টপিক 04: স্নায়ুযুদ্ধ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM) ও দ্বি-মেরু বিশ্ব
টপিক ০৪: স্নায়ুযুদ্ধ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM) ও দ্বি-মেরু বিশ্ব #
🌐 অধ্যায় পরিচিতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট (Chapter Prologue) #
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে উনবিংশ শতাব্দীর ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলোর আধিপত্য চিরতরে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। বিশ্ব প্রবেশ করে দুই পারমাণবিক পরাশক্তি—পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) এবং সমাজতান্ত্রিক কর্তৃত্ববাদী সোভিয়েত ইউনিয়ন (USSR)-এর নেতৃত্বাধীন এক অভূতপূর্ব দ্বি-মেরু বিশ্বব্যবস্থায় (Bipolar World)। ১৯৪৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত এই দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের বৈশ্বিক উত্তেজনা, মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত ও সমরাস্ত্রের উন্মাদনা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে 'স্নায়ুযুদ্ধ' (Cold War) নামে পরিচিত।
স্নায়ুযুদ্ধের সবচেয়ে চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, দুই পরাশক্তি একে অপরকে ধ্বংস করার মতো হাজার হাজার পারমাণবিক বোমার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও কখনোই সরাসরি কোনো সামরিক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়নি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় 'পারস্পরিক নিশ্চিত ধ্বংসের যুক্তি' (Mutually Assured Destruction - MAD)—যেখানে আক্রমণকারী ও আক্রান্ত উভয় পক্ষেরই সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার নিশ্চিত হুমকি এক অদ্ভুত ধ্বংসাত্মক শান্তি (Nuclear Peace) টিকিয়ে রেখেছিল। পরাশক্তিগুলো তাই লড়েছিল প্রক্সি যুদ্ধের (Proxy War) মাধ্যমে—বার্লিন অবরোধ, কোরিয়া যুদ্ধ, কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং আফগান রণাঙ্গনে।
এই দুই সর্বগ্রাসী সামরিক বলয়ের বাইরে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলো নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নৈতিক ও কূটনৈতিক আন্দোলন—জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (Non-Aligned Movement - NAM)। অবশেষে ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগে সোভিয়েত অর্থনৈতিক সংকট এবং মিখাইল গর্বাচেভের 'গ্লাসনস্ত' ও 'পেরেস্ত্রোইকা' সংস্কার নীতির ফলশ্রুতিতে ১৯৯১ সালের ২৬ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘটে। এর মধ্য দিয়ে দ্বি-মেরু স্নায়ুযুদ্ধের যবনিকাপাত ঘটে এবং বিশ্ব প্রবেশ করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একমেরু (Unipolar) ও পরবর্তীকালে বহুমেরুকেন্দ্রিক বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে।
৪.১ স্নায়ুযুদ্ধ (Cold War): ধারণা, উৎপত্তি ও মতাদর্শিক সংঘাত #
স্নায়ুযুদ্ধ ছিল এমন এক রাষ্ট্রীয় অবস্থা যা যুদ্ধও নয়, আবার পরিপূর্ণ শান্তিও নয় (Neither War, Nor Peace)।
ক. ধারণা ও নামের উৎস #
