুলতানি বাংলার ‘স্বর্ণযুগ’ (হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা) উপাধি ‘নৃপতি তিলক’ ও ‘জগতভূষণ’; ছোট সোনা মসজিদ তাঁর আমলে নির্মিত
শের শাহ সুরি রাজত্বকাল: ১৫৪০–১৫৪৫ খ্রিস্টাব্দ সোনারগাঁও থেকে সিন্ধুনদ পর্যন্ত ‘গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড’ নির্মাণ ঘোড়ার ডাকের প্রচলন, রৌপ্যমুদ্রা ‘দাম’ ও ‘রুপি’ এবং কবুলিয়ত-পাট্টা প্রবর্তন

৪.৪ সুলতানি যুগের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য ও রিভিশন ছক #

বিষয় / ব্যক্তিত্ব / প্রতিষ্ঠান ও সময়কাল প্রধান পরিচয় / অবস্থান / আইন মূল কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো বিসিএস ও সরকারি চাকরি পরীক্ষার বিশেষ তথ্য
বখতিয়ার খলজির নদীয়া বিজয় (১২০৪ খ্রি.) তুর্কি বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি মাত্র ১৭–১৮ জন অশ্বারোহী নিয়ে রাজা লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করেন গৌড়/লক্ষণাবতীতে রাজধানী স্থাপন; দিনাজপুরের দেবকোটে সমাহিত (১২০৬)
গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজি (১২১২–১২২৭ খ্রি.) লখনৌতির স্বাধীনচেতা খলজি শাসক বাংলায় প্রথম নৌবাহিনী গঠন ও দুর্গ নির্মাণ করেন সুলতান ইলতুৎমিশের পুত্র নাসিরউদ্দিন মাহমুদের হাতে পরাজিত
শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহ (১৩০১–১৩২২ খ্রি.) লখনৌতির সুলতান (হযরত শাহজালাল রহ.-এর সমসাময়িক) ১৩০৩ সালে রাজা গৌরগোবিন্দকে পরাজিত করে সিলেট বিজয় সিকেট বিজয়ে সেনাপতি ছিলেন সিকান্দার খান গাজী ও সৈয়দ নাসিরউদ্দিন
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ (১৩৩৮–১৩৪৯ খ্রি.) বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমলের প্রতিষ্ঠাতা রাজধানী ছিল নারায়ণগঞ্জের ‘সোনারগাঁও’ ১৩৪০ সালে চট্টগ্রাম জয় ও চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রাজপথ নির্মাণ; ইবনে বতুতার আগমন (১৩৪৬)
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ (১৩৪২–১৩৫৮ খ্রি.) ইলিয়াস শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা (রাজধানী: পান্ডুয়া) সমগ্র বাংলা একত্রিত করে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’ ও ‘শাহ-ই-বাঙালিয়ান’ উপাধি গ্রহণ ১৩৫২ সালে সোনারগাঁও জয় করে অখণ্ড বাংলা গঠন করেন
সিকান্দার শাহ (১৩৫৮–১৩৯৩ খ্রি.) ইলিয়াস শাহের সুযোগ্য পুত্র ও উত্তরাধিকারী ১৩৬৯ সালে পান্ডুয়ায় বিখ্যাত ‘আদিনা মসজিদ’ (উপমহাদেশের বৃহত্তম) নির্মাণ দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের আক্রমণ প্রতিহত করেন
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ (১৩৯৩–১৪১০ খ্রি.) ইলিয়াস শাহী বংশের শ্রেষ্ঠ ও ন্যায়পরায়ণ সুলতান পারস্যের মহাকবি হাফিজকে বাংলায় আসার আমন্ত্রণ জানান তাঁর আমলে শাহ মুহম্মদ সগীর ‘ইউসুফ-জুলেখা’ ও কৃত্তিবাস ‘রামায়ণ’ অনুবাদ করেন
রাজা গণেশ ও জালালউদ্দিন মুহম্মদ শাহ (১৪১৪–১৪৩৩) ভাতুরিয়ার জমিদার রাজা গণেশের পুত্র যদু ইসলাম গ্রহণ করে জালালউদ্দিন নাম নেন রাজধানী পান্ডুয়া থেকে গৌড়ে স্থানান্তর করেন বাগেরহাটে খান জাহান আলী (রহ.) ষাটগম্বুজ মসজিদ ও দীঘি নির্মাণ করেন
রুকনউদ্দিন বারবক শাহ (১৪৫৯–১৪৭৪ খ্রি.) পরবর্তী ইলিয়াস শাহী বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুলতান মালাধর বসুকে (‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ রচয়িতা) ‘গুণরাজ খান’ উপাধি প্রদান কৃত্তিবাস ওঝা ও বृहস্পতি মিশ্রকে পৃষ্ঠপোষকতা দান
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ (১৪৯৩–১৫১৯ খ্রি.) হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা; মধ্যযুগের বাংলার ‘স্বর্ণযুগ’ উপাধি: ‘নৃপতি তিলক’, ‘জগতভূষণ’ ও ‘কৃষ্ণ অবতার’ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ; শ্রীচৈতন্যদেবের বৈষ্ণব আন্দোলনে সহনশীলতা
নুসরত শাহ (১৫১৯–১৫৩২ খ্রি.) হোসেন শাহের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও শিল্পানুরাগী সুলতান গৌড়ের ‘বড় সোনা মসজিদ’ (বারোদুয়ারী) ও ‘কদম রসুল’ নির্মাণ পরাগল খান ও ছুটি খানের পৃষ্ঠপোষকতায় মহাভারত বাংলায় অনূদিত হয়
গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৫৩৩–১৫৩৮ খ্রি.) হোসেন শাহী বংশের তথা স্বাধীন সুলতানি আমলের শেষ সুলতান ১৫৩৮ সালে শের খানের (শের শাহ) গৌড় অধিকারের মাধ্যমে ২০০ বছরের স্বাধীন সুলতানি আমলের অবসান তাঁর আমলে পর্তুগিজরা চট্টগ্রাম ও সপ্তগ্রামে বাণিজ্যের অনুমতি পায়

📋 ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #

বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি প্রধান তথ্য ও বিবরণ অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব
আরবদের সিন্ধু বিজয় (৭১২ খ্রি.) ইরাকের শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নির্দেশে ১৭ বছর বয়সী সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুর রাজা দাহিরকে পরাজিত করে উপমহাদেশে প্রথম মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের পটভূমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
সুলতান মাহমুদ (গজনী) ১০০০ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন (১০২৬ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের বিখ্যাত সোমনাথ মন্দির আক্রমণ) তাঁর সভাকবি ছিলেন মহাকবি ফেরদৌসী (শাহনামা রচয়িতা — ৬০,০০০ শ্লোক) এবং সাথে ভারতে আসেন বিশ্বখ্যাত পণ্ডিত আল-বেরুনী (কিতাবুল হিন্দ রচয়িতা) ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
তরাইনের প্রথম যুদ্ধ (১১৯১ খ্রি.) চৌহান রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহানের কাছে মুহাম্মদ ঘুরী পরাজিত হন উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের পটভূমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ (১১৯২ খ্রি.) মুহাম্মদ ঘুরী পৃথ্বীরাজ চৌহানকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে ভারতে স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের পটভূমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
দাস বংশ (১২০৬–১২৯০) প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবেক (কুতুব মিনার নির্মাতা দানশীলতার জন্য উপাধি ‘লাখবখশ’ ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
খলজি বংশ (১২৯০–১৩২০) প্রতিষ্ঠাতা জালালউদ্দিন খলজি শ্রেষ্ঠ শাসক আলাউদ্দিন খলজি (দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রেশনিং প্রথা প্রবর্তক ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
তুঘলক বংশ (১৩২০–১৪১৪) প্রতিষ্ঠাতা গিয়াসউদ্দিন তুঘলক মুহাম্মদ বিন তুঘলক (দিল্লি থেকে দেবগিরি/দৌলতাবাদে রাজধানী স্থানান্তর ও তামার মুদ্রা প্রচলন ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
সৈয়দ বংশ (১৪১৪–১৪৫১) ও লোদী বংশ (১৪৫১–১৫২৬): লোদী বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদীকে ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবর পরাজিত করেন উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের পটভূমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
পূর্ণ নাম ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি (জন্ম: আফগানিস্তানের গরমশির বা দশত-ই-মার্গ জাতিতে তুর্কি এবং বংশে খলজি) ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
নদীয়া বিজয় (১২০৪ খ্রি.) ঝাড়খণ্ডের দুর্গম জঙ্গল পথ অতিক্রম করে অশ্ববিক্রেতার ছদ্মবেশে মাত্র ১৭/১৮ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী নদীয়া জয় করেন বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা: বখতিয়ার খলজি (১২০৪ খ্রি.) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
রাজধানী নদীয়া ত্যাগ করে গৌড় বা লখনৌতিতে (লক্ষ্মণাবতী) রাজধানী স্থাপন করেন, পরে দেবকোটে স্থানান্তর করেন বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা: বখতিয়ার খলজি (১২০৪ খ্রি.) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
তিব্বত অভিযান ও মৃত্যু ১২০৫ খ্রিস্টাব্দে তিব্বত অভিযান ব্যর্থ হয় এবং ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে দেবকোটে শয্যাশায়ী অবস্থায় তাঁর আমির আলী মর্দান খলজির হাতে নিহত হন ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ তাঁর ‘তবকাত-ই-নাসিরী’ গ্রন্থে বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে সোনারগাঁওয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮ – ১৫৩৮ খ্রি. : ২০০ বছর) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
ইলিয়াস শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে লখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁও একত্রিত করে সমগ্র বাংলাকে একক শাসনাধীনে আনেন বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮ – ১৫৩৮ খ্রি. : ২০০ বছর) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
সিকান্দার শাহ (১৩৫৮–১৩৯৩ খ্রি.) ইলিয়াস শাহের পুত্র পাণ্ডুয়ায় ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ‘আদিনা মসজিদ’ (১৩৬৯ খ্রি.) নির্মাণ করেন ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহ (১৫১৯–১৫৩২ খ্রি.) গৌড়ের ‘বড় সোনা মসজিদ’ ও ‘কদম রসুল’ ভবন নির্মাণ করেন বাবরের সাথে সন্ধি করে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করেন ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৫৩৩–১৫৩৮ খ্রি.) বাংলার সর্বশেষ স্বাধীন সুলতান ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে আফগান শাসক শেরশাহ শূর গৌড় দখল করলে বাংলায় ২০০ বছরের স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান ঘটে ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজির নদীয়া জয়ের পর লক্ষ্মণ সেন পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে চলে যান এবং ১২০৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন এরপর তাঁর দুই পুত্র বিশ্বরূপ সেন এবং কেশব সেন ১২৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পূর্ববঙ্গ শাসন করেন ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা মুসলিম সুলতানি আমলে শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে লখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁও একত্রিত করে সমগ্র বাংলাকে একক শাসনাধীনে আনেন এবং ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’ ও ‘শাহ-ই-বাঙালিয়ান’ উপাধি ধারণ করেন তাঁর সময় থেকেই সমগ্র বাংলাভাষী অঞ্চল ‘বাঙ্গালা’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বৃহত্তর বাংলা শাসন করেন তাঁর শাসনকালকে বাংলার মধ্যযুগের স্বর্ণযুগ বলা হয় ০৪. মুসলিম শাসন ও সুলতানি আমল (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)