টপিক 40 / ৫৮অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প📖 স্টাডি নোট
টপিক ৪০: শিল্প, বাণিজ্য, তৈরি পোশাক (RMG), ইপিজেড এবং খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ
অধ্যায় ৪০: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদ #
৯.১ প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোবাংলা (Petrobangla) #
- প্রধান খনিজ সম্পদ: বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas)। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেন ($CH_4$)-এর পরিমাণ সর্বাধিক—প্রায় ৯৫% থেকে ৯৯% (গড়ে ৯৭.৩৩%), যা বিশ্বে অত্যন্ত বিশুদ্ধ গ্যাস হিসেবে বিবেচিত।
- পেট্রোবাংলা (Petrobangla):
- পূর্ণরূপ: Bangladesh Oil, Gas and Mineral Corporation (BOGMC) — বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন।
- প্রতিষ্ঠা: স্বাধীনতার পর ২৬ মার্চ ১৯৭২ রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ২৭ এর মাধ্যমে গঠিত হয় (পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালের ১১ এপ্রিল জারিকৃত ২১ নং অধ্যাদেশের মাধ্যমে BOGMC বা পেট্রোবাংলা পুনর্গঠিত হয়)। সদর দপ্তর: কারওয়ান বাজার, ঢাকা।
- বাপেক্স (BAPEX): পূর্ণরূপ Bangladesh Petroleum Exploration and Production Company Limited (১৯৮৯ সালে গঠিত পেট্রোবাংলার অধীনস্থ দেশীয় গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান কোম্পানি)।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রসমূহের সামগ্রিক চিত্র (মোট ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র) #
উল্লেখযোগ্য গ্যাসক্ষেত্রসমূহের অবস্থান ও আবিষ্কারের সাল #
| গ্যাসক্ষেত্রের নাম | জেলা / অবস্থান | আবিষ্কারের সাল | বিশেষ বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| ১. হরিপুর | জৈন্তাপুর, সিলেট | ১৯৫৫ | দেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র। ১৯৫৭ সালে প্রথম উত্তোলন শুরু হয় (ছাতক সিমেন্ট কারখানায় প্রথম সরবরাহ করা হয়)। ১৯৮৬ সালে এখানে দেশের একমাত্র খনিজ তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। |
| ২. ছাতক (টেংরাটিলা) | ছাতক, সুনামগঞ্জ | ১৯৫৯ | ২য় গ্যাসক্ষেত্র। ২০০৫ সালে কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো (Niko)-র অদক্ষতায় এখানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে; পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক আদালতে (ICSID) নাইকোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জয়লাভ করে। |
| ৩. রশিদপুর, হবিগঞ্জ ও বিবিয়ানা | বাহুবল ও নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ | ১৯৬০, ১৯৬৩, ১৯৯৮ | বিবিয়ানা আয়তনে বৃহত্তম এবং বর্তমানে দেশের দৈনিক মোট গ্যাস উৎপাদনের সিংহভাগ জোগান দেয় (মার্কিন কোম্পানি শেভরন পরিচালিত)। |
| ৪. কৈলাশটিলা ও বিয়ানীবাজার | গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার, সিলেট | ১৯৬২, ১৯৮১ | তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (NGL/কনডেনসেট) সমৃদ্ধ। |
| ৫. তিতাস, বাখরাবাদ, মেঘনা ও সালদা নদী | ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা (বাখরাবাদ ও শ্রীকাইল) | ১৯৬২ (তিতাস), ১৯৬৯ (বাখরাবাদ) | তিতাস দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র (সর্বাধিক গ্যাস মজুত)। ১৯৬৮ সালে তিতাস থেকে ঢাকায় প্রথম গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। |
| ৬. কামতা | কালীগঞ্জ, গাজীপুর | ১৯৮১ | ঢাকা বিভাগের একমাত্র গ্যাসক্ষেত্র (বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ)। |
| ৭. সেমুতাং | মানিকছড়ি, খাগড়াছড়ি | ১৯৬৯ | পার্বত্য চট্টগ্রামের গ্যাসক্ষেত্র। |
| ৮. বেগমগঞ্জ ও সুন্দলপুর | নোয়াখালী | ১৯৭৭, ২০১১ | সমতল উপকূলীয় গ্যাসক্ষেত্র। |
| ৯. শাহবাজপুর, ভোলা নর্থ ও ইলিশা-১ | বোরহানউদ্দিন ও সদর, ভোলা | ১৯৯৫, ২০১৮, ২০২৩ | দ্বীপ জেলা ভোলায় অবস্থিত ৩টি সমৃদ্ধ গ্যাসক্ষেত্র। ইলিশা-১ দেশের সর্বশেষ (২৯তম) গ্যাসক্ষেত্র। |
| ১০. মাগুরছড়া | কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার | ১৯৯৭ | ১৪ জুন ১৯৯৭ মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টালের খননকালে এখানে দেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম গ্যাসক্ষেত্র অগ্নিকাণ্ড ঘটে। |
৯.২ কয়লা, খনিজ তেল, কঠিন শিলা, চিনামাটি ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ #
| খনিজ সম্পদের নাম | প্রধান খনিসমূহ ও অবস্থান (জেলা) | আবিষ্কার ও বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|
| ১. কয়লা (Coal — ‘কালো সোনা’) (৫টি প্রধান কয়লা খনি) |
