প্রতিটি প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর ও ব্যাখ্যা একসাথে — সম্পূর্ণ ফ্রি।
BCS Preli 46th — previous year question solution with answer & explanation (free)
198প্রশ্ন
9বিষয়
উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ
100%ফ্রি
প্রশ্নসমূহ
প্রশ্ন ১–১০ / ১৯৮
সব বিষয়ের প্রশ্ন
১
বাংলা ভাষায় কোন স্বরধ্বনি উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ অবস্থানে থাকে?
ব্যাখ্যা দেখুন ›বাংলা ভাষায় 'উ' স্বরধ্বনি উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ অবস্থানে থাকে। উচ্চারণের সময় জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়। নিচে ছকে তা দেখানো হলো : জিভের উচ্চতা | জিভের অবস্থান (সম্মুখ, মধ্য, পশ্চাৎ) | ঠোঁটের উন্মুক্তি উচ্চ | ই, উ | সংবৃত উচ্চ-মধ্য | এ, ও | অর্ধ-সংবৃত নিম্ন-মধ্য | অ্যা, অ | অর্ধ-বিবৃত নিম্ন | আ | বিবৃত
২
বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দ—
ব্যাখ্যা দেখুন ›বাংলাদেশের আদিম অধিবাসী অনার্যদের (যেমন : কোল, মুণ্ডা প্রভৃতি) ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কিছু উপাদান বাংলায় রক্ষিত আছে। এসব শব্দকে দেশি শব্দ নামে অভিহিত করা হয়। অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না; কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস মেলে। যেমন— কুড়ি (বিশ) কোলভাষা, পেট (উদর)— তামিল ভাষা, চুলা (উনুন)— মুণ্ডারি ভাষা। এরূপ কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি ইত্যাদি আরও বহু দেশি শব্দ বাংলায় ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলো তৎসম শব্দ। আর প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলো তদ্ভব শব্দ।
৩
‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’ গ্রন্থের রচয়িতা—
ব্যাখ্যা দেখুন ›ভাষাবিজ্ঞানী, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ আবদুল হাই (১৯১৯-১৯৬৯) বাংলা সাহিত্যে অগ্রগণ্য নাম। বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দিয়ে তার রচিত ‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’ (১৯৬৪) গ্রন্থটি তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে। ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন। এছাড়া সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪), বিলাতে সাড়ে সাত শ’ দিন (১৯৫৮), তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯), ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০), সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত’ (১৯৬৮) ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। তিনি পাকিস্তান আমলে বাংলা ভাষার প্রতি নানা নিষেধাজ্ঞা ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে লেখনী ধারণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে প্রথম প্রকাশিত ষান্মাসিক ‘সাহিত্য পত্রিকা’র (১৯৫৬) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
৪
বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বর কয়টি?
ব্যাখ্যা দেখুন ›পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয়। এরূপে একসঙ্গে উচ্চারিত দুটি মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলা হয়। বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা পঁচিশ। আর বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটো বর্ণ রয়েছে; ঐ এবং ঔ। উদাহরণ : কৈ, বৌ। অন্য যৌগিক স্বরের চিহ্নস্বরূপ কোনো বর্ণ নেই।
৫
যোগরূঢ় শব্দ কোনটি?
ব্যাখ্যা দেখুন ›সমাসনিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। শাখামৃগ— 'শাখায় থাকে যে মৃগ' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয় বানর।
৬
উপসর্গযুক্ত শব্দ—
ব্যাখ্যা দেখুন ›সু, বি, নি, আ এই চারটি উপসর্গ বাংলা ও তৎসমে পাওয়া যায়। এখানে, 'বিরোধিতা' অর্থে তৎসম উপসর্গ 'বি' যোগে 'বিদ্রোহী' শব্দ গঠিত হয়েছে।
৭
বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
ব্যাখ্যা দেখুন ›বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয়সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে সকল বর্ণ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে। সরোবর + এ = 'সরোবরে' শব্দটি 'এ' (সপ্তমী) বিভক্তিযোগে গঠিত হয়েছে। বাংলা শব্দ-বিভক্তি সাত প্রকার : প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী।
৮
কোনটি প্রত্যয়-সাধিত শব্দ?
ব্যাখ্যা দেখুন ›সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় 'ইক' যোগে তৎসম্পর্কিত অর্থে বিশেষণ শব্দ হলো— এক + ইক = ঐকিক। এরকম আরও উদাহরণ : অণু + ইক = আণবিক, ইচ্ছা + ইক = ঐচ্ছিক, সপ্তাহ + ইক = সাপ্তাহিক, কায় + ইক = কায়িক ইত্যাদি। অন্যদিকে, ভাই ও বোন = ভাইবোন— দ্বন্দ্ব ও পথের রাজা = রাজপথ— ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস যোগে এবং 'বকলম' ফারসি উপসর্গ 'ব' যোগে গঠিত শব্দ।
ব্যাখ্যা দেখুন ›নীল চাষ করে যে = নীলকর— উপপদ তৎপুরুষ সমাস। যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। আরও উদাহরণ : জলে চরে যে— জলচর, জল দেয় যে— জলদ, পঙ্কে জন্মে যা— পঙ্কজ। এরূপ গৃহস্থ, সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার, মাছিমারা, বর্ণচোরা, পা-চাটা, ছা-পোষা ইত্যাদি।
মোট ১৯৮টি প্রশ্ন — প্রতিটির নির্ভুল উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ।