টপিক 28: আন্তর্জাতিক দিবস ও নোবেলসহ শীর্ষ পুরস্কার (International Days & Awards)
টপিক ২৮: আন্তর্জাতিক দিবস ও নোবেলসহ শীর্ষ পুরস্কার (International Days & World Prestigious Awards: Nobel 2024, Booker, Pulitzer & Magsaysay) #
🌐 অধ্যায় পরিচিতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট (Chapter Prologue) #
মানবজাতির বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, মানবিক সংগ্রাম এবং বৈশ্বিক মূল্যবোধকে উদযাপন করার জন্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক দিবসসমূহ এক অবিচ্ছেদ্য মাধ্যম। এই স্বীকৃতিগুলোর শীর্ষে অবস্থান করছে বিশ্বখ্যাত 'নোবেল পুরস্কার' (Nobel Prize)। ১৮৯৫ সালে সুইডিশ রসায়নবিদ ও ডিনামাইটের আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেল তাঁর উইলপত্রের মাধ্যমে অর্জিত সমস্ত সম্পদ মানবজাতির কল্যাণে উৎসর্গ করে যে পুরস্কার প্রবর্তন করেছিলেন, তা গত ১২৪ বছর ধরে বিশ্বের সর্বোচ্চ বুদ্ধিবৃত্তিক সম্মাননার স্বর্ণমানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
নোবেল পুরস্কার কেবল বিজ্ঞানীদের ব্যক্তিগত সম্মাননা নয়; বরং এটি সমসাময়িক মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রার দিকনির্দেশক। ২০২৪ সালের নোবেল পুরস্কারে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন উভয় শাখাতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও প্রোটিন ডিজাইনের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি আধুনিক প্রযুক্তির বৈপ্লবিক রূপান্তরকে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকির পরমাণু বোমা হামলার শিকার 'হিবাখুশা'দের তৃণমূল সংগঠন 'নিহন হিদানকিও'-র শান্তিতে নোবেল লাভ চলমান ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত পৃথিবীর প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। এশীয় নারী হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক হান কাং-এর সাহিত্যে নোবেল জয় বিশ্ব সাহিত্যে প্রান্তিক কণ্ঠের উত্থান নির্দেশ করে।
নোবেল ছাড়াও সাহিত্যের অস্কারখ্যাত 'বুকার প্রাইজ', আমেরিকার সর্বোচ্চ মিডিয়া পুরস্কার 'পুলিৎজার', চলচ্চিত্রের 'অস্কার' এবং এশিয়ার নোবেলখ্যাত 'র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার' আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুশীল সমাজ ও প্রতিভার অনন্য স্বীকৃতি। একই সাথে বিশ্বজুড়ে পরিবেশ রক্ষা, মাতৃভাষার সম্মান, মানবাধিকার ও নারী অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দিবসসমূহ (যেমন: ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ৮ মার্চ নারী দিবস, ৫ জুন পরিবেশ দিবস ও ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস) বিশ্ববাসীকে অভিন্ন মানবিক চেতনায় জাগ্রত রাখে।
২৮.১ নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নিয়মাবলী #
১. আলফ্রেড নোবেলের উইল ও পুরস্কারের সূচনা #
- আলফ্রেড বার্নহার্ড নোবেল (১৮৩৩–১৮৯৬): সুইডিশ রসায়নবিদ, প্রকৌশলী ও শিল্পপতি। তিনি ১৮৬৭ সালে অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক ডিনামাইট (Dynamite) আবিষ্কার করে বিশ্বজুড়ে বিপুল সম্পদের মালিক হন। ১৮৮৮ সালে একটি ফরাসি সংবাদপত্রে ভুলবশত প্রকাশিত তাঁর ব্যঙ্গাত্মক শোকসংবাদ ("The Merchant of Death is Dead" - মৃত্যুর সওদাগর মারা গেছেন) পড়ে তিনি মানসিকভাবে গভীরভাবে অনুতপ্ত হন।
- ঐতিহাসিক উইল: ২৭ নভেম্বর ১৮৯৫ তারিখে প্যারিসের সুইডিশ-নরওয়েজিয়ান ক্লাবে নোবেল তাঁর শেষ উইলে স্বাক্ষর করেন। উইলে তিনি তাঁর সম্পদের ৯৪% (প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা) দিয়ে এমন একটি তহবিল গঠনের নির্দেশ দেন যা প্রতি বছর মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যাণ সাধনকারী ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করবে।