১. প্রথম লিখিত ব্যবহার: ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জর্জ অরওয়েল (George Orwell) ১৯৪৫ সালের অক্টোবরে রচিত তাঁর 'You and the Atomic Bomb' প্রবন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পারমাণবিক ভারসাম্যমূলক অচলাবস্থাকে প্রথম 'Cold War' বলে অভিহিত করেন।
২. বক্তৃতায় প্রথম ব্যবহার: ১৯৪৭ সালের ১৬ এপ্রিল দক্ষিণ ক্যারোলাইনার আইনসভায় দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বক্তৃতায় বিশিষ্ট মার্কিন আর্থিক উপদেষ্টা ও কূটনীতিবিদ বার্নার্ড বারুক (Bernard Baruch) জনসমক্ষে প্রথম 'Cold War' পরিভাষাটি উচ্চারণ করেন।
৩. গ্রন্থ ও সাধারণ জনপ্রিয়তা: মার্কিন সাংবাদিক ওয়াল্টার লিপম্যান (Walter Lippmann) ১৯৪৭ সালে তাঁর বিখ্যাত বই 'The Cold War' প্রকাশের মাধ্যমে ধারণাটিকে বৈশ্বিকভাবে একাডেমিক ও গণমাধ্যমের জনপ্রিয় ভাষায় রূপ দেন।
খ. মতাদর্শিক মেরুকরণ (The Ideological Cleavage) #
| তুলনামূলক নির্দেশক | পশ্চিমা পুঁজিবাদী বলয় (Western Bloc) | পূর্বাঞ্চলীয় সমাজতান্ত্রিক বলয় (Eastern Bloc) |
|---|---|---|
| নেতৃত্বদানকারী পরাশক্তি | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) | সোভিয়েত ইউনিয়ন (USSR) |
| রাজনৈতিক আদর্শ | বহুদলীয় উদারনৈতিক গণতন্ত্র, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মানবাধিকার | একদলীয় সর্বগ্রাসী কমিউনিস্ট শাসন ও যৌথ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ |
| অর্থনৈতিক ব্যবস্থা | অবাধ মুক্তবাজার অর্থনীতি, ব্যক্তি মালিকানা ও পুঁজিবাদ | রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পরিকল্পিত কমান্ড ইকোনমি (সমাজতন্ত্র) |
| সামরিক জোট | ন্যাটো (NATO - ১৯৪৯), সেন্টো (CENTO), সিয়াটো (SEATO) | ওয়ারশ প্যাক্ট (Warsaw Pact - ১৯৫৫) |
| অর্থনৈতিক সহায়তা প্রকল্প | মার্শাল প্ল্যান (Marshall Plan - ১৯৪৭) | মলোটভ প্ল্যান ও কমেকন (COMECON - ১৯৪৯) |
৪.২ লৌহ পর্দা, ট্রুম্যান ডকট্রিন ও মার্শাল প্ল্যান #
স্নায়ুযুদ্ধের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল ১৯৪৭ সালে একের পর এক ভূ-রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে।
ক. চার্চিলের ফুলটন বক্তৃতা ও 'লৌহ পর্দা' (Iron Curtain) #
১৯৪৬ সালের ৫ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির ফুলটনে ওয়েস্টমিনস্টার কলেজে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানের উপস্থিতিতে তাঁর বিখ্যাত 'Sinews of Peace' ভাষণ দেন। এই বক্তৃতায় তিনি ঐতিহাসিক উক্তি করেন:
"বাল্টিকের স্টেটিন থেকে অ্যাড্রিয়াটিকের ট্রিয়েস্ট পর্যন্ত সমগ্র ইউরোপজুড়ে এক লৌহযবনিকা (Iron Curtain) নেমে এসেছে।"
এই ঘোষণার মাধ্যমে ইউরোপের পশ্চিম ও পূর্ব অংশে বিভাজন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
খ. জর্জ কেনানের 'কন্টেইনমেন্ট নীতি' (Containment Policy) #
মস্কোয় নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিক জর্জ এফ. কেনান (George F. Kennan) ১৯৪৬ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে তাঁর বিখ্যাত ৫,৫০০ শব্দের 'লং টেলিগ্রাম' (Long Telegram) প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে তিনি 'মি. এক্স' (Mr. X) ছদ্মনামে খ্যাতনামা Foreign Affairs সাময়িকীতে "The Sources of Soviet Conduct" শিরোনামে ঐতিহাসিক প্রবন্ধটি প্রকাশ করেন।
- মূল তত্ত্ব: সোভিয়েত ইউনিয়ন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাহীনতার কারণে আগ্রাসী সাম্রাজ্য বিস্তার চায়। এদের সাথে চুক্তি করে লাভ নেই; একমাত্র উপায় হলো ধৈর্যের সাথে প্রতি পয়েন্টে সোভিয়েত সম্প্রসারণকে কঠোরভাবে রুখে দেওয়া—যা 'কন্টেইনমেন্ট পলিসি' (Policy of Containment বা রোধ নীতি) নামে খ্যাতি পায়।
গ. ট্রুম্যান ডকট্রিন (Truman Doctrine - ১২ মার্চ ১৯৪৭) #
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে সোভিয়েত কমিউনিস্ট বলয় থেকে রক্ষা করার জন্য গ্রিস ও তুরস্ককে জরুরি অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা হিসেবে ৪০ কোটি ডলার ($৪০০\text{ মিলিয়ন})$ বরাদ্দের ঘোষণা দেন। ট্রুম্যান ঘোষণা করেন—যেখানেই সশস্ত্র সংখ্যালঘু বা বহিঃশক্তির চাপে গণতন্ত্র হুমকিতে পড়বে, সেখানেই আমেরিকা সাহায্য নিয়ে পাশে দাঁড়াবে। এটি ছিল মার্কিন কন্টেইনমেন্ট নীতির প্রথম প্রকাশ্য বাস্তবায়ন।
ঘ. মার্শাল প্ল্যান বনাম মলোটভ প্ল্যান #
- মার্শাল প্ল্যান (European Recovery Program - ERP): ৫ জুন ১৯৪৭ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল জর্জ সি. মার্শাল যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পের আওতায় ১৯৪৮ থেকে ১৯৫১ সালের মধ্যে ১৬টি ইউরোপীয় দেশকে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি খাদ্য, কাঁচামাল ও আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়, যা পশ্চিম ইউরোপকে কমিউনিজমের বিস্তার থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করে। জর্জ মার্শাল এ জন্য ১৯৫৩ সালে শান্তিতে নোবেল পান।
- মলোটভ প্ল্যান ও কমেকন (COMECON): মার্শাল প্ল্যানকে 'পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী ফাঁদ' আখ্যা দিয়ে সোভিয়েত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাচেস্লাভ মলোটভ পূর্ব ইউরোপীয় মিত্রদের নিয়ে ১৯৪৭ সালে 'মলোটভ প্ল্যান' এবং ১৯৪৯ সালের জানুয়ারিতে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার সংস্থা 'কমেকন' (Council for Mutual Economic Assistance - COMECON) প্রতিষ্ঠা করেন।
৪.৩ সামরিক বলয় গঠন: ন্যাটো বনাম ওয়ারশ প্যাক্ট #
স্নায়ুযুদ্ধের তীব্র মেরুকরণে বিশ্ব দুটি বৃহৎ সামরিক জোটে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
৪.৪ স্নায়ুযুদ্ধের উত্তপ্ত রণাঙ্গন: বার্লিন, কোরিয়া, কিউবা ও ভিয়েতনাম সংকট #
স্নায়ুযুদ্ধ শীতল থাকলেও এর উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতের ফ্রন্টে।
ক. বার্লিন অবরোধ ও বার্লিন প্রাচীর #
- বার্লিন অবরোধ (জুন ১৯৪৮ – মে ১৯৪৯): সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্তালিন পশ্চিম বার্লিনের সমস্ত সড়ক, রেল ও জলপথ অবরুদ্ধ করে দিলে পশ্চিমা মিত্রবাহিনী ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বিমান পরিবহন অভিযান 'বার্লিন এয়ারলিফট' (Operation Vittles) পরিচালনা করে ৩২৪ দিন ধরে বার্লিনবাসীর খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ করে স্তালিনকে অবরোধ প্রত্যাহারে বাধ্য করে।
- বার্লিন প্রাচীর (Berlin Wall): পূর্ব জার্মানি থেকে দক্ষ লোকজনের পশ্চিম বার্লিনে দলত্যাগ ঠেকাতে পূর্ব জার্মান কমিউনিস্ট শাসক ওয়াল্টার উলব্রিখটের নির্দেশে ১৯৬১ সালের ১৩ আগস্ট রাতারাতি কাঁটাতার ও কংক্রিটের দেয়াল তুলে বার্লিনকে বিভক্ত করা হয়। এই প্রাচীর ছিল স্নায়ুযুদ্ধের সবচেয়ে জীবন্ত ও নির্মম প্রতীক।
খ. কোরিয়া যুদ্ধ (১৯৫০–১৯৫৩) #
১৯৫০ সালের ২৫ জুন উত্তর কোরিয়া ৩৮তম সমান্তরাল রেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়া আক্রমণ করে। নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনে জেনারেল ডগলাস ম্যাকআর্থারের নেতৃত্বে জাতিসংঘ যৌথ বাহিনী যুদ্ধে যোগ দেয়। অবশেষে ১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই পানমুনজম যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হয় এবং কোরিয়া আজও ৩৮তম সমান্তরাল বরাবর বিভক্ত রয়েছে।
গ. কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট (Cuban Missile Crisis — অক্টোবর ১৯৬২) #
মানবজাতি ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা বিপজ্জনক পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল ১৯৬২ সালের অক্টোবরে:
- কারণ: ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর কিউবান বিপ্লব এবং ১৯৬১ সালে সিআইএ-র ব্যর্থ 'বে অব পিগস' অভিযানের পর কিউবাকে রক্ষার অজুহাতে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ আমেরিকার দোরগোড়ায় কিউবায় গোপনে পারমাণবিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেন।
- মার্কিন পদক্ষেপ: মার্কিন ইউ-২ গোয়েন্দা বিমানে ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি ধরা পড়ার পর প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি কিউবার চারপাশে নৌ-অবরোধ (Naval Quarantine) জারি করেন এবং ক্ষেপণাস্ত্র অপসারণের আল্টিমেটাম দেন।
- মীমাংসা (১৩ দিনের আতঙ্ক): গোপন কূটনৈতিক আলোচনার পর ক্রুশ্চেভ কিউবা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাহারে সম্মত হন, বিনিময়ে কেনেডি প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দেন আমেরিকা কিউবা আক্রমণ করবে না এবং গোপনে তুরস্ক থেকে মার্কিন জুপিটার ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাহার করতে রাজি হন।
- ফলাফল: ক্রেমলিন ও হোয়াইট হাউজের মধ্যে সরাসরি জরুরি যোগাযোগের জন্য ঐতিহাসিক 'হটলাইন' (Hotline বা রেড ফোন) স্থাপিত হয় এবং ১৯৬৩ সালে স্বাক্ষরিত হয় আংশিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি (PTBT)।
ঘ. ভিয়েতনাম যুদ্ধ (১৯৫৫–১৯৭৫) #
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 'ডমিনো তত্ত্ব' (Domino Theory)-এর ভয়ে ভিয়েতনামে জড়ায় (তত্ত্ব: একটি দেশ কমিউনিস্ট হলে প্রতিবেশীরাও তাসের ঘরের মতো কমিউনিস্ট হবে)।
- দীর্ঘ লড়াই, রাসায়নিক অস্ত্র (এজেন্ট অরেঞ্জ) এবং ব্যাপক মার্কিন সেনা প্রাণহানির পর জনমতের চাপে ১৯৭৩ সালে প্যারিস শান্তি চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল উত্তর ভিয়েতনামী বাহিনীর সাইগন দখলের (Fall of Saigon) মাধ্যমে ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট নিয়ন্ত্রণে একীভূত হয়।
ঙ. আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসন (১৯৭৯–১৯৮৯) #
১৯৭৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানে সেনাবাহিনী পাঠায়। আমেরিকা সিআইএ-র মাধ্যমে 'অপারেশন সাইক্লোন' পরিচালনা করে পাকিস্তান হয়ে আফগান মুজাহিদীনদের স্ট্রিংগার ক্ষেপণাস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দেয়। এক দশকব্যাপী এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধকে বলা হয় 'সোভিয়েত ইউনিয়নের ভিয়েতনাম'। ১৯৮৮ সালের জেনেভা চুক্তির পর ১৯৮৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জেনারেল বরিস গ্রোমভের নেতৃত্বে শেষ সোভিয়েত সেনা আফগানিস্তান ত্যাগ করে।
৪.৫ জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (Non-Aligned Movement - NAM) #
দুই পরাশক্তির আগ্রাসী সামরিক বলয়ে যোগ না দিয়ে নিজস্ব সার্বভৌম মর্যাদা ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশসমূহ ন্যাম গঠন করে।
ক. বান্দুং সম্মেলন (Bandung Conference, ১৯৫৫) #
- তারিখ ও স্থান: ১৮–২৪ এপ্রিল ১৯৫৫; ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং শহর। ২৯টি এশীয় ও আফ্রিকান দেশের নেতৃবৃন্দ এতে অংশ নেন।
- ঐতিহাসিক অবদান: এই সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে ঐতিহাসিক 'বান্দুং দশ মূলনীতি' (Ten Principles of Bandung / Dasasila Bandung) গৃহীত হয়, যা ন্যামের ভাবাদর্শিক ভিত গড়ে তোলে।
খ. বাংলাদেশ ও ন্যাম (NAM) #
- সদস্যপদ লাভ: বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত ৪র্থ ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করে সদস্যপদ লাভ করে।
- বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক অমর ভাষণ: আলজিয়ার্স শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রদান করেন:
"The world is divided into two halves: the oppressors and the oppressed. I am with the oppressed." (বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত—একদিকে শোষক, অন্যদিকে শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।)
- বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত 'শান্তির সংস্কৃতি' (Culture of Peace) রেজুলেশন বাস্তবায়নে ন্যাম প্ল্যাটফর্মকে সর্বাত্মকভাবে ব্যবহার করেছে।
৪.৬ দেতাত (Détente) ও শীতল যুদ্ধের উত্তাপ প্রশমন #
১৯৭০-এর দশকে দুই পারমাণবিক পরাশক্তির মধ্যে সরাসরি সংঘাতের বিপদ এড়াতে পারস্পরিক উত্তেজনা প্রশমনের এক কূটনৈতিক স্বর্ণযুগ সূচিত হয়।
- দেতাত (Détente): একটি ফরাসি শব্দ, যার আক্ষরিক অর্থ 'উত্তেজনা শিথিলকরণ' (Relaxation of Tensions)।
- রিচার্ড নিক্সনের কূটনীতি (১৯৭২): মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও তাঁর দূরদর্শী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার 'পিংপং কূটনীতি'র মাধ্যমে ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে চীনে ঐতিহাসিক সফর করেন। এরপর মে ১৯৭২-এ নিক্সন মস্কো সফর করে সোভিয়েত নেতা লিওনিদ ব্রেজনেভের সাথে বৈঠক করেন।
- সল্ট-১ (SALT-I, ১৯৭২): Strategic Arms Limitation Talks-I চুক্তির মাধ্যমে প্রথম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও এবিএম (Anti-Ballistic Missile) ব্যবস্থার ওপর পারস্পরিক সীমা নির্ধারণ করা হয়।
- হেলসিঙ্কি অ্যাকর্ডস (Helsinki Accords, ১৯৭৫): ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে ৩৫টি দেশ ইউরোপের সীমানার অলঙ্ঘনীয়তা এবং মৌলিক মানবাধিকার মেনে চলার ঐতিহাসিক সনদে স্বাক্ষর করে।
৪.৭ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও দ্বি-মেরু বিশ্বের অবসান (১৯৯১) #
১৯৮০-এর দশকে স্থবির সোভিয়েত অর্থনীতি, আফগান যুদ্ধের বিপুল ব্যয় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের 'স্টার ওয়ার্স' (SDI) সামরিক প্রতিযোগিতার মুখে সোভিয়েত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মুখে পড়ে।
ক. মিখাইল গর্বাচেভের দ্বৈত সংস্কার নীতি #
১৯৮৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বকনিষ্ঠ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে মিখাইল গর্বাচেভ সমাজতন্ত্রকে আধুনিকায়ন করার উদ্দেশ্যে দুটি যুগান্তকারী নীতি ঘোষণা করেন:
১. গ্লাসনস্ত (Glasnost - খোলামেলা মনোভাব): বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের উন্মুক্ততা, সরকারের জবাবদিহিতা এবং ঐতিহাসিক ভুলত্রুটি নিয়ে উন্মুক্ত বিতর্কের সুযোগ দেওয়া।
২. পেরেস্ত্রোইকা (Perestroika - অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পুনর্গঠন): কমিউনিস্ট কমান্ড অর্থনীতির কঠোরতা শিথিল করে সীমিত ব্যক্তিমালিকানা, বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বায়ত্তশাসনের সূচনা।
৩. সিনাত্রা ডকট্রিন (Sinatra Doctrine): পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সোভিয়েত সামরিক হস্তক্ষেপ না করার নীতি (ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার গান 'My Way'-এর অনুকরণে তাদের নিজস্ব পথে চলার স্বাধীনতা দেওয়া)।
খ. পতন প্রক্রিয়া ও নতুন বিশ্বব্যবস্থা #
- আগস্ট ক্যু (August Coup - ১৯–২১ আগস্ট ১৯৯১): গর্বাচেভকে গৃহবন্দি করে কট্টরপন্থী সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে। মস্কোর রাজপথে ট্যাঙ্কের ওপর দাঁড়িয়ে জনতাকে সাথে নিয়ে এই অভ্যুত্থান রুখে দিয়ে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন রুশ ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন (Boris Yeltsin)।
- বেলাভেজা চুক্তি (Belavezha Accords - ৮ ডিসেম্বর ১৯৯১): বেলারুশের অরণ্যে রাশিয়া (ইয়েলৎসিন), ইউক্রেন (ক্রাভচুক) এবং বেলারুশ (শুশকেভিচ)—এই তিন স্লাভিক প্রজাতন্ত্রের নেতারা গোপনে বৈঠকে মিলিত হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
- আলমা-আতা প্রটোকল (২১ ডিসেম্বর ১৯৯১): কাজাখস্তানের আলমা-আতায় বাল্টিক ৩ দেশ ও জর্জিয়া বাদে সাবেক ১১টি প্রজাতন্ত্র যুক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠা করে স্বাধীন রাষ্ট্রের কমনওয়েলথ (CIS - Commonwealth of Independent States)।
- আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি (২৬ ডিসেম্বর ১৯৯১): ১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাতে মিখাইল গর্বাচেভ রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ক্রেমলিন প্রাসাদ থেকে কাস্তে-হাতুড়ি খচিত লাল পতাকা চিরতরে নামিয়ে রুশ তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করা হয়। ২৬ ডিসেম্বর ১৯৯১ সুপ্রিম সোভিয়েত অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের চূড়ান্ত বিলুপ্তি ঘোষণা করে।
- ভূ-রাজনৈতিক ফলাফল: দ্বি-মেরু বিশ্বের সমাপ্তি ঘটে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তাত্ত্বিক ফ্রান্সিস ফুকুইয়ামা তাঁর বিখ্যাত বইয়ে একে আখ্যা দেন—"The End of History" (ইতিহাসের সমাপ্তি) হিসেবে, যেখানে পশ্চিমা উদারনৈতিক গণতন্ত্র ও মুক্তবাজারের চূড়ান্ত বিজয় ঘোষিত হয়।
📊 একনজরে মাস্টার সিন্থেসিস ও তুলনা সারণি (Master Synthesis Table) #
| ঐতিহাসিক বিষয় / চুক্তি / ঘটনা | সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সাল | সংশ্লিষ্ট স্থান ও পরাশক্তি | মূল ব্যক্তিত্ব ও রূপকার | ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পরীক্ষার জন্য আবশ্যিক তথ্য |
|---|---|---|---|---|
| স্নায়ুযুদ্ধ শব্দের প্রথম প্রয়োগ | অক্টোবর ১৯৪৫ | লন্ডন, যুক্তরাজ্য | জর্জ অরওয়েল (George Orwell) | পারমাণবিক অচলাবস্থাকে 'Cold War' হিসেবে প্রথম লিখিত রূপ। |
| লৌহ পর্দা বক্তৃতা | ৫ মার্চ ১৯৪৬ | ফুলটন, মিসৌরি, ইউএসএ | উইনস্টন চার্চিল বনাম স্তালিন | "From Stettin in the Baltic to Trieste in the Adriatic..." ঘোষণা। |
| কন্টেইনমেন্ট পলিসি | ১৯৪৭ সাল (জুলাই) | ওয়াশিংটন ডিসি | জর্জ এফ. কেনান ('Mr. X') | ফরেন অ্যাফেয়ার্সে প্রকাশিত সোভিয়েত সম্প্রসারণ রোধের মার্কিন নীতি। |
| ট্রুম্যান ডকট্রিন | ১২ মার্চ ১৯৪৭ | মার্কিন কংগ্রেস, ওয়াশিংটন | হ্যারি এস. ট্রুম্যান | গ্রিস ও তুরস্ককে ৪০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়ে কন্টেইনমেন্টের শুভসূচনা। |
| মার্শাল প্ল্যান (ERP) | ৫ জুন ১৯৪৭ | হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় | জর্জ সি. মার্শাল (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) | ১৩ বিলিয়ন ডলারে পশ্চিম ইউরোপের অর্থনীতি উদ্ধার ও কমিউনিস্ট রোধ। |
| বার্লিন এয়ারলিফট | জুন ১৯৪৮ – মে ১৯৪৯ | পশ্চিম বার্লিন, জার্মানি | জেনারেল লুসিয়াস ক্লে ও মিত্রবাহিনী | স্তালিনের স্থল অবরোধ ভেঙে ৩২৪ দিন আকাশপথে খাদ্য সরবরাহ। |
| ন্যাটো (NATO) প্রতিষ্ঠা | ৪ এপ্রিল ১৯৪৯ | ওয়াশিংটন ডিসি (HQ ব্রাসেলস) | ১২টি প্রতিষ্ঠাতা পশ্চিমা দেশ | উত্তর আটলান্টিক যৌথ নিরাপত্তা জোট; অনুচ্ছেদ ৫ হলো যৌথ প্রতিরক্ষা। |
| কমেকন (COMECON) | জানুয়ারি ১৯৪৯ | মস্কো, সোভিয়েত ইউনিয়ন | জোসেফ স্তালিন ও পূর্ব ইউরোপ | মার্শাল প্ল্যানের বিপরীতে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর যৌথ অর্থনৈতিক সংস্থা। |
| কোরিয়া যুদ্ধ | ২৫ জুন ১৯৫০ – ২৭ জুলাই ১৯৫৩ | কোরিয়ান উপদ্বীপ | জেনারেল ম্যাকআর্থার বনাম কিম ইল সুং | ৩৮তম সমান্তরাল বরাবর প্রথম উত্তপ্ত স্নায়ুযুদ্ধ সংঘাত ও পনমুনজম যুদ্ধবিরতি। |
| বান্দুং সম্মেলন | ১৮–২৪ এপ্রিল ১৯৫৫ | বান্দুং, ইন্দোনেশিয়া | সুকর্ণ, নেহেরু, চৌ এন-লাই | ২৯টি দেশের সম্মেলন; ন্যামের মূলভিত্তি 'বান্দুং দশ মূলনীতি' প্রণয়ন। |
| ওয়ারশ প্যাক্ট প্রতিষ্ঠা | ১৪ মে ১৯৫৫ | ওয়ারশ, পোল্যান্ড | সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ৭ কমিউনিস্ট দেশ | ন্যাটোর বিপরীতে সমাজতান্ত্রিক ব্লকের আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট। |
| বার্লিন প্রাচীর নির্মাণ | ১৩ আগস্ট ১৯৬১ | বার্লিন, জার্মানি | ওয়াল্টার উলব্রিখট ও নিকিতা ক্রুশ্চেভ | দলত্যাগ ঠেকাতে কাঁটাতার ও কংক্রিটের দেয়াল; স্নায়ুযুদ্ধের প্রতীক। |
| ন্যাম (NAM) প্রতিষ্ঠা | ১–৬ সেপ্টেম্বর ১৯৬১ | বেলগ্রেড, যুগোস্লাভিয়া | প্রতিষ্ঠাতা পঞ্চপ্রধান (টিটো, নেহেরু ইত্যাদি) | ২৫টি দেশ নিয়ে প্রথম শীর্ষ সম্মেলন; তৃতীয় বিশ্বের নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম। |
| কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট | ১৬–২৮ অক্টোবর ১৯৬২ | কিউবা ও ওয়াশিংটন/মস্কো | জন এফ. কেনেডি বনাম ক্রুশ্চেভ | ১৩ দিনের পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি; হটলাইন প্রতিষ্ঠা ও পিটিবিটি চুক্তি। |
| ভিয়েতনাম যুদ্ধ সমাপ্তি | ৩০ এপ্রিল ১৯৭৫ | সাইগন, ভিয়েতনাম | হো চি মিন বাহিনী বনাম ইউএসএ | সাইগনের পতন ও আমেরিকার প্রত্যাহার; সম্পূর্ণ ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট একীভূত। |
| আফগান যুদ্ধ (সোভিয়েত) | ২৪ ডিসে ১৯৭৯ – ১৫ ফেব্রু ১৯৮৯ | কাবুল ও আফগানিস্তান | ব্রেজনেভ ও জেনারেল বরিস গ্রোমভ | সোভিয়েত ইউনিয়নের 'ভিয়েতনাম'; সিআইএ-র অপারেশন সাইক্লোন। |
| গ্লাসনস্ত ও পেরেস্ত্রোইকা | ১৯৮৫–১৯৮৭ সাল | মস্কো, সোভিয়েত ইউনিয়ন | মিখাইল গর্বাচেভ | যথাক্রমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির কাঠামোগত পুনর্গঠন। |
| বার্লিন প্রাচীর পতন | ৯ নভেম্বর ১৯৮৯ | বার্লিন, জার্মানি | সাধারণ জনতা ও গুন্টার শ্যাবোভস্কি | স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ও সমাজতান্ত্রিক ব্লকের তাসের ঘরের মতো পতনের সূচনা। |
| জার্মানির পুনঃএকত্রীকরণ | ৩ অক্টোবর ১৯৯০ | বার্লিন, জার্মানি | হেলমুট কোল ও মিত্র ৪ শক্তি | Two Plus Four চুক্তির মাধ্যমে ৪৫ বছর পর অখণ্ড জার্মানির পুনর্জন্ম। |
| ওয়ারশ প্যাক্ট বিলুপ্তি | ১ জুলাই ১৯৯১ | প্রাগ, চেকোস্লোভাকিয়া | সাবেক ওয়ারশ সদস্যবৃন্দ | সমাজতান্ত্রিক সামরিক ব্লকের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি। |
| সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তি | ২৬ ডিসেম্বর ১৯৯১ | মস্কো, ক্রেমলিন প্রাসাদ | বরিস ইয়েলৎসিন ও মিখাইল গর্বাচেভ | সুপ্রিম সোভিয়েত কর্তৃক আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি; একমেরু মার্কিন বিশ্বের সূচনা। |
| ক্রমিক | মেমোরি টেকনিক ও ছন্দ | মূল ডিকোডিং ও অর্থ | সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক টপিক |
|---|---|---|---|
| ০১ | NAM-এর প্রতিষ্ঠাতা পঞ্চপ্রধান: "টিটো নেহেরুকে নিয়ে নাসেরের সাথে সুকর্মে নেমে নক্রুমা হলো" | টিটো (যুগোস্লাভিয়া) + নেহেরু (ভারত) + নাসের (মিশর) + সুকর্ণ (ইন্দোনেশিয়া) + নক্রুমা (ঘানা) | জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (NAM) ঐতিহাসিক ৫ প্রতিষ্ঠাতা নেতা। |
| ০২ | MAD ডকট্রিন | Mutually Assured Destruction | স্নায়ুযুদ্ধে পরাশক্তিগুলোর পারস্পরিক নিশ্চিত ধ্বংসের যুক্তি। |
| ০৩ | ন্যাটোর সর্বশেষ দুই সদস্য: "ফিনল্যান্ডের পর সুইডিশ মিষ্টি" | ৩১তম: ফিনল্যান্ড (২০২৩) $\rightarrow$ ৩২তম: সুইডেন (২০২৪) | ন্যাটোর সম্প্রসারণের সাম্প্রতিক মাইলফলক। |
| ০৪ | কন্টেইনমেন্ট ত্রয়ী সূত্র: | জর্জ কেনান (তত্ত্ব) $\rightarrow$ ট্রুম্যান (সামরিক অস্ত্র) $\rightarrow$ মার্শাল (অর্থনৈতিক ডলার) | মার্কিন সমাজতন্ত্র রোধ কৌশলের তিন স্তম্ভ। |
| ০৫ | গর্বাচেভের দ্বৈত নীতি: | গ্লাসনস্ত = খোলামেলা কথা (Openness) পেরেস্ত্রোইকা = অর্থনৈতিক পুনর্গঠন (Restructuring) |
সোভিয়েত ইউনিয়নের সংস্কার ও পতনের জোড়া ইঞ্জিন। |
| ০৬ | কোড: ১২-১২-৪৭ | ১২ মার্চ ১৯৪৭ $\rightarrow$ ট্রুম্যান ডকট্রিন ঘোষণা। | স্নায়ুযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক আর্থিক সূচনা। |
| ০৭ | কোড: ৯-১১-৮৯ | ৯ নভেম্বর ১৯৮৯ $\rightarrow$ বার্লিন প্রাচীর পতন। | কমিউনিজমের পতনের ঐতিহাসিক দিন। |