টপিক 43 / ৫৮জনসংখ্যা ও সমাজ📖 স্টাডি নোট

টপিক ৪৩: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সংস্কৃতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি (১৯৯৭)

অধ্যায় ৪৩: শিল্প, বাণিজ্য খাত, EPZ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল (BEZA) #

🎎 ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উৎসব, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থা #

  • মাতৃতান্ত্রিক পরিবার: গারো (মান্দি) ও খাসিয়াদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক। গারোদের প্রধান দেবতা তাতারা রাবুগা এবং প্রধান উৎসব ওয়ানগালা (নবান্ন উৎসব)।
  • পিতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠী: চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, হাজং ইত্যাদি।
  • মণিপুরী নৃত্য ও ভাষা: সিলেটের কমলগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বসবাসরত মণিপুরীদের প্রধান উৎসব রাস উৎসব। এদের ভাষা মৈতৈ ও বিষ্ণুপ্রিয়া।

১০.২ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী / উপজাতি (৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) #

  • সাংবিধানিক স্বীকৃতি: সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: “রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।”
  • মোট সংখ্যা: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০-এর তফসিল সংশোধন করে ২৩ মার্চ ২০১৯ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশিত গেজেট এবং ৬ষ্ঠ জনশুমারি ২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি।
  • মোট জনসংখ্যা (জনশুমারি ২০২২): ১৬,৫০,১৫৯ জন (দেশের মোট জনসংখ্যার ০.৯৯% বা প্রায় ১%)।
  • জনসংখ্যায় শীর্ষ ৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী:
    1. চাকমা (৪,৮৩,২৯৯ জন — বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী)
    2. মারমা (২,২৪,২৬১ জন — দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী)
    3. সাঁওতাল (১,২৯,০৪৯ জন — সমতলের অন্যতম বৃহত্তম)
    4. ত্রিপুরা (১,৫৬,৫৭৮ জন)
    5. গারো (মান্দি), ওঁরাও, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো (মুরং), বম, খাসিয়া, মণিপুরি, রাখাইন, হাজং, রাজবংশী।
  • পারিবারিক কাঠামো (পিতৃতান্ত্রিক বনাম মাতৃতান্ত্রিক):
    • বাংলাদেশে কেবল ২টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মাতৃতান্ত্রিক (Matriarchal): ১. গারো (মান্দি) এবং ২. খাসিয়া (খাসি)। (এছাড়া সাঁওতালদের একাংশে পূর্বে কিছু রীতি থাকলেও চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, ত্রিপুরা, মণিপুরি, রাখাইন, হাজং, ওঁরাও, ম্রো—বাকি সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীই পিতৃতান্ত্রিক)।

বাংলাদেশের প্রধান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহের পূর্ণাঙ্গ তুলনামূলক ছক (বসবাস, ভাষা, ধর্ম ও উৎসব) #

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রধান বসবাসস্থল (জেলা) নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী ও ভাষা ধর্ম ও প্রধান ধর্মগ্রন্থ সামাজিক প্রথা ও প্রধান উৎসব
১. চাকমা (Chakma) (বৃহত্তম) রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান মঙ্গোলীয়; ভাষা: চাকমা (চাংমা) — নিজস্ব বর্ণমালা আছে (ইন্দো-আর্য ভাষাগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কিত)। বৌদ্ধ ধর্ম; ধর্মগ্রন্থ: ত্রিপিটক। পিতৃতান্ত্রিক। প্রধান উৎসব: ‘বিজু’ (চৈত্র সংক্রান্তির শেষ দুই দিন ফুল বিজু ও মূল বিজু এবং পহেলা বৈশাখ গজ্যাপজ্যা দিন), ফাল্গুনী পূর্ণিমা, কঠিন চীবর দান। গ্রামপ্রধানকে বলে ‘কার্বারি’, মৌজাপ্রধানকে ‘হেডম্যান’ এবং সার্কেল প্রধানকে ‘চাকমা রাজা’। ঐতিহ্যবাহী পোশাক: পিনন ও হাদি; বাঁশের কোড়ল দিয়ে তৈরি প্রিয় খাবার: ‘বঁাশ কোড়ল’।
২. মারমা (Marma) (২য় বৃহত্তম) বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি মঙ্গোলীয়; ভাষা: মারমা (বর্মী লিপি)। বৌদ্ধ ধর্ম। পিতৃতান্ত্রিক। প্রধান উৎসব: ‘সাংগ্রাই’ (নববর্ষে ‘পানি খেলা’ বা জলকেলি উৎসব)। গ্রামপ্রধানকে বলে ‘রোয়াজা’। বান্দরবানে বোমাং সার্কেল এবং খাগড়াছড়িতে মং সার্কেল অবস্থিত। খাবার: ‘নাপ্পি’ (শুঁটকি পেস্ট)।
৩. ত্রিপুরা (Tipra) খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কুমিল্লা ও সিলেট মঙ্গোলীয়; ভাষা: ‘ককবরক’ (Kokborok) — বর্ণমালাহীন মুখের ভাষা। সনাতন (হিন্দু) ধর্ম (তবে কিছু খ্রিস্টান)। পিতৃতান্ত্রিক (মোট ৩৬টি গোত্র বা দফা আছে)। প্রধান উৎসব: ‘বৈসু’ (হারি বৈসু, বিশুমা ও বিসিকাতাল)। ঐতিহ্যবাহী নৃত্য: ‘গরাইয়া নৃত্য’ ও বোতল নৃত্য। নারীদের পোশাক: রিনাই ও রিসা।
৪. সাঁওতাল (Santal) রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়া (উত্তরবঙ্গ) অস্ট্রিক / প্রাক-দ্রাবিড়ীয় (কালো গাত্রবর্ণ); ভাষা: সাঁওতালি (আচিক/অস্ট্রো-এশিয়াটিক)। প্রকৃতি পূজারী (‘বোঙ্গা’ বা মারাং বুরু প্রধান দেবতা), হিন্দু ও খ্রিস্টান। পিতৃতান্ত্রিক। প্রধান উৎসব: ‘সোহরাই’ (পৌষ মাসে ফসল তোলার উৎসব), ‘বাহা’ (বসন্ত উৎসব), এরোকসিম ও হরিয়ার সিম। নৃত্য: ঝুমুর ও দোন নাচ। গ্রামপ্রধানকে বলে ‘মাঝি’। বিদ্রোহ: ১৮৫৫ সাঁওতাল বিদ্রোহ ও তেভাগা।
৫. গারো (Garo / Mandi) ময়মনসিংহ (হালুয়াঘাট), টাঙ্গাইল (মধুপুর), নেত্রকোনা (দুর্গাপুর/বিরিশিরি), শেরপুর ও গাজীপুর মঙ্গোলীয় (তিব্বত থেকে আগত); নিজেদের ‘মান্দি’ (মানুষ) পরিচয় দিতে পছন্দ করে। ভাষা: ‘আচিক কুসক’ (মান্দি)। ঐতিহ্যবাহী ধর্ম ‘সাংসারেক’ (প্রধান দেবতা তাতারা রাবুগা ও সালজং); বর্তমানে ৯০%+ খ্রিস্টান। মাতৃতান্ত্রিক পরিবার (সন্তান মায়ের পদবি বা ‘মাহারি’ পায়; সর্বকনিষ্ঠ কন্যা ‘নকনা’ পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়)। প্রধান উৎসব: ‘ওয়ানগালা’ (নতুন শস্য তোলার উৎসব — সূর্যদেবতা সালজংয়ের উদ্দেশ্যে)। ঐতিহ্যবাহী পোশাক: দকমান্দা ও দকসারি।
৬. খাসিয়া (Khasi) সিলেট, মৌলভীবাজার (শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, বড়লেখা) ও হবিগঞ্জ মঙ্গোলীয়; ভাষা: ‘মনখেমে’ (Mon-Khmer)। প্রধান জীবিকা: পান চাষ (খাসিয়া পান)। প্রকৃতি ও পূর্বপুরুষ পূজারী (প্রধান দেবতা উব্লাই নাংথৌ) এবং খ্রিস্টান। মাতৃতান্ত্রিক পরিবার (কনিষ্ঠ কন্যা ‘কা খাতদুহ’ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়)। গ্রামকে বলে ‘পুঞ্জি’ এবং পুঞ্জি প্রধানকে বলে ‘মন্ত্রী’। অতিথি আপ্যায়নে পান-সুপারি ও চা আবশ্যক। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি খাসিয়া সম্প্রদায়ের।
৭. মণিপুরি (Manipuri) মৌলভীবাজার (কমলগঞ্জ), সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ মঙ্গোলীয় (ভারতের মণিপুর থেকে আগত); ২টি ভাষা: ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’ ও ‘মৈতৈ’। বৈষ্ণব (সনাতন) ধর্ম ও ইসলাম (পাঙাল বা মুসলিম মণিপুরি)। পিতৃতান্ত্রিক। বিশ্বখ্যাত ‘মণিপুরি নৃত্য’ ও প্রধান উৎসব ‘মহারাসলীলা’ (রাসপূর্ণিমা) ও রথযাত্রা। মণিপুরি তাঁতশিল্প অত্যন্ত বিখ্যাত।
৮. রাখাইন (Rakhine) পটুয়াখালী (কুয়াকাটা/কলাপাড়া), বরগুনা (তালতলী) ও কক্সবাজার মঙ্গোলীয় (মিয়ানমারের আরাকান থেকে আগত); ভাষা: রাখাইন। বৌদ্ধ ধর্ম। পিতৃতান্ত্রিক; সমুদ্র উপকূলে মাচার ওপর ঘর (‘টং ঘর’) তৈরি করে বাস করে। প্রধান উৎসব: ‘সাংগ্রাই’ (জলকেলি উৎসব) ও বুদ্ধপূর্ণিমা। পুরুষদের পোশাক লুঙ্গি এবং নারীদের লুঙ্গি ও ব্লাউজ।
৯. ম্রো বা মুরং (Mro) বান্দরবান (চিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশে) মঙ্গোলীয়; ভাষা: ম্রো (তিব্বতীয়-বর্মী)। ‘ক্রামা’ ধর্ম (প্রবর্তক: মেনলে ম্রো) ও বৌদ্ধ ধর্ম। পিতৃতান্ত্রিক; বাড়িকে বলে ‘কিম’। ঐতিহ্যবাহী উৎসব: ‘চাংক্রান’ ও গো-হত্যা উৎসব ‘ছিয়াসত প্লাই’; বাঁশের তৈরি বাদ্যযন্ত্র ‘প্লুং’।
১০. হাজং, রাজবংশী, ওঁরাও ও পাঙন • হাজং: নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ (হাজংদের বসবাস নেই: সিলেট জেলায়)।
• রাজবংশী: রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী।
• ওঁরাও (কুরুক/সাদ্রি ভাষা): রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, রংপুর (উৎসব: ‘কারাম’ বা ফাগুয়া)।
• পাঙন (মুসলিম উপজাতি): মৌলভীবাজার (কমলগঞ্জ)।
— হাজং ও রাজবংশীরা সনাতন ধর্মাবলম্বী; পাঙনরা একমাত্র শতভাগ মুসলিম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান (৭টি): ১ম বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি, দুর্গাপুর, নেত্রকোনা (১৯৭৭); ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট রাঙামাটি (১৯৭৮), বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, রাজশাহী (রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি) এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরি ললিতকলা একাডেমি।

