টপিক 06 / ৩০বৈশ্বিক ইতিহাস, ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা📖 স্টাডি নোট

টপিক 06: আন্তর্জাতিক অস্ত্র চুক্তি, নিরস্ত্রীকরণ ও পারমাণবিক ভূ-রাজনীতি

টপিক ০৬: আন্তর্জাতিক অস্ত্র চুক্তি, নিরস্ত্রীকরণ ও পারমাণবিক ভূ-রাজনীতি #

🌐 অধ্যায় পরিচিতি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট (Chapter Prologue) #

১৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই নিউ মেক্সিকোর মরুভূমিতে 'ট্রিনিটি' পরীক্ষার মাধ্যমে মানবজাতি পারমাণবিক অস্ত্রের বিধ্বংসী যুগে প্রবেশ করে। লস অ্যালামসের পরিচালক জে. রবার্ট ওপেনহাইমার সেই বিস্ফোরণ দেখে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বাণী উদ্ধৃত করে বলেছিলেন—"Now I am become Death, the destroyer of worlds" (আমি এখন মৃত্যুতে পরিণত হয়েছি, জগতের ধ্বংসকারী)। হিরোশিমা ও নাগাসাকির নারকীয় পরমাণু বিপর্যয় বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে প্রযুক্তির এই চরম উৎকর্ষ মানবজাতির অস্তিত্বকেই চিরতরে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক অবিশ্বাস ও ভয় থেকে জন্ম নেয় 'নিরাপত্তা উভসংকট' (Security Dilemma)—যেখানে এক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অপর রাষ্ট্রকে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে সমরাস্ত্রের উন্মাদনা উসকে দেয়। এই ধ্বংসাত্মক চক্র থেকে নিষ্কৃতি পেতেই বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে গড়ে ওঠে বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং নিরস্ত্রীকরণ ফ্রেমওয়ার্ক। একদিকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে NPT (১৯৬৮) এবং সম্পূর্ণ বিস্ফোরণ নিষিদ্ধে CTBT (১৯৯৬)-এর মতো বৈশ্বিক চুক্তি, অন্যদিকে পরাশক্তি আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত SALT, INF ও New START-এর মতো কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস চুক্তি আন্তর্জাতিক ভারসাম্য রক্ষা করে এসেছে।

তবে একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এই দীর্ঘ পরিশ্রমে অর্জিত সমরাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। মার্কিন-রুশ সম্পর্কের অবনতি, নিউ স্টার্ট চুক্তির স্থগিতকরণ, মধ্যম পাল্লার আইএনএফ চুক্তির বিলুপ্তি এবং বিশ্বের ঘোষিত ও অঘোষিত ৯টি পারমাণবিক দেশের (The Nuclear Nine) পরমাণু আধুনিকায়ন বিশ্বকে এক নতুন ও ত্রিমুখী পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (CWC), ওপিসিডব্লিউ (OPCW), আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC)-এর ভূমিকা জানা সমকালীন আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির প্রস্তুতির জন্য অপরিহার্য।

🗺️ বৈশ্বিক নিরস্ত্রীকরণ, অস্ত্র চুক্তি ও পারমাণবিক স্থাপত্যের রূপরেখা • NPT (১৯৬৮ তিন স্তম্ভ) • SALT I ও ABM চুক্তি (১৯৭২) • CWC (১৯৯৩ রাসায়নিক অস্ত্র) • CTBT (১৯৯৬ এনেক্স ২ বাধা) • INF চুক্তি (১৯৮৭ রেগান ও গর্বাচেভ) • BWC (১৯৭২ জৈব অস্ত্র) • TPNW (২০১৭ পরমাণু নিষিদ্ধকরণ) • New START (২০১০ প্রাগ চুক্তি) • উন্মুক্ত আকাশ চুক্তি (১৯৯২) বিশ্বের ৯টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ • NPT স্বীকৃত P 5 যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও গণচীন • NPT বহির্ভূত ৪টি ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল এবং উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক শাসনব্যবস্থা • IAEA (ভিয়েনা পরমাণুর শান্তিপূর্ণ ব্যবহার) • ICC (দ্য হেগ ব্যক্তিপর্যায়ে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের আন্তর্জাতিক আদালত)

৬.১ বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি #

পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার ঠেকাতে এবং বিশ্বকে নিরস্ত্রীকরণের পথে পরিচালিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তিনটি ঐতিহাসিক মাইলফলক চুক্তি প্রণয়ন করেছে।

