টপিক 26 / ৩০আন্তর্জাতিক বিচার, গোয়েন্দা সংস্থা, গণমাধ্যম, ক্রীড়া, মহাকাশ ও পুরস্কার📖 স্টাডি নোট

টপিক 26: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও প্রধান সংবাদ সংস্থা (Global Media & News Agencies)

টপিক ২৬: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও প্রধান সংবাদ সংস্থা (Global Media & News Agencies: AFP, AP, Reuters, BBC, CNN, Al Jazeera & RSF) #

🌐 অধ্যায় পরিচিতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট (Chapter Prologue) #

গণমাধ্যমকে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার "চতুর্থ স্তম্ভ" (Fourth Estate) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অষ্টাদশ শতকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এডমন্ড বার্কের এই ঐতিহাসিক অভিধা একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক যুগে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। বিশ্ব রাজনীতি, যুদ্ধ-শান্তি, অর্থনৈতিক সংকট কিংবা পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক ন্যারেটিভ নির্মাণে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ও গণমাধ্যম নেটওয়ার্কগুলো একক আধিপত্য বজায় রেখে চলেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রবাহের সূচনা হয়েছিল উনবিংশ শতাব্দীতে টেলিগ্রাফ এবং তথাকথিত 'বিগ থ্রি' (The Big Three) সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে—প্যারিসের এএফপি (AFP), নিউইয়র্কের এপি (AP) এবং লন্ডনের রয়টার্স (Reuters)। উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে এই তিনটি পশ্চিমা বার্তা সংস্থাই নির্ধারণ করত কোন খবরটি বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাবে এবং কীভাবে তা ব্যাখ্যা করা হবে। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে টেলিভিশনের উত্থান এবং বিশেষ করে ১৯৮০ সালে সিএনএন (CNN)-এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম ২৪ ঘণ্টার সংবাদ সম্প্রচারের সূচনা আন্তর্জাতিক সংকট ও সামরিক আগ্রাসনের চরিত্র চিরতরে বদলে দেয়, যাকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে 'সিএনএন ইফেক্ট' (CNN Effect) বলা হয়।

স্নায়ুযুদ্ধোত্তর পর্বে একচ্ছত্র পশ্চিমা গণমাধ্যম আধিপত্যকে ভেঙে দিতে ১৯৯৬ সালে কাতারের রাজধানী দোহা থেকে আত্মপ্রকাশ করে 'আল জাজিরা' (Al Jazeera)। মধ্যপ্রাচ্য ও গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর হিসেবে আল জাজিরা বিকল্প মিডিয়া ফ্রন্ট হিসেবে বিশ্ব রাজনীতিতে বিপ্লব ঘটায়। অন্যদিকে একবিংশ শতাব্দীর তথ্যবিপ্লব যেমন মুক্ত মত প্রকাশের সুযোগ এনে দিয়েছে, তেমনি ডিপফেক, অ্যালগরিদমিক অপতথ্য (Disinformation) এবং কর্তৃত্ববাদী সরকারের সেন্সরশিপের মুখে সাংবাদিকতা ইতিহাসের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করছে। ফ্রান্সভিত্তিক 'রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস' (RSF)-এর ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স প্রতি বছর মুক্ত গণমাধ্যমের এই অস্তিত্ব সংকটের ভয়াবহ চিত্র বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে।

টপিক 26: কাঠামোগত রূপরেখা ও বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র [২৬.১ বিগ থ্রি বার্তা সংস্থা] ➔ এএফপি (AFP ১৮৩৫) • এপি (AP ১৮৪৬) • রয়টার্স (Reuters ১৮৫১) [২৬.২ অন্যান্য বার্তা সংস্থা] ➔ সিনহুয়া (চীন) • তাস (রাশিয়া) • আনাদোলু • বাংলাদেশ: বাসস ও ইউএনবি [২৬.৩ শীর্ষ টিভি নেটওয়ার্ক] ➔ বিবিসি (১৯২২, রয়েল চার্টার) • সিএনএন (১৯৮০, ২৪ ঘণ্টা) • আল জাজিরা (১৯৯৬) [২৬.৪ প্রেস ফ্রিডম ও আরএসএফ] ➔ ৩ মে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস • RSF (প্যারিস) • ৫টি পিলার • নরওয়ে বনাম এরিত্রিয়া [২৬.৫ মিডিয়া তত্ত্ব ও চমস্কি] ➔ ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট • নোয়াম চমস্কির ৫টি প্রোপাগান্ডা ফিল্টার [২৬.৬ ইতিহাসখ্যাত সাংবাদিকতা] ➔ ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি • পেন্টাগন পেপার্স • পানামা পেপার্স • পুলিৎজার প্রাইজ [২৬.৭ আধুনিক তথ্যযুদ্ধ ও এআই] ➔ ডিসইনফরমেশন • ডিপফেক • ইকো চেম্বার • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সংকট

