টপিক 11: মুসলিম বিশ্বের সংস্থা ও জোটসমূহ
টপিক ১১: মুসলিম বিশ্বের সংস্থা ও জোটসমূহ (Muslim World Organizations & Alliances) #
🌐 অধ্যায় পরিচিতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট (Chapter Prologue: বিষয়টি কী ও কেন) #
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মুসলিম বিশ্ব বা ‘উম্মাহ’ (Ummah) কেবল একটি ধর্মীয় পরিচয় নয়; এটি এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সংযোগস্থলে অবস্থিত এক বিপুল ভৌগোলিক, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক শক্তি। বিশ্বের মোট স্থলভাগের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং প্রায় দুই বিলিয়ন জনসংখ্যার এই বিশাল ভূখণ্ড বৈশ্বিক খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রিজার্ভের সিংহভাগের অধিকারী। একই সাথে সুয়েজ খাল, বাব এল-মান্দেব এবং হরমুজ প্রণালীর মতো বিশ্বের প্রধান সামুদ্রিক বাণিজ্য করিডোরগুলো মুসলিম বিশ্বের নিয়ন্ত্রণাধীন।
প্যান-ইসলামিজম থেকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন #
উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে জামাল উদ্দিন আফগানি ও মুহাম্মদ আবদুহু কর্তৃক সূচিত ‘প্যান-ইসলামিজম’ (Pan-Islamism) বা অখণ্ড মুসলিম সংহতির ধারণা বিংশ শতাব্দীর শুরুতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর উসমানীয় খিলাফতের বিলুপ্তিতে (১৯২৪) তীব্র ধাক্কা খায়। পরবর্তী চার দশক মুসলিম দেশগুলো মূলত জাতীয়তাবাদী ও উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামে ব্যস্ত ছিল।
কিন্তু ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে পরাজয় এবং বিশেষ করে ১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট জেরুজালেমের পবিত্র মসজিদুল আকসায় এক অস্ট্রেলীয় চরমপন্থী কর্তৃক অগ্নিসংযোগের ঘটনা মুসলিম বিশ্বকে নজিরবিহীনভাবে নাড়া দেয়। এই চরম অপমানের প্রেক্ষাপটে আল-আকসার সুরক্ষা, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার এবং বিশ্ব মুসলিমের রাজনৈতিক সংহতির লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের সেপ্টেম্বরে মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম ঐতিহাসিক ইসলামি শীর্ষ সম্মেলন—যার সরাসরি ফসল হিসেবে জন্ম নেয় জাতিসংঘের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তঃসরকারি সংস্থা ওআইসি (OIC)। পরবর্তীতে এই ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নানা প্ল্যাটফর্ম—যেমন আরব লীগ, জিসিসি, আইডিবি এবং ডি-৮।
১১.১ অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (OIC): প্রতিষ্ঠা, সনদ ও নেতৃত্ব #
| 🏛️ প্রাতিষ্ঠানিক ডাটা কার্ড: ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (OIC) |
|---|
| • প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষিত ও তারিখ: ২১ আগস্ট ১৯৬৯ আল-আকসায় অগ্নিসংযোগের পর ২২-২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ মরক্কোর রাবাত শীর্ষ সম্মেলন। |
| • সদর দফতর: জেদ্দা, সৌদি আরব (সনদ অনুযায়ী এটি সাময়িক সদর দফতর; স্বাধীন ফিলিস্তিনের মুক্ত রাজধানী পূর্ব জেরুজালেম বা আল-কুদস হবে এর স্থায়ী সদর দফতর)। |
| • মোট সদস্য রাষ্ট্র: ৫৭টি দেশ (জাতিসংঘের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তঃসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা)। |
| • শীর্ষ নেতৃত্ব: মহাসচিব (Secretary-General) — হিসেন ব্রাহিম তাহা (Hissein Brahim Taha), চাদ (দায়িত্ব গ্রহণ: নভেম্বর ২০২১; ১২তম মহাসচিব)। |
| • নামকরণ পরিবর্তন: ২৮ জুন ২০১১ কাজাখস্তানের আস্তানায় অনুষ্ঠিত ৩৮তম সিএফএম সম্মেলনে পূর্বতন নাম Organisation of the Islamic Conference পরিবর্তন করে বর্তমান নাম Organisation of Islamic Cooperation রাখা হয়। |
| • ইউরোপীয় ও ল্যাটিন সদস্য: ইউরোপের একমাত্র দেশ হিসেবে আলবেনিয়া (১৯৯২) এবং দক্ষিণ আমেরিকার দুটি দেশ সুরিনাম ও গায়ানা ওআইসির পূর্ণ সদস্য। |
ওআইসির সদস্য বিন্যাস ও বৈশ্বিক প্রভাব #
ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং দক্ষিণ আমেরিকা—এই চারটি মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত।
- ইউরোপ: আলবেনিয়া (১৯৯২ সালে সদস্যপদ লাভ করে)।
- দক্ষিণ আমেরিকা: গায়ানা ও সুরিনাম।
- পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র (৫টি): রাশিয়া, থাইল্যান্ড, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র এবং তুর্কি সাইপ্রিয়ট রাষ্ট্র।
- স্থগিত সদস্য: সিরিয়ার সদস্যপদ গৃহযুদ্ধের কারণে ২০১২ সালের আগস্টে স্থগিত করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ ও ওআইসি: ঐতিহাসিক লাহোর সম্মেলন (১৯৭৪) #
বাংলাদেশের জাতীয় কূটনীতি ও মুসলিম বিশ্বের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে ওআইসি এক অনন্য মাইলফলক।
- যোগদানের প্রেক্ষাপট: ১৯৭৪ সালের ২২ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে দ্বিতীয় ওআইসি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ারি বুমেদিন এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতসহ আরব নেতাদের দূতিয়ালিতে পাকিস্তান বাংলাদেশকে নিঃশর্ত কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান করতে বাধ্য হয়।
- সদস্যপদ লাভ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে।
- বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোর সম্মেলনে যোগ দিয়ে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার এবং নিপীড়িত মুসলিম উম্মাহর অর্থনৈতিক মুক্তির পক্ষে ঐতিহাসিক বক্তব্য প্রদান করেন।
- ঢাকা সম্মেলন: ১৯৮৩ সালে ঢাকায় ১৪তম এবং ২০১৮ সালের মে মাসে ঢাকায় ৪৫তম ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলন (CFM) সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
১১.২ ওআইসির স্থায়ী কমিটিসমূহ ও অঙ্গসংগঠন (IUT ও অন্যান্য) #
ওআইসি তার বৃহৎ ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের জন্য একাধিক উচ্চপর্যায়ের স্থায়ী কমিটি এবং বিশেষায়িত অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে:
১. ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (IUT) #
- অবস্থান: বোর্ড বাজার, গাজীপুর, বাংলাদেশ।
- প্রতিষ্ঠার পটভূমি: ১৯৭৮ সালে সেনেগালের ডাকারে অনুষ্ঠিত ৯ম ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে বাংলাদেশে একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
- নামের রূপান্তর: ১৯৮১ সালে এর যাত্রা শুরু হয় Islamic Centre for Technical and Vocational Training and Research (ICTVTR) নামে। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে এটি Islamic Institute of Technology (IIT) এবং অবশেষে ২০০১ সালে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে Islamic University of Technology (IUT) নামকরণ করা হয়।
- মর্যাদা: এটি ওআইসির সরাসরি অর্থায়নে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান, যেখানে ওআইসিভুক্ত বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে।
২. ওআইসির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কেন্দ্রসমূহ #
- ইসলামিক ফিকহ একাডেমি (International Islamic Fiqh Academy): জেদ্দা, সৌদি আরব (ইসলামি আইন ও শরিয়াহ গবেষণা)।
- এসইএসআরআইসি (SESRIC - পরিসংখ্যান ও অর্থনৈতিক গবেষণা কেন্দ্র): আঙ্কারা, তুরস্ক।
- আইআরসিআইসিএ (IRCICA - ইসলামি ইতিহাস, শিল্প ও সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র): ইস্তাম্বুল, তুরস্ক।
- ইসলামিক সলিডারিটি ফান্ড (ISF): জেদ্দা, সৌদি আরব।
১১.৩ ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (IsDB / IDB) #
| 🏛️ প্রাতিষ্ঠানিক ডাটা কার্ড: ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (IsDB) |
|---|
| • প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম: ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭৩ ওআইসির অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলনে ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হয়; ২০ অক্টোবর ১৯৭৫ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু। |
| • সদর দফতর: জেদ্দা, সৌদি আরব। |
| • মোট সদস্য রাষ্ট্র: ৫৭টি দেশ (ওআইসির সকল সদস্য দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইডিবির সদস্য হতে পারে)। |
| • শীর্ষ নেতৃত্ব: প্রেসিডেন্ট — ড. মুহাম্মদ সুলাইমান আল-জাসের (Dr. Muhammad Sulaiman Al Jasser), সৌদি আরব (দায়িত্ব গ্রহণ: আগস্ট ২০২১)। |
| • হিসাবের নিজস্ব একক: ইসলামিক দিনার (Islamic Dinar - ID)। ১ ইসলামিক দিনার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ১ এসডিআর (SDR)-এর সমমূল্যের। |
| • শীর্ষ শেয়ারহোল্ডার দেশ: সৌদি আরব (প্রায় এক-চতুর্থাংশ শেয়ার), এরপর লিবিয়া, ইরান, নাইজেরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। |
আইডিবির মূল নীতি ও কার্যক্রম #
- শরিয়াহ সম্মত অর্থায়ন: প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো সুদ গ্রহণ বা প্রদান নিষিদ্ধ। এটি মুদারাবা (লাভ-ক্ষতি অংশীদারি), মুশারাকা ও ইজারা (ইজারা অর্থায়ন) পদ্ধতিতে উন্নয়ন প্রকল্প ও অবকাঠামোতে ঋণ দেয়।
- ওয়াকফ তহবিল: প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশসমূহে অনুদান সহায়তা প্রদান।
- বাংলাদেশ প্রসঙ্গ: বাংলাদেশ আইডিবির অন্যতম শীর্ষ অর্থায়নগ্রহীতা দেশ। গ্রামীণ অবকাঠামো, পল্লী বিদ্যুতায়ন, কর্ণফুলী গ্যাস প্রকল্প ও উপকূলীয় দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে আইডিবি সহজ শর্তে অর্থায়ন করেছে।
১১.৪ আরব লীগ (League of Arab States) ও জিসিসি (GCC) #
মুসলিম বিশ্বের আঞ্চলিক রাজনীতিতে আরব জাতীয়তাবাদ ও উপসাগরীয় জ্বালানি ভূ-রাজনীতি অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে:
১. আরব লীগ (Arab League) #
- প্রতিষ্ঠা: ২২ মার্চ ১৯৪৫ (আলেকজান্দ্রিয়া প্রটোকলের পর কায়রোতে স্বাক্ষরিত)। এটি জাতিসংঘের চেয়েও প্রায় ৭ মাস পূর্বে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠাতা দেশ (৬টি): মিশর, ইরাক, জর্ডান, লেবানন, সৌদি আরব ও সিরিয়া।
- সদর দফতর: কায়রো, মিশর।
- তিউনিস পর্ব (১৯৭৯-১৯৮৯): ১৯৭৯ সালে মিশর ইসরায়েলের সাথে একক ক্যাম্প ডেভিড শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করায় মিশরকে আরব লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং সদর দফতর তিউনিসিয়ার তিউনিসে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৮৯ সালে মিশরের সদস্যপদ পুনর্বহাল হলে সদর দফতর পুনরায় কায়রোতে ফিরে আসে।
- বর্তমান সদস্য: ২২টি দেশ।
- শীর্ষ নেতৃত্ব: মহাসচিব — আহমেদ আবুল ঘেইত (Ahmed Aboul Gheit), মিশর।
- সিরিয়া সংকট ও পুনর্বাসন: ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সিরিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছিল; কিন্তু সুদীর্ঘ ১২ বছর পর মে ২০২৩ সালে সৌদি আরবের জেদ্দা শীর্ষ সম্মেলনে সিরিয়াকে পুনরায় সদস্যপদে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
২. উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC - Gulf Cooperation Council) #
- প্রতিষ্ঠা: ২৫ মে ১৯৮১; আবুধাবি শীর্ষ সম্মেলন, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
- সদর দফতর: রিয়াদ, সৌদি আরব।
- সদস্য দেশ (৬টি): সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং ওমান। (মনে রাখুন: ইরান ও ইরাক পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী হলেও তারা জিসিসির সদস্য নয়)।
- শীর্ষ নেতৃত্ব: মহাসচিব — জসিম মুহাম্মদ আল-বুদাইবি (Jasem Mohamed Al-Budaiwi), কুয়েত।
- কাতার অবরোধ ও আল-উলা চুক্তি (২০২১): ২০১৭ সালের জুনে সৌদি আরব, ইউএই ও বাহরাইন কাতারের ওপর সন্ত্রাসী মদদ ও ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে সর্বাত্মক সীমান্ত অবরোধ আরোপ করে। সুদীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের চরম সংকটের পর ৫ জানুয়ারি ২০২১ সৌদি আরবের আল-উলা শহরে ঐতিহাসিক 'আল-উলা ঘোষণা' (Al-Ula Declaration) স্বাক্ষরের মাধ্যমে কাতার সংকট নিরসন হয় এবং জিসিসি সংহতি পুনরুদ্ধার হয়।
১১.৫ ডি-৮ (D-8 Organization for Economic Cooperation) #
| 🏛️ প্রাতিষ্ঠানিক ডাটা কার্ড: ডি-৮ (Developing-8) |
|---|
| • পূর্ণরূপ: Developing-8 Organization for Economic Cooperation (উন্নয়নশীল ৮টি দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা)। |
| • প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষিত ও সন: ১৫ জুন ১৯৯৭; ইস্তাম্বুল ঘোষণা (Istanbul Declaration), তুরস্ক। |
| • মূল স্বপ্নদ্রষ্টা ও রূপকার: তুরস্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান (Necmettin Erbakan)। |
| • স্থায়ী সচিবালয়: ইস্তাম্বুল, তুরস্ক। |
| • সদস্য রাষ্ট্র (৮টি): বাংলাদেশ, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, মিসর, নাইজেরিয়া এবং পাকিস্তান। |
| • শীর্ষ নেতৃত্ব: মহাসচিব — ইশিয়াকা আব্দুলকাদির ইমাম (Isiaka Abdulqadir Imam), নাইজেরিয়া (দায়িত্ব গ্রহণ: জানুয়ারি ২০২২)। |
| • মূল নীতি: এটি কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক জোট নয়; এটি একটি বিশুদ্ধ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা সংস্থা। |
ডি-৮ এর সম্মেলন ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গ #
- ২য় শীর্ষ সম্মেলন (১৯৯৯): ১-২ মার্চ ১৯৯৯ ঢাকায় দ্বিতীয় ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১০ম শীর্ষ সম্মেলন (২০২১): ৮ এপ্রিল ২০২১ ঢাকায় ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয় দশম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০২১ থেকে ২০২৩ মেয়াদে দুই বছরের জন্য ডি-৮ এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে।
- ডি-৮ অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA): সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার আন্তঃবাণিজ্য বৃদ্ধি করতে পিটিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
📊 টপিক ১১: মুসলিম বিশ্বের সংস্থা ও জোটসমূহ — মাস্টার সিন্থেসিস ও তুলনা সারণি #
| জোট / সংস্থা | সদর দফতর ও প্রতিষ্ঠাকাল | সদস্য সংখ্যা ও শীর্ষ পদাধিকারী | মূল উদ্দেশ্য ও ম্যান্ডেট | বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার হটস্পট তথ্য |
|---|---|---|---|---|
| ওআইসি (OIC) | জেদ্দা, সৌদি আরব (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯, রাবাত) |
সদস্য: ৫৭টি দেশ মহাসচিব: হিসেন ব্রাহিম তাহা (চাদ) |
উম্মাহর সংহতি, ফিলিস্তিন মুক্তি ও মানবাধিকার রক্ষা। | সাময়িক সদর দফতর জেদ্দা, স্থায়ী হবে জেরুজালেম; আল-আকসায় অগ্নিকাণ্ডের পর গঠিত; বাংলাদেশ সদস্য ১৯৭৪ সালে। |
| আইইউটি (IUT) | গাজীপুর, বাংলাদেশ (১৯৮১ / ২০০১) |
ওআইসির সাবসিডিয়ারি অঙ্গ ভিসি দ্বারা পরিচালিত |
মুসলিম বিশ্বের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার উৎকর্ষ কেন্দ্র। | ওআইসির একমাত্র আন্তর্জাতিক কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়; পূর্বে নাম ছিল ICTVTR। |
| আইডিবি (IsDB) | জেদ্দা, সৌদি আরব (১৮ ডিসেম্বর ১৯৭৩) |
সদস্য: ৫৭টি দেশ প্রেসিডেন্ট: ড. মুহাম্মদ আল-জাসের |
সদস্য দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সুদমুক্ত শরিয়াহ অর্থায়ন। | হিসাবের একক 'ইসলামিক দিনার' (ID = 1 SDR); সৌদি আরব শীর্ষ শেয়ারহোল্ডার; বাংলাদেশ প্রধান ঋণগ্রহীতা। |
| আরব লীগ | কায়রো, মিশর (২২ মার্চ ১৯৪৫) |
সদস্য: ২২টি দেশ মহাসচিব: আহমেদ আবুল ঘেইত |
আরব জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তি। | জাতিসংঘের পূর্বে প্রতিষ্ঠিত; ১৯৭৯-১৯৮৯ তিউনিসে নির্বাসিত ছিল; সিরিয়া ২০২৩ সালে পুনর্ভুক্ত। |
| জিসিসি (GCC) | রিয়াদ, সৌদি আরব (২৫ মে ১৯৮১, আবুধাবি) |
সদস্য: ৬টি দেশ মহাসচিব: জসিম আল-বুদাইবি |
পারস্য উপসাগরীয় রাজতন্ত্রসমূহের প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সমন্বয়। | সদস্য ৬ দেশ: সৌদি, ইউএই, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ওমান (ইরান/ইরাক সদস্য নয়); আল-উলা চুক্তি (২০২১)। |
| ডি-৮ (D-8) | ইস্তাম্বুল, তুরস্ক (১৫ জুন ১৯৯৭) |
সদস্য: ৮টি দেশ মহাসচিব: ইশিয়াকা আব্দুলকাদির ইমাম |
উন্নয়নশীল মুসলিম পরাশক্তিগুলোর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা। | স্বপ্নদ্রষ্টা নাজমুদ্দিন এরবাকান; সদর দফতর ইস্তাম্বুল; বাংলাদেশ দুবার শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করেছে। |
| ক্রম | ছন্দ / শর্টকাট মেমোরি সূত্র | নিমনিক ডিকোডার ও মূল তথ্যসূত্র | লক্ষ্যভিত্তিক পরীক্ষার প্রশ্ন |
|---|---|---|---|
| ১ | ‘৬৯-এর রাবাতে আল-আকসার কান্নায় ওআইসি জন্ম নিল, সাময়িক জেদ্দায় বসে কুদসের স্বপ্ন দেখাল’ | ১৯৬৯ সালে রাবাত সম্মেলনে ওআইসি প্রতিষ্ঠিত হয়; সাময়িক সদর দফতর জেদ্দা, কিন্তু স্থায়ী হবে মুক্ত জেরুজালেম (আল-কুদস)। | ওআইসি কবে, কোথায় ও কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠিত হয়? |
| ২ | ‘৭৪-এর লাহোরে মুজিবের আহ্বান, ২৩ ফেব্রুয়ারি ওআইসিতে বাংলাদেশ অমলান’ | ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি লাহোর শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ পায়। | বাংলাদেশ কত তারিখে ও কোন সম্মেলনে ওআইসির সদস্য হয়? |
| ৩ | ‘জেদ্দায় আইডিবি শরিয়াহ ব্যাংকিং চালায়, ইসলামিক দিনারে এসডিআরের সমান মূল্য পায়’ | আইডিবির সদর দফতর জেদ্দায় এবং হিসাবের একক 'ইসলামিক দিনার', যা আইএমএফ-এর ১ এসডিআর-এর সমমূল্যের। | আইডিবির সদর দফতর কোথায়? এর মুদ্রার নাম কী? |
| ৪ | ‘৪৫-এ কায়রোতে ২২ আরব জোটে, ৮১-র রিয়াদে ৬ তেল ধনী রাজতন্ত্র ফোটে’ | ১৯৪৫ সালে কায়রোতে আরব লীগ (২২ সদস্য) এবং ১৯৮১ সালে রিয়াদে জিসিসি (৬ সদস্য) প্রতিষ্ঠিত হয়। | আরব লীগ ও জিসিসির সদর দফতর ও সদস্য সংখ্যা কত? |
| ৫ | ‘নাজমুদ্দিনের ৯৭-এর ইস্তাম্বুল ডাকে, ৮ উন্নয়নশীল মুসলিম দেশ ডি-৮-এ থাকে’ | ১৯৯৭ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী নাজমুদ্দিন এরবাকানের উদ্যোগে ইস্তাম্বুল ঘোষণার মাধ্যমে ডি-৮ প্রতিষ্ঠিত হয়। | ডি-৮ এর রূপকার কে এবং সদর দফতর কোথায় অবস্থিত? |