📜 বৈশ্বিক তিন পরমাণু চুক্তির তুলনামূলক ছক তুলনামূলক মাপকাঠি NPT (অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি) CTBT (সার্বিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি) চূড়ান্ত গ্রহণের সাল ১ জুলাই ১৯৬৮ (কার্যকর: ৫ মার্চ ১৯৭০) ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ (জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ) মূল লক্ষ্য নতুন দেশে বিস্তার রোধ ও শান্তিময় প্রযুক্তি ভূগর্ভসহ সর্বপ্রকার পারমাণবিক বিস্ফোরণ নিষিদ্ধ স্বীকৃত পরমাণু শক্তি ১ জানুয়ারি ১৯৬৭ এর পূর্বে পরীক্ষা চালানো ৫ দেশ কোনো দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ছাড় নেই কার্যকর হওয়ার শর্ত ৪০ দেশ + ৩ ডিপোজিটরি কর্তৃক অনুসমর্থন এনেক্স ২ এর ৪৪টি নির্দিষ্ট দেশের অনুসমর্থন বর্তমান আইনি স্থিতি পূর্ণ কার্যকর (১৯৯৫ সালে স্থায়ী বর্ধিত) কার্যকর হতে পারেনি (৮টি এনেক্স ২ দেশ বাকি) সংস্থা / সচিবালয় IAEA সেফগার্ডস তদারকি করে CTBTO প্রিপারেটরি কমিশন (ভিয়েনা) সদস্য সংখ্যা ১৯১টি দেশ (৪টি যোগ দেয়নি; উ. কোরিয়া প্রস্থান) ১৮৭ স্বাক্ষরকারী; ১৭৮ অনুসমর্থনকারী বাংলাদেশ স্থিতি ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ অনুসমর্থন ৭ মার্চ ২০০০ অনুসমর্থন (দক্ষিণ এশিয়ায় ১ম)

ক. NPT (Non-Proliferation Treaty - পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি) #

  • স্বাক্ষর ও কার্যকর: ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত হয় এবং ১৯৭০ সালের ৫ মার্চ কার্যকর হয়। ১৯৯৫ সালে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত রিভিউ কনফারেন্সে চুক্তিটির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থায়ী (Indefinite Extension) করা হয়।
  • ডিপোজিটরি দেশ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং রাশিয়া।
  • NPT-এর তিনটি মৌলিক স্তম্ভ (Three Pillars):
    1. অপ্রসার (Non-Proliferation): পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলো কোনো অ-পরমাণু দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে প্রযুক্তি বা সাহায্য দেবে না; অ-পরমাণু দেশগুলো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে না।
    2. নিরস্ত্রীকরণ (Disarmament): পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো সদিচ্ছার সাথে পরমাণু অস্ত্র হ্রাস ও চূড়ান্ত নিরস্ত্রীকরণের জন্য আলোচনা এগিয়ে নেবে (অনুচ্ছেদ ৬)।
    3. শান্তিপূর্ণ ব্যবহার (Peaceful Uses): অ-পরমাণু দেশগুলোকে চিকিৎসা, কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করা হবে (IAEA-র নজরদারির অধীনে)।
  • স্বীকৃত ৫ পারমাণবিক দেশ (NWS): NPT সনদের ৯(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল সেই পাঁচটি দেশকে পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে যারা ১৯৬৭ সালের ১ জানুয়ারির পূর্বে পারমাণবিক বোমার সফল বিস্ফোরণ সম্পন্ন করেছিল (P-5: আমেরিকা, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীন)।
  • NPT-র বাইরে থাকা ৪ দেশ: ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল এবং দক্ষিণ সুদান কখনোই NPT-তে স্বাক্ষর করেনি। ভারত ও পাকিস্তান একে 'পারমাণবিক বর্ণবাদ' (Nuclear Apartheid) আখ্যা দেয় কারণ এটি P-5 দেশকে বৈধতা দিয়ে বাকিদের বঞ্চিত করে।
  • চুক্তি ত্যাগকারী দেশ: উত্তর কোরিয়া ১৯৮৫ সালে NPT-তে যোগ দিলেও ২০০৩ সালের ১০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় এবং ২০০৬ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়।

খ. CTBT (Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty - সার্বিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ চুক্তি) #

  • উৎস ও লক্ষ্য: ১৯৯৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। চুক্তির উদ্দেশ্য হলো সামরিক ও বেসামরিক সর্বপ্রকার পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা (ভূগর্ভে, বায়ুমণ্ডলে, সাগরে ও মহাকাশে)।
  • সদর দফতর: CTBTO Preparatory Commission, ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
  • আন্তর্জাতিক মনিটরিং ব্যবস্থা (IMS): চুক্তি কার্যকরের প্রস্তুতি হিসেবে বিশ্বজুড়ে ৩৩৭টি ভূতাত্ত্বিক, ইনফ্রাসাউন্ড ও তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে যা যেকোনো গোপন বিস্ফোরণ মুহূর্তেই শনাক্ত করতে পারে।
  • কেন CTBT এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে পারেনি?
    • চুক্তির অনুচ্ছেদ ১৪ (Article XIV) অনুযায়ী, পারমাণবিক চুল্লি ও গবেষণা সক্ষমতা সম্পন্ন নির্দিষ্ট ৪৪টি দেশের (Annex-2 States) প্রত্যেকের অনুসমর্থন বাধ্যতামূলক।
    • এখনো ৮টি এনেক্স-২ দেশ চুক্তিটি অনুসমর্থন করেনি:
      1. স্বাক্ষরই করেনি ৩টি দেশ: ভারত, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়া।
      2. স্বাক্ষর করলেও পার্লামেন্টে অনুসমর্থন করেনি ৫টি দেশ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গণচীন, ইরান, মিশর ও ইসরায়েল।
      3. রাশিয়ার পদক্ষেপ: রাশিয়া ২০০০ সালে অনুসমর্থন করলেও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে তাদের অনুসমর্থন প্রত্যাহার (Revoke) করে নেয়।
  • বাংলাদেশ ও সিটিবিটি: বাংলাদেশ ১৯৯৬ সালের ২৪ অক্টোবর স্বাক্ষর করে এবং ২০০০ সালের ৭ মার্চ দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে CTBT ঐতিহাসিক অনুসমর্থন করে বিশ্বশান্তির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার প্রদর্শন করে।

গ. TPNW (Treaty on the Prohibition of Nuclear Weapons - পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি) #

  • জাতিসংঘে গ্রহণ: ৭ জুলাই ২০১৭ সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হয়।
  • কার্যকর: ৫০তম রাষ্ট্র হিসেবে হন্ডুরাস অনুসমর্থন করার পর ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক আইনে কার্যকর হয়।
  • চুক্তির অনন্যতা: এটিই ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক আইনি চুক্তি যা পারমাণবিক অস্ত্রের উন্নয়ন, পরীক্ষা, উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর এবং ব্যবহারের হুমকিকে সম্পূর্ণরূপে অবৈধ ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
  • বাস্তব সংকট: বিশ্বের ৯টি পারমাণবিক দেশের একটি দেশও এবং ন্যাটোভুক্ত মিত্র দেশগুলো এই চুক্তিতে অংশ নেয়নি।
  • নোবেল জয়: TPNW চুক্তিটি সফলভাবে প্রণয়নে তৃণমূল নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ ICAN (International Campaign to Abolish Nuclear Weapons) ২০১৭ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে।
  • বাংলাদেশ ও TPNW: ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর সাথে স্বাক্ষর করে এবং ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অনুসমর্থন করে।

৬.২ কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক অস্ত্র হ্রাস চুক্তি (Strategic Arms Treaties: USA vs USSR/Russia) #

স্নায়ুযুদ্ধ ও তৎপরবর্তী সময়ে দুই শীর্ষ পরাশক্তি নিজেদের মধ্যে ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন করেছিল।

টপিক 06: কাঠামোগত রূপরেখা ও বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র ⏳ মার্কিন রুশ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির কালানুক্রম ১৯৭৯ > সল্ট ২ (SALT II) চুক্তি (কার্টার ও ব্রেজনেভ সিনেটে পাস হয়নি) ১৯৮৭ > আইএনএফ (INF) চুক্তি (মধ্যম পাল্লার ৫০০ ৫৫০০ কিমি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস) ১৯৯১ > স্টার্ট ১ (START I) চুক্তি (কৌশলগত ওয়ারহেড ৬,০০০ এ নামানোর সিদ্ধান্ত) ২০০২ > সর্ট (SORT / মস্কো চুক্তি বুশ ও পুতিন) ২০১০ > নিউ স্টার্ট (New START ওবামা ও মেদভেদেভ প্রাগ চুক্তি) > স্থগিত (২০২৩)
চুক্তির নাম ও পূর্ণরূপ স্বাক্ষরের সাল ও স্থান মূল নেতৃবৃন্দ প্রধান শর্তাবলী ও বর্তমান আইনি স্থিতি
SALT-I (Strategic Arms Limitation Talks) ২৬ মে ১৯৭২
মস্কো
রিচার্ড নিক্সন ও লিওনিদ ব্রেজনেভ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (ICBM) উৎক্ষেপক সংখ্যা স্থির রাখা।
ABM চুক্তি (Anti-Ballistic Missile) ২৬ মে ১৯৭২ নিক্সন ও ব্রেজনেভ ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা সীমাবদ্ধ রাখা (২০০২ সালে বুশ প্রশাসন প্রত্যাহার করে)।
INF চুক্তি (Intermediate-Range Nuclear Forces) ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৭
ওয়াশিংটন ডিসি
রোনাল্ড রিগ্যান ও মিখাইল গর্বাচেভ ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ৫০০ থেকে ৫,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার সকল ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস (আমেরিকা ২০১৯ সালে প্রত্যাহার করে)।
START-I (Strategic Arms Reduction Treaty) ৩১ জুলাই ১৯৯১
মস্কো
জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও মিখাইল গর্বাচেভ উভয় পরাশক্তির মোতায়েনকৃত কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড ৬,০০০টিতে নামিয়ে আনা।
New START (New Strategic Arms Reduction Treaty) ৮ এপ্রিল ২০১০
প্রাগ, চেক প্রজাতন্ত্র
বারাক ওবামা ও দিমিত্রি মেদভেদেভ • কার্যকর: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১; ২০২১ সালে ৫ বছরের জন্য বর্ধিত (ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত)।
• মোতায়েনকৃত কৌশলগত ওয়ারহেড ১,৫৫০টিতে এবং ডেলিভারি সিস্টেম ৭০০টিতে সীমাবদ্ধ করা।
• বর্তমান সংকট: ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার অংশগ্রহণ স্থগিত (Suspend) ঘোষণা করেন।

৬.৩ গণবিধ্বংসী রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র কনভেনশন এবং ওপেন স্কাই চুক্তি #

গণবিধ্বংসী অস্ত্রের (WMD) মধ্যে পারমাণবিক ছাড়াও রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্রকে আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ক. CWC (Chemical Weapons Convention - রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন) #

  • স্বাক্ষর ও কার্যকর: ১৩ জানুয়ারি ১৯৯৩ প্যারিসে স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৯৯৭ সালের ২৯ এপ্রিল কার্যকর হয়।
  • তদারককারী সংস্থা: OPCW (Organisation for the Prohibition of Chemical Weapons)—সদর দফতর: দ্য হেগ, নেদারল্যান্ডস।
  • ম্যান্ডেট: সারিন, ভিএক্স, মাস্টার্ড গ্যাস বা নোভিচকের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক অস্ত্রের মজুত ধ্বংস এবং নতুন করে উৎপাদন চিরতরে নিষিদ্ধ করা।
  • নোবেল জয়: রাসায়নিক অস্ত্রের বৈশ্বিক মজুত সফলভাবে ধ্বংস করায় OPCW ২০১৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে। ২০২৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘোষিত শেষ রাসায়নিক অস্ত্রের মজুত ধ্বংস সম্পন্ন করে।

খ. BWC (Biological Weapons Convention - জৈব অস্ত্র কনভেনশন) #

  • স্বাক্ষর ও কার্যকর: ১০ এপ্রিল ১৯৭২ স্বাক্ষরিত এবং ২৬ মার্চ ১৯৭৫ কার্যকর হয়।
  • ম্যান্ডেট: অ্যানথ্রাক্স, গুটিবসন্ত বা বোটুলিনাম টক্সিনের মতো মারাত্মক রোগজীবাণু বা জৈব অস্ত্র তৈরি, মজুত ও ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ।
  • সীমাবদ্ধতা: BWC-এর অন্যতম প্রধান দুর্বলতা হলো OPCW-এর মতো এর কোনো স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক মনিটরিং বা অন-সাইট পরিদর্শন ব্যবস্থা (Verification Protocol) নেই।

গ. উন্মুক্ত আকাশ চুক্তি (Open Skies Treaty) #

  • স্বাক্ষর ও কার্যকর: ১৯৯২ সালে হেলসিঙ্কিতে স্বাক্ষরিত এবং ২০০২ সালে কার্যকর।
  • লক্ষ্য: পারস্পরিক সামরিক স্বচ্ছতা বাড়াতে সদস্য দেশগুলোর আকাশসীমায় পূর্বনির্ধারিত নিরস্ত্রীকৃত নজরদারি বিমান (Reconnaissance Flight) পরিচালনার সুযোগ দেওয়া।
  • বিলুপ্তির পথ: ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন; পরবর্তীতে ২০২১ সালে রাশিয়াও আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার সম্পন্ন করে।

৬.৪ বিশ্বের ৯টি পারমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ দেশ (The Nuclear Nine) #

বিশ্বে বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে ও কার্যত ৯টি দেশের হাতে পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে। এদের মোট পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা আনুমানিক ১২,০০০-এর বেশি, যার প্রায় ৯০% রয়েছে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার হাতে।

🌐 বিশ্বের ৯টি পারমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ দেশ (Nuclear Nine) NPT স্বীকৃত ৫টি দেশ (P 5 Powers) NPT বহির্ভূত ৪টি পারমাণবিক দেশ NPT স্বীকৃত ৫টি দেশ (P 5 Powers) ১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (১ম পরীক্ষা: ১৯৪৫) ২. রাশিয়ান ফেডারেশন (১ম পরীক্ষা: ১৯৪৯) ৩. যুক্তরাজ্য (১ম পরীক্ষা: ১৯৫২ হারিকেন) ৪. ফ্রান্স (১ম পরীক্ষা: ১৯৬০ ব্লু জারবোয়াজ) ৫. গণপ্রজাতন্ত্রী চীন (১ম পরীক্ষা: ১৯৬৪ ৫৯৬) NPT বহির্ভূত ৪টি পারমাণবিক দেশ ৬. ভারত (১ম পরীক্ষা: ১৯৭৪ 'স্মাইলিং বুদ্ধ') ৭. পাকিস্তান (১ম পরীক্ষা: ১৯৯৮ চাগাই ১) ৮. ইসরায়েল (ঘোষিত নয় ডেমোনা চুল্লি) ৯. উত্তর কোরিয়া (১ম পরীক্ষা: ২০০৬) 📊 মাস্টার সিন্থেসিস ও তাত্ত্বিক কাঠামো রূপরেখা

পারমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ ৯ দেশের বিস্তারিত তথ্য সারণি #

দেশের নাম প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার তারিখ ও সাংকেতিক নাম রণাঙ্গন বা পরীক্ষাস্থল আনুমানিক ওয়ারহেড (SIPRI) প্রধান কৌশলগত বৈশিষ্ট্য ও ভূ-রাজনীতি
১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৬ জুলাই ১৯৪৫
'Trinity Test'
আলামোগোর্দো, নিউ মেক্সিকো $\approx ৫,০৪৪$ বিশ্বে একমাত্র দেশ যারা যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে (হিরোশিমা ও নাগাসাকি)।
২. রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত) ২৯ আগস্ট ১৯৪৯
'RDS-1' (Joe-1)
সেমিপালাতিনস্ক, কাজাখস্তান $\approx ৫,৫৮০$ বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রাগার; বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমা 'জার বোম্বা' (Tsar Bomba, ১৯৬১) বিস্ফোরণ ঘটায়।
৩. যুক্তরাজ্য ৩ অক্টোবর ১৯৫২
'Operation Hurricane'
মন্টেবেলো দ্বীপপুঞ্জ, অস্ট্রেলিয়া $\approx ২২৫$ সম্পূর্ণ সাবমেরিন-নির্ভর পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা (Vanguard সাবমেরিনে ট্রাইডেন্ট ক্ষেপণাস্ত্র)।
৪. ফ্রান্স ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬০
'Gerboise Bleue'
আলজেরিয়ার সাহারা মরুভূমি $\approx ২৯০$ স্বাধীন পারমাণবিক প্রতিরোধ বলয় (Force de Frappe)।
৫. চীন ১৬ অক্টোবর ১৯৬৪
'Project 596'
লোপ নুর, শিনচিয়াং $\approx ৫০০$ দ্রুততম বর্ধনশীল পারমাণবিক অস্ত্রাগার; 'No First Use' (NFU) নীতির ঘোষণা রয়েছে।
৬. ভারত ১৮ মে ১৯৭৪ ('Smiling Buddha')
১১–১৩ মে ১৯৯৮ ('Op Shakti')
পোখরান মরুভূমি, রাজস্থান $\approx ১৭২$ অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে পূর্ণাঙ্গ পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র ঘোষণা; 'No First Use' নীতি।
৭. পাকিস্তান ২৮ ও ৩০ মে ১৯৯৮
'Chagai-I' ও 'Chagai-II'
চাগাই জেলা (রাস কোহ পাহাড়) $\approx ১৭০$ জনক: ড. আবদুল কাদির খান; ভারতের জবাবে ২৮ মে সফল পরীক্ষা (পাকিস্তানে ২৮ মে 'ইয়াউম-ই-তাকবির' পালিত হয়)।
৮. ইসরায়েল অঘোষিত (সম্ভবত ১৯৬০-এর দশক)
'ভেল্লা ঘটনা' (Vela Incident, ১৯৭৯)
নেগেভ মরুভূমির দিমোনা চুল্লি $\approx ৯০$ কৌশলগত অস্পষ্টতা (Strategic Ambiguity বা Amimut) নীতি বজায় রাখে; পরমাণু থাকার কথা স্বীকারও করে না, অস্বীকারও করে না।
৯. উত্তর কোরিয়া ৯ অক্টোবর ২০০৬ (প্রথম পরীক্ষা)
সর্বশেষ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (H-Bomb)
পুংগে-রি ভূগর্ভস্থ টানেল $\approx ৫০$ NPT ত্যাগকারী একমাত্র দেশ; সর্বোচ্চ ৬টি পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।

⚠️ স্বেচ্ছায় পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত:

  • দক্ষিণ আফ্রিকা: বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে ৬টি কার্যকর পারমাণবিক বোমা তৈরি করার পর বর্ণবাদী শাসনের অবসানের প্রাক্কালে ১৯৮৯–১৯৯১ সালে প্রেসিডেন্ট এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্কের নির্দেশে স্বেচ্ছায় সবগুলো বোমা ধ্বংস করে সম্পূর্ণ পরমাণুমুক্ত হয়েছিল।
  • ইউক্রেন, বেলারুশ ও কাজাখস্তান: সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর তাদের ভূখণ্ডে থাকা হাজার হাজার পারমাণবিক অস্ত্র ১৯৯৪ সালের ঐতিহাসিক বুদাপেস্ট স্মারকলিপি (Budapest Memorandum)-এর অধীনে নিরাপত্তার আশ্বাসের বিনিময়ে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করে পরমাণুমুক্ত হয়।

৬.৫ আন্তর্জাতিক সংস্থা: IAEA ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) #

আন্তর্জাতিক নিরস্ত্রীকরণ এবং যুদ্ধাপরাধের জবাবদিহিতায় দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বমঞ্চে স্বতন্ত্র ভূমিকা পালন করে।

ক. IAEA (International Atomic Energy Agency) #

  • প্রতিষ্ঠা: ২৯ জুলাই ১৯৫৭ (আইজেনহাওয়ারের ১৯৫৩ সালের "Atoms for Peace" ভাষণের ভিত্তিতে)।
  • সদর দফতর: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
  • ম্যান্ডেট: বিশ্বের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো যাতে শান্তিপূর্ণ বিদ্যুৎ ও গবেষণায় ব্যবহৃত হয় এবং কোনো দেশ যাতে বেসামরিক রিঅ্যাক্টর থেকে গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরি না করে, তা পরিদর্শনে IAEA Safeguards চুক্তি বাস্তবায়ন।
  • বিশেষ মর্যাদা: এটি সাধারণ ECOSOC-এর অধীন বিশেষায়িত সংস্থা নয়; এটি সরাসরি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদে রিপোর্ট করে।
  • নোবেল জয়: ২০০৫ সালে IAEA এবং মিসরীয় মহাপরিচালক মোহাম্মদ এলবারাদেই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

খ. আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC - International Criminal Court) #

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে অনেকেই হেগের অপর বিচারালয় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICJ) সাথে গুলিয়ে ফেলেন। এদের পার্থক্য বোঝা অপরিহার্য:

⚖️ ICJ বনাম ICC: তুলনামূলক আইনি ছক তুলনামূলক মাপকাঠি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) প্রতিষ্ঠার আইনি ভিত্তি ১৯৪৫ সালের জাতিসংঘ সনদের ১৪তম অধ্যায় ১৯৯৮ সালের রোম সংবিধি (Rome Statute) কার্যক্রম শুরু এপ্রিল ১৯৪৬ ১ জুলাই ২০০২ সদর দফতর পিস প্যালেস, দ্য হেগ, নেদারল্যান্ডস দ্য হেগ, নেদারল্যান্ডস জাতিসংঘের সাথে সম্পর্ক জাতিসংঘের প্রধান ৬টি মৌলিক অঙ্গের একটি জাতিসংঘের কোনো অঙ্গ নয় (স্বতন্ত্র সংস্থা) বিচারের এখতিয়ার কেবল সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহের (States) কেবলমাত্র নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের (Individuals) বিচারের বিষয়বস্তু সীমান্ত, জলসীমা ও দ্বিপাক্ষিক আইনি বিরোধ গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারক সংখ্যা ও মেয়াদ ১৫ জন বিচারক; ৯ বছর মেয়াদ ১৮ জন বিচারক; ৯ বছর মেয়াদ
  • রোম সংবিধি (Rome Statute): ১৯৯৮ সালের ১৭ জুলাই রোমে গৃহীত হয়। ৬০টি দেশের অনুসমর্থন শেষে ২০০২ সালের ১ জুলাই থেকে আদালত কার্যকর হয়।
  • বিচারের চারটি মহা-অপরাধ (Core Crimes):
    1. গণহত্যা (Genocide)
    2. যুদ্ধাপরাধ (War Crimes)
    3. মানবতাবিরোধী অপরাধ (Crimes Against Humanity)
    4. আগ্রাসনের অপরাধ (Crime of Aggression)
  • আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি (Chief Prosecutor): ব্রিটিশ আইনজীবী করিম এ. এ. খান কেসি (Karim A. A. Khan KC) ২০২১ সালের জুনে ৯ বছর মেয়াদের জন্য তৃতীয় প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন (পূর্বসূরি ছিলেন গাম্বিয়ার ফাতু বেনসুদা)।
  • ঐতিহাসিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা:
    • ২০০৯: সুদানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির।
    • মার্চ ২০২৩: ইউক্রেন থেকে শিশু নির্বাসনের অভিযোগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর বিরুদ্ধে পরোয়ানা।
    • ২০২৪: গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং হামাস নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আবেদন/জারি।
  • বাংলাদেশ ও আইসিসি: বাংলাদেশ ২৩ মার্চ ২০১০ রোম সংবিধি অনুসমর্থন করে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে পূর্ণ সদস্য হয়। রোহিঙ্গা গণহত্যার তদন্তে বাংলাদেশ আইসিসি-কে সক্রিয় সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

📊 একনজরে মাস্টার সিন্থেসিস ও তুলনা সারণি (Master Synthesis Table) #

চুক্তি / সংস্থা / ঘটনা স্বাক্ষর / কার্যকর সাল সদর দফতর / স্থান সদস্য / নিয়ন্ত্রক পক্ষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পরীক্ষার জন্য আবশ্যিক তথ্য
ম্যানহাটন প্রজেক্ট ১৯৪২–১৯৪৫ সাল লস অ্যালামস, নিউ মেক্সিকো জে. রবার্ট ওপেনহাইমার পারমাণবিক বোমার প্রথম গোপন গবেষণা প্রকল্প; ট্রিনিটি টেস্ট ১৬ জুলাই ১৯৪৫।
হিরোশিমা পরমাণু হামলা ৬ আগস্ট ১৯৪৫ হিরোশিমা, জাপান ইউএসএ (বিমান: এনোলা গে) প্রথম পরমাণু হামলা ('লিটল বয়', ইউরেনিয়াম-২৩৫); পাইলট পল টিবেটস।
নাগাসাকি পরমাণু হামলা ৯ আগস্ট ১৯৪৫ নাগাসাকি, জাপান ইউএসএ (বিমান: বক্সকার) দ্বিতীয় পরমাণু হামলা ('ফ্যাট ম্যান', প্লুটোনিয়াম-২৩৯); পাইলট চার্লস সুইনি।
IAEA প্রতিষ্ঠা ২৯ জুলাই ১৯৫৭ ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া স্বায়ত্তশাসিত সম্পর্কিত সংস্থা "Atoms for Peace"; নিরাপত্তা পরিষদে রিপোর্ট করে; নোবেল শান্তি লাভ ২০০৫।
PTBT চুক্তি ৫ আগস্ট ১৯৬৩ মস্কো ইউএসএ, ইউকে ও ইউএসএসআর বায়ুমণ্ডল, মহাকাশ ও জলের নিচে পরীক্ষা নিষিদ্ধ; ভূগর্ভস্থ পরীক্ষা চালু থাকে।
NPT চুক্তি ১ জুলাই ১৯৬৮ (১৯৭০) ওয়াশিংটন, লন্ডন, মস্কো ১৯১টি দেশ (৪টি বাইরে) পরমাণু বিস্তার রোধ ও নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি; ১৯৯৫ সালে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থায়ী।
BWC কনভেনশন ১০ এপ্রিল ১৯৭২ (১৯৭৫) জেনেভা ১৮৮টি দেশ অ্যানথ্রাক্স, গুটিবসন্ত ইত্যাদি জৈব অস্ত্র তৈরি, মজুত ও ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ।
SALT-I ও ABM চুক্তি ২৬ মে ১৯৭২ মস্কো নিক্সন ও ব্রেজনেভ প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সীমাবদ্ধকরণ।
ভারতের ১ম পরমাণু পরীক্ষা ১৮ মে ১৯৭৪ পোখরান, রাজস্থান ইন্দিরা গান্ধী ('Smiling Buddha') রাজস্থানের মরুভূমিতে ভারতের প্রথম শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক পরীক্ষা।
INF চুক্তি ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৭ ওয়াশিংটন ডিসি রিগ্যান ও গর্বাচেভ মধ্যম পাল্লার ৫০০-৫৫০০ কিমি পাল্লার সকল ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস (২০১৯ প্রত্যাহার)।
CWC কনভেনশন ১৩ জানুয়ারি ১৯৯৩ (১৯৯৭) দ্য হেগ (OPCW) ১৯৩টি দেশ বিষাক্ত রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস ও নিষিদ্ধকরণ; ওপিসিডব্লিউ নোবেল পায় ২০১৩।
বুদাপেস্ট স্মারকলিপি ৫ ডিসেম্বর ১৯৯৪ বুদাপেস্ট, হাঙ্গেরি ইউক্রেন, রাশিয়া, ইউএস, ইউকে নিরাপত্তার আশ্বাসে ইউক্রেন কর্তৃক সমস্ত পারমাণবিক অস্ত্র রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর।
CTBT চুক্তি গ্রহণ ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ ভিয়েনা (CTBTO) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সার্বিক পরমাণু পরীক্ষা নিষিদ্ধ চুক্তি; ৮টি এনেক্স-২ দেশের কারণে কার্যকর নয়।
ভারতের পোখরান-২ ১১–১৩ মে ১৯৯৮ পোখরান, রাজস্থান অটল বিহারী বাজপেয়ী 'অপারেশন শক্তি'; ভারতকে আনুষ্ঠানিক পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্র ঘোষণা।
পাকিস্তানের চাগাই-১ ২৮ মে ১৯৯৮ রাস কোহ পাহাড়, চাগাই নওয়াজ শরিফ ও ড. কাদির খান ভারতের জবাবে পাকিস্তানের প্রথম সফল পরমাণু পরীক্ষা (ইয়াউম-ই-তাকবির)।
রোম সংবিধি ও ICC ১৯৯৮ (কার্যকর ২০০২) দ্য হেগ, নেদারল্যান্ডস ১২৪টি দেশ (বাংলাদেশ ২০১০) গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের স্থায়ী আন্তর্জাতিক আদালত; ব্যক্তিপর্যায়ে বিচার করে।
New START চুক্তি ৮ এপ্রিল ২০১০ (২০১১) প্রাগ, চেক প্রজাতন্ত্র ওবামা ও মেদভেদেভ ওয়ারহেড ১,৫৫০টিতে সীমাবদ্ধকরণ; ২০২৩ সালে পুতিন কর্তৃক কার্যক্রম স্থগিত।
TPNW চুক্তি গ্রহণ ৭ জুলাই ২০১৭ (২০২১) নিউ ইয়র্ক, জাতিসংঘ ৯৭ স্বাক্ষরকারী, ৭১ অনুসমর্থন পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ চুক্তি; আইক্যান (ICAN) নোবেল পায় ২০১৭।

ক্রমিক মেমোরি টেকনিক ও ছন্দ মূল ডিকোডিং ও অর্থ সংশ্লিষ্ট নিরস্ত্রীকরণ টপিক
০১ NPT-র তিন স্তম্ভ: P-D-P = Proliferation রোধ + Disarmament + Peaceful Use পারমাণবিক বিস্তার রোধ চুক্তির ৩টি মূল শর্ত।
০২ NPT-বহির্ভূত চার দেশ: "ভারত-পাক ইসরায়েলি সুদানে যায় না" $\rightarrow$ ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল ও দক্ষিণ সুদান NPT-তে স্বাক্ষর না করা ৪টি সার্বভৌম দেশ।
০৩ পরমাণু বোমা আবিষ্কারের জ্বালানি ছন্দ: হিরো ইউরেনিয়াম (হিরোশিমা = ইউরেনিয়াম-২৩৫)
নাগা প্লুটোনিয়াম (নাগাসাকি = প্লুটোনিয়াম-২৩৯)
দুই পারমাণবিক বোমার ফিসাইল জ্বালানি মৌল।
০৪ স্বেচ্ছায় পরমাণুমুক্ত দেশ: দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa) নিজস্ব ৬টি বোমা ধ্বংস করে পরমাণুমুক্ত হওয়া একমাত্র রাষ্ট্র।
০৫ পরমাণু ছাতা (Nuclear Umbrella): পরাশক্তি কর্তৃক মিত্র দেশকে পারমাণবিক প্রতিরক্ষা গ্যারান্টি প্রদান। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে মার্কিন পরমাণু ছাতা।
০৬ ICJ বনাম ICC সহজ পার্থক্য: ICJ বিচার করে দেশ (State vs State)
ICC বিচার করে মানুষ (Person / Criminal)
দ্য হেগের দুই আন্তর্জাতিক আদালতের এখতিয়ার।