টপিক 45 / ৫৮ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্জন📖 স্টাডি নোট
টপিক ৪৫: জাতীয় প্রতীক, সংগীত, পতাকা ও জাতীয় দিবসসমূহ
অধ্যায় ৪৫: বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি #
🇧🇩 জাতীয় পরিচয়, দিবস ও মনোগ্রামের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ #
- জাতীয় মনোগ্রাম: বৃত্তাকার প্রতীকের মাঝে বাংলাদেশের মানচিত্র, উপরে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’, নিচে ‘সরকার’ এবং দুই পাশে দুটি করে মোট ৪টি তারকা। নকশাকার এ এন সাহা।
- জাতীয় গাছ ও ফল: ২০১০ সালের ১৫ নভেম্বর আম গাছকে জাতীয় বৃক্ষ ঘোষণা করা হয়। জাতীয় ফল কাঁঠাল, ফুল সাদা শাপলা, মাছ ইলিশ, পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, পাখি দোয়েল।
১৪.১ বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি (পতাকা, প্রতীক, মনোগ্রাম, সংগীত ও স্মৃতিসৌধ) #
| জাতীয় বিষয় | নকশাকার / স্থপতি / রচয়িতা | পরিমাপ, গঠন ও পরীক্ষায় আসা তথ্য |
|---|---|---|
| ১. জাতীয় পতাকা | • ১ম মানচিত্রখচিত পতাকা (১৯৭০–৭১): শিবনারায়ণ দাশ • বর্তমান পতাকার চূড়ান্ত নকশা (১৭ জানুয়ারি ১৯৭২): পটুয়া কামরুল হাসান |
• দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত: ১০ : ৬ (বা ৫ : ৩)। • লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ: পতাকার দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ (১/৫ অংশ)। • ভবনে ব্যবহারের ৩টি মাপ: ১০'×৬', ৫'×৩' এবং ২.৫'×১.৫' (গাড়িতে ১৫"×৯" এবং টেবিলে ১০"×৬")। • প্রথম উত্তোলন: ২ মার্চ ১৯৭১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের বটতলায় (ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রব কর্তৃক) এবং বিদেশের মাটিতে প্রথম উত্তোলন ১৮ এপ্রিল ১৯৭১ কলকাতায় পাকিস্তান ডেপুটি হাইকমিশনে (এম হোসেন আলী কর্তৃক)। |
| ২. জাতীয় প্রতীক (National Emblem) | পটুয়া কামরুল হাসান ও মহম্মদ ইদ্রিস | উভয় পাশে ধানের শীষবেষ্টিত পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল সাদা শাপলা, তার শীর্ষদেশে পাটগাছের পরস্পর সংযুক্ত ৩টি পাতা এবং তার উভয় পার্শ্বে ২টি করে মোট ৪টি তারকা [সংবিধানের ৪(৩) অনুচ্ছেদ]। • ৪টি তারকার তাৎপর্য: ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ৪টি মূলনীতির (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা) প্রতীক। |
| ৩. রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম (Government Seal) | এ. এন. সাহা | লাল বৃত্তের মাঝখানে বাংলাদেশের হলুদ মানচিত্র, ওপরে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’, নিচে ‘সরকার’ এবং দুই পাশে ২টি করে মোট ৪টি তারকা। সরকারি দাপ্তরিক নথিপত্র ও পাসপোর্টে ব্যবহৃত হয়। |
| ৪. জাতীয় সংগীত | কথা ও সুর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (‘আমার সোনার বাংলা’ — ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে রচিত; বাউল গগন হরকরার ‘আমি কোথায় পাব তারে’ গানের সুরে বাউল সুর) | মূল গানটি ২৫ চরণের; এর প্রথম ১০ চরণ জাতীয় সংগীত হিসেবে সাংবিধানিকভাবে গৃহীত [অনুচ্ছেদ ৪(১)] এবং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যন্ত্রসংগীতে প্রথম ৪ চরণ বাজানো হয়। ইংরেজি অনুবাদক: সৈয়দ আলী আহসান। |
| ৫. রণসংগীত (Marching Song) | কথা ও সুর: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (‘চল্ চল্ চল্ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল’) | ১৯২৮ সালে ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের দ্বিতীয় বার্ষিক অধিবেশন উপলক্ষে রচিত; ‘সওগাত’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত এবং ‘সন্ধ্যা’ (১৯২৯) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। ১৩ জানুয়ারি ১৯৭২ মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এর প্রথম ২১ চরণ রণসংগীত হিসেবে গৃহীত হয়। |
| ৬. জাতীয় স্মৃতিসৌধ (সাভার, ঢাকা) | স্থপতি: সৈয়দ মঈনুল হোসেন | • অবস্থান: ঢাকার সাভারের নবীনগরে (১০৮ একর জমির ওপর; মূল সৌধ ৪৪ একর)। • ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক)। • উদ্বোধন: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮২ (হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কর্তৃক)। • উচ্চতা ও গঠন: ১৫০ ফুট (৪৫.৭২ মিটার); এটি ৭ জোড়া ত্রিভুজাকৃতির দেয়াল বা ৭টি ফলক দিয়ে গঠিত, যা ছোট থেকে বড় হয়ে ওপরে উঠেছে। • ৭টি ফলকের তাৎপর্য: বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ৭টি ঐতিহাসিক পর্যায়— ১৯৫২ (ভাষা আন্দোলন), ১৯৫৪ (যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন), ১৯৫৬ (শাসনতন্ত্র আন্দোলন), ১৯৬২ (শিক্ষা আন্দোলন), ১৯৬৬ (৬ দফা আন্দোলন), ১৯৬৯ (গণঅভ্যুত্থান) এবং ১৯৭১ (মহান মুক্তিযুদ্ধ)। স্মৃতিসৌধের অপর নাম ‘সম্মিলিত প্রয়াস’। |
- অন্যান্য জাতীয় প্রতীকসমূহ: জাতীয় ফুল: সাদা শাপলা (Nymphaea nouchali); জাতীয় পাখি: দোয়েল (Copsychus saularis); জাতীয় ফল: কাঁঠাল (Artocarpus heterophyllus); জাতীয় বৃক্ষ: আম গাছ (Mangifera indica — ২০১০ সালে ঘোষিত); জাতীয় পশু: রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris); জাতীয় মাছ: ইলিশ (Tenualosa ilisha); জাতীয় বন: সুন্দরবন; জাতীয় কবি: কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৯৭২ ঢাকায় আনয়ন ও ১৯৭৬ সালে নাগরিকত্ব প্রদান; ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ / ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ মৃত্যু; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাহিত); জাতীয় মসজিদ: বায়তুল মোকাররম; জাতীয় মন্দির: ঢাকেশ্বরী মন্দির; জাতীয় জাদুঘর: বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, শাহবাগ (প্রতিষ্ঠা ২০ মার্চ ১৯১৩ ‘ঢাকা জাদুঘর’ নামে — উদ্বোধন করেন লর্ড কারমাইকেল; ১৭ নভেম্বর ১৯৮৩ জাতীয় জাদুঘরের মর্যাদা লাভ)।
৪৫.২ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #
| প্রতীক / প্রত্নস্থল / জিআই পণ্য | অবস্থান / জেলা / স্থপতি | নির্মাণকাল / স্বীকৃতির বছর | গঠন বৈশিষ্ট্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পরীক্ষার তথ্য |
|---|---|---|---|
| জাতীয় পতাকা (National Flag) | প্রথম নকশাকার: শিবনারায়ণ দাস (২ মার্চ ১৯৭১ উত্তোলন); বর্তমান নকশাকার: পটুয়া কামরুল হাসান | গৃহীত হয়: ১৭ জানুয়ারি ১৯৭২; অনুপাত ১০ : ৬ (বা ৫ : ৩); গাঢ় সবুজের মাঝখানে রক্তলাল বৃত্ত (বৃত্তের ব্যাসার্ধ পতাকার দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ বা ১/৫ অংশ) | বাংলাদেশের বাইরে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এম হোসেন আলী (১৮ এপ্রিল ১৯৭১, কলকাতাস্থ পাকিস্তান ডেপুটি হাইকমিশনে) |
| জাতীয় প্রতীক ও রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম | ডিজাইনার: পটুয়া কামরুল হাসান (মনোগ্রাম: এ এন সাহা) | গৃহীত হয়: ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ (সংবিধানের ৪(৩) অনুচ্ছেদ) | পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা, দুপাশে দুটি ধানের শীষ, ওপরে তিনটি পরস্পরযুক্ত পাটপাতা এবং পাটপাতার দুপাশে দুটি করে মোট ৪টি তারকা (৪টি রাষ্ট্রীয় মূলনীতির প্রতীক) |
| জাতীয় সংগীত ও রণসংগীত | জাতীয় সংগীত: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; রণসংগীত: কাজী নজরুল ইসলাম | গৃহীত হয়: ১৩ জানুয়ারি ১৯৭২ মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে | জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ (রচনা ১৯০৫, গগন হরকরার বাউল সুরে, প্রথম ১০ চরণ কণ্ঠে ও ৪ চরণ যন্ত্রসংগীতে); রণসংগীত ‘চল্ চল্ চল্’ (রচনা ১৯২৮ নতুনের গান, ‘সন্ধ্যা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত, প্রথম ২১ চরণ) |
| জাতীয় স্মৃতিসৌধ (সাভার, ঢাকা) | অবস্থান: নবীনগর, সাভার, ঢাকা (জমির পরিমাণ ১০৮ একর) | ভিত্তিপ্রস্তর: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বঙ্গবন্ধু কর্তৃক); উদ্বোধন: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮২; স্থপতি: সৈয়দ মঈনুল হোসেন | অপর নাম ‘সম্মিলিত প্রয়াস’; উচ্চতা ১৫০ ফুট (৪৫.৭২ মিটার); ৭টি ত্রিভুজাকৃতি ফলক ভাষা আন্দোলন (১৯৫২) থেকে মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১) পর্যন্ত ৭টি ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতীক |
| অন্যান্য জাতীয় প্রতীক ও নিদর্শনসমূহ | রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত জাতীয় প্রতীকসমূহ | জাতীয় ফুল: সাদা শাপলা (Nymphaea nouchali); জাতীয় ফল: কাঁঠাল (Artocarpus heterophyllus); জাতীয় পাখি: দোয়েল (Copsychus saularis); জাতীয় মাছ: ইলিশ (Tenualosa ilisha) | জাতীয় পশু: রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris); জাতীয় বৃক্ষ: আমগাছ (Mangifera indica, ২০১০ সালে ঘোষিত); জাতীয় খেলা: কাবাডি (হা-ডু-ডু); জাতীয় মসজিদ: বায়তুল মোকাররম (স্থপতি আব্দুল হুসেন থারিয়ানি) |
📚 অতিরিক্ত মাস্টার তথ্যভাণ্ডার ও জব ফোকাসড রেফারেন্স সারণি #
| বিষয় / ব্যক্তিত্ব / প্রতিষ্ঠান ও সময়কাল | প্রধান পরিচয় / অবস্থান / আইন | মূল কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো | বিসিএস ও সরকারি চাকরি পরীক্ষার বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা (National Flag of Bangladesh) | প্রথম উত্তোলন: ২ মার্চ ১৯৭১ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের বটতলায় ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রব কর্তৃক মানচিত্রখচিত পতাকা; নকশাকার শিবনারায়ণ দাস) | বর্তমান জাতীয় পতাকা গৃহীত হয়: ১৭ জানুয়ারি ১৯৭২ (মানচিত্র বাদ দিয়ে সবুজের বুকে লাল বৃত্ত; চূড়ান্ত নকশাকার চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান) | সংবিধানের ৪(১) অনুচ্ছেদে জাতীয় পতাকার বিধান রয়েছে; পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০ : ৬ (বা ৫ : ৩) এবং লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ পতাকার দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ (১/৫ অংশ) |
| বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত (National Anthem) | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘স্বরবিতান’ (গীতবিতানের স্বদেশ পর্যায়) অন্তর্ভুক্ত ‘আমার সোনার বাংলা’ গানের প্রথম ১০ চরণ (কণ্ঠসংগীতে ১০ চরণ এবং যন্ত্রসংগীতে প্রথম ৪ চরণ) | ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিলাইদহে রচিত হয় (বাউল শিল্পী গগন হরকরার ‘আমি কোথায় পাব তারে’ গানের সুরের আদলে ‘খাম্বাজ’ রাগে সুরারোপিত) | সংবিধানের ৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গৃহীত (৩ মার্চ ১৯৭১ পল্টন ময়দানের ইশতেহারে প্রথম জাতীয় সংগীত হিসেবে ঘোষিত এবং ১৩ জানুয়ারি ১৯৭২ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত) |
| বাংলাদেশের রণসংগীত (Marching Song) | জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘চল্ চল্ চল্ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল’ গানের প্রথম ২১ চরণ (উৎস কাব্যগ্রন্থ: ‘সন্ধ্যা’, ১৯২৯) | ১৯২৮ সালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের দ্বিতীয় বার্ষিক অধিবেশন উপলক্ষে ঢাকার বর্ধমান হাউসে বসে কবি গানটি রচনা করেন (‘নতুনের গান’ শিরোনামে ‘শিখা’ পত্রিকায় প্রকাশিত) | ১৩ জানুয়ারি ১৯৭২ মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এটিকে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ‘রণসংগীত’ হিসেবে গ্রহণ করা হয় (রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রথম ৪ লাইন বাজানো হয়) |
| বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক (National Emblem) | সংবিধানের ৪(৩) অনুচ্ছেদে বর্ণিত এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত; নকশাকার: শিল্পী মোহাম্মদ ইদ্রিস | ভাসমান সাদা শাপলা ফুল, তার দুই পাশে দুটি ধানের শীষ, শীর্ষে তিনটি পরস্পরযুক্ত পাটপাতা এবং পাটপাতার দুই পাশে ৪টি করে মোট ৪টি তারকা | ৪টি তারকা ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ৪টি মূলনীতি (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা) নির্দেশ করে |
| সরকারি মনোগ্রাম বা রাষ্ট্রীয় লোগো (Government Monogram) | নকশাকার: এ. এন. এ. সাহা (অতুল নারায়ণ সাহা) | লাল বৃত্তের মাঝখানে সোনালি রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র, উপরে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’, নিচে ‘সরকার’ এবং দুই পাশে ২টি করে মোট ৪টি তারকা | সরকারি দাপ্তরিক চিঠিপত্র, গেজেট, পাসপোর্ট ও রাষ্ট্রীয় দলিলে ব্যবহৃত হয় |
| জাতীয় ফুল, ফল, পাখি, মাছ ও পশু | জাতীয় ফুল: সাদা শাপলা (Nymphaea nouchali) এবং জাতীয় ফল: কাঁঠাল (Artocarpus heterophyllus) | জাতীয় পাখি: দোয়েল (Copsychus saularis) এবং জাতীয় মাছ: ইলিশ (Tenualosa ilisha) | জাতীয় পশু: রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris tigris) এবং জাতীয় বৃক্ষ: আমগাছ (Mangifera indica — ১৫ নভেম্বর ২০১০ মন্ত্রিসভায় গৃহীত) |
| জাতীয় কবি, জাতীয় খেলা ও জাতীয় মসজিদ-মন্দির | জাতীয় কবি: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬; ২৪ মে ১৯৭২ সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনয়ন এবং ১৯৭৬ সালে নাগরিকত্ব ও একুশে পদক প্রদান; ২০২৪–২৫ সালে গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি) | জাতীয় খেলা: কাবাডি (হা-ডু-ডু) (১৯৭২ সালে জাতীয় খেলার মর্যাদা পায়; কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয় ১৯৭৩ সালে) | জাতীয় মসজিদ: বায়তুল মোকাররম (স্থপতি: আবুল হোসেন থারিয়ানি, ১৯৬০) এবং জাতীয় মন্দির: ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির (দ্বাদশ শতকে রাজা বল্লাল সেন নির্মিত) |
| জাতীয় স্মৃতিসৌধ (National Martyrs' Memorial — সাভার) | অবস্থান: নবীনগর, সাভার, ঢাকা (জমির পরিমাণ ৮৪ একর); ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) এবং উদ্বোধন: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮২ (হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ) | স্থপতি: সৈয়দ মঈনুল হোসেন (অপর নাম: ‘সম্মিলিত প্রয়াস’) | উচ্চতা ১৫০ ফুট (৪৫.৭২ মিটার) এবং এতে ৭টি ত্রিভুজাকৃতির ফলক বা দেয়াল রয়েছে, যা ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ৭টি পর্যায় (১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ ও ১৯৭১) নির্দেশ করে |
| জাতীয় শহিদ মিনার ও বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ | কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার (ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণ): স্থপতি হামিদুর রহমান (সহযোগী ভাস্কর নভেরা আহমেদ; উদ্বোধন ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৩ শহিদ বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক) | মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ (উদ্বোধন ২২ ডিসেম্বর ১৯৭২ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক): স্থপতি মোস্তফা হারুন কুদ্দুস হিলি | রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ (মোহাম্মদপুর, ঢাকা): স্থপতি ফরিদউদ্দিন আহমেদ ও জামী-আল-শাফি |
| বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি সমন্বয় (২০১৯) | মুঘল সম্রাট আকবরের নির্দেশে জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজী হিজরি সন ও সৌর সনের সমন্বয়ে ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে (১৫৫৬ সাল থেকে কার্যকর ধরে) ‘বঙ্গাব্দ’ বা বাংলা সন প্রবর্তন করেন | ১৯৬৬ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি এবং ২০১৫/২০১৯ সালে বাংলা একাডেমির সংশোধিত বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী প্রথম ৬ মাস (বৈশাখ–আশ্বিন) ৩১ দিনে | ফাল্গুন মাস ২৯ দিনে (অধিবর্ষ বা Leap Year হলে ফাল্গুন মাস ৩০ দিনে) এবং বাকি ৫ মাস (কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ ও চৈত্র) ৩০ দিনে গণনা করা হয় (ফলে ২১ ফেব্রুয়ারি=৮ ফাল্গুন, ২৬ মার্চ=১২ চৈত্র, ১৬ ডিসেম্বর=১ পৌষ স্থির থাকে) |
| বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় স্লোগান | সংবিধান ও মন্ত্রিসভা প্রজ্ঞাপন | মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক রণধ্বনি ‘জয় বাংলা’ | ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে বাঙালির ঐক্যের প্রধান স্লোগান |
| জাতীয় পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০) | গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ | ভবনে উত্তোলনের জন্য পতাকার ৩টি মাপ: ১০:৬ ফুট, ৫:৩ ফুট এবং ২.৫:১.৫ ফুট | গাড়িতে ব্যবহারের জন্য পতাকার মাপ ১৫:৯ ইঞ্চি এবং টেবিলে ব্যবহারের জন্য ১০:৬ ইঞ্চি |
| জাতীয় পতাকার রঙের প্রতীকী তাৎপর্য | সবুজ জমিন ও ভরাট লাল বৃত্ত | গাঢ় সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক | মাঝখানের লাল বৃত্তটি উদীয়মান সূর্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের আত্মদান ও রক্তের প্রতীক |
| জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানের ইংরেজি অনুবাদ | প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখক সৈয়দ আলী আহসান জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদ করেন | ১৯০৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর (২২ ভাদ্র ১৩১২ বঙ্গাব্দ) ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয় |
| জাতীয় ফল কাঁঠাল ও জাতীয় ফুল শাপলার বৈশিষ্ট্য | জাতীয় ফল: কাঁঠাল (বৈজ্ঞানিক নাম: Artocarpus heterophyllus) | জাতীয় ফুল: সাদা শাপলা (বৈজ্ঞানিক নাম: Nymphaea nouchali) | শাপলা ফুল বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত জাতীয় প্রতীকের মূল কেন্দ্রীয় উপাদান ও জাতীয় সংসদের প্রতীক |
| জাতীয় পাখি দোয়েল ও জাতীয় মাছ ইলিশের বৈশিষ্ট্য | জাতীয় পাখি: দোয়েল (বৈজ্ঞানিক নাম: Copsychus saularis) | জাতীয় মাছ: ইলিশ (বৈজ্ঞানিক নাম: Tenualosa ilisha) | বাংলাদেশের ২ টাকা কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রায় জাতীয় পাখি দোয়েলের প্রতিকৃতি অঙ্কিত রয়েছে |
| জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও জাতীয় বৃক্ষ আমগাছ | জাতীয় পশু: রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris tigris) | জাতীয় বৃক্ষ: আমগাছ (Mangifera indica — ১৫ নভেম্বর ২০১০ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত) | সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের সাহস, শৌর্য ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক |
| বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসসমূহ (রাষ্ট্রীয় বর্ষপঞ্জি) | ২১ ফেব্রুয়ারি: শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস | ২৬ মার্চ: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর: মহান বিজয় দিবস | ১৪ ডিসেম্বর: শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস, ২৫ মার্চ: জাতীয় গণহত্যা দিবস এবং ৪ নভেম্বর: জাতীয় সংবিধান দিবস |