২৬.১ বিশ্বের 'বিগ থ্রি' সংবাদ সংস্থা (The Big Three News Agencies) #

বিশ্বের সিংহভাগ জাতীয় সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন পোর্টাল তাদের বৈদেশিক খবরের জন্য মূলত তিনটি শতাব্দীর প্রাচীন সংবাদ সংস্থার ওপর নির্ভর করে:

১. এএফপি (AFP - Agence France-Presse) #

  • প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস: ১৮৩৫ সালে ফরাসি অনুবাদক ও সাংবাদিক শার্ল-লুই হাভাস (Charles-Louis Havas) প্যারিসে বিশ্বের প্রথম বার্তা সংস্থা 'এজেন্স হাভাস' (Agence Havas) প্রতিষ্ঠা করেন। এটিই বিশ্বের প্রাচীনতম ও প্রথম আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা।
  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি দখলদারিত্বের মুখে এটি গোপন প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দ্বারা পরিচালিত হয় এবং ২০ আগস্ট ১৯৪৪ প্যারিস মুক্ত হওয়ার পর বর্তমান নাম 'এএফপি' (AFP) ধারণ করে।
  • সদর দপ্তর: প্যারিস, ফ্রান্স।
  • আইনি চরিত্র: ১৯৫৭ সালের ফরাসি সংসদীয় আইনের অধীনে এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত অলাভজনক বৈশ্বিক পাবলিক সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হয়। এটি ছয়টি ভাষায় (ফরাসি, ইংরেজি, আরবি, স্প্যানিশ, জার্মান ও পর্তুগিজ) সংবাদ পরিবেশন করে।

২. এপি (AP - Associated Press) #

  • প্রতিষ্ঠা ও প্রেক্ষাপট: ১৮৪৬ সালের মে মাসে মেক্সিকান-আমেরিকান যুদ্ধের ব্যয়বহুল টেলিগ্রাফ খরচ ভাগাভাগি করার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্কের ৫টি শীর্ষ দৈনিক সংবাদপত্র যৌথভাবে এই সংবাদ সমবায় প্রতিষ্ঠা করে।
  • সদর দপ্তর: নিউইয়র্ক সিটি, যুক্তরাষ্ট্র।
  • সংগঠনের প্রকৃতি: এটি একটি অলাভজনক সংবাদ সমবায় (Not-for-profit News Cooperative)। এর মালিকানা কোনো একক ব্যক্তির নয়; বরং এর সদস্য সংবাদপত্র ও রেডিও-টিভি স্টেশনগুলো যৌথভাবে এর অর্থায়ন ও পরিচালনা করে।
  • বিশ্বজুড়ে ৩,০০০-এর বেশি সাংবাদিকের বিশাল নেটওয়ার্ক নিয়ে এপি বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য সংবাদ সংগ্রাহক সংস্থা হিসেবে স্বীকৃত। এপির সাংবাদিকরা এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেছেন।

৩. রয়টার্স (Reuters) #

  • প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস: ১৮৫১ সালের অক্টোবরে জার্মান বংশোদ্ভূত উদ্ভাবক পল জুলিয়াস রয়টার (Paul Julius Reuter) লন্ডনের রয়্যাল এক্সচেঞ্জের কাছে রয়টার্স অফিস প্রতিষ্ঠা করেন। টেলিগ্রাফ লাইন চালুর পূর্বে তিনি জার্মানির আখেন ও বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের মধ্যে জরুরি শেয়ারবাজারের তথ্য আদান-প্রদানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পায়রা (Carrier Pigeons) ব্যবহার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন।
  • ১৮৫৮ সালে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্রুত সংবাদ পরিবেশন করে রয়টার্স ইউরোপীয় গণমাধ্যমে কিংবদন্তি রূপ ধারণ করে।
  • সদর দপ্তর: লন্ডন, যুক্তরাজ্য (ক্যানারি ওয়ার্ফ)।
  • বর্তমান মালিকানা: ২০০৮ সালে কানাডার থমসন কর্পোরেশন রয়টার্সকে অধিগ্রহণ করে এবং এর বর্তমান নাম হয় 'থমসন রয়টার্স' (Thomson Reuters)। এটি সাধারণ সংবাদের পাশাপাশি বৈশ্বিক আর্থিক বাজার ও শেয়ারবাজারের রিয়েল-টাইম অর্থনৈতিক ডেটা সরবরাহে বিশ্বে শীর্ষস্থান দখল করে আছে।
| সংবাদ সংস্থা | প্রতিষ্ঠার সাল | প্রতিষ্ঠাতা | সদর দপ্তর ও দেশ | প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও বিশেষত্ব | | :--- | :--- | :--- | :--- | :--- | | **AFP (এজেন্স ফ্রান্স-প্রেস)** | **১৮৩৫** | শার্ল-লুই হাভাস | প্যারিস, ফ্রান্স | **বিশ্বের প্রাচীনতম ও ১ম বার্তা সংস্থা**; স্বায়ত্তশাসিত ট্রাস্ট কাঠামো। | | **AP (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস)** | **১৮৪৬** | নিউইয়র্কের ৫টি পত্রিকা | নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র | **অলাভজনক সংবাদ সমবায়**; সদস্য পত্রিকার মালিকানায় পরিচালিত। | | **রয়টার্স (Reuters)** | **১৮৫১** | পল জুলিয়াস রয়টার | লন্ডন, যুক্তরাজ্য | পায়রার মাধ্যমে আর্থিক ডেটা দিয়ে সূচনা; বর্তমানে থমসন রয়টার্স। | --- ## ২৬.২ অন্যান্য প্রধান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংবাদ সংস্থা * **সিনহুয়া (Xinhua News Agency - চীন):** - ৭ নভেম্বর ১৯৩১ তারিখে মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বে 'রেড চায়না নিউজ এজেন্সি' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৩৭ সালে নাম হয় সিনহুয়া (নতুন চীন)। - **সদর দপ্তর:** বেইজিং, চীন। এটি চীন সরকারের প্রধান রাষ্ট্রীয় মুখপত্র এবং বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল সংবাদ সংস্থা। * **তাস (TASS - রাশিয়া):** - ১৯০৪ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে 'সেন্ট পিটার্সবার্গ টেলিগ্রাফ এজেন্সি' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ১৯২৫ সালে সোভিয়েত আমলে নাম হয় TASS (Telegraph Agency of the Soviet Union)। - **সদর দপ্তর:** মস্কো, রাশিয়া। এটি রাশিয়ার প্রধান রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম। * **আনাদোলু এজেন্সি (Anadolu Agency - AA, তুরস্ক):** - ৬ এপ্রিল ১৯২০ তারিখে আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা **মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক** কর্তৃক তুর্কি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আঙ্কারায় প্রতিষ্ঠিত হয়। * **ডিপিএ (DPA - Deutsche Presse-Agentur, জার্মানি):** জার্মানির প্রধান বার্তা সংস্থা (সদর দপ্তর: হামবুর্গ)। * **কিয়োডো নিউজ (Kyodo News, জাপান):** জাপানের প্রধান সংবাদ সমবায় (সদর দপ্তর: টোকিও)। * **বাংলাদেশের বার্তা সংস্থাসমূহ:** 1. **বাসস (BSS - বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা):** ১ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। 2. **ইউএনবি (UNB - United News of Bangladesh):** ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি ও কম্পিউটারাইজড আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা (এপির সাথে অংশীদারিত্বমূলক)। --- ## ২৬.৩ আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ### ১. বিবিসি (BBC - British Broadcasting Corporation) * **প্রতিষ্ঠা:** ১৮ অক্টোবর ১৯২২ তারিখে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কোম্পানি হিসেবে গঠিত হয় এবং ১ জানুয়ারি ১৯২৭ তারিখে **'রয়্যাল চার্টার' (Royal Charter)**-এর অধীনে পাবলিক কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হয়। * **প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক:** লর্ড জন রিথ (John Reith)। তিনি জনস্বার্থ সাংবাদিকতার ত্রয়ী মূলনীতি ঘোষণা করেন: *"Inform, Educate, Entertain"* (তথ্য প্রদান, শিক্ষিত করা ও বিনোদন)। * **সদর দপ্তর:** ব্রডকাস্টিং হাউস, লন্ডন, যুক্তরাজ্য। * **১৯৭১ সালে ভূমিকা:** বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিবিসির ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। বিবিসির বিশেষ সংবাদদাতা **স্যার মার্ক টালি (Mark Tully)**-র বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বর্বর গণহত্যার চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে উন্মোচিত করে এবং কোটি কোটি অবরুদ্ধ বাঙালির একমাত্র বিশ্বস্ত তথ্যসূত্রে পরিণত হয়। ### ২. সিএনএন (CNN - Cable News Network) * **প্রতিষ্ঠা:** ১ জুন ১৯৮০ তারিখে দূরদর্শী মার্কিন মিডিয়া উদ্যোক্তা **টেড টার্নার (Ted Turner)** আটলান্টায় বিশ্বের প্রথম ২৪ ঘণ্টার বিরতিহীন টেলিভিশন সংবাদ চ্যানেল হিসেবে সিএনএন প্রতিষ্ঠা করেন। * **সদর দপ্তর:** আটলান্টা, জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র। * **সিএনএন ইফেক্ট (The CNN Effect):** ১৯৯১ সালের প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে (অপারেশন ডেসার্ট স্টর্ম) বাগদাদের রণাঙ্গন থেকে সিএনএন-এর পিটার আর্নেট সরাসরি লাইভ সম্প্রচার করে বিশ্ব টেলিভিশন সাংবাদিকতার ব্যাকরণ বদলে দেন। যুদ্ধের নির্মম চিত্র রিয়েল-টাইমে মার্কিন ও বিশ্ব নাগরিকদের ড্রয়িংরুমে সরাসরি পৌঁছে যাওয়ার ফলে জনমতের চাপে পরাশক্তিগুলোর পররাষ্ট্রনীতি বাধ্য হয়ে পরিবর্তিত হওয়াকে কূটনীতিতে 'সিএনএন ইফেক্ট' বলা হয়। ### ৩. আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক (Al Jazeera) * **প্রতিষ্ঠা:** ১ নভেম্বর ১৯৯৬ তারিখে কাতারের তৎকালীন আমির **শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি**-র রাজকীয় অনুদানে আরব বিশ্বের প্রথম স্বাধীন স্যাটেলাইট চ্যানেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। * **সদর দপ্তর:** দোহা, কাতার। * **মূল নীতিবাক্য (Motto):** *"The Opinion and the Other Opinion"* (মত এবং ভিন্নমত)। * **কূটনৈতিক তাৎপর্য:** ২০০১ সালে আফগানিস্তান যুদ্ধ এবং ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধে আল জাজিরা পশ্চিমা পেন্টাগন বয়ানের বাইরে গিয়ে আরবের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির স্বাধীন প্রতিবেদন তুলে ধরে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করে। ২০১১ সালের আরব বসন্তের গণজাগরণ সংগঠনে আল জাজিরার সরাসরি সম্প্রচার প্রধান চালিকাশক্তি ছিল।
| টিভি নেটওয়ার্ক | প্রতিষ্ঠার সাল | প্রতিষ্ঠাতা / কর্তৃপক্ষ | সদর দপ্তর | বৈশ্বিক চরিত্র ও ঐতিহাসিক প্রভাব | | :--- | :--- | :--- | :--- | :--- | | **BBC** | ১৯২২ (১৯২৭ চার্টার) | ব্রিটিশ রয়্যাল চার্টার | লন্ডন, যুক্তরাজ্য | বিশ্বস্ত পাবলিক ব্রডকাস্টার; ১৯৭১-এ মার্ক টালির মুক্তিযুদ্ধ কভারেজ। | | **CNN** | ১৯৮০ | টেড টার্নার | আটলান্টা, যুক্তরাষ্ট্র | বিশ্বের ১ম ২৪ ঘণ্টার চ্যানেল; ১৯৯১ উপসাগরীয় যুদ্ধে 'সিএনএন ইফেক্ট'। | | **Al Jazeera** | ১৯৯৬ | শেখ হামাদ আল থানি | দোহা, কাতার | আরব বিশ্ব ও গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর; আরব বসন্তে ঐতিহাসিক ভূমিকা। | --- ## ২৬.৪ ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স ও আরএসএফ (RSF) ### ১. রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (RSF - Reporters Sans Frontières) * **প্রতিষ্ঠা:** ১৯৮৫ সালে ফ্রান্সের মন্টপিলিয়ারে রবার্ট মেনার্ড এবং তিন ফরাসি সাংবাদিক মিলে এই আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন। * **সদর দপ্তর:** প্যারিস, ফ্রান্স। জাতিসংঘের ইউনেস্কো ও মানবাধিকার পরিষদে এর স্থায়ী পরামর্শক মর্যাদা রয়েছে। * **বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস (World Press Freedom Day):** ১৯৯১ সালে আফ্রিকান সাংবাদিকদের দ্বারা গৃহীত 'উইন্ডহুক ঘোষণা' (Windhoek Declaration)-এর ভিত্তিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৯৩ সালে প্রতি বছর **৩ মে** তারিখকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ### ২. সূচকের পরিমাপ পদ্ধতি ও ৫টি মূল স্তম্ভ (5 Contextual Indicators) আরএসএফ প্রতি বছর ৩ মে বিশ্বের ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর ভিত্তি করে বৈশ্বিক মুক্ত গণমাধ্যম সূচক (World Press Freedom Index) প্রকাশ করে। স্কোর ০ থেকে ১০০ স্কেলে নির্ধারিত হয় এবং পাঁচটি মূল সূচকের ওপর মূল্যায়ন করা হয়: 1. **রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট (Political Indicator):** গণমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক চাপ ও স্বায়ত্তশাসন। 2. **আইনি কাঠামো (Legal Framework):** সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও সেন্সরশিপ সংক্রান্ত আইন। 3. **অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট (Economic Indicator):** বিজ্ঞাপনী চাপ, মিডিয়া মালিকানার কেন্দ্রীভবন। 4. **সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশ (Sociocultural Indicator):** সামাজিক ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ। 5. **সাংবাদিকদের নিরাপত্তা (Safety Indicator):** শারীরিক হামলা, হত্যা, কারাদণ্ড ও হুমকি। ### ৩. বৈশ্বিক অবস্থান ও প্রবণতা * **শীর্ষ দেশসমূহ:** মুক্ত গণমাধ্যমের শীর্ষে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বজায় রেখেছে স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলো—**নরওয়ে (টানা ১ম স্থান)**, ডেনমার্ক ও সুইডেন। * **তলানির দেশসমূহ:** সাংবাদিকতার জন্য সবচেয়ে অন্ধকার ও ভয়াবহ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে **এরিত্রিয়া (১৮০তম - তলানিতে)**, উত্তর কোরিয়া (১৭৯তম), চীন (১৭৮তম) এবং সিরিয়া। * **বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া:** দক্ষিণ এশিয়ায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্রমাগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সাইবার নিরাপত্তা আইন, রাজনৈতিক চাপ ও কর্পোরেট প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ ১৮০টি দেশের মধ্যে প্রায়শই নিচের সারিতে (১৬০ থেকে ১৬৫-এর ঘরে) অবস্থান করে।
টপিক 26: কাঠামোগত রূপরেখা ও বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স [ রাজনৈতিক ] [ আইনি আইন ] [ অর্থনৈতিক ] [ সামাজিক ] [ নিরাপত্তা ] (Political) (Legal) (Economic) (Sociocultural) (Safety)

২৬.৫ নোয়াম চমস্কির 'প্রোপাগান্ডা মডেল' ও মিডিয়া তত্ত্ব #

বিশ্বখ্যাত ভাষাবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নোয়াম চমস্কি (Noam Chomsky) এবং এডওয়ার্ড হারম্যান (Edward S. Herman) ১৯৮৮ সালে তাঁদের যুগান্তকারী গ্রন্থ 'ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট: দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব দ্য মাস মিডিয়া' (Manufacturing Consent)-এ পুঁজিবাদী গণমাধ্যমের কার্যপ্রণালী উন্মোচন করেন। তাঁদের মতে, মূলধারার গণমাধ্যম স্বাধীন বা নিরপেক্ষ নয়; বরং এটি বৃহৎ কর্পোরেট ও ক্ষমতাসীন এলিটদের পক্ষে জনমত উৎপাদন (Manufacture Consent) করে।

পাঁচটি প্রোপাগান্ডা ফিল্টার (The Five Filters): #

  1. মালিকানা ফিল্টার (Size, Ownership, and Profit Orientation): শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো বিশালাকার বহুজাতিক মুনাফাভোগী কর্পোরেশনের মালিকানাধীন (যেমন: মারডকের নিউজ কর্পোরেশন, ডিজনি, কমকাস্ট)।
  2. বিজ্ঞাপন ফিল্টার (Advertising as Primary Income): সংবাদপত্র বা টিভির আয়ের মূল উৎস পাঠক নয়, কর্পোরেট বিজ্ঞাপনদাতা। ফলে বিজ্ঞাপনদাতাদের বাণিজ্যিক স্বার্থবিরোধী কোনো সংবাদ প্রকাশ পায় না।
  3. উৎস ফিল্টার (Sourcing of Mass Media News): মিডিয়া খবরের জন্য সরকারের প্রেস ব্রিফিং, পুলিশ, পেন্টাগন ও কর্পোরেট জনসংযোগের (PR) ওপর অতি-নির্ভরশীল।
  4. ফ্ল্যাক ফিল্টার (Flak and the Enforcers): কোনো সাংবাদিক বা মিডিয়া সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখলে আইনি মামলা, বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার, চাকরিচ্যুতি বা রাষ্ট্রীয় হয়রানির (Flak) মাধ্যমে নিবৃত্ত করা হয়।
  5. ভয়ের আদর্শিক শত্রু ফিল্টার (Fear / Anti-Communism / War on Terror): সমাজকে নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কাল্পনিক "অভিন্ন শত্রু" বা ভয়ের হাওয়া চালু রাখা (স্নায়ুযুদ্ধকালে কমিউনিজম, পরবর্তীতে 'সন্ত্রাসবাদ' বা 'বহিরাগত হুমকি')।

২৬.৬ ইতিহাস কাঁপানো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও পুলিৎজার প্রাইজ #

  • ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি (Watergate Scandal - ১৯৭২-১৯৭৪):
    • মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট (The Washington Post)-এর দুই তরুণ অনুসন্ধানী সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড এবং কার্ল বার্নস্টাইন এফবিআই-এর গোপন সোর্স 'ডিপ থ্রোট' (মার্ক ফেল্ট)-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রমাণ করেন যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদর দপ্তরে চুরির ঘটনায় স্বয়ং প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও হোয়াইট হাউস জড়িত।
    • এর ফলে ১৯৭৪ সালের ৯ আগস্ট মার্কিন ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র প্রেসিডেন্ট হিসেবে রিচার্ড নিক্সন পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এটি বিশ্ব সাংবাদিকতায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সর্বোচ্চ সোনালী অধ্যায়।
  • পেন্টাগন পেপার্স (Pentagon Papers - ১৯৭১): সামরিক বিশ্লেষক ড্যানিয়েল এলসবার্গ কর্তৃক ফাঁসকৃত ভিয়েতনামের ওপর মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের নথিপত্র নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট প্রকাশ করে যুদ্ধের আসল প্রতারণা উন্মোচন করে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক রায়ে সরকারের সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে রুলিং দেয়।
  • পানামা পেপার্স (Panama Papers - ২০১৬): আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিক কনসোর্টিয়াম (ICIJ) পানামার আইনি প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকার ১ কোটি ১৫ লাখ গোপন নথি প্রকাশ করে বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান ও ধনকুবেরদের কর ফাঁকি ও মানি লন্ডারিংয়ের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ফাঁস করে দেয়।
  • পুলিৎজার পুরস্কার (Pulitzer Prize):
    • প্রখ্যাত হাঙ্গেরীয়-আমেরিকান সংবাদপত্র প্রকাশক জোসেফ পুলিৎজার-এর উইলের ভিত্তিতে ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
    • এটি সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও সুরের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর এপ্রিল-মে মাসে ২১টি ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার ঘোষণা করে।

২৬.৭ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ঐতিহাসিক ভূমিকা #

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও পাকিস্তানি সামরিক জান্তার ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যার চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাহসী সাংবাদিকদের অবদান ছিল অপরিসীম:

  1. অ্যান্থনি মাসকারেনহাস (Anthony Mascarenhas): করাচির 'দ্য মর্নিং নিউজ'-এর এই সাহসী সাংবাদিক পূর্ব পাকিস্তানে জেনারেল টিক্কা খানের নৃশংসতা স্বচক্ষে দেখে লন্ডনে পালিয়ে যান। ১৩ জুন ১৯৭১ লন্ডনের দ্য সানডে টাইমস (The Sunday Times)-এ তাঁর রচিত দুই পৃষ্ঠার যুগান্তকারী বিশেষ প্রতিবেদন "GENOCIDE" বিশ্ব বিবেককে স্তম্ভিত করে দেয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই রিপোর্ট পড়ে যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করেন।
  2. সাইমন ড্রিং (Simon Dring): ২৫ মার্চ ১৯৭১ রাতে 'অপারেশন সার্চলাইট' চলাকালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ছাদে লুকিয়ে থাকা তরুণ ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং লন্ডনের 'দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ' (The Daily Telegraph)-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ও রাজারবাগের নারকীয় নিধনযজ্ঞের প্রথম সচিত্র প্রতিবেদন পাঠান—শিরোনাম ছিল "Tanks Crush Revolt in Pakistan"।
  3. সিডনি শ্যানবার্গ (Sydney Schanberg): দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিনিধি মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দোসরদের বুদ্ধিজীবী হত্যার বিস্তারিত আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রকাশ করেন (পরবর্তীতে তিনি কম্বোডিয়ার যুদ্ধ কভার করে পুলিৎজার লাভ করেন)।
  4. কনসার্ট ফর বাংলাদেশ (Concert for Bangladesh - ১ আগস্ট ১৯৭১): পপ তারকা জর্জ হ্যারিসন ও পণ্ডিত রবিশঙ্কর কর্তৃক নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক কনসার্টটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলে এবং শরণার্থী তহবিলে বিপুল অর্থ যোগায়।

২৬.৮ আধুনিক তথ্যযুদ্ধ: ডিপফেক, অ্যালগরিদম ও ইনফরমেশন ডিজঅর্ডার #

ডিজিটাল বিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে গণমাধ্যম এক অভূতপূর্ব তথ্যসংকটের (Information Disorder) মুখোমুখি:

  • তথ্যের ত্রয়ী বিকৃতি (Three Types of False Information):
    1. মিসইনফরমেশন (Misinformation): অনিচ্ছাকৃতভাবে অসত্য বা ভুল তথ্য প্রচার (কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্য থাকে না)।
    2. ডিসইনফরমেশন (Disinformation): জনমত বিভ্রান্ত বা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা বা বানোয়াট তথ্য প্রচার।
    3. ম্যালইনফরমেশন (Malinformation): কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত সত্য তথ্য বেআইনিভাবে প্রকাশ করা (যেমন: রিভেঞ্জ পর্ন বা রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল)।
  • ডিপফেক ও জেনারেটিভ এআই (Deepfakes & Generative AI): ডিপ লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাষ্ট্রপ্রধান বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হুবহু কণ্ঠস্বর ও ভিডিও ক্লিপ তৈরি করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা।
  • ইকো-চেম্বার ও অ্যালগরিদমিক মেরুকরণ (Echo Chambers): সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের কেবল তাদের পছন্দসই মতামতের কনটেন্ট প্রদর্শন করে সমাজের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিভক্তি ও চরমপন্থা উস্কে দিচ্ছে।

📊 একনজরে মাস্টার সিন্থেসিস ও তুলনা সারণি (Master Synthesis Table) #

গণমাধ্যম / বার্তা সংস্থা প্রকৃতি সদর দপ্তর ও দেশ প্রতিষ্ঠার সাল মূল বৈশিষ্ট্য ও স্লোগান
AFP আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা প্যারিস, ফ্রান্স ১৮৩৫ বিশ্বের প্রাচীনতম সংবাদ সংস্থা; ৬টি বৈশ্বিক ভাষায় সংবাদ প্রচার।
AP আন্তর্জাতিক সংবাদ সমবায় নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র ১৮৪৬ বিশ্বের বৃহত্তম অলাভজনক সংবাদ সমবায়; ৫০+ পুলিৎজার বিজয়ী।
রয়টার্স (Reuters) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা লন্ডন, যুক্তরাজ্য ১৮৫১ আর্থিক ডেটা ও সাধারণ সংবাদে শীর্ষ; থমসন রয়টার্স গ্রুপ।
সিনহুয়া (Xinhua) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বেইজিং, চীন ১৯৩১ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় মুখপত্র; দ্রুত বর্ধনশীল নেটওয়ার্ক।
তাস (TASS) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মস্কো, রাশিয়া ১৯০৪ রাশিয়ার প্রধান সরকারি বার্তা সংস্থা; সাবেক সোভিয়েত ঐতিহ্য।
BBC পাবলিক ব্রডকাস্টার লন্ডন, যুক্তরাজ্য ১৯২২ রয়েল চার্টার দ্বারা পরিচালিত; "Inform, Educate, Entertain"।
CNN ২৪ ঘণ্টার টিভি চ্যানেল আটলান্টা, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮০ বিশ্বের প্রথম ২৪ ঘণ্টার লাইভ সংবাদ চ্যানেল; 'সিএনএন ইফেক্ট'।
Al Jazeera আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট টিভি দোহা, কাতার ১৯৯৬ কাতার সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত; আরব বিশ্বের প্রধান বিকল্প মিডিয়া।
RSF আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এনজিও প্যারিস, ফ্রান্স ১৯৮৫ ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স প্রকাশক; ৩ মে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস।
পুলিৎজার প্রাইজ সাংবাদিকতা ও সাহিত্য পুরস্কার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইউএসএ ১৯১৭ জোসেফ পুলিৎজারের সম্মানে প্রদত্ত আমেরিকার সর্বোচ্চ মিডিয়া পুরস্কার।

কোড / ছন্দ পূর্ণরূপ / মূল ভাবার্থ জড়িত বিষয় / ক্ষেত্র পরীক্ষার জন্য যেভাবে মনে রাখবেন
৩৫-৪৬-৫১ ১৮৩৫ (AFP), ১৮৪৬ (AP), ১৮৫১ (Reuters) বিশ্বের বিগ থ্রি সংবাদ সংস্থা প্রতিষ্ঠার ক্রম শতাব্দীর প্রাচীন তিন বার্তা সংস্থার প্রতিষ্ঠা সাল মনে রাখার চাবিকাঠি।
প্যারিস-লন্ডন-আটলান্টা প্যারিসে AFP ও RSF, লন্ডনে রয়টার্স ও BBC, আটলান্টায় CNN আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সদর দপ্তরসমূহ শহরের সাথে মিডিয়া নেটওয়ার্কের ভৌগোলিক মেলবন্ধন।
৩ মে প্রেস ফ্রিডম ৩ মে প্রতি বছর পালিত হয় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস জাতিসংঘ ও আরএসএফ ক্যালেন্ডার দিবসভিত্তিক প্রশ্নের জন্য অপরিবর্তনীয় তারিখ।
উডওয়ার্ড-বার্নস্টাইন ওয়াশিংটন পোস্টের দুই সাংবাদিক যারা ওয়াটারগেট ফাঁস করেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাইলফলক ঐতিহাসিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নায়কদ্বয়।
চমস্কির ৫ ফিল্টার মালিকানা, বিজ্ঞাপন, সোর্স, ফ্ল্যাক ও শত্রুভীতি নোয়াম চমস্কির প্রোপাগান্ডা মডেল লিখিত পরীক্ষায় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ বিশ্লেষণে পাঁচটি পয়েন্ট।
কলাম্বিয়া পুলিৎজার পুলিৎজার পুরস্কার প্রতি বছর প্রদান করে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের শীর্ষ সাংবাদিকতা পুরস্কার পুরস্কার ও প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম।