প্রতিটি প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর ও ব্যাখ্যা একসাথে — সম্পূর্ণ ফ্রি।
BCS Preli 25th — previous year question solution with answer & explanation (free)
103প্রশ্ন
7বিষয়
উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ
100%ফ্রি
প্রশ্নসমূহ
প্রশ্ন ১–১০ / ১০৩
সব বিষয়ের প্রশ্ন
১
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ কে রচনা করেন ?
ব্যাখ্যা দেখুন ›বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯ খ্রি) ১৮৯৬ সালে ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ নামে প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক ইতিমূলক এ গ্রন্থটি রচনা করেন। আর এটিই বাংলা সাহিত্যের প্রথম যথার্থ ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। অন্যদিকে ড. সুকুমার সেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এবং অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ইতিহাস বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো যথাক্রমে ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস’ (১৯৪০), ‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত’ (১৯৫৯) এবং ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত’ (১ম খণ্ড) (১৯৫৯)।
২
‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন ?
ব্যাখ্যা দেখুন ›১৮৭২ সালে বাংলা উপন্যাস সাহিত্যের স্থপতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪খ্রি) প্রথম ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকাটি প্রকাশ করেন এবং তিনিই এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক।
৩
কোন কবিতা রচনার জন্য কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্য নিষিদ্ধ হয় ?
ব্যাখ্যা দেখুন ›কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ নিষিদ্ধ হওয়া সংক্রান্ত ধারণাটি একটি ঐতিহাসিক ভুল এবং এটি মূলত ২৫তম বিসিএস (BCS) প্রিলিমিনারি পরীক্ষার একটি ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্ন থেকে তথ্যগত বিভ্রান্তি হিসেবে ছড়িয়েছে। ১৯২২ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত নজরুলের এই প্রথম কাব্যগ্রন্থটি তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার কখনো নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করেনি। তবে এই বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পেছনে মূল কারণ ছিল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত ‘<b>রক্তাম্বরধারিণী মা</b>’ কবিতাটি। ব্রিটিশবিরোধী ও বৈপ্লবিক সুর থাকার কারণে তৎকালীন ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী এই নির্দিষ্ট কবিতাটি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিল এবং ‘অগ্নিবীণা’ প্রকাশের পর পুলিশ কবিকে গ্রেফতারও করেছিল (যা মূলত ‘ধূমকেতু’ পত্রিকায় ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতা প্রকাশের দায়ে ছিল)। এই দুটি ভিন্ন ঘটনা এক হয়ে সাধারণ মানুষের মনে ধারণা জন্মায় যে ‘অগ্নিবীণা’ বুঝি নিষিদ্ধ হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে, ব্রিটিশ সরকার নজরুলের যে পাঁচটি বই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছিল, সেগুলো হলো—<b>‘যুগবাণী’, ‘বিষের বাঁশি’, ‘ভাঙ্গার গান’, ‘প্রলয়শিখা’ ও ‘চন্দ্রবিন্দু’</b>। সুতরাং, সাহিত্য ও ইতিহাসের অকাট্য প্রমাণ অনুযায়ী ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ বা এর কোনো কবিতার জন্য পুরো বইটি নিষিদ্ধ হওয়ার তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মূল পরীক্ষার অপশনে "কোনটিই নয়/সঠিক উত্তর নেই" ছিল নির্ধারিত সঠিক উত্তর; ৪-অপশন স্কিমায় সেটি বাদ দিয়ে উত্তর নেই-হিসেবে চিহ্নিত।
৪
‘মৃন্ময়ী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ছোটগল্পের নায়িকা ?
ব্যাখ্যা দেখুন ›রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সমাপ্তি’ ছোটগল্পের নায়িকা ‘মৃন্ময়ী’ এবং নায়ক ‘অপূর্বকৃষ্ণ’। অন্যদিকে তার ‘দেনাপাওনা’ ছোটগল্পের নায়িকা ‘নিরু’, ‘পোস্টমাস্টার’ গল্পের বালিকা চরিত্র ‘রতন’ এবং ‘মধ্যবর্তিনী’ গল্পের নায়িকা ‘হরসুন্দরী’ ও ‘শৈলবালা’ এবং নায়ক ‘নিবারণ’।
৫
‘উত্তম পুরুষ’ উপন্যাসের রচয়িতা কে ?
ব্যাখ্যা দেখুন ›রশীদ করিমের একটি অন্যতম উপন্যাস হলো ‘উত্তম পুরুষ’। ১৯৬১ সালে প্রকাশিত এ উপন্যাসটি নগরজীবনের বৈশিষ্ট্য অবলম্বনে রচিত। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- প্রসন্ন পাষাণ (১৯৬৩), আমার যত গ্লানি (১৯৭৩) , মায়ের কাছে যাচ্ছি ইত্যাদি। শওকত ওসমান রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস - জননী (১৯৬৮), ক্রীতদাসের হাসি (১৯৬২), জাহান্নাম হইতে বিদায় (১৯৭১) ইত্যাদি। জহির রায়হান রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস- হাজার বছর ধরে (১৯৬৪), আরেক ফাল্গুন (১৯৬৮), বরফ গলা নদী (১৯৬৯) ইত্যাদি। শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস - সারেং বউ (১৯৬২) ও সংশপ্তক (১৯৬৫)।
৬
‘কাশবনের কন্যা’ কোন জাতীয় রচনা ?
ব্যাখ্যা দেখুন ›ঔপন্যাসিক শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত অন্যতম উপন্যাস ‘কাশবনের কন্যা’। এটি জেলে সম্প্রদায়ের জীবনভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত (গ্রন্থাকারে) উপন্যাসটিতে বরিশাল অঞ্চলের মুখের ভাষা ও জীবনবোধ অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৭
কোনটি মুহম্মদ এনামুল হকের রচনা ?
ব্যাখ্যা দেখুন ›‘মনীষা মঞ্জুষা’ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক মুহম্মদ এনামুল হক (১৯০৬-১৯৮২ খ্রি) রচিত এক সংকলন গ্রন্থ। দু খণ্ডের এ গ্রন্থের প্রথম খণ্ড ১৯৭৫ সালে এবং দ্বিতীয় খণ্ড ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। ‘আধুনিক ভাষাতত্ত্ব’ গবেষণা গ্রন্থটি রচনা করেন আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ। ‘বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। উল্লেখ্য ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত আরেকটি ভাষাতত্ত্ব হলো ‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত’।
৮
বাংলা সাহিত্যে সনেট রচনার প্রবর্তক কে ?
ব্যাখ্যা দেখুন ›ইতালীয় সনেটো শব্দটি থেকে সনেট শব্দের উৎপত্তি। Sonnetto শব্দের অর্থ গীতি স্পন্দিত মৃদু ধ্বনি। বাংলা সনেট হলো গীতিকবিতার একটি শাখা । যে কবিতায় কবি হৃদয়ের একটিমাত্র ভাব বা অনুভূতি অখণ্ড থেকে চতুর্দশ অক্ষর ও চতুর্দশ চরণ দ্বারা একটি বিশেষ পদের মধ্য দিয়ে কবিতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ লাভ করে তাকে চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট বলে। ইতালীয় রেনেসাঁর সন্ধিক্ষণে চতুর্দশ শতকে কবি পেত্রার্ক (Petrarch) সনেটের উদ্ভাবক। বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে বাংলায় সনেট রচনা শুরু করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং তার হাতেই এসেছে সনেট রচনার যুগান্তর সাফল্য। এ কারণেই তাকে বাংলা সাহিত্যে সনেট রচনার প্রবর্তক বলা হয়। ১৮৬০ সালে তিনি সনেট রচনার পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও ১৮৬৫ সালে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে অবস্থানকালেই প্রথম বাংলা সনেট রচনা করেন। তার রচিত ১০২টি সনেটের সমন্বয়ে ১৮৬৬ সালের ১ আগস্ট ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ প্রকাশিত হয়। তিনি বাংলা সনেট ছাড়াও বেশ কয়েকটি ইংরেজি সনেটও রচনা করেন। পরবর্তী সময়ে বাংলা সনেট রচনায় দেবেন্দ্রনাথ সেন, মোহিতলাল মজুমদার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ আরো অনেকে সার্থকতার স্বাক্ষর রাখেন।
৯
জসীমউদ্দীনের ‘কবর’ কবিতা কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় ?
ব্যাখ্যা দেখুন ›পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের (১৯৩০-১৯৭৬ খ্রি) একটি বিখ্যাত কবিতা ‘কবর’ প্রথম প্রকাশিত হয় ‘কল্লোল’ পত্রিকার ১৩৩২ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ সংখ্যায়। কবিতাটি তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) তে অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি যখন দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন তখন এ কবিতাটি রচনা করেছিলেন।
১০
‘ক্ষীয়মান’-এর বিপরীত শব্দ কি ?
ব্যাখ্যা দেখুন ›‘ক্ষীয়মান’ শব্দটি বিশেষ্য পদ, যার অর্থ ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে এমন। এর বিপরীতার্থক শব্দ হলো বর্ধমান। অন্যদিকে ‘বৃহৎ’ শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ ক্ষুদ্র। ‘বর্ধিষ্ণু’ শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ ক্ষয়িষ্ণু বা হ্রাসপ্রাপ্ত এবং ‘বৃদ্ধিপ্রাপ্ত’ শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ হ্রাসপ্রাপ্ত।
মোট ১০৩টি প্রশ্ন — প্রতিটির নির্ভুল উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ।