টপিক 12: উদীয়মান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট
টপিক ১২: উদীয়মান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট (Emerging Economic & Political Blocs: BRICS, SCO, G7, G20) #
🌐 অধ্যায় পরিচিতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট (Chapter Prologue: বিষয়টি কী ও কেন) #
স্নায়ুযুদ্ধোত্তর একমেরুকেন্দ্রিক (Unipolar) বিশ্বব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে পৃথিবী প্রবেশ করেছে বহুমেরুকেন্দ্রিক (Multipolar) বিশ্বব্যবস্থায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রতিষ্ঠিত পশ্চিমা-নিয়ন্ত্রিত ব্রেটন উডস ব্যবস্থা এবং জি-৭ কেন্দ্রিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে বৈশ্বিক দক্ষিণ (Global South) এবং ইউরেশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরাশক্তিগুলো। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তাত্ত্বিকরা এই প্রক্রিয়াকে আখ্যায়িত করেছেন 'পাওয়ার শিফট' (Power Shift from West to East) হিসেবে।
বৈশ্বিক মেরুকরণ: জি-৭ বনাম ব্রিকস ও এসসিও #
পশ্চিমা উন্নত অর্থনীতির একক আধিপত্যের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ১৯৭০-এর দশকে আত্মপ্রকাশ করেছিল জি-৭ (G7)। কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু আটলান্টিক থেকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থানান্তরিত হওয়ায় এবং এশীয় ও বৈশ্বিক আর্থিক সংকট মোকাবেলায় ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি জি-২০ (G20)।
একই সাথে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য এবং পশ্চিমা একতরফা নিষেধাজ্ঞা নীতির বিপরীতে বৈশ্বিক দক্ষিণের বিকল্প অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অভাবনীয় বিস্তার ঘটিয়েছে ব্রিকস (BRICS)। ২০২৪ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বৃহৎ অর্থনীতিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে 'ব্রিকস প্লাস' এক বিশাল অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে ইউরেশিয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা, সীমান্ত স্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় চীনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) আজ বিশ্বের বৃহত্তম আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোটে পরিণত হয়েছে। এই অধ্যায়ে আমরা বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ণয়কারী এই প্রধান চারটি ব্লকের ঐতিহাসিক পটভূমি, প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তার ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তারিত পর্যালোচনা করব।
১২.১ ব্রিকস (BRICS): ধারণা, ঐতিহাসিক সম্প্রসারণ ও বৈশ্বিক প্রভাব #
| 🏛️ প্রাতিষ্ঠানিক ডাটা কার্ড: ব্রিকস (BRICS / BRICS+) |
|---|
| • শব্দ ও ধারণার প্রবর্তক: ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ লর্ড জিম ও’নিল (Jim O'Neill); ২০০১ সালে গোল্ডম্যান স্যাকসের গবেষণাপত্রে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির চার সম্ভাব্য ইঞ্জিন হিসেবে 'BRIC' শব্দটি প্রথম প্রয়োগ করেন। |
| • প্রথম শীর্ষ সম্মেলন: ১৬ জুন ২০০৯; ইয়েকাটেরিনবার্গ (Yekaterinburg), রাশিয়া (প্রতিষ্ঠাতা ৪ দেশ: ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন)। |
| • প্রথম সম্প্রসারণ (২০১০): ২৪ ডিসেম্বর ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকাকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং ২০১১ সালের সানিয়া সম্মেলনে দেশটি প্রথম অংশ নেয় (নাম হয় BRICS)। |
| • ঐতিহাসিক দ্বিতীয় মেগা সম্প্রসারণ (১ জানুয়ারি ২০২৪): ১৫তম জোহানেসবার্গ শীর্ষ সম্মেলনের (২০২৩) সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ১ জানুয়ারি ২০২৪ আনুষ্ঠানিকভাবে ৫টি নতুন দেশ যুক্ত হয়: মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)। (উল্লেখ্য, আর্জেন্টিনার নবনির্বাচিত ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন)। |
| • বর্তমান সদস্য সংখ্যা: ১০টি দেশ (BRICS-10)। |
| • ১৬তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন: ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর ২০২৪; কাজান (Kazan), রাশিয়া। এই সম্মেলনে সদস্য ছাড়াও ১৩টি দেশকে নতুন 'অংশীদার দেশ' (Partner Countries) ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় আনা হয়। |
| • নিজস্ব বহুপাক্ষিক ব্যাংক: নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (NDB) — সদর দফতর সাংহাই, চীন; ২০১৪ সালে ফোর্তালেজা সম্মেলনে ১০০ বিলিয়ন ডলার মূলধন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। |
বর্তমান ১০টি সদস্য দেশের ভৌগোলিক বিন্যাস #
- লাতিন আমেরিকা (১টি): ব্রাজিল।
- ইউরোপ/ইউরেশিয়া (১টি): রাশিয়া।
- এশিয়া (৪টি): চীন, ভারত, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)।
- আফ্রিকা (৩টি): দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া।
- মধ্যপ্রাচ্য/পশ্চিম এশিয়া (১টি): সৌদি আরব।
নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (NDB) ও কনটিনজেন্সি রিজার্ভ (CRA) #
- প্রতিষ্ঠা: ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই ব্রাজিলের ফোর্তালেজায় অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ১০০ বিলিয়ন ডলারের অনুমোদিত মূলধন নিয়ে NDB প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দফতর: সাংহাই, চীন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট: দিলমা রুসেফ (ব্রাজিল)।
- বাংলাদেশ প্রসঙ্গ: ব্রিকস বহির্ভূত দেশ হিসেবে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ প্রথম নতুন সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিবিতে যোগদান করে।
- কন্টিংজেন্সি রিজার্ভ অ্যারেঞ্জমেন্ট (CRA): সদস্য দেশগুলোর আকস্মিক ব্যালেন্স অব পেমেন্ট বা তারল্য সংকট মোকাবেলায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের যৌথ মুদ্রা বিনিময় তহবিল গঠন করা হয়েছে—যা আইএমএফ-এর বিকল্প সেফটি নেট।
ব্রিকসের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব ও ডি-ডলারাইজেশন #
- অর্থনৈতিক ভরকেন্দ্র: ব্রিকস-১০ দেশসমূহ বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৫% এবং ক্রয়ক্ষমতার সমতার (PPP) ভিত্তিতে বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৩৬% প্রতিনিধিত্ব করে—যা জি-৭ দেশগুলোর সম্মিলিত জিডিপির (৩০%) চেয়েও বেশি।
- জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ: সৌদি আরব, ইরান, ইউএই ও রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তির ফলে ব্রিকস বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের প্রায় ৪৩-৪৫% নিয়ন্ত্রণ করছে।
- ডি-ডলারাইজেশন ও 'ব্রিকস পে' (BRICS Pay): মার্কিন ডলারের একাধিপত্য ও সুইফট (SWIFT) নির্ভরতা হ্রাস করতে ২০২৪ সালের কাজান সম্মেলনে স্থানীয় মুদ্রায় (Local Currencies) ক্রস-বর্ডার লেনদেন এবং ডিজিটাল ব্লকচেইনভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম 'BRICS Pay' চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
১২.২ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO): ইউরেশীয় নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি #
| 🏛️ প্রাতিষ্ঠানিক ডাটা কার্ড: সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) |
|---|
| • পূর্ণরূপ: Shanghai Cooperation Organisation (সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা)। |
| • পূর্বতন রূপ: 'সাংহাই ফাইভ' (Shanghai Five) — ২৬ এপ্রিল ১৯৯৬ চীনের সাংহাইতে ৫টি দেশ (চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তান) নিয়ে গঠিত সীমান্ত নিরস্ত্রীকরণ ও আস্থা বৃদ্ধি সংক্রান্ত জোট। |
| • আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা: ১৫ জুন ২০০১; উজবেকিস্তান যোগ দিলে ৬টি দেশ মিলে সাংহাই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক সংস্থা এসসিও গঠন করে। |
| • স্থায়ী সচিবালয়: বেইজিং, চীন। |
| • বর্তমান সদস্য সংখ্যা: ১০টি দেশ (সর্বশেষ ৪ জুলাই ২০২৪ কাজাখস্তানের আস্তানা সম্মেলনে বেলারুশ দশম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়)। |
| • শীর্ষ নেতৃত্ব: মহাসচিব — ঝাং মিং (Zhang Ming), চীন। |
| • স্থায়ী সন্ত্রাসবিরোধী অঙ্গ: RATS (Regional Anti-Terrorist Structure) — স্থায়ী কার্যালয় তাসখন্দ, উজবেকিস্তান। |
| • মূল নীতি: 'সাংহাই স্পিরিট' (Shanghai Spirit) — পারস্পরিক বিশ্বাস, সমমর্যাদা, আলোচনা এবং ভৌগোলিক সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান। |
সদস্যপদের ঐতিহাসিক সম্প্রসারণ #
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য (৬টি): চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান। (মনে রাখুন: মধ্য এশিয়ার অন্যতম দেশ তুর্কমেনিস্তান স্থায়ী নিরপেক্ষ নীতির কারণে এসসিও-র সদস্য নয়)।
- প্রথম সম্প্রসারণ (২০১৭): ৯ জুন ২০১৭ কাজাখস্তানের আস্তানা শীর্ষ সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পারমাণবিক পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে (সদস্য হয় ৮টি)।
- দ্বিতীয় সম্প্রসারণ (২০২৩): ৪ জুলাই ২০২৩ ভারতের ভার্চুয়াল সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২৩তম সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইরান নবম পূর্ণ সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়।
- তৃতীয় সম্প্রসারণ (২০২৪): ৪ জুলাই ২০২৪ কাজাখস্তানের আস্তানায় অনুষ্ঠিত ২৪তম শীর্ষ সম্মেলনে পূর্ব ইউরোপের দেশ বেলারুশ এসসিও-র ১০ম পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
RATS ও 'তিন অমঙ্গল' (Three Evils) দমন #
এসসিও-র সবচেয়ে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গ হলো তাসখন্দে অবস্থিত RATS। এটি সদস্য দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে তিনটি অভিন্ন অ-চিরাচরিত নিরাপত্তা হুমকি বা 'Three Evils' প্রতিরোধ করে:
- সন্ত্রাসবাদ (Terrorism)
- বিচ্ছিন্নতাবাদ (Separatism)
- ধর্মীয় চরমপন্থা (Religious Extremism)
- এছাড়াও এসসিও সদস্য দেশগুলো নিয়মিত 'শান্তি মিশন' (Peace Mission) নামে যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করে।
১২.৩ গ্রুপ অব সেভেন (G7): পশ্চিমা অর্থনৈতিক পরাশক্তি ও শীর্ষ নেতৃত্ব #
| 🏛️ প্রাতিষ্ঠানিক ডাটা কার্ড: গ্রুপ অব সেভেন (G7) |
|---|
| • প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষিত ও সন: ১৫-১৭ নভেম্বর ১৯৭৫ ফ্রান্সের রামবুয়েতে (Château de Rambouillet) প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম তেল সংকটের ধাক্কা সামলাতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ভ্যালেরি জিসকার ডি’এস্তায়ের উদ্যোগে এটি গঠিত হয়। |
| • প্রতিষ্ঠাতা রূপ: প্রথমে এটি ছিল জি-৬ (G6) — ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। |
| • কানাডার অন্তর্ভুক্তি (১৯৭৬): পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান সম্মেলনে কানাডা যোগ দিলে এটি রূপ নেয় জি-৭ (G7)-এ। |
| • সদস্য দেশ (৭টি): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান এবং কানাডা। (ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্থায়ী অ-গণনাকৃত পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেয়)। |
| • সচিবালয়: জি-৭ এর কোনো স্থায়ী সদর দফতর বা সচিবালয় নেই। যে দেশ সভাপতিত্ব করে, সেই দেশ বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে। |
| • ৫০তম জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন: ১৩-১৫ জুন ২০২৪; পুগলিয়া (Puglia), ইতালি। |
| • ৫১তম জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন (২০২৫): কানানাসকিস (Kananaskis), আলবার্টা, কানাডা। |
জি-৮ ও রাশিয়ার স্থায়ী বহিষ্কার (২০১৪) #
স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর ১৯৯৭ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের উদ্যোগে রাশিয়াকে এই অভিজাত ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং এটি রূপ নেয় জি-৮ (G8)-এ। ১৯৯৮ সালের বার্মিংহাম সামিট থেকে রাশিয়া পূর্ণ অংশ নেয়।
কিন্তু মার্চ ২০১৪ সালে ইউক্রেনের স্বায়ত্তশাসিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দখল ও একতরফা অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে অন্য ৭টি সদস্য দেশ রাশিয়ার সদস্যপদ স্থায়ীভাবে স্থগিত করে এবং রাশিয়াকে জি-৮ থেকে বহিষ্কার করে। ফলে জোটটি পুনরায় জি-৭ (G7)-এ ফিরে আসে।
জি-৭ এর ঐতিহাসিক মাইলফলক চুক্তি ও ৫০তম সম্মেলন (২০২৪) #
- প্লাজা চুক্তি (Plaza Accord, ১৯৮৫): নিউ ইয়র্কের প্লাজা হোটেলে জি-৫/জি-৭ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে ডলারের অতি-মূল্যায়ন কমিয়ে জাপানি ইয়েন ও জার্মান মার্কের মান বৃদ্ধির সমন্বিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- ৫০তম সম্মেলন (পুগলিয়া, ইতালি - ২০২৪): ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে পশ্চিমা দেশগুলো জব্দকৃত রাশিয়ান সার্বভৌম সম্পদের মুনাফা জামানত রেখে ইউক্রেনের জন্য ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ প্যাকেজ অনুমোদন করে।
১২.৪ গ্রুপ অব ২০ (G20): বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ও আফ্রিকান ইউনিয়ন #
| 🏛️ প্রাতিষ্ঠানিক ডাটা কার্ড: গ্রুপ অব ২০ (G20) |
|---|
| • প্রতিষ্ঠা ও প্রেক্ষাপট: ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯; ১৯৯৭ সালের এশীয় আর্থিক সংকটের পর জি-৭ অর্থমন্ত্রীদের উদ্যোগে বার্লিনে প্রতিষ্ঠিত হয়। |
| • শীর্ষ সম্মেলনে রূপান্তর: ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দার পর ১৫ নভেম্বর ২০০৮ ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথম জি-২০ রাষ্ট্রপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। |
| • বর্তমান সদস্য কাঠামো: ১৯টি সার্বভৌম রাষ্ট্র + ২টি আঞ্চলিক সংস্থা = ২১টি অংশীদার। |
| • ২১তম ঐতিহাসিক সদস্য: আফ্রিকান ইউনিয়ন (African Union - AU)। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম সম্মেলনে আফ্রিকান ইউনিয়নকে স্থায়ী সদস্যপদ প্রদান করা হয়। |
| • স্থায়ী সচিবালয়: জি-২০ এর কোনো স্থায়ী সদর দফতর বা সচিবালয় নেই। |
| • ট্রয়কা (Troika) ব্যবস্থা: জি-২০ একটি ঘূর্ণায়মান ট্রয়কা ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়, যার মধ্যে থাকে—বর্তমান সভাপতি, পূর্ববর্তী সভাপতি এবং পরবর্তী সভাপতি দেশ। |
| • ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন: ১৮-১৯ নভেম্বর ২০২৪; রিও ডি জেনিরো (Rio de Janeiro), ব্রাজিল। |
| • ২০তম শীর্ষ সম্মেলন (২০২৫): দক্ষিণ আফ্রিকা (প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে জি-২০ আয়োজন)। |
জি-২০ এর নয়াদিল্লি ঘোষণা ও বৈশ্বিক প্রভাব #
- নয়াদিল্লি সম্মেলন (৯-১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩): ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের মূল স্লোগান ছিল—‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা ‘One Earth, One Family, One Future’। এই সম্মেলনের ঐতিহাসিক অর্জন ছিল আফ্রিকান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বৈশ্বিক দক্ষিণের কণ্ঠস্বরকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ফোরামের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা।
- বৈশ্বিক প্রভাব: জি-২০ ভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৬৭%), বৈশ্বিক জিডিপির ৮৫% এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৭৫% নিয়ন্ত্রণ করে।
- শেরপা ট্র্যাক ও ফিন্যান্স ট্র্যাক: জি-২০ মূলত দুটি ট্র্যাকে কাজ করে—অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরদের 'ফিন্যান্স ট্র্যাক' এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যক্তিগত প্রতিনিধিদের 'শেরপা ট্র্যাক' (Sherpa Track)।
📊 টপিক ১২: উদীয়মান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট — মাস্টার সিন্থেসিস ও তুলনা সারণি #
| জোট / ফোরাম | সদর দফতর ও প্রতিষ্ঠাকাল | সদস্য সংখ্যা ও বৈশিষ্ট্য | মূল ক্ষেত্র ও ম্যান্ডেট | বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার হটস্পট তথ্য |
|---|---|---|---|---|
| ব্রিকস (BRICS) | কোনো সদর দফতর নেই (১৬ জুন ২০০৯, রাশিয়া) |
সদস্য: ১০টি দেশ (পূর্বে ৫টি দেশ) |
পশ্চিমা অর্থনৈতিক আধিপত্যের বিকল্প ও বহুপাক্ষিক শাসন। | জিম ও'নিল উদ্ভাবক; ১ জানুয়ারি ২০২৪-এ ৫ নতুন দেশ যুক্ত হয়; নিজস্ব ব্যাংক NDB (সাংহাই)। |
| এসসিও (SCO) | বেইজিং, চীন (১৫ জুন ২০০১, সাংহাই) |
সদস্য: ১০টি দেশ মহাসচিব: ঝাং মিং (চীন) |
ইউরেশীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত আস্থা ও সন্ত্রাস দমন (RATS)। | সাংহাই ফাইভ থেকে রূপান্তর; ২০১৭ ভারত-পাক; ২০২৩ ইরান; ৪ জুলাই ২০২৪ বেলারুশ অন্তর্ভুক্ত। |
| জি-৭ (G7) | কোনো স্থায়ী দফতর নেই (১৫ নভেম্বর ১৯৭৫, ফ্রান্স) |
সদস্য: ৭টি উন্নত দেশ (যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি ইত্যাদি) |
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতি সমন্বয় ও নিরাপত্তা এজেন্ডা। | কানাডা ১৯৭৬-এ যোগ দেয়; ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর রাশিয়া জি-৮ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত। |
| জি-২০ (G20) | কোনো স্থায়ী দফতর নেই (২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯) |
সদস্য: ১৯ দেশ + EU + AU (মোট ২১ সদস্য) |
বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা, প্রবৃদ্ধি ও জলবায়ু অর্থায়ন। | বৈশ্বিক জিডিপির ৮৫%; নয়াদিল্লি ২০২৩ সম্মেলনে আফ্রিকান ইউনিয়ন (AU) ২১তম সদস্য হয়। |
| ক্রম | ছন্দ / শর্টকাট মেমোরি সূত্র | নিমনিক ডিকোডার ও মূল তথ্যসূত্র | লক্ষ্যভিত্তিক পরীক্ষার প্রশ্ন |
|---|---|---|---|
| ১ | ‘ও’নিলের ব্রিক, ২০১০-এ এস (S) ঠিক, ২০২৪-এর শুরুতে ৫ নতুন শরীক’ | ২০০১-এ জিম ও’নিল BRIC শব্দ দেন, ২০১০-এ দক্ষিণ আফ্রিকা যোগে BRICS হয়, এবং ১ জানুয়ারি ২০২৪-এ ৫ দেশ (মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি, ইউএই) যোগ দেয়। | ব্রিকসের ইতিহাস ও সর্বশেষ ২০২৪-এর নতুন সদস্য কারা? |
| ২ | ‘২০০১-এ সাংহাইয়ের ৬ জন মেলে, ২০১৭-তে ভারত-পাক ঢোকে, ২৩-এ ইরান এসে, ২৪-এ বেলারুশ ১০-এ ঠেকে’ | ২০০১-এ এসসিও গঠিত হয়; ২০১৭-তে ভারত ও পাকিস্তান, ২০২৩-এ ইরান এবং ২০২৪ সালের ৪ জুলাই বেলারুশ ১০ম সদস্য হয়। | এসসিও কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? সর্বশেষ ১০ম সদস্য কে? |
| ৩ | ‘JUICE with BF’ | Japan, USA, Italy, Canada, England (UK), Britain/Germany, France (জি-৭ এর ৭টি প্রধান সদস্য দেশ)। | জি-৭ এর ৭টি সদস্য দেশ কী কী? এশিয়ার একমাত্র সদস্য কে? |
| ৪ | ‘১৪-তে রাশিয়া ক্রিমিয়া খায়, জি-৮ ভেঙে জি-৭ হয়’ | ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ সামরিকভাবে দখলের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়াকে জি-৮ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। | রাশিয়া কোন সালে এবং কেন জি-৮ থেকে বহিষ্কৃত হয়? |
| ৫ | ‘১৯ দেশ আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছিল আগে, ২৩-এর নয়াদিল্লিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন জাগে’ | জি-২০ পূর্বে ১৯ দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ছিল; ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ নয়াদিল্লি সম্মেলনে আফ্রিকান ইউনিয়ন ২১তম সদস্য হয়। | জি-২০ এর ২১তম সদস্য কে এবং কবে যোগ দেয়? |