টপিক 42 / ৫৮জনসংখ্যা ও সমাজ📖 স্টাডি নোট
টপিক ৪২: জনসংখ্যা ভূগোল, জনশুমারি ২০২২ ও শ্রমশক্তি-জনমিতি
অধ্যায় ৪২: ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এবং জনমিতিক কাঠামো #
১০.১ জনশুমারির ইতিহাস ও ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ (চূড়ান্ত প্রতিবেদন) #
- নাম পরিবর্তন: ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান আইন অনুযায়ী ‘আদমশুমারি’ শব্দের পরিবর্তে বর্তমান দাপ্তরিক নাম ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ (Population and Housing Census)।
- ইতিহাস:
- উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ১৮৭২ সালে লর্ড মেয়োর শাসনামলে।
- দশ বছর অন্তর ধারাবাহিক আদমশুমারি শুরু হয় ১৮৮১ সালে লর্ড রিপনের শাসনামলে।
- স্বাধীন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত মোট জনশুমারি: ৬টি — ১ম (১৯৭৪), ২য় (১৯৮১), ৩য় (১৯৯১), ৪র্থ (২০০১), ৫ম (২০১১) এবং ৬ষ্ঠ (১৫–২১ জুন, ২০২২)।
- পরিচালনাকারী সংস্থা: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS - Bangladesh Bureau of Statistics) (প্রতিষ্ঠা: ২৬ আগস্ট ১৯৭৪; সদর দপ্তর: আগারগাঁও, ঢাকা)।
- ৬ষ্ঠ জনশুমারি ২০২২-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য: দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি (GIS ভিত্তিক ডিজিটাল ম্যাপ ও ট্যাবলেট/CAPI পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়) এবং প্রথমবারের মতো গণনায় প্রবাসীদের ও তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে পৃথকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শুমারি প্রাক্কলন রাত (Census Night) ছিল ১৪ জুন ২০২২ দিবাগত মধ্যরাত (১৫ জুন ০.০০ ঘটিকা)।
বিভাগ ও জেলাভিত্তিক জনসংখ্যা, ঘনত্ব, বৃদ্ধির হার ও সাক্ষরতার শীর্ষ-সর্বনিম্ন ছক (জনশুমারি ২০২২) #
| পরিসংখ্যানিক সূচক | শীর্ষ বিভাগ (সর্বোচ্চ) | সর্বনিম্ন বিভাগ | শীর্ষ জেলা (সর্বোচ্চ) | সর্বনিম্ন জেলা |
|---|---|---|---|---|
| ১. মোট জনসংখ্যায় | ঢাকা বিভাগ (৪.৫৬ কোটি) | বরিশাল বিভাগ (৯৩.২৫ লক্ষ) | ঢাকা জেলা (১.৫২ কোটি) | বান্দরবান জেলা (৪.৯৫ লক্ষ) |
| ২. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারে | ঢাকা বিভাগ (১.৭৪%) | বরিশাল বিভাগ (০.৭৯%) | গাজীপুর জেলা | ঝালকাঠি জেলা |
| ৩. জনসংখ্যার ঘনত্বে | ঢাকা বিভাগ (২,১৫৬ জন/বর্গ কি.মি.) | বরিশাল বিভাগ (৬৮৮ জন/বর্গ কি.মি.) | ঢাকা জেলা (১০,০৭৩ জন/বর্গ কি.মি.) | রাঙামাটি জেলা (১০৬ জন/বর্গ কি.মি.) |
| ৪. সাক্ষরতার হারে (৭ বছর+) | ঢাকা বিভাগ (৭৮.০৯% / বরিশাল ৭৭.৫৭%) | ময়মনসিংহ বিভাগ (৬৭.০৯%) | পিরোজপুর জেলা (৮৫.৪১% / ঢাকা ৮৪.৯%) | জামালপুর জেলা (৬১.৫৩% / বান্দরবান) |
| ৫. আয়তনে (Area) | চট্টগ্রাম বিভাগ (৩৩,৯০৯ বর্গ কি.মি.) | ময়মনসিংহ বিভাগ (১০,৫৮৪ বর্গ কি.মি.) | রাঙামাটি জেলা (৬,১১৬ বর্গ কি.মি.) | নারায়ণগঞ্জ জেলা (৬৮৪ বর্গ কি.মি. — ৬ষ্ঠ জনশুমারি অনুযায়ী; পূর্বে মেহেরপুর ৭১৬ বর্গ কি.মি.) |
| ৬. খানার সংখ্যা ও প্রবাসী আয় | সর্বাধিক খানা: ঢাকা বিভাগে | সর্বনিম্ন খানা: সিলেট বিভাগে | সর্বাধিক প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) গ্রহণকারী খানা: চট্টগ্রাম বিভাগে | — |
অতি গুরুত্বপূর্ণ নোট (ক্ষুদ্রতম জেলা): প্রচলিত পুরাতন বইতে আয়তনে ক্ষুদ্রতম জেলা মেহেরপুর (৭১৬ বর্গ কি.মি.) লেখা থাকলেও ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী আয়তনে বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম জেলা নারায়ণগঞ্জ (৬৮৪ বর্গ কি.মি.)। অপশনে নারায়ণগঞ্জ থাকলে নারায়ণগঞ্জ, না থাকলে মেহেরপুর দাগাতে হবে।
৪২.২ জনশুমারি ও গৃহগণনা — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #
| জনশুমারি সূচক / ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী | প্রধান বসবাসকারী জেলা / অঞ্চল | জনসংখ্যা / ভাষা / পরিবার প্রথা | প্রধান উৎসব, ধর্ম ও পরীক্ষার বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|---|
| ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ (১ম ডিজিটাল শুমারি) | সমগ্র বাংলাদেশ (পরিচালনাকারী সংস্থা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা BBS) | সময়কাল: ১৫–২১ জুন ২০২২ (চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন) | ১ম আদমশুমারি: ১৯৭৪ সালে (২য় ১৯৮১, ৩য় ১৯৯১, ৪র্থ ২০০১, ৫ম ২০১১ ও ৬ষ্ঠ ২০২২); শুমারি ২০২২-এর প্রতিপাদ্য: ‘জনশুমারিতে তথ্য দিন, পরিকল্পিত উন্নয়নে অংশ নিন’ |
| জনসংখ্যার ঘনত্ব, বৃদ্ধির হার ও লিঙ্গানুপাত (২০২২) | বিবিএস চূড়ান্ত প্রতিবেদন ২০২২ ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা | জনসংখ্যার ঘনত্ব: প্রতি বর্গ কিমিতে ১,১১৯ জন (সর্বাধিক ঢাকা বিভাগে ২,১৫৬ জন ও সর্বনিম্ন বরিশাল বিভাগে ৬৮৮ জন) | বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.২২% (সর্বনিম্ন বরিশাল বিভাগে ০.৭৯%); নারী-পুরুষের অনুপাত (Sex Ratio): ৯৮.০৭ : ১০০ (নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি); গড় আয়ু: ৭২.৩ বছর |
| সাক্ষরতার হার ও ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা (২০২২) | ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠী | জাতীয় সাক্ষরতার হার: ৭৪.৬৬% (সর্বাধিক ঢাকা বিভাগে ৭৮.০৯% এবং সর্বনিম্ন ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৭.০৯%; জেলা হিসেবে সর্বাধিক পিরোজপুর/ঢাকা ও সর্বনিম্ন জামালপুর) | ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা: মুসলিম ৯১.০৪%, হিন্দু ৭.৯৫%, বৌদ্ধ ০.৬১%, খ্রিস্টান ০.৩০% এবং অন্যান্য ০.১২% |
📚 অতিরিক্ত মাস্টার তথ্যভাণ্ডার ও জব ফোকাসড রেফারেন্স সারণি #
| বিষয় / ব্যক্তিত্ব / প্রতিষ্ঠান ও সময়কাল | প্রধান পরিচয় / অবস্থান / আইন | মূল কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো | বিসিএস ও সরকারি চাকরি পরীক্ষার বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|---|
| উপমহাদেশ ও বাংলাদেশের জনশুমারির ঐতিহাসিক ক্রমধারা | উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি: ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে (ভাইসরয় লর্ড মেয়ো-এর আমলে) এবং প্রথম নিয়মিত দশ বছর অন্তর শুমারি: ১৮৮১ সালে (লর্ড রিপনের আমলে) | স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়: ১৯৭৪ সালে (২য়: ১৯৮১, ৩য়: ১৯৯১, ৪র্থ: ২০০১, ৫ম: ২০১১) | পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ অনুযায়ী ‘আদমশুমারি’র নাম পরিবর্তন করে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ (Population and Housing Census) রাখা হয়; পরিচালনা করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) |
| ৬ষ্ঠ ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ (সময়কাল ও প্রতিপাদ্য) | শুমারি অনুষ্ঠিত হয়: ১৫–২১ জুন ২০২২ (সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার কারণে ২৮ জুন পর্যন্ত) — দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি (CAPI পদ্ধতিতে ট্যাব ব্যবহার করে) | চূড়ান্ত প্রতিবেদন (PEC জরিপ সমন্বয়সহ) প্রকাশিত হয়: ২৮ নভেম্বর ২০২৩ | প্রতিপাদ্য ছিল: ‘জনশুমারিতে তথ্য দিন, পরিকল্পিত উন্নয়নে অংশ নিন’ (শুমারি পরিচালক: মো. দিলদার হোসেন) |
