টপিক 44 / ৫৮ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্জন📖 স্টাডি নোট

টপিক ৪৪: বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শনসমূহ

অধ্যায় ৪৪: প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, কেল্লা ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য #

১৪.২ বাংলাদেশের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, বৌদ্ধবিহার, মসজিদ ও স্থাপত্য #

কাঠামোগত ডায়াগ্রাম ও সূত্র রূপরেখা বাংলাদেশের প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য প্রাচীন বিহার ও নগর থেকে সুলতানি-মুঘল মসজিদ, কেল্লা ও রাজপ্রাসাদ ১. প্রাচীন প্রত্নস্থল ও বিহার • মহাস্থানগড় (বগুড়া) প্রাচীন পুণ্ড্রনগর; ব্রাহ্মী লিপি • সোমপুর মহাবিহার (নওগাঁ) পাহাড়পুর; ধর্মপাল নির্মিত (UNESCO) • ময়নামতি ও শালবন বিহার কুমিল্লা (লালমাই); দেববংশ • উয়ারী-বটেশ্বর (নরসিংদী) আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন নগর • কান্তজিউ মন্দির (দিনাজপুর) ১৭৫২ সালে নির্মিত টেরাকোটা স্থাপত্য ২. সুলতানি ও মুঘল মসজিদ • ষাটগম্বুজ মসজিদ (বাগেরহাট) খাঁন জাহান আলী; ৮১ গম্বুজ (UNESCO) • ছোট সোনা মসজিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সুলতানি আমল (আলাউদ্দিন হোসেন শাহ) • বাঘা মসজিদ (রাজশাহী) ১৫২৩ খ্রি. সুলতান নুসরত শাহ নির্মিত • তারা মসজিদ ও সাতগম্বুজ মসজিদ ঢাকা; মুঘল সুবেদারি আমল • বিনত বিবির মসজিদ (১৪৫৭) ঢাকার প্রাচীনতম মুসলিম স্থাপত্য ৩. দুর্গ, প্রাসাদ ও স্মৃতিস্তম্ভ • লালবাগ কেল্লা (১৬৭৮, ঢাকা) শুরু সুবেদার আজম শাহ; পরীবিবির মাজার • আহসান মঞ্জিল (বুড়িগঙ্গা তীর) ঢাকার নবাবদের ঐতিহাসিক প্রাসাদ • পানাম নগর (সোনারগাঁও) প্রাচীন বাংলার সুপ্রাচীন বাণিজ্যিক নগর • ইদ্রাকপুর কেল্লা (মুন্সীগঞ্জ) মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যু দমনে মীর জুমলা • বড় কাটরা ও ছোট কাটরা শাহ সুজা ও শায়েস্তা খাঁ নির্মিত কাফেলা সরাই

১. প্রাচীন প্রত্নস্থল ও বৌদ্ধবিহারসমূহের বিস্তারিত বিবরণ #

প্রত্নস্থলের নাম অবস্থান (জেলা ও উপজেলা) নির্মাতা / সময়কাল প্রধান বৈশিষ্ট্য ও প্রাপ্ত নিদর্শন
১. মহাস্থানগড় (পুণ্ড্রনগর) শিবগঞ্জ উপজেলা, বগুড়া (করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে) মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন যুগ (খ্রি.পূ. ৪র্থ শতক থেকে) বাংলার সর্বপ্রাচীন নগরী। ১৮৭৯ সালে ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম একে প্রাচীন পুণ্ড্রনগর হিসেবে শনাক্ত করেন। দর্শনীয় স্থান: হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহ.) মাহীসওয়ারের মাজার, বেহুলার বাসরঘর (গোকুল মেধ), খোদার পাথর ভিটা, বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা, পরশুরামের প্রাসাদ, জিয়ত কুণ্ড ও শীলাদেবীর ঘাট। ২০১৬–১৭ সালে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী ছিল।
২. ভাসু বিহার শিবগঞ্জ, বগুড়া (মহাস্থানগড় থেকে ৬ কি.মি. পশ্চিমে) পাল যুগ প্রাচীন ‘পো-শি-পো’ বিহার (চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এখানে ৭০০ বৌদ্ধ ভিক্ষুর কথা উল্লেখ করেছেন)।
৩. পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার (সোমপুর মহাবিহার) বদলগাছী উপজেলা, নওগাঁ পাল সম্রাট ধর্মপাল (৮ম শতক) ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তম একক বৌদ্ধবিহার (১৭৭টি ভিক্ষু কক্ষ ও কেন্দ্রে ক্রুশাকার মন্দির)। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য (৩২২তম) হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
৪. ময়নামতি ও শালবন বিহার কোটবাড়ী, লালমাই, কুমিল্লা দেব বংশের রাজা শ্রী ভবদেব (৮ম শতক) প্রাচীন নাম ‘ভবদেব মহাবিহার’ (১১৫টি কক্ষ)। ময়নামতির অন্যান্য নিদর্শন: আনন্দ বিহার, ভোজ বিহার, কুটিলা মুড়া (ত্রিরত্ন স্তূপ), ইটাখোলা মুড়া, রূপবান মুড়া, চারপত্র মুড়া ও রানী ময়নামতির প্রাসাদ।
৫. উয়ারী-বটেশ্বর বেলাব ও শিবপুর উপজেলা, নরসিংদী (আড়িয়াল খাঁ ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায়) খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দ (মৌর্য ও প্রাক-মৌর্য যুগ) প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গনগরী ও আন্তর্জাতিক নদীবন্দর (টলেমির উল্লেখিত ‘সৌনাগৌড়া’)। ১৯৩৩ সালে স্কুলশিক্ষক হানিফ পাঠান ও তাঁর পুত্র হাবিবুল্লাহ পাঠান এটি প্রথম তুলে ধরেন এবং ২০০০ সাল থেকে জাবির অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান খননকাজ পরিচালনা করেন। এখানে ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রা, স্বল্পমূল্য পাথরের পুঁতি ও উপমহাদেশের প্রাচীনতম ইটের স্থাপত্য পাওয়া গেছে।
৬. সীতাকোট বিহার নবাবগঞ্জ উপজেলা, দিনাজপুর খ্রিস্টীয় ৬ষ্ঠ–৭ম শতক বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীনতম বৌদ্ধবিহার (৪১টি কক্ষ)।
৭. জগদ্দল মহাবিহার ও হলুদ বিহার ধামইরহাট ও বদলগাছী, নওগাঁ পাল রাজা রামপাল (১১শ শতক) বজ্রযান বৌদ্ধ শিক্ষা ও সংস্কৃত সাহিত্যের কেন্দ্র ছিল (সুভাষিতরত্নকোষ এখানে সংকলিত হয়)।
৮. বিক্রমপুরী বৌদ্ধবিহার রঘুরামপুর, সদর, মুন্সীগঞ্জ চন্দ্র ও সেন যুগ (১০ম–১১শ শতক) ২০১৩ সালে আবিষ্কৃত; মহাপণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের স্মৃতিবিজড়িত।

