প্রতিটি প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর ও ব্যাখ্যা একসাথে — সম্পূর্ণ ফ্রি।
BCS Preli 45th — previous year question solution with answer & explanation (free)
201প্রশ্ন
9বিষয়
উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ
100%ফ্রি
প্রশ্নসমূহ
প্রশ্ন ১–১০ / ২০১
সব বিষয়ের প্রশ্ন
১
'ধ্বনি' সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
ব্যাখ্যা দেখুন ›মানুষ বাগযন্ত্রের সাহায্যে যে আওয়াজ উৎপন্ন করে তাকেই ধ্বনি বলে। যে-কোনো শব্দকে 'ধ্বনি' বলে বিবেচনা করা যায়। যেমন : ঘণ্টা বাজার ধ্বনি, কাক ডাকার ধ্বনি, মানুষের মুখ নিঃসৃত ধ্বনি ইত্যাদি। কিন্তু ব্যাকরণে শুধু মানুষের মুখ নিঃসৃত অর্থবোধক আওয়াজকেই 'ধ্বনি' বলে। অর্থাৎ অর্থবোধক ধ্বনির সমষ্টিই ভাষার প্রধান উপাদান। অর্থবোধক ধ্বনিগুলোই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাগধ্বনি। কিন্তু ধ্বনি দৃশ্যমান নয়, ধ্বনি উচ্চারণীয় ও শ্রবণীয়।
২
স্বরান্ত অক্ষরকে কী বলে?
ব্যাখ্যা দেখুন ›যে সকল অক্ষর স্বরধ্বনিজাত অথবা অক্ষরের শেষে একটি স্বরধ্বনি থাকে তাকে স্বরান্ত অক্ষর বা বিবৃত অক্ষর বা মুক্তাক্ষর বলে। মুক্তাক্ষরের চিহ্ন ◡। মুক্তাক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে অক্ষর উচ্চারণ করেও তাকে প্রয়োজনমতো প্রলম্বিত করা চলে। যেমন : অ-প-রি-চি-ত। অন্যদিকে, ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বর ধ্বনির মাধ্যমে যেসব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে সংবৃত অক্ষর বা বদ্ধাক্ষর বলে। বদ্ধাক্ষর উচ্চারণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুখ বন্ধ হয়ে যায়। একাক্ষর শব্দ ইংরেজি mono syllable-এর প্রতিশব্দ। কোনো শব্দকে ভেঙে উচ্চারণ করা না গেলে, একবারে উচ্চারণ করতে হলে তাকে একাক্ষর বলে। যুক্তাক্ষর বা যুক্তবর্ণ হলো দুটি ব্যঞ্জনবর্ণকে একসাথে যুক্ত করা।
আরবি 'কলম' শব্দটি 'কলমোস' শব্দ থেকে এসেছে। 'কলমোস' কোন ভাষার শব্দ?
ব্যাখ্যা দেখুন ›বাংলায় প্রচলিত অনেক শব্দই অন্য ভাষা থেকে এসেছে। 'কলম' শব্দটির মূলে ছিল গ্রিক। তখন তার রূপ ছিল 'কলমোস'। আরবিতে হয় কলম। বাংলা অক্ষরে শব্দগুলোর মূল আরবি রূপ দেখানো একটু কঠিন। যেমন : 'কলম' এসেছে আরবি 'ক্বলম' থেকে, 'কবুল' এসেছে আরবি 'ক্ববুল' থেকে, 'জৌলুশ' এসেছে আরবি 'জুলুস' থেকে। কতিপয় গ্রিক শব্দ : দাম, কেন্দ্র, সুরঙ্গ ইত্যাদি। ফরাসি শব্দ : কার্তুজ, কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ, রেনেসাঁ, আঁতাত, আঁতেল ইত্যাদি। স্প্যানিশ শব্দ : ডেঙ্গু। পাঞ্জাবি শব্দ : চাহিদা, শিখ ইত্যাদি।
৫
'ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয়, চিন্তার প্রসূতিও'— মন্তব্যটি কোন ভাষাচিন্তকের?
ব্যাখ্যা দেখুন ›বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে। ড. সুকুমার সেন তার 'ভাষার ইতিবৃত্ত' (১৯৩৯) গ্রন্থে বলেছেন- 'ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয়, চিন্তার প্রসূতিও'। এছাড়া ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 'মনের ভাব প্রকাশের জন্য ধ্বনিসমূহকেই'- ভাষা বলেছেন। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষা বলতে বুঝিয়েছেন 'বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিসমূহকে যা বাক্যে শব্দসমষ্টি হিসেবে থাকে'। মুহম্মদ এনামুল হকও বলেছেন- 'বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিসমূহের উচ্চারণ'-কে ভাষা বলে।
৬
সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন কে?
ব্যাখ্যা দেখুন ›যে বিদ্যাশাখায় বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি বর্ণনা করা হয় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে। প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁও। ১৭৭৮ সালে নাথানিয়েল ব্রাসি হালহেড ইংরেজি ভাষায় পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। ১৮৩৩ সালে রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি হিসেবে 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' রচনা করেন।
৭
উচ্চারণের রীতি অনুযায়ী নিচের কোনটি উচ্চ-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি?
ব্যাখ্যা দেখুন ›উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়। উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা ওপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত। যথা : i. উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ]; ii. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও]; iii. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ] এবং iv. নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]। উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় নিম্ন স্বরধ্বনির তুলনায় ওপরে এবং উচ্চ স্বরধ্বনির তুলনায় নিচে থাকে। 'এ' হলো উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি এবং 'ও' হলো উচ্চমধ্য-পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।
৮
'তাম্বুলিক' শব্দের সমার্থক নয় কোনটি?
ব্যাখ্যা দেখুন ›'তাম্বুলিক' সংস্কৃতজাত শব্দ এবং বিশেষণ পদ; যার অর্থ পান ব্যবসায় নিয়োজিত, পানসংক্রান্ত, পান ব্যবসায়ী। 'পর্ণকার' শব্দের অর্থও পান বিক্রেতা, পান ব্যবসায়ী, বারুই জাতি। অন্যদিকে, 'তামসিক' বলতে তমোগুণ সংক্রান্ত, মেঘাচ্ছন্ন ইত্যাদি বোঝায়। তাই 'তামসিক' শব্দটি তাম্বুলিক শব্দের সমার্থক নয়।
৯
'তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!'— বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
ব্যাখ্যা দেখুন ›যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। মনের উচ্ছ্বাস, স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি, সম্মতি, সমর্থন, যন্ত্রণা, ঘৃণা বা বিরক্তি, সম্বোধন, সম্ভাবনায় অনন্বয়ী অব্যয় ব্যবহৃত হয়। যেমন— (i) তুমি তো ভারি সুন্দর আঁক! (ii) মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ! (iii) ছি ছি, তুমি এত নীচ! অন্যদিকে, যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বা পদান্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন : ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। এ বাক্যে (দিয়ে) অনুসর্গ অব্যয়। আর যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। যেমন : বজ্রের ধ্বনি— কড় কড়।
১০
নিচের কোনটি যৌগিক শব্দ?
ব্যাখ্যা দেখুন ›যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, অর্থাৎ একই রকম, সেসব শব্দকে যৌগিক শব্দ বলে। 'মিতালি' শব্দটি যৌগিক। বাংলা 'মিতালি' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ 'মিতার ভাব, বন্ধুত্ব' ('মিতা' শব্দের পর 'ভাব' অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় 'আলি' যোগে 'মিতালি' হয়েছে); শব্দটি এই অর্থেই ভাষায় ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ 'মিতালি' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই; ফলে 'মিতালি' বাংলাতে যৌগিক শব্দ। এরকম— গায়ক = গৈ + অক— অর্থ হলো গান করে যে ইত্যাদি। অন্যদিকে, প্রবীণ, জেঠামি শব্দদ্বয় রূঢ়ি (রূঢ়) শব্দ এবং সরোজ হলো যোগরূঢ় শব্দ।
মোট ২০১টি প্রশ্ন — প্রতিটির নির্ভুল উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ।