| লর্ড ক্লাইভ |
১৭৫৭–৬০, ১৭৬৫–৬৭ |
বাংলার প্রথম গভর্নর। ১৭৬৫ সালে দিল্লির সম্রাট ২য় শাহ আলমের সাথে ‘এলাহাবাদ চুক্তি’ করে দেওয়ানি লাভ করেন এবং বাংলায় ‘দ্বৈত শাসন’ (Dual Government) প্রবর্তন করেন (রাজস্ব ও দেওয়ানি কোম্পানির হাতে, প্রশাসনিক দায়িত্ব ক্ষমতাহীন নবাবের হাতে)। এর ফলে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) ভয়াবহ ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ ঘটে, যাতে বাংলার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়। |
| ওয়ারেন হেস্টিংস |
১৭৭২–১৭৮৫ |
বাংলার শেষ গভর্নর ও প্রথম গভর্নর জেনারেল (১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী)। ১৭৭২ সালে দ্বৈত শাসন রহিত করেন এবং রাজস্ব কোষাগার মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তর করেন। ১৭৭২ সালে পাঁচসালা বন্দোবস্ত ও ১৭৭৭ সালে একসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। ১৭৮০ সালে জেমস অগাস্টাস হিকি ভারতের প্রথম সংবাদপত্র ‘বেঙ্গল গেজেট’ প্রকাশ করেন। ১৭৮১ সালে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা ও ১৭৮৪ সালে স্যার উইলিয়াম জোন্স ‘এশিয়াটিক সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন। |
| লর্ড কর্নওয়ালিস |
১৭৮৬–১৭৯৩ |
১৭৮৯ সালে দশসালা বন্দোবস্ত এবং ২২ মার্চ ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ (Permanent Settlement) ও কঠোর ‘সূর্যাস্ত আইন’ প্রবর্তন করেন। জেলা কালেক্টরের পদ ও ‘কর্নওয়ালিস কোড’ প্রণয়ন করেন। তাঁকে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস (ICS) ও পুলিশ ব্যবস্থার জনক বলা হয়। |
| লর্ড ওয়েলেসলি |
১৭৯৮–১৮০৫ |
দেশীয় রাজ্য গ্রাস করতে ‘অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি’ (Subsidiary Alliance) প্রবর্তন করেন (হায়দ্রাবাদের নিজাম প্রথম গ্রহণ করেন)। ১৭৯৯ সালে মহীশূরের বীর টিপু সুলতানকে পরাজিত ও শহীদ করেন। ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন (১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরির নেতৃত্বে বাংলা বিভাগ চালু)। |
| লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক |
১৮২৮–১৮৩৫ |
বাংলার শেষ গভর্নর জেনারেল ও ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল (১৮৩৩ সনদ আইন)। রাজা রামমোহন রায়ের সহযোগিতায় ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯ সালে ‘সতীদাহ প্রথা’ রহিত করেন। ঠগী দমন করেন (কর্নেল স্লিম্যানের মাধ্যমে)। ১৮৩৫ সালে লর্ড মেকলের সুপারিশে ইংরেজিকে সরকারি ভাষা ও উচ্চশিক্ষার মাধ্যম করেন এবং কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। |
| লর্ড ডালহৌসি |
১৮৪৮–১৮৫৬ |
দেশীয় রাজ্য গ্রাসে ‘স্বত্ববিলোপ নীতি’ (Doctrine of Lapse) প্রয়োগ করেন (সাতারা, ঝাঁসি, নাগপুর ও অযোধ্যা দখল)। ১৬ এপ্রিল ১৮৫৩ ভারতে প্রথম রেলগাড়ি চালু (বোম্বে থেকে থানে; বাংলায় ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলি)। ডাকটিকিট ও টেলিগ্রাফ চালু করেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ২৬ জুলাই ১৮৫৬ ‘বিধবা বিবাহ আইন’ পাস করেন। |
| লর্ড ক্যানিং |
১৮৫৬–১৮৬২ |
ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় (রাজপ্রতিনিধি)। তাঁর আমলে ১৮৫৭ সালে মহাবিদ্রোহ (সিপাহী বিপ্লব) সংঘটিত হয়। ১ নভেম্বর ১৮৫৮ মহারানী ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ব্রিটিশ রাজশক্তির প্রত্যক্ষ শাসন শুরু হয়। ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৬০ সালে দণ্ডবিধি (IPC) এবং ১৮৬১ সালে উপমহাদেশে প্রথম পুলিশ আইন ও কাগজের মুদ্রা চালু করেন। |
| লর্ড মেয়ো |
১৮৬৯–১৮৭২ |
১৮৭২ সালে উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি (জনশুমারি) অনুষ্ঠিত হয়। আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে শের আলী নামক এক পাঠান কয়েদির ছুরিকাঘাতে নিহত হন। |
| লর্ড লিটন |
১৮৭৬–১৮৮০ |
১৮৭৮ সালে দেশীয় সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধে কুখ্যাত ‘ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট’ ও অস্ত্র আইন পাস করেন। |
| লর্ড রিপন |
১৮৮০–১৮৮৪ |
অত্যন্ত উদারপন্থী শাসক। ১৮৮১ সালে প্রথম কারখানা আইন, ১৮৮২ সালে ‘হান্টার শিক্ষা কমিশন’ গঠন এবং ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট বাতিল করেন। ১৮৮২ সালে ‘স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন’ (Local Self-Government) প্রবর্তন করেন এবং ১৮৮৩ সালে ‘ইলবার্ট বিল’ প্রণয়ন করেন। |
| লর্ড ডাফরিন |
১৮৮৪–১৮৮৮ |
২৮ ডিসেম্বর ১৮৮৫ অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউমের উদ্যোগে বোম্বেতে ‘ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠিত হয় (প্রথম সভাপতি: উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়)। |
| লর্ড কার্জন |
১৮৯৯–১৯০৫ |
১৬ অক্টোবর ১৯০৫ ‘বঙ্গভঙ্গ’ (Partition of Bengal) কার্যকর করেন (ঢাকাকে রাজধানী করে ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশ গঠন; প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার)। ১৯০৪ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন পাস ও ঢাকায় ‘কার্জন হল’ (১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯০৪ ভিত্তিপ্রস্তর) নির্মাণ করেন। |
| লর্ড মিন্টো (২য়) |
১৯০৫–১৯১০ |
৩০ ডিসেম্বর ১৯০৬ ঢাকার শাহবাগে নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯০৯ সালে ‘মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন’ দ্বারা মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন (Separate Electorate) ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। |
| লর্ড হার্ডিঞ্জ |
১৯১০–১৯১৬ |
১২ ডিসেম্বর ১৯১১ দিল্লির দরবারে রাজা পঞ্চম জর্জ ও রানী মেরী বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করেন এবং ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়। ১৯১৫ সালে পাকশীতে পদ্মা নদীর ওপর ‘হার্ডিঞ্জ ব্রিজ’ চালু হয়। |
| লর্ড চেমসফোর্ড |
১৯১৬–১৯২১ |
১৯১৯ সালে ‘মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন’ (প্রদেশগুলোতে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন), কুখ্যাত ‘রাওলাট আইন’ এবং ১৩ এপ্রিল ১৯১৯ অমৃতসরের ‘জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড’ (জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে)। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিবাদে ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ করেন। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। |
| লর্ড লিনলিথগো |
১৯৩৬–১৯৪৩ |
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন, ২৩ মার্চ ১৯৪০ লাহোর প্রস্তাব, ১৯৪২ সালে ক্রিপস মিশন ও মহাত্মা গান্ধীর ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলন এবং ১৯৪৩ সালে (১৩৫০ বঙ্গাব্দ) ভয়াবহ ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ (জয়নুল আবেদিনের দুর্ভিক্ষের চিত্রমালা)। |
| লর্ড ওয়াভেল |
১৯৪৩–১৯৪৭ |
সিমলা সম্মেলন (১৯৪৫), ক্যাবিনেট মিশন (১৯৪৬) এবং ১৬ আগস্ট ১৯৪৬ ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ ও কলকাতা দাঙ্গা। |
| লর্ড মাউন্টব্যাটেন |
মার্চ–আগস্ট ১৯৪৭ |
ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ ভাইসরয় এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল। ৩ জুন পরিকল্পনা এবং ১৮ জুলাই ১৯৪৭ ‘ভারত স্বাধীনতা আইন’ পাসের মাধ্যমে ১৪ আগস্ট পাকিস্তান ও ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হয়। |