২. সুলতানি, মুঘল ও ব্রিটিশ আমলের বিখ্যাত স্থাপত্য, মসজিদ, দুর্গ ও প্রাসাদ #

স্থাপত্যের নাম অবস্থান নির্মাতা ও নির্মাণকাল বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও পরীক্ষায় আসা তথ্য
ষাট গম্বুজ মসজিদ সুন্দরঘোনা, বাগেরহাট হযরত খান জাহান আলী (রহ.) (১৫শ শতক — সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে) বাংলাদেশে সুলতানি আমলের বৃহত্তম মসজিদ। নাম ষাট গম্বুজ হলেও এতে মোট গম্বুজ ৮১টি (মূল ছাদে ৭৭টি + চার কোণের ৪টি মিনারে ৪টি) এবং ভেতরে স্তম্ভ (পিলার) রয়েছে ৬০টি। মসজিদের পাশে ‘ঘোড়াদীঘি’ ও খান জাহান আলীর মাজারের সামনে ‘ঠাকুরদীঘি’ (খাঞ্জেলী দীঘি) অবস্থিত। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষিত হয়।
বিনত বিবির মসজিদ নারিন্দা, পুরান ঢাকা মরমাত (বিনত বিবির পিতা) — ১৪৫৭ খ্রিস্টাব্দে সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে নির্মিত ঢাকা শহরের সর্বপ্রথম ও প্রাচীনতম মসজিদ।
ছোট সোনা মসজিদ ও বড় সোনা মসজিদ শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ (প্রাচীন গৌড়) • ছোট সোনা: ওয়ালী মুহাম্মদ (আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে, ১৪৯৩–১৫১৯)
• বড় সোনা: সুলতান নুসরত শাহ (১৫২৬)
ছোট সোনা মসজিদকে ‘গৌড়ের রত্ন’ বলা হয় (এর গম্বুজগুলোতে সোনার গিল্টি বা কারুকাজ ছিল)। এর প্রাঙ্গণে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ও মেজর নাজমুল হকের সমাধি রয়েছে।
কুসুম্বা মসজিদ মান্দা উপজেলা, নওগাঁ সুলায়মান (গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহের আমলে, ১৫৫৮ খ্রি.) কালো ব্যাসল্ট পাথরে নির্মিত; বাংলাদেশের ৫ টাকার নোটে কুসুম্বা মসজিদের ছবি রয়েছে।
বাঘা মসজিদ বাঘা উপজেলা, রাজশাহী সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহ (১৫২৩ খ্রি.) পোড়ামাটির টেরাকোটা অলংকরণে সমৃদ্ধ; ৫০ টাকার নোটে চিত্রিত।
আতিয়া জামে মসজিদ দেলদুয়ার, টাঙ্গাইল সৈয়দ খান পন্নী (১৬০৯ খ্রি.) করটিয়ার জমিদার কর্তৃক নির্মিত; পুরাতন ১০ টাকার নোটে এর ছবি ছিল।
তারা মসজিদ আরমানিটোলা, পুরান ঢাকা মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান) (১৮শ শতক) জাপানি ও ব্রিটিশ রঙিন চিনামাটির টুকরা (‘চিনিটিকরি’ পদ্ধতি) দিয়ে তারকাখচিত নকশা করা।
সাত গম্বুজ মসজিদ মোহাম্মদপুর (জাপান গার্ডেন সিটির কাছে), ঢাকা সুবেদার শায়েস্তা খান (১৬৮০ খ্রি.) ৩টি মূল গম্বুজ ও ৪ কোণে ৪টি মিনার গম্বুজ মিলিয়ে মোট ৭টি গম্বুজ।
লালবাগ কেল্লা (আওরঙ্গবাদ দুর্গ) লালবাগ, পুরান ঢাকা সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র যুবরাজ মোহাম্মদ আজম ১৬৭৮ সালে শুরু করেন এবং সুবেদার শায়েস্তা খান নির্মাণ এগিয়ে নেন ১৬৮৪ সালে শায়েস্তা খানের কন্যা ইরান দুখত রাহমাত বানু (পরীবিবি) মারা গেলে দুর্গটিকে অপয়া মনে করে নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রাখা হয়। ভেতরে রয়েছে: পরীবিবির মাজার (ভারতে মার্বেল ও কষ্টিপাথরে নির্মিত), দরবার হল ও হাম্মামখানা (জাদুঘর) এবং তিন গম্বুজ মসজিদ।
বড় কাটরা ও ছোট কাটরা চকবাজারের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গার তীরে, ঢাকা • বড় কাটরা (১৬৪৪): শাহ সুজার দেওয়ান মীর আবুল কাশেম
• ছোট কাটরা (১৬৬৩): সুবেদার শায়েস্তা খান
মুঘল আমলের রাজকীয় সরাইখানা বা ক্যারাভানসরাই।
হোসেনী দালান বকশীবাজার, ঢাকা মুঘল নৌ-সেনাপতি মীর মুরাদ (১৬৪২ খ্রি. — শাহ সুজার আমলে) শিয়া সম্প্রদায়ের ইমামবাড়া (কারবালার শহিদ ইমাম হোসেনের স্মরণে নির্মিত)।
মুঘল ত্রিভুজ জলদুর্গ (৩টি) নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ সুবেদার মীর জুমলা (১৬৬০–১৬৬৩) মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে ঢাকাকে রক্ষা করতে নির্মিত ৩টি জলদুর্গ: ১. হাজীগঞ্জ দুর্গ (নারায়ণগঞ্জ), ২. সোনাকান্দা দুর্গ (বন্দর, নারায়ণগঞ্জ) এবং ৩. ইদ্রাকপুর দুর্গ (মুন্সীগঞ্জ — ১৬৬০)। এছাড়া কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ঈসা খাঁর এগারসিন্দুর দুর্গ অবস্থিত।
আহসান মঞ্জিল (‘পিংক প্যালেস’) কুমারটুলি, ইসলামপুর, ঢাকা (বুড়িগঙ্গার তীরে) নবাব আবদুল গণি ১৮৭২ সালে নির্মাণ সম্পন্ন করেন এবং পুত্র খাজা আহসানউল্লাহর নামে নামকরণ করেন পূর্বে এখানে ফরাসি বণিকদের কুঠি ছিল (১৮৩০ সালে খাজা আলিমুল্লাহ কিনে নেন)। ১৮৮৮ সালের টর্নেডোতে ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুনর্নির্মাণ করা হয়। ঢাকা শহরের প্রথম বৈদ্যুতিক বাতি এখানে জ্বলে। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পরিচালিত একটি প্রাসাদ জাদুঘর।