| দেশের মোট জনসংখ্যা ও লিঙ্গভিত্তিক বিভাজন (জনশুমারি ২০২২ চূড়ান্ত) | সমন্বয়কৃত মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৯১১ জন (প্রায় ১৬.৯৮ কোটি; প্রাথমিক গণনায় ছিল ১৬ কোটি ৫১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন) | পুরুষের সংখ্যা: ৮ কোটি ৪১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৩ জন (৪৯.৫৪%) এবং নারীর সংখ্যা: ৮ কোটি ৫৬ লক্ষ ৮৬ হাজার ৭৮৪ জন (৫০.৪৫%) | তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) জনসংখ্যা: ৮,১২৪ জন (দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জনশুমারিতে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি) |
| জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ও লিঙ্গানুপাত (Sex Ratio) | বার্ষিক গড় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.২২% (২০১১ সালের ৫ম শুমারিতে ছিল ১.৪৬%; ১৯৭৪ সালে ছিল সর্বোচ্চ ২.৬১%) | লিঙ্গানুপাত (প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা): ৯৮:১০০ (বা ৯৮.০৭) | সর্বোচ্চ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ঢাকা বিভাগে (১.৭৪%) এবং সর্বনিম্ন জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বরিশাল বিভাগে (০.৭৯%) |
| জনসংখ্যার ঘনত্ব (Population Density — প্রতি বর্গ কি.মি.) | জাতীয় পর্যায়ে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন (২০১১ সালে ছিল ৯৭৬ জন) | বিভাগ হিসেবে সর্বোচ্চ ঘনত্ব: ঢাকা বিভাগে (২,১৫৬ জন/বর্গ কি.মি.) এবং সর্বনিম্ন ঘনত্ব: বরিশাল বিভাগে (৬৮৮ জন/বর্গ কি.মি.) | জেলা হিসেবে সর্বোচ্চ ঘনত্ব: ঢাকা জেলায় (১০,২৮৯ জন/বর্গ কি.মি.) এবং সর্বনিম্ন ঘনত্ব: রাঙামাটি জেলায় (১০৬ জন/বর্গ কি.মি.) |
| বিভাগ ও জেলাভিত্তিক জনসংখ্যার শীর্ষ ও সর্বনিম্ন অবস্থান | জনসংখ্যায় বৃহত্তম বিভাগ: ঢাকা বিভাগ (৪ কোটি ৫৬ লক্ষ ৪৪ হাজার) এবং ক্ষুদ্রতম বিভাগ: বরিশাল বিভাগ (৯৩ লক্ষ ২৫ হাজার) | জনসংখ্যায় বৃহত্তম জেলা: ঢাকা জেলা (১ কোটি ৫২ লক্ষ ১০ হাজার) এবং ক্ষুদ্রতম জেলা: বান্দরবান জেলা (৪ লক্ষ ৯৫ হাজার) | আয়তনে বৃহত্তম বিভাগ চট্টগ্রাম এবং ক্ষুদ্রতম বিভাগ ময়মনসিংহ; আয়তনে বৃহত্তম জেলা রাঙামাটি (৬,১১৬ বর্গ কি.মি.) ও ক্ষুদ্রতম জেলা নারায়ণগঞ্জ |
| সাক্ষরতার হার (Literacy Rate — ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়স) | জাতীয় সাক্ষরতার হার (জনশুমারি ২০২২): ৭৪.৬৬% (পুরুষ ৭৬.৫৬% এবং নারী ৭২.৮২%; অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ অনুযায়ী ৭৭.৯%) | সাক্ষরতার হারে শীর্ষ বিভাগ: ঢাকা বিভাগ (৭৮.০৯%) এবং সর্বনিম্ন বিভাগ: ময়মনসিংহ বিভাগ (৬৭.০৯%) | সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা: পিরোজপুর (৮৫.৪১%; ২য় ঢাকা ৮৪.৯%) এবং সর্বনিম্ন জেলা: জামালপুর (৬১.৫৩%) |
| ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা ও পল্লী-শহর অনুপাত (জনশুমারি ২০২২) | মুসলমান: ৯১.০৪%, হিন্দু: ৭.৯৫%, বৌদ্ধ: ০.৬১%, খ্রিস্টান: ০.৩০% এবং অন্যান্য: ০.১২% | পল্লী বা গ্রামীণ জনসংখ্যা: ৬৮.৩৪% (১১.৬০ কোটি) এবং শহর বা নগর জনসংখ্যা: ৩১.৬৬% (৫.৩৭ কোটি) | দেশে মোট খানার (Households) সংখ্যা ৪ কোটি ১০ লক্ষ এবং খানার গড় আকার ৪.০ জন (ইতিহাসে সর্বনিম্ন) |
| প্রত্যাশিত গড় আয়ু, প্রজনন হার ও নির্ভরশীলতার অনুপাত (SVRS ও সমীক্ষা) | প্রত্যাশিত গড় আয়ু (Life Expectancy — BBS SVRS): ৭২.৩ বছর (পুরুষ ৭০.৮ বছর এবং নারী ৭৩.৮ বছর) | মোট প্রজনন হার বা TFR (Total Fertility Rate — ১৫–৪৯ বছর বয়সী নারীর গড় সন্তান সংখ্যা): ২.১৫ | জনমিতিক লভ্যাংশ বা Demographic Dividend: দেশের মোট জনসংখ্যার ৬৫.০৮% কর্মক্ষম বয়সী (১৫–৬৪ বছর), যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুবর্ণ সুযোগ |