১. জামালগঞ্জ (জয়পুরহাট — ১৯৬২): দেশের প্রথম আবিষ্কৃত, সবচেয়ে গভীরতম ও সর্ববৃহৎ মজুতসমৃদ্ধ কয়লা খনি (অতিরিক্ত গভীরতার কারণে এখনও উত্তোলন শুরু হয়নি; কোল বেড মিথেন সম্ভাবনাময়)। ২. বড়পুকুরিয়া (পার্বতীপুর, দিনাজপুর — ১৯৮৫): দেশের প্রথম ও বর্তমানে একমাত্র বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনকৃত কয়লা খনি (২০০৫ সাল থেকে উত্তোলন চলছে; এখানে ৫২৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে)। ৩. খালাশপীর (পীরগঞ্জ, রংপুর — ১৯৮৯)। ৪. দীঘিপাড়া (নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর — ১৯৯৫)। ৫. ফুলবাড়ী (দিনাজপুর — ১৯৯৭): সর্বশেষ আবিষ্কৃত কয়লাক্ষেত্র। (সতর্কতা: পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া কোনো কয়লা খনি নয়, এটি দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা বা গ্রানাইট খনি)। |
বাংলাদেশের কয়লা অত্যন্ত উন্নতমানের বিটুমিনাস (Bituminous) ও সাব-বিটুমিনাস জাতীয় (সালফারের পরিমাণ অত্যন্ত কম)। এছাড়া সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টেকেরঘাট/বাগলীবাজার, ফরিদপুরের চান্দা বিল ও খুলনার কোলা বিলে পিট কয়লা (Peat Coal) পাওয়া যায়। |
| ২. খনিজ তেল (Petroleum) | হরিপুর, জৈন্তাপুর, সিলেট | ২৩ ডিসেম্বর ১৯৮৬ হরিপুরের ৭ নং কূপে দেশের একমাত্র খনিজ তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় (১৯৮৭–১৯৯৪ পর্যন্ত উত্তোলনের পর বন্ধ)। এছাড়া কৈলাশটিলা ও রশিদপুরে উপজাত হিসেবে পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিন পাওয়া যায়। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড’ (ERL) ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত হয়। |
| ৩. কঠিন শিলা (Hard Rock — ‘গ্রানাইট’) | মধ্যপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর (এবং রানীপুকুর, মিঠাপুকুর, রংপুর) | ১৯৭৪ সালে আবিষ্কৃত। উত্তর কোরিয়ার নামনাম কোম্পানির সহায়তায় ২০০৭ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে কঠিন শিলা উত্তোলন চলছে (রেললাইনের স্লিপার, বাঁধ ও সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত হয়)। |
| ৪. চিনামাটি / সাদামাটি (White Clay / Kaolin) | ১. বিজয়পুর (দুর্গাপুর, নেত্রকোনা — ১৯৫৭) ২. ভুরুঙ্গা (পত্নীতলা, নওগাঁ) ৩. হাইদগাঁও (পটিয়া, চট্টগ্রাম) ও মধ্যপাড়া (দিনাজপুর) |
নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিজয়পুরে ১৯৫৭ সালে প্রথম চিনামাটির সন্ধান পাওয়া যায়। সিরামিক ও তৈজসপত্র শিল্পে ব্যবহৃত হয়। |
| ৫. চুনাপাথর (Limestone — সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল) | ১. টাঙ্গারহাট ও বাগলীবাজার (তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ) ২. জয়পুরহাট (জামালগঞ্জ) ৩. সেন্টমার্টিন দ্বীপ (কক্সবাজার) ও লালঘাট |
সুনামগঞ্জের টাঙ্গারহাটের চুনাপাথরের ওপর ভিত্তি করে ১৯৪১ সালে দেশের প্রথম সিমেন্ট কারখানা ‘ছাতক সিমেন্ট কারখানা’ (পূর্বনাম আসাম বেঙ্গল সিমেন্ট কোম্পানি) গড়ে ওঠে। |
| ৬. সিলিকা বালু / কাঁচবালু (Silica Sand) | সিলেট (শাহজীবাজার, হবিগঞ্জ), মৌলভীবাজার (কুলাউড়া), কুমিল্লা (চৌদ্দগ্রাম), শেরপুর (বালিজুরী) ও জামালপুর | কাঁচ শিল্প, অপটিক্যাল ফাইবার ও রাসায়নিক শিল্পে ব্যবহৃত হয়। |
| ৭. তেজস্ক্রিয় খনিজ বালু (Atomic Minerals) | কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, ইনানী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও কুয়াকাটা সৈকত | কালো বালু বা ভারী খনিজ (মোনাজাইট, জিরকন, ইলমেনাইট, রুটাইল, ম্যাগনেটাইট ও গার্নেট) পাওয়া যায়। ১৯৭৫ সালে কক্সবাজারের কলাতলীতে আণবিক শক্তি কমিশনের খনিজ বালি আহরণ কেন্দ্র স্থাপিত হয়। |
| ৮. লৌহ আকরিক (Iron Ore) | হাকিমপুর (হিলি), দিনাজপুর (ইসবপুর গ্রাম — ২০১৯ সালে জিএসবি কর্তৃক আবিষ্কৃত) | চৌম্বকীয় লৌহ আকরিক (ম্যাগনেটাইট) ও তামার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। |
৯.৫ খনিজ ও জ্বালানি খাত মনে রাখার মাস্টার শর্টকাট ট্রিকস #
- সিলেট ও সুনামগঞ্জের গ্যাসক্ষেত্রসমূহ: "হরি কৈলাশ ও বিয়ানীবাজারের ছাতক নিয়ে জকিগঞ্জে গেল" ➔ হরিপুর (১ম গ্যাসক্ষেত্র ১৯৫৫ ও একমাত্র তেলক্ষেত্র ১৯৮৬), কৈলাশটিলা, বিয়ানীবাজার, ছাতক (টেংরাটিলা — ২য় গ্যাসক্ষেত্র ১৯৫৯), জকিগঞ্জ (২৮তম গ্যাসক্ষেত্র)।
- হবিগঞ্জের গ্যাসক্ষেত্রসমূহ: "রশিদ ও বিবি হবিগঞ্জে থাকে" ➔ রশিদপুর, বিবিয়ানা (আয়তনে বৃহত্তম ও সর্বাধিক উৎপাদনশীল), হবিগঞ্জ।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার গ্যাসক্ষেত্রসমূহ: "তিতাস ও মেঘনা বাখরাবাদের সালদা নদীতে গেল" ➔ তিতাস (ব্রাহ্মণবাড়িয়া — মজুতে বৃহত্তম), মেঘনা, সালদা নদী, বাখরাবাদ (কুমিল্লা), শ্রীকাইল (কুমিল্লা)।
- ভোলার ৩টি গ্যাসক্ষেত্র: "শাহবাজ ভোলা নর্থে ইলিশা মাছ ধরে" ➔ শাহবাজপুর, ভোলা নর্থ এবং ইলিশা-১ (সর্বশেষ ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র — মে ২০২৩)।
- সমুদ্রবক্ষের গ্যাসক্ষেত্র: সাঙ্গু (প্রথম সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র — ৪২তম বিসিএস প্রশ্ন) ও কুতুবদিয়া।
- ৫টি কয়লাক্ষেত্র মনে রাখার কৌশল (জাবখাদীফু): "জামাল বড় খালাকে নিয়ে দীঘিপাড়ার ফুলবাড়ীতে গেল" ➔ ১. জামালগঞ্জ (জয়পুরহাট — বৃহত্তম ও গভীরতম), ২. বড়পুকুরিয়া (দিনাজপুর — প্রথম ও বর্তমানে একমাত্র উৎপাদনশীল কয়লাখনি), ৩. খালাশপীর (পীরগঞ্জ, রংপুর), ৪. দীঘিপাড়া (নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর) এবং ৫. ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)। (বিশেষ সতর্কতা: দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া কয়লাক্ষেত্র নয়; এটি দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা বা গ্রানাইট খনি)।
- বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বাধিক ব্যবহৃত জ্বালানি (৩৮তম বিসিএস প্রশ্ন): প্রাকৃতিক গ্যাস (মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে আসে)।
১. তৈরি পোশাক শিল্প (RMG - Ready-Made Garments) — রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত #
- রপ্তানি আয়ে অবদান: বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮২%–৮৪% আসে তৈরি পোশাক খাত (নিটওয়্যার ও ওভেন গার্মেন্টস) থেকে।
- পোশাক শিল্পের যাত্রা: ১৯৬০ সালে ঢাকার উর্দু রোডে ‘রিয়াজ গার্মেন্টস’ যাত্রা শুরু করে এবং ১৯৭৮ সালে রিয়াজ গার্মেন্টস প্রথম ফ্রান্সে ১০ হাজার পিস শার্ট রপ্তানি করে। ১৯৭৯ সালে নূরুল কাদের খানের প্রতিষ্ঠিত ‘দেশ গার্মেন্টস’ (দক্ষিণ কোরিয়ার দাইউ কোম্পানির কারিগরি সহায়তায় চট্টগ্রামে) দেশের প্রথম শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস কারখানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
- বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান: একক দেশ হিসেবে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ২য় (১ম চীন, ৩য় ভিয়েতনাম)।
- প্রধান রপ্তানি বাজার:
- একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (USA) (২য় জার্মানি, ৩য় যুক্তরাজ্য)।
- অঞ্চল বা জোট হিসেবে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়: ইউরোপীয় ইউনিয়নে (EU) (মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৫০%+)।
- (অন্যদিকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে চীন থেকে; ২য় ভারত)।
- সবুজ কারখানা (LEED Certified Green Factories): পরিবেশবান্ধব সবুজ পোশাক কারখানার সংখ্যায় বিশ্বে ১ম বাংলাদেশ (যুক্তরাষ্ট্রের USGBC সনদপ্রাপ্ত কারখানা ২২০+ টি; বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সবুজ কারখানার মধ্যে ৯টিই বাংলাদেশে)।
- পোশাক খাতের ২টি প্রধান সংগঠন:
- BGMEA (Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association): ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত (ওভেন ও সোয়েটার খাত)।
- BKMEA (Bangladesh Knitwear Manufacturers and Exporters Association): ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত (নিটওয়্যার খাত)।
২. ঔষধ, জাহাজ নির্মাণ, সার, কাগজ, চিনি ও চামড়া শিল্প #
| শিল্প খাত | প্রধান কারখানা, কাঁচামাল ও পরীক্ষায় আসা তথ্য |
|---|---|
| ১. ঔষধ শিল্প (Pharmaceuticals) | ১৯৮২ সালের জাতীয় ঔষধ নীতি এই শিল্পের বিকাশে মূল ভূমিকা রাখে। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৯৮% ঔষধ দেশেই উৎপাদিত হয় এবং বিশ্বের ১৬৬টি দেশে (অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ অনুযায়ী) বাংলাদেশের ঔষধ রপ্তানি হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় (বাউশিয়া) অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (API শিল্প পার্ক) স্থাপিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান EDCL (Essential Drugs Company Limited) দেশে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক ও হামের টিকা এবং অ্যান্টিভেনম (সাপের কামড়ের প্রতিষেধক) উৎপাদন করতে যাচ্ছে। |
| ২. জাহাজ নির্মাণ ও ভাঙা শিল্প | • খুলনা শিপইয়ার্ড: ১৯৫৭ সালে রূপসা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত (১৯৯৯ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত; দেশে প্রথম যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা পদ্মা’ তৈরি করে)। • প্রথম জাহাজ রপ্তানি: ১৫ মে ২০০৮ বেসরকারি ‘আনন্দ শিপইয়ার্ড’ (মেঘনাঘাট, নারায়ণগঞ্জ) ডেনমার্কের কাছে ‘স্টেলা মেরিস’ (Stella Maris) নামক সমুদ্রগামী জাহাজ রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ জাহাজ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়। এছাড়া চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড জাহাজ রপ্তানি করে। • জাহাজ ভাঙা শিল্প (Ship Breaking): চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে অবস্থিত (বিশ্বে ১ম/২য় বৃহত্তম)। |
| ৩. সার শিল্প (Fertilizer) | • ইউরিয়া সারের প্রধান কাঁচামাল: প্রাকৃতিক গ্যাস (মিথেন)। • দেশের প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক ইউরিয়া সার কারখানা: ফেঞ্চুগঞ্জ ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি, সিলেট (১৯৬১) (বর্তমানে এর স্থলে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি নির্মিত)। • বৃহত্তম ও আধুনিক সার কারখানা: ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি (নরসিংদী — ২০২৩ সালে উদ্বোধন; দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম) এবং যমুনা সার কারখানা (তারাকান্দি, জামালপুর — দানাদার ইউরিয়া)। অন্যান্য: আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার (CUFL) ও কাফকো (KAFCO — আনোয়ারা, চট্টগ্রাম; বহুজাতিক সার কারখানা)। • অ-ইউরিয়া সার কারখানা: টিএসপি (TSP) কমপ্লেক্স ও ডিএপি (DAP) ফার্টিলাইজার — উভয়ই পতেঙ্গা, চট্টগ্রামে অবস্থিত। |
| ৪. কাগজ ও মণ্ড শিল্প (Paper & Pulp) | • কর্ণফুলী পেপার মিলস (KPM): ১৯৫৩ সালে রাঙামাটির চন্দ্রঘোনায় প্রতিষ্ঠিত (দেশের প্রথম কাগজ কল; প্রধান কাঁচামাল: বাঁশ ও নরম কাঠ)। • খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস (খালিশপুর, খুলনা — ১৯৫৯): কাঁচামাল ছিল সুন্দরবনের গেওয়া কাঠ (২০০২ সালে বন্ধ)। • উত্তরবঙ্গ পেপার মিলস (পাকশী, পাবনা — ১৯৭০/৭৫): প্রধান কাঁচামাল আখের ছোবড়া (Bagasse)। • সিলেট পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস (ছাতক, সুনামগঞ্জ — ১৯৭৫): প্রধান কাঁচামাল নলখাগড়া, বাঁশ ও পাটকাঠি। • খুলনা হার্ডবোর্ড মিলস (১৯৬৬): কাঁচামাল সুন্দরী কাঠ। |
| ৫. চিনি শিল্প (Sugar Mills) | দেশে সরকারি চিনিকল ১৭টি (বিএসএফআইসি - BSFIC এর অধীনে)। দেশের প্রথম ও বৃহত্তম চিনিকল (ডিস্টিলারিসহ): কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (Carew & Co.), দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা (১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত)। অন্যান্য: নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল (গোপালপুর, নাটোর — ১৯৩৩), ঠাকুরগাঁও, মোবারকগঞ্জ (ঝিনাইদহ), জয়পুরহাট (উৎপাদন ক্ষমতায় বৃহত্তম), কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, জিলবাংলা (দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুর)। |
| ৬. সিমেন্ট ও চামড়া শিল্প | • প্রথম সিমেন্ট কারখানা: ছাতক সিমেন্ট কারখানা, সুনামগঞ্জ (১৯৪১ — পূর্বনাম আসাম বেঙ্গল সিমেন্ট কোম্পানি)। • চামড়া শিল্পনগরী: পরিবেশ দূষণ রোধে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পকে বুড়িগঙ্গা তীর থেকে সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরায় (ধলেশ্বরী নদীর তীরে) স্থানান্তর করা হয়েছে। |
১২.২ ইপিজেড (EPZ), বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (FTZ) #
- ইপিজেড (EPZ - Export Processing Zone / রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল):
- নিয়ন্ত্রক সংস্থা: বেপজা (BEPZA - Bangladesh Export Processing Zones Authority) — ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন)।
- দেশে সরকারি ইপিজেড: মোট ৮টি —
- চট্টগ্রাম ইপিজেড (CEPZ — হালিশহর, ১৯৮৩): দেশের প্রথম ও বৃহত্তম ইপিজেড।
- ঢাকা ইপিজেড (DEPZ — গণকবাড়ী, সাভার, ১৯৯৩): দেশের দ্বিতীয় ইপিজেড।
- মোংলা ইপিজেড (বাগেরহাট — ১৯৯৮)
- ঈশ্বরদী ইপিজেড (পাবনা — ২০০১)
- কুমিল্লা ইপিজেড (কুমিল্লা পুরাতন বিমানবন্দর এলাকা — ২০০০)
- উত্তরা ইপিজেড (সৈয়দপুর/সংগলশী, নীলফামারী — ২০০১; একমাত্র কৃষিভিত্তিক ইপিজেড হিসেবে পরিকল্পিত)
- আদমজী ইপিজেড (সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ — ২০০৬; বন্ধ হওয়া আদমজী পাটকলের স্থানে)
- কর্ণফুলী ইপিজেড (পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম — ২০০৬)।
- বেসরকারি ইপিজেড (২টি): চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরিয়ান ইপিজেড (KEPZ — ১৯৯৯, ইয়ংওয়ান কর্পোরেশন পরিচালিত দেশের প্রথম বেসরকারি ইপিজেড) এবং রাঙ্গুনিয়া ইপিজেড।
- বেজা (BEZA - Bangladesh Economic Zones Authority): ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত; সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) গড়ে তোলার কাজ করছে। দেশের সর্ববৃহৎ শিল্পনগরী: চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনীর সোনাগাজী জুড়ে ৩০,০০০ একর জমিতে নির্মিত ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ (মিরসরাই ইকোনমিক জোন)। বাগেরহাটের মোংলা ও চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও সিরাজগঞ্জে অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে।
- বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (২০১০): গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দেশের প্রথম হাইটেক পার্ক এবং যশোরে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ (দেশের প্রথম আইটি পার্ক) অবস্থিত।
- [সর্বশেষ ২০২৬ আপডেট] দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (Free Trade Zone - FTZ):
- দেশে এই প্রথম দুটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (FTZ) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার (মোট প্রায় ৬০০ একর জমিতে):
- কক্সবাজারের মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরের কাছে
- চট্টগ্রাম বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায়।
- দেশে এই প্রথম দুটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (FTZ) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার (মোট প্রায় ৬০০ একর জমিতে):
৪০.২ গ্যাসক্ষেত্র ও খনিজ সম্পদ — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #
| শিল্প / বন্দর / মেগাপ্রকল্প | অবস্থান / জেলা / সীমান্ত | প্রতিষ্ঠা বা উদ্বোধনের বছর | মূল বৈশিষ্ট্য, দৈর্ঘ্য ও পরীক্ষার বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|---|
| হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র (১ম গ্যাসক্ষেত্র) | জৈন্তাপুর, সিলেট | আবিষ্কার: ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (উৎপাদন শুরু: ১৯৬০ সালে ছাতক সিমেন্ট কারখানায়) | বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র; ১৯৮৬ সালে এখানে প্রথম খনিজ তেলেরও সন্ধান পাওয়া যায় |
| ছাতক গ্যাসক্ষেত্র | ছাতক, সুনামগঞ্জ | আবিষ্কার: ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (উৎপাদন শুরু: ১৯৬০) | দেশের প্রথম উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে ছাতক সিমেন্ট কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করে |
| তিতাস গ্যাসক্ষেত্র (আয়তনে বৃহত্তম) | ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | আবিষ্কার: ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ (উৎপাদন শুরু: ১৯৬৮) | মজুদ ও কূপের দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র (মোট ২৭টি কূপ) |
| রশিদপুর, কৈলাশটিলা ও হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র | বাহুবল ও মাধবপুর (হবিগঞ্জ) এবং গোলাপগঞ্জ (সিলেট) | আবিষ্কার: ১৯৬০ (রশিদপুর), ১৯৬২ (কৈলাশটিলা) ও ১৯৬৩ (হবিগঞ্জ) | সিলেট ও হবিগঞ্জ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান গ্যাস উৎপাদনকারী ক্ষেত্র |
| বাখরাবাদ ও কামতা গ্যাসক্ষেত্র | মুরাদনগর (কুমিল্লা) এবং কালীগঞ্জ (গাজীপুর) | আবিষ্কার: ১৯৬৯ (বাখরাবাদ) ও ১৯৮১ (কামতা) | কামতা গ্যাসক্ষেত্র ঢাকা বিভাগের গাজীপুরে অবস্থিত; বাখরাবাদ কুমিল্লার প্রধান ক্ষেত্র |
| বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র (উৎপাদনে শীর্ষ) | নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ | আবিষ্কার: ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ (মার্কিন কোম্পানি ইউনোকল, বর্তমানে শেভরন পরিচালিত) | বর্তমানে দেশের একক সর্বাধিক দৈনিক গ্যাস উৎপাদনকারী গ্যাসক্ষেত্র (প্রায় ৪০-৪৫% গ্যাস সরবরাহ করে) |
| সাঙ্গু ও কুতুবদিয়া সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র | বঙ্গোপসাগর উপকূল (চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার) | আবিষ্কার: ১৯৭৭ (কুতুবদিয়া, ১ম সামুদ্রিক) ও ১৯৯৬ (সাঙ্গু, উৎপাদন শুরু ১৯৯৮) | সাঙ্গু হলো বঙ্গোপসাগরে দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র (২০১৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষিত) |
| শাহবাজপুর, ভোলা নর্থ ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র | বোরহানউদ্দিন ও সদর উপজেলা, ভোলা | আবিষ্কার: ১৯৯৫ (শাহবাজপুর), ২০১৮ (ভোলা নর্থ, ২৮তম) ও ২০২৩ (ইলিশা-১, ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র) | ইলিশা-১ হলো বাংলাদেশের সর্বশেষ বা ২৯তম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র (মে ২০২৩, বাপেক্স কর্তৃক আবিষ্কৃত) |
| পেট্রোবাংলা (Petrobangla) ও বাপেক্স (BAPEX) | সদর দপ্তর: পেট্রোসেন্টার ও বাপেক্স ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা | পেট্রোবাংলা প্রতিষ্ঠা: ২৬ মার্চ ১৯৭২ (বিওজিএমসি ১৯৮৫); বাপেক্স প্রতিষ্ঠা: ১ জুলাই ১৯৮৯ | বাপেক্স (Bangladesh Petroleum Exploration and Production Company Ltd.) হলো দেশের জাতীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান সংস্থা |
| জামালগঞ্জ কয়লা খনি (বৃহত্তম ও গভীরতম) | জয়পুরহাট সদর, জয়পুরহাট | আবিষ্কার: ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ | বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত এবং মজুদ ও গভীরতার দিক থেকে বৃহত্তম কয়লা খনি (গভীরতা প্রায় ৬৪০–১,১৫৮ মিটার; মজুদ ১০৫ কোটি মেট্রিক টন) |
| বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি (একমাত্র উৎপাদনশীল) | পার্বতীপুর, দিনাজপুর | আবিষ্কার: ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ (বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরু: ২০০৫) | দেশের একমাত্র কয়লা উৎপাদনশীল খনি এবং এখানে ৫২৫ মেগাওয়াটের দেশের ১ম কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত |
| খালাশপীর, দীঘিপাড়া ও ফুলবাড়ী কয়লাক্ষেত্র | পীরগঞ্জ (রংপুর) এবং নবাবগঞ্জ ও ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) | আবিষ্কার: ১৯৮৯ (খালাশপীর), ১৯৯৫ (দীঘিপাড়া) ও ১৯৯৭ (ফুলবাড়ী) | বাংলাদেশে আবিষ্কৃত কয়লাক্ষেত্র মোট ৫টি: জামালগঞ্জ, বড়পুকুরিয়া, খালাশপীর, দীঘিপাড়া ও ফুলবাড়ী (জাবখাদীফু); উল্লেখ্য, মধ্যপাড়া কয়লাক্ষেত্র নয় বরং দেশের একমাত্র কঠিন শিলা (গ্রানাইট) খনি |
| মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি (Hard Rock) | পার্বতীপুর, দিনাজপুর | আবিষ্কার: ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ (বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরু: ২০০৭) | বাংলাদেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা (গ্রানাইট) খনি; গভীরতা প্রায় ১২৮–১৩৬ মিটার |
| সাদামাটি (চীনা মাটি), চুনাপাথর ও কাঁচবালি | দুর্গাপুর (নেত্রকোনা), টেকেরঘাট (সুনামগঞ্জ) ও চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) | বিজয়পুর সাদামাটি আবিষ্কার: ১৯৫৭ (নেত্রকোনার দুর্গাপুরের ভেদিকুড়া, গোপালপুর ও নালিতাবাড়ী) | চুনাপাথর (সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল): সুনামগঞ্জের টেকেরঘাট ও বাগালিবাজার এবং জয়পুরহাটে; কাঁচবালি (সিলিকা বালু): মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, শেরপুরের বালিজুরী ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে; ভারী খনিজ বালি (তেজস্ক্রিয় মোনাজাইট, জিরকন, ইলমেনাইট): কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে |
| ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ERL) | পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম | প্রতিষ্ঠা: ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ | বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল শোধনাগার (বার্ষিক শোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন) |
| তৈরি পোশাক শিল্প (RMG) ও বৈদেশিক বাণিজ্য | ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম | যাত্রা শুরু: ১৯৭৮ সালে রিয়াজ গার্মেন্টস ও দেশ গার্মেন্টসের মাধ্যমে; রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮২–৮৪% আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে | একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA, ২য় জার্মানি/যুক্তরাজ্য) এবং অঞ্চল হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU); আমদানিতে শীর্ষ দেশ চীন (২য় ভারত) |
| বেপজা (BEPZA) ও ৮টি সরকারি ইপিজেড (EPZ) | প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ সংস্থা (প্রতিষ্ঠা ১৯৮০) | দেশে সরকারি ইপিজেড ৮টি: ১. চট্টগ্রাম ইপিজেড (পতেঙ্গা, ১৯৮৩—দেশের ১ম ও বৃহত্তম), ২. ঢাকা ইপিজেড (সাভার, ১৯৯৩), ৩. মোংলা ইপিজেড (বাগেরহাট), ৪. কুমিল্লা ইপিজেড | ৫. ঈশ্বরদী ইপিজেড (পাবনা), ৬. উত্তরা ইপিজেড (নীলফামারী—একমাত্র কৃষিভিত্তিক), ৭. আদমজী ইপিজেড (সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ) ও ৮. কর্ণফুলী ইপিজেড (চট্টগ্রাম); বেসরকারি ইপিজেড: কেইপিজেড (আনোয়ারা, চট্টগ্রাম) |
| বেজা (BEZA), অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্ক | প্রতিষ্ঠা: ২০১০ খ্রিস্টাব্দ (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ) | চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনীর সোনাগাজী নিয়ে দেশের বৃহত্তম শিল্পনগরী ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ (৩০ হাজার একর) গড়ে তোলা হচ্ছে | জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল: আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ); চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল: আনোয়ারা (চট্টগ্রাম); দেশের ১ম হাইটেক পার্ক: কালিয়াকৈর (গাজীপুর) ও ১ম সফটওয়্যার পার্ক: যশোর |
| সার, কাগজ, চিনি, সিমেন্ট ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প | সিলেট, চট্টগ্রাম, চুয়াডাঙ্গা, সুনামগঞ্জ ও খুলনা | ১ম প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক সার কারখানা: ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট, ১৯৬১); বৃহত্তম সার কারখানা: যমুনা (তারাকান্দি, জামালপুর) ও ঘোড়াশাল-পলাশ (নরসিংদী); ১ম কাগজ কল: কর্ণফুলী পেপার মিলস (চন্দ্রঘোনা, রাঙামাটি, ১৯৫৩, কাঁচামাল বাঁশ) | ১ম সিমেন্ট কারখানা: ছাতক সিমেন্ট কারখানা (সুনামগঞ্জ, ১৯৪১, আসাম বেঙ্গল সিমেন্ট নামে); বৃহত্তম চিনিকল ও ডিস্টিলারি: কেরু অ্যান্ড কোং (দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা, ১৯৩৮); ১ম জাহাজ নির্মাণ কারখানা: খুলনা শিপইয়ার্ড (১৯৫৭); আনন্দ শিপইয়ার্ড নির্মিত ১ম রপ্তানি জাহাজ ‘স্টেলা মেরিস’ (ডেনমার্কে রপ্তানি, ২০০৮) |
📋 ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #
| বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি | প্রধান তথ্য ও বিবরণ | অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য | সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| প্রধান খনিজ সম্পদ | বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas) | বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেন ($CH_4$)-এর পরিমাণ সর্বাধিক—প্রায় ৯৫% থেকে ৯৯% (গড়ে ৯৭.৩৩%), যা বিশ্বে অত্যন্ত বিশুদ্ধ গ্যাস হিসেবে বিবেচিত | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| প্রতিষ্ঠা | স্বাধীনতার পর ২৬ মার্চ ১৯৭২ রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ২৭ এর মাধ্যমে গঠিত হয় (পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালের ১১ এপ্রিল জারিকৃত ২১ নং অধ্যাদেশের মাধ্যমে BOGMC বা পেট্রোবাংলা পুনর্গঠিত হয়) | সদর দপ্তর: কারওয়ান বাজার, ঢাকা | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| বাপেক্স (BAPEX) | পূর্ণরূপ Bangladesh Petroleum Exploration and Production Company Limited (১৯৮৯ সালে গঠিত পেট্রোবাংলার অধীনস্থ দেশীয় গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান কোম্পানি) | ১ প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোবাংলা (Petrobangla) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| রপ্তানি আয়ে অবদান | বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮২%–৮৪% আসে তৈরি পোশাক খাত (নিটওয়্যার ও ওভেন গার্মেন্টস) থেকে | তৈরি পোশাক শিল্প (RMG - Ready-Made Garments) — রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| পোশাক শিল্পের যাত্রা | ১৯৬০ সালে ঢাকার উর্দু রোডে ‘রিয়াজ গার্মেন্টস’ যাত্রা শুরু করে এবং ১৯৭৮ সালে রিয়াজ গার্মেন্টস প্রথম ফ্রান্সে ১০ হাজার পিস শার্ট রপ্তানি করে | ১৯৭৯ সালে নূরুল কাদের খানের প্রতিষ্ঠিত ‘দেশ গার্মেন্টস’ (দক্ষিণ কোরিয়ার দাইউ কোম্পানির কারিগরি সহায়তায় চট্টগ্রামে) দেশের প্রথম শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস কারখানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান | একক দেশ হিসেবে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ২য় (১ম চীন, ৩য় ভিয়েতনাম) | তৈরি পোশাক শিল্প (RMG - Ready-Made Garments) — রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (USA) (২য় জার্মানি, ৩য় যুক্তরাজ্য) | তৈরি পোশাক শিল্প (RMG - Ready-Made Garments) — রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| অঞ্চল বা জোট হিসেবে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় | ইউরোপীয় ইউনিয়নে (EU) (মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৫০%+) | তৈরি পোশাক শিল্প (RMG - Ready-Made Garments) — রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| সবুজ কারখানা (LEED Certified Green Factories) | পরিবেশবান্ধব সবুজ পোশাক কারখানার সংখ্যায় বিশ্বে ১ম বাংলাদেশ (যুক্তরাষ্ট্রের USGBC সনদপ্রাপ্ত কারখানা ২২০+ টি | বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সবুজ কারখানার মধ্যে ৯টিই বাংলাদেশে) | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| BGMEA (Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association) | ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত (ওভেন ও সোয়েটার খাত) | তৈরি পোশাক শিল্প (RMG - Ready-Made Garments) — রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| BKMEA (Bangladesh Knitwear Manufacturers and Exporters Association) | ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত (নিটওয়্যার খাত) | তৈরি পোশাক শিল্প (RMG - Ready-Made Garments) — রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| চট্টগ্রাম ইপিজেড (CEPZ — হালিশহর, ১৯৮৩) | দেশের প্রথম ও বৃহত্তম ইপিজেড | ২ ইপিজেড (EPZ), বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (FTZ) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| ঢাকা ইপিজেড (DEPZ — গণকবাড়ী, সাভার, ১৯৯৩) | দেশের দ্বিতীয় ইপিজেড | ২ ইপিজেড (EPZ), বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (FTZ) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| মোংলা ইপিজেড | (বাগেরহাট — ১৯৯৮) | ২ ইপিজেড (EPZ), বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (FTZ) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| ঈশ্বরদী ইপিজেড | (পাবনা — ২০০১) | ২ ইপিজেড (EPZ), বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (FTZ) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| কুমিল্লা ইপিজেড | (কুমিল্লা পুরাতন বিমানবন্দর এলাকা — ২০০০) | ২ ইপিজেড (EPZ), বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (FTZ) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| উত্তরা ইপিজেড | (সৈয়দপুর/সংগলশী, নীলফামারী — ২০০১ | একমাত্র কৃষিভিত্তিক ইপিজেড হিসেবে পরিকল্পিত) | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| আদমজী ইপিজেড | (সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ — ২০০৬ | বন্ধ হওয়া আদমজী পাটকলের স্থানে) | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| কর্ণফুলী ইপিজেড | (পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম — ২০০৬) | ২ ইপিজেড (EPZ), বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (FTZ) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| বেসরকারি ইপিজেড (২টি) | চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরিয়ান ইপিজেড (KEPZ — ১৯৯৯, ইয়ংওয়ান কর্পোরেশন পরিচালিত দেশের প্রথম বেসরকারি ইপিজেড) এবং রাঙ্গুনিয়া ইপিজেড | ২ ইপিজেড (EPZ), বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (FTZ) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| বেজা (BEZA - Bangladesh Economic Zones Authority) | ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত | সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) গড়ে তোলার কাজ করছে | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (২০১০) | গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দেশের প্রথম হাইটেক পার্ক এবং যশোরে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ (দেশের প্রথম আইটি পার্ক) অবস্থিত | ২ ইপিজেড (EPZ), বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (FTZ) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা | বাংলাদেশে প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে এবং সেখান থেকে প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে | ২০২৩ সালের মে মাসে ভোলার সদরে ইলিশা-১ গ্যাসক্ষেত্রটিকে দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা | ১৯৫৭ সালে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুরে উন্নতমানের চিনামাটি বা সাদামাটির সন্ধান পাওয়া যায় | আর দেশের ৫টি কয়লা খনির মধ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে (এবং দিনাজপুরের মধ্যপাড়া থেকে কঠিন শিলা বা গ্রানাইট উত্তোলন করা হচ্ছে) | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |
| তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা | বেপজা (BEPZA) পরিচালিত সরকারি ইপিজেড সংখ্যা ৮টি (চট্টগ্রাম, ঢাকা, মোংলা, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, উত্তরা, আদমজী ও কর্ণফুলী) | আনন্দ শিপইয়ার্ড নির্মিত দেশের প্রথম রপ্তানিকৃত সমুদ্রগামী জাহাজ ‘স্টেলা মেরিস’ ২০০৮ সালে ডেনমার্কে রপ্তানি হয় | ৪০. শিল্প, বাণিজ্য, ইপিজেড ও খনিজ সম্পদ (অর্থনীতি, শিল্প ও মেগাপ্রকল্প) |