টপিক 29 / ৩০আন্তর্জাতিক বিচার, গোয়েন্দা সংস্থা, গণমাধ্যম, ক্রীড়া, মহাকাশ ও পুরস্কার📖 স্টাডি নোট

টপিক 29: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সূচক ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন (Global Economic Indices)

টপিক ২৯: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সূচক ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন (Global Economic Indices, Multilateral Reports & Development Metrics) #

🌐 অধ্যায় পরিচিতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট (Chapter Prologue) #

একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব রাজনীতি ও ভূ-রাজনীতি মূলত অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কোনো রাষ্ট্রের সামরিক পরাক্রম যেমন তার শক্তিমত্তার বাহ্যিক রূপ, তেমনি তার মোট দেশজ উৎপাদন (GDP), মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা, দুর্নীতির বিস্তার, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং মানবকল্যাণের মানদণ্ডই নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার প্রকৃত ভূ-অর্থনৈতিক অবস্থান (Geo-economic Standing)। আন্তর্জাতিক আর্থিক ও গবেষণা সংস্থাগুলো প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে যে সূচক ও প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ করে, তা কেবল পরিসংখ্যানিক উপাত্ত নয়; বরং বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI), আন্তর্জাতিক ঋণ সহায়তা এবং ক্রেডিট রেটিং নির্ধারণের মূল দিকনির্দেশক।

বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য পরিমাপে দুটি পদ্ধতি প্রচলিত: চলতি বাজার মূল্যে বা 'নমিনাল জিডিপি' (Nominal GDP) এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়কৃত 'ক্রয়ক্ষমতার সমতা' বা পিপিপি (Purchasing Power Parity - PPP)। নমিনাল জিডিপিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একক পরাশক্তি হলেও, পিপিপি পরিমাপে চীন ইতোমধ্যে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিতে রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে আয়ের বৈষম্য পরিমাপে 'গিনি সহগ' এবং মুদ্রাস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধিহীনতার সংকট 'স্ট্যাগফ্লেশন' অর্থনৈতিক গবেষণার কেন্দ্রে রয়েছে।

বহুপাক্ষিক প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর 'ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক' এবং বিশ্বব্যাংকের 'ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট' আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে। ২০২১ সালে চীন সংক্রান্ত তথ্য কেলেঙ্কারির কারণে বিশ্বব্যাংকের দীর্ঘদিনের 'ইজ অব ডুয়িং বিজনেস' প্রতিবেদন বাতিল হওয়ার পর ২০২৪ সাল থেকে সম্পূর্ণ নতুন বৈজ্ঞানিক কাঠামোর 'বিজনেস রেডি' (B-READY) প্রকল্প যাত্রা শুরু করেছে। একই সাথে জার্মানির বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (TI)-এর 'দুর্নীতির ধারণা সূচক' (CPI), দাভোস সম্মেলন খ্যাত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF)-এর 'জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট', জাতিসংঘের 'ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট' (যেখানে ফিনল্যান্ড টানা শীর্ষে) এবং মাহবূব উল হক ও অমর্ত্য সেনের যুগান্তকারী 'মানব উন্নয়ন সূচক' (HDI) প্রমাণ করেছে যে নিছক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই শেষ কথা নয়; সম্পদের সুষম বণ্টন, সুশাসন এবং মানসিক কল্যাণই টেকসই উন্নয়নের মূল মাপকাঠি।

টপিক 29: কাঠামোগত রূপরেখা ও বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র [২৯.১ সামষ্টিক অর্থনৈতিক মেট্রিক্স] ➔ নমিনাল বনাম পিপিপি জিডিপি • গিনি সহগ • লরেঞ্জ রেখা • স্ট্যাগফ্লেশন [২৯.২ আইএমএফ ফ্ল্যাগশিপ রিপোর্ট] ➔ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (WEO) • ফিসকাল মনিটর • এসডিআর বাস্কেট (৫ মুদ্রা) [২৯.৩ বিশ্বব্যাংক ও ব্যবসায়িক সূচক] ➔ ডুয়িং বিজনেস বাতিল • 'বিজনেস রেডি' (B READY ২০২৪) • ৩টি কোর পিলার [২৯.৪ টিআই ও দুর্নীতির ধারণা সূচক] ➔ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (বার্লিন) • CPI স্কোর (০ ১০০) • শীর্ষ ডেনমার্ক [২৯.৫ ডব্লিউইএফ ও দাভোস ফোরাম] ➔ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (১৯৭১) • গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ (আইসল্যান্ড ১ম) [২৯.৬ মানবকল্যাণ ও সুখের সূচক] ➔ ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট (ফিনল্যান্ড ১ম) • মানব উন্নয়ন সূচক (HDI ৩ মাত্রা) [২৯.৭ বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ] ➔ ট্রিলিয়ন ডলারের যাত্রা • রেমিট্যান্স ও রপ্তানি • এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন চ্যালেঞ্জ

২৯.১ সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিমাপ ও মৌলিক সূচকসমূহ (Macroeconomic Metrics) #

১. জিডিপির দ্বৈত পরিমাপ: নমিনাল বনাম পিপিপি #

  • নমিনাল জিডিপি (Nominal GDP): আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে বিদ্যমান প্রচলিত বিনিময় হারে কোনো দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মোট বাজারমূল্য। এটি মার্কিন ডলারে রূপান্তরিত করে হিসাব করা হয়।
    • শীর্ষ ৫ দেশ (নমিনাল): ১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (প্রায় ২৮ ট্রিলিয়ন ডলার), ২. চীন (প্রায় ১৮.৫ ট্রিলিয়ন ডলার), ৩. জার্মানি (জাপানকে টপকে ৩য়), ৪. জাপান, ৫. ভারত (আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে জার্মানি ও জাপানকে টপকে ৩য় হবে)।
  • পিপিপি জিডিপি (Purchasing Power Parity - PPP): বিভিন্ন দেশের স্থানীয় মুদ্রার প্রকৃত অভ্যন্তরীণ ক্রয়ক্ষমতা এবং পণ্য ও সেবার মূল্যস্তরের পার্থক্য সমন্বয় করে যে জিডিপি হিসাব করা হয়।
    • শীর্ষ দেশ (পিপিপি): চীন (পিপিপি ভিত্তিতে প্রায় ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে বিশ্বে একক ১ম), ২য় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ৩য় ভারত।

২. আয় বৈষম্য পরিমাপক: গিনি সহগ ও লরেঞ্জ রেখা #

  • লরেঞ্জ রেখা (Lorenz Curve): ১৯০৫ সালে আমেরিকান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্স ও. লরেঞ্জ কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি জ্যামিতিক বক্ররেখা। এটি জনসংখ্যার ক্রমপুঞ্জিত শতকরার সাথে মোট আয়ের ক্রমপুঞ্জিত শতকরার সম্পর্ক প্রদর্শন করে। নিখুঁত সমতা রেখা (Line of Perfect Equality) থেকে লরেঞ্জ রেখা যত দূরে সরে যায়, বৈষম্য তত বাড়ে।
  • গিনি সহগ (Gini Coefficient / Index): ১৯১২ সালে ইতালীয় পরিসংখ্যানবিদ কোরাডো গিনি কর্তৃক উদ্ভাবিত বৈষম্য পরিমাপের সবচেয়ে বিশ্বস্ত অর্থনৈতিক সূচক। এর মান ০ থেকে ১ (বা ০% থেকে ১০০%)-এর মধ্যে পরিমাপ করা হয়:
    • মান ০ (বা ০%): সমাজে সম্পূর্ণ সমতা (Perfect Equality) নির্দেশ করে—অর্থাৎ সবার আয় সমান।
    • মান ১ (বা ১০০%): সমাজে চরম বা পরম অসমতা (Perfect Inequality) নির্দেশ করে—অর্থাৎ দেশের সমস্ত সম্পদ মাত্র একজন ব্যক্তির হাতে পুঞ্জীভূত।
    • সাধারণত গিনি সহগের মান ০.৪ অতিক্রম করলে সে দেশে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মারাত্মক ঝুঁকি থাকে।

৩. স্ট্যাগফ্লেশন ও টেকনিক্যাল রিসেশন #

  • স্ট্যাগফ্লেশন (Stagflation): অর্থনীতিতে যখন স্থবির বা ঋণাত্মক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (Economic Stagnation), উচ্চ বেকারত্ব এবং একই সাথে উচ্চ মূল্যস্ফীতি (High Inflation) যুগপৎ বিরাজ করে, তখন সেই সংকটময় অবস্থাকে 'স্ট্যাগফ্লেশন' বলা হয়। ১৯৬৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রাজনীতিবিদ ইয়ান ম্যাকলিয়ড প্রথম এই শব্দ ব্যবহার করেন।
  • কারিগরি মন্দা (Technical Recession): কোনো দেশের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (Real GDP) যদি পরপর দুটি ত্রৈমাসিক বা প্রান্তিকে (Two Consecutive Quarters) ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি (Negative Growth) প্রদর্শন করে, তবে আন্তর্জাতিক পরিভাষায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দা ঘোষণা করা হয়।
টপিক 29: কাঠামোগত রূপরেখা ও বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র আয়ের ক্রমপুঞ্জিত শতাংশ (%) 100 / (নিখুঁত সমতা রেখা ৪৫° কোণ) বৈষম্যের ক্ষেত্র / < লরেঞ্জ রেখা (বাস্তব অবস্থা) 0 / 100 0 জনসংখ্যার ক্রমপুঞ্জিত শতাংশ (%)

২৯.২ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ফ্ল্যাগশিপ রিপোর্টসমূহ #

১. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর প্রকাশনাসমূহ #

  • ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (WEO - World Economic Outlook): আইএমএফ বছরে দুইবার (বসন্তকালীন ও শরৎকালীন বৈঠকে) বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং বাণিজ্যের পূর্বাভাস নিয়ে এই বিখ্যাত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
  • গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট (GFSR): বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, পুঁজিবাজার ও আর্থিক ঝুঁকি পর্যালোচনা করে।
  • ফিসকাল মনিটর (Fiscal Monitor): সদস্য দেশগুলোর সরকারি ঋণ, বাজেট ঘাটতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষণ করে।
  • এসডিআর বাস্কেট (Special Drawing Rights - SDR): আইএমএফের সম্পূরক রিজার্ভ কারেন্সি বাস্কেটে বর্তমানে বিশ্বের ৫টি শীর্ষ আন্তর্জাতিক মুদ্রা অন্তর্ভুক্ত: ১. মার্কিন ডলার, ২. ইউরো, ৩. চীনা রেনমিনবি/ইউয়ান (যুক্ত হয় ২০১৬ সালে), ৪. জাপানি ইয়েন, ৫. ব্রিটিশ পাউন্ড স্টার্লিং।

২. বিশ্বব্যাংক (World Bank)-এর রিপোর্ট ও সূচকের রূপান্তর #

  • ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট (WDR): ১৯৭৮ সাল থেকে প্রতি বছর বৈশ্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটি নির্দিষ্ট মৌলিক বিষয়ের ওপর গভীর গবেষণামূলক বার্ষিক ফ্ল্যাগশিপ রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে।
  • গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস (GEP): বিশ্ব অর্থনীতির কাঁচামাল বাজার, ঋণ ঝুঁকি ও উন্নয়নশীল দেশের পূর্বাভাস নিয়ে বছরে দুইবার (জানুয়ারি ও জুন) প্রকাশিত হয়।
  • 'ইজ অব ডুয়িং বিজনেস' বাতিল (সেপ্টেম্বর ২০২১): বিশ্বব্যাংক ২০০২ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে সহজে ব্যবসা করার পরিবেশ নিয়ে 'Ease of Doing Business Index' প্রকাশ করত। কিন্তু চীন ও সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের স্কোর পরিবর্তনের জন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনৈতিক রাজনৈতিক চাপের প্রমাণ মিললে ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংক এটি স্থায়ীভাবে বাতিল ঘোষণা করে।

৩. নতুন যুগান্তকারী প্রকল্প: 'বিজনেস রেডি' (B-READY - ২০২৪) #

  • 'ডুয়িং বিজনেস'-এর বিতর্ক ও পক্ষপাতিত্ব দূর করতে বিশ্বব্যাংক সম্পূর্ণ নতুন, স্বচ্ছ ও ডেটা-ভিত্তিক প্রকল্প 'বিজনেস রেডি' (Business Ready বা B-READY) প্রবর্তন করে। ৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ৫০টি অর্থনীতির ওপর প্রথম পাইলট রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।
  • বি-রেডির ৩টি মূল স্তম্ভ (Three Pillars):
    1. আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো (Regulatory Framework): ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক আইনের স্বচ্ছতা।
    2. পাবলিক সার্ভিস বা সরকারি সেবা (Public Services): সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ও ডিজিটাল অবকাঠামো।
    3. বাস্তবায়ন ও পরিচালনাগত দক্ষতা (Operational Efficiency): ব্যবসা শুরু, ঋণ প্রাপ্তি ও বিরোধ নিষ্পত্তির বাস্তব গতি।
| বৈশিষ্ট্য | পূর্বতন 'ইজ অব ডুয়িং বিজনেস' (Doing Business) | আধুনিক 'বিজনেস রেডি' (B-READY ২০২৪) | | :--- | :--- | :--- | | **প্রকাশক সংস্থা** | বিশ্বব্যাংক গ্রুপ (World Bank Group) | বিশ্বব্যাংক গ্রুপ (World Bank Group) | | **স্থায়িত্বকাল** | ২০০২ থেকে ২০২১ (অনিয়মের কারণে বাতিল) | **২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিক সূচনা** | | **পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা**| কেবল আইনি নিয়মাবলীর ওপর ভিত্তি করে কাগজের তথ্য নিত | বাস্তব কার্যকারিতা, ডিজিটাল পাবলিক সার্ভিস ও মাঠ জরিপ | | **মূল্যায়ন কাঠামো** | ১০টি একক সূচকের সরল র্যাংকিং | ৩টি সমান্তরাল স্তম্ভ (নিয়ন্ত্রণ, সেবা ও দক্ষতা) | | **সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি**| কর্পোরেট স্বার্থ ও শ্রম আইন শিথিল করার দিকে পক্ষপাত | পরিবেশগত টেকসই রূপান্তর, শ্রম অধিকার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ | --- ## ২৯.৩ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (TI) ও দুর্নীতির ধারণা সূচক (CPI) ### ১. প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা * **প্রতিষ্ঠা:** ১৯৯৩ সালের মে মাসে বিশ্বব্যাংকের সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক **পিটার আইগেন (Peter Eigen)**-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। * **সদর দপ্তর:** জার্মানির রাজধানী **বার্লিন (Berlin)**। এটি একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি, অলাভজনক দুর্নীতিবিরোধী থিঙ্কট্যাঙ্ক। * **জাতিসংঘ কনভেনশন:** ২০০৩ সালের জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন (UNCAC)-এর স্মরণে প্রতি বছর **৯ ডিসেম্বর** আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করা হয়। ### ২. দুর্নীতির ধারণা সূচক (CPI - Corruption Perceptions Index) * ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্বের ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের সরকারি খাতের দুর্নীতির ধারণার ওপর ভিত্তি করে সিপিআই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। * **স্কোরিং পদ্ধতি (০ থেকে ১০০ স্কেল):** - **স্কোর ০:** সবচেয়ে কলুষিত বা অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত (Highly Corrupt)। - **স্কোর ১০০:** অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত (Very Clean)। * **সর্বশেষ ফলাফল ও বৈশ্বিক প্রবণতা:** - **সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত (১ম স্থান):** **ডেনমার্ক** (টানা শীর্ষস্থান, স্কোর ৯০)। এরপর ফিনল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ে। - **সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত (তলানি/১৮০তম স্থান):** **সোমালিয়া** (স্কোর ১১)। তলানির অন্যান্য দেশ: ভেনেজুয়েলা, সিরিয়া, দক্ষিণ সুদান। - **বাংলাদেশ পরিস্থিতি:** বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশ ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৪৯তম থেকে ১৫০তম অবস্থানে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে (স্কোর মাত্র ২৩ থেকে ২৪-এর ঘরে)।
টপিক 29: কাঠামোগত রূপরেখা ও বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র [ ০: চরম দুর্নীতিগ্রস্ত ] < ➔ [ ১০০: সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ] সোমালিয়া (স্কোর ১১) ডেনমার্ক (স্কোর ৯০) (তলানিতে ১৮০তম স্থান) (শীর্ষে ১ম স্থান)

২৯.৪ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF) ও বৈশ্বিক লিঙ্গ বৈষম্য রিপোর্ট #

১. প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা ও দাভোস সম্মেলন #

  • প্রতিষ্ঠা: ১৯৭১ সালে জার্মান অর্থনীতিবিদ ও প্রকৌশলী ক্লাউস শোয়াব (Klaus Schwab) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় 'ইউরোপিয়ান ম্যানেজমেন্ট ফোরাম' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন (১৯৮৭ সালে নাম হয় WEF)।
  • সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
  • বার্ষিক দাভোস সম্মেলন (Davos Annual Meeting): প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালার বিখ্যাত স্কি রিসোর্ট দাভোস (Davos)-এ বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান, করপোরেট সিইও এবং অর্থনীতিবিদদের উপস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতির রূপরেখা নির্ধারিত হয়।

২. গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট (Global Gender Gap Report) #

  • ২০০৬ সাল থেকে ডব্লিউইএফ প্রতি বছর পুরুষ ও নারীর মধ্যকার ব্যবধান মূল্যায়ন করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
  • পরিমাপের ৪টি মূল সাব-ইনডেক্স:
    1. অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ (Economic Participation and Opportunity)
    2. শিক্ষাগত অর্জন (Educational Attainment)
    3. স্বাস্থ্য ও বেঁচে থাকা (Health and Survival)
    4. রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন (Political Empowerment)
  • শীর্ষ দেশ: উত্তর আটলান্টিকের দ্বীপরাষ্ট্র আইসল্যান্ড (Iceland) টানা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের সবচেয়ে লিঙ্গ সমতার দেশ হিসেবে ১ম স্থান ধরে রেখেছে (৯৩%-এর বেশি ব্যবধান দূর করেছে)। এরপর রয়েছে ফিনল্যান্ড ও নরওয়ে।
  • দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ: রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীর দীর্ঘকালীন অংশগ্রহণের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থান অর্জন করে আসছে।

২৯.৫ মানবকল্যাণ ও সুখের সূচকসমূহ: হ্যাপিনেস ও এইচডিআই #

১. ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট (World Happiness Report) #

  • ২০১২ সাল থেকে জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক (UN SDSN) প্রতি বছর আন্তর্জাতিক সুখ দিবস (২০ মার্চ) উপলক্ষে এই বৈশ্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
  • গ্যালাপ ওয়ার্ল্ড পোলের তথ্যের ভিত্তিতে বিখ্যাত 'ক্যানট্রিল ল্যাডার' (Cantril Ladder) পদ্ধতিতে ০ থেকে ১০ স্কেলে সুখ পরিমাপ করা হয়। এতে ৬টি বিষয় বিবেচনা করা হয়: মাথাপিছু জিডিপি, সামাজিক সহায়তা, সুস্থ আয়ুষ্কাল, জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা, বদান্যতা বা দানশীলতা এবং দুর্নীতির অনুপস্থিতি।
  • টানা চ্যাম্পিয়ন: নর্ডিক দেশ ফিনল্যান্ড (Finland) টানা ৭ বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে ১ম স্থান অধিকার করে আসছে। (শীর্ষ পাঁচের বাকি দেশ: ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইডেন ও ইসরায়েল)।
  • সর্বনিম্ন দেশ: তালিকার তলানিতে (১৪৩তম) অবস্থান করছে চরম মানবিক সংকটে থাকা দেশ আফগানিস্তান (Afghanistan)।

২. মানব উন্নয়ন সূচক (Human Development Index - HDI) #

  • প্রতিষ্ঠা ও প্রবক্তা: ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর অধীনে পাকিস্তানি অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল হক এবং নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন কর্তৃক মানব উন্নয়ন সূচক উদ্ভাবিত হয়।
  • ৩টি মৌলিক মাত্রা (Three Dimensions) ও ৪টি নির্দেশক:
    1. দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন (Health): জন্মের সময় প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল (Life Expectancy at Birth)।
    2. জ্ঞান ও শিক্ষা (Education): বিদ্যালয়ে গমনের প্রত্যাশিত বছর (Expected Years of Schooling) এবং প্রাপ্তবয়স্কদের গড় শিক্ষার বছর (Mean Years of Schooling)।
    3. জীবনযাত্রার মানদণ্ড (Standard of Living): ক্রয়ক্ষমতার সমতার ভিত্তিতে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (GNI per capita PPP)।
  • মান ও অবস্থান: সূচকের মান ০ থেকে ১-এর মধ্যে হয়।
    • শীর্ষ দেশসমূহ: সুইজারল্যান্ড (১ম), নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও হংকং।
    • সর্বনিম্ন দেশসমূহ: সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র।
    • বাংলাদেশ: মাঝারি মানব উন্নয়ন ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে (মান প্রায় ০.৬৭০)।
টপিক 29: কাঠামোগত রূপরেখা ও বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) এর ৩টি মাত্রা ও ৪টি নির্দেশক দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন (Health) • জন্মের সময় প্রত্যাশিত আয়ুষ্কা (Life Expectancy at Birth) জ্ঞান ও শিক্ষা (Knowledge) বিদ্যালয়ে গমনের প্রত্যাশিত বছর ্রাপ্তবয়স্কদের গড় িক্ষার বছর জীবনযাত্রার মান d of Life) াপিছু মোট জাতীয় আয় GNI per capita $) 📊 মাস্টার সিন্থেসিস ও তাত্ত্বিক কাঠামো রূপরেখা

২৯.৬ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, ডি-ডলারাইজেশন ও সার্বভৌম ঋণ সংকট #

একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে বিশ্ব অর্থনীতি তিনটি মৌলিক কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি:

  1. ডি-ডলারাইজেশন ও বিকল্প মুদ্রাব্যবস্থা: ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার ৩০০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক রিজার্ভ পশ্চিমা ব্যাংক কর্তৃক অবরুদ্ধ হওয়ার পর উন্নয়নশীল দেশগুলো ও ব্রিকস ব্লক মার্কিন ডলারের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমাতে দ্বিপাক্ষিক মুদ্রায় বাণিজ্য ও স্বর্ণ রিজার্ভ বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে।
  2. সার্বভৌম ঋণ সংকট (Sovereign Debt Crisis): করোনা মহামারি ও যুদ্ধের পর উচ্চ সুদের হার এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে শ্রীলঙ্কা (২০২২ সালে দেউলিয়া ঘোষণা), পাকিস্তান, ঘানা ও জাম্বিয়া চরম তারল্য সংকটে পড়ে আইএমএফের বেইলআউট প্যাকেজের দ্বারস্থ হয়।
  3. আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলোর আধিপত্য: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'বিগ থ্রি' ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি—মুডি'স (Moody's), স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস (S&P) এবং ফিচ (Fitch) বিশ্বের যেকোনো সার্বভৌম দেশের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার গ্রেড (যেমন: AAA, Baa, Junk) নির্ধারণ করে, যা সরাসরি তাদের আন্তর্জাতিক সুদের হার ও বৈদেশিক বিনিয়োগকে প্রভাবিত করে।

২৯.৭ বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ: ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ও এলডিসি উত্তরণ #

  • অর্থনৈতিক আকার ও প্রবৃদ্ধি: বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নমিনাল জিডিপি নিয়ে বিশ্বে ৩৫তম এবং পিপিপি ভিত্তিতে বিশ্বের ২৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি।
  • রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক (RMG): বাংলাদেশের অর্থনীতির দুটি প্রধান প্রাণভোমরা হলো তৈরি পোশাক শিল্প (বিশ্বে চীনের পর দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানিকারক) এবং প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স (বছরে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি)।
  • এলডিসি উত্তরণ ২০২৬ (LDC Graduation): বাংলাদেশ ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) তালিকায় ছিল। তিনটি সূচকেই (মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক) শর্ত পূরণ করে ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে। উত্তরণ-পরবর্তী শুল্কমুক্ত ইউরোপীয় সুবিধা (GSP+) অব্যাহত রাখা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিই বাংলাদেশের প্রধান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার।

📊 একনজরে মাস্টার সিন্থেসিস ও তুলনা সারণি (Master Synthesis Table) #

সূচক / প্রতিবেদন প্রকাশক সংস্থা ও সদর দপ্তর প্রবর্তনের সাল শীর্ষ দেশ (১ম স্থান) তলানির দেশ (সর্বনিম্ন) পরিমাপের মূল স্কেল / ভিত্তি
দুর্নীতির ধারণা সূচক (CPI) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বার্লিন ১৯৯৫ ডেনমার্ক (স্কোর ৯০) সোমালিয়া (স্কোর ১১) ০ (চরম দুর্নীতি) থেকে ১০০ (পরম সততা) স্কেল।
ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট UN SDSN, নিউইয়র্ক ২০১২ ফিনল্যান্ড (টানা ১ম) আফগানিস্তান (১৪৩তম) ক্যানট্রিল ল্যাডার ০ থেকে ১০ স্কেল; ৬টি উপাদান।
মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) ইউএনডিপি (UNDP), নিউইয়র্ক ১৯৯০ সুইজারল্যান্ড সোমালিয়া ০ থেকে ১ স্কেল; স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মাথাপিছু জিএনআই।
গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, জেনেভা ২০০৬ আইসল্যান্ড (টানা ১ম) সুদান / চাদ ০ (চরম বৈষম্য) থেকে ১ (পূর্ণ সমতা) স্কেল।
বিজনেস রেডি (B-READY) বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০২৪ পাইলট মূল্যায়ন পাইলট মূল্যায়ন ৩টি স্তম্ভ: রেগুলেশন, পাবলিক সার্ভিস ও দক্ষতা।
গ্লোবাল পিস ইনডেক্স (GPI) ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস ২০০৭ আইসল্যান্ড (টানা ১ম) ইয়েমেন / সুদান অভ্যন্তরীণ সংঘাত, নিরাপত্তা ও সামরিকীকরণ।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ১৯৮০ যুক্তরাষ্ট্র (নমিনাল জিডিপি) টুভালু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জিডিপি পূর্বাভাস।
গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স (GII) WIPO, জেনেভা ২০০৭ সুইজারল্যান্ড অ্যাঙ্গোলা উদ্ভাবনী সক্ষমতা, পেটেন্ট ও প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ।

কোড / ছন্দ পূর্ণরূপ / মূল ভাবার্থ জড়িত বিষয় / ক্ষেত্র পরীক্ষার জন্য যেভাবে মনে রাখবেন
সুখে ফিন, সমতায় আইস হ্যাপিনেস রিপোর্টে ফিনল্যান্ড ১ম, জেন্ডার গ্যাপে আইসল্যান্ড ১ম বিশ্ব সূচকের শীর্ষ দেশসমূহ পরীক্ষার হলে দুই নর্ডিক দেশের দ্বিধা দূর করার সূত্র।
এইচডিআই তিন রত্ন স্বাস্থ্য (আয়ুষ্কাল), শিক্ষা (স্কুলিং), সম্পদ (GNI PPP) মানব উন্নয়ন সূচকের ৩ মাত্রা লিখিত ও প্রিলিমিনারিতে এইচডিআই-এর মূল উপাদান।
সিপিআই-এর ৯০-১১ ডেনমার্ক স্কোর ৯০ (শীর্ষ), সোমালিয়া স্কোর ১১ (তলানি) দুর্নীতির ধারণা সূচক (CPI) সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্কোরের সঠিক পরিসংখ্যন।
আইএমএফের WEO, ব্যাংকের WDR IMF প্রকাশ করে WEO, বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে WDR শীর্ষ দুই সংস্থার ফ্ল্যাগশিপ রিপোর্ট আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের প্রকাশক মিলকরণ।
গিনি ০ সমতা, ১ অসমতা ০ মানে শতভাগ আয় সমতা, ১ মানে চরম আয় বৈষম্য গিনি সহগের সাংখ্যিক মান অর্থনীতি অংশের সবচেয়ে ক্লাসিক বহুনির্বাচনী।
বি-রেডি ৩ পিলার আইনি কাঠামো, সরকারি সেবা ও বাস্তবায়ন দক্ষতা বিশ্বব্যাংকের নতুন B-READY সূচক আধুনিক ব্যবসায়িক সূচকের সাংগঠনিক রূপরেখা।