টপিক 06 / ৫৮প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা📖 স্টাডি নোট

টপিক ০৬: নবাবী শাসন ও পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭)

অধ্যায় ০৬: নবাবী শাসন ও পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭) #

৬.১ বাংলায় স্বাধীন নবাবী শাসন, পলাশী ও বক্সারের যুদ্ধ (১৭১৭ – ১৭৬৫ খ্রি.) #

  • নবাব মুর্শিদ কুলি খান (১৭১৭–১৭২৭): বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব। রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন এবং ভূমি রাজস্ব আদায়ে ‘মালজামিনী প্রথা’ প্রবর্তন করেন।
  • সুজাউদ্দিন খান (১৭২৭–১৭৩৯) ও সরফরাজ খান (১৭৩৯–১৭৪০)।
  • নবাব আলীবর্দী খান (১৭৪০–১৭৫৬): গিরিয়ার যুদ্ধে সরফরাজ খানকে পরাজিত করে নবাব হন। মারাঠা লুণ্ঠনকারীদের (‘বর্গী’) হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করতে ১৭৫১ সালে সন্ধি করেন। অপুত্রক আলীবর্দী খান তাঁর কনিষ্ঠ কন্যা আমিনা বেগমের পুত্র সিরাজউদ্দৌলাকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।
  • নবাব সিরাজউদ্দৌলা (১৭৫৬ – ২৩ জুন ১৭৫৭):
    • মাত্র ২২/২৩ বছর বয়সে ১৭৫৬ সালের এপ্রিল মাসে সিংহাসনে বসেন।
    • খালা ঘসেটি বেগম, পূর্ণিয়ার শাসনকর্তা শওকত জঙ্গ, প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খান, জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ ও রাজবল্লভ ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের সাথে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
    • পলাশীর যুদ্ধ (২৩ জুন, ১৭৫৭): ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আম্রকাননে সংঘটিত এই যুদ্ধে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাব বাহিনী পরাজিত হয়। নবাবের পক্ষে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে শহীদ হন মীর মদন ও মোহনলাল এবং ফরাসি সেনাপতি সাঁফ্রে (St. Frais)। ৩ জুলাই ১৭৫৭ মীরনের নির্দেশে মোহাম্মদী বেগ সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করে।
  • মীর কাসিম ও বক্সারের যুদ্ধ (২২ অক্টোবর, ১৭৬৪):
    • মীর জাফরের জামাতা মীর কাসিম (১৭৬০–১৭৬৩) ছিলেন দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনচেতা নবাব। তিনি ইংরেজদের হস্তক্ষেপ এড়াতে রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে বিহারের মুঙ্গেরে স্থানান্তর করেন এবং দেশীয় বণিকদের জন্য শুল্ক তুলে দেন।
    • বক্সারের যুদ্ধ (১৭৬৪): বাংলার নবাব মীর কাসিম, অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও দিল্লির মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম—এই ত্রি-শক্তির মিলিত বাহিনী ইংরেজ সেনাপতি মেজর হেক্টর মুনরোর নিকট বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হয়। এই যুদ্ধের ফলে ১৭৬৫ সালে ক্লাইভ মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার ‘দেওয়ানি’ (রাজস্ব আদায়ের অধিকার) লাভ করেন।

৬.২ নবাবী শাসন ও পলাশীর যুদ্ধ — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #

ঐতিহাসিক বিষয় / শাসক / ঘটনা সময়কাল / রাজধানী / স্থান প্রধান কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পরীক্ষার তথ্য
মুর্শিদ কুলি খান শাসনকাল: ১৭১৭–১৭২৭ খ্রিস্টাব্দ বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব; রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর মাল-জামিনি ভূমি রাজস্ব প্রথা প্রবর্তন করেন
আলীবর্দী খান শাসনকাল: ১৭৪০–১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দ বর্গী (মারাঠা) আক্রমণ মোকাবিলা করেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার মাতামহ ছিলেন
নবাব সিরাজউদ্দৌলা শাসনকাল: ১৭৫৬–১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব; আলীনগরের সন্ধি স্বাক্ষর (১৭৫৭) ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় পরাজিত
বক্সারের যুদ্ধ ২২ অক্টোবর ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দ মীর কাসিম, নবাব সুজাউদ্দৌলা ও সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের যৌথ বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ইংরেজদের চূড়ান্ত বিজয়; ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভ

৬.৩ নবাবী যুগ ও ঔপনিবেশিক রূপান্তরের রিভিশন ছক #

বিষয় / ব্যক্তিত্ব / প্রতিষ্ঠান ও সময়কাল প্রধান পরিচয় / অবস্থান / আইন মূল কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো বিসিএস ও সরকারি চাকরি পরীক্ষার বিশেষ তথ্য
মুর্শিদ কুলি খান (১৭১৭–১৭২৭ খ্রি.) বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব (পূর্বনাম: মোহাম্মদ হাদী) রাজধানী ঢাকা থেকে মাকসুদাবাদে স্থানান্তর করে নাম রাখেন ‘মুর্শিদাবাদ’ ভূমি রাজস্ব আদায়ে ‘মাল-জামিনি’ প্রথা প্রবর্তন করেন
সুজাউদ্দিন মুহম্মদ খান (১৭২৭–১৭৩৯ খ্রি.) মুর্শিদ কুলি খানের জামাতা ও বাংলার দ্বিতীয় নবাব বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সুবেদারী একত্রিত করেন আলীবর্দী খানকে বিহারের নায়েব নাজিম নিযুক্ত করেন
সরফরাজ খান (১৭৩৯–১৭৪০ খ্রি.) সুজাউদ্দিনের পুত্র; উপাধি ছিল ‘আলাউদ্দৌলা’ ১৭৪০ সালে গিরিয়ার যুদ্ধে আলীবর্দী খানের কাছে পরাজিত ও নিহত হন নবাব বংশের প্রত্যক্ষ উত্তরাধিকারের সমাপ্তি ঘটে
আলীবর্দী খান (১৭৪০–১৭৫৬ খ্রি.) প্রকৃত নাম মির্জা মুহম্মদ আলী; সুদক্ষ শাসক ১৭৪২–১৭৫১ পর্যন্ত মারাঠা ‘বর্গী’ আক্রমণ প্রতিহত করেন ১৭৫১ সালে রঘুজী ভোঁসলের সাথে সন্ধি; ইউরোপীয়দের ‘মৌচাকের’ সাথে তুলনা করেন
নবাব সিরাজউদ্দৌলা (এপ্রিল ১৭৫৬ – জুন ১৭৫৭) বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব (জন্ম ১৭৩৩) পিতা জয়নুদ্দিন আহমদ ও মাতা আমিনা বেগম (আলীবর্দী খানের কনিষ্ঠা কন্যা) মাত্র ২৩ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন
কলকাতা অভিযান ও আলীনগরের সন্ধি (১৭৫৬–১৭৫৭) নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ দখল (২০ জুন ১৭৫৬) নবাব কলকাতার নতুন নাম রাখেন ‘আলীনগর’ (মাতামহের নামানুসারে) ৯ ফেব্রুয়ারি ১৭৫৭ রবার্ট ক্লাইভের সাথে ‘আলীনগরের সন্ধি’ স্বাক্ষরিত হয়
অন্ধকূপ হত্যা (Black Hole Tragedy) প্রচারণা ইংরেজ চিকিৎসক হলওয়েল কর্তৃক মিথ্যা প্রচারণা (২০ জুন ১৭৫৬) ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ১০ ইঞ্চি প্রশস্ত কক্ষে ১৪৬ জনের মধ্যে ১২৩ জনের মৃত্যুর কল্পকাহিনি ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় এটিকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করেন
পলাশীর ষড়যন্ত্র ও প্রধান বিশ্বাসঘাতকগণ ১৭৫৭ সালের এপ্রিল–জুন (মুর্শিদাবাদ দরবার) প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খান, জগৎ শেঠ, রাজবল্লভ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ ও ঘষেটি বেগম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে ষড়যন্ত্রের মূল হোতা ছিলেন রবার্ট ক্লাইভ ও ওয়াটসন
পলাশীর যুদ্ধ (২৩ জুন ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ) ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আম্রকানন (নদীয়া জেলা) নবাবের পক্ষে দেশপ্রেমিক সেনাপতি মীর মদন ও মোহনলাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন মীর মদনের মৃত্যুর পর মীর জাফরের চক্রান্তে যুদ্ধ বন্ধের আদেশে নবাবের পরাজয় ঘটে
সিরাজউদ্দৌলার শাহাদাত (২–৩ জুলাই ১৭৫৭) মীর জাফরের পুত্র মীরনের নির্দেশে মোহাম্মদী বেগ কর্তৃক হত্যা মুর্শিদাবাদের খোশবাগে মাতামহ আলীবর্দী খানের পাশে সমাহিত বাংলার স্বাধীনতা সূর্য প্রায় ১৯০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়
মীর কাসিম (১৭৬০–১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দ) মীর জাফরের জামাতা ও স্বাধীনচেতা নবাব ইংরেজদের হস্তক্ষেপ এড়াতে রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে ‘মুঙ্গেরে’ স্থানান্তর করেন দেশীয় বণিকদের রক্ষায় সকল অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য শুল্ক (দস্তক প্রথা) তুলে দেন
বক্সারের যুদ্ধ ও এলাহাবাদ চুক্তি (১৭৬৪ ও ১৭৬৫) ২২ অক্টোবর ১৭৬৪ (বিহারের বক্সার প্রান্তর) মীর কাসিম, অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও মুঘল সম্রাট ২য় শাহ আলমের যৌথ বাহিনী বনাম মেজর হেক্টর মুনরো ১২ আগস্ট ১৭৬৫ এলাহাবাদ চুক্তির মাধ্যমে লর্ড ক্লাইভ সম্রাট ২য় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার ‘দেওয়ানি’ লাভ করেন

📋 ০৬. নবাবী শাসন ও পলাশীর যুদ্ধ — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #

বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি প্রধান তথ্য ও বিবরণ অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব
নবাব মুর্শিদ কুলি খান (১৭১৭–১৭২৭) বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন এবং ভূমি রাজস্ব আদায়ে ‘মালজামিনী প্রথা’ প্রবর্তন করেন ০৬. নবাবী শাসন ও পলাশীর যুদ্ধ (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
সুজাউদ্দিন খান (১৭২৭–১৭৩৯) ও সরফরাজ খান (১৭৩৯–১৭৪০) ৬ বাংলায় স্বাধীন নবাবী শাসন, পলাশী ও বক্সারের যুদ্ধ (১৭১৭ – ১৭৬৫ খ্রি.) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ০৬. নবাবী শাসন ও পলাশীর যুদ্ধ (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
নবাব আলীবর্দী খান (১৭৪০–১৭৫৬) গিরিয়ার যুদ্ধে সরফরাজ খানকে পরাজিত করে নবাব হন মারাঠা লুণ্ঠনকারীদের (‘বর্গী’) হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করতে ১৭৫১ সালে সন্ধি করেন ০৬. নবাবী শাসন ও পলাশীর যুদ্ধ (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
পলাশীর যুদ্ধ (২৩ জুন, ১৭৫৭) ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আম্রকাননে সংঘটিত এই যুদ্ধে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাব বাহিনী পরাজিত হয় নবাবের পক্ষে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে শহীদ হন মীর মদন ও মোহনলাল এবং ফরাসি সেনাপতি সাঁফ্রে (St. Frais) ০৬. নবাবী শাসন ও পলাশীর যুদ্ধ (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
বক্সারের যুদ্ধ (১৭৬৪) বাংলার নবাব মীর কাসিম, অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও দিল্লির মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম—এই ত্রি-শক্তির মিলিত বাহিনী ইংরেজ সেনাপতি মেজর হেক্টর মুনরোর নিকট বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হয় এই যুদ্ধের ফলে ১৭৬৫ সালে ক্লাইভ মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার ‘দেওয়ানি’ (রাজস্ব আদায়ের অধিকার) লাভ করেন ০৬. নবাবী শাসন ও পলাশীর যুদ্ধ (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)
তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভে (৬০৬ খ্রি.) গুপ্ত রাজাদের মহাসামন্ত শশাঙ্ক গৌড়ে প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ০৬. নবাবী শাসন ও পলাশীর যুদ্ধ (প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা)