টপিক 08 / ৫৮ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন📖 স্টাডি নোট

টপিক ০৮: ঐতিহাসিক কৃষক ও উপজাতীয় বিদ্রোহ

অধ্যায় ০৮: ঐতিহাসিক কৃষক ও উপজাতীয় বিদ্রোহ #

৮.১ ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধ, কৃষক বিদ্রোহ ও সংস্কার আন্দোলন #

আন্দোলনের নাম সময়কাল ও স্থান প্রধান নেতা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব
১. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ১৭৬০–১৮০০ খ্রি. (রংপুর, বগুড়া, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ) ব্রিটিশবিরোধী সর্বপ্রথম সংগ্রাম। ফকিরদের নেতা ছিলেন মজনু শাহ (পরবর্তীতে মুসা শাহ, চেরাগ আলী) এবং সন্ন্যাসীদের নেতা ছিলেন ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরাণী। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ ও ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাসে এর পটভূমি রয়েছে।
২. চাকমা বিদ্রোহ ১৭৭৬–১৭৮৭ খ্রি. (পার্বত্য চট্টগ্রাম) চাকমা রাজা জোয়ান বখশ খাঁ ও তাঁর সেনাপতি রুনু খাঁ কোম্পানির কার্পাস কর বৃদ্ধির বিরুদ্ধে দীর্ঘ গেরিলা যুদ্ধ চালান।
৩. ফরায়েজী আন্দোলন ১৮১৮ খ্রি. থেকে (ফরিদপুর, বরিশাল, ঢাকা, পাবনা) প্রবর্তক: হাজী শরীয়তউল্লাহ (জন্ম: ১৭৮১, শামাইল গ্রাম, মাদারীপুর/ফরিদপুর)। ‘ফরজ’ শব্দ থেকে ফরায়েজী; তিনি ব্রিটিশ শাসিত ভারতকে ‘দারুল হারব’ (শত্রুর দেশ) ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র দুদু মিয়া (প্রকৃত নাম: মুহসীনউদ্দিন আহমদ) আন্দোলনকে জমিদার ও নীলকরবিরোধী সশস্ত্র কৃষক সংগ্রামে রূপ দেন। দুদু মিয়ার বিখ্যাত উক্তি: “জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী / লাঙ্গল যার জমি তার”। তিনি পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ও লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেন।
৪. তিতুমীরের আন্দোলন ও বাঁশের কেল্লা ১৮২৭–১৮৩১ খ্রি. (চব্বিশ পরগনা, নদীয়া, ফরিদপুর) প্রকৃত নাম: মীর নিসার আলী (তিতুমীর) (জন্ম: ১৭৮২, চাঁদপুর গ্রাম, চব্বিশ পরগনা)। সৈয়দ আহমদ বেরেলভীর ওয়াহাবী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জমিদার কৃষ্ণদেব রায়ের ‘দাড়ির ওপর কর’ ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। ১৮৩১ সালে চব্বিশ পরগনার নারিকেলবাড়িয়ায় ঐতিহাসিক ‘বাঁশের কেল্লা’ নির্মাণ করেন। প্রধান সেনাপতি ছিলেন তাঁর ভাগ্নে গোলাম মাসুম। ১৯ নভেম্বর ১৮৩১ কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ইংরেজ বাহিনীর কামানের গোলায় বাঁশের কেল্লা ধ্বংস হয় এবং তিতুমীর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে প্রথম শহীদ হন।
৫. সাঁওতাল বিদ্রোহ ১৮৫৫–১৮৫৬ খ্রি. (দামিন-ই-কোহ, রাজমহল, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ) মহাজন ও জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে চার ভাই সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব-এর নেতৃত্বে সংগঠিত সশস্ত্র গণসংগ্রাম।
৬. সিপাহী বিদ্রোহ (মহাবিদ্রোহ) ১৮৫৭ খ্রি. (ব্যারাকপুর, মিরাট, দিল্লি, ঢাকা) ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম। প্রত্যক্ষ কারণ: ‘এনফিল্ড রাইফেল’-এর টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি মেশানোর গুজব। ২৯ মার্চ ১৮৫৭ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর সেনানিবাসে সিপাহী মঙ্গল পাণ্ডে প্রথম বিদ্রোহের সূচনা করেন। মিরাটে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে এবং সিপাহীরা দিল্লির বৃদ্ধ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে ভারতের সম্রাট ঘোষণা করে। ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাই, নানা সাহেব ও তাঁতিয়া টোপী এতে নেতৃত্ব দেন। ঢাকায় লালবাগ কেল্লার সিপাহীদের পরাজিত করে আনটাঘর ময়দানে (বর্তমান বাহাদুর শাহ পার্ক / ভিক্টোরিয়া পার্ক) প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়।
৭. নীল বিদ্রোহ ১৮৫৯–১৮৬২ খ্রি. (নদীয়া, যশোর, ফরিদপুর, পাবনা) দাদন প্রথা ও নীলকরদের অমানুষিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে নদীয়ার চৌগাছা গ্রামে দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাসের নেতৃত্বে শুরু হয়। ফরিদপুরে রফিক মণ্ডল ও পাবনায় কাদের মোল্লা নেতৃত্ব দেন। ১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্র ঢাকায় বসে বিখ্যাত নাটক ‘নীল দর্পণ’ রচনা করেন (মাইকেল মধুসূদন দত্ত The Indigo Planting Mirror নামে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন এবং রেভারেন্ড জেমস লং প্রকাশ করে কারাদণ্ড ভোগ করেন)। ১৮৬০ সালে ‘নীল কমিশন’ গঠিত হয় এবং নীল চাষকে ঐচ্ছিক ঘোষণা করা হয়। ১৮৯২ সালে কৃত্রিম নীল আবিষ্কৃত হলে নীল চাষ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
৮. সশস্ত্র বিপ্লবী ও স্বদেশী আন্দোলন ১৯০৫–১৯৩৪ খ্রি. (কলকাতা, চট্টগ্রাম, মেদিনীপুর) প্রমথনাথ মিত্র ও সতীশচন্দ্র বসুর ‘অনুশীলন সমিতি’ ও বারীন্দ্রকুমার ঘোষের ‘যুগান্তর দল’। ক্ষুদিরাম বসু (১৯০৮ সালে মুজাফফরপুরে কিংসফোর্ডকে হত্যাচেষ্টার দায়ে ১১ আগস্ট ১৯০৮ ফাঁসি), বাঘা যতীন (যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়), মাস্টারদা সূর্য সেন (১৮ এপ্রিল ১৯৩০ চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ও ‘ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি’ গঠন; ১২ জানুয়ারি ১৯৩৪ ফাঁসি) এবং প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ শেষে পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দান — ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে প্রথম নারী শহীদ)।
৯. তেভাগা আন্দোলন ১৯৪৬–১৯৪৭ খ্রি. (দিনাজপুর, রংপুর, নাচোল) ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩ ভাগ) বর্গাদার বা চাষির এবং এক-তৃতীয়াংশ (১/৩ ভাগ) জমির মালিকের—এই দাবিতে গড়ে ওঠা কৃষক আন্দোলন। প্রধান নেত্রী ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের ইলা মিত্র (‘নাচোলের রানী’) এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ ও কম্পরাম সিং। শওকত ওসমান ইলা মিত্রকে নিয়ে ‘জননী’ ও সেলিনা হোসেন ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’ উপন্যাস রচনা করেন।

৮.২ ঐতিহাসিক কৃষক ও উপজাতীয় বিদ্রোহ — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #

ঐতিহাসিক বিষয় / শাসক / ঘটনা সময়কাল / রাজধানী / স্থান প্রধান কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পরীক্ষার তথ্য
হাজী শরীয়তউল্লাহ ও দুদু মিয়া ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দ (ফরিদপুর অঞ্চল) কুসংস্কার ও জমিদার-নীলকর শোষণের বিরুদ্ধে ‘ফরায়েজি আন্দোলন’ দুদু মিয়া ‘জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী’ ঘোষণা দেন
মীর নিসার আলী তিতুমীর ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দ (নারিকেলবাড়িয়া, চব্বিশ পরগনা) ব্রিটিশ ও জমিদারদের বিরুদ্ধে ১৮৩১ সালে ‘বাঁশের কেল্লা’ নির্মাণ উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের প্রেরিত কর্নেল স্টুয়ার্টের কামানের গোলায় শহীদ হন
তেভাগা আন্দোলন ও ইলা মিত্র ১৯৪৬–১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ) বর্গাদার কৃষকদের ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩ অংশ) দাবির আন্দোলন নেত্রী ইলা মিত্র ‘নাচোলের রানী’ নামে পরিচিত ছিলেন

৮.৩ প্রতিরোধ আন্দোলনসমূহের বিস্তারিত প্রামাণ্য বিশ্লেষণ সারণি #

বিষয় / ব্যক্তিত্ব / প্রতিষ্ঠান ও সময়কাল প্রধান পরিচয় / অবস্থান / আইন মূল কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো বিসিএস ও সরকারি চাকরি পরীক্ষার বিশেষ তথ্য
ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০–১৮০০ খ্রি.) অঞ্চল: রংপুর, বগুড়া, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা ফকির দলের নেতা: মজনু শাহ (পরবর্তীতে মুসা শাহ ও চেরাগ আলী) এবং সন্ন্যাসী দলের নেতা: ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে উপমহাদেশের প্রথম দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র কৃষক ও ধর্মীয় প্রতিরোধ আন্দোলন (বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ ও ‘দেবী চৌধুরানী’ উপন্যাসে চিত্রিত)
চাকমা বিদ্রোহ বা কার্পাস বিদ্রোহ (১৭৭৬–১৭৮৭ খ্রি.) অঞ্চল: পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙামাটি ও চাকমা রাজ্যাঞ্চল) নেতৃত্ব দেন: চাকমা রাজা শের দৌলত খাঁ, সেনাপতি রনু খাঁ এবং পরবর্তীতে রাজা জানবক্স খাঁ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অতিরিক্ত তুলা বা কার্পাস কর আরোপের বিরুদ্ধে পার্বত্য অঞ্চলের প্রথম উপজাতীয় সশস্ত্র বিদ্রোহ
রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ (১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দ) অঞ্চল: রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল প্রধান নেতা: নূরউদ্দিন (বিদ্রোহী কৃষকেরা তাঁকে ‘নবাব’ ঘোষণা করে) এবং দয়াশীল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচারী রাজস্ব ইজারাদার দেবী সিংহের নিষ্ঠুর কর আদায়ের বিরুদ্ধে সংগঠিত ঐতিহাসিক কৃষক বিদ্রোহ
বীরভূম ও বাঁকুড়ার চুয়াড় বিদ্রোহ (১৭৬৮–১৭৯৯ খ্রি.) অঞ্চল: মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও মানভূম (জঙ্গলমহল) প্রধান নেতা: দুর্জন সিংহ, জগন্নাথ ধল ও রানী শিরোমণি কোম্পানির ভূমি রাজস্ব বৃদ্ধি ও স্থানীয় পাইক-চুয়াড়দের নিষ্কর জমি বাজেয়াপ্ত করার প্রতিবাদে সশস্ত্র বিদ্রোহ
পাগলপন্থী বিদ্রোহ (১৮২৫–১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দ) অঞ্চল: বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার শেরপুর পরগনা (গারো পাহাড় পাদদেশ) প্রবর্তক: সাধক করম শাহ এবং সশস্ত্র বিদ্রোহের প্রধান নেতা তাঁর পুত্র টিপু শাহ গারো ও হাজং কৃষকদের ওপর জমিদার ও কোম্পানির অতিরিক্ত করের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ; টিপু শাহ শেরপুরের ‘গড়জরিপা’ দুর্গে স্বাধীন শাসন স্থাপন করেছিলেন
ফরায়েজি আন্দোলন (১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে সূচনা) অঞ্চল: ফরিদপুর, বরিশাল, ঢাকা ও মাদারীপুর (সদর দপ্তর: বাহাদুরপুর, শিবচর) প্রতিষ্ঠাতা: হাজী শরীয়তউল্লাহ (১৭৮১–১৮৪০); ‘ফরজ’ শব্দ থেকে ফরায়েজি শব্দের উৎপত্তি কুসংস্কার বর্জন ও ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি নীলকর ও জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে
দুদু মিয়া ও ফরায়েজি আন্দোলনের সশস্ত্র রূপ (১৮৪০–১৮৬২) প্রকৃত নাম: মোহসীনউদ্দিন আহমদ (হাজী শরীয়তউল্লাহর পুত্র) বিখ্যাত ঘোষণা: ‘লাঙ্গল যার জমি তার’ (খাজনা প্রদানের পরিবর্তে আল্লাহর জমিতে কৃষকের অধিকার ঘোষণা) প্রশাসনিকভাবে পূর্ব বাংলাকে ‘হলকা’য় ভাগ করে ‘খলিফা’ নিয়োগ এবং নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী ও সালিশি আদালত গঠন করেন
তিতুমীরের বারাসাত বিদ্রোহ ও বাঁশের কেল্লা (১৮৩১ খ্রি.) প্রকৃত নাম: সৈয়দ মীর নিসার আলী (জন্ম: চব্বিশ পরগনার চাঁদপুর গ্রাম) ১৮৩১ সালে চব্বিশ পরগনার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে ঐতিহাসিক ‘বাঁশের কেল্লা’ নির্মাণ করেন (সেনাপতি ছিলেন গোলাম মাসুম) জমিদার কৃষ্ণদেব রায়ের দাড়ির ওপর কর এবং নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম; ১৯ নভেম্বর ১৮৩১ লর্ড বেন্টিঙ্কের প্রেরিত কর্নেল স্টুয়ার্টের কামানের গোলায় শহীদ হন
ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ বা ‘হুল’ (১৮৫৫–১৮৫৬ খ্রি.) অঞ্চল: রাজমহল পাহাড় ও দামিন-ই-কোহ (বীরভূম, ভাগলপুর ও মুর্শিদাবাদ) চার ভাই নেতৃত্ব দেন: সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব (এবং দুই বোন ফুলো ও ঝানো) জমিদার, মহাজন ও ইংরেজ নীলকরদের শোষণের বিরুদ্ধে ৩০ জুন ১৮৫৫ ভগনাডিহির মাঠে ১০ হাজার সাঁওতালের মহাবিদ্রোহ
বাংলার নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯–১৮৬২ খ্রিস্টাব্দ) অঞ্চল: নদীয়া, যশোর, ফরিদপুর, পাবনা, রাজশাহী ও খুলনা প্রধান নেতা: নদীয়ার চৌগাছার দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস, পাবনার রফিক মণ্ডল ও খুলনার কাদের মোল্লা দাদন প্রথার মাধ্যমে জোরপূর্বক নীল চাষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ; ১৮৬০ সালে গঠিত হয় ‘নীল কমিশন’ এবং ১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্র রচনা করেন ‘নীল দর্পণ’ নাটক
পাবনার কৃষক বিদ্রোহ (১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দ) অঞ্চল: পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার ইউসুফশাহী পরগনা প্রধান নেতা: ঈশানচন্দ্র রায় (‘বিদ্রোহী রাজা’), ক্ষুদি মোল্লা ও শম্ভুনাথ পাল জমিদারদের অবৈধ কর (আবওয়াব) বৃদ্ধির প্রতিবাদে কৃষকেরা ‘পাবনা রায়ত সমিতি’ গঠন করে; এর ফলশ্রুতিতে ১৮৮৫ সালে ‘বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন’ পাস হয়
তেভাগা আন্দোলন (১৯৪৬–১৯৪৭ ও ১৯৪৮–১৯৫০) অঞ্চল: দিনাজপুর, রংপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল (১৯টি জেলায় বিস্তৃত) প্রধান নেতা: দিনাজপুরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ ও কম্পরাম সিং এবং নাচোলে ইলা মিত্র (‘নাচোলের রানী’ বা রানীমা) বর্গাদার বা ভাগচাষীদের উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ (২/৩ অংশ) কৃষকের এবং এক ভাগ (১/৩ অংশ) জমিদারের পাওয়ার ঐতিহাসিক সংগ্রাম
টংক আন্দোলন ও নানকার বিদ্রোহ (১৯৩৭–১৯৫০) অঞ্চল: বৃহত্তর ময়মনসিংহের সুসং দুর্গাপুর (টংক) এবং সিলেট অঞ্চল (নানকার) টংক আন্দোলনের মহানায়ক: কমরেড মণি সিংহ (প্রথম শহীদ: হাজং মাতা রাসমণি হাজং, ১৯৪৬) এবং নানকার বিদ্রোহের নেত্রী: অজয় ভট্টাচার্য ও অপর্ণা পাল ফসল হোক বা না হোক নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান খাজনা হিসেবে দেওয়ার কুখ্যাত ‘টংক প্রথা’ ১৯৫০ সালের জমিদারি উচ্ছেদ আইনে বিলুপ্ত হয়