টপিক 09 / ৫৮ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন📖 স্টাডি নোট

টপিক ০৯: ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ, ব্রিটিশ রাজ ও নবজাগরণ

অধ্যায় ০৯: ১৮৫৭ সিপাহী বিপ্লব ও উনিশ শতকের নবজাগরণ #

বাংলার নবজাগরণ ও প্রধান সমাজ সংস্কারকগণ #

  • রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২–১৮৩৩): ‘ভারতীয় নবজাগরণের (রেনেসাঁর) জনক’। ১৮১৫ সালে ‘আত্মীয় সভা’ ও ১৮২৮ সালে ‘ব্রাহ্ম সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদে (১৮২৯) প্রধান ভূমিকা রাখেন। মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর তাঁকে ‘রাজা’ উপাধি দিয়ে বিলেতে দূত হিসেবে পাঠান।
  • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০–১৮৯১): বাংলা গদ্যের জনক। ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাস করান ও বাল্যবিবাহ/বহুবিবাহ রোধে সংগ্রাম করেন।
  • হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও (১৮০৯–১৮৩১): হিন্দু কলেজের তরুণ শিক্ষক; ‘ইয়ং বেঙ্গল’ (Young Bengal) আন্দোলনের প্রবর্তক।
  • হাজী মুহম্মদ মুহসীন (১৭৩২–১৮১২): হুগলির দানবীর (‘দানবীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন’)। ১৮০৬ সালে ‘মহসীন ফান্ড’ গঠন করেন, যার অর্থে মুসলমান শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যয় ও হুগলি মহসীন কলেজ পরিচালিত হতো।
  • নবাব আব্দুল লতিফ (১৮২৮–১৮৯৩): বাংলার মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষার পথিকৃৎ (বাংলার সৈয়দ আহমদ)। ১৮৬৩ সালে কলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন।
  • স্যার সৈয়দ আহমদ খান (১৮১৭–১৮৯৮): ‘আলীগড় আন্দোলন’-এর প্রবর্তক। ১৮৭৫ সালে আলীগড়ে মোহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ (১৯২০ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করেন।
  • সৈয়দ আমীর আলী (১৮৪৯–১৯২৮): ১৮৭৭ সালে ‘সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর বিশ্বখ্যাত গ্রন্থ: The Spirit of Islam ও A Short History of the Saracens।
  • বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০–১৯৩২): মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত। জন্ম: ৯ ডিসেম্বর ১৮৮০, পায়রাবন্দ, মিঠাপুকুর, রংপুর (৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ‘রোকেয়া দিবস’)। ১৯০৯ সালে ভাগলপুরে ও ১৯১১ সালে কলকাতায় ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ এবং ১৯১৬ সালে ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করেন। বিখ্যাত গ্রন্থ: সুলতানার স্বপ্ন (Sultana's Dream), পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, মতিচূর।

৯.২ সিপাহী বিপ্লব ও নবজাগরণ — মাস্টার রেফারেন্স সারণি #

ঐতিহাসিক বিষয় / শাসক / ঘটনা সময়কাল / রাজধানী / স্থান প্রধান কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পরীক্ষার তথ্য
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক শাসনকাল: ১৮২৮–১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দ ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯ সালে রাজা রামমোহন রায়ের সহায়তায় ‘সতীদাহ প্রথা’ রহিত করেন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল (১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট); ঠগী দমন
লর্ড ক্যানিং শাসনকাল: ১৮৫৬–১৮৬২ খ্রিস্টাব্দ ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ দমন এবং ভারতের প্রথম ভাইসরয় (১৮৫৮) উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা (১৮৬১) ও পুলিশ আইন চালু করেন
লর্ড মেয়ো ও লর্ড রিপন ১৮৭২ ও ১৮৮১–১৮৮২ খ্রিস্টাব্দ লর্ড মেয়ো প্রথম আদমশুমারি (১৮৭২) এবং লর্ড রিপন নিয়মিত আদমশুমারি (১৮৮১) ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন চালু করেন লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে হান্টার কমিশন গঠন ও ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট রদ করেন

৯.৩ সমাজ সংস্কারক ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির সারসংক্ষেপ #

বিষয় / ব্যক্তিত্ব / প্রতিষ্ঠান ও সময়কাল প্রধান পরিচয় / অবস্থান / আইন মূল কীর্তি / বৈশিষ্ট্য ও কাঠামো বিসিএস ও সরকারি চাকরি পরীক্ষার বিশেষ তথ্য
সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা (২৯ মার্চ ১৮৫৭) পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর সেনানিবাস (৩৪নং দেশীয় পদাতিক বাহিনী) ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম গুলি ছোড়েন সিপাহী ‘মঙ্গল পাণ্ডে’ ব্যারাকপুরের পর ১০ মে ১৮৫৭ মিরাটে বিদ্রোহ সর্বাত্মক রূপ নেয়
সিপাহী বিদ্রোহের তাৎক্ষণিক কারণ নতুন ‘এনফিল্ড রাইফেল’ (Enfield Rifle)-এর কার্তুজ গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত কার্তুজ দাঁত দিয়ে কাটার আদেশ হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে
মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর (১৮৫৭) সিপাহীরা তাঁকে ‘ভারতের সম্রাট’ বলে ঘোষণা করে বিদ্রোহে পরাজয়ের পর ব্রিটিশরা তাঁকে বার্মার (মিয়ানমার) রেঙ্গুনে নির্বাসিত করে ১৮৬২ সালে রেঙ্গুনেই শেষ মুঘল সম্রাটের মৃত্যু ও সমাধি হয়
ঢাকায় সিপাহী বিদ্রোহ ও বাহাদুর শাহ পার্ক নভেম্বর ১৮৫৭ (লালবাগ কেল্লা ও সদরঘাট, ঢাকা) লালবাগ কেল্লার দেশীয় সিপাহীদের বিদ্রোহ; ব্রিটিশ সেনাপতি মেজর নেইলের আক্রমণ আনটাঘর ময়দানে (বর্তমান বাহাদুর শাহ পার্ক / ভিক্টোরিয়া পার্ক) বিদ্রোহী সিপাহীদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়
মহারানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্র (১ নভেম্বর ১৮৫৮) ভারত শাসন আইন ১৮৫৮ (Government of India Act 1858) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ও ব্রিটিশ রাজের (Crown) সরাসরি শাসন শুরু গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং ভারতের প্রথম ‘ভাইসরয়’ (রাজপ্রতিনিধি) নিযুক্ত হন
রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২–১৮৩৩) ‘ভারতীয় নবজাগরণের (Renaissance) জনক’ ও ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা (১৮২৮) লর্ড বেন্টিঙ্কের সহায়তায় ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯ ‘সতীদাহ প্রথা’ উচ্ছেদ করেন মুঘল সম্রাট ২য় আকবর তাঁকে ‘রাজা’ উপাধি দেন; রচিত গ্রন্থ ‘তুহফাতুল মুওয়াহহিদিন’
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০–১৮৯১) ‘বাংলা গদ্যের জনক’ ও সমাজ সংস্কারক (সংস্কৃত কলেজ প্রদত্ত উপাধি ‘বিদ্যাসাগর’) লর্ড ডালহৌসির সহায়তায় ২৬ জুলাই ১৮৫৬ ‘হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন’ পাস করান বর্ণপরিচয় (১৮৫৫), বেতাল পঞ্চবিংশতি ও শকুন্তলা রচনা এবং বহু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ও ইয়ং বেঙ্গল হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক ডিরোজিও (১৮০৯–১৮৩১) তাঁর অনুসারী প্রগতিশীল ছাত্রসমাজ ‘ইয়ং বেঙ্গল’ (Young Bengal) নামে পরিচিত যুক্তিবাদ, মুক্তচিন্তা ও নারীশিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখেন
নবাব আবদুল লতিফ (১৮২৮–১৮৯৩) বাংলার মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষার অগ্রদূত (‘বাংলার সৈয়দ আহমদ’) ১৮৬৩ সালে কলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন হুগলি মহসীন ফান্ডের অর্থ মুসলিম ছাত্রদের শিক্ষায় ব্যয়ের ব্যবস্থা করেন
স্যার সৈয়দ আহমদ খান ও আলীগড় আন্দোলন মুসলিম সমাজের আধুনিকীকরণ ও পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার (১৮১৭–১৮৯৮) ১৮৭৫ সালে আলীগড়ে ‘মোহামেডান অ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজ’ (১৯২০ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা ১৮৬৪ সালে ‘সায়েন্টিফিক সোসাইটি’ গঠন করেন
সৈয়দ আমীর আলী (১৮৪৯–১৯২৮) প্রখ্যাত আইনজীবী, ঐতিহাসিক ও কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ১৮৭৭ সালে ‘সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠা করেন বিখ্যাত ইংরেজি গ্রন্থ: ‘The Spirit of Islam’ এবং ‘A Short History of the Saracens’
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০–১৯৩২) বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত (জন্ম: ৯ ডিসেম্বর ১৮৮০, পায়রাবন্দ, রংপুর) ১৯১১ সালে কলকাতায় ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ ও ১৯১৬ সালে ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা অমর গ্রন্থ: ‘সুলতানার স্বপ্ন’ (Sultana's Dream), ‘অবরোধবাসিনী’, ‘মতিচূর’ ও ‘পদ্মরাগ’

📋 ০৯. সিপাহী বিদ্রোহ ও নবজাগরণ — মূল পয়েন্ট ও তথ্য-সারসংক্ষেপ সারণি #

বিষয় / শিরোনাম / মূল এন্টিটি প্রধান তথ্য ও বিবরণ অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সিলেবাস অধ্যায় ও পরীক্ষার গুরুত্ব
রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২–১৮৩৩) ‘ভারতীয় নবজাগরণের (রেনেসাঁর) জনক’ ১৮১৫ সালে ‘আত্মীয় সভা’ ও ১৮২৮ সালে ‘ব্রাহ্ম সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন ০৯. সিপাহী বিদ্রোহ ও নবজাগরণ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০–১৮৯১) বাংলা গদ্যের জনক ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাস করান ও বাল্যবিবাহ/বহুবিবাহ রোধে সংগ্রাম করেন ০৯. সিপাহী বিদ্রোহ ও নবজাগরণ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও (১৮০৯–১৮৩১) হিন্দু কলেজের তরুণ শিক্ষক ‘ইয়ং বেঙ্গল’ (Young Bengal) আন্দোলনের প্রবর্তক ০৯. সিপাহী বিদ্রোহ ও নবজাগরণ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
হাজী মুহম্মদ মুহসীন (১৭৩২–১৮১২) হুগলির দানবীর (‘দানবীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন’) ১৮০৬ সালে ‘মহসীন ফান্ড’ গঠন করেন, যার অর্থে মুসলমান শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যয় ও হুগলি মহসীন কলেজ পরিচালিত হতো ০৯. সিপাহী বিদ্রোহ ও নবজাগরণ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
নবাব আব্দুল লতিফ (১৮২৮–১৮৯৩) বাংলার মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষার পথিকৃৎ (বাংলার সৈয়দ আহমদ) ১৮৬৩ সালে কলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন ০৯. সিপাহী বিদ্রোহ ও নবজাগরণ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
স্যার সৈয়দ আহমদ খান (১৮১৭–১৮৯৮) ‘আলীগড় আন্দোলন’-এর প্রবর্তক ১৮৭৫ সালে আলীগড়ে মোহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ (১৯২০ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করেন ০৯. সিপাহী বিদ্রোহ ও নবজাগরণ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
সৈয়দ আমীর আলী (১৮৪৯–১৯২৮) ১৮৭৭ সালে ‘সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর বিশ্বখ্যাত গ্রন্থ: The Spirit of Islam ও A Short History of the Saracens ০৯. সিপাহী বিদ্রোহ ও নবজাগরণ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০–১৯৩২) মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত জন্ম: ৯ ডিসেম্বর ১৮৮০, পায়রাবন্দ, মিঠাপুকুর, রংপুর (৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ‘রোকেয়া দিবস’) ০৯. সিপাহী বিদ্রোহ ও নবজাগরণ (ব্রিটিশ শাসন ও আন্দোলন)

📊 টপিক চিত্র ও কাঠামো বিন্যাস (Visual Graph & Architecture Diagram) #

১৮৫৭ সিপাহী বিপ্লব ও উনিশ শতকের নবজাগরণ ধারা সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রাম এবং সমাজ ও শিক্ষা সংস্কারের যুগপৎ ঐতিহাসিক ধারা ১. ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ (সিপাহী বিপ্লব) • সূচনা ও প্রথম শহীদ: ২৯ মার্চ ১৮৫৭; ব্যারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডে • ঢাকায় বিদ্রোহ: ২২ নভেম্বর ১৮৫৭; লালবাগ কেল্লা ও বাহাদুর শাহ পার্ক • চট্টগ্রামের প্রতিরোধ: ১৮ নভেম্বর হাবিলদার রজব আলীর নেতৃত্বে ট্রেজারি দখল • ঐতিহাসিক ফলাফল: সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে নির্বাসন কোম্পানি শাসন বিলুপ্ত ও মহারানীর প্রত্যক্ষ শাসন (১৮৫৮) ২. উনিশ শতকের নবজাগরণ ও সংস্কারকগণ • রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২–১৮৩৩): সতীদাহ প্রথা রহিত (১৮২৯), ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০–১৮৯১): বিধবা বিবাহ আইন (১৮৫৬), বাংলা গদ্যের জনক • নওয়াব আবদুল লতিফ ও সৈয়দ আমীর আলী: মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি (১৮৬৩) ও সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান • বেগম রোকেয়া (১৮৮০–১৯৩২): মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত (সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ)

⚖️ ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লব ও বাংলার সমাজ সংস্কারের মূল মাইলফলক #

  • সিপাহী বিপ্লবের ঢাকা পর্ব: ১৮৫৭ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকার লালবাগ কেল্লায় অবস্থানরত দেশীয় সিপাহীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেন। যুদ্ধে বহু সিপাহী শহীদ হন এবং বন্দি সিপাহীদের সদরঘাটের তৎকালীন ‘আন্টাঘর ময়দানে’ প্রকাশ্য ফাঁসি দেওয়া হয়। ১৯৫৭ সালে বিপ্লবের শতবর্ষে এই ঐতিহাসিক ময়দানের নাম পরিবর্তন করে ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’ রাখা হয়।
  • ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইন: ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘অ্যাক্ট ফর দ্য বেটার গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া’ পাস হয়। ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর লর্ড ক্যানিং এলাহাবাদে মহারানী ভিক্টোরিয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র পাঠ করেন, যার মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারত সরাসরি ব্রিটিশ রাজমুকুটের অধীন হয়। গভর্নর জেনারেল পদটি ‘ভাইসরয়’ বা রাজপ্রতিনিধিতে রূপান্তরিত হয়।
  • সমাজ সংস্কারকদের অবদান ছক:
    • রাজা রামমোহন রায়: ‘তুহফাত-উল-মুওয়াহহিদিন’ (একেশ্বরবাদীদের উপহার), আত্মীয় সভা (১৮১৫), ব্রাহ্মসমাজ (১৮২৮), সতীদাহ বিরোধী আবেদনপত্র পেশ। ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর সপ্তদশ রেগুলেশন দ্বারা লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সতীদাহ নিষিদ্ধ করেন। ১৮৩৩ সালে ব্রিস্টলে মারা যান।
    • নবাব আব্দুল লতিফ: ১৮৬৩ সালে কলকাতায় মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করে মুসলিমদের আধুনিক ও পাশ্চাত্য শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেন। তিনি নীল কমিশনের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
    • সৈয়দ আমীর আলী: ১৮৭৭ সালে সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন। তিনি ১৮৯০ সালে কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম মুসলিম বিচারপতি এবং ১৯০৯ সালে লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিলের প্রথম ভারতীয় সদস্য হন। তাঁর বিশ্বখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য স্পিরিট অব ইসলাম’।