১০.৪ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও জনশুমারি মনে রাখার মাস্টার শর্টকাট ট্রিকস #

  • পার্বত্য চট্টগ্রামের (রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি) ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মনে রাখার কৌশল:
    "চাকমা মারমা ত্রিপুরা তঞ্চঙ্গ্যা ম্রো বম পাংখোয়া লুসাই খুমি খেয়াং চাক কুকি গুর্খা"
    (পার্বত্য চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি বাস করে চাকমা — রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে; ২য় মারমা — বান্দরবানে সর্বাধিক; বান্দরবানে ম্রো/মুরং, বম, খুমি, খেয়াং ও তঞ্চঙ্গ্যারা বাস করে)।
  • সমতল ও উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মনে রাখার কৌশল:
    • ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল (মধুপুর), নেত্রকোনা (বিরিশিরি) ও শেরপুর: গারো (মান্দি), হাজং, কোচ, ডালু, বানাই, হদি। (সিলেটে হাজং নেই — ৩৭তম বিসিএস প্রশ্ন)।
    • সিলেট ও মৌলভীবাজার: খাসিয়া (খাসি), মণিপুরি, পাত্র, পাঙন (একমাত্র শতভাগ মুসলিম উপজাতি)।
    • রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও নওগাঁ (উত্তরবঙ্গ): সাঁওতাল, ওঁরাও (৪৩তম বিসিএস প্রশ্ন), রাজবংশী (রংপুর), মুণ্ডা, মালপাহাড়ি, মাহাতো, কোল।
    • পটুয়াখালী (কুয়াকাটা), বরগুনা ও কক্সবাজার: রাখাইন।
  • স্বাধীন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ৬টি জনশুমারির সাল মনে রাখার কৌশল:
    ১৯৭৪ (১ম — বঙ্গবন্ধু) ➔ ১৯৮১ (২য় — জিয়া) ➔ ১৯৯১ (৩য় — সাহাবুদ্দীন/খালেদা জিয়া) ➔ ২০০১ (৪র্থ) ➔ ২০১১ (৫ম) ➔ ২০২২ (৬ষ্ঠ — প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি)।
  • স্বাধীন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ৪টি কৃষি শুমারির সাল (৪৩তম বিসিএস প্রশ্ন — কোন সালে কৃষি শুমারি হয়নি?):
    কৃষি শুমারি হয়েছে: ১৯৭৭ (১ম), ১৯৮৩–৮৪ (২য়), ১৯৯৬ (৩য়), ২০০৮ (৪র্থ) এবং ২০১৯ (৫ম)। (২০১৫ সালে কোনো কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়নি!)

৪৩.২ শিল্প ও বাণিজ্য খাত — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #

জনশুমারি সূচক / ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রধান বসবাসকারী জেলা / অঞ্চল জনসংখ্যা / ভাষা / পরিবার প্রথা প্রধান উৎসব, ধর্ম ও পরীক্ষার বিশেষ তথ্য
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা ও শুমারি তথ্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০ (সংশোধিত ২০১৯ গেজেট) সরকারি গেজেট অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি (জনশুমারি ২০২২ অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ১৬,৫০,১৫৯ জন বা মোট জনসংখ্যার ০.৯৯%) সর্বাধিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস চট্টগ্রাম বিভাগে (বিশেষত পার্বত্য চট্টগ্রামে ১১টি নৃগোষ্ঠী); বাংলাদেশে মাত্র ২টি নৃগোষ্ঠী মাতৃতান্ত্রিক: গারো (মান্দি) ও খাসিয়া (খাসি)—বাকি ৪৮টি নৃগোষ্ঠী পিতৃতান্ত্রিক
চাকমা (সংখ্যায় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পিতৃতান্ত্রিক পরিবার; নিজস্ব ভাষা ‘চাঙ্গমা’ (লিপি আছে); গ্রামপ্রধানকে বলা হয় ‘কার্বারি’ এবং মৌজাপ্রধানকে ‘হেডম্যান’ (সর্বোচ্চ প্রধান ‘চাকমা রাজা’) ধর্ম: বৌদ্ধ; প্রধান উৎসব: ‘বিজু’ (চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ—ফুল বিজু, মূল বিজু ও গজ্যা পজ্যা দিন); ঐতিহ্যবাহী পোশাক: পিনন ও হাদি; জুম চাষ করে
মারমা (সংখ্যায় ২য় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পিতৃতান্ত্রিক পরিবার; ভাষা ‘মারমা’ (বর্মি ভাষার সমগোত্রীয়, নিজস্ব বর্ণমালা আছে); সার্কেল প্রধান ‘বোমাং রাজা’ (বান্দরবান) ও ‘মং রাজা’ (খাগড়াছড়ি) ধর্ম: বৌদ্ধ; প্রধান উৎসব: ‘সাংগ্রাই’ ও জনপ্রিয় ‘পানি খেলা’ (মৈত্রী পানি বর্ষণ); ঐতিহ্যবাহী পোশাক: থামি ও আঙ্গি
সাঁওতাল (সমতলের বৃহত্তম ও দেশের ৩য় বৃহত্তম) রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ (বরেন্দ্র অঞ্চল) পিতৃতান্ত্রিক পরিবার; ভাষা ‘সাঁওতালি’ (অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত); গ্রামপ্রধান ‘মাঝি’ ধর্ম: সনাতন ও খ্রিস্টান (প্রধান দেবতা ‘সিংবোঙ্গা’ বা সূর্যদেবতা); প্রধান উৎসব: ‘সোহরাই’, ‘বাহা’ ও ‘দাঁশাই’; ঝুমুর নাচ বিখ্যাত; ১৮৫৫ সালে সিধু ও কানুর নেতৃত্বে সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়
ত্রিপুরা (তিপরা — সংখ্যায় ৪র্থ বৃহত্তম) খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কুমিল্লা ও সিলেট পিতৃতান্ত্রিক পরিবার; ভাষা ‘ককবরক’ (তিব্বতি-বর্মি ভাষা গোষ্ঠী); দল বা গোত্রকে বলা হয় ‘দফা’ (মোট ৩৬টি দফা) ধর্ম: সনাতন (হিন্দু) ও খ্রিস্টান; প্রধান উৎসব: ‘বৈসু’ (হারি বৈসু, বিসুমা ও বিসিকাতাল); ঐতিহ্যবাহী নৃত্য: ‘গরাইয়া নৃত্য’ ও ‘বোতল নৃত্য’ [ত্রিপুরাদের বৈসু + মারমাদের সাংগ্রাই + চাকমাদের বিজু = ‘বৈসাবি’]
গারো বা মান্দি (মাতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠী) ময়মনসিংহ (হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া), টাঙ্গাইল (মধুপুর), নেত্রকোনা (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) ও শেরপুর মাতৃতান্ত্রিক পরিবার (সন্তান মায়ের গোত্র বা ‘মাহারি’ ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার পায়; প্রধান গোত্র সাংমা ও মারাক); ভাষা ‘আচিক খুসিক’ বা মান্দি ঐতিহ্যবাহী ধর্ম: ‘সাংসারেক’ (বর্তমানে অধিকাংশ খ্রিস্টান); প্রধান কৃষি ও ফসল তোলার উৎসব: ‘ওয়ানগালা’ (সূর্যদেবতা মিসি সালজংয়ের উদ্দেশ্যে); ঐতিহ্যবাহী পোশাক: দকমান্দা ও দকশাড়ি
খাসিয়া বা খাসি (মাতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠী) মৌলভীবাজার (শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, বড়লেখা), সিলেট ও হবিগঞ্জ মাতৃতান্ত্রিক পরিবার (কনিষ্ঠ কন্যা বা ‘কা খাতদুহ’ পারিবারিক সম্পত্তির প্রধান উত্তরাধিকারী হয়); গ্রামকে বলা হয় ‘পুঞ্জি’ এবং গ্রামপ্রধানকে ‘মন্ত্রী’ ভাষা: ‘মনখেমে’; প্রধান পেশা: পান ও সুপারি চাষ (‘খাসিয়া পান’); অতিথি আপ্যায়নে পান-সুপারি ও চা পরিবেশন আবশ্যক
মণিপুরি নৃগোষ্ঠী মৌলভীবাজার (কমলগঞ্জ/ভানুগাছ), সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ পিতৃতান্ত্রিক পরিবার; ৩টি গোত্রে বিভক্ত: মৈতৈ, বিষ্ণুপ্রিয়া ও পাঙন (মুসলিম মণিপুরি); ভাষা: মৈতৈ ও বিষ্ণুপ্রিয়া (নিজস্ব লিপি আছে) ধর্ম: বৈষ্ণব (সনাতন) ও ইসলাম (পাঙন); প্রধান উৎসব: ‘রাসপূর্ণিমা’ বা মণিপুরি রাসলীলা (শরৎ-হেমন্তে কমলগঞ্জের মাধবপুর জোড়মণ্ডপে অনুষ্ঠিত) ও ‘লাই হারাওবা’; মণিপুরি নৃত্য ও মণিপুরি শাড়ি বিশ্বখ্যাত
রাখাইন নৃগোষ্ঠী পটুয়াখালী (কলাপাড়া/কুয়াকাটা), বরগুনা (তালতলী) ও কক্সবাজার পিতৃতান্ত্রিক পরিবার; আরাকান অঞ্চল থেকে আগত (‘রাখাইন’ শব্দের অর্থ রক্ষণশীল জাতি); মাচার ওপর নির্মিত বাড়িকে বলা হয় ‘টংঘর’ ধর্ম: বৌদ্ধ; প্রধান উৎসব: ‘সাংগ্রাং’ বা জলকেলি উৎসব এবং প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস ওড়ানো; পুরুষদের পোশাক ‘লুঙ্গি’ ও নারীদের ‘থামি’
ওঁরাও, হাজং, ম্রো (মুরং), বম ও তঞ্চঙ্গ্যা উত্তরবঙ্গ (ওঁরাও), নেত্রকোনা-শেরপুর (হাজং) এবং বান্দরবান-রাঙামাটি (ম্রো, বম, তঞ্চঙ্গ্যা) ওঁরাওদের ভাষা ‘কুড়ুখ’ ও ‘সাদরি’, প্রধান উৎসব ‘কারাম’ ও ‘ফাগুয়া’ (প্রধান দেবতা ধার্মেস); হাজংরা ‘টংক আন্দোলন’ (১৯৪৬-৫০, কুমুদিনী হাজং ও রাসমণি হাজং) ও হাতি খেদা আন্দোলনের জন্য বিখ্যাত ম্রো বা মুরং (বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে বসবাস): নিজস্ব লিপি ‘ক্রামা’ (উদ্ভাবক মেনলে ম্রো), উৎসব ‘ছিয়াং ওয়াত’ (গো-হত্যা উৎসব) ও ‘পুষ্প পূজা’; বম ও লুসাইদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ‘চেলাম’ বা ‘বাঁশ নৃত্য’; তঞ্চঙ্গ্যাদের উৎসব ‘বিষু’

📋 ৪৩. ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #

বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি প্রধান তথ্য ও বিবরণ অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব
সাংবিধানিক স্বীকৃতি সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: “রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন ” ৪৩. ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি (জনসংখ্যা ও সমাজ)
মোট সংখ্যা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০-এর তফসিল সংশোধন করে ২৩ মার্চ ২০১৯ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশিত গেজেট এবং ৬ষ্ঠ জনশুমারি ২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি ২ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী / উপজাতি (৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৩. ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি (জনসংখ্যা ও সমাজ)
মোট জনসংখ্যা (জনশুমারি ২০২২) ১৬,৫০,১৫৯ জন (দেশের মোট জনসংখ্যার ০.৯৯% বা প্রায় ১%) ২ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী / উপজাতি (৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৩. ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি (জনসংখ্যা ও সমাজ)
চাকমা (৪,৮৩,২৯৯ জন — বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) ২ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী / উপজাতি (৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৩. ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি (জনসংখ্যা ও সমাজ)
মারমা (২,২৪,২৬১ জন — দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) ২ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী / উপজাতি (৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৩. ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি (জনসংখ্যা ও সমাজ)
সাঁওতাল (১,২৯,০৪৯ জন — সমতলের অন্যতম বৃহত্তম) ২ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী / উপজাতি (৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৩. ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি (জনসংখ্যা ও সমাজ)
ত্রিপুরা (১,৫৬,৫৭৮ জন) ২ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী / উপজাতি (৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৩. ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি (জনসংখ্যা ও সমাজ)
গারো (মান্দি) , ওঁরাও, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো (মুরং), বম, খাসিয়া, মণিপুরি, রাখাইন, হাজং, রাজবংশী ২ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী / উপজাতি (৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৩. ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি (জনসংখ্যা ও সমাজ)
তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ২০১৯ সালের সরকারি গেজেট এবং ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুসারে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি আর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল (মধুপুর) এবং নেত্রকোনার দুর্গাপুরের ‘বিরিশিরি’ অঞ্চলে গারো (মান্দি) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে (বিরিশিরিতেই ১৯৭৭ সালে দেশের প্রথম উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়) ৪৩. ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি (জনসংখ্যা ও সমাজ)
তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা হাজং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রধানত ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলায় বসবাস করে সিলেটে হাজংদের বসবাস নেই (সিলেটে খাসিয়া, মণিপুরি ও পাত্ররা বাস করে) ৪৩. ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি (জনসংখ্যা ও সমাজ)