১৪.৫ বাংলাদেশের প্রথম, বৃহত্তম, ক্ষুদ্রতম, দীর্ঘতম ও উচ্চতম (মাস্টার রেফারেন্স ছক) #

বিষয় নাম ও অবস্থান বিষয় নাম ও অবস্থান
বৃহত্তম বিভাগ (আয়তনে) চট্টগ্রাম বিভাগ (ক্ষুদ্রতম: ময়মনসিংহ) বৃহত্তম বিভাগ (জনসংখ্যায়) ঢাকা বিভাগ (ক্ষুদ্রতম: বরিশাল)
বৃহত্তম জেলা (আয়তনে) রাঙামাটি (ক্ষুদ্রতম: নারায়ণগঞ্জ/মেহেরপুর) বৃহত্তম জেলা (জনসংখ্যায়) ঢাকা (ক্ষুদ্রতম: বান্দরবান)
বৃহত্তম উপজেলা (আয়তনে) শ্যামনগর, সাতক্ষীরা (ক্ষুদ্রতম: শায়েস্তাগঞ্জ) বৃহত্তম উপজেলা (জনসংখ্যায়) সাভার, ঢাকা (ক্ষুদ্রতম: জুরাছড়ি)
বৃহত্তম সিটি কর্পোরেশন (আয়তনে) গাজীপুর (ক্ষুদ্রতম: সিলেট) বৃহত্তম সিটি কর্পোরেশন (জনসংখ্যায়) ঢাকা উত্তর (ক্ষুদ্রতম: বরিশাল)
দীর্ঘতম ও গভীরতম নদী মেঘনা (এবং সুরমা ৩৯৯ কি.মি.) সবচেয়ে খরস্রোতা নদী কর্ণফুলী
দীর্ঘতম সেতু (সড়ক ও রেল) পদ্মা বহুমুখী সেতু (৬.১৫ কি.মি.) দীর্ঘতম একক রেলসেতু যমুনা রেলসেতু (৪.৮ কি.মি.; প্রাচীন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ১.৮ কি.মি.)
বৃহত্তম হাওর হাকালুকি হাওর (মৌলভীবাজার-সিলেট) বৃহত্তম বিল চলন বিল (নাটোর-পাবনা-সিরাজগঞ্জ)
বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাই হ্রদ (রাঙামাটি — ৭২৫ বর্গ কি.মি.) সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক মিঠাপানির হ্রদ বগা লেক (রুমা, বান্দরবান)
সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং/বিজয় (সরকারি ১,২৩১ মি.) ও সাকা হাফং (১,০৫২ মি.) সর্বোচ্চ শহীদ মিনার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (৭১ ফুট)
বৃহত্তম দ্বীপ ভোলা (দক্ষিণ শাহবাজপুর) একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন (নারিকেল জিঞ্জিরা)
একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী (কক্সবাজার) বৃহত্তম বদ্বীপ ও ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন (বাংলাদেশে ৬,০১৭ বর্গ কি.মি.)
বৃহত্তম মসজিদ (আয়তন ও ধারণক্ষমতায়) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ (ও ২০১ গম্বুজ মসজিদ টাঙ্গাইল) সুলতানি আমলের বৃহত্তম মসজিদ ষাট গম্বুজ মসজিদ, বাগেরহাট (৮১ গম্বুজ)
বৃহত্তম একক বৌদ্ধবিহার পাহাড়পুর সোমপুর মহাবিহার, নওগাঁ প্রাচীনতম বৌদ্ধবিহার সীতাকোট বিহার, দিনাজপুর
বৃহত্তম জাদুঘর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, শাহবাগ প্রথম জাদুঘর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, রাজশাহী (১৯১০)

টাকার নোটে অঙ্কিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যসমূহ মনে রাখার কৌশল #

  • ১ টাকার নোট: জাতীয় প্রতীক (ও অপর পিঠে হরিণ)।
  • ২ টাকার নোট: কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার (সর্বাপেক্ষা সুন্দর নোট)।
  • ৫ টাকার নোট: কুসুম্বা মসজিদ (মান্দা, নওগাঁ)।
  • ১০ টাকার নোট: বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ (পূর্বে আতিয়া মসজিদ টাঙ্গাইল ছিল)।
  • ২০ টাকার নোট: ষাট গম্বুজ মসজিদ (বাগেরহাট)।
  • ৫০ টাকার নোট: বাঘা মসজিদ (রাজশাহী) এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মই দেয়া’।
  • ১০০ টাকার নোট: তারা মসজিদ (ঢাকা)।
  • ৫০০ টাকার নোট: বাংলাদেশের কৃষি ও নদীর দৃশ্য।
  • ১,০০০ টাকার নোট: জাতীয় সংসদ ভবন ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ।

৪৪.২ প্রত্নতত্ত্ব ও স্থাপত্য — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #

প্রতীক / প্রত্নস্থল / জিআই পণ্য অবস্থান / জেলা / স্থপতি নির্মাণকাল / স্বীকৃতির বছর গঠন বৈশিষ্ট্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পরীক্ষার তথ্য
মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর ও ময়নামতি প্রত্নস্থল বগুড়া, নওগাঁ ও কুমিল্লা মহাস্থানগড় (বগুড়া, করতোয়া নদীর তীরে): প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী, বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা, খোদার পাথর ভিটা ও বেহুলার বাসরঘর (গোকুল মেধ) অবস্থিত পাহাড়পুর বা সোমপুর মহাবিহার (বদলগাছী, নওগাঁ): ধর্মপাল নির্মিত (১৭৭টি কুঠুরি, সত্যপীরের ভিটা); ময়নামতি শালবন বিহার (কুমিল্লা): দেববংশীয় রাজা ভবদেব নির্মিত (কুটিলা মুড়া, রূপবান মুড়া ও ইটাখোলা মুড়া)
উয়ারী-বটেশ্বর, ভাসু বিহার ও সীতাকোট বিহার নরসিংদী, বগুড়া ও দিনাজপুর উয়ারী-বটেশ্বর (বেলাব ও শিবপুর, নরসিংদী): খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দের প্রাচীন নগর সভ্যতা ও নদী বন্দর (ব্রহ্মপুত্র তীরে, হাবিবুল্লাহ পাঠান ও ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান খনন করেন) ভাসু বিহার (নরপাতিশাপুর, বগুড়া) এবং সীতাকোট বিহার (নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর—বাংলাদেশের প্রাচীনতম বৌদ্ধ বিহার)
সুলতানি আমলের প্রধান মসজিদসমূহ বাগেরহাট, ঢাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও টাঙ্গাইল বিনত বিবির মসজিদ (নারিন্দা, ঢাকা, ১৪৫৭—ঢাকার প্রথম মসজিদ, নির্মাতা মরহুমত বিনত বিবি); ষাট গম্বুজ মসজিদ (বাগেরহাট, খান জাহান আলী নির্মিত, প্রকৃত গম্বুজ ৮১টি ও পিলার ৬০টি) ছোট সোনা মসজিদ (শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ওয়ালী মুহম্মদ নির্মিত—‘সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন’); কুসুম্বা মসজিদ (মান্দা, নওগাঁ, ১৫৫৮, সুলায়মান নির্মিত); আতিয়া মসজিদ (দেলদুয়ার, টাঙ্গাইল, ১৬০৯, সাঈদ খান পন্নী নির্মিত)
মুঘল আমলের কেল্লা, প্রাসাদ ও জলদুর্গ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ লালবাগ কেল্লা (আওরঙ্গবাদ দুর্গ, ঢাকা): ১৬৭৮ সালে শাহজাদা আজম শুরু করেন ও শায়েস্তা খান সংস্কার করেন (ভেতরে পরীবিবির মাজার, দরবার হল ও হাম্মামখানা); বড় কাটরা (১৬৪১, শাহ সুজা) ও ছোট কাটরা (১৬৬৩, শায়েস্তা খান) তারা মসজিদ (আরমানিটোলা, ঢাকা, মির্জা গোলাম পীর নির্মিত); আহসান মঞ্জিল (কুমারটুলি, বুড়িগঙ্গার তীরে, ১৮৭২, নবাব আবদুল গণি নির্মিত); ত্রিভুজ জলদুর্গ ৩টি (মীর জুমলা নির্মিত): হাজীগঞ্জ দুর্গ ও সোনাকান্দা দুর্গ (নারায়ণগঞ্জ) এবং ইদ্রাকপুর দুর্গ (মুন্সীগঞ্জ)
কান্তজীর মন্দির, ঢাকেশ্বরী মন্দির ও পুঠিয়া রাজবাড়ি দিনাজপুর, ঢাকা ও রাজশাহী কান্তজীর (কান্তনগর) মন্দির (কাহারোল, দিনাজপুর, ঢেপা নদীর তীরে): ১৭০৪–১৭৫২ সালে মহারাজা প্রাণনাথ ও রামনাথ নির্মিত নবরত্ন মন্দির (পোড়ামাটির ফলক বা টেরাকোটা শিল্পের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন) ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির (ঢাকা, বল্লাল সেন নির্মিত, ১২শ শতাব্দী); পুঠিয়া রাজবাড়ি ও পাঁচআনি শিবমন্দির (রাজশাহী); আদিনাথ মন্দির (মহেশখালী, কক্সবাজার)

📋 ৪৪. প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #

বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি প্রধান তথ্য ও বিবরণ অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব
১ টাকার নোট জাতীয় প্রতীক (ও অপর পিঠে হরিণ) টাকার নোটে অঙ্কিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যসমূহ মনে রাখার কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৪. প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য (ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্জন)
২ টাকার নোট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার (সর্বাপেক্ষা সুন্দর নোট) টাকার নোটে অঙ্কিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যসমূহ মনে রাখার কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৪. প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য (ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্জন)
৫ টাকার নোট কুসুম্বা মসজিদ (মান্দা, নওগাঁ) টাকার নোটে অঙ্কিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যসমূহ মনে রাখার কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৪. প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য (ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্জন)
১০ টাকার নোট বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ (পূর্বে আতিয়া মসজিদ টাঙ্গাইল ছিল) টাকার নোটে অঙ্কিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যসমূহ মনে রাখার কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৪. প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য (ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্জন)
২০ টাকার নোট ষাট গম্বুজ মসজিদ (বাগেরহাট) টাকার নোটে অঙ্কিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যসমূহ মনে রাখার কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৪. প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য (ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্জন)
৫০ টাকার নোট বাঘা মসজিদ (রাজশাহী) এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মই দেয়া’ টাকার নোটে অঙ্কিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যসমূহ মনে রাখার কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৪. প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য (ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্জন)
১০০ টাকার নোট তারা মসজিদ (ঢাকা) টাকার নোটে অঙ্কিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যসমূহ মনে রাখার কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৪. প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য (ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্জন)
৫০০ টাকার নোট বাংলাদেশের কৃষি ও নদীর দৃশ্য টাকার নোটে অঙ্কিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যসমূহ মনে রাখার কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৪. প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য (ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্জন)
১,০০০ টাকার নোট জাতীয় সংসদ ভবন ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ টাকার নোটে অঙ্কিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যসমূহ মনে রাখার কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৪৪. প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য (ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্জন)