টপিক 21: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত, দোনবাস ও বৈশ্বিক প্রভাব
টপিক ২১: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত, দোনবাস ও বৈশ্বিক প্রভাব (Russia-Ukraine Conflict, Donbas & Global Impact) #
🌐 অধ্যায় পরিচিতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট (Chapter Prologue) #
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত একবিংশ শতাব্দীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রভাবশালী ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক পটপরিবর্তনকারী ঘটনা। স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপের মাটিতে এটিই বৃহত্তম প্রচলিত (conventional) সামরিক যুদ্ধ। এই সংঘাত কেবল দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যকার কোনো স্থানীয় সীমান্ত বিরোধ নয়; বরং এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পশ্চিম-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক উদারনৈতিক শৃঙ্খলা (Liberal International Order), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য (Pax Americana), ন্যাটোর পূর্বমুখী বিস্তার এবং রাশিয়ার সংশোধনবাদী (Revisionist) বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির মধ্যকার এক গভীর ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সংঘাত।
ঐতিহাসিকভাবে পূর্ব স্লাভিক জনগণের আত্মপরিচয় ও রাষ্ট্রীয় উৎসের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মধ্যযুগীয় কিয়েভান রুস (Kievan Rus’)। নবম থেকে ত্রয়োদশ শতক পর্যন্ত বিস্তৃত এই সভ্যতার কেন্দ্র ছিল বর্তমান ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। রুশ সাম্রাজ্য এবং পরবর্তীকালে সোভিয়েত ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় বয়ানে কিয়েভকে "রুশ নগরসমূহের মাতা" (Mother of Russian Cities) হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইউক্রেনকে একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে দেখার চেষ্টা করা হয়। এর বিপরীতে, ইউক্রেনীয়দের জাতীয়তাবোধ স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত ভাষা, কসাক ঐতিহ্য (Cossack traditions) এবং স্বতন্ত্র সংস্কৃতির ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বিংশ শতকে জোসেফ স্তালিনের কৃষির সমবায়ীকরণ নীতির কারণে সংঘটিত ১৯৩২-১৯৩৩ সালের কৃত্রিম মহামন্দা ও দুর্ভিক্ষ 'হলদোমোর' (Holodomor)-এ প্রায় অর্ধকোটি ইউক্রেনীয় নাগরিক প্রাণ হারান, যা আধুনিক ইউক্রেনীয় মানসে এক গভীর ঐতিহাসিক ক্ষতের জন্ম দেয়।
১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের আকস্মিক পতনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন ইউক্রেন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। নবজাত ইউক্রেন তার ভূখণ্ডে তৎকালীন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রাগার উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করে। ১৯৯৪ সালের ঐতিহাসিক 'বুদাপেস্ট স্মারক' (Budapest Memorandum)-এর মাধ্যমে ইউক্রেন তার সমস্ত পারমাণবিক অস্ত্র রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়, যার বিনিময়ে পারমাণবিক পরাশক্তি হিসেবে রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের রাজনৈতিক স্বাধীনতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও বিদ্যমান সীমানা রক্ষার আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা প্রদান করে।
কিন্তু স্নায়ুযুদ্ধোত্তর বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় ন্যাটো জোট ১৯৯৯ সালে পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও চেক প্রজাতন্ত্র এবং ২০০৪ সালে বাল্টিক তিনটি রাষ্ট্রসহ পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোকে সদস্যপদ প্রদান করে রাশিয়ার নিকটতম সীমান্তে উপস্থিত হয়। ২০০৮ সালের ন্যাটো বুখারেস্ট শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেন ও জর্জিয়াকে ভবিষ্যতে সদস্যপদ প্রদানের মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিলে মস্কো একে তার অস্তিত্বের জন্য "রেড লাইন" হিসেবে চিহ্নিত করে। ২০১৩-১৪ সালের ইউরোমাইদান গণবিক্ষোভের মুখে পশ্চিমাপন্থী সরকারের ক্ষমতাগ্রহণ, ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রাইমিয়া দখল ও দোনবাসে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ উস্কে দেওয়া এবং মিনস্ক চুক্তির ব্যর্থতা অবশেষে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষিত সর্বাত্মক "বিশেষ সামরিক অভিযান"-এ রূপ নেয়। এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে বহু মেরুকরণে ঠেলে দিয়েছে, বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলকে লণ্ডভণ্ড করেছে এবং ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা স্থাপত্যকে চিরতরে বদলে দিয়েছে।
২১.১ ঐতিহাসিক পটভূমি ও সংঘাতের শিকড় (Historical Roots) #
১. কিয়েভান রুস থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন #
- কিয়েভান রুস (Kievan Rus'): ৯ম থেকে ১৩শ শতক পর্যন্ত পূর্ব স্লাভিক জনগণের অভিন্ন পূর্বপুরুষদের রাজ্য ছিল কিয়েভান রুস, যার কেন্দ্র ছিল আধুনিক ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। ভ্লাদিমির পুতিন ২০২১ সালের ঐতিহাসিক প্রবন্ধে ("On the Historical Unity of Russians and Ukrainians") দাবি করেন যে রুশ ও ইউক্রেনীয়রা মূলত 'এক জাতি' (One People)। তবে ইউক্রেনীয় ইতিহাসবিদদের মতে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কাঠামো সবসময়ই স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত ছিল এবং মঙ্গোল আক্রমণের পর মস্কো ও কিয়েভের রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়।
- পেরিয়াশ্লাভ চুক্তি (Treaty of Pereyaslav - ১৬৫৪): ইউক্রেনীয় কসাক নেতা বোহদান খমেলনিৎস্কি পোলিশ-লিথুয়ানিয়ান কমনওয়েলথের বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য রাশিয়ার জার প্রথম অ্যালেক্সিসের সাথে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। রাশিয়া একে ইউক্রেনের স্থায়ী অন্তর্ভুক্তি বলে ব্যাখ্যা করে, কিন্তু কসাকরা একে দেখেছিল সাময়িক সামরিক মিত্রতা হিসেবে।
- হলদোমোর (Holodomor - ১৯৩২-১৯৩৩): জোসেফ স্তালিনের কৃষির নির্মম সমবায়ীকরণ নীতির কারণে ইউক্রেনে রাষ্ট্রসৃষ্ট কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়, যাতে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৫০ লাখ ইউক্রেনীয় অনাহারে মারা যায়। ইউক্রেন ও বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশ একে 'গণহত্যা' (Genocide) হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।
- ১৯৫৪ সালের ক্রাইমিয়া হস্তান্তর: সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন কমিউনিস্ট নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ পেরিয়াশ্লাভ চুক্তির ৩০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ক্রাইমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ান এসএফএসআর (RSFSR) থেকে ইউক্রেনিয়ান এসএসআর (Ukrainian SSR)-এর প্রশাসনিক অধীনে স্থানান্তর করেন। সোভিয়েত আমলে এটি নিছক অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ ছিল, কিন্তু ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের পর এটি দুই দেশের প্রধান ভূ-কৌশলগত বিরোধে পরিণত হয়।
২. সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও ১৯৯৪ সালের বুদাপেস্ট স্মারক (Budapest Memorandum) #
- ১৯৯১ সালের ২৪ আগস্ট ইউক্রেনের সুপ্রিম সোভিয়েত (সংসদ) স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ১ ডিসেম্বর ১৯৯১ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় গণভোটে ৯০.৩% মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দেয়।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সময় বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রাগার ইউক্রেনের ভূখণ্ডে অবস্থান করছিল (প্রায় ১,৯০০টি কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং ১৭৬টি ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল - ICBM)।
- বুদাপেস্ট মেমোরেন্ডাম (৫ ডিসেম্বর ১৯৯৪):
- ইউক্রেন সমস্ত পারমাণবিক ওয়ারহেড নিষ্ক্রিয় ও রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয় এবং এনপিটি (Non-Proliferation Treaty - NPT)-তে নির্দলীয় পরমাণু অস্ত্রবিহীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বাক্ষর করে।
- এর বিনিময়ে তিনটি মূল পারমাণবিক পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং রাশিয়া—ইউক্রেনের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং বিদ্যমান সীমান্তকে শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকারপত্র প্রদান করে।
- আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, এই স্মারকটি কোনো সামরিক প্রতিরক্ষার চুক্তি (যেমন ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫) ছিল না, বরং ছিল একটি রাজনৈতিক নিশ্চয়তা (Assurance)। ২০১৪ ও ২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালিয়ে রাশিয়া এই আন্তর্জাতিক চুক্তিকে সরাসরি লঙ্ঘন করে।
| প্যারামিটার | বুদাপেস্ট স্মারক (Budapest Memorandum - ১৯৯৪) | ন্যাটো ওয়াশিংটন চুক্তি (অনুচ্ছেদ ৫ - ১৯৪৯) |
|---|---|---|
| আইনি চরিত্র | রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও সার্বভৌমত্বের নিশ্চয়তা (Assurance) | আইনি বাধ্যবাধকতাপূর্ণ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (Collective Defense) |
| আক্রমণ হলে পদক্ষেপ | জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি উত্থাপনের অঙ্গীকার | এক সদস্যে আক্রমণ মানে সবার ওপর আক্রমণ; সামরিক প্রতিক্রিয়া |
| অংশগ্রহণকারী | ইউক্রেন, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য | ৩২টি ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ) |
| বাস্তবায়ন বাস্তবতা | ২০১৪ ও ২০২২ সালে রাশিয়া নিজেই আক্রমণ করে চুক্তি ভঙ্গ করে | স্নায়ুযুদ্ধ ও ৯/১১-এর পর কার্যকরভাবে যৌথ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করেছে |
২১.২ ২০১৪ সালের ক্রাইমিয়া সংকট ও ইউরোমাইদান বিপ্লব #
১. ইউরোমাইদান (Euromaidan) ও রেভোলিউশন অব ডিগনিটি (২০১৩-২০১৪) #
- ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক 'অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি' (Association Agreement) স্বাক্ষর করা থেকে শেষ মুহূর্তে সরে আসেন এবং রাশিয়ার ১৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক বেলআউট ও সস্তা গ্যাস সরবরাহের প্রস্তাবে সম্মত হন।
- এর প্রতিবাদে রাজধানী কিয়েভের কেন্দ্রীয় 'মাইদান নেজালেঝনোস্তি' (স্বাধীনতা স্কয়ার)-এ সাধারণ জনগণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের তীব্র স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ইতিহাসে ইউরোমাইদান (Euromaidan) নামে পরিচিত।
- ২০১৪ সালের ১৮-২০ ফেব্রুয়ারি কিয়েভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে শতাধিক বিক্ষোভকারী শহীদ হন (যাদের ইউক্রেনে 'স্বর্গীয় শতক' বা Heavenly Hundred বলা হয়)।
- ২১-২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে তীব্র জনরোষের মুখে প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন। ইউক্রেনের পার্লামেন্ট তাঁকে অভিশংসিত ঘোষণা করে এবং পশ্চিমাপন্থী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে।
২. ক্রাইমিয়া উপদ্বীপ দখল ও সংযুক্তি (২০১৪) #
- লিটল গ্রিন মেন (Little Green Men): ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারির শেষভাগে কোনো জাতীয় প্রতীক বা ব্যাজবিহীন সবুজ সামরিক পোশাক ও আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত রুশ বিশেষ বাহিনী (স্পেৎসনাজ) ক্রাইমিয়ার আঞ্চলিক সংসদ, সিমফেরোপোল বিমানবন্দর ও কৌশলগত নৌঘাঁটিগুলো কর্ডন করে দখল করে নেয়।
- সেভাস্তোপোল নৌঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব: কৃষ্ণসাগরে অবস্থিত সেভাস্তোপোল হলো রাশিয়ার ব্ল্যাক সি ফ্লিটের একমাত্র উষ্ণ পানির নৌঘাঁটি। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত খারকিভ চুক্তির অধীনে মস্কো ২০৪২ সাল পর্যন্ত এই ঘাঁটি লিজ নিয়েছিল; ইউক্রেন সরকার পরিবর্তনের পর এই কৌশলগত অবস্থান হারানোর শঙ্কায় দ্রুত সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়।
- অবৈধ গণভোট (১৬ মার্চ ২০১৪): ক্রাইমিয়াতে রুশ সামরিক উপস্থিতির মধ্যে তড়িঘড়ি করে এক গণভোট আয়োজন করা হয়, যাতে ৯৭% ভোটার রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তির পক্ষে রায় দিয়েছে বলে দাবি করা হয়।
- ১৮ মার্চ ২০১৪: ক্রেমলিনের জমকালো অনুষ্ঠানে ভ্লাদিমির পুতিন ক্রাইমিয়া ও সেভাস্তোপোলকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ান ফেডারেশনের নতুন ফেডারেল বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্তির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
- জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া: ২৭ মার্চ ২০১৪ তারিখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ রেজুলেশন ৬৮/২৬২ (UNGA Resolution 68/262) পাস করে, যেখানে ১০০টি রাষ্ট্র ক্রাইমিয়ার তথাকথিত গণভোটকে অবৈধ ও ভিত্তিহীন ঘোষণা করে ইউক্রেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়।
২১.৩ দোনবাস সংঘাত ও মিনস্ক চুক্তি (২০১৪-২০২২) #
১. দোনবাসের পরিচয় ও বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ #
- দোনবাস (Donbas): দোনবাস শব্দটি মূলত 'দোনেৎস্ক কোল বেসিন' (Donets Coal Basin)-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি ইউক্রেনের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত খনিজ, ভারী কয়লা ও ইস্পাত শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চল, যা মূলত দুটি অবলাস্ত (প্রদেশ) নিয়ে গঠিত:
- দোনেৎস্ক (Donetsk Oblast)
- লুহানস্ক (Luhansk Oblast)
- ক্রাইমিয়া দখলের পর ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইউক্রেন সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে এবং স্বঘোষিত দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক (DPR) ও লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক (LPR) ঘোষণা করে।
- ইউক্রেন সরকার তাদের বিরুদ্ধে 'অ্যান্টি-টেররিস্ট অপারেশন' (ATO) পরিচালনা করে। ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এই সীমিত মাত্রার ট্রেঞ্চ যুদ্ধে প্রায় ১৪,০০০ মানুষ নিহত হন।
- মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স MH17 ট্র্যাজেডি (১৭ জুলাই ২০১৪): আমস্টারডাম থেকে কুয়ালালামপুরগামী বেসামরিক যাত্রীবাহী বোয়িং ৭৭৭ বিমান ফ্লাইট MH17 পূর্ব ইউক্রেনের দোনবাসের আকাশে রাশিয়ার ৫৩তম অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ব্রিগেড থেকে বিদ্রোহীদের সরবরাহকৃত 'বাক' (Buk) ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়। বিমানে থাকা ২৯৮ জন আরোহীর সকলেই নিহত হন। ডাচ নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত আদালত এ ঘটনার জন্য রাশিয়া ও তার মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের সরাসরি দায়ী করে।
২. মিনস্ক চুক্তি ১ ও ২ (Minsk Agreements) এবং নর্মান্ডি ফরম্যাট #
- নর্মান্ডি ফরম্যাট (Normandy Four): ২০১৪ সালের জুনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডি-ডে অবতরণের ৭০ বছর পূর্তিতে ফ্রান্সের নর্মান্ডিতে চার দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা সংঘাত নিরসনে আলোচনায় বসেন। চার দেশ হলো: ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া এবং ইউক্রেন।
- মিনস্ক-১ (৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪): বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে ওএসসিই (OSCE)-এর মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। তবে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেস্তে যায়।
- মিনস্ক-২ (১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫): সংকটের তীব্রতা বেড়ে গেলে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের মধ্যস্থতায় পুতিন ও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো মিনস্কে ১৬ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক শেষে ঐতিহাসিক ১৩-দফা বিশিষ্ট মিনস্ক-২ চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
| তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য | মিনস্ক-১ চুক্তি (Minsk-I Protocol) | মিনস্ক-২ চুক্তি (Minsk-II Package) |
|---|---|---|
| স্বাক্ষরের তারিখ ও স্থান | ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪; মিনস্ক, বেলারুশ | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫; মিনস্ক, বেলারুশ |
| মধ্যস্থতাকারী কাঠামো | ত্রিপক্ষীয় যোগাযোগ দল (OSCE, ইউক্রেন, রাশিয়া) | নর্মান্ডি ফোর (ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, ইউক্রেন) |
| মূল দফাসমূহ | ১২ দফা যুদ্ধবিরতি ও ভারি অস্ত্র প্রত্যাহার | ১৩ দফা বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি, বন্দি মুক্তি ও সাংবিধানিক সংস্কার |
| রাজনৈতিক শর্ত | স্থানীয় পর্যায়ে সীমিত বিকেন্দ্রীকরণ | দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে সংবিধানে 'বিশেষ স্বায়ত্তশাসন' প্রদান |
| সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ | অস্পষ্ট ছিল | ইউক্রেনীয় সংবিধান সংস্কার ও নির্বাচনের পর সীমান্ত হস্তান্তর |
| ব্যর্থতার মূল কারণ | তীব্র লড়াই ও দেবালতসেভ যুদ্ধ অব্যাহত থাকা | ক্রমবিন্যাস বিরোধ: কিয়েভ চেয়েছিল আগে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ, মস্কো চেয়েছিল আগে স্বায়ত্তশাসন ও নির্বাচন |
২১.৪ ২০২২ সালের পূর্ণাঙ্গ রুশ সামরিক আক্রমণ ('বিশেষ সামরিক অভিযান') #
১. আক্রমণের প্রেক্ষাপট ও সূচনা #
- ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২: ভ্লাদিমির পুতিন এক দীর্ঘ টেলিভিশন ভাষণে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করে দোনেৎস্ক (DPR) ও লুহানস্ক (LPR)-কে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং তথাকথিত 'শান্তিরক্ষা মিশন' প্রেরণের ঘোষণা দেন।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২: মস্কো সময় ভোর ৫:৫৫ মিনিটে পুতিন ইউক্রেনের ওপর সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন এবং একে নাম দেন "বিশেষ সামরিক অভিযান" (Special Military Operation - Специальная военная операция)। পুতিন অভিযানের দুটি ঘোষিত লক্ষ্য নির্ধারণ করেন: ইউক্রেনের 'নিরস্ত্রীকরণ' (Demilitarization) এবং 'নব্য-নাৎসিমুক্তকরণ' (Denazification)।
- তিনমুখী আক্রমণ: রুশ বাহিনী তিন দিক থেকে একযোগে বিশাল সাঁড়াশি আক্রমণ পরিচালনা করে:
- উত্তর দিক (বেলারুশ থেকে): কিয়েভ দখলের উদ্দেশ্যে চেরনোবিল ও হোস্টোমেলের আন্তোনভ বিমানবন্দর অভিমুখে।
- পূর্ব দিক (রুশ মূল ভূখণ্ড থেকে): খারকিভ, সুমি ও দোনবাস অভিমুখে।
- দক্ষিণ দিক (ক্রাইমিয়া থেকে): খেরসন, মেলিতোপোল, বারদিয়ানস্ক ও মারিউপোল অভিমুখে।
২. প্রধান সামরিক পর্ব ও টার্নিং পয়েন্টসমূহ (Timeline of Conflict) #
ক. বুচা গণহত্যা (Bucha Massacre - মার্চ-এপ্রিল ২০২২) #
রুশ বাহিনী কিয়েভের উপকণ্ঠ বুচা শহর থেকে পিছু হটার পর সেখানে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের হাত বাঁধা অবস্থায় মাথায় গুলি করে হত্যা, গণকবর এবং নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ উন্মোচিত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
খ. মস্কোভা যুদ্ধজাহাজ নিমজ্জন (১৪ এপ্রিল ২০২২) #
রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের ফ্ল্যাগশিপ বা প্রধান যুদ্ধজাহাজ 'মস্কোভা' (Moskva) ইউক্রেনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দুটি 'নেপচুন' (Neptune) জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কৃষ্ণসাগরে ডুবে যায়। এটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো পরাশক্তির বৃহত্তম রণতরী হারানোর ঘটনা।
গ. মারিউপোল ও আজভস্টাল স্টিলওয়ার্কস অবরোধ (মার্চ – মে ২০২২) #
আজভ সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বন্দর নগরী মারিউপোল প্রায় তিন মাস অবরুদ্ধ থাকে। ইউক্রেনীয় ন্যাশনাল গার্ডের আজভ রেজিমেন্ট ও নৌবাহিনীর যোদ্ধারা বিশাল ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারবিশিষ্ট আজভস্টাল (Azovstal) ইস্পাত কারখানায় বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২০ মে ২০২২ শেষ যোদ্ধাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মারিউপোল পুরোপুরি রুশ নিয়ন্ত্রণে যায় এবং রাশিয়া ক্রাইমিয়ার সাথে দোনবাসের সরাসরি স্থল সংযোগ (Land Bridge) স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
ঘ. চারটি অঞ্চল রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তি (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২) #
রুশ সামরিক নিয়ন্ত্রণে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত গণভোটের পর ক্রেমলিনের জর্জিভস্কি হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুতিন ইউক্রেনের চারটি প্রদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ান ফেডারেশনের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেন:
- দোনেৎস্ক (Donetsk)
- লুহানস্ক (Luhansk)
- জাপোরিঝিয়া (Zaporizhzhia) — যেখানে ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (ZNPP) অবস্থিত (৬টি চুল্লি, ৫,৭০০ মেগাওয়াট)।
- খেরসন (Kherson)
ঙ. কুরস্ক অভিযান (আগস্ট ২০২৪) #
৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড কুরস্ক (Kursk) অঞ্চলে অতর্কিত বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে এবং শত শত বর্গকিলোমিটার রুশ এলাকা ও সুজা গ্যাস পরিমাপক কেন্দ্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই ছিল কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনী কর্তৃক রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে প্রথম সফল স্থল অভিযান।
২১.৫ ন্যাটোর সম্প্রসারণ ও পশ্চিমা সামরিক সহায়তার রূপরেখা #
১. ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ঐতিহাসিক নীতি পরিবর্তন #
ঐতিহাসিকভাবে ফিনল্যান্ড দীর্ঘকাল "নিরপেক্ষতা ও ফিনল্যান্ডাইজেশন" নীতি এবং সুইডেন ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সামরিক জোট-বহির্ভূত নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আসছিল। কিন্তু ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর গণমতের নাটকীয় পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে দেশ দুটি ন্যাটোতে যোগদানের আনুষ্ঠানিক আবেদন করে:
- ফিনল্যান্ড (৩১তম সদস্য): ৪ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে ন্যাটোর ৩১তম সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করে। এর ফলে রাশিয়ার সাথে ন্যাটোর সরাসরি সীমান্ত ১,৩৪০ কিলোমিটার বৃদ্ধি পায়।
- সুইডেন (৩২তম সদস্য): ৭ মার্চ ২০২৪ তারিখে তুরস্ক ও হাঙ্গেরির দীর্ঘ কূটনৈতিক অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষে ন্যাটোর ৩২তম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ফলে সমগ্র বাল্টিক সাগর কার্যত ন্যাটোর একক নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে পরিণত হয় (যাকে বিশ্লেষকরা "NATO Lake" নামে আখ্যায়িত করেন)।
| দেশ | যোগদানের তারিখ | ন্যাটো সদস্য ক্রম | কৌশলগত প্রভাব ও ফলাফল |
|---|---|---|---|
| ফিনল্যান্ড (Finland) | ৪ এপ্রিল ২০২৩ | ৩১তম সদস্য | রাশিয়ার সাথে ন্যাটোর অতিরিক্ত ১,৩৪০ কিমি সীমান্ত সৃষ্টি; সেন্ট পিটার্সবার্গ ন্যাটোর কাছাকাছি আসে। |
| সুইডেন (Sweden) | ৭ মার্চ ২০২৪ | ৩২তম সদস্য | বাল্টিক সাগরে সম্পূর্ণ পশ্চিমা আধিপত্য; রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ ছিটমহল অবরুদ্ধ ও একঘরে হয়ে পড়ে। |
২. পশ্চিমা সামরিক সরবরাহের বিবর্তন #
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমরাস্ত্র সরবরাহ করে যা যুদ্ধের কৌশলগত গতিপ্রকৃতি বদলে দেয়:
- HIMARS (High Mobility Artillery Rocket System): যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি জিপিএস-নির্দেশিত দূরপাল্লার নির্ভুল রকেট ব্যবস্থা।
- প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স (Patriot PAC-3): কিয়েভ ও প্রধান নগরীগুলোকে রুশ হাইপারসনিক কিনঝাল ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষা দেয়।
- মেইন ব্যাটেল ট্যাংক (MBT): জার্মানির লেপার্ড-২ (Leopard 2), যুক্তরাজ্যের চ্যালেঞ্জার-২ (Challenger 2) এবং যুক্তরাষ্ট্রের এম১ আব্রামস (M1 Abrams)।
- দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র: যুক্তরাজ্যের তৈরি স্টর্ম শ্যাডো (Storm Shadow), ফ্রান্সের স্ক্যাল্প (SCALP-EG) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ATACMS ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
- এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন (F-16): ২০২৪ সালে নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক ও নরওয়ে কর্তৃক ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীকে হস্তান্তরিত পশ্চিমা আধুনিক যুদ্ধবিমান।
২১.৬ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট #
১. কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তি (Black Sea Grain Initiative) #
- চুক্তির প্রেক্ষাপট: ইউক্রেন এবং রাশিয়া একত্রে বিশ্বের মোট গম রপ্তানির প্রায় ৩০%, বার্লির ৩২%, ভুট্টার ১৭% এবং সূর্যমুখী তেলের ৫০% এরও বেশি সরবরাহ করে থাকে। যুদ্ধ শুরুর সাথে সাথে কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো রুশ নৌবহর অবরুদ্ধ করায় বিশ্বজুড়ে খাদ্যদ্রব্যের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করে।
- চুক্তি সম্পাদন: ২২ জুলাই ২০২২ তারিখে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে জাতিসংঘ ও তুরস্কের যৌথ মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেন পৃথকভাবে কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তি স্বাক্ষর করে।
- তিনটি প্রধান বন্দর: ইউক্রেনের তিনটি বন্দর থেকে শস্য রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়:
- ওডেসা (Odesa)
- চোরনোমোরস্ক (Chornomorsk)
- ইউঝনি (Pivdennyi / Yuzhny)
- যৌথ সমন্বয় কেন্দ্র (JCC): ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, জাতিসংঘ, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত যৌথ সমন্বয় কেন্দ্র জাহাজে কোনো অস্ত্র পরিবহন হচ্ছে কিনা তা তল্লাশি করত।
- চুক্তির কার্যকারিতা ও সমাপ্তি: কার্যকর ছিল ৩৫৮ দিন (২২ জুলাই ২০২২ – ১৭ জুলাই ২০২৩)। মোট ১০৭৫টি বাণিজ্যিক জাহাজে প্রায় ৩২.৯ মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য রপ্তানি হয়। ১৭ জুলাই ২০২৩ রাশিয়া একতরফাভাবে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়। এরপর ইউক্রেন নিজস্ব নৌ ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষ্ণসাগরের অগভীর জলসীমা ব্যবহার করে স্বাধীন 'মানবিক সামুদ্রিক করিডোর' গড়ে তোলে।
২. জ্বালানি ভূ-রাজনীতি ও পাইপলাইন সাবোটাজ #
- নর্ড স্ট্রিম সাবোটাজ (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২): বাল্টিক সাগরের তলদেশে অবস্থিত 'নর্ড স্ট্রিম ১' এবং নতুন নির্মিত 'নর্ড স্ট্রিম ২' গ্যাস পাইপলাইনে রহস্যজনক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাইপলাইনগুলো সম্পূর্ণ অকেজো করে দেওয়া হয়।
- ইউরোপের জ্বালানি পরিবর্তন: যুদ্ধের পূর্বে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার মোট ব্যবহৃত গ্যাসের প্রায় ৪০% রাশিয়া থেকে আমদানি করত। যুদ্ধের পর ইইউ 'REPowerEU' মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার থেকে এলএনজি (LNG) আমদানি বাড়িয়ে রুশ গ্যাসের অংশ ১০%-এর নিচে নামিয়ে আনে।
- জি-৭ তেলের প্রাইস ক্যাপ: জি-৭, ইইউ এবং অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে রাশিয়ার সমুদ্রপথে রপ্তানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ওপর প্রতি ব্যারেলে ৬০ মার্কিন ডলারের মূল্যসীমা (Price Cap) নির্ধারণ করে দেয়।
২১.৭ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিচারিক পদক্ষেপ #
১. অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসমূহ #
- SWIFT থেকে বহিষ্কার: ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে রাশিয়ার শীর্ষ ব্যাংকগুলোকে বেলজিয়াম-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং মেসেজিং নেটওয়ার্ক SWIFT (Society for Worldwide Interbank Financial Telecommunication) থেকে বিচ্ছিন্ন করে।
- রুশ সেন্ট্রাল ব্যাংকের রিজার্ভ ফ্রিজ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে গচ্ছিত রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অবরুদ্ধ করা হয়।
২. আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) ও বিচারিক ব্যবস্থা #
- ১৭ মার্চ ২০২৩: নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়ার শিশু অধিকার বিষয়ক কমিশনার মারিয়া লভোভা-বেলোভা-র বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Arrest Warrant) জারি করে।
- অভিযোগ: ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চলসমূহ থেকে বেআইনিভাবে ইউক্রেনীয় শিশুদের নির্বাসন (deportation) এবং রাশিয়ায় জোরপূর্বক স্থানান্তরের মতো গুরুতর যুদ্ধাপরাধ (রোম সংবিধির অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী)। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫টি দেশের (P5) কোনো ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
৩. আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) ও জাতিসংঘ রেজুলেশনসমূহ #
- আইসিজে অন্তর্বর্তী আদেশ (১৬ মার্চ ২০২২): ইউক্রেন বনাম রাশিয়া মামলায় জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক আদালত ICJ রায় দেয় যে রাশিয়াকে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে অবিলম্বে সমস্ত সামরিক অভিযান স্থগিত করতে হবে।
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ জরুরি অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবসমূহ:
- রেজুলেশন ES-11/1 (২ মার্চ ২০২২): ১৪১টি রাষ্ট্রের সমর্থনে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং তাৎক্ষণিক সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
- রেজুলেশন ES-11/3 (৭ এপ্রিল ২০২২): চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে রাশিয়াকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল (UNHRC) থেকে বরখাস্ত করা হয়।
- রেজুলেশন ES-11/4 (১২ অক্টোবর ২০২২): ১৪৩টি দেশের সমর্থনে ইউক্রেনের চার অঞ্চল (দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন) অবৈধভাবে সংযুক্তির তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
২১.৮ তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও বাংলাদেশের ওপর প্রভাব (Geopolitical Theory & Bangladesh) #
১. আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ #
- জন মেয়ারশেইমার ও রিয়ালিস্ট তত্ত্ব (Offensive Realism): শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিদ জন মেয়ারশেইমারের মতে, শীতল যুদ্ধোত্তর পর্বে রাশিয়ার ঐতিহাসিক নিরাপত্তা উদ্বেগকে অগ্রাহ্য করে ন্যাটোর অবিরাম পূর্বমুখী বিস্তারই বর্তমান সংকটের মূল অনুঘটক। বৃহৎ পরাশক্তিগুলো তাদের নিকটবর্তী আঙিনায় কোনো বৈরী সামরিক জোটের উপস্থিতি সহ্য করতে পারে না (যেমন ১৯৬২ সালে কিউবান মিসাইল সংকটে যুক্তরাষ্ট্র করেনি)।
- উদারনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিকতা ও আন্তর্জাতিক আইন (Liberal Institutionalism): জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের সীমানা পরিবর্তন সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রতিটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি ও মিত্র বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। পুতিনের আক্রমণ আত্মরক্ষা নয়, বরং সাম্রাজ্যবাদী সংশোধনবাদ।
২. বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির ওপর প্রভাব #
- মূল্যস্ফীতি ও রিজার্ভ চাপ: বাংলাদেশ তার অভ্যন্তরীণ খাদ্য চাহিদার গমের সিংহভাগ ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে আমদানি করত। যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সার, গম ও জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ায় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে তীব্র চাপ পড়ে এবং টাকার অবমূল্যায়ন ঘটে।
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র: রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা 'রোসাটম' কর্তৃক পাবনায় বাস্তবায়নাধীন দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের অর্থ লেনদেনে জটিলতা তৈরি হয়। রাশিয়ার প্রধান ব্যাংকগুলোর ওপর পশ্চিমা SWIFT নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে চীন ও তৃতীয় দেশের মুদ্রা ব্যবহার বা কারেন্সি সোয়াপের উদ্যোগ নিতে হয়।
- কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ অত্যন্ত সুচিন্তিত ও বাস্তববাদী অবস্থান গ্রহণ করে। জাতিসংঘ সনদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে ভোট দিলেও একতরফা রাজনৈতিক বা রাশিয়াবিরোধী নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থেকে বাংলাদেশ তার ঐতিহ্যবাহী পররাষ্ট্রনীতি—"সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়"—অক্ষুণ্ন রাখে।
📊 একনজরে মাস্টার সিন্থেসিস ও তুলনা সারণি (Master Synthesis Table) #
| বিষয় / ঐতিহাসিক পর্ব | সুনির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান | প্রধান পক্ষ / নেতৃত্ব | আন্তর্জাতিক আইন / চুক্তি / রেজুলেশন | কৌশলগত ফলাফল ও পরীক্ষার জন্য গুরুত্ব |
|---|---|---|---|---|
| বুদাপেস্ট মেমোরেন্ডাম | ৫ ডিসেম্বর ১৯৯৪ (হাঙ্গেরি) | ইউক্রেন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য | NPT নিরস্ত্রীকরণ স্মারক | ইউক্রেন পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করে; সার্বভৌমত্বের আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা লাভ। |
| ন্যাটোর বুখারেস্ট সম্মেলন | এপ্রিল ২০০৮ (রোমানিয়া) | ন্যাটো জোট, ইউক্রেন ও জর্জিয়া | ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন ঘোষণা | ইউক্রেন ভবিষ্যতে ন্যাটো সদস্য হবে বলে ঘোষণা; মস্কোর জন্য রেড লাইন তৈরি। |
| ইউরোমাইদান বিপ্লব | ২১ নভে ২০১৩ – ২৩ ফেব্রু ২০১৪ | ইউক্রেনীয় জনগণ বনাম ইয়ানুকোভিচ | রেভোলিউশন অব ডিগনিটি | ইয়ানুকোভিচের পলায়ন; ইউক্রেনে স্থায়ী পশ্চিমাপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠা। |
| ক্রাইমিয়া সংযুক্তি | ১৮ মার্চ ২০১৪ (মস্কো) | ভ্লাদিমির পুতিন ও ক্রাইমিয়া কর্তৃপক্ষ | UNGA রেজুলেশন ৬৮/২৬২ | কৃষ্ণসাগরে রুশ সামরিক আধিপত্য বিস্তার; পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সূচনা। |
| মিনস্ক-২ চুক্তি | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ (বেলারুশ) | নর্মান্ডি ফোর (ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, ইউক্রেন) | ১৩-দফা যুদ্ধবিরতি প্যাকেজ | যুদ্ধবিরতি ও স্বায়ত্তশাসনের রূপরেখা; বাস্তবায়নের অচলাবস্থায় ২০২২-এ যুদ্ধ। |
| বিশেষ সামরিক অভিযান | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ (মস্কো সময় ৫:৫৫) | ভ্লাদিমির পুতিন বনাম ভলোদিমির জেলেনস্কি | জাতিসংঘের সনদের অনুচ্ছেদ ২(৪) লঙ্ঘন | দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপে বৃহত্তম প্রচলিত সর্বাত্মক সামরিক যুদ্ধ শুরু। |
| মস্কোভা রণতরী নিমজ্জন | ১৪ এপ্রিল ২০২২ (কৃষ্ণসাগর) | ইউক্রেন নৌবাহিনী (নেপচুন মিসাইল) | ব্ল্যাক সি ফ্লিটের ফ্ল্যাগশিপ ধ্বংস | কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার নিরঙ্কুশ নৌ আধিপত্যের পতন। |
| কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তি | ২২ জুলাই ২০২২ – ১৭ জুলাই ২০২৩ | জাতিসংঘ, তুরস্ক, রাশিয়া, ইউক্রেন | Black Sea Grain Initiative (JCC) | ওডেসা থেকে ৩৩ মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য রপ্তানি; বৈশ্বিক খাদ্য সংকট রোধ। |
| চার অঞ্চল সংযুক্তি | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ (ক্রেমলিন) | রাশিয়া ও ৪ প্রদেশ (দো-লু-জা-খে) | UNGA রেজুলেশন ES-11/4 | ইউক্রেনের প্রায় ১৮% ভূখণ্ড রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্তি ঘোষণা। |
| ফিনল্যান্ডের ন্যাটো অন্তর্ভুক্তি | ৪ এপ্রিল ২০২৩ (ব্রাসেলস) | ন্যাটো ও ফিনল্যান্ড | উত্তর আটলান্টিক চুক্তি | ন্যাটোর ৩১তম সদস্য; রাশিয়ার সাথে ১,৩৪০ কিমি অতিরিক্ত সীমান্ত। |
| আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা | ১৭ মার্চ ২০২৩ (দ্য হেগ) | আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বনাম পুতিন | রোম সংবিধির অনুচ্ছেদ ৮ ও ২৭ | শিশুদের বেআইনি নির্বাসনের দায়ে পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরোয়ানা। |
| সুইডেনের ন্যাটো অন্তর্ভুক্তি | ৭ মার্চ ২০২৪ (ওয়াশিংটন) | ন্যাটো ও সুইডেন | উত্তর আটলান্টিক চুক্তি | ন্যাটোর ৩২তম সদস্য; বাল্টিক সাগরে সম্পূর্ণ পশ্চিমা আধিপত্য ('NATO Lake')। |
| কুরস্ক পাল্টা অভিযান | ৬ আগস্ট ২০২৪ (রাশিয়া) | ইউক্রেন সশস্ত্র বাহিনী বনাম রুশ সীমান্ত | ইউক্রেনীয় সামরিক অনুপ্রবেশ | দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রুশ মূল ভূখণ্ডে প্রথম বিদেশি সামরিক অভিযান। |
| কোড / ছন্দ | পূর্ণরূপ / মূল ভাবার্থ | জড়িত বিষয় / দেশ | পরীক্ষার জন্য যেভাবে মনে রাখবেন |
|---|---|---|---|
| দো-লু-জা-খে | দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া, খেরসন | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ রাশিয়ার দখলকৃত ৪টি অবলাস্ত | সংক্ষেপে সিরিয়ালি মনে রাখলে প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষায় কখনো ভুল হবে না। |
| ৩১-ফিন ৩২-সুই | ৩১তম ফিনল্যান্ড (২০২৩), ৩২তম সুইডেন (২০২৪) | ন্যাটোর ঐতিহাসিক সর্বশেষ দুই সদস্য | বছর ও ক্রম মিলিয়ে মুখস্থ রাখার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র। |
| FRUG ফরম্যাট | France, Russia, Ukraine, Germany | নর্মান্ডি ফোর (Normandy Four) শীর্ষ দল | মিনস্ক চুক্তির মধ্যস্থতাকারী চার দেশকে এক শব্দে মনে রাখুন। |
| RU-UK-US | Russia, United Kingdom, United States | বুদাপেস্ট স্মারক ১৯৯৪-এর স্বাক্ষরকারী পরাশক্তি ত্রয়ী | ইউক্রেনের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের নিশ্চয়তাদাতাদের তালিকা। |
| ও-চো-ইউ | ওডেসা (Odesa), চোরনোমোরস্ক (Chornomorsk), ইউঝনি (Yuzhny) | কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তির ইউক্রেনীয় ৩টি বন্দর | খাদ্যশস্য রপ্তানির জন্য উন্মুক্ত ৩টি কৌশলগত বন্দর। |
| সুইফট (SWIFT) | আন্তঃব্যাংক আর্থিক মেসেজিং নেটওয়ার্ক (বেলজিয়াম) | রাশিয়ার প্রধান ব্যাংকসমূহের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা | বৈশ্বিক মুদ্রা বাজার থেকে রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার মূল অর্থনৈতিক অস্ত্র। |