টপিক 10 / ৩০আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাসমূহ এবং জ্বালানি রাজনীতি📖 স্টাডি নোট

টপিক 10: দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট

টপিক ১০: দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট (South & Southeast Asian Regional Alliances) #

🌐 অধ্যায় পরিচিতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট (Chapter Prologue: বিষয়টি কী ও কেন) #

একবিংশ শতাব্দীকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদগণ একবাক্যে আখ্যায়িত করেছেন ‘এশীয় শতক’ (The Asian Century) হিসেবে। কিন্তু ইউরোপের মতো ভৌগোলিক সংহতি এশিয়ায় সহজে গড়ে ওঠেনি। ভৌগোলিক বিশালতা, ঔপনিবেশিক বিভাজনের বিষবাষ্প, অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ, সামরিক দ্বন্দ্ব এবং পারস্পরিক আস্থার অভাব দক্ষিণ এশিয়াকে পৃথিবীর অন্যতম স্বল্প-সংহত (Least Integrated) অঞ্চলে পরিণত করেছে। বিপরীতক্রমে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গড়ে উঠেছে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সংহতির এক অনন্য সফল মডেল—আসিয়ান (ASEAN)।

সার্কের ঐতিহাসিক স্বপ্ন, অচলাবস্থা ও বিমসটেক-আসিয়ানের উত্থান #

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতা দূরীকরণে বাংলাদেশ কর্তৃক সূচিত হয়েছিল ঐতিহাসিক সার্ক (SAARC)। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের চিরন্তন ভূ-রাজনৈতিক বৈরিতা এবং সনদের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে সার্ক বর্তমানে কার্যত নিষ্ক্রিয়। এই আঞ্চলিক শূন্যতা পূরণে বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মেলবন্ধন ঘটিয়ে আবির্ভূত হয়েছে বিমসটেক (BIMSTEC)—যার স্থায়ী সচিবালয় গৌরবের সাথে বাংলাদেশে (ঢাকা) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে জন্ম নিয়েছে ইতিহাসের বৃহত্তম বাণিজ্য চুক্তি আরসিইপি (RCEP)।

🗺️ অধ্যায় স্থাপত্য মানচিত্র (Chapter Architecture Map) দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক কূটনীতি সার্ক (SAARC ১৯৮৫) • স্বপ্নদ্রষ্টা: জিয়াউর রহমান • প্রতিষ্ঠা: ৮ ডিসে ১৯৮৫ (ঢাকা) • সচিবালয়: কাঠমান্ডু (নেপাল) • সদস্য: ৮ দেশ (আফগান ২০০৭) • মহাসচিব: গোলাম সারওয়ার • অনুচ্ছেদ ১০: দ্বিপাক্ষিক বাধা • সার্ক কৃষি কেন্দ্র (SAC, ঢাকা) • স্থগিত ১৯তম সামিট (ইসলামাবাদ) বিমসটেক (BIMSTEC ১৯৯৭) • ব্যাংকক ঘোষণা (১৯৯৭) • সচিবালয়: ঢাকা, বাংলাদেশ • সদস্য: ৭ দেশ (সার্ক ৫ + আসিয়ান ২ দেশ) • বাংলাদেশ প্রধান সমন্বয়ক: বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাত • ঐতিহাসিক চার্টার কার্যকর: ২০ মে ২০২৪ আসিয়ান ও মেগা বাণিজ্য ব্লক • ASEAN (১৯৬৭, জাকার্তা) • আসিয়ান ৩ স্তম্ভ ও ARF (২০০৬) • RCEP (২০২২): বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য এলাকা (১৫ দেশ) • এশীয় ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (ACU) • সাফটা (SAFTA ২০০৬) • CPTPP (২০১৮ / ২০২৩ যুক্তরাজ্য • তিমুর লেস্তে ১১তম সদস্য পদ 📊 মাস্টার সিন্থেসিস ও তাত্ত্বিক কাঠামো রূপরেখা

১০.১ সার্ক (SAARC): ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও স্থবিরতা #

🏛️ প্রাতিষ্ঠানিক ডাটা কার্ড: সার্ক (SAARC)
• পূর্ণরূপ: South Asian Association for Regional Cooperation (দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা)।
• মূল স্বপ্নদ্রষ্টা ও রূপকার: বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (১৯৭৭ সালে ধারণা দেন এবং ১৯৮০ সালের মে মাসে ৭টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের চিঠি পাঠান)।
• প্রতিষ্ঠা ও প্রথম সম্মেলন: ৭-৮ ডিসেম্বর ১৯৮৫; প্রথম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন, ঢাকা, বাংলাদেশ। প্রতি বছর ৮ ডিসেম্বর ‘সার্ক সনদ দিবস’ (SAARC Charter Day) পালিত হয়।
• স্থায়ী সচিবালয়: কাঠমান্ডু, নেপাল (১৬ জানুয়ারি ১৯৮৭ নেপালের রাজা বীরেন্দ্র কর্তৃক উদ্বোধন)।
• মোট সদস্য রাষ্ট্র: ৮টি দেশ (প্রতিষ্ঠাতা ৭টি দেশ + ২০০৭ সালে অন্তর্ভুক্ত হওয়া আফগানিস্তান)।
• শীর্ষ নেতৃত্ব: মহাসচিব (Secretary-General) — রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার (Golam Sarwar), বাংলাদেশ (দায়িত্ব গ্রহণ: অক্টোবর ২০২৩; ১৫তম মহাসচিব)।
• বাংলাদেশি মহাসচিবদ্বয়: আবুল আহসান (প্রথম মহাসচিব, ১৯৮৫-১৯৮৯) এবং গোলাম সারওয়ার (১৫তম মহাসচিব, ২০২৩-চলমান)।
• সনদের ঐতিহাসিক ১০ নম্বর ধারা (Article X): দ্বিপাক্ষিক ও বিরোধপূর্ণ বিষয়াদি সার্কের এজেন্ডা থেকে বাদ থাকবে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে (Consensus) গৃহীত হতে হবে।
টপিক 10: কাঠামোগত রূপরেখা ও বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র 📊 ঐতিহাসিক টাইমলাইন সার্কের রূপরেখা কূটনৈতিক উদ্যোগ ► প্রথম শীর্ষ সম্মেলন ► কাঠমান্ডু সচিবালয় ► ৮ম সদস্য আফগানিস্তান ► স্থগিত ইসলামাবাদ (জিয়াউর রহমান কর্তৃক (৭ ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৫; (১৬ জানুয়ারি ১৯৮৭; (১৪তম নয়াদিল্লি (উরি হামলার পর ভারতের চিঠি প্রেরণ) ঢাকা সনদ স্বাক্ষর) কার্যক্রমের সূচনা) সম্মেলনে অন্তর্ভুক্তি) বর্জনে শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত)

সার্কের ৮টি সদস্য রাষ্ট্র ও সম্প্রসারণ #

১৯৮৫ সালে সার্কের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল ৭টি দেশ: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ।

  • সর্বশেষ সদস্য: আফগানিস্তান। ২০০৫ সালে ঢাকা শীর্ষ সম্মেলনে নীতিগত অনুমোদনের পর ২০০৭ সালের ৩-৪ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৪তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে সার্কের ৮ম পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
  • পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র (৯টি): চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মিয়ানমার ও মরিশাস।

সার্কের আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহ (Regional Centres) #

প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় সংকোচন ও পুনর্গঠনের ফলে সার্কের পূর্বতন ১১টি আঞ্চলিক কেন্দ্রকে একীভূত করে বর্তমানে ৪টি প্রধান কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে:

  1. সার্ক কৃষি কেন্দ্র (SAARC Agriculture Centre - SAC): ফার্মগেট, ঢাকা, বাংলাদেশ (পরীক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হটস্পট)। পূর্বে ঢাকায় অবস্থিত 'সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র' (SMRC) পরবর্তীতে কৃষি কেন্দ্রের সাথে একীভূত হয়।
  2. সার্ক যক্ষ্মা ও এইচআইভি/এইডস কেন্দ্র (STAC): কাঠমান্ডু, নেপাল।
  3. সার্ক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (SCC): কলম্বো, শ্রীলঙ্কা।
  4. সার্ক জ্বালানি কেন্দ্র (SEC): ইসলামাবাদ, পাকিস্তান।
  • অন্যান্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান: সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি (SAU) — নয়াদিল্লি, ভারত; সার্ক ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (SDF) — থিম্পু, ভুটান; সার্ক আরবিট্রেশন কাউন্সিল (SARCO) — ইসলামাবাদ, পাকিস্তান।

সার্কের শীর্ষ সম্মেলন ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলী #

  • ১ম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন (১৯৮৫): ঢাকা, বাংলাদেশ (সার্ক সনদে স্বাক্ষর ও আনুষ্ঠানিক যাত্রা)।
  • ১২তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন (২০০৪): ইসলামাবাদ, পাকিস্তান (ঐতিহাসিক সাফটা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়)।
  • ১৩তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন (২০০৫): ঢাকা, বাংলাদেশ (আফগানিস্তানকে সদস্য করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়)।
  • ১৪তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন (২০০৭): নয়াদিল্লি, ভারত (আফগানিস্তানের আনুষ্ঠানিক যোগদান)।
  • ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন (২০১৪): কাঠমান্ডু, নেপাল (এযাবৎকালের অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন)।
  • স্থগিত ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন (২০১৬): ২০১৬ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উরি সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে ভারত সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দেয়; বাংলাদেশ, ভুটান ও আফগানিস্তান সংহতি জানালে সম্মেলনটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।

সার্কের নিষ্ক্রিয়তা ও অচলাবস্থার মূল কারণ #

সার্ক প্রতিষ্ঠার চার দশক অতিক্রান্ত হলেও এটি বিশ্বের অন্যতম অকার্যকর জোটে পরিণত হয়েছে।

  • ভারত-পাকিস্তান চিরবৈরিতা: কাশ্মির ইস্যু ও আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দুই পারমাণবিক পরাশক্তির বৈরিতা সার্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম রুদ্ধ করে রেখেছে।
  • সনদের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের ফাঁদ: সনদের অনুচ্ছেদ ১০(২) অনুযায়ী যেকোনো একটি সদস্য দেশের আপত্তি থাকলে কোনো সিদ্ধান্ত পাস হয় না এবং শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে না।
  • অবিশ্বাসের রাজনীতি: ক্ষুদ্র প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভারতীয় আধিপত্যের ভয় (Big Brother Syndrome) এবং ভারতের নিরাপত্তা শঙ্কা পারস্পরিক অর্থনৈতিক সংযোগ তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

১০.২ বিমসটেক (BIMSTEC): বঙ্গোপসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও ঢাকা সচিবালয় #

🏛️ প্রাতিষ্ঠানিক ডাটা কার্ড: বিমসটেক (BIMSTEC)
• পূর্ণরূপ: Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation (বঙ্গোপসাগরীয় বহুমুখী কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ)।
• প্রতিষ্ঠার সন ও সনদ: ৬ জুন ১৯৯৭; ব্যাংকক ঘোষণা (Bangkok Declaration), থাইল্যান্ড।
• স্থায়ী সচিবালয়: ঢাকা, বাংলাদেশ (গুলশান-১; ২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন)।
• মোট সদস্য রাষ্ট্র: ৭টি দেশ (দক্ষিণ এশিয়ার ৫টি: বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ২টি: মিয়ানমার, থাইল্যান্ড)।
• শীর্ষ নেতৃত্ব: মহাসচিব — রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডে (Indra Mani Pandey), ভারত (দায়িত্ব গ্রহণ: জানুয়ারি ২০২৪; ৪র্থ মহাসচিব)।
• ঐতিহাসিক চার্টার কার্যকর: ২০২২ সালের ৩০ মার্চ কলম্বোয় গৃহীত বিমসটেক সনদ (BIMSTEC Charter) সকল সদস্য কর্তৃক অনুসমর্থনের পর ২০ মে ২০২৪ আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক আইনে কার্যকর হয়।
বিমসটেক (BIMSTEC): দুই অঞ্চলের মেলবন্ধন দক্ষিণ এশিয়ার ৫ সার্ক দেশ • বাংলাদেশ (সচিবালয়: ঢাকা) • ভারত • শ্রীলঙ্কা • নেপাল • ভুটান দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ২ দেশ থাইল্যান্ড মিয়ানমার 📊 মাস্টার সিন্থেসিস ও তাত্ত্বিক কাঠামো রূপরেখা

সদস্যপদ ও নামকরণের ঐতিহাসিক বিবর্তন #

বিমসটেক প্রতিষ্ঠার পর থেকে সদস্য বৃদ্ধির সাথে সাথে এর নামে রূপান্তর এসেছে:

  1. BIST-EC (১৯৯৭): ৬ জুন ১৯৯৭ ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে ৪টি দেশ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়—Bangladesh, India, Sri Lanka, and Thailand Economic Cooperation।
  2. BIMST-EC (১৯৯৭): একই বছর ২২ ডিসেম্বর মিয়ানমার পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দিলে নাম পরিবর্তিত হয়ে হয় Bangladesh, India, Myanmar, Sri Lanka, and Thailand Economic Cooperation।
  3. BIMSTEC (২০০৪): ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সালে নেপাল ও ভুটান আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ লাভ করে। ৩১ জুলাই ২০০৪ ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ১ম শীর্ষ সম্মেলনে সংস্থাটির বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক পূর্ণরূপ গৃহীত হয়: Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation।

বিমসটেকের ৭টি পুনর্গঠিত অগ্রাধিকার খাত ও বাংলাদেশ #

২০২২ সালের কলম্বো শীর্ষ সম্মেলনে বিমসটেকের পূর্বতন ১৪টি খাতকে পুনর্গঠন করে ৭টি প্রধান খাতে রূপান্তর করা হয় এবং প্রতিটি সদস্য দেশকে একটি খাতের নেতৃত্ব দেওয়া হয়:

  1. বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন (Trade, Investment & Development): প্রধান সমন্বয়ক দেশ — বাংলাদেশ।
  2. পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন: ভুটান।
  3. নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন: ভারত।
  4. কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: মিয়ানমার।
  5. জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (People-to-People Contact): নেপাল।
  6. বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন: শ্রীলঙ্কা।
  7. কানেক্টিভিটি বা যোগাযোগ: থাইল্যান্ড।

বিমসটেকের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঢাকা সচিবালয় #

  • সার্কের বিকল্প রূপরেখা: পাকিস্তান না থাকায় এবং ভারতের 'অ্যাক্ট ইস্ট' (Act East) ও 'নেইবারহুড ফার্স্ট' (Neighborhood First) পলিসির কারণে ভারত বিমসটেককে সর্বাধিক ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
  • বাংলাদেশের অর্জন: বিমসটেকের স্থায়ী সচিবালয় ঢাকায় অবস্থিত হওয়ায় ঢাকা বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক রাজধানীতে পরিণত হয়েছে।
  • চার্টার ২০২৪: প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২০২৪ সালের ২০ মে নিজস্ব চার্টার কার্যকর হওয়ায় বিমসটেক নিজস্ব আইনি সত্তাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক সংস্থায় রূপ লাভ করেছে।

১০.৩ আসিয়ান (ASEAN): দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সংহতি ও 'আসিয়ান ওয়ে' #

🏛️ প্রাতিষ্ঠানিক ডাটা কার্ড: আসিয়ান (ASEAN)
• পূর্ণরূপ: Association of Southeast Asian Nations (দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতিসমূহের সংস্থা)।
• প্রতিষ্ঠার তারিখ ও ঘোষণা: ৮ আগস্ট ১৯৬৭; ব্যাংকক ঘোষণা (Bangkok Declaration), থাইল্যান্ড। প্রতি বছর ৮ আগস্ট ‘আসিয়ান দিবস’ পালিত হয়।
• প্রতিষ্ঠাতা দেশ (৫টি): ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ড।
• স্থায়ী সচিবালয়: জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া।
• বর্তমান সদস্য: ১০টি দেশ (তিমুর-লেস্তেকে নীতিগতভাবে ১১তম সদস্য হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে)।
• শীর্ষ নেতৃত্ব: মহাসচিব — ড. কাও কিম হর্ন (Dr. Kao Kim Hourn), কম্বোডিয়া (দায়িত্ব গ্রহণ: জানুয়ারি ২০২৩)।
• মূল কূটনৈতিক দর্শন: ‘দ্য আসিয়ান ওয়ে’ (The ASEAN Way) — অনানুষ্ঠানিকতা, ঐকমত্য এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কঠোর অনস্তক্ষেপ (Non-interference)।
টপিক 10: কাঠামোগত রূপরেখা ও বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র 📊 ঐতিহাসিক টাইমলাইন আসিয়ান সদস্যপদ রূপান্তর ব্যাংকক ঘোষণা ► ব্রুনাইয়ের ► ভিয়েতনামের ► লাওস ও ► কম্বোডিয়ার (৫ প্রতিষ্ঠাতা দেশ যোগদান যোগদান মিয়ানমারের যোগদান যোগদান (১০ম সদস্য ইন্দোনেশিয়া, থাই, (৬ষ্ঠ সদস্য) (৭ম সদস্য) (৮ম ও ৯ম সদস্য) হিসেবে আসিয়ান ১০) মালয়, ফিলিপাইন, সিং)

আসিয়ানের ৩টি প্রধান সম্প্রদায় স্তম্ভ (Three Community Pillars) #

২০০৭ সালে গৃহীত আসিয়ান সনদের (ASEAN Charter, কার্যকর ২০০৮) মাধ্যমে সংস্থাটি তিনটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে:

  1. ASEAN Political-Security Community (APSC): আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল রক্ষা করা।
  2. ASEAN Economic Community (AEC): একক বাজার ও উৎপাদন ভিত্তি গড়ে তোলা (২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর)।
  3. ASEAN Socio-Cultural Community (ASCC): শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে তোলা।

আসিয়ানের আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মসমূহ #

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরের বৃহৎ পরাশক্তিদের সাথে সংলাপ ও নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য আসিয়ান কয়েকটি শক্তিশালী ফোরাম পরিচালনা করে:

  1. আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম (ARF - ASEAN Regional Forum): ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ২৭ সদস্যের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংলাপ ফোরাম। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ এআরএফ-এর ২৬তম সদস্য হিসেবে যোগদান করে।
  2. আসিয়ান প্লাস থ্রি (ASEAN+3): আসিয়ান ১০ দেশ + চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া (১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত)।
  3. ইস্ট এশিয়া সামিট (EAS): আসিয়ান দেশসমূহ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ভারত, জাপানসহ ১৮টি পরাশক্তির বার্ষিক কৌশলগত শীর্ষ সম্মেলন।

১০.৪ মেগা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: RCEP ও CPTPP #

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) বহুপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনার স্থবিরতার প্রেক্ষিতে একবিংশ শতাব্দীতে গড়ে উঠেছে মেগা-রিজিওনাল বাণিজ্য ব্লক:

আরসিইপি (RCEP): বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য এলাকা আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্র (১০টি) • ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম অ আসিয়ান ৫ অংশীদার দেশ ১. চীন (প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি) . জাপান দক্ষিণ কোরিয়া অস্ট্রেলিয়া িউজিল্যান্ড 📊 মাস্টার সিন্থেসিস ও তাত্ত্বিক কাঠামো রূপরেখা

১. আরসিইপি (RCEP - Regional Comprehensive Economic Partnership) #

  • প্রতিষ্ঠা ও কার্যকারিতা: ১৫ নভেম্বর ২০২০ তারিখে চতুর্থ আরসিইপি শীর্ষ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি স্বাক্ষরিত হয় এবং ১ জানুয়ারি ২০২২ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়।
  • সদস্য দেশ: ১৫টি দেশ (১০টি আসিয়ান দেশ + ৫টি মুক্ত বাণিজ্য অংশীদার: চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড)।
  • ভারতের অবস্থান: নিজস্ব কৃষি ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় এবং চীনের সাথে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতির কারণে ভারত ২০১৯ সালের নভেম্বরে আরসিইপি আলোচনা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়।
  • বৈশ্বিক প্রভাব: বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০% (২.৩ বিলিয়ন মানুষ) এবং বৈশ্বিক মোট জিডিপির প্রায় ৩০% (২৬.২ ট্রিলিয়ন ডলার) এই চুক্তির আওতাভুক্ত, যা এটিকে ইতিহাসের একক বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য এলাকা করেছে।

২. সিপিটিপিপি (CPTPP - Comprehensive and Progressive Agreement for Trans-Pacific Partnership) #

  • পূর্বে এটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে টিপিপি (TPP) নামে শুরু হলেও ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ৮ মার্চ চিলির সান্তিয়াগোতে ১১টি দেশ মিলে সিপিটিপিপি স্বাক্ষর করে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্য প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে সিপিটিপিপিতে যোগদান করে।

১০.৫ এশীয় ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (ACU) ও সাফটা (SAFTA) #

১. এশীয় ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (Asian Clearing Union - ACU) #

  • প্রতিষ্ঠা: ৯ ডিসেম্বর ১৯৭৪ (জাতিসংঘের ESCAP-এর উদ্যোগে গঠিত)।
  • সদর দফতর: তেহরান, ইরান।
  • সদস্য: দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৯টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার এবং মালদ্বীপ)।
  • উদ্দেশ্য ও কার্যপ্রণালী: সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার বাণিজ্যিক আমদানি-রপ্তানি লেনদেনের অর্থ নিষ্পত্তির বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা। প্রতি দুই মাস অন্তর সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে দেনা-পাওনা সমন্বয় করা হয়। এর অ্যাকাউন্টিং একক হলো Asian Monetary Unit (AMU বা ACU Dollar)।
  • বাংলাদেশ প্রসঙ্গ: বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মূল্যায়নে প্রতি দুই মাস পর পর এসিইউ পেমেন্ট (ACU Payment) পরিশোধ একটি অত্যন্ত আলোচিত অর্থনৈতিক ঘটনা।

২. সাফটা (SAFTA - South Asian Free Trade Area) #

  • স্বাক্ষর: ৬ জানুয়ারি ২০০৪ (ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ১২তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে স্বাক্ষরিত)।
  • কার্যকারিতা: ১ জানুয়ারি ২০০৬ থেকে কার্যকর হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় শুল্ক বাধা হ্রাস করে মুক্ত বাণিজ্য এলাকা গড়ে তোলা।

📊 টপিক ১০: দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট — মাস্টার সিন্থেসিস ও তুলনা সারণি #

জোট / সংস্থা / চুক্তি সদর দফতর ও প্রতিষ্ঠাকাল সদস্য রাষ্ট্র ও শীর্ষ নেতৃত্ব মূল ক্ষেত্র ও ম্যান্ডেট বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার হটস্পট তথ্য
সার্ক (SAARC) কাঠমান্ডু, নেপাল
(৮ ডিসেম্বর ১৯৮৫, ঢাকা)
সদস্য: ৮টি দেশ
মহাসচিব: গোলাম সারওয়ার (বাংলাদেশ)
দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা। স্বপ্নদ্রষ্টা জিয়াউর রহমান; সনদের ১০ নম্বর ধারায় দ্বিপাক্ষিক বিরোধ নিষিদ্ধ; সর্বশেষ সদস্য আফগানিস্তান (২০০৭)।
বিমসটেক (BIMSTEC) ঢাকা, বাংলাদেশ
(৬ জুন ১৯৯৭, ব্যাংকক)
সদস্য: ৭টি দেশ
মহাসচিব: ইন্দ্র মণি পান্ডে (ভারত)
বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমাকলন। সদর দফতর ঢাকায় (গুলশান); দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানকে যুক্ত করেছে; চার্টার কার্যকর ২০ মে ২০২৪।
আসিয়ান (ASEAN) জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া
(৮ আগস্ট ১৯৬৭, ব্যাংকক)
সদস্য: ১০টি দেশ (তিমুর ১১তম)
মহাসচিব: কাও কিম হর্ন
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি ও ঐক্য। 'আসিয়ান ওয়ে' দর্শন; এশিয়ার সবচেয়ে সংহত ও কার্যকর অর্থনৈতিক ব্লক।
ARF জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া
(১৯৯৪)
সদস্য: ২৭টি দেশ
আসিয়ান দ্বারা পরিচালিত
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংলাপ। বাংলাদেশ ২০০৬ সালে এর ২৬তম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
RCEP কোনো স্থায়ী সচিবালয় নেই
(১৫ নভেম্বর ২০২০, কার্যকর ২০২২)
সদস্য: ১৫টি দেশ
(১০ আসিয়ান + ৫ অংশীদার)
বৈশ্বিক মেগা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (শুল্ক বিলোপ)। বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য এলাকা; ভারত ২০১৯ সালে চুক্তি ত্যাগ করে; চীন প্রধান পক্ষ।
এসিইউ (ACU) তেহরান, ইরান
(৯ ডিসেম্বর ১৯৭৪)
সদস্য: ৯টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ESCAP দ্বারা প্রতিষ্ঠিত
সদস্য দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি। হিসাবের একক ACU ডলার/AMU; প্রতি ২ মাস পর পর ক্লিয়ারিং হয়; সদর দফতর তেহরান।

ক্রম ছন্দ / শর্টকাট মেমোরি সূত্র নিমনিক ডিকোডার ও মূল তথ্যসূত্র লক্ষ্যভিত্তিক পরীক্ষার প্রশ্ন
১ ‘MBBS SPA’ Maldives, Bangladesh, Bhutan, Sri Lanka, India, Nepal, Pakistan, Afghanistan (সার্কের ৮ সদস্য দেশ)। সার্কের সদস্য কয়টি ও কী কী? সর্বশেষ সদস্য কে?
২ ‘BIMSTEC’ Bangladesh, India, Myanmar, Sri Lanka, Thailand, Bhutan, Nepal (বিমসটেকের ৭ সদস্য দেশ)। বিমসটেকের সদস্য দেশ কয়টি ও কোন দুটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়?
৩ ‘TV-তে FILM দেখলে BCS হয় না’ Thailand, Vietnam, Philippines, Indonesia, Laos, Malaysia, Brunei, Cambodia, Singapore (আসিয়ানের ১০ সদস্য দেশ)। আসিয়ানের ১০টি সদস্য দেশ কী কী?
৪ ‘সার্ক কাঠমান্ডু, বিমসটেক ঢাকা, আসিয়ান জাকার্তায় আঁকা’ সার্কের সদর দফতর কাঠমান্ডু (নেপাল), বিমসটেকের সদর দফতর ঢাকা (বাংলাদেশ) এবং আসিয়ানের সচিবালয় জাকার্তা (ইন্দোনেশিয়া)। সার্ক, বিমসটেক ও আসিয়ানের সদর দফতর কোথায় অবস্থিত?
৫ ‘৭৪-এর তেহরানে ৯ দেশের এসিইউ, দুই মাস পর পর ডলারে ঋণ কাটে ভিউ’ এশীয় ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (ACU) ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত, সদর দফতর তেহরান, সদস্য ৯ দেশ, প্রতি ২ মাস পর পর দেনা নিষ্পত্তি হয়। এসিইউ-এর সদর দফতর কোথায়? এর হিসাবের একক কী?