- পুরস্কার প্রদান শুরু: নোবেল ফাউন্ডেশন গঠিত হওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর ৫ বছর পর ১৯০১ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ৫টি ক্ষেত্রে পুরস্কার দেওয়া হতো: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, শারীরতত্ত্ব বা চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য এবং শান্তি।
- অর্থনীতিতে নোবেল (The 6th Prize): আলফ্রেড নোবেলের মূল উইলে অর্থনীতি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'সেরেজেস রিক্সব্যাংক' (Sveriges Riksbank)-এর ৩০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই পুরস্কার প্রবর্তিত হয় এবং ১৯৬৯ সালে প্রথম প্রদান করা হয়। এর আনুষ্ঠানিক নাম "The Sveriges Riksbank Prize in Economic Sciences in Memory of Alfred Nobel"।
২. নোবেল নির্বাচনকারী ৪টি প্রতিষ্ঠান ও দুই শহর #
নোবেল পুরস্কার দুটি ভিন্ন দেশের দুটি ভিন্ন রাজধানী থেকে প্রদান করা হয়:
**জিওফ্রে ই. হিন্টন** (যুক্তরাজ্য/কানাডা) | কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মেশিন লার্নিংয়ের মৌলিক উদ্ভাবন (Foundations of Machine Learning)। | জিওফ্রে হিন্টনকে **"গডফাদার অব এআই"** (Godfather of AI) বলা হয়। | | **রসায়ন** | **ডেভিড বেকার** (যুক্তরাষ্ট্র — ১/২ অংশ)
**ডেমিস হ্যাসাবিস** (যুক্তরাজ্য — ১/৪)
**জন এম. জাম্পার** (যুক্তরাষ্ট্র — ১/৪) | কম্পিউটেশনাল প্রোটিন ডিজাইন (বেকার) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 'AlphaFold2'-এর মাধ্যমে প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক গঠন পূর্বাভাস। | গুগল ডিপমাইন্ড (DeepMind)-এর বিজ্ঞানীদ্বয় এআই দিয়ে জীববিজ্ঞানের ৫০ বছরের রহস্য সমাধান করেছেন। | | **চিকিৎসাবিজ্ঞান** | **ভিক্টর অ্যামব্রোস** (যুক্তরাষ্ট্র)
**গ্যারি রুভকুন** (যুক্তরাষ্ট্র) | মাইক্রোআরএনএ (microRNA) আবিষ্কার এবং জিন নিয়ন্ত্রণের কার্যপ্রণালী উন্মোচন। | ক্ষুদ্র নন-কোডিং আরএনএ কীভাবে কোষে প্রোটিন তৈরি নিয়ন্ত্রণ করে তা আবিষ্কার। | | **সাহিত্য** | **হান কাং (Han Kang)**
(দক্ষিণ কোরিয়া) | তীব্র কাব্যিক গদ্য যা ঐতিহাসিক ক্ষতসমূহকে উন্মোচন করে এবং মানব জীবনের ভঙ্গুরতাকে তুলে ধরে। | **প্রথম দক্ষিণ কোরীয় এবং প্রথম এশীয় নারী** হিসেবে সাহিত্যে নোবেল জয়ী। বিখ্যাত উপন্যাস: *'দ্য ভেজিটেরিয়ান' (The Vegetarian)*। | | **শান্তি** | **নিহন হিদানকিও (Nihon Hidankyo)**
(জাপানভিত্তিক তৃণমূল সংগঠন) | পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব অর্জনের অবিচল প্রচেষ্টা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিধ্বংসী সত্য তুলে ধরা। | ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকির পরমাণু হামলায় বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শী **'হিবাখুশা' (Hibakusha)**-দের সংগঠন। | | **অর্থনীতি** | **ডারন আসেমোগ্লু** (তুরস্ক/যুক্তরাষ্ট্র)
**সাইমন জনসন** (যুক্তরাজ্য/যুক্তরাষ্ট্র)
**জেমস এ. রবিনসন** (যুক্তরাজ্য/যুক্তরাষ্ট্র) | কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শাসন কাঠামো গড়ে ওঠে এবং তা জাতিসমূহের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে। | বিশ্বখ্যাত গবেষণামূলক গ্রন্থ **'হোয়াই নেশনস ফেইল' (Why Nations Fail: The Origins of Power, Prosperity, and Poverty)**-এর লেখকদ্বয়। | --- ## ২৮.৩ নোবেল বিজয়ী বাঙালি ত্রয়ী ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অর্জন বাঙালি জাতির ইতিহাসে তিনজন কৃতি সন্তান নোবেল পুরস্কার অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বাঙালির মেধার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন: 1. **রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৩ - সাহিত্যে নোবেল):** - **ঐতিহাসিক গুরুত্ব:** প্রথম ভারতীয়, প্রথম বাঙালি এবং প্রথম অ-ইউরোপীয়/এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। - **পুরস্কারের কারণ:** তাঁর কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ **'গীতাঞ্জলি'**-র স্ব-অনূদিত ইংরেজি সংস্করণ **'সং অফারিংস' (Song Offerings - ১৯১২)**-এর ভূমিকা লিখেছিলেন আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস। সুইডিশ একাডেমি তাঁর গভীর সংবেদনশীল ও সুরময় কাব্যের জন্য এই সম্মাননা প্রদান করে। 2. **অধ্যাপক অমর্ত্য সেন (১৯৯৮ - অর্থনীতিতে নোবেল):** - **গবেষণার বিষয়:** **কল্যাণ অর্থনীতি (Welfare Economics)**, সামাজিক পছন্দ তত্ত্ব এবং দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্যের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ। - **মূল অবদান:** তিনি প্রমাণ করেন যে দুর্ভিক্ষ খাদ্যের পরম ঘাটতির জন্য হয় না; বরং খাদ্য ক্রয়ের সামর্থ্য ও অধিকার বা 'এনটাইটেলমেন্ট' (Entitlement)-এর সংকটের কারণে ঘটে। তিনি মাহবুব উল হকের সাথে জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচক (HDI)-এর সহ-স্থপতি। 3. **ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক (২০০৬ - শান্তিতে নোবেল):** - **ঐতিহাসিক গুরুত্ব:** স্বাধীন বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল পুরস্কার অর্জন। - **অবদান:** নিচে থেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত **গ্রামীণ ব্যাংক (Grameen Bank)** যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল লাভ করে। - **মূল তত্ত্ব:** মাইক্রোক্রেডিট বা জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক ব্যবসা (Social Business), যা বিশ্বের কোটি কোটি দরিদ্র নারীকে স্বাবলম্বী করেছে। - *(নোট: ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাঙালি অর্থনীতিবিদ **অভিজিৎ ব্যানার্জি** ২০১৯ সালে তাঁর স্ত্রী এস্থার ডাফলো ও মাইকেল ক্রেমারের সাথে বৈশ্বিক দারিদ্র্য বিমোচনে পরীক্ষামূলক পদ্ধতির জন্য অর্থনীতিতে নোবেল লাভ করেন)।*
২৮.৪ আন্তর্জাতিক অন্যান্য শীর্ষ পুরস্কার ও সম্মাননা #
১. বুকার প্রাইজ ও ইন্টারন্যাশনাল বুকার প্রাইজ #
- ম্যান বুকার প্রাইজ (The Booker Prize):
- ১৯৬৯ সালে যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত। ইংরেজি ভাষায় রচিত এবং যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ডে প্রকাশিত বছরের শ্রেষ্ঠ একক মৌলিক উপন্যাসকে এই সম্মাননা দেওয়া হয় (পুরস্কার মূল্য ৫০,০০০ পাউন্ড)।
- ২০২৪ সালের বিজয়ী: ব্রিটিশ লেখিকা সামান্থা হার্ভে (Samantha Harvey) তাঁর মহাকাশভিত্তিক উপন্যাস 'অরবিটাল' (Orbital)-এর জন্য বুকার ২০২৪ লাভ করেন।
- আন্তর্জাতিক বুকার প্রাইজ (International Booker Prize):
- বিশ্বের যেকোনো ভাষায় রচিত কিন্তু ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত উপন্যাসের জন্য লেখক ও অনুবাদককে যৌথভাবে প্রদান করা হয়।
- ২০২৪ সালের বিজয়ী: জার্মান লেখিকা জেনি এরপেনবেক (Jenny Erpenbeck) এবং অনুবাদক মাইকেল হফম্যান তাঁদের উপন্যাস 'কাইরোস' (Kairos)-এর জন্য এই পুরস্কার পান।
২. পুলিৎজার প্রাইজ (Pulitzer Prize) #
- ১৯১৭ সালে সাংবাদিক জোসেফ পুলিৎজারের স্মরণে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রবর্তিত। সংবাদপত্র সাংবাদিকতা, ম্যাগাজিন, অনলাইন প্রতিবেদন, সাহিত্য এবং সুর রচনার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার।
৩. একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কার (The Oscars) #
- ১৯২৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে গঠিত 'একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস' (AMPAS) কর্তৃক প্রতি বছর বিশ্ব চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য অস্কার পুরস্কার প্রদান করা হয়। (৯৬তম অস্কার ২০২৪-এ ক্রিস্টোফার নোলানের 'ওপেনহাইমার' (Oppenheimer) ৭টি অস্কার জয় করে)।
৪. র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার (Ramon Magsaysay Award) #
- 'এশিয়ার নোবেল' (Nobel Prize of Asia): ১৯৫৭ সালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ফিলিপাইনের সপ্তম রাষ্ট্রপতি র্যামন ম্যাগসেসের স্মরণে গঠিত হয়। প্রতি বছর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে এশিয়ার সমাজে নিঃস্বার্থ মানবসেবা ও ইতিবাচক রূপান্তরের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
- বাংলাদেশের ম্যাগসেসে বিজয়ী কৃতি ব্যক্তিত্বগণ:
- ড. ফজলে হাসান আবেদ (ব্র্যাক - ১৯৮০)
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস (১৯৮৪)
- ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র - ১৯৮৫)
- অ্যাঞ্জেলা গোমেজ (১৯৯৯)
- মতিউর রহমান (প্রথম আলো - ২০০৫)
- সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান (বেলা - ২০১২)
- করভী রাখসান্দ (জাগো ফাউন্ডেশন - ২০২৩)
২৮.৫ জাতিসংঘের শীর্ষ আন্তর্জাতিক দিবস ক্যালেন্ডার (জানুয়ারি – ডিসেম্বর) #
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক স্বীকৃত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দিবসসমূহ যা বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষায় নিয়মিত আসে:
| মাস | তারিখ ও দিবস | তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট |
|---|---|---|
| জানুয়ারি | ২৪ জানুয়ারি: আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস | শিক্ষাকে সার্বজনীন মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা। |
| ফেব্রুয়ারি | ২১ ফেব্রুয়ারি: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস | ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি; ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের স্মরণে বিশ্বজুড়ে পালিত। |
| মার্চ | ৮ মার্চ: আন্তর্জাতিক নারী দিবস | নারী অধিকার ও সমতার দাবি; ১৯১০ সালে ক্লারা জেটকিন প্রস্তাবিত। |
| ২১ মার্চ: আন্তর্জাতিক বন দিবস / বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ দিবস | শার্পভিল গণহত্যার স্মরণে বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ দিবস। | |
| ২২ মার্চ: বিশ্ব পানি দিবস | মিঠা পানির গুরুত্ব ও টেকসই ব্যবস্থাপনা। | |
| ২৩ মার্চ: বিশ্ব আবহাওয়া দিবস | বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)-এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। | |
| এপ্রিল | ৭ এপ্রিল: বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস | ১৯৪৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। |
| ২২ এপ্রিল: বিশ্ব ধরিত্রী দিবস (Earth Day) | ১৯৭০ সালে সূচিত পরিবেশ সুরক্ষার বিশ্ব আন্দোলন। | |
| মে | ১ মে: আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস (মে দিবস) | ১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন। |
| ৩ মে: বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস | ১৯৯১ উইন্ডহুক ঘোষণা ও সাংবাদিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা। | |
| ২১ মে: বিশ্ব সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দিবস | সংলাপ ও উন্নয়নের জন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। | |
| ২৯ মে: আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস | ১৯৪৮ সালের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশনের স্মরণে। | |
| জুন | ৫ জুন: বিশ্ব পরিবেশ দিবস | ১৯৭২ সালের ঐতিহাসিক স্টকহোম সম্মেলনের স্মরণে বিশ্ব পরিবেশ সুরক্ষা। |
| ২০ জুন: বিশ্ব শরণার্থী দিবস | ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের ৫০ বছর পূর্তিতে ২০০০ সাল থেকে পালিত। | |
| ২৩ জুন: আন্তর্জাতিক অলিম্পিক দিবস | ১৮৯৪ সালে ব্যারন পিয়েরে দ্য কুবার্তা কর্তৃক IOC প্রতিষ্ঠার দিন। | |
| জুলাই | ১১ জুলাই: বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস | ১৯৮৭ সালের ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা ৫০০ কোটিতে পৌঁছার দিন। |
| আগস্ট | ৯ আগস্ট: আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস | বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা। |
| ১২ আগস্ট: আন্তর্জাতিক যুব দিবস | তরুণ সমাজের ক্ষমতায়ন ও উদ্ভাবন। | |
| সেপ্টেম্বর | ৮ সেপ্টেম্বর: আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস | ১৯৬৫ সালে ইউনেস্কোর সম্মেলনে গৃহীত সাক্ষরতা আন্দোলন। |
| ২১ সেপ্টেম্বর: আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস | অহিংসা ও বৈশ্বিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান (Peace Bell বাজানো হয়)। | |
| অক্টোবর | ৫ অক্টোবর: বিশ্ব শিক্ষক দিবস | ১৯৬৬ সালের ইউনেস্কো/আইএলও শিক্ষক মর্যাদাসংক্রান্ত সনদের স্মরণে। |
| ১৬ অক্টোবর: বিশ্ব খাদ্য দিবস | ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। | |
| ২৪ অক্টোবর: জাতিসংঘ দিবস (UN Day) | ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। | |
| নভেম্বর | ২০ নভেম্বর: বিশ্ব শিশু দিবস | ১৯৮৯ সালের ঐতিহাসিক 'জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ' (CRC) গৃহীত হয়। |
| ২৫ নভেম্বর: নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস | মিরাবাল বোনদের স্মরণে নারী নির্যাতন বিরোধী বৈশ্বিক আন্দোলন। | |
| ডিসেম্বর | ১ ডিসেম্বর: বিশ্ব এইডস দিবস | এইচআইভি প্রতিরোধ ও আক্রান্তদের প্রতি সংহতি। |
| ৯ ডিসেম্বর: আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস | ২০০৩ সালে জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন (UNCAC) স্বাক্ষরের দিন। | |
| ১০ ডিসেম্বর: মানবাধিকার দিবস (Human Rights Day) | ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র (UDHR) গৃহীত হয়। |
২৮.৬ নোবেল পুরস্কারের ভূ-রাজনীতি, ঐতিহাসিক বিতর্ক ও প্রত্যাখ্যান #
নোবেল পুরস্কারকে বৈশ্বিক স্বীকৃতির চূড়া মনে করা হলেও এর ১২৪ বছরের ইতিহাসে একাধিক বিতর্ক ও রাজনৈতিক মেরুকরণের অভিযোগ উঠেছে:
- মহাত্মা গান্ধীর নোবেল না পাওয়া: অহিংস আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা মহাত্মা গান্ধীকে ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৮ সালের মধ্যে পাঁচবার মনোনীত করা সত্ত্বেও নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে নোবেল কমিটি স্বীকার করে যে গান্ধীকে নোবেল না দেওয়া কমিটির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ভুল ছিল।
- শান্তি পুরস্কারের ভূ-রাজনৈতিক বিতর্ক:
- ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ও উত্তর ভিয়েতনামের লি ডাক থোকে যৌথভাবে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। কিসিঞ্জারের কম্বোডিয়া বোমাবর্ষণের ভূমিকার কারণে সমালোচনার মুখে দুজন নোবেল কমিটি সদস্য পদত্যাগ করেন এবং লি ডাক থো পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন।
- ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৯ মাসের মাথায় কোনো দৃশ্যমান শান্তি অর্জনের পূর্বেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে শান্তিতে নোবেল প্রদান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।
- নোবেল প্রত্যাখ্যানের ঐতিহাসিক নজির:
- জঁ-পল সার্ত্র (Jean-Paul Sartre - ১৯৬৪): ফরাসি অস্তিত্ববাদী দার্শনিক সার্ত্র সাহিত্যে নোবেল প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে কোনো লেখককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের কাছে আত্মসমর্পণ করা উচিত নয়।
- বরিস পাস্তেরনাক (Boris Pasternak - ১৯৫৮): তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'ডক্টর জিভাগো' (Doctor Zhivago)-র জন্য সাহিত্যে নোবেল মনোনীত হলেও সোভিয়েত সরকারের তীব্র চাপে তিনি পুরস্কার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।
📊 একনজরে মাস্টার সিন্থেসিস ও তুলনা সারণি (Master Synthesis Table) #
| পুরস্কার / আন্তর্জাতিক দিবস | ভিত্তি / সূচনা সন | সদর দপ্তর / আয়োজক | প্রধান নির্ণায়ক / বিষয়বস্তু | সাম্প্রতিক বিজয়ী / স্মারক তারিখ |
|---|---|---|---|---|
| নোবেল পদার্থবিজ্ঞান | ১৯০১ | রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি, স্টকহোম | কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক ও এআই | জন হপফিল্ড ও জিওফ্রে হিন্টন (২০২৪) |
| নোবেল রসায়ন | ১৯০১ | রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি, স্টকহোম | প্রোটিন ডিজাইন ও আলফাফোল্ড এআই | ডেভিড বেকার, ডেমিস হ্যাসাবিস, জন জাম্পার (২০২৪) |
| নোবেল সাহিত্য | ১৯০১ | সুইডিশ একাডেমি, স্টকহোম | মানবিক ট্র্যাজেডি ও কাব্যিক গদ্য | হান কাং (দক্ষিণ কোরিয়া, ২০২৪) |
| নোবেল শান্তি পুরস্কার | ১৯০১ | নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি, অসলো | পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের সংগ্রাম | নিহন হিদানকিও (জাপান, ২০২৪) |
| নোবেল অর্থনীতি | ১৯৬৮ (১ম প্রদান ১৯৬৯) | রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি, স্টকহোম | প্রাতিষ্ঠানিক শাসন ও জাতীয় সমৃদ্ধি | ডারন আসেমোগ্লু, সাইমন জনসন, জেমস রবিনসন (২০২৪) |
| ম্যান বুকার প্রাইজ | ১৯৬৯ | বুকার প্রাইজ ফাউন্ডেশন, লন্ডন | ইংরেজি ভাষার শ্রেষ্ঠ মৌলিক উপন্যাস | সামান্থা হার্ভে (উপন্যাস: Orbital, ২০২৪) |
| র্যামন ম্যাগসেসে | ১৯৫৭ | ম্যাগসেসে ফাউন্ডেশন, ম্যানিলা | এশিয়ায় নিঃস্বার্থ নেতৃত্ব ও সেবা | করভী রাখসান্দ (বাংলাদেশ, ২০২৩) |
| আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস | ১৯৯৯ (১ম পালন ২০০০) | ইউনেস্কো / সাধারণ পরিষদ | ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের স্মারক | ২১ ফেব্রুয়ারি |
| জাতিসংঘ দিবস | ১৯৪৭ (সনদ কার্যকর ১৯৪৫) | জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ | জাতিসংঘ সনদের বাস্তবায়ন | ২৪ অক্টোবর |
| মানবাধিকার দিবস | ১৯৫০ (UDHR ১৯৪৮) | জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ | মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা | ১০ ডিসেম্বর |
| কোড / ছন্দ | পূর্ণরূপ / মূল ভাবার্থ | জড়িত বিষয় / ক্ষেত্র | পরীক্ষার জন্য যেভাবে মনে রাখবেন |
|---|---|---|---|
| শান্তি অসলোতে, বাকি সব স্টকহোমে | শান্তিতে নোবেল অসলো (নরওয়ে), বাকি ৫টি স্টকহোম (সুইডেন) | নোবেল পুরস্কারের দ্বৈত ভেন্যু | পরীক্ষার সবচেয়ে সাধারণ দ্বিধা দূর করার সূত্র। |
| ২২ পানি, ২২ মাটি, ৫ পরিবেশ | ২২ মার্চ পানি দিবস, ২২ এপ্রিল ধরিত্রী দিবস, ৫ জুন পরিবেশ দিবস | জাতিসংঘের পরিবেশ দিবস ত্রয়ী | পরিবেশবিষয়ক ৩টি গুরুত্বপূর্ণ দিবস ক্রমানুসারে মনে রাখার টেকনিক। |
| ১৩-৯৮-০৬ | ১৯১৩ রবীন্দ্রনাথ, ১৯৯৮ অমর্ত্য সেন, ২০০৬ ড. ইউনূস | বাঙালি নোবেলজয়ী ত্রয়ী | তিন নোবেলজয়ী বাঙালির সাল মুখস্থ রাখার শর্টকাট। |
| হপফিল্ড-হিন্টন এআই | পদার্থবিজ্ঞানে ২০২৪ নোবেলজয়ী এআই রূপকারদ্বয় | নোবেল পদার্থবিজ্ঞান ২০২৪ | মেশিন লার্নিংয়ের নোবেল বিজ্ঞানীদের নাম। |
| হিদানকিও শান্তি | জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকির পরমাণু সারভাইভারদের সংগঠন | নোবেল শান্তি ২০২৪ | শান্তিতে নোবেলজয়ী সংস্থার নাম মনে রাখার সহজ সূত্র। |
| ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ, ১০ ডিসেম্বর অধিকার | ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ দিবস, ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস | জাতিসংঘের প্রধান দুই মৌলিক দিবস | পরীক্ষার জন্য অবধারিত দুই আন্তর্জাতিক